#গুপ্ত_প্রেমের_সুপ্ত_পিয়াসা” 🖤|১২|
#শার্লিন_হাসান
সন্ধ্যায় ইনান শেখ বাসায় আসতে ফাইজা বিচার দেওয়া শুরু করে। ফাইজা এরকম কথাবার্তায় ইনান শেখ বিরক্ত হোন। রাগান্বিত কন্ঠে বলেন, “শান্তি দাও প্লিজ। এখন এসব শোনার ইচ্ছে নেই আমার।”
“এখন ইলমা বিচার দিলে ঠিকই শোনতে। পালতেছ মেয়ে একটা,দুইদিন পর মুখে চুনকালি দিবে তখন বুঝবে।”
“সমস্যা কী তোমার? ফালতুর মতো কথাবার্তা বলছ কেন?”
“সমস্যা আছে আমার, তোমার ভাইপো ইলমার হয়ে আমার সাথে মুখেমুখে তর্ক করে। বেয়াদব একটা। আমাকে থ্রেট দেয়। আমি ওর বড় নাকী ছোট? গিয়ে দেখো তোমার মেয়ের সাথে প্রেম করছে।”
“মুখ সামলে কথা বলো ফাইজা। ইলমা বা আদনান তাদেরকে দেখেই বোঝা যায়, এইরকম কোন আকাঙ্খা ওদের মনে নেই। তুমি অযথা মানুষকে হ্যারেস করা বন্ধ করো।”
“তুমিও আমাকে দাম দেও না। আমি দেখে সতীনের মেয়ে নিয়ে তোমার ভাত খাচ্ছি। অন্য কেউ হলে কবেই চলে যেত।”
“জেনেশুনেই বিয়ে করছ আমায়। তাহলে এসব কথা আসছে কেন?”
“তোমাদের ব্যবহারে। তোমার মেয়েকে সবার সামনে জিজ্ঞেস করো, আদনানের সাথে ওর কিছু আছে কি-না। নাহলে আদনান আমার সাথে কখনো উঁচু গলায় কথা বলেনি। আজকে কেন বললো?”
“আমি আমার মেয়েকে এসব জিজ্ঞেস করতে পারব না। তোমার বেশি সমস্যা থাকলে নিজে জিজ্ঞেস করে নেও। আমার মেয়ে আমার কাছে স্বচ্ছ কাঁচের মতো।”
“আমার সমস্যা ঠিক এই জায়গায়। ইলমার প্রতি তোমার এতো টান কেন? আমার ছেলে বা আমার প্রতিও এতো টান নেই তোমার।”
“ইলমা আমার মেয়ে। তুমি ধারণাও করতে পারবে না তাকে আমি কতটা ভালোবাসি। শুধু ইলমা না, আমি আমার ছেলেকেও আমি ভালোবাসি, যদি একই ব্যবহার তুমি ইজাজের সাথে করতে তাহলে আমিও সেম কাজটাই করতাম। এখানে তফাৎ তোমার ব্যবহারের।”
ফাইজা ইনান শেখের দিকে অগ্নি দৃষ্টি নিক্ষেপ করেন। দরজা খোলে বাইরে বেরোন। ইনান শেখ পেছন দিয়ে আসেন। ফাইজা ইলমাকে চিৎকার করে ডাকে। যা ইলমার কানে পৌঁছা মাত্রই ইলমা লিভিং রুমে আসে। ইনান শেখকে দেখে ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠে। এই তো তার শক্তি,তার সাহস তার বাবা চলে এসেছে। এবার ফাইজার একটা ব্যবস্থা করা যাবে। ইলমা তখন চুপ ছিলো, কারণ সে একটা কথা বললে ফাইজা সেটা আরো দশলাইন বানিয়ে ইনান শেখের কানে উঠাতো। সেজন্য যা বলার বাবার সামনে বলবে, যাতে তার বাবার মনে তাকে নিয়ে বিন্দু মাত্র বিদ্বেষ, সন্দেহ এমনকি প্রশ্ন তৈরি না হয়।
সবাই লিভিং রুমে উপস্থিত। আদনান নিজেও এসেছে বিরক্ত হয়। এসেই বাজখাঁই কন্ঠে বলে, “বাসায় কী শান্তিতে থাকতে পারব না?”
আদনানের কথায় ফাইজা চেঁচিয়ে বলে, “তার আগে বলো ইলমার সাথে তোমার কী?”
ব্যাস! আদনানের মাথা গরম হয়ে যায়। ইলমার দিকে একবার তাকায়,বাকীদের দিকেও তাকায়। ইলমার চুপ থাকাটা আদনানের আজকাল বিরক্ত লাগছে। মুখে,মুখে জবাব দিলেই তো এই মহিলা এতো সাহস পায়না। ইনান শেখ ফাইজার উপর রেগে বলেন, “চুপ করবে তুমি?”
“না। ইলমার জন্য আদনান আমায় কথা শুনিয়েছে।”
তখন ইলমা মুখ খোলে। জবাব দেয়, “আমি কারোর বাবার টাকায় না,নিজের বাবার টাকায় খাই,চলি,পড়ালেখা করি। তাহলে মানুষ আমায় অন্ন ধ্বংসের খোঁটা দিবে কেন? আমাকে তাড়ানোর জন্য এতো উঠে পড়ে লাগবে কেন? যার সাথে আমার ভালো করে দুদণ্ড কথা হয়না সে কোন সাহসে আমায় নিয়ে বা’জে কথা তোলবে? যে আমার সাথে আদনান ভাইয়ার কিছু আছে। যে কোনদিন মায়ের দায়িত্ব পালন করেনি, সে কোন অধিকার নিয়ে আমাকে তাড়ানোর কথা বলবে?”
সবাই চুপ। ইনান শেখ ফাইজার দিকে রাগী দৃষ্টি নিক্ষেপ করে। ফাইজা কিছু বলতে গেলে স্ব জোরে চড় বসে যায় ফাইজার গালে। ইনান শেখ আঙুল তুলে বলেন, “আমার মেয়ের কোন বিষয়ে নাক গলাবি না তুই। রাস্তার মেয়ে, ভদ্রতা কী শিখেছিস কখনো? কোন পরিবার কী চলে না চলে সেটা শিখেছিস? আমার মেয়েকে যে খাবার নিয়ে খোঁটা দিবে,না বিয়ে নিয়ে কথা তোলবে আমার চেয়ে খারাপ কেউ হবেনা। এরপর থেকে ফাইজা ইলমার ব্যপারে কোন কথা তোলবে তো ননস্টপ চড় থাপ্পড় চলবে।”
তখন ইজাজ তার মায়ের দিকে তাকিয়ে বলে, “আম্মু তুমি আপুর সাথে এরকম করো কেন? ইলমা আপু কত ভালো। মানুষ চায় তার এরকম একটা মেয়ে থাকুক, আর তুমি পেয়েও অবহেলা করছ। আমার আপু বেস্ট। তুমি অনেক ঝগড়া করো।”
ইজাজের কথায় আদনান খানিক হাসে। আঁড়চোখে ইলমাকে দেখে ইজাজকে ফিসফিস করে বলে, ” আপুকে বিয়ে দিবি?”
ইজাজ আদনানের দিকে তাকিয়ে বলে, “হুঁশ, একটু আগে বাবা কী বলল? আপুর বিয়ের কথা তোললে মারবে।”
“ওইটা তোর আম্মুকে। আমাকে না।”
“আপুকে বিয়ে দেব, সুন্দর একটা দুলাভাই আনব।”
“আমি খুঁজব তোর জন্য দুলাভাই?”
তাঁদের কথার ধ্যাণ ভাঙে যখন তারেক মাহমুদ বলেন, “ফাইজাকে নিয়ে আজকে না বলে পারছিনা, ইলমা এই বাড়ির মেয়ে। ও কী করবে না, করবে,খাবে না ফেলবে সেটা ওর ব্যপার,আমাদের ব্যপার। যে দায়িত্ব পালন করেনি তার এতো মাথা ঘামানোর কিছু হয়নি। আর কী জেনো বলছিলে? আমার ছেলের সাথে ওর কিছু? শোন, ইলমার মতো ভদ্রসভ্য মেয়ে আদনানের মতো বখাটের সাথে প্রেম করবে না। আদনান তো একটা ইভটিজার, বেয়াদব।”
ব্যাস! আদনানের মাথায় পুনরায় আগুন জ্বলে উঠে। মানে ওদের ঝগড়ায় তাকে টেনে অপমান করাই লাগবে? সে না-হয় একটু ইভটিজিং করে, তাই বলে ইলমার এতো গুনগান গাওয়ার কী আছে? আদনান তার বাবার কথায় জবাব দেয়,
“আমি ভদ্রমেয়ে বিয়ে করব না। আমার মতোই একটাকে বিয়ে করব। তাতে কার কী হবে শুনি?”
“তোমার নজর সবসময় পঁচা জিনিসের উপরই যায়। ভালো কিছুর মূল্য কী সেটা তো জানো না। যা খুশি করো। শুধু বেয়াদব মেয়েমানুষ শেখ পরিবারের বউ করে এই বাড়িতে তোলতে পারবেনা।”
“তাহলে চাচ্চু কীভাবে এতো ভালো মানুষ বিয়ে করে বাড়িতে তোললে?”
ঈশিতা ছেলের দিকে চোখ রাঙিয়ে তাকায়। আদনান কথাটা বলে নিজেই হতভম্ব হয়ে যায়। মনে মনে বলে, “ইশ আদনান, সবসময় সত্যিটা বলতে নেই। এখন দিলি তো আরেকটা আগুন জ্বালিয়ে।”
তারেক মাহমুদ ছেলের কথায় খুশি হোন। একবারে মোক্ষম জায়গায় কথাটা বলেছে। বেয়াদব হলেও একটা সুবিধা আছে,মুখের উপর জবাব দেওয়া যায়। সত্যিটাও বলা যায়। কিন্তু তার ছেলে একটু বেশি বেয়াদব। মানে বেয়াদবের টপ ক্লাসে আছে সে। ইনান শেখ এই নিয়ে টু শব্দ করেননি। সোজা রুমে চলে যান। ফাইজা ইজাজের রুমে গেছে।
তারা সরতে ঈশিতা আদনানকে বলে, “মুখটা সামলাও আদনান। সবসময় সত্যি বলতে হয়না।”
তখন ফরিদা পারভীন ইলমাকে বলেন, “এরপর চুপ থাকলে তোর খবর আছে। মুখেমুখে জবাব দিবি, দেখবি সাহস পাইব না।”
ফরিদা পারভীনের কথায় আদনান ইলমাকে বলে, “মেলিচার বাচ্চা যা তেজ আমার সাথে দেখাস শুধু। যেখানে দরকার সেখানে বিড়ালের মতো মিউমিউ করিস।”
আদনানের কথায় ইলমা বিরক্ত হয়। চোখ রাঙিয়ে তাকাতে আদনান বিরক্তিকর চাহনি দিয়ে বলে, “এই প্রেমিকনারী, চোখ রাঙাবি তো খবর আছে।”
“মুখ সামলে কথা বলো নাহলে খবর আছে।”
“থ্রেট দেওয়া বন্ধ কর। তোর বাপের বারোটা বাজাতে আমার সময় লাগবেনা।”
“কথায় কথায় বাপ টানো কেন? সমস্যা কী?”
“তোর বাপ একটা হিটলার। দেখিস না, রিনাখান একটা বিয়ে করে নিয়ে এসেছে। কাউকেই শান্তি দেয়না।”
তখন ঈশিতা আদনানকে ধমক দিয়ে বলে, “থামবে? নাকী গরম খুন্তি টা নিয়ে আসব?”
আদনান চুপ করে। ইলমা তার দাদীর পাশে গিয়ে বোসে। তখন তারেক মাহমুদ ইলমাকে বলেন, “শোন মা, এরপর ফাইজা তোমার কোন বিষয়ে বাড়াবাড়ি করলে ইনানকে বলবে, নাহলে আমাকে। চুপ করে থাকবেনা।”
তারেক মাহমুদের কথায় ফরিদা পারভীন বলেন, “ফাইজা যা বলবে জবাব দিবি। চুপ করে থাকলে মাথায় উঠে বসে।”
তাঁদের দুজনের কথা শোনে ইলমা জবাব দেয়, “আমি যা বলার বাবার সামনে বলব। যা প্রতিবাদ করার বাবার সামনে করব। বাবার অনুপস্থিতিতে আমি একলাইন বললে তিনি চারলাইন বানিয়ে সেটা উপস্থাপন করবেন। তখন আমার বাবার মনে আমাকে নিয়ে একটু হলেও প্রশ্ন তৈরি হবে। এখন আমি কিছু বলছিনা সেজন্য, আমার বাবা নিজের মতো বলে হ্যান্ডেল করতে পারে। তখন আমি কিছু বললে তখন তাকে বিচার করতে হবে কার কথাটা সঠিক। আমি কী আদৌ কথাটা ঠিক বলেছি? নাকী উনি সঠিক বলেছেন?”
ইলমার কথায় তারেক মাহমুদ আদনানকে বলেন, “কিছু শেখো ইলমার থেকে। জীবনে বেয়াদবি ছাড়া কিছুই তো শিখতে পারোনি।”
“এই মেলিচা আমার দেওয়া হরলিক্সটা ঠিকঠাক খাচ্ছিস তো?”
আদনানের কথায় তৃপ্তি শব্দ করে হাসে। ঈশিতা ছেলের কথায় হাসবে নাকী বকা দিবে বুঝতে পারছেনা। আদনানের এমন কথায় ইলমা ভরকে যায়৷ আদনান বিরক্ত হয় ইলমার চুপ থাকাতে। তখন ইলমা জবাব দেয়, “এটা কেমন প্রশ্ন?”
“আগে তো তোর মাথায় তেমন বুদ্ধি ছিলোনা। কথাবার্তাও ম্যারম্যারে ছিলো। নিশ্চয়ই আমার দেওয়া হরলিক্স খেয়ে, বুদ্ধি বেড়েছে তোর।”
ইলমা আদনানকে চোখ রাঙায়। ফরিদা পারভীন বলেন, “এই ঝগড়া লাইগা গেলো।”
আদনান উঠে দাঁড়ায়। অনেকক্ষণ হলো ভালো মানুষদের সাথে বসেছে। বেশিক্ষণ বসলে তার চুলকানি শুরু হয়ে যাবে। সেজন্য উঠে দাঁড়ায়। অতিরিক্ত ভালো মানুষদের পাশে বসতে আনকম্পোর্ট ফিল হয়। কারণ সে জানে, ‘তার মতো বেয়াদব দু-চারটা আছে কি-না সন্দেহ।’
রুমে এসে একটা সিগারেট ধরায় আদনান। সেটা টানতে টানতে ফেসবুকে ঢুকে। নিজেদের ফ্রেন্ডস গ্রুপে ঢুকতে দেখে নির্মাণ একটা স্কিন শর্ট দিয়েছে। সেটাও জেভিন এবং আবরণের আপলোড করা পিকচার্সের। আদনান ছবিটা দেখে ‘হাহা’ রিয়েক্ট মারে। নির্মাণ লিখেছে, “কীরে তোর শিকার তো আবরণের কাছে।”
“ব্লক মেরে দিয়েছি। এসব মাতারি আমার দরকার নেই।”
বাকীরাও এক্টিভ হয়। আদনানের ম্যাসেজে সবাই অবাক হয়। শেজান জিজ্ঞেস করে, “কী ব্যপার? রিয়ানার ভালোবাসার গুডসাইড নাকী?”
“হেতি আরেক শালী। সব একরকমের। ব্রেক আপ করে নেব। আপাতত প্রেম করছিনা।”
“ওই এই সন্ধ্যায় কী মদ গিলেছিস নাকী?”
নির্মাণের ম্যাসেজে আদনান মৃদু হাসে। রিপ্লাই করে, “না। ভাবছি রাতে ক্লাবে যাব। তোর কোন পরিচিত জুনিয়র থাকলে নিয়ে আসিস।”
“হালারপো হালা। তুই আর ভালো হইলিনা।”
নির্মাণের রিপ্লাই দেখে আদনান পুনরায় হাসে। গ্রুপ থেকে বেরিয়ে আবরণকে খোঁচা মারে। লিখে, “কিয়ো নারী দরদি জাতির পিতা, মেয়ে রাজী হয়েছে এতোদিনে?”
আবরণ জেভিনের সাথে কথা বলছিলো। আদনানের ম্যাসেজ দেখে হা হয়ে যায়। এর আগেও তাঁদের কথা হয়েছে ম্যাসেন্জারে। তাও আবরণই প্রথম নক দিয়েছিলো, জেভিনের ব্যপারে। এখন আদনান আজকে নক দিয়েছে। আবরণ রিপ্লাই করে, “মেয়ে মানে? জেভিন আমার ফিউচার ওয়াইফ।”
“শেষমেশ জনগণের খাওয়াটাকেই বউ বানাচ্ছিস?”
“ক্লাবে নাচলেই কী ভার্জিনিটি ন’ষ্ট হয়ে যায়?”
“নাহ্, যদি ক্লাবে নাচতে, নাচতে লাংয়ের হাত ধরে রুমে যায় তখন নিশ্চয়ই ভার্জিনিটি নষ্ট হয়। তবে তোর কপাল একদিক দিয়ে ভালো, তোর ফিউচার বউকে আদনান শেখ গভীর ভাবে টেস্ট করেনি।”
“এই মুখ সামলে কথা বলবি।”
“নারী দরদি জাতির পিতা, জনগণের খাওয়া জিনিস আবার টেস্ট করবে। ছিঃছিঃ.।”
#চলবে
যারা আদনান -ইলমাকে মিস করবেন তারা চাইলে “বুকপকেটের মায়াবিনী” বইটা কিনতে পারেন। যখন খুশি তখন বইটায় আদনান-ইলমাকে পড়তে পারবেন। তারা সবসময় আপনার সাথেই থাকবে। বইটা অর্ডার করতে ম্যাসেজ
https://www.facebook.com/boiprangon1
আমার গ্রুপ লিংক,
https://m.facebook.com/groups/582123563029858/?ref=share&mibextid=NSMWBT

