#গুপ্ত_প্রেমের_সুপ্ত_পিয়াসা” 🖤|২৮||
#শার্লিন_হাসান
“আচ্ছা একটা ছোট্ট সংসার মাসে বিশ হাজার টাকায় চলবে তো?”
আদনানের এমন কথায় বন্ধুমহলের সবাই হা হয়ে যায়। নির্মাণ চেঁচিয়ে বলে, “এ্যাই শেজান চিমটি কাট। স্বপ্ন দেখছিনা তো?”
সাথে সাথে কানের নিচে থাপ্পড় দেয় আদনান। নির্মাণ চেঁচিয়ে বলে, “এতো জোরে মারতে কে বলেছে?”
“সত্যি ভাই তুই বিয়ে করবি?”
শেজানের কথায় আদনান উপর-নিচ মাথা নাড়িয়ে বলে, “হুম করব। বিশ হাজার টাকায় একটা মেয়ে চালাতে পারব না?”
আদনানের কথায় নিশাত জবাব দেয়, “কীভাবে পসিবল? তোর নিজেরই তো হাতখরচ বিশ হাজারের বেশি লাগে। সেখানে এখনকার মেয়েদের যেই খরচ….
” ও আর দশটা মেয়ের মতো না।”
নিশাতকে কথার মাঝে থামিয়ে দিয়ে কথাটা বলে আদনান। সবাই বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে আছে আদনানের দিকে। সবার তাকানোতে আদনান ঠোঁট কামড়ে হেঁসে বলে, “ও স্মার্ট তবে ব্যাকডেটেড। আই লাইক দিস টাইপ ওমেন। একদম ওয়াইফ ম্যাটেরিয়াল। সবসময় মাথায় ঘোমটা থাকে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে। তবে রাগটা একটু বেশি। আদনানের প্রিয়তমা তো সেজন্য রাগ বেশি।”
“ওই গতকাল রাত কী তুই বেশি মাল গিলেছিস? নেশা কাটেনি?”
নির্মাণের কথায় আদনান রুক্ষ গলায় বলে, “এমন একটা লাথি মারব ভবিষ্যতে বাপ হওয়ার চিন্তা মাথায়ও আনতে পারবিনা।”
“সর শ্লা! আমার বউয়ের কী হবে?”
“আদনান আছেনা। পাঠিয়ে দিস।”
বিরক্তি নিয়ে জবাব দেয় আদনান। নির্মাণ পিঠে চাপড় মেরে বলে, “নিজের বউ সামলা আগে। আমার বউ নিয়ে চিন্তা করতে হবেনা।”
“তাহলে আমাকে কথা শেষ করতে দে।”
বাকীরা চুপ। আদনান বলতে শুরু করে, “আমার মাস্টার্স কমপ্লিট হতে আরো দুইবছর। এখন ভালো জব পাবো কি-না জানিনা। তবে ছোটখাটো হোক আমি জব করতে চাই। আমার প্রিয়তমাকে আমার বানিয়ে নিতে চাই।”
“মেয়েটা কে?”
শেজানের কথায় আদনান কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে, “সিক্রেট।”
“এমন একটা লাথি মারব। সিক্রেট বেরিয়ে যাবে। শ্লা তোর সব প্রেমিকাদের নাড়িভুড়ি জানতাম এখনকার টার কী হয়েছে?”
“কারণ, সে আমার প্রিয়তমা;প্রেমিকা নয়। আমার হৃদয়ের রানী এবং আমার ভবিষ্যৎ বউ। সেজন্য চাইনা তার কোন ব্যপার কেউ জানুক।”
“এই তুই ভয় পাচ্ছিস?”
নির্মাণের কথায় আদনান মৃদু হেঁসে জবাব দেয়, “হ্যাঁ ভয় পাচ্ছি। তবে তোদের না,তাকে হারিয়ে ফেলার।”
আদনানের কথায় রাহা বলে, “আমাকে কেউ ধর। নাহলে মাথা ঘুরে পড়ে যাব। আমার বিশ্বাস হচ্ছেনা আদনান এটা। ওই মেয়েকে দেখা প্লিজ নাহলে আফসোস থেকে যাবে।”
“তাকে তোরা চিনিস।”
আদনানের কৌতূহল মাখানো কথায় নির্মাণ ভ্রু কুঁচকে তাকায়। জবাব দেয়৷ “হারানোর ভয় কেন?”
“তার বাবা আমাকে পছন্দ করেনা। নিশ্চয়ই আমার মতো বখাটের হাতে মেয়ে তুলে দিবেনা। সেজন্য তাকে পাওয়ার চান্স জিরো পার্সেন্ট।”
“এটা তো দেখি সিনেমা। মানে হিরোর জন্য কত মেয়ে পাগল ছিলো অথচ হিরো এমন একজনকে ভালোবাসলো যাকে পাওয়ার চান্সই নেই। ক্যারে শ্লা! দুনিয়ায় মেয়ের অভাব পড়সে নাকী? ওই হিটলার বাপের মেয়েকেই কেন ভালোবাসতে হলো?”
“কারণ ওই মেয়ে সবার থেকে আলাদা এবং বিশেষ।”
আদনানের কথা শেষ হতে সবাই চেপে ধরে পিক দেখানোর জন্য। আদনান পিক দেখানোর ব্যপারটা ইগ্নোর করে যেতে চাইলেও পারেনা।বন্ধুমহল বলে কথা! সেজন্য বাধ্য হয়ে ফোন বের করে। গ্যালারী থেকে একটা ছবি বের করে সবার সামনে ধরে। আদনানের দেখানো মেয়ের ছবি দেখে সবাই হা হয়ে যায়। চোখ বড়বড় করে তাকিয়ে আছে ছবিটার দিকে। হ্যাঁ! ছবিটা হয়ত মেয়েটার অজান্তে তোলা হয়েছে। মেঘবরণ সরু কেশ কোমড় ছাড়িয়ে হাঁটু ছুঁয়েছে প্রায়। শ্যামবর্ণের মুখশ্রী তবে ছবিতে ফর্সা লাগছে। পরণে মেরুণ রঙের শাড়ি। হাতে দু’টো গোলাপের মালা। সাধারণ সাজে একবারে অসাধারণ লাগছে তাকে। আদনানের বর্ণনা অনুযায়ী কোন অংশে কম না মেয়েটা। এই মেয়েকে তারা সব বন্ধুরাই বেশ কয়েকবার দেখেছে। সবসময় হিজাব পড়ায়। কখনো খোলা চুলে দেখেনি। এই প্রথম কোন ছবি খোলা চুলে দেখলো। আদনানের পছন্দ নিয়ে তেমন করে কিছুই বলার নেই। নির্মাণ আদনানের দিকে তাকিয়ে বলে, “প্রথম থেকেই খটকা লেগেছিলো। যাক সন্দেহ সঠিক। তা ভাই,মেয়েটা জানে তো তোর ভালোবাসার খবর?”
আদনান মাথা নাড়িয়ে বলে, “একান্ত গুপ্ত প্রেম।”
“ওয়ান সাইড লাভ।”
শেজানের কথায় আদনান মৃদু হাসে। জবাব দেয়, “হুম।”
“সদরঘাটের প্রেমিকনারী।”
নির্মাণের কথায় আদনান জবাব দেয়, “ব্যক্তিগত হয়ে গেছে।”
তখন শেজান বলে, “সারাবছর সদরঘাটের প্রেমিকনারী বলতে,বলতে নিজেই তার প্রেমে পড়লি? কীভাবে সম্ভব?”
“আমি সিগারেট ছেড়েছি শুধুমাত্র ওর কথায়।”
“ওমাহ্ তাহলে তো প্রেম!!”
নিশাতের কথায় আদনান মাথা নাড়িয়ে না বোঝায়। তারপর তাদের সুন্দর সকালের নামাজ পড়ার মূহুর্তের কথা বর্ণনা করে। সেই সুপ্রভাতের ❝ অলীক ধ্রুব।❞
সবটা শোনার পর নির্মাণ আওড়ায়, “সী’জ দ্যা বেস্ট ওমেন ফর শাহরিয়ার আদনান শেখ। সত্যি করে বল ভাই, বিয়ে হলে তার কথায় সব ছাড়তে পারবি?”
আদনান সূক্ষ্ম দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে, “তার এককথায় আমি আদনান দুনিয়া এফোঁড়ওফোঁড় করতে রাজী আছি। তবুও সে আমার হোক। একান্ত আমার,শুধুই আমার।”
আদনানের কথায় সবাই ভীষণ অবাক হচ্ছে। এই সেই আদনান যে মেয়েদের সাথে টাইমপাসের প্রেম করত। একটা ছেড়ে আরেকটা ধরত। রাস্তায় মেয়ে দেখলে শিস বাজাতো, ইভটিজিং করত।সিগারেট যার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিলো সেই আদনান আজ কাউকে ভালোবেসে সব ছাড়তে রাজী আছে! বিষয়টা অষ্টম আশ্চর্যের মতো না? চাইলেই তো তার প্রেমিকাদের থেকে একজনকে বিয়ে করতে পারত। কিন্তু এমন একজনকে মন দিলো যাকে পাওয়ার আশা জিরো পার্সেন্ট।
আদনান বেশ চিন্তত। ইলমাকে নিয়ে বিশেষ করে। কীভাবে বিয়ের কথা তোলবে সে? এদিকে কখন কে এসে থাবা মে’রে নিয়ে যাবে সেটা ভেবেও কূল কিনারা পাচ্ছেনা সে। সবাইকে বিদায় দিয়ে আদনান বাইকে চড়ে বসে। আনমনা হয়ে বাসার উদ্দেশ্য রওনা হয় সে। একদিকে ইনান শেখের মতিগতি তার ভালো লাগছেনা। ইলমা তো এমন একটা মেয়ে যে জীবনেও প্রেম ভালোবাসার ধারেকাছেও আসবে না। কিন্তু কীভাবে সব সামলাবে আদনান? আচ্ছা ইলমার মনে কী তার জন্য বিন্দু মাত্র অনুভূতি নেই? এই মেয়ে কিসের তৈরি? ইট?বালু? নাকী সিমেন্টের তৈরি? এটার কী মন নেই? আদনান ভেবে পায়না! সে ইলমার থেকে বয়সে কত বড় অথচ আবেগ নাকী প্রেম যাই হোক সেটা কন্ট্রোল করতে পারেনি। সেজন্য ভালোবাসায় ধপাস করে পড়েছে। আর ইলমাকে দেখো না? তার থেকে পাঁচ বছরের ছোট অথচ মেয়েটার নাকী আবেগ নেই। কিন্তু এই বয়সের মেয়েদের তো আবেগ একটু বেশি থাকার কথা। কী জানি! এমনিতেই আদনান তাকে অন্য সব মেয়েদের থেকে আলাদা ভাবছে সেজন্য হয়ত।
আদনান ভাবছে ইলমাকে প্রপোজ করবে। এরপর যা হবে বাকীটা দেখা যাবে। কিন্তু কীভাবে প্রপোজ করবে? মেয়ের যা রাগ! এমনিতে তাকে করে ইগনোর এরপর যদি কথা বলাই বন্ধ করে দেয়? না! আদনান ভেবে পাচ্ছেনা কী করবে। এদিকে মন তোলপাড় হয়ে যাচ্ছে।ইলমাকে কবে নিজের করে পাবে? অন্য কারোর হয়ে যাবে না তো!
বাসায় আসতেই কাউকে পায়না আদনান। হয়ত ফারিশদের বাসায় জিনিসপত্র গোছাচ্ছে। ভীষণ গরম লাগছে। সেজন্য ফ্যান ছেড়ে সোফায় বোসে। গলা ছেড়ে ডাকে, “আম্মু পানি দাও।”
কারোর সারা শব্দ পায়নি আদনান। বার কয়েক ডাকে। কিছুক্ষণ পর ইলমা বেরিয়ে আসে রুম থেকে। ভেজা চুল, মুখে বিন্দু, বিন্দু পানি কণা। আদনান বুঝে মাত্রই গোসল করে এসেছে। ইলমাকে দেখে নাক মুখ এমন ভাবে কুঁচকায় জেনো এসব ইলমার আগমনে সে বিরক্ত হয়েছে। আদনানের নাক মুখ কুঁচকানো দেখে ইলমা বিরক্ত হয়। ফ্রিজ থেকে পানির বোতল বের করে কোলে ছুঁড়ে মারে। আদনান পানির বোতল হাতে নিয়ে তেজ দেখিয়ে বলে, “প্রেমিকের সাথে ঝগড়া করে এসেছিস নাকী? এতো রাগ কেন?”
ইলমা থামে। আদনানের দিকে ঘাড় ফিরিয়ে তাকায়। জবাব দেয়, “সবাই দোতালায় আছে। প্রয়োজন হলে সেখানে গিয়ে ডেকে নিও।”
“তুই থাকতে আবার অন্যদের ডাকব কেন?”
মুখ ফসকে বলে আদনান। আদনানের এমন কথায় ইলমা ঠোঁট কামড়ে হাসে। তবে আদনানের দিকে সিরিয়াস মুখ করে ফিরে তাকায়। ভ্রু উঁচিয়ে জিজ্ঞেস করে, “আমার কাছে তোমার কী এমন প্রয়োজন শুনি?”
আদনান মাথা নাড়ায়। জবাব দেয়, “অনেককিছুর।”
“সেটা কী?”
“আমার মনটা ফেরত দে প্রেমিকনারী।”
ভীষণ আহত শোনাল সেই কন্ঠ। এই ছোট্ট বাক্যে হতাশা,চাওয়া-পাওয়া অনেককিছু মিশ্রণ আছে। ইলমা মেঝেতে দৃষ্টি স্থির রেখে বলে, “ঠিক কীভাবে মন ফেরত দিতে পারি?”
ইলমার কথায় আদনান চকিত তাকায়। নাহ্! রাগ দেখায়নি। আদনান শীতল কন্ঠে আওড়ায়, “কাউকে ভালোবাসার মতো সর্বনাশ হয়েছে। আমার হৃদয় টা আর আমার দখলে নেই।”
“এখন কী করা যায় বলো তো?”
খুব সিরিয়াস শোনাল সেই কন্ঠস্বর। আদনান ক্ষণে,ক্ষণে অবাক হচ্ছে। ইলমা সিরিয়াস হয়ে কথা বলছে? নাকী মজা করছে তার সাথে? আদানান খানিক ধমকে বলে, “এই মজা করবি না। আমি সিরিয়াস হয়ে কথা বলছি।”
“মজা করার মতো কোন বিষয় বলোনি। আমি ভেবে দেখব তোমার হৃদয়ের ক্ষতিপূরণ কীভাবে দেওয়া যায়।”
“হৃদয়ের ক্ষতিপূরণ হৃদয় দিয়ে দিতে হয়।”
“এতোটা আবেগ নেই আমার মাঝে।”
ইলমার কথায় আদনান উঠে দাঁড়ায়। ইলমা আদনানের চোখের দিকে তাকায়। সেই আকুতিভরা চাহনি ইলমার হৃদয়ে এসে বিঁধে। আদনান ইলমার মুখোমুখি দাঁড়ায়। দৃষ্টি মেঝেতে সংযত রেখে বলে, “তোর জন্য আমি আমার সব খারাপকে ভালোতে রুপ দিয়েছি। এটা কী যথেষ্ট নয়?”
“এসব প্রকাশ করতে গেলে কেন?”
“খুব কী ক্ষতি হয়েছে?”
ইলমা জবাব দেয়না। আদনান উত্তরের অপেক্ষায় আছে। ইলমা সেসব তোয়াক্কা না করে রুমের দিকে পা বাড়াতে আদনান মেজাজ তুঙ্গে উঠিয়ে ধমকে বলে, “এই নাটক করে এখন রুমে যাচ্ছিস?”
আদনানের ধমকে ইলমা কেঁপে উঠে। জবাব দেয়, “ধমকাচ্ছ কেন?”
মূহুর্তে আদনানের চোখেমুখে পরিবর্তন আসে। মাথা নিচু করে বলে, “স্যরি।”
আদনানের ক্ষমা চাওয়া দেখে ইলমা মাথা নাড়ায়। আদনান তাকাতে দু’জনের চোখাচোখি হয়। ইলমা পাশ কাটিয়ে চলে যেতে নিলে আদনান জবাব দেয়, “আমার উত্তর?”
“ভাগ্যে থাকলে তুমি,আমি ‘আমরা’ হবো।”
#চলবে
যারা আদনান -ইলমাকে মিস করবেন তারা চাইলে “বুকপকেটের মায়াবিনী” বইটা কিনতে পারেন। যখন খুশি তখন বইটায় আদনান-ইলমাকে পড়তে পারবেন। তারা সবসময় আপনার সাথেই থাকবে। ৩৫% ছাড়ে ২৪০৳ টাকায় বইটা অর্ডার করতে ম্যাসেজ
https://www.facebook.com/boiprangon1
(ডান হাতের ব্যাথায় লিখতে কষ্ট হয়। মানিয়ে নিন। আর হ্যাঁ আদনান শেখ কিন্তু বইয়ের পাতায় আসছে।)
গ্রুপ লিংক
https://m.facebook.com/groups/582123563029858/?ref=share&mibextid=NSMWBT

