গুপ্ত_প্রেমের_সুপ্ত_পিয়াসা” 🖤|২৯|| #শার্লিন_হাসান

0
36

#গুপ্ত_প্রেমের_সুপ্ত_পিয়াসা” 🖤|২৯||
#শার্লিন_হাসান

ইলমা রুমে যাওয়ার পেছন দিয়ে ঈশিতা এবং ফরিদা পারভীন বাসায় আসে। আদনান তার আম্মুকে দেখে বলে, “কোথায় ছিলে এতোক্ষণ?”

“তুমি এসেছ কখন?”
ঈশিতার প্রশ্নে আদনান উত্তর দেয়, “মাত্রই এসে বসলাম। বাসায় কেউ নেই?”

“ইলমা আছে।”

“কই? দেখিনি।”

আদনানের কথায় ফরিদা পারভীন বলেন, “রুমে আছে হয়ত।”

আদনান মাথা নাড়ায়। উঠে রুমে এসে খাটে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ে। মনটা খুশি লাগছে আবার খারাপও লাগছে। এই অনুভূতিটা একদম বাজে। ইলমাকে নিয়ে ভাবতে গেলে আদনানের সব এলোমেলো লাগে। কীভাবে কী করবে নাম করবে এসব ভাবতে গেলেই আর কিছু ভালো লাগেনা। ইনান শেখকে নিয়ে আদনানের চিন্তার শেষ নেই।

রুমে এসে ব্যালকনিতে যায় ইলমা। গ্রিলে হাত রেখে বাইরে তাকায়। সব এলোমেলো লাগছে। আদনানের কাছে নিজেকে প্রকাশ করে দিলো? কিন্তু এরকম তো হওয়ার কথা ছিলো না। এই মূহুর্তে ইলমা নিজের অনুভূতি আর ভুলগুলোকে ধিক্কার জানায়। তার বাবার বলা কথা মনে পড়ে যায়। খুব কঠিন ভাবে শাসিয়ে বলেছিলো,, “আদনানের থেকে দূরে থাকতে। এসব বাজে ছেলেদের সাথে কোন সম্পর্ক ইনান শেখ মেনে নিবেন না।” তখন ইলমা ভীষণ অবাক হয়েছিলো। এই যে, যেখানে আদনানের সাথে তার কিছু নেই সেখানে সম্পর্কের কথা আসলো কোথা থেকে? আদনান তাকে শাসন-বারণ করে এটা সে জানে। যেমনটা তৃপ্তিকেও শাসন করে। এটাকে আলাদা করে কখনো দেখেনি ইলমা। কিন্তু মাঝেমধ্যে একটু হলেও সন্দেহ সৃষ্টি হতো। আসলেই আদনান এসব নরমাল ভেবে করছে নাকী বিশেষ কিছু? সবচেয়ে বেশি অবাক হয়েছিলো সেদিন সকালে। যখন আদনান ইলমার কথায় নামাজ পড়তে রাজী হয়েছিলো। সিগারেট ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিলো। সে নামাজ পড়লে ইলমা খুশি কীনা এটা জিজ্ঞেস করেছিলো। কিন্তু এসব নিয়ে ভাবার আগেই ইনান শেখ ইলমাকে শাসন-বারণ করেছেন। ইলমা আদনান যখন বাসায় ফিরছিলো তখন তিনি ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। দু’জনকে একসাথে দেখে নিয়েছেন। তবে বিশ্বাস ছিলো ইলমা প্রেম করেনা। তবুও সাতসকালে একটা ছেলেমানুষের সাথে কোথা থেকে আসলো, এই কৌতূহল তো থেকেই গিয়েছিল। বাবার বলা প্রত্যেকটা কথাই ইলমা মন দিয়ে শ্রবণ করেছে। এরপর থেকে আদনানকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতো। ইলমা নিজের মাঝে আদনানের জন্য বিশেষ কোন অনুভূতির সন্ধান পায়নি। সে হিসাবে বলতে গেলে সে অনুভূতিহীন। কিন্তু আদনানের কথায় মনে হলো, সে ভীষণ সিরিয়াস। সেই মূহুর্তে না করার মতো কিছু পেলো না ইলমা। সবটা ভাগ্যের উপর ছেড়ে দিয়েছে। এমনটা না যে সেও আদনানকে চাইছে। তার জীবনের ঠিকভুল বলতে তার বাবার সিদ্ধান্তেই সব হবে। নিজের মাঝে আদনানের জন্য কোন অনুভূতি নেই। তার কাছে আদনান নিত্যান্তই একজন বখাটে,ইভটিজার, প্লেবয়,উড়নচণ্ডী, উশৃংখল, অভদ্র এবং বা’জে ছেলে।

★★★

সেদিনের পর থেকে আদনান বা ইলমা কেউই কারোর মুখোমুখি হয়নি। বলা যায় ইলমা নিজেকে রুম বন্দী করে নিয়েছে। সকালে নাশতা সেরে কলেজ যায় এসে আবার রুমে চলে যায়। শুধু খাবার খাওয়ার সময় ছাড়া তাকে লিভিং রুমে দেখা যায়না। মাঝেমধ্যে তো খাবারের প্লেট নিয়ে রুমেও চলে যায়। প্রায় পনেরো দিন হলো এভাবে চলছে। এদিকে আদনান যতবারই লিভিং রুমে আসে ততোবারই ইলমার রুমের দিকে তাকায়। সবসময় দরজাটা লক করাই দেখে। দিনে কতবার ব্যালকনিতে যায় কিন্তু ইলমার দেখা পায়না। সে কাউকে জিজ্ঞেস করতে পারছেনা ইলমা কেন লিভিং রুমে আসছেনা।

সেদিন সন্ধ্যায় আদনান সোফায় বোসে ফোন স্ক্রোল করছিলো। অপেক্ষা করছে ইলমার দেখা পায় কীনা। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পর আদনান নিজে ইলমাকে হোয়াটসঅ্যাপে ম্যাসেজ দিয়ে, “কিয়ো প্রেমিকনারী রুমে বসে আমার জন্য ভালোবাসা জমাচ্ছিস নাকী?”

বইয়ের পাশে থাকা ফোনটায় ম্যাসেজের আওয়াজ হতে ইলমা সেটা হাতে নেয়। আদনানের ম্যাসেজ দেখে মৃদু হাসে। মনে,মনে ভাবছে, পনেরো দিন হলো ইলমা গা ঢাকা দিয়েছে। বেচারা আদনানের কী অবস্থা কে জানে! ইলমা ম্যাসেজ সীন করে রিপ্লাই করে, “তোমার জন্য ভালোবাসা জমাব কেন শুনি?”

“তাহলে কার জন্য জমাবি? তোর ছেলেফ্রেন্ডদের জন্য?”

“প্রয়োজন হলে তাই করব।”

“বেশীদিন বাঁচার ইচ্ছে নেই? এই আঠারো বছর বয়সেই মরতে চাস?”

“তাহলে তো ভালোই। আল্লাহ সবকিছু থেকে বাঁচিয়ে নিবে।”

“রুমে বসে মনে হয় আমার শোক পালন করছিস। বাইরে আয়। চিন্তা করিস না পাত্তা দেব।”

“এই আমি কী তোমার পাত্তার জন্য বসে আছি নাকী?”

“প্রেমিকনারী তোর অবহেলাতে আমার হৃদয়টা ক্ষতবিক্ষত হয়ে আছে।”

ইলমা সূক্ষ্ম দীর্ঘ শ্বাস ছাড়ে। কিছু লেখার মতো পেলো না। ইলমা ফোনটা রেখে ব্যালকনিতে যায়। আকস্মিক ভাবে তখন আদনানও ব্যালকনিতে এসেছে। দু’জনের মুখোমুখি সাক্ষাৎ হয়ে যায়। আদনান ইলমাকে দেখে মৃদু হেঁসে বলে, “অবশেষে সদরঘাটের কাজ শেষ করে দেখা দিয়েছে আমার প্রেমিকনারী।”

“এই মুখ সামলে কথা বলো।”

“আচ্ছা মুখ সামলে নিলাম। এবার বল, আমার হবি?”

ইলমা মুখ ভেংচি কেটে বলে, “বা’জে ছেলেদের প্রেমে পড়তে নেই। ওদের ছোঁয়া এবং সঙ্গ দুটোই সর্বনাশ ডেকে আনে। ওই যে ‘বাজে স্বভাব’ গানের একটা লাইন আছেনা? আমি ছুঁয়ে দিলে পরে অকালেই যাবে ঝরে। গলে যাবে যে বরফ গলে না। ঠিক তুমিও সেরকম। তোমার সঙ্গ পেলে অকালেই ঝড়ে যাব।”

“বোকা মেয়ে! আমার সঙ্গতে অকালেই ঝরে যাবিনা। বরং হাজার বছর বাঁচার ইচ্ছে পোষণ করবি।”

“অতিরিক্ত কিছু ভালো না,শাহরিয়ার আদনান শেখ। আপনার আমার পথ সম্পূর্ণ আলাদা। আমি বাবা পাগল মেয়ে। নিশ্চয়ই আমার বাবার ভালোবাসার কাছে আপনার ভালোবাসা অতি ঠুনকো।”

“প্রেমিকনারী, তোর প্রতি আমার ভালোবাসা ঠুনকো না।”

ইলমা জবাব দেয়না। এক ধ্যাণে আকাশের দিকে তাকিয়ে রয়। সূক্ষ্ম দীর্ঘ শ্বাস ছাড়ে। হুট করে নিজের মায়ের কথা মনে পড়ছে। নিশ্চয়ই মানুষটা নিজের স্বামী,সন্তান,সংসার নিয়ে সুখে আছে। আচ্ছা সে মানুষটার কী মনে পড়েনা, রক্তে মাংশে গড়া তার একটা অস্তিত্ব ফেলে গেছে। কী জানি! এই শহরে সবার মায়ার অতল গভীর হয়না। কারোর, কারোর আবেগ মিশ্রিত মায়া ওই হাওয়াই মিঠাইয়ের মতো হয়। এই আছে,মূহুর্তে হাওয়া হয়ে গেছে।

ইলমাকে চুপ দেখে আদনান কিছু বলার মতো খুঁজে পেলো না। তবে আলাদা একটা শান্তি পেলো। এই যে দু’জন পাশাপাশি ব্যালকনহতে দাঁড়িয়ে চাঁদ দেখছে। নক্ষত্রের সৌন্দর্য উপভোগ করছে। অল্পস্বল্প বুলিতে প্রেম নিবেদন করেছে, হোক সপটা অস্থায়ী তবুও আদনানের কাছে সেটা ভীষণ মূল্যবান। বুকের বা পাশটায় চিনচিন ব্যাথা অনুভব হচ্ছে। তার প্রিয়তমাকে হারিয়ে ফেলার ভয় মনে তোলপাড় সৃষ্টি করে। এই প্রেমের বি’ষ খুবই ভয়ানক ভাবে তাকে গ্রাস করেছে।

শাহরিয়ার আদনান শেখ, যার কাছে প্রেম করা জামা চেঞ্জ করার মতো ব্যপার ছিলো। রাস্তা ঘাটে মেয়েদের ইভটিজিং করা। নিজের মর্জি মতো ক্লাবে যাওয়া,মেয়েদের সাথে ডেট করা তার রুটিন ছিলো। সেই শাহরিয়ার আদনান শেখ কাউকে ভালোবেসে সব ত্যাগ করেছে। কিন্তু সেই মানুষটা তার হবে কীনা নিশ্চয়তা নেই। অদৃশ্য একটা দেওয়াল জেনো তাঁদের মাঝে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আদনান একনজরে ইলমার দিকে তাকায়। সে আকাশের দিকে তারা দেখতে ব্যস্ত। আদনান কন্ঠস্বর নরম করে পুনরায় ডাকে, “প্রেমিকনারী শোন?”

ইলমা ঘাড় ফিরিয়ে তাকায়। এই মূহুর্তে এই ডাকটা ভীষণ আদুরে শোনালো। নেই রাগ,মজা বা ছলচাতুরী। শুধুই আছে এক বুক আশা, যত্ন এবং ভালোবাসা। ইলমা সাড়া দেয়। কন্ঠস্বর খাদে নামিয়ে জবাব দেয়, “হ্যাঁ বলো?”

“এভাবে ডাকলে সবসময় সাড়া দিবি তো?”

“অতিরিক্ত কিছুই ভালো না।”

“ভালোবাসি তোকে। ভীষণ ভালোবাসি।”

“ভালোবাসা গোপনে সুন্দর এভাবে প্রকাশ করতে নেই।”

“প্রকাশ করলে দোষ কী?”

“অবহেলা নিতে পারবে না।”

“শাহরিয়ার আদনান শেখের মতো প্লেবয়, আজকে ভালোবাসা পাওয়ার জন্য ছটফট করছে। কী হাস্যকর ব্যপার!”

আদনানের কথায় ইলমা সূক্ষ্ম দীর্ঘ শ্বাস ছাড়ে। ব্যালকনি থেকে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালে আদনান বলে, “আরেকটু থাক না?”
কী মিষ্টি, আদুরে আবদার। ইলমা মৃদু হেঁসে জবাব দেয়, “কেন?”

“তুই যতক্ষণ পাশে থাকিস ততক্ষণ ভালো থাকি।”

#চলবে

যারা আদনান -ইলমাকে মিস করবেন তারা চাইলে “বুকপকেটের মায়াবিনী” বইটা কিনতে পারেন। যখন খুশি তখন বইটায় আদনান-ইলমাকে পড়তে পারবেন। তারা সবসময় আপনার সাথেই থাকবে। ৩৫% ছাড়ে ২৪০৳ টাকায় বইটা অর্ডার করতে ম্যাসেজ
https://www.facebook.com/boiprangon1

গ্রুপ লিংক
https://m.facebook.com/groups/582123563029858/?ref=share&mibextid=NSMWBT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here