বলো_কোন_প্রিয়_নামে_ডাকি:~ #পর্ব_১৭

0
54

#বলো_কোন_প্রিয়_নামে_ডাকি:~
#পর্ব_১৭
#সমৃদ্ধি_রিধী

নওশাদ পুনমের মুখ থেকে হাত সরিয়ে দিয়ে বলে,

“এই বলছো না ফেনীর মধু মানে কি?”

পুনম চোখ মুখ খিঁচে রাখে। নওশাদ পুনমকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে বলে, “কি হলো বলো?”

পুনম নওশাদের দিকে তাকালো। জোরপূর্বক হাসি দিয়ে বলে, “আপনি ফেনীর ছেলে কিনা?”

“তো?”

“হাসবেন্ডকে হানি ডাকে কিনা?”

“হ্যাঁ?”

“তো আপনি ফেনীর ছেলে, আপনি আমার হাসবেন্ড। হাসবেন্ডকে ওয়াইফ হানি ডাকতে পারে। হানি মানে মধু। ওইজন্য ফেনীর মধু।”

নওশাদ এইসব শুনে পুরোপুরি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল। পরক্ষণেই দাঁত কিড়মিড় করে বলে, “এই তোমার হানি কয়টা?”

“এ্যাঁ?”

“হাসবেন্ড কয়টা?”

“একটাই। আপনিই তো!”

“তাহলে ফেনীর মধু সেইভ করেছো কেনো? ফেনীর মধু, বরিশালের মধু, কুমিল্লার মধু, খাগড়াছড়ির মধু, ইটিসি ইটিসি জায়গার মধু সেভ করার পরিকল্পনা আছে?”

“তওবা, তওবা, তওবা। আমার এমন কোনো পরিকল্পনা নেই। আমি নোয়াখাইল্লা নিয়েই সুখে আছি।”

“ব্রেইন তো মাশাল্লাহ খারাপ না। এইসব অকাজে মাথা না খাটিয়ে পড়াশোনায় খাটালেও তো হতো। জীবনে উন্নতি করতে পারতে।”

পুনম ঠোঁটে ঠোঁট চেপে মুখ ঘুরিয়ে ফেলে। নওশাদ পুনমের দিকে মোবাইল বাড়িয়ে দিয়ে বলে,

“চেঞ্জ করবে এখুনি। কে না কে দেখে ফেলে! লজ্জায় পড়তে হবে ভীষণ।”

“চেঞ্জ করবো না।”

“করো। বেশি ইচ্ছে হলে এটা ইনস্ট্রাগ্রাম বা আমার অন্য কোনো একাউন্টের নিকনেইম দাও। তবুও এটা চেঞ্জ করো। মানুষ দেখলে তোমাকে নিয়ে হাসাহাসি করবে। তখন তোমারই ভালো লাগবে না।”

পুনম মোবাইল নেয়। নওশাদের দিকে কপাল কুচকে তাকিয়ে বলে, “আপনিও তো আমার নাম ‘এই সময় লাগবে দিয়ে’ সেভ করেছেন। আমি কিছু বলেছি?”

“আমি ইনস্ট্রাগ্রামে এই নিকনেইম দিয়েছি। নাম্বার এই নামে সেভ করিনি৷ যে কেউ, যখন তখন দেখে ফেলতে পারে।”

“কি নামে সেভ করবো?”

“সেটা তুমি জানো। তোমার মাথায় তো অকাজের বুদ্ধি ভালো ঘুরে।”

“অপমান করবেন না। কি নামে সেভ করবো শুধু সেটা বলুন।”

নওশাদ পুনমের হাত থেকে মোবাইল নিয়ে নেয়। নিজেই নাম সেভ করে পুনমের হাতে দেয়। পুনম দেখে মুখ বাঁকিয়ে বলে,

“হানি দিয়ে সেভ করেছেন কেনো? এখন মানুষ দেখলে হাসবে না?”

“তোমার দেওয়া নামটাই কাটছাট করে হানি দিয়ে সেভ করেছি।”

“ঢং। ভিতরে রংয়ের অভাব নেই, অথচ ভাবটা দেখায় যেন ধোঁয়া তুলছি পাতা।” পুনম মনে মনে ব্যঙ্গ করে বলে।

ওয়েটার খাবার দিয়ে যায়। নওশাদ পুনমের দিকে প্লেট বাড়িয়ে দিয়ে বলে,

“বেতন পেলে বাসায় কিছু কেনার আছে?”

“আম্মার ঘরের আলমারিটার অবস্থা একটুও ভালো না। ঘুণে ধরে অবস্থা খারাপ। ওটার জায়গায় আরেকটা ভালো কাঠের আলমারি আনলে ভালো হতো না?”

“ওটা আমার আব্বার বানানো শেষ জিনিস। এই আলমারি আব্বা আমাদের বাড়ির উঠানে লোক এনে শুধু আম্মার জন্য বানিয়েছিলেন। আমার জামাকাপড়ও আম্মা রাখতো না ওটায়। এটা বানিয়ে দেওয়ার দুসপ্তাহ পরই আব্বা মারা গিয়েছিলেন। ওটা ফেলা যাবে না।”

পুনম নওশাদের ফোন নিয়ে বলে, “আচ্ছা ঠিক আছে। তবে বার্নিশ কইরেন।”

“সেটা করা যায়।”

পুনম খাবারের ছবি তোলে। নওশাদ পুনমের বাম হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে হাতের তালু দেখিয়ে বলে,

“হাতের তালুর কি অবস্থা করেছো?”

“কি অবস্থা?”

“মেহেদী লেপ্টে গিয়ে কি অবস্থা!”

“মেঘলাকে লাগিয়ে দেওয়ার সময় লেগে গিয়েছিল।”

“তুমি তো বিয়েতে মেহেদী দাওনি না?”

“না।”

“ওপস দিবে কি করে? তোমাকে তো জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল।”

পুনম রেগে গিয়ে বলে, “আমাকে বিয়ের কথা জানানো হয়নি। আমার দোষ নেই।”

নওশাদ পুনমের হাত ছেড়ে দেয়। “মেহেদী নিয়ে আসবো নে একদিন। দিও বাম হাতে। বিয়েতে দাওনি তো কি হয়েছে, এখন দিবে।”

পুনম এক চামচ ফ্রাইড রাইস মুখে দিয়ে বলে,

“আচ্ছা ধরুন আপনার সাথে আমার বিয়ের আগে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। আপনি কি জিজ্ঞাসা করতেন?”

“ফার্স্ট অফ অল রিলেশন আছে কিনা।”

“না নেই। তারপর?”

“তোমার বিয়েতে মত আছে কিনা?”

“না ছিল না। তারপর?”

“আসসালামু আলাইকুম। কথা শেষ।”

“জানতে চাইতেন না কেনো বিয়েতে মত নেই?”

“না। তোমার ব্যক্তিগত ব্যাপার কেনো জিজ্ঞাসা করবো?”

“তাহলে আমাদের বাসায় আমার থেকে ওভাবে জোর করে জেনেছেন কেনো?”

“কারণ তুমি এখন আমার বউ। তখন বউ ছিলে না। বউয়ের জিনিসে জোর করা যায়, অপরিচিত একটা মেয়ের ব্যপারে জোর করা যায় না। অপরিচিত কাউকে জোর করার অধিকার আমার নেই।”

“মেইনলি আল্লাহ আমাদের জুটি লিখে রেখেছিল তাই বিয়ের আগে আমাদের কথা হয়নি।”

“মেইবি। স্প্যুন দিয়ে মাংস ছিঁড়তে পারো?”

“হুম পারি তো। খাচ্ছি তো!”

“ফাইন।”

“কেনো?”

“এমনিই। পারো কিনা জানতে চাইছি।”

“না পারলে করে দিতেন?”

“হুম।”

পুনম নিজের প্লেট নওশাদের দিকে বাড়িয়ে দিলো।

“তাহলে দিন।”

নওশাদের ঠোঁটে কোণে হাসি। পুনম লক্ষ্য করে। গালে হাত দিয়ে বলে, “আপনার কি আমার কাজ করতে ভালো লাগে?”

“হু।”

“এইযে রান্নাবান্না পারি না, ঘরের কাজ তেমন একটা পারি না, বিরক্ত লাগে না আপনার? মনে হয় না বিয়েটা করে লস করেছি?”

নওশাদ পুনমের দিকে আড়চোখে তাকিয়ে বলে,

“না। নিজের মতো শিখিয়ে পড়িয়ে নিচ্ছি। তুমি পারলে দেখা যেতো তুমি একভাবে কাজ করো, আমি অন্যভাবে সেই একই কাজটা করি। তখন লাগতো ভেজাল।”

পুনম হাসে। নওশাদ যখন মাংস ছিঁড়ে পুনমের দিকে প্লেট বাড়িয়ে দেয়। পুনম মিটিমিটি হেসে খাওয়া শেষ করে। দুইজনেরই খাওয়া শেষ। পুনম টিস্যু দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে বলে,

“প্লিজ আমার সামনে বিল দিয়েন না। আমি মাথা ঘুরে পড়ে যাবো।”

নওশাদ হাসে। ওয়েটারকে বিল নিয়ে আসতে বলে। পুনমের দিকে ফের তাকিয়ে বলে, “গাধা।”

পুনম নওশাদের পাশ থেকে উঠে গেল। নওশাদের মুখোমুখি গিয়ে বসে। নওশাদ বলে, “উঠলে কেনো?”

ভেংচি দিয়ে বলে, “গাধার পাশে বসতে হবে না।”

নওশাদ ‘গাধা’ বলে আরেক চোট হাসে। ওয়েটার বিলের কাগজ দেয়। পুনম বিল দেখে। নওশাদ ওয়েটারকে হাজার টাকা দেয়। ওয়েটার চলে যেতেই পুনম ফিসফিস করে বলে,

“আটশো চল্লিশ টাকা কেনো?”

“সাতশো আর কোল ড্রিংকসের একশো চল্লিশ টাকা।”

“একশো চল্লিশ টাকা? আল্লাহ!”

“সেভেন আপের কেনের দাম আছে৷ সত্তর টাকা করে।”

“আপনি আসলেই বেশি বেশি খরচ করেন। এর থেকে বাসায় রেঁধে খেলেই ভালো হতো।”

“এখন খেয়ে ফেলেছো, চুপ করো।”

ওয়েটার টাকা ফেরত দেয়। নওশাদ বিশ টাকা টিপস দেয়। বাকি টাকা পুনমের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলে,

“রাখো।”

পুনম রেখে দেয়। নওশাদ পকেটে মোবাইল ঢুকিয়ে বলে, “চলো উঠি।”

পুনম নিজের ব্যাগ নওশাদের দিকে বাড়িয়ে দেয়। নওশাদ বিনাবাক্যে ব্যাগ বা কাঁধে নেয়। রেস্টুরেন্ট থেকে বের হওয়ার সময় পুনম আর নওশাদের সাথে আশফিকের দেখা হয়। এই আশফিক পুনমের সিনিয়র। পুনমকে একবার মেসেজ দিয়েছিল। পুনমের এক বাক্য।

“আমি পুরুষ মানুষ ঘেন্না করি।”

তারপর থেকে আশফিক আর মেসেজ দেয়নি। আশফিক একবার পুনমের দিকে তাকায়, আরেকবার নওশাদের দিকে তাকায়। আরেকবার নওশাদের ধরে পুনমের হাতের দিকে তাকায়। নওশাদের সামনেই পুনমের দিকে তাকিয়ে বলে,

“কিরে! এটা কে?”

পুনম দাঁত কেলিয়ে বলে, “হাসবেন্ড।”

“তোমার না পুরুষ মানুষ ঘেন্না লাগে? তাহলে হাসবেন্ড এলো কোথা থেকে?”

নওশাদ চোখ ছোট ছোট করে তাকায়। গম্ভীর গলায় আশফিককে বলে, “কাজ আছে আমাদের। এক্সকিউজ মি।”

পুনমকে টেনে নিয়ে বের হয়ে গেল। গম্ভীর গলায় পুনমকে বলে, “ওটা কে?”

“আরেহ সিনিয়র। সবার সাথে ফ্লার্ট করে।”

“তোমার সাথেও করেছিল?”

“হ্যাঁ।”

“তারপরও কথা বলছো?”

“হ্যাঁ? সিনিয়র, একটু মজা বেশি করে এটাই।”

নওশাদ রাশভারি গলায় বলে, “সিনিয়র আবার মজাও করে?”

“হ্যাঁ।”

“জুনিয়র তো আমারও ছিল। আমি তো কোনোদিন কোনো জুনিয়রের সাথে ফ্লার্ট করি নাই।”

“মানে ফ্লার্ট করলেও উনি ছেলে ভালো।”

নওশাদ ভ্রু উঠিয়ে বলে, “ছেলে ভালোও? বাহ।”

“আরেহ..”

“আমি কারো সাথে ফ্লার্ট করিনি সো আমি খারাপ ছেলে?”

“আরেহ আপনি সিরিয়াস হচ্ছেন কেনো? লাইক মজা করে বলেছিলো আমাকে বিয়ে করবে? আমি বিপরীতে বলেছিলাম আমি ছেলেদেরকে ঘেন্না করি।”

“বিয়ের প্রস্তাবও দিয়েছে? বাহ বাহ। বাহবা দিতে হয়।”

পুনম নওশাদের হাত ঝাঁকিয়ে বলে, “নোয়াখাইল্লা বেডার সব একদম বেশি বেশি।”

নওশাদ রিকশা ডাক দেয়। রিকশায় দুজনে উঠে বসে। নওশাদ পুনমের হাত মুঠেয় নিয়ে বলে,

“কি বলেছিলে? ছেলেদেরকে ঘেন্না লাগে?”

পুনম একচোট হাসলো। “হ্যাঁ কথা ঠিক ছিল। ছেলেদেরকে আসলে ঘেন্নাই লাগে। বিশ্রি জাতি একটা।”

পুনমের দিকে পূর্ণদৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে, “আমাকেও লাগে?”

পুনম নওশাদের হাত জড়িয়ে ধরে। “না, আপনাকে লাগে না। হাসবেন্ডকে ঘেন্না লাগবে কেনো?”

নওশাদ আস্তে করে রিকশার হুক টেনে দিলো। কোমরে হাতের স্পর্শ পেতেই পুনম নওশাদের মুখের দিকে তাকায়। লোকটা সোজা সামনের দিকে তাকিয়ে আছে। মুখখানা এতটাই ইনোসেন্ট, ভাবখানা এমন যে ভাজা মাছ উল্টে খেতে জানে না। পুনম মনে মনে ভাবে,

“ভাইজান আপনি তলে তলে ভালোই শয়তানি জানেন। শুধু উপরে উপরেই ভালোমানুষি।”

—————

আরিফ আটটা নাগাদ ব্যুরোর উদ্দেশ্য বেরিয়ে পড়েছে। বাকিরা সকালের নাস্তা করে যে যার মতো চলে গিয়েছে। রুমঝুম ওই বাসা থেকেই ভার্সিটিতে চলে গিয়েছে। তখন সময় বিকাল চারটা। আলামীন সোফায় বসে টিভি দেখছে। নির্বাচনের পূর্বে সব গরম গরম খবর। ইসরাত ড্রয়িংরুমে আসে। আলামীনের পাশে বসে। আলামীন মেয়েকে দেখে টিভি বন্ধ করে ফেলে।

“কেমন আছেন আম্মা?”

ইসরাত দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে, “আল্লাহ রেখেছে ভালো।”

আলামীন কপাল কুচকে বলে, “কোনো সমস্যা হইছে?”

“আর সমস্যার কথা বলে কি হবে? কপালে যা আছে তাই হবে।”

“কি হইছে কও আমারে। আব্বা আছি না? সমাধান করার চেষ্টা করমু।”

ইসরাত আলামীনের চাঁদপুইরা ভাষা শুনে কপাল কুচকায়। ব্যক্তিগতভাবে ওর আব্বু বলে যে কও, খাইয়া লাইছি এইসব পছন্দ না। ইসরাত বলে,

“আগে শুদ্ধ ভাষায় কথা বলো। তারপর বলছি সমস্যা।”

“আচ্ছা বলো।”

“আমার আম্মু অনেক সুন্দর কিনা?”

“হো। তা তো সুন্দরই।”

“একদম নায়িকাদের মতো কিনা? তুমি এক দেখায় বিয়ে করেছো কিনা?”

“তা যৌবনে ভালোই সুন্দরই আছিলো।”

“এখন সুন্দর নেই?”

“আছে কোনোরকম।”

“তুমি কেমন?”

আলামীন ভ্যাবাচেকা খায়। “মানে আম্মা?”

“মানে তুমি হিসেবে কালো না? আম্মু সুন্দরী আর তুমি কালো না?”

“হো? তো কি হয়েছে?”

ইসরাত রেগে বলে,“আমাকে কথা শেষ করতে দাও আগে।”

“আচ্ছা বলো বলো।”

“ভাইয়া আম্মুর মতো রং পেয়েছে কিনা? সুন্দর হয়েছে কিনা?”

“হো। পোলাও আমার অনেক সুন্দর।”

“আমি কার মতো হয়েছি?”

“তুমিও সুন্দর আম্মা। শ্যামলা ফর্সার থেকেও আরো সুন্দর রং।”

ইসরাত ধমক দিয়ে বলে, “আমার প্রশ্নের উত্তর দাও। সবসময় এত বাড়তি কথা বলো কেনো?”

“আমার মতো হয়েছো।”

“হুম। তোমার মতো হুবাহু রং পাইনি তা ঠিক, কিন্তু আম্মুর মতোও হইনি। মাঝামাঝি আমি। কিন্তু কম্পেয়ার করলে অনেকটা তোমার মতোই। আমার তো মাঝেমাঝে মনে হয় আম্মু আম্মুর মতো সাদা বিয়ে করলেই পারতো।”

আলামীনের মুখ কালো হয়ে গেল। “আমি কি বাপ হিসেবে খারাপ?”

“ধূর তা বলিনি। আমি শুধু নিজের সৌন্দর্য নিয়ে অসন্তুষ্ট। পাশাপাশি শাওনও অসন্তুষ্ট।”

“শাওনও?”

“শাওনের আর আমাকে ভালো লাগে না। ওর সুন্দরী মেয়ে পছন্দ।”

আলামীন রেগে বলে, “বিয়ার আগে দেখে নাই আমার মাইয়া কেমন? আবার সুন্দরী পছন্দ কয় কে? সুন্দরী পছন্দ যে আগে মনে আয়ে না?”

ইসরাত মুখ কুচকে বলে, “সেটাই। আমি সুন্দর না এটা আগে দেখে নাই? কাপুরুষের মতো বিয়ের পর খোঁটা দিচ্ছে। যেমন ধরো আম্মু গবীর ঘরের মেয়ে। সেটা তো তুমি বিয়ের আগেই জানতে বলো? এখন তুমি যদি বিয়ের পর আম্মুকে অনবরত গরীব, ছোট ঘরের মেয়ে এইসব বলো তাহলে কি মানাবে? ছোট মন মানুষিকতার পরিচয় দেওয়া হয়ে যাবে না? শাওন সেটাই করছে।”

আলামীনের মুখে অমাবস্যার ছায়া। “তই এহন কি…”

“শুদ্ধ ভাষায় কথা বলো।”

“এখন কি হয়েছে?”

“শাওন ইদানিং আমার গায়ে হাত তুলে।”

“কি?”

“বুঝো নাই? শাওন আমার গায়ে হাত তুলে থাপ্পড় মারে। মা, বাবা তুলে বিশ্রি বিশ্রি গালি দেয়। যখন তখন রেগে যায়, পরে আমাকে চড় থাপ্পড় দেওয়া শুরু করে। আমি বলেছি তোমার কাছে বিচার দিবো। তাতেও কিছু গায়ে লাগেনি। আমাকে মানুষই মনে করে না।”

আলামীন রেগে যায়। “তোর শ্বাশুড়ি কোথায় থাকে? পোলার এই বেয়াদবি দেখে না?”

“শ্বাশুড়ি কি বলবে? ভাইয়াকে বাসায় নিয়ে খাওয়াতে চাই। উনি সাফসাফ মানা করে দেয়। ভাইয়াকে বাসায় নিয়ে খাওয়ানোর কি আছে, নিজের বাসায় কি খেতে পায় না? এভাবে বলে।

উনি বলে মেয়েরা নাকি মায়ের ভাগ্য পায়। ওনার কথার মানে আম্মুও তোমার হাতে মার খায়। কেমন খারাপ মানুষ ভাবো? আচ্ছা আব্বু এটা কোনো কথা? মেয়েরা বুঝি মার ভাগ্য পায়? তুমি তো আম্মুর গায়ে হাত তোলো না। তুমি তুলতেই পারো না। তুমি মামাকেও অপছন্দ করো না। তাহলে উনি এটা কেনো বললো? মেয়ের ভাগ্য, মায়ের ভাগ্য আজাইরা। আমার গায়ে শাওন হাত তোলে কেনো? ভাইয়া কেনো দেখতে পারে না তুমিই বলো? খারাপ গুষ্টি একটা। বেয়াদব।”

আলামীনের মুখে কথা নেই। ইসরাত নিজের মতো বলে, “তাছাড়া শাওন আমাকে আমার শ্বাশুড়ির সামনে মারে না। আমি আমার শ্বাশুড়িকে বিচার দেওয়ার পর আমার শ্বাশুড়ি মা, মেয়ের ভাগ্যর কথাটা বলেছিলেন। শাওন একটা সেয়ানা লোক। যা করে নিখুঁত। কারো কিছু বোঝার অবকাশ নেই।

ধরো তুমি আম্মুকে মারো, অপমান করো। তাহলে কি তুমি আমার আর ভাইয়ার সামনে আম্মুকে মারবে? মারবে না। শাওনও সেটাই করে। বউয়ের গায়ে বেয়াদব, শয়তান, কুলাঙ্গার ছাড়া কেউ হাত তুলে না। শাওনের মতো যারা বউয়ের গায়ে হাত দেয় তারা সবাই কুলাঙ্গার, সরি টু সে কাপুরুষ। পুরুষ হওয়ার যোগ্যই নয়। ভেড়া, ছাগল, মুখ্য মানুষ।”

আলামীনের মুখ থমথমে। ইসরাত ফের বলে,

“আমাকে ঘরে মারে। ঠাসঠুস চড়, থাপ্পড় দিয়ে বসে। আমি আমার বাপের জান। আমার বাপ আমাকে মারেনি। আর শাওন তিন কবুলের জোরে রাতদিন খারাপ ব্যবহার করে, চড়-থাপ্পড় দিয়ে বসে। মানে অন্যের সন্তানকে মারা খুব সোজা না? শাওনের এইসব অত্যাচারী রূপ কেউ জানে না। কেউ বুঝে না। সবার সামনে ব্যবহার করে খুব ভালো। মনে হয় আমরা অনেক সুখী। কিন্তু আমি মোটেও সুখে নেই। তুমি বাবা, তাই তোমাকেই বলছি। আম্মুকেও বলিনি।

আমার কি অন্যান্য মানুষের মতো দুবর্লতা আছে নাকি যে আমি স্বামীর মার খেয়ে পড়ে থাকবো? আমার বাবা আছে। শাওন আর দশটা কাপুরুষের মতো ভেবেছে আমার গার্ডিয়ান নেই, আমাকে দাঁত কামড়ে এইসব শুয়রের জাতের সংসার করতে হবে। থাপ্পড়ে সোজা করে দিতে পারতাম? শান্তি পেতাম। গালি দিচ্ছি বলে আবার রাগ করো না। তোমার থেকেই এইসব গালি শিখেছি।

বউকে মেরে নিজেকে পুরুষ দাবি করে। তুমিই বলো আব্বু যতই টাকা পয়সা থাকুক না কেনো বউকে সম্মান করতে না পারলে কিসের পুরুষ? ধরো তুমি অসুস্থ হলে তখন আম্মুই তোমার সেবা করবে। অন্যকেউ তো করবে না। আমি যে মেয়ে, আমিও তো পারবো না। এখন তুমি যদি আম্মুকে হেয় করে কথা বলো, গায়ে হাত তুলো তাহলে তো তুমি মস্তিষ্কহীণ মানুষ হবে। তোমার প্রতি আম্মুর ভিতর থেকে শ্রদ্ধা কাজ করবে? আমার তো মনে হয় না। আমারও শাওনের প্রতি শ্রদ্ধা নেই।”

আলামীনের মুখ থমথমে। উনি বড় বড় পা ফেলে উঠে চলে গেলেন। ইসরাত আয়েশ করে পায়ের উপর পা তুলে বসে টিভি অন করে। এইসব খবর টবর ভালো লাগে না। ঘরের আগুনেই শান্তি নেই, আবার বাইরের দেশের আগুন। প্রায় চল্লিশ মিনিট পর ইসরাতের মোবাইলে কল আসে। ইসরাত দেখে শাওন কল করেছে। ইসরাত রিসিভ করে বলে,

“কি সাহেব? অফিস টাইমে কল দিলেন?”

শাওন হতভম্ব হয়ে বলে, “ভাই তোমার বাপ আমাকে কল দিয়ে একনাগাড়ে গালি দিলো কেনো?”

“আব্বু কল দিয়েছিল?”

“আমি তোমার গায়ে কোনদিন হাত তুলেছি বউ? বাপের বাড়িতে গিয়ে এইসব কি বলে বেড়াচ্ছো?”

ইসরাত হাসলো। শাওন বিরক্ত হয়ে বলে, “হেসো না। আমাকে সময় পেলে কিল-ঘুষি দিয়ে বসো আর বাপের বাড়ি গিয়ে বলো আমি তোমাকে মারি না?”

ইসরাত নিজেকে থামাতে পারলো না। উচ্চশব্দে হাসতে লাগলো। শাওন সিরিয়াস হয়ে বলে,

“সিরিয়াসলি বলো তো কি হয়েছে? তোমার বাপ সত্যিই অনেক বাজে গালি দিয়েছে। আমি ওগুলো ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। আর আমার নাকি কোন সুন্দরী পছন্দ? আমি কবে বলেছি আমার সুন্দরী পছন্দ? আমার সুন্দরী পছন্দ আমিই জানি না, তোমার বাপ জানে না?”

“আর কি বলেছে?”

“আমাকে নাকি জেলের ভাত খাওয়াবে। আমার আম্মুকেও দেখে নিবে। তোমাকে নাকি আমার কাছে পাঠাবেও না। কিভাবে সংসার করবো উনি দেখবে। মোদ্দা আমাকে দেখে নিবে আরো কতকি। আধাঘন্টার উপরে আমাকে যা তা কথা শুনিয়েছে। তোমাকে আমার কাছে না পাঠানোর কথা উঠছে কেনো? তুমি প্রেগন্যান্ট উনি জানেন না?”

“না। বলি নাই। লজ্জা লাগে।”

“তোমার বাবাকে তুমি জানাবে না ওটা তোমার ইচ্ছা। আমাকে বলো আমাকে কেনো আজেবাজে কথা শুনিয়েছে? রাস্তার কুকুরের মতো ব্যবহার কেনো করলো সেটা বলো। আমার আম্মুকেও যা তা বলেছেন। আম্মু তোমার সাথে জীবনেও খারাপ ব্যবহার করেছে বলে আমার মনে পড়ে না।”

“ওই আমি একটু টেস্ট করছিলাম তুমি জীবনে যদি এইরকম কিছু করোও, আমার আব্বু তোমার কি হাল করবে। জাস্ট ট্রেইলার ছিল বস।”

শাওন রেগে গেল। “আমার এইসব ফাজলামো একটুও পছন্দ না। বাবা-মা হচ্ছি, একটু ম্যাচিউর হও। তোমাকে কখনও কিছু নিয়ে বাঁধাও দেইনা, যা ইচ্ছা করো, কিছু বলিও না। তাই বলে এইসব ফাজলামো আমার সাথে করবে না বেয়াদব৷ আমাকে, আম্মুকে, আব্বুকে যা ইচ্ছে বললো। কি বিশ্রি গালি দিলো! তোমার এইসব মজা, ফাজলামো কিন্তু আমি আর বরদাস্ত করবো না বলে দিলাম।”

ইসরাত বা নখের দিকে তাকিয়ে বলে, “সরি জান। ভুল করেছি, মাফ চাই। আর করবো না।”

“রাতে কল দিবো আমি, ব্যস্ত আছি।”

“আল্লাহ হাফেজ।”

শাওনও আল্লাহ হাফেজ বলে রেখে দিলো। শাওনকে রাতে একটু ম্যানেজ করতে হবে। আর আলামীনকে বাকি ডোজ কালকে দিবে। আজকেই সব দিয়ে দিলে বাপ ঠিক থাকলেও স্বামী উল্টে যাবে। ইসরাত পড়েছে কঠিন সমস্যায়।

__________________

রুমঝুম মাহজাবিনের সাথে বাতিঘরে এসেছিল। রুমঝুমের আসার ইচ্ছে ছিল না। মাহজাবিন টেনেটুনে, রুমঝুমকে ভার্সিটি থেকেই নিয়ে এসেছে। ওরা বাতিঘর থেকে বের হয় সাড়ে চারটার দিকে। মাহজাবিন আর রুমঝুমের বাসা পুরো উল্টো দিকে। মাহজাবিন রিকশায় উঠে যায়। রুমঝুম একটু সামনে এগোতেই ঝড়ের গতিতে রুমঝুমের সামনে আরিফ এসে দাঁড়ায়। রুমঝুম আচমকা এভাবে আসায় চমকে উঠে।

আরিফ দাঁতে দাঁত চেপে বলে, “কথা আছে।”

রুমঝুম কাঁধের ব্যাগ চেপে ধরে বলে, “সন্ধ্যা হয়ে আসছে। বাসায় যেতে হবে।”

আরিফ দু পা এগিয়ে এসে বলে, “কথা আছে বললাম না?”

রুমঝুমও দু পা পিছিয়ে যায়। আরিফ বলে, “বিয়ে করবি? পরিবারের সবাইকে আমাদের কথা জানাবো?”

“করবো না বিয়ে।”

আরিফ এগিয়ে আসে। রুমঝুমের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বলে, “জাইমা, জেরিনকে কেসের কাহিনি কেনো বলি নি জানিস? খুনি একজন সিরিয়াল কিলার। পাবর্ত্য চট্টগ্রাম সাইডের পাহাড়ি মেয়েরা হঠাৎ করে নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছিলো। তারপর দুএকদিন পর বান্দরবানের সাঙ্গু নদীর তীরে লাশ পাওয়া যেতো। অনেক কাহিনি টাহিনীর পর খুনিকে ধরা সম্ভব হয়েছে। তোর খুনিকে ধরার কাহিনী না জানলেও চলবে। কিন্তু খুনি তো জন্ম থেকেই খুনি না। তোকে জানতে হবে কেনো খুনি হয়েছে, ফার্স্ট খুন কাকে করেছে জানিস?”

রুমঝুম উত্তর দেয় না। আরিফ বলে, “খুনির প্রেমিকাকে। কেনো খুন করেছো জানিস? প্রেমিকা নাকি দীর্ঘদিন প্রেম করেছে। খুনি পরে বিয়ের প্রস্তাব দিলে প্রেমিকা বিয়ে করতে চায়নি, ওয়ান কাইন্ড অফ প্রেমিকের ইমোশন নিয়ে খেলে চিট করেছিলো। সাইকোটা অনেক রিকোয়েস্ট করেছিল বাট প্রেমিকা সাইকোটার কথা শুনতো না। পরে সাইকোটা বেয়াদবি সহ্য করতে না পেরে খুন করে দিলো। একটা খুন করে ওই সাইকো খুনের এতটাই মজা পেয়েছে যে তারপর থেকে প্রেমিকার বয়সী মেয়েদের খুনই করে যাচ্ছিলো। তো মেইন কথা বলি।”

আরিফ নিজের বন্দুক বের করে রুমঝুমের মাথা বরাবর তাক করে বলে, “নেক্সট খুন হবি তুই। এন্ড সেটা আমার হাতে। সাইকোটার বয়ান মতে ও নিজের প্রেমিকাকে কিভাবে খুন করেছে জানিস? প্রথমে প্রেমিকাকে তুলে নিয়ে গিয়েছে৷ আটকে রেখে সুন্দর করে বুঝিয়েছে, প্রেমিকা মানেনি, তাই জোর করে বিয়ে করেছে, বিয়ে করেও মানাতে চেয়েছে তাও মানেনি। তারপর বিয়ের পর হাসবেন্ড, ওয়াইফ যা করে জোর করে তা করলো। মেয়ে তাও মানলো না। এতকিছু করার পরও যখন মেয়ে মানছিল না, তেজ দেখাচ্ছিলো, খুনির ধৈর্য নিয়ে খেলছিলো, খুনি আর সহ্যই করতে পারলো না। মেরে দিলো। তুই আমার না মানে কারোর না।”

রুমঝুমের মাথায় বন্দুক দিয়ে হালকা করে বারি মেরে বলে, “এখন ভাবছি বিয়ের পর ওই জোর করাটা ছাড়া আমিও তোর সাথে ঠিক সেইম কাজ করবো, তারপরও না মানলে আমিও তোকে ওইভাবে মেরে দিবো। খুনি তো সাঙ্গু নদীর তীরে লাশ ফেলে রেখেছিলো, আমি জাস্ট তোকে পিস পিস করে কেটে তোর মাংস কুত্তাকে খাওয়াবো।”

রুমঝুম পিছনে ফিরে দেয় দৌঁড়। আরিফও রুমঝুমের পিছনে দৌঁড় দেয়। রুমঝুম দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে আবার বাতিঘরের সামনে আসতেই আরিফ রুমঝুমকে ধরে ফেলে। রুমঝুম হাঁপাতে থাকে। আরিফ বলে,

“এইসব দৌঁড়াদৌঁড়ি খেলা ছোটবেলায় আমরা অনেক খেলেছি। তখনও পারতি না। আর চোর পুলিশ খেলায় তুই এখন পারবি আমার সাথে? হ্যাঁ পারবি?”

রুমঝুম হাত ছাড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে। আরিফ রুমঝুমকে টেনে বাতিঘরের ভিতরে ঢুকে। একদম কর্ণারে নিয়ে তবেই রুমঝুমের হাত ছাড়ে। রুমঝুম মাথা নিচু করে হাত ঘষতে থাকে। আরিফ বন্দুক কোমরে গুঁজে রুমঝুমকে বলে,

“মজা করছিস নাকি সিরিয়াসলিই বলছিস যে বিয়ে করবি না।”

“তোমার সাথে আমার মজা করার সম্পর্ক?”

“তো কিসের সম্পর্ক? আদর-ভালোবাসার? আয় বৈধভাবে ওই সম্পর্ক গড়ে তুলি।”

“তুমি তোমার খালাতো বোনকে এইসব বলতে পারো না।”

“খালাতো বোনকে বউ বানাতে চাচ্ছি।”

“আমি চাচ্ছি না।”

“কেনো? প্রেম করেছিস কেনো তাহলে? প্রেম করার আগে মনে হয়নি প্রেম যার সাথে করছি তাকেই আমার বিয়ে করতে হবে?”

“বাস্তবতা বুঝিনি।”

“কিসের বাস্তবতা?”

রুমঝুমের কানে রিমির বলা কথাগুলো বাজে। ও ঠোঁটে ঠোঁট চেপে নিচের দিকে তাকিয়ে থাকে। আরিফ ধমকে বলে,

“এই আমার দিকে তাকা।”

“না।”

আরিফ রুমঝুমের গাল শক্ত করে চেপে নিজের দিকে ফিরালো। রুমঝুম দৃষ্টি মিলায় না। আরিফ দাঁতে দাঁত চেপে বলে,

“তুই আমার দিকে তাকিয়ে বল আমাকে তুই বিয়ে করবি না।”

“বলেছি না করবো না বিয়ে। এত তাকানোর কিছু হয়নি।”

“তুই এই একই কথাটা আমার দিকে তাকিয়ে বল শুধু।”

রুমঝুম তাকাবে না। যে অগ্নিদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, রুমঝুম তাকাবেই না। ছোটবেলায় আরিফকে ওর কাজকর্মের জন্য ভয় পেতো রুমঝুম। হুটহাট রুম থেকে বের দিতো, ওর জিনিসপত্র ধরলে স্কেল দিয়ে মারতো। রুমঝুম ছোটবেলায় আরিফকে তুই করে ডাকতো। শুধু রুমঝুম না, ইসরাত, রিমি, মাহতাব, মাহাদী ওরাও তুই করে ডাকতো। আরিফ পরে সবগুলো সুযোগ বুঝে স্কেল দিয়ে বারি মেরে তুই থেকে তুমিতে এনেছে। আরিফের কথা আমি তোদের সবার বড় ভাই, তোরা আমাকে তুই করে কেনো ডাকবি? আরিফের প্রতি ওই ভয়টা রুমঝুমের এসএসসি অব্দিই ছিল।

পরীক্ষার পর শয়তানে নেড়েছিল, যার দরূণ ফেক আইডি খুলে আরিফকে মেসেজ দিয়েছে। ধরাও খেয়েছে, ভীষণ ভয়েও ছিল এই ভেবে আরিফ সবাইকে বলে দিলে কি হবে? কিন্তু আশ্চর্যজনক ব্যপার আরিফ ফেক আইডি থেকে রুমঝুমের দেওয়া সব প্রোপোজাল মেনে নেয়। রুমঝুম তখন না না করলে বলে রুমঝুম যদি এক্সেপ্ট না করে তাহলে সবাইকে বলে দিবে। অগত্যা রুমঝুমও মেনে নেয়। যদিও প্রেম করার সময়ও রুমঝুম তিন চারবার থাপ্পড় খেয়েছে। তার কারণ হলো আরিফকে ভাইয়া ডাকার জন্য। মার খেয়ে রুমঝুম অনেক কষ্টে আরিফ ভাইয়া থেকে আরিফের এসেছে।

ছয় বছর ভয় না পেলেও রুমঝুম স্বীকার করতে বাধ্য ও আরিফকে এখন আবার ভয় পাচ্ছে। মনে হচ্ছে তাক থেকে বই নিয়ে ওর মাথায় বারি মারা শুরু করবে সেই ছোটবেলার মতো। আরিফ রুমঝুমের গাল চেপে ধরে। মুখ উঁচু করে বলে,

“এই তাকা?”

রুমঝুম শ্বাস ফেলে। আরিফের হাতের উপর হাত রাখে। চোখে চোখ রেখে বলে, “শোনো আরিফ তোমাকে আমি সব বলছি।”

আরিফ রুমঝুমের চোয়াল থেকে হাত সরিয়ে দেয়। দৃষ্টি নরম হয়। কোমল গলায় বলে, “হুম বলো। সমস্যা বললে তবেই না সমাধান করার চেষ্টা করবো। তুমি তো কিছু বলছোই না। বলো এমন করার…..”

আরিফ শেষ করতে পারলো না। রুমঝুম আরিফের বুকে সর্বশক্তি দিয়ে ধাক্কা মেরে ভোঁ দৌঁড় দিলো। আরিফ রুমঝুমের যাওয়ার পানে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে তাকিয়ে থাকে। রুমঝুম দৃষ্টির আড়াল হলেই আরিফ পকেট থেকে মোবাইল বের করে। দাঁতে দাঁত চেপে বলে,

“তুই কি বেয়াদব? তোর থেকে বড় বেয়াদব আমি।”

একঘন্টার ভিতর রুমঝুমের ফেসবুক, ইনস্ট্রাগ্রামের আইডি হ্যাক হয়ে গেল। রুমঝুমের একটা পেইজ আছে। আর্ট, ক্রাফ্টিংয়ের প্রতিভা কাজে লাগিয়ে পেইজটা চালায়। বিভিন্ন ধরনের আর্ট করে, ক্লে দিয়ে জিনিসপত্র বানিয়ে রুমঝুম ওই পেইজে ভিডিও, রিলস পোস্ট করে মাঝেমধ্যেই। আরিফ হিউজ পরিমাণ ফলোয়ার্সওয়ালা ওই পেইজটাও হ্যাক করে ফেললো। মোবাইল পকেটে ঢুকিয়ে বিড়বিড়িয়ে বলে,

“মারা খা এবার।”

বিয়ে না করলে আরিফও রুমঝুমের জিনিস রুমঝুমকে ফেরত দিবে না। লাউড এন্ড ক্লিয়ার।

চলমান…..

(বড় বড় মন্তব্য🗡️। হ্যাপি রিডিং..)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here