#বলো_কোন_প্রিয়_নামে_ডাকি:~
#পর্ব_৩৩
#সমৃদ্ধি_রিধী
সাড়ে ছয়টা বাজে কল আসতেই নওশাদ ঘুমের মধ্যে মুখ কুচকে ফেলে। হাতরে মোবাইল নিয়ে দেখে পুনম কল দিয়েছে। নওশাদ এক হাতে চুল ঠিক কল রিসিভ করে।
“আসসালামু আলাইকুম। ঘুম থেকে উঠেননি এখনও?”
“না।।”
“কলেজে যাবেন না?”
“না। বন্ধ।”
“বুধবারে কি উপলক্ষে বন্ধ?”
“আছে কারণ।”
“তাহলে তো আপনার ঘুম ভাঙানো উচিত হয়নি।”
“সমস্যা নেই।”
“জানেন আমার কালকে সারারাত ঘুম হয়নি।”
“কেনো?”
“এমনিতেই, ঘুমই আসছিলো না।”
“ভিডিও কল দাও।”
পুনম ভিডিও কল দিলো। নওশাদ কল রিসিভ করার সাথে সাথে পুনমের চক্ষু চড়কগাছ। নওশাদ চিৎ হয়ে শুয়ে আছে। ওর পাশে কার যেন উন্মুক্ত বাহু দেখা যাচ্ছে। পুনমের চোখ দুটো বড় বড় হয়ে ডিমের আকৃতি হয়ে গিয়েছে। চরম বিস্ময় নিয়ে আর্তনাদ করে বলে,
“আল্লাহ আপনি কার সাথে শুয়ে আছেন?”
নওশাদ একপাশে ঘুরে গেল। পুনম তা লক্ষ্য করে বলে,
“আস্তাগফিরুল্লাহ, নাউজুবিল্লাহ তওবা তওবা তওবা। আল্লাহ বউ বাপের বাড়ি গেলে পুরুষ মানুষ নাকি মহিলা মানুষ ঘরে ঢুকায়। ওইটাও তো মানা যায়। আল্লাহ! কিন্তু আপনি এটা কার সাথে শুয়ে আছেন? আমি বাপের বাড়ি এলাম আর আপনি একটা ছেলে ঘরে ঢুকিয়েছেন? ছিহ! ছিহ! আমাকে কার সাথে বিয়ে দিলো আমার ভাই? আল্লাহ আমি পুরুষ মানুষ ঘেন্না করতাম মহিলার মানুষের আঁচল দিয়ে ঘুরঘুর করে সেজন্য। আমার জামাই তো পুরুষ, মহিলা সবার পিছে পিছে ঘুরে। ওহহ আল্লাহ!”
“কান বরাবর একটা থাপ্পড় দিবো গাধা। আস্তারা বলদ একটা। বাপের বাড়ি যে গিয়েছো আর ঘরে আনবো না। ব্রেনলেস কাউকে দরকার নেই আমার।”
“দরকার থাকবে কিভাবে? পাশে নিয়ে তো শুয়ে আছেন একটা।”
“বলদ, গাধা।”
“তো কে এটা? আরিফ তো না।”
“ফারহান গাধা।”
অবাক হয়ে বলে, “কে? ফারহান? কোন ফারহান?”
“তুমি যে ফারহানকে চিনো সেই ফারহান।”
“কবে এসেছে? রিমির কাছে না গিয়ে আপনার সাথে এভাবে চিপকে শুয়ে আছে কেনো?”
“থাপ্পড় দিবো একটা। ও আমার পাশে শুয়ে আছে দেখছো না? শুনতে পাবে না? ঠিকভাবে কথা বলো।”
“কবে এসেছে?”
“গতকালকে।”
“রিমি জানে না?”
“না, সারপ্রাইজ দিবে।”
“আপনি আগে থেকেই জানতেন?”
“হুম আর আমিই তো এয়ারপোর্ট থেকে নিয়ে এসেছি।”
“আমাকে বলেননি যে?”
“তুমি তো লাগিয়ে দিতে আবার। বেশি খাতির কিনা?”
“বেশি বেশি।”
দুজনের কথায় ফারহানের ঘুম ভেঙে যায়। নওশাদ বাই বলে কেটে দেয়। ফারহান দুহাতে মুখ ঘষে বলে,
“কয়টা বাজে দোস্ত?”
“সাতটা।”
ফারহান বালিশের পাশ থেকে মোবাইল নিলো। নওশাদের দিকে মোবাইল বাড়িয়ে দিয়ে বলে,
“ওয়াইফাই কানেক্ট করে দে।”
নওশাদ ওয়াইফাই কানেক্ট করে দিলো। ফরহান উঠে বসে। “তোর কাছে এক্সট্রা সিম আছে?”
“আছে বোধহয় একটা।”
“দিস তো।”
পাশবালিশ জড়িয়ে ধরে বলে, “খুঁজে দেখতে হবে।”
ফারহান রিমিকে কল দিলো। এমন ভাব করলো যেন গত দুদিন কাজের চাপে পাগলপ্রায় হয়ে গিয়েছিল, তাই রিমিকে কলই দিতে পারেনি। নওশাদ চোখ বন্ধ করে শুয়ে রইলো কিন্তু ঘুম আসছে না। ফারহান কল কেটে বলে,
“তোর শালার বিয়ে কবে?”
“শালা না, পুনমের বড় ভাই ওটা। পরশুদিন বিয়ে।”
“ওহ।”
“সেজো আপার বাসায় যাবি না আজকে?”
“হ্যাঁ যাবো। পরশু আবার চাপাইনবয়াবগঞ্জ যাবো।”
“আচ্ছা।”
নওশাদের মোবাইলে টুং করে একটা নোটিফিকেশন এলো। নওশাদ মোবাইল নিয়ে দেখে পুনম একটা ভয়েজ মেসেজ পাঠিয়েছে। নওশাদ পাশ ফিরে ফোনের সাউন্ড কমিয়ে কানের সামনে মোবাইল ধরে ভয়েজটা শুনে।
“Aaye ho meri zindagi mein tum bahaar ban ke..” গানটা গেয়ে পাঠিয়েছে।
পরে আরেকটা মেসেজ আসে। নওশাদ মোবাইলের স্ক্রিনে চোখ রেখে দেখে পুনম লিখেছে,
“মধু আপনাকে মিস করছি। কালকেই চলে আসবেন। আপনার জন্য মেহেদী দিয়েছি হাতে।”
নওশাদের ঠোঁটের কিনারায় হাসি ফুটে ওঠে। ও ভয়েজ মেসেজে লাভ রিয়েক্ট দেয়। মেসজের রিপ্লাই দিয়ে বলে,
“আচ্ছা।”
পুনম ফের লিখে, “মিস করছি।”
“আমিও।”
“বুঝলাম না। তোর মতো নিরামিষকে মানুষ কিভাবে মিস করে?”
নওশাদ পাশ ফিরে দেখে ফারহান গলা উঁচু করে ওর উপর ঝুঁকে মেসেজ দেখেছে। নওশাদের জিনিসপত্র দেখার অভ্যাস এখনও গেলো না। নওশাদ দাঁতে দাঁত চেপে ধরে। কিড়মিড় করে বলে,
“যেভাবে তুই করেছিস সেভাবে।”
“আমি তো তোর মতো জেনুইন বন্ধু মিস করেছি। মামি কি মিস করে? তোর মতো ঘণ্ট জামাই? হাউ ম্যান?”
“থাপ্পড় খাবি?”
ফারহান মোবাইল নিয়ে বলে, “মামা মামির প্রেম কাহিনি সবাইকে বলতে হবে।”
নওশাদ ঘুষি মারার উদ্দেশ্যে হাত উঠিয়ে বলে,
“মেরে ফেলবো একদম।”
ফারহান ভেঙ্গিয়ে গুনগুনিয়ে গায়, “আয়ে হো মেরে জিন্দেগী মে তুম বাহার বান কে! আহা এভাবেই নিরামিষগুলো আমিষ বউ পায়।”
“ফারহান? বাসা থেকে বের করে দিবো।”
“এখনও এমন ক্ষ্যাপাই আছিস? রিমি ঠিকই বলে।”
“কি বলে?”
“তোকে বলা যাবে না।”
“বাসা থেকে বের হো।”
“জামাই লাগি। এমন বেয়াদবি করছেন যে মেয়েকে ঘরে তুলবো না তো।”
“লাত্থি খাবি?”
“আচ্ছা রাগিস না। সিরিয়াস কথা শোন।”
“কি?”
“তোর বউকে আমি মামি ডাকবো ফর শিওর। সেটায় সমস্যা না৷ তোকে আমি মামা টামা ডাকতে পারবো না। মাফ চাই।”
নওশাদ কপাল কুচকে বলে, “তোর রিমিকেই বিয়ে করতে হলো?”
“তোর ভাগ্নিকে পুরো আমার টাইপের হতে হলো কেনো? আমার টাইপের না হলে তো বিয়ে করতাম না।”
নওশাদ ধমকে ওঠে, “ওই?”
ফারহান হেসে বলে, “তোর দুলাভাই যখন জিজ্ঞাসা করেছিলো ছেলে কেমন তখন ভাঙ্গানি দিয়ে দিতি।”
“তখন তো বুঝিনি বিদেশ থেকে ফিরে এই অবস্থা হবে। বুঝলে জীবনেও সুনাম করতাম না।”
ফারহান কাঁথা গায়ে দিয়ে শুয়ে পড়লো। “দুইদিন ঘুম হয়নি। ঘুমাবো এখন। আমাকে ডাকিস না। নিজ থেকে যখন উঠবো তখন।”
“সেজো আপার বাসায় যাবি কখন?”
“পরে। আরিফ আর শালির সাথে হাত মিলিয়ে বউকে সারপ্রাইজ দিবো তারপর।”
নওশাদও পাশ ফিরে শুয়ে পড়লো। “যা ইচ্ছে কর। আমি পরে শনিআখড়া যাবো।”
“রিমির তো ভিসা, পাসপোর্ট, যা যা প্রসেসিং ছিল সব তো হয়েই গিয়েছে। ভাবছি এবার যাওয়ার সময় পারলে ওকেও নিয়ে যাবো।”
“হুট করে এভাবে?”
“ওর ভিসা হলেই নিয়ে যাবো সেটা তো অনেক আগেরই প্ল্যান। আমার ছুটি বেশি এবার। একসাথে যেতে পারলে ভালোই হয়। দেখি কি হয়।”
“আচ্ছা আমি আপা, দুলাভাইয়ের সাথে কথা বলবো।”
“ধন্যবাদ। আমাকে ডাকিস না।”
নওশাদ পাশ ফিরে শুয়ে রইলো। ফারহান একটু পর ওর কাছ থেকে পাশবালিশ নিয়ে নেয়। নওশাদ আড়চোখে তাকাতেই বলে, “তুই শুধু আমার বন্ধু হলে একটা ডিপ কথা বলতাম। কিন্তু এখন বলা যাবে না। মামা শ্বশুর হওয়ায় কারণে তোর গায়ে লাগবে। চাইলে বলতে পারি। শুনবি?”
“বিদেশে গিয়ে পুরো নষ্ট হয়ে গিয়েছে।”
নওশাদ পাশ ফিরে শুয়ে রইলো। দিনশেষে পুনম ছাড়া ওকে আসলে কেউই মানে না। ভাগ্য ভালো একটা ভালো বউ পেয়েছে। নাহলে তো সবগুলো বদমাশ। বউও বদমাশ হলে বাঁচা দায় হয়ে যেতো।
_____________
“আমি শুধু অবাক হচ্ছি তোরা রবিবারে কিভাবে কক্সবাজার চলে গেলি! আরিফ জার্সি পড়ে চলে গেলো। তুই কিছু বলতে পারলি না?”
হাসনাহেনা কাঁচের প্লেট নামিয়ে বলে। রুমঝুম কপাল কুচকে বলে, “আমাকে তোমার ছেলে মনে হয় বলেছিল যাওয়ার আগে?”
“আগেও না বলে এখানে সেখানে চলে যেতো। এখন বউকেও সাথে নিয়ে নিয়েছে।”
রুমঝুম কিছু বললো না। হাসনাহেনা বলে, “তুই তো এখন ঠিক করতে পারিস।”
রুমঝুম ব্যঙ্গ করে বলে, “তুমি আটাশ বছরে পারোনি, আমি আটাশদিনে ঠিক করতে পারবো? পুরো টিপিক্যাল শ্বাশুড়িদের মতো কথা। ভালো হয়ে যাও খালামণি।”
হাসনাহেনা হাতে থাকা ময়লা পরিষ্কার করার কাপড় রুমঝুমের দিকে ছুঁড়ে মারে।
রুমঝুম মাথায় হাত দিয়ে বলে, “আল্লাহ গো! হাসনাহেনা আরা দেখি বউ মারে।”
“বেদ্দব। দুই বেদ্দবের সংসার হয়েছে।”
“সবই আপনাদের দোয়া।”
হাসনাহেনা রুমঝুমকে বুকশেলফ পরিষ্কার করতে বলেছিল। রুমঝুম অর্ধেক পরিষ্কার করে বড় সোফায় চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ে। হাসনাহেনা শোকেসের দ্বিতীয় তাকের চার কোণা পরিষ্কার করতে করতে রুমঝুমের দিকে তাকিয়ে বলে,
“এভাবে শুয়ে পড়লি কেনো?”
“কত বই! দাঁড়াও একটু রেস্ট নেই। তারপর পরিষ্কার করছি।”
হাসনাহেনা তাকিয়ে দেখলো অর্ধেকও পরিষ্কার করেনি। উঠে বুকশেলফের সামনে গেল। ইশারা দিয়ে বলে,
“এইপাশ পরিষ্কার করেছিস?”
“জ্বি।”
যেমন ময়লা, তেমনই আছে। হাসনাহেনা কাপড় নিয়ে শেলফের চার কোণা পরিষ্কার করে বলে,
“ছাগল দিয়ে হাল চাষ করাচ্ছি।”
রুমঝুম চোখ ছোট ছোট করে বলে, “তোমার ছেলে আসুক। আজকে ঘরে আগুন না লাগিয়েছি!”
“কেরোসিন দিবো আমি। ভালো মতো লাগাস।”
“কিন্তু খালামণি আম্মুও সেইম ডায়ালগ দেয়। তুমিও দিলে। তোমরা আমাকে ছাগলের সাথে তুলনা করো কেনো?”
“তোকে ছাগলের সাথে তুলনা দিয়ে আমরা ছাগলকেও অপমান করি।”
রুমঝুম হাসনাহেনার দিকে তাকিয়ে থাকে। ওর আম্মু, খালার মতো রোস্ট কেউ করতে পারবে না। রুমঝুমের মোবাইল নিয়ে দেখে আরিফ কল করেছে। রুমঝুম একপাশে গিয়ে রিসিভ করে। আরিফ বলে,
“এই মোবাইল কি লাউডে দেওয়া?”
“না।”
“শোন সোজা তোদের বাসায় যাবি।”
“কেনো কি হয়েছে?”
“বলছি আগে শোন। সোজা বাসায় যাবি, দ্যান রিমিকে নিয়ে আসবি।”
“কোথায়?”
“মানে আমি বললে বাসার নিচে আসবি।”
“কেনো?”
“ফারহান এসেছে। কাউকে বলবি না।”
“আল্লাহ তাই?”
“চিল্লা কম। রিমিকে সারপ্রাইজ দিবে বললো।”
“খালামণিকেও বলবো না?”
“না আম্মুকে বললে আম্মু সেজো খালামণিকে বলে দিবে। সেজো খালামণি পরে পাগল হয়ে রিমিকে বলে দিবে।”
“আচ্ছা ঠিক আছে।”
“এখনই চলে যা।”
“খালামণিকে কি বলে বাসা থেকে বের হবো?”
“বল আমি ডেকেছি। একঘন্টা পর চলে আসবো।”
রুমঝুম তাই বললো। রুমঝুম আবার আরিফের কথা মতো অক্ষরে অক্ষরে কাজ করতে পারে। হাসনাহেনা বলে, “যা। আবার না জানিয়ে অন্য কোথাও চলে যাস না।”
“আচ্ছা যাবো না। টেনশন করো না।”
“মা হো। বুঝবি মায়েদের কত জ্বালা।”
রুমঝুম হাসনাহেনার গালে চুমু রুমে চলে গেল। এপ্রোন, হিজাব পড়ে বেরিয়ে যায়। রিকশা নিয়ে সোজা বাসায় চলে যায়। রিমিকে মার্কেটে যাওয়ার অফার দেয়। তবে রিমি যেতে চায় না। রুমঝুম জোর করে টেনেটুনে আরিফের কথা মতো ওকে নিয়ে শপিংমলে যায়। রিমিকে নিয়ে শপিংমলেরই একটা ক্যাফেতে বসে।
রিমি বিরক্ত হয়ে বলে, “আজকেই না বের হলে হতো না? বিরক্ত লাগছে আমার।”
“তোমার কি মন খারাপ?”
রিমি উত্তর দিলো না।
“আম্মু কিছু বলেছে?”
রিমি এবারও উত্তর দিলো না।
“দুলাভাইয়ের সাথে ঝামেলা হয়েছে?”
“ওই লোকের নাম নিবি না।”
“কেনো?’
“আমাকে আজকে পাঁচদিন ধরে ইগনোর করছে। কল দিলে ধরে না। নেটে পাই না। সে নাকি খুব বিজি। সকালে কল দিলো। জিজ্ঞাসা করলাম কি এত কাজ? পরে কথা বলবে বলে রেখে দিয়েছে। আমি আর কল রিসিভ করবো না।”
“হয়তো আসলেই বিজি ছিল।”
“মেসেজের রিপ্লাই তো দিতেই পারতো। টেনশন করি তো নাকি?”
“আচ্ছা বাদ দাও। কফি খাই চলো।”
“কি কিনতে এসেছিস?”
“তোমার সাথে ঘুরতে এসেছি। ওই বাসায় ভালো লাগছিলো না।”
“আরিফ ভাইয়াকে কল দিয়ে ঘুরতে বের হোতি।”
“ওর কাজ আছে। কল দিয়েছিলাম।”
“কফি অর্ডার দে।”
রুমঝুম দুটো কফি অর্ডার দিলো। কথা বলার মাঝেই একটু পর আরিফের কল আসে। রুমঝুম রিসিভ করে। আরিফ বলে,
“ওয়াশরুমের সামনে চলে আয়।”
রুমঝুম রিমিকে ওয়াশরুমে যাবে বলে চলে গেল। আরিফ পরে ওকে নিয়ে পুরো শপিংমল ঘুরে। এটা ওটা দেখিয়ে কিনতে বলে। কিন্তু রুমঝুম কিনে না। ভাব দেখিয়ে বলে,
“এর থেকে ভালো ডিজাইন আমি করতে পারি।”
আরিফ ডলের একটা ড্রেস দেখিয়ে বলে, “ওটা কিনবে?”
রুমঝুম তা দেখেই চোখ সরিয়ে নেয়। আরিফকেও টেনে অন্যদিকে নিয়ে যায়।
“কিসবের দিকে তাকাও?”
“তোকেই তো কিনতে বলছি।”
“ওগুলোর দিকে তাকাবে না।”
“এভাবে জনসম্মুখে সাজিয়ে রাখলে দেখবো না? বউকে ওই ড্রেস পড়া অবস্থা কল্পনা করবো না?”
“কল্পনাও করে ফেলেছো?”
“কল্পনা করা কখন শেষ।”
“লুইচ্চা।”
“তোর থেকে কারো ভালো জানার কথা না। রিমেম্বার কক্সবাজার নাইট?”
রুমঝুম আরিফের বাহুতে এলোপাতাড়ি ঘুষি মারে। মজা, ফাজলামো করলেও আরিফ রুমঝুমকে পরে খুব সুন্দর একটা শাড়ি কিনে দিলো। রুমঝুম বলে,
“তোমার পছন্দ সুন্দর।”
বলে নিজের কপালের চুল ঠিক করার ভঙ্গি করে। আরিফ বাঁকা হেসে বলে, “ইয়াহ তুই বাদে।”
রুমঝুম থতমত খায়। তেজ দেখিয়ে বলে, “আমার পছন্দ বাজে।”
“আই নো আমাকে চুজ করা ছাড়া তোর সব পছন্দ বাজে। এটা এতো ঘটা করে বলতে হবে না।”
রুমঝুম আরিফের বাহুতে ইচ্ছামতো কিল, ঘুষি মেরে উল্টোদিকে হাঁটা দেয়। আরিফ চুলে হাত গলিয়ে হাসে। ফের কি ভেবে যেন দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
রুমঝুম অনেকক্ষণ পেরিয়ে গেলেও না আসলে রিমি বিরক্তিতে মুখ কুচকে ফেলে। মোবাইল বের করে ফেসবুক স্ক্রল করতে থাকে।
“ম্যাম ক্যান আই হ্যাভ অ্যা সিট?”
রিমি বড় বড় চোখ করে বসে থাকা অবস্থাতেই তড়িৎ বেগে পিছনে ঘুরে। ফারহান পকেটে হাত গুঁজে দাঁড়িয়ে আছে। রিমি চট করে উঠে দাঁড়ায়। ফারহান ইশারা দিয়ে বলে,
“বসবো?”
রিমি এতটাই অবাক হয়েছে কথা বলতেও পারছে না। ফারহান এগিয়ে রিমিকে একহাতে জড়িয়ে ধরে।
“হেই?”
চরম বিস্ময় নিয়ে রিমি ফারহানের বুকে হাত দেয়। বলে, “আর ইউ রিয়েলি হেয়ার?”
“এনি ডাউট?”
রিমি বিস্ময়ের রেশ এখনও কাটাতে পারছে না। ফারহান ওকে ছেড়ে দিয়ে ওর মুখোমুখি বসে।
“আরেহ বসো।”
রিমি বসে। অবাক হয়ে বলে, “কখন আসলে?”
“কালতে মাঝরাতে।”
“কোথায় ছিলে?”
“নওশাদের বাসায়।”
আরো অবাক হয়ে বলে, “মামা জানতো?”
“একমাস আগে থেকেই।”
“বললে না কেনো?”
“বললে এমন সারপ্রাইজ হতো?”
রিমি পানি খায়। ফারহান বলে,
“শালী খবর দিলো রেগে আছো।”
“ওরাও জানতো না?”
“না না। দুইঘন্টা আগে জেনেছে।”
রিমি কিছু বললো না।
“তো পাঁচদিনের হিসেব দিয়ে ফেলি।”
রিমি এবারও কিছু বলে না। ফারহান বলে, “আজকে সারাদিন ঘুমিয়ে কাটিয়েছি। কালকে মাঝরাতে ল্যান্ড করেছি। মানে আট তারিখ ল্যান্ড করেছি। ছয় তারিখ ফ্লাইটে উঠেছি। দুদিন প্লেনেই ছিলাম। তিনদিনের হিসেব গেলো। চার, পাঁচ তারিখ সবার জন্য শপিং করেছি। পাঁচ তারিখ অবশ্য সবার জন্য বলা যায় না। শুধু তোমার জন্য শপিং করেছি।”
“আমি এখনও শকড।”
“মাই প্লেজার।”
“মামি ছিল না বাসায়?”
“না বাপের বাড়ি গিয়েছে। আমি আর নওশাদ ছিলাম।”
“জবা খালামণির সাথে দেখা করেছো?”
“দেশে নেমেই নওশাদের সাথে দেখা করেছি। দ্যান আরিফের সাথে। এখন তোমার সাথে। তারপর সবার সাথে।”
বিস্ময়ের রেশ কাটতেই রিমির হঠাৎ করে লজ্জা লাগা শুরু হলো। ফোনে অনেক কথা বলেছে। কিন্তু পাঁচ বছর পর আবারও দেখা হলো। রিমিকে ব্লাশ করতে দেখে বলে,
“লজ্জা পাচ্ছো নাকি?”
“সেরকম কিছু না।”
ফারহান রিমির হাতে হাত রাখে। রিমি মুখ ঘুরিয়ে হেসে উঠে। ফারহান মজা নিয়ে বলে, “খুব লজ্জা পাচ্ছো না?”
রিমি মুখ চেপে হেসে উঠে। কতটা অস্বস্তি হচ্ছে সেটা কেবল রিমিই জানে। ফারহান বলে,
“পুরোই ফারহানের টাইপ।”
“মানে?”
“সবার সামনে রুড কিন্তু আমার সামনে লাজুক। আই লাইক ইট।”
______________________
মাথায় হাতের স্পর্শ পেতেই পুনমের ঘুম ভেঙে গেল। চোখ পিটপিট করে তাকিয়ে দেখে নওশাদ। পুনমকে তাকাতে দেখে নওশাদ ভ্রু নাচায়। পুনম উঠে বসে।
“কখন আসলেন?”
“মাত্রই।”
“আপনি না কালকে আসতেন?”
“এলাম। কেনো খুশি হওনি?”
পুনম নওশাদের বুকে মাথা রাখে। “হয়েছি।”
নওশাদ পুনমের কাঁধে হাত রেখে ডান হাত উঠিয়ে দেখে। “ভাইয়ের বিয়ে উপলক্ষে দিয়েছো?”
“হুম।”
নওশাদ ডান হাতের এপিঠ ওপিঠ দেখে বলে,
“সুন্দর হয়েছে। কে দিয়ে দিয়েছে?”
“ভাবি।”
“বাম হাতেরটা?”
“আমি নিজে।”
নওশাদ পুনমের বাম হাতে ঠোঁট ছোঁয়ালো। পুনম হেসে উঠে। দরজার সামনে চোখ পড়তেই দেখে অর্ক গাড়ি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। পুনম নওশাদের বুক থেকে মাথা উঠিয়ে হাত বাড়িয়ে ডাক বলে,
“আব্বা? ফুপির কাছে আসো।”
অর্ক আস্তে ধীরে এলো। নওশাদকে ডিঙিয়ে পুনমের কোলে গিয়ে বসে। পুনম অর্ককে শিখিয়ে দেয়,
“ফুপাকে সালাম দাও?”
অর্ক ভাঙা ভাঙা গলায় সালাম দিলো। নওশাদ অর্কর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলে,
“কেমন আছেন স্যার?”
“ভালু।”
নওশাদ পুনমের দিকে তাকিয়ে বলে, “বয়স কত ওর?”
“তিন।”
“আল্লাহ কি শান্ত!”
“টানা একসপ্তাহ থাকলেই বুঝবেন শান্ত নাকি অশান্ত।”
“বাচ্চারাই তো দুষ্টুমি করবে।”
অর্ককে জড়িয়ে ধরে বলে, “ফারহান কবে এসেছে?”
“কালকে।”
“এখন কোথায়?”
“রিমিকে সারপ্রাইজ দিয়ে সেজো আপার বাসায় যাবে বললো।”
“কার সাথে এখন?”
“আরিফের সাথে কন্টাক্ট করেছে।”
“এবার তাহলে রিমিকে উঠিয়ে নিবে?”
“হুম।”
“আল্লাহ আবার বিয়ে!”
“জ্বি।”
“মজাই হবে।”
“হ্যাঁ আপনার তো শুধু মজা করার ধান্দা।”
পুনম হেসে ফেলে। “ড্রেস পাল্টাবেন না?”
“হুম। দাও।”
পুনম অর্ককে ছেড়ে উঠতে গেলেই মাথা চক্কর গিয়ে উঠে। নওশাদকে বুঝতে দিলো না। আস্তে ধীরে উঠে ব্যাগের চেইন খুলে নওশাদকে টিশার্ট, ট্রাউজার দেয়। নওশাদ ঘড়ি খুলে রাখে। শার্ট খুলে তা চেয়ারে রেখে ওয়াশরুমে চলে যায়। অর্ক এরমধ্যে দৌঁড় দিয়ে চলে গিয়েছে। পুনম পুনরায় বিছানায় শুয়ে পড়ে। ভালো লাগছে না। নওশাদ পরে উঠতে বললেও উঠে না। হাত পা ছড়িয়ে শুয়ে রইলো।
নয়টা দশ। ড্রয়িংরুমের বড় সোফায় পুনম, প্রিতম বসা। প্রিতম মোবাইলে পুনমকে কি যেন দেখাচ্ছে। নিশা দাঁড়িয়ে আছে একপাশে। অর্ককে খাওয়াবে এখন। প্রতীক সিঙ্গেল সোফায় বসা। অর্ক প্রতীকের পায়ের সাথে লেগে দাঁড়িয়ে আছে। উদ্দেশ্য নিরাপদ পজিশনে থাকা যেন নিশা ধরে বেঁধে ওকে না নিতে পারে। খাওয়ার সময় হলেই কি করে যেন বুঝে যায় আর তালবাহানা করা শুরু করে। নওশাদ প্রতীকের মুখোমুখি আরেকটা সিঙ্গেল সোফায় এসে বসতেই অর্ক নওশাদের দিকে তাকায়। নওশাদ ভ্রু নাচায়৷ অর্ক হাতে থাকা টিস্যু ছিঁড়তে ছিঁড়তে বলে,
“বাবা পঁচা পুপা পুপিকে জড়িয়ে ধরে চুমা দিচে। আমি দেকচি।”
প্রিতম অর্কর মুখ চেপে ওকে কোলে নিয়ে নিজের রুমে চলে যায়। পুনম উঠে কিচেনে চলে যায়। প্রতীক থতমত খেয়ে প্রসঙ্গ পাল্টাতে নওশাদের সাথে রাজনৈতিক কথাবার্তা বলা আরম্ভ করে। নওশাদ বিব্রতবোধ করে ভীষণ। কি এমন করেছে ও? সবাই ঢাকঢোল পিটিয়ে ওকেই বাঁশ দেয় কেনো?
নিশা কিচেনে আসে। পুনম নিশাকে দেখে বলে, “কি রাঁধো এইসব? কি গন্ধ।”
নিশা অবাক হয়ে বলে, “চিংড়ি মাছ!”
“শিওর নষ্ট। নাহলে এমন গন্ধ কেনো?”
নিশা ভ্রু কুচকে তাকিয়ে থাকে। পুনম বলে, “এভাবে তাকিয়ে আছো কেনো?”
“তেঁতুল খাবে?”
পুনমের চোখ চিকচিক করে উঠে। “আছে?”
নিশা ফ্রিজ থেকে তেঁতুল এনে পুনমকে দিলো। পুনম তেঁতুল খেতে খেতে বলে,
“আগে দিতে পারতে না?”
“তুমি তো তেঁতুল খাও না পুনম। আজ এত মজা করে খাচ্ছো?”
পুনম অবাক হলো। “আসলেই তো। মজা লাগছে খেতে।”
“মাথা ঘোরায়?”
“জ্বি।”
“বমি হয়েছে?”
“জ্বি।”
“ডেট মিস গিয়েছে?”
“জ্বি।”
“আমার কাছে একটা কিট আছে। টেস্ট করো তো।”
পুনম চোখ বড় বড় করে ফেলে। নিশা বলে,
“মিলিয়ে দেখো।”
পুনম খেই হারিয়ে বলে, “তোমার কাছে কিট কি করে? কিটের ব্যবসা করো নাকি?”
“কিছুদিন আগে টেস্ট করেছিলাম। দুটো কিনেছিলাম। একটা পুরো ইনটেক আছে।”
“রেজাল্ট কি পজিটিভ?”
“পজিটিভ হলে জানতে না?”
পুনম চিন্তায় পড়ে। আয়হায়! এটা হলে কেমন করে হবে? নিশা মজা করে বলে, “বিয়েতে মতই ছিল না। একদমই না। শুধু পাঁচ মাসের মাথায় প্রেগন্যান্ট হয়ে গিয়েছো। ভালোই।”
পুনমের রাগ লাগে। “তোমার মতো ডিস্টার্ব তো সবার।”
নিশা হেসে উঠে। “আমার কোনো ডিস্টার্ব ছিল না। আমরা কেয়ারফুল ছিলাম।”
পুনম তেজ দেখিয়ে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য পা বাড়িয়ে বলে, “কচু ছিলে। দুদিন পর পর ঝগড়া লাগতে আর পিটাপিটি করতে। কত রাত আমার ঘরে ঘুমিয়েছো ভুলে গিয়েছি নাকি?”
“গাল ফুলাফুলি করেছি, পিটাপিটি করিনি। মিথ্যা বলো না।”
“ঢং।”
“রাতে এসে কিট নিয়ে যেও। সকালে পরীক্ষা করো।”
পুনম বড় বড় পা ফেলে বেরিয়ে যায়। নিশা হাসে। বিড়বিড়িয়ে বলে, “পাগল।”
_______________
খাওয়াদাওয়া করে পুনম বেশি বেশি পানি খায়। ঘরের এই মাথা থেকে ওই মাথা হাঁটাহাঁটি করতে থাকে। সকালের জন্য ওয়েট করতে পারবে না ও। গুগলে সার্চ দিয়ে দেখেছে রাতে টেস্ট করলেও পজিটিভ হলে রেজাল্ট পজিটিভ আসে। ও এখনই টেস্ট করবে। নওশাদ এভাবে পায়চারি করতে দেখে ঘড়ি দেখে বলে,
“এই সময় লাগবে বারোটা বাজতে চললো। ঘুমাতে এসো।”
পুনম পাত্তা দিলো না। চিন্তায় পাগল পাগল লাগছে আর এই লোক আছে ঘুম নিয়ে। একটু পর নওশাদের আড়ালে কিট নিয়ে ওয়াশরুমে চলে। ওয়াশরুম থেকে বের হয় আধাঘন্টা পর। তাও নওশাদের ডাকাডাকিতে। পুনম পাথরের মতো ওয়াশরুম থেকে বের হয়। চেয়ার টেনে গালে হাত দিয়ে পড়ার টেবিলের সামনে বসে। নওশাদ কপাল কুচকে বলে,
“কি ভাবছো? আর এতক্ষণ ওয়াশরুমে কি করছিলে?”
পুনম জবাব দিলো না। নিজের চিন্তায় মগ্ন হয়েই রইলো।
“এই গাধা? কি ভাবছো? না শুয়ে চেয়ারে বসে আছো কেনো?”
পুনম নওশাদের দিকে তাকায়। চোখের পলকও পড়ে না। পুনমকে এভাবে পাথুরে দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে দেখে নওশাদ বলে,
“কি হয়েছে?”
পুনম নওশাদের দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়। নওশাদ ভ্রু কুচকে পুনমের হাতের দিকে তাকায়। হাতে কিট দেখতে পেয়ে ঝড়ের গতিতে পুনমের হাত থেকে কিট ছিনিয়ে নেয়। দুটো লাল দাগ দেখে নওশাদ একরাশ বিস্ময় নিয়ে পুনমের দিকে তাকায়। নওশাদ ওভাবে তাকাতেই পুনম ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কেঁদে দেয়। নওশাদ তড়িঘড়ি করে উঠে পুনমের মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। পুনম চেয়ারে বসে থেকেই নওশাদকে জড়িয়ে ধরে। পুনমের মাথা নওশাদের পেটে গিয়ে ঠেকে। নওশাদ পুনমের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে থাকে।
“তুমি কি খুশি না?”
পুনম উত্তর দেয় না। নওশাদ পুনমের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলে,
“আমরা কালকে টেস্ট করাবো। ভুলও হতে পারে।”
“ভাবি সন্দেহ করেছে। এখন রেজাল্টও পজিটিভ। আবার সব সিম্পটমসও আছে। ভুল হবে না।”
“তুমি খুশি না?”
“আমি প্রস্তুত না।”
নওশাদ চুপ করে থাকে। পুনম নাকের জল, চোখের জল এক করে কাঁদতে থাকে। নওশাদ কিছুক্ষণ পর ঢোক গিলে বলে,
“এখন চলে এসেছে। আমরা তো নষ্ট করতে পারিনা। আমাদেরই তো সন্তান। একটু কষ্ট করে মানুষ করে ফেলবো। প্লিজ কেঁদো না। তোমারই সন্তান বলো? খুশি না হলেও নষ্ট করার চিন্তা করো না। আমাদেরই তো বলো।”
পুনম নওশাদের বুকে এলোপাতাড়ি ঘুষি মেরে বলে,
“আমি কখন বলেছি আমি নষ্ট করবো? আগ বাড়িয়ে কথা বলেন কেনো?”
“তাহলে এভাবে কাঁদছো কেনো?”
“মাত্র বিয়ে করলাম। না বিয়ের জন্য প্রস্তুত ছিলাম, না ওর জন্য। আমার কিছুই প্ল্যান মতো হয় না। এজন্য কিচ্ছু ভালো লাগে না আমার।”
“আমার সাথে বিয়ে হওয়ায় সুখী আছো না?”
“হ্যাঁ।”
“ও আসলেও সুখেই থাকবো। সব প্ল্যানমতো হতে হয় না।”
“ভাল্লাগে না আমার। পরীক্ষা মরিক্ষা, হাবিজাবির জন্য কোথাও ঘুরতে যেতে পারিনি দুজনে।”
“সমস্যা নেই। ওকে নিয়ে যাবো।”
“বাচ্চা নিয়ে ঘুরতে মজা হয়?”
“মজা করলেই মজা হয়। ওকে নিয়ে আমরা পুরো বাংলাদেশ দেখবো। ক্ষতি কি?”
“আপনার তো সমস্যাই নেই। আপনি তো খুশি। দুটোতেই আপনার লাভ। দশমাস পর কোলে নিয়ে ওয়া ওয়া করবেন। আপনার আর কি?”
নওশাদ হাসে। পুনমকে শক্ত করে ধরে বলে, “ঠিকই তো। দুটোতেই আমারই লাভ। আর সব তো আমারই।”
পুনম নওশাদের টিশার্টে নাক চেপে কাঁদতে থাকে। নওশাদ পুনমের মাথায় হাত বুলিয়ে বলে,
“কালকেই টেস্ট করাবো। ডাক্তার দেখাবো। শিওর হতে হবে।”
পুনম নাক টানে। নওশাদ বলে, “রেজাল্ট নেগেটিভ আসলে খুশি হবে?”
পুনম ফুঁসে উঠে। “আপনাকে বলেছি খুশি হবো? শয়তান বেডা একটা।”
“তাহলে কি হবে?”
“পজিটিভ আসলে খুশি হবো।”
নওশাদ হাসে। পুনম বলে, “সব আপনার জন্য হয়েছে। আপনি ইচ্ছা করে করেছেন। এই আপনিও উঁড়ে এসে জুড়ে বসেছেন। আপনার এটাও এভাবে হঠাৎ এলো। ভাল্লাগে না কিছু আমার। এইজন্যই আমি পুরুষমানুষ ঘেন্না করি।”
নওশাদ হাসে। পুনম বিলাপ পারতে থাকে,
“আপনার কোনো কষ্টই নেই।”
“আচ্ছা দেখি তোমার সাথে কষ্ট করার ট্রাই করবো।”
“আমার মাত্র বাইশ বছর। বিয়ের মাত্র পাঁচ মাস। এরমধ্যেই!”
“আমার আম্মার বাইশ বয়সে দুই মেয়ে ছিল।”
“তখনের যুগ আর এখনের যুগ এক? মেঘলা, সিরাত কারো বিয়েই হলো না। আর আমি প্রেগন্যান্ট।”
“বিয়ে হলে প্রেগন্যান্ট হবে না? বৈধ তো পুনম।”
পুনম নাক টেনে বলে, “ভাবি কি বলেছে জানেন?”
“কি?”
“শুরুতে কারোই বিয়েতে মত থাকে না। চার-পাঁচ মাস পর শুনি প্রেগন্যান্ট। আপনার জন্যই তো বলতে পারলো। এখন সবাই আমার মজা নিবে।”
নওশাদের হাসি পেলো। “ঠিকই তো বলেছে।”
“যদি রেজাল্ট পজিটিভ আসে তাহলে কি হবে?”
“নওশাদ বিন নাসির আগে থেকেই কেয়ারফুল। এখন আরো কেয়ারফুল হয়ে যাবে। আর বিশেষ কিছু হবে না।”
“আপনার অনুভূতি কি?”
“কি জানি! কিছু ফিল করতে পারছি না। অনেক সারপ্রাইজডও হচ্ছি না, অনেক খুশিও হচ্ছি না, আবার দুঃখও লাগছে না।”
“আপনি গাদ্দার যে তাই।”
“অন্য সবার জন্য গাদ্দার হলেও তোমার জন্য না। তোমার জন্য গাদ্দার হলেও ওর জন্য না।”
পুনম আবারও কেঁদে দেয়। “কেউ আমাকে ভালোবাসে না।”
নওশাদ পুনমের মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় আবার। খুবই ক্ষীণ গলায় বলে, “আমি বাসি তো।”
চলমান…..
(হ্যাপি রিডিং)

