বলো_কোন_প্রিয়_নামে_ডাকি:~ #পর্ব_৩৪(ক)

0
65

#বলো_কোন_প্রিয়_নামে_ডাকি:~
#পর্ব_৩৪(ক)
#সমৃদ্ধি_রিধী

আজ রিমি আর ফারহানের গায়ে হলুদ। প্রিতমের আকদের এক মাস পেরিয়েছে। পুনম প্রিতমের হলুদ নিয়ে যা যা প্ল্যান করেছিল, তার কিছুই হয়নি। সারাদিন গিয়েছে হাসপাতালে—এই টেস্ট, ওই টেস্ট, সেই টেস্ট করতে করতে। নওশাদ সেদিনই গাইনি ডাক্তার দেখিয়েছে। সবকিছু কনফার্ম না হওয়া পর্যন্ত নিজেও শান্তি পায়নি, পুনমকেও শান্তি দেয়নি।

প্রিতমের আক্দের পরদিন পুনম নিশাকে দিয়ে পাপিয়াকে বলেছে। পাপিয়া পুনমকে নওশাদের সাথে ছাড়তে রাজি হয়নি প্রথমে। ওনার কথা মেয়ে এইসময় পুরোটা সময় ওনার সাথে থাকুক৷ মায়ের সাথে থাকলে মেয়েরা ভালো থাকে। বউকেও তাই এই নাজুক সময়ে বাপের বাড়ি থাকতে দিয়েছেন। নওশাদও কিছু বলেনি। কিন্তু পুনমই থাকতে চায়নি। ওর নওশাদের সাথে থাকতে ভালো লাগে। এইসময় নওশাদকে আরো জ্বালাবে সেটাই ওর প্ল্যান ছিল।

কিন্তু তিনমাসে পড়ার পর থেকেই পুনমের শরীর বেশ খারাপ। আগে যা খেতে পারতো এখন তও পারে না। দিনদিন বেশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। তাই নওশাদ ঠিক করেছে রিমির বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হলেই পুনমকে শনি আখড়া দিয়ে আসবে। একা ঘরে থেকে খাওয়াদাওয়া করে না। কোনো নিয়ম মানে না। সবার সাথে থাকলে টাইটে থাকবে। পুনমও আর দ্বিমত করেনি। নওশাদ বাসায় না থাকলে একা একা ভালো লাগে না।

রিমি, ফারহান স্টেজে বসা। সবাই স্টেজে উঠে ছবি তুলছে, কেক খাইয়ে দিচ্ছে। ওদের এত কেক, মিষ্টি খাওয়া দেখে আবার পুনমের বমি আসছে। আবার কিছুক্ষণ পর পর কিছু মহিলা এসে পুনমের সাথে কথা বলে যাচ্ছে। পুনম ওদেরকে চিনে না। তবে জেরিন, জাইমা বলেছে এদের কেউ নওশাদদের অনেক দূরের আত্মীয়, কয়েকজন রিমির ফুফু, চাচি, আবার একজন রিমির শ্বশুরবাড়ির অনেকেই ছিল। একটু আগে রিমির শ্বাশুড়িও কথা বলে গিয়েছে। সবাই নতুন বউ, নতুন বউ বলে কথা বলছে। এদিকে নতুন বউয়ের রেশ কাটার আগেই পুনম নতুন মা হয়ে যাচ্ছে। রিমির শ্বাশুড়ি তো হোসনেআরার অনেক সুনাম করে গেলেন পুনমের কাছে। পুনম আর কি করবে? মাথা নাড়িয়ে নাড়িয়ে হাসে কেবল।

সবাই যেতেই পুনম হাফ ছাড়ে। মাথা ঘুরিয়ে চারপাশে তাকায়। নওশাদকে দেখতে পাচ্ছে না। সেই কখন সোফায় বসিয়ে দিয়ে নওশাদ যে গিয়েছে এখনও আসলো না। পুনমের বাম পাশে জাইমা বসা, তার পাশে জেরিন। ডান পাশে রুমঝুম বসা। জাইমা মোবাইল ব্যাগে ঢুকিয়ে রুমঝুমকে ডাক দেয়।

পুনমকে ডিঙিয়ে রুমঝুম জেরিনের দিকে তাকায়।

রুমঝুম সামনে একবার তাকিয়ে আবারও চোখ সরিয়ে বলে, “কি?”

“প্রজেক্টর অন করবে কখন?”

“আরিফ বলেছে এগারোটার দিকে। এগারোটার বেশিও বাঁচতে পারে।”

পুনম জিজ্ঞাসা করে, “কিসের প্রোজেক্টর?”

জাইমা শয়তানি হাসি দিয়ে বলে, “রিমি আপু প্রেম করেছে কয়দিন?”

“তিন নাকি চারমাস?”

“জ্বি না। চারবছর। আজকে ওদেরকে বাঁশ মারা হবে।”

“কিভাবে?”

রুমঝুম বলে, “ওদের ফুল রিলেশন চলাকালীন সময়ের ছবি দেখিয়ে।”

পুনম বলে, “তোমরা দুই বোনই ছুপা রুস্তম।”

“তোমাদের থেকে কম।”

পুনম কপাল কুচকে বলে, “তোমাদের মানে?”

“তুমি আর মামা।”

“কি করেছি আমরা?”

জেরিন পুনমের সামনে দাঁড়িয়ে বলে, “এত বড় কাজ করেও বলছো কি করেছো?”

“কি করলাম?”

রুমঝুম পুনমের দিকে ঘুরে বসে। “তোমাদের অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ?”

“হ্যাঁ?”

“আমার লাভ ম্যারেজ?”

“হ্যাঁ?”

“অ্যারেঞ্জ ম্যারেজে কার পাঁচ মাসেই বাচ্চা হয়? তোমার কি একটুও কেমন কেমন লাগছে না?”

“এটা কি অবৈধ যে কেমন কেমন লাগবে? কি আজব! পাগলছাগলের মতো কথাবার্তা বলছো।”

জেরিন বলে, “মামার সাথে ফ্রি হতে পেরেছো?”

“পারবো না কেনো?”

জাইমা অবাক হয়ে বলে, “মামার সাথে আসলেই ফ্রি হয়ে গিয়েছো? তোমার একটুও কেমন কেমন লাগেনি?”

“লেগেছে, আবার লাগেনি।”

“মামার মতো নিরামিষের সাথে তোমার কেমন কেমন লাগেনি?”

“না, লাগেনি।”

জেরিন বলে, “জাইমা কিছু বলিস না। এটাও নিরামিষের সাথে থাকতে থাকতে নিরামিষ হয়ে গিয়েছে।”

“তোমাদের মামাকে বলছি দাঁড়াও।”

রুমঝুম পুনমের কাঁধে হাত রেখে বলে, “দেখো মামি তুমি আর আমি সমবয়সী। আমাদের এসএসসি, এইচএসসি ব্যাচ সেম। তুমি হবে আমাদের ম্যান্টালিটির। তা না! তুমি দিন দিন মামার মতো হয়ে যাচ্ছো কেনো? আবার টিপিক্যাল মামিদের মতো বলছোও তোর মামা আসুক। এইসব তোমার সাথে যায় না।”

পুনম চোখ সরিয়ে নেয়। জাইমা বলে, “তোমার কি শরীর খারাপ লাগছে?”

“তোমাদের মামাকে ডাকো একটু।”

“কেনো? বিচার দিও না আবার।”

“আমার মোবাইল ওর কাছে।”

জেরিন হঠাৎ করে বলে, “ব্রো আমার ভাই বা বোন হবে। এখন আমি মানুষের কাছে কিভাবে বলবো আমার ভাই বা বোন হয়েছে? মানুষ তো হাসাহাসি করবে।”

জাইমা, রুমঝুম হেসে উঠে। জেরিন বলে, “আরেহ ওটা ভাব ইসরাত আপুরটা আমাদের ভাই বা বোন থেকে বড়। মানে খালামণি বা মামাকে থেকে ভাগ্নি বা বোনঝি বড়। কি ফানি।”

পুনম ফুঁসে উঠে। “আমি তো তোমার মামাকে বলবোই আজকে।”

তিনজন আবারও হেসে উঠে। পুনম তাকিয়ে দেখে নওশাদ আসছে। ইশারা দিয়ে বলে, “ওইযে তোমাদের মামা আসছে। বলছি আমি।”

নওশাদকে আসতে দেখে তিনজন তিন মূখী চলে গেল। নওশাদ পানির বোতল নিয়ে পুনমের পাশে বসে।

“কি অবস্থা?”

“ওরা কিন্তু আমাকে পচাচ্ছে। আপনার খবর করে ফেলবো আমি।”

ভ্রু কুচকে বলে, “কারা?”

“জেরিন, জাইমা, রুমঝুম। বলে অ্যারেঞ্জ ম্যারেজে এত জলদি বাচ্চা হয় কি করে? আবার বলে আমাদের ভাই বা বোন হবে। আমার কিন্তু ভালো লাগছে না।”

“কড়াভাবে ধমক দিতে পারো না বেয়াদবগুলোকে?”

পুনম মুখ কুচকে বসে থাকে। নওশাদ পানির বোতল খুলে দিয়ে বলে,

“ধরো পানি খাও।”

পুনম অল্প একটু পানি খেয়ে নওশাদকে বোতল দিয়ে দেয়। নওশাদ সোফার সাইডে বোতল রেখে বলে,

“খাবে এখন?”

“কি?”

“পোলাও? রোস্ট?”

“না। বাসায় গিয়ে ডাল দিয়ে ভাত খাবো।”

“ঠিক আছে।”

“কয়টা বাজে?”

“সাড়ে এগারোটা বাজতে চললো।”

“ওরা নাকি প্রজেক্টরে কি দেখাবে।”

“কি নিয়ে?”

“জানি না। আমার মোবাইল দিন।”

নওশাদ দিলো। পুনন বলে, “কত মানুষ এসে নতুন বউ, নতুন বউ বলে কথা বলছে।”

“নতুন বউই তো। বিয়ের অর্ধবছরও হয়নি।”

পুনম আড়চোখে তাকিয়ে বলে, “নতুন বউয়ের রেশ যাওয়ার আগেই মা বানাচ্ছেন কেনো?”

“মাফ করো।”

“করবো না। সব আপনার জন্য হয়েছে।”

“সবাইকে বলে দিয়েছো তুমি প্রেগন্যান্ট?”

“না, আমার লজ্জা লাগে।”

“ভালো করেছো।”

“আমি বলিনি নিজের কথা ভেবে।”

“মানে?”

“মানুষ ভাববে কি? বিয়ের পাঁচ মাসেই দুইমাসের প্রেগন্যান্ট?”

“মানুষের ভাবা দিয়ে কি? কেউ খাওয়াবে?”

“না।”

“কেউ আলতু ফালতু কথা বললে আমাকে ডাকবে। মুখ একেবারে বন্ধ করে দিবো।”

“থাক কারো মুখ বন্ধ করতে হবে না।”

“আমি যাই তাহলে? একা থাকতে পারবে?”

“না পারবো না। আপনি এসে আমার কোলে বসে থাকুক। যত্তসব।”

নওশাদ কপাল কুচকে তাকায়। পুনম বলে, “তিন ঘন্টা একা বসিয়ে রেখে জানতে চাচ্ছে একা থাকতে পারবে না? ফাউল।”

“থাকো আমি গেলাম।”

“আচ্ছা।”

নওশাদ চলে গেল। নওশাদ চলে যেতেই জেরিন, জাইমা ফের এসে পুনমের দুপাশে বসে। জেরিন আফসোস করে বলে,

“মামিগো আমার বোনটার কি হবে?”

“কেনো? কি হয়েছে?”

জাইমা বুকে হাত দিয়ে বলে, “তোমার ভাইয়ের তো বিয়ে হয়ে গিয়েছে মামি। আয়না, মন ভাঙা আয়না। সয় না এই ব্যথা সয় না।”

পুনম বলে, “আমি এখন মাইর দিবো কিন্তু।”

জেরিন, জাইমা হাসতে থাকে। পুনম হেলান দিয়ে বসে থাকে অনেকক্ষণ। ঘুম পাচ্ছে ভীষণ। জেরিন, জাইমা খোঁচালেও আর কানে নিলো না।

একটু পর প্রজেক্টরে রিমি, ফারহানের ছবি দেখানো শুরু হলো। পুনম সোফার একদম সাইডে বসা। নওশাদ পাশে বুকে হাত গুঁজে দাঁড়িয়ে আছে। রিমি, ফারহান স্টেজের এক সাইডে দাঁড়ানো। প্রথম ছবিটা রিমির কলেজ ড্রেস পড়া, হ্যালাপাতলা ফারহানের হাতে মস্ত বড় একটা টেডিবিয়ার নিয়ে। নওশাদ কপাল কুচকে ফারহানের দিকে তাকায়।

ফারহান প্রথম যখন নওশাদকে রিমির ব্যাপারে বলেছিল তখন ও বলেছে রিমিকে নাকি ফারহান প্রথম রিমির এডমিশন চলাকালীন সময়ে দেখেছে। তাহলে এখন কলেজ ড্রেস পড়া ছবি কেনো? আর হ্যালাপাতলা ফারহানকে দেখে নওশাদ নিমিষেই বুঝে ফেলে ওদের ভার্সিটির ফার্স্ট ইয়ার থেকেই রিমি আর ফারহানের সম্পর্ক।

নওশাদ রাগি চোখে ফারহানের দিকে তাকায়। ফারহান নওশাদকে ওভাবে তাকাতে দেখে চোখ সরিয়ে নেয়। তারপর আরো অনেক ছবি দেখানো হলো। আরিফ, রুমঝুমের সাথেও দু, তিনটা ছবি ছিল। ফারহানের গ্র্যাজুয়েশনের দিনের ছবি আছে। কালো কোট পড়ে ফারহান, পাশে মাথায় ফারহানের কালো ক্যাপ পড়ে রিমি দাঁড়ানো। প্রতিটা ছবিই শালীনভাবে তোলা, তবে নওশাদের গা জ্বলে যাচ্ছে। তারপরের ছবিটা নওশাদ চিনে। এটা ছবি দেখিয়েই বলেছিলো রিমিকে ওর ভালো লাগে এন্ড ওরা নাকি মিট করে ওটাই ফার্স্ট ছবি তুলেছে। ফার্স্ট ছবি? হাহ!

নওশাদ এটাও বুঝে ফেলে আরিফ আর রুমঝুম শুরু থেকেই সব জানতো। পুনম নওশাদের পাঞ্জাবির হাতায় টান দেয়। নওশাদ তাকায়।

“কি?”

“ওদের প্রেম দুই তিন মাসের? দেখে তো মনে হয় না।”

নওশাদ গম্ভীর গলায় বলে, “আরো বেশি হবে।”

পুনম টিটকারি মেরে বলে, “আপনার চোখের সামনে আপনার ফ্রেন্ড আপনার ভাগ্নির সাথে প্রেম করেছে। আপনি কি করেছেন? কিছু বুঝতেও পারেননি?”

নওশাদের প্রেস্টিজে লাগে ভীষণ। ও রিমি, ফারহানের দিকে হাঁটা দেয়। নওশাদ যেতেই জাইমা বলে,

“মামা বিয়ের পাঁচমাসেই সুখবর দিয়েছে। এটাও তো একটা মহান কাজ। কয়জন পারে এমন করতে?”

পুনমের রাগ লাগে। “বজ্জাইত্তা গোষ্ঠী।”

সব ছবি দেখানো শেষ। নওশাদকে আসতে দেখে রিমি অন্য সাইডে চলে যায়। বাপ, মাকেও এতটা ভয় পায় না যেভাবে ও নওশাদকে ভয় পায়। ফারহান নওশাদকে দেখে মেকি হাসে।

“আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারকাতুহু মামা। ভালো আছেন?”

নওশাদ ফারহানের কাঁধে হাত রেখে বলে,

“দুইমাসের প্রেম?”

“সরি দোস্ত।”

“প্রথম পরিচয় কিভাবে?”

“আন্টিকে দেখতে ফার্স্ট ইয়ারে থাকতে গেলাম না তোদের বাসায়? রিমিও তখন ছিল। ওখানেই প্রথম দেখেছি।”

“কি সুন্দরভাবে আমার চোখের সামনে প্রেম করে বেরিয়েছিস আর আমি বলতেও পারিনি।”

“দ্যাটস ইউর ফল্ট, নট মাইন।”

“তোর লজ্জা লাগে নাই বন্ধুর ভাগ্নির সাথে চার, পাঁচ বছর প্রেম করতে?”

“না দোস্ত লাগে নাই। লাগলে ও এখন ও আমার বউ হতো না।”

“কি দারুণ অভিনয়।”

“জিনিসটা তোকে বলি। তুই সেই সময় উপার্জন করার ধান্দায় থাকতি, আর আমি প্রেম করার ধান্দায় থাকতাম। তাই তুই কিছু বুঝিসনি।”

নওশাদ দাঁতে দাঁত চেপে ফারহানের দিকে তাকায়। ফারহান বলে,

“গালি দিস না। আফটার অল তুই আমার শ্বশুর আর আমি তোর ভাগ্নি জামাই।”

“গালি দেই না আমি।”

“আমি পুনম না যে আমার সামনে ভালো সাজছিস। তোর মুখ সম্পর্কে আমার থেকে কারো ভালো ধারণা নেই।”

নওশাদ কপাল কুচকে বলে, “নাম ধরে ডাকলি কেনো ওকে?”

ফারহান মাথা চুলকে বলে, “সরি সরি ভুলে। পুনম সমান সমান মামি, দ্যান আন্টি সমান সমান নানুমণি। আচ্ছা ভেজালে পড়লাম তো। বুঝলাম না ভাই! আমার আম্মুকে তুই একটু আগেও আন্টি ডাকলি। আমি কেন তোর আম্মুকে নানুমণি ডাকলো? কি উইয়ার্ড!”

“আমার ভাগ্নিকে বিয়ে করেছিস কেনো?”

“কজ সি ইজ মাই টাইপ।”

“থাপ্পড় দিবো।”

আরিফ কোথা থেকে ওদের সামনে আসে। নওশাদকে বলে, “এখন সবাই মিলে খেয়ে ফেললে ভালো হতো না? গেস্টদের প্রেশার কম।”

“পুনম খাবে না এখন। আমিও বাসায় গিয়ে খাবো। তোরা খেয়ে ফেল। খাওয়ার সাইডে যাচ্ছি। চল।”

আরিফ মাথা নাড়ায়। হুট করে নওশাদকে জড়িয়ে ধরে।

“কনগ্রাচুলেশন মামা।”

নওশাদের রাগ লাগে। পুনমকে বারবার বলেছে এখনই কাউকে না বলতে, ও শুধু হাসনাহেনাকে বলেছিল। তাও পুনম জাইমা, জেরিনকে বলেছে। এখন সবগুলো মজা নিচ্ছে।

ফারহান বলে, “কি উপলক্ষে?”

আরিফ নওশাদকে ছেড়ে হেসে বলে, “আমার কথা রাখার জন্য।”

“কিসের কথা?”

“মামা জানে।”

নওশাদ আরিফের হাত টান দিয়ে নিয়ে যায়। “চল বেয়াদব।”

ফারহান কপাল কুচকে তাকিয়ে থাকে। রিমি ফারহানের পাশে এসে দাঁড়ায়।

“মামা কি বললো?”

ফারহান বলে, “তেমন কিছু না। আচ্ছা আরিফ নওশাদকে কনগ্রাচুলেট করলো কেনো?”

“মামি প্রেগন্যান্ট দেখে আই গেজ।”

ফারহান হা করে তাকিয়ে থাকে। রিমি বলে,

“এভাবে তাকিয়ে আছো কেনো?”

“আমি পাঁচ বছর আগে বিয়ে করে এখনও বউয়ের সাথে ঠিকঠাকভাবে কথাও বলতে পারলাম না। আর বন্ধু আমার পাঁচ মাসে বিয়ে করে বাপ হয়ে যাচ্ছে? শ্লা আসল নিরামিষ তো আমি। ও ঠিকই আছে।”

রিমি দাঁত কিড়মিড় করে বলে, “হেহে! আমার মামা হয় আমার। মুখটা সামলাও।”

ফারহান ট্রমাটাইজড। জীবনযুদ্ধে পিছিয়ে গেল ও।

___________________

নওশাদ, পুনম, জিসান, জবা বাসায় চলে গিয়েছে। জাইমা, জেরিন যায়নি। ওরা রিমিদের বাসায় যাবে। জেরিন, জাইমা, রুমঝুম, আরিফ দাঁড়িয়ে কালকের প্ল্যান নিয়ে কথা বলছিল। কোথা থেকে মধ্যবয়স্ক একটা মহিলা আসে। রুমঝুমকে বলে,

“তুমি মেহনাজের ছোট বোন না?”

রুমঝুম ইতস্তত বোধ করে। তবুও মুখে হাসি ফুটিয়ে বলে, “জ্বি।”

“নাম কি জানি তোমার?”

আরিফ বুকে হাত গুঁজে দাঁড়িয়ে থাকে। জেরিন শয়তানি হাসি দিয়ে রুমঝুমের বাহুতে হাত রেখে বলে,

“মুনতাহা বিনতে রহমান আন্টি। আমাদের আপুটি খুব ভালো। রান্নাবান্না সব পারে। পড়ালেখায়ও ভালো, আদব-কায়দায় তো মাশাল্লাহ।”

রুমঝুম কেমন করে যেন জেরিনের দিকে তাকায়। জাইমা হেসে ফেলে। আরিফ তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে আছে জেরিনের দিকে। মহিলাটি বলে,

“মাশাল্লাহ, মাশাল্লাহ।”

একটা ছেলের দিকে ইশারা দিয়ে বলে, “আমার ছেলে।”

রুমঝুম মেকি হাসি দিয়ে বলে, “ও আচ্ছা আচ্ছা।”

“ইস্ট ওয়েস্টে পড়ছে।”

“ও আচ্ছা আচ্ছা।”

“আমার আপুটি ফ্যাশন ডিজাইন নিয়ে পড়ছে। আপনার সব জামাকাপড় ও ডিজাইন করে দিবে।”

“মাশাল্লাহ। তোমার আম্মু কোথায়?”

জেরিন আগ বাড়িয়ে বলে, “খালামণি ওইতো খাওয়ার ওখানে আছে।”

রুমঝুম জেরিনের হাতে চিমটি মারে। জাইমা জেরিনকে বলে, “আরিফ ভাইয়ার দিকে তাকা দ্যান কথা বল।”

জেরিন আরিফের দিকে তাকালোই না। মহিলাটি আরিফের দিকে তাকিয়ে বলে,

“বাবা তুমি?”

জেরিন হেসে বলে, “রুমঝুম আপুর খালাতো ভাই। মানে আমাদেরও খালাতো ভাই। আমাদের সবার বড় ভাই।”

“আচ্ছা আচ্ছা।”

মহিলা আরো কথা বলে চলে যেতেই আরিফ জেরিনের কান টেনে ধরে।

“হ্যাঁ কে কার ভাই?”

জেরিন আ উ করে বলে, “তুমি..তুমি আমার বড় ভাই।”

“মহিলাটাকে এইসব বললি কেনো?”

“ভাইয়া ভুলে ভুলে। আর বলবো না। ব্যথা পাচ্ছি আমি।”

আরিফ জেরিনের কান ছেড়ে দিলো। রুমঝুম জেরিনের বাহুতে তিন-চারটা থাপ্পড় মারে। জেরিন বলে,

“এমন ভাব করছো যেন বিয়ে বাড়িতে বিয়ে খেতে এসে এমন প্রোপোজাল নতুন পাচ্ছো? আগেও কতবার পেয়েছিলো হুবুহু সেমভাবে।” আরিফের দিকে তাকিয়ে বলে, “তোমার সামনেও তো পেয়েছে ইসরাত আপুর বিয়ের সময়।”

আরিফ মাথায় গাট্টা মেরে বলে, “আগের হিসেব আর এখনকার হিসেব এক?”

“ভুলে ভুলে।”

একটু পর তাহিয়া লাফাতে লাফাতে এলো। মহিলাটি নাকি তার ছেলের জন্য জেরিনের প্রস্তাব দিয়েছে। জেরিনের চক্ষু চড়কগাছ। আরিফ, জাইমা, রুমঝুম হেসে উঠলো। ঘটকালি করতে গিয়ে জেরিন নিজেই ফেঁসে গেল।

“আয়হায় আমার নীল!”

মাথায় হাত দিয়ে ছুটলো খাওয়ার জায়গায়। তাহিয়া বোকার মতো তাকিয়ে রইলো।

“ঘটনা কি হলো? নীল কে?”

জাইমা আরেক চোট হাসে। জেরিন একটু পর এসে বলে, “মহিলার আমাকে না, জাইমাকে ভালো লেগেছে ছেলের জন্য। আল্লাহ বাঁচায়ছে।”

জাইমা মুখ কুচকে ফেলে। কথা বলে খোঁজ নিলো রুমঝুমের, তাহিয়া এসে খবর জেরিনকে পছন্দ হয়েছে। এখন বলছে ওকে ভালো লাগে। পাগলের কারবার এরা! পরে অবশ্য শুনলো মহিলা ফারহানের খালা। আর জবা মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়ে আছে বলে নিষেধ করে দিয়েছে। জাইমা বোকা বনে যায় পুরোপুরি। এর আবার কোথায় বিয়ে ঠিক হয়েছে? নাকচ করবে করুক, উল্টাপাল্টা কথা বলে নাকচ করেছে কেনো? জাইমা আরেকটু হলেই স্ট্রোক করে বাসতো।

চলমান……..

{হ্যাপি রিডিং}

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here