বলো_কোন_প্রিয়_নামে_ডাকি #বোনাস_পর্ব

0
56

#বলো_কোন_প্রিয়_নামে_ডাকি
#বোনাস_পর্ব
#রুমঝুম_আরিফ_স্পেশাল
#সমৃদ্ধি_রিধী

হাসনাহেনা আরিফকে কলের উপর কল দিয়েছে। আরিফ রিসিভ না করায় এবার রুমঝুমকে কল দিয়েছে। রুমঝুম আরিফের দিকে তাকায়। আরিফ পকেটে হাত গুঁজে সামনের দিকে তাকিয়ে বলে,

“কে?”

“আর কে? খালামণি।”

“রিসিভ কর।”

“কি বলবো?”

“তোর খালা তোকে কেনো কল করেছে আর তুই কি বলবি তা আমি কি করে জানি?”

“আমাকে ফাঁসিয়ে দিলো সুন্দর করে।” বিড়বিড় করে কল রিসিভ করে।

“আসসালাম আলাইকুম।”

হাসনাহেনা ব্যতিব্যস্ত হয়ে বলে, “এই কোথায় তোরা? আরিফ কোথায়?”

রুমঝুম মিনমিন করে বলে, “এইতো পাশে।”

“কোথায় আছিস?”

রুমঝুম উত্তর দিলো না। হাসনাহেনা বলে, “আমি মাত্র বকুলকে ফোন দিয়েছি। ও বললো তোরা ওখানেও নেই। আছিস কোথায়?”

রুমঝুম উত্তর দিলো না। হাসনাহেনা বলে,

“বাজে কয়টা? সেই সকালে বের হয়েছিস, সন্ধ্যা পার হয়ে রাত নেমে এলো। এখনও বাসায় আসার নাম গন্ধ নেই। বাসায় আয় তাড়াতাড়ি।”

রুমঝুম সাগরের দিকে তাকায়। কক্সবাজার থেকে এখন তাড়াতাড়ি বাসায় যাবে কি করে? হাসনাহেনা ফের বলে,

“আধাঘন্টার মধ্যে বাসায় আয়।”

রুমঝুম মিনমিন করে বলে, “আধাঘন্টার মধ্যে আসতে পারবো না।”

“কেনো?”

রুমঝুম উত্তর দিলো না। হাসনাহেনা ফের প্রশ্ন করে,

“এই তোরা কোথায় রে? আরিফ আবার কি করেছে?”

“আমরা তো কক…”

আরিফ রুমঝুমের হাত থেকে ফোন নিয়ে নিলো।

“হ্যাঁ আম্মু বলো?”

হাসনাহেনা কি বললো রুমঝুম শুনতে পেলো না।

“এইতো কাইফ একটা পার্টির আয়োজন করেছিল। ওখানে এসেছি।”

“না। আজকে আসবো না। রাতে থাকার ব্যবস্থা আছে।”

“হ্যাঁ তো জার্সি পড়ে এসেছি তো কি হবে?”

“আল্লাহ হাফেজ। কালকে আসবো।”

রুমঝুমকে ওর মোবাইল এগিয়ে দিলো। রুমঝুম সাইড ব্যাগে মোবাইল ঢুকিয়ে বলে, “খালামণি কি বললো?”

“বাসায় চলে যেতে। রাতে কাইফ নামক কক্সবাজারে থাকতে হবে না।”

“বললে না কেনো আমরা কক্সবাজার?”

“সব বলতে হয় না।”

“এভাবেই তো না বলে যেখানে সেখানে চলে যাও। খালামণি কত টেনশন করে জানো?”

“আগে ছোটবেলায় যখন কাঁদতাম চলো ঘুরতে যাই। তখন নিতো না কেনো? আমি এখন তাই একা একাই ঘুরবো।”

“না জানিয়ে?”

“আমি বড় হয়েছি। এখনও সব বলতে হবে কেনো?”

“কালকেই ফিরে যাবে?”

“না। পরশু ফিরবো।”

“খালামণি টেনশন করবে না?”

“বলে দিবো কিছু একটা।”

“আসলেই তুমি ত্যাড়া।”

“নতুন মনে হয়?”

রুমঝুম উত্তর দিলো না। দশটায় ওকে নিয়ে আরিফ বেরিয়েছিল। আর্জেন্টিনার জার্সি পড়ে বেরিয়েছে, রুমঝুমও নরমাল থ্রিপিস পড়া ছিল। ওমাহ আরিফ লং ড্রাইভে যাওয়ার নাম করে ওকে নিয়ে সোজা এয়ারপোর্টে যায়। ওখান থেকে কক্সবাজার এসেছে। সাথে কিছু নেই। রুমঝুমের সাথে একটা সাইডব্যাগ। আর আরিফের কাঁধে ব্যাগ। মানুষ এভাবে বিয়ের পর কক্সবাজার আসে?

আরিফ রুমঝুমের হাত ধরে বলে, “কিরে? মুখ কালো করে আছো কেনো?”

“কক্সবাজারে এলাম, একটা প্রিপারেশন আছে না?”

“কিসের প্রিপারেশন? তোকে নিয়ে হানিমুনে এসেছি নাকি যে প্রিপারেশন লাগবে? আমি তো রিলাক্স করতে এসেছি।”

রুমঝুম আরিফের বাহুতে দুটো ঘুষি মেরে বসে। আরিফ হাত চেপে চাপা স্বরে বলে, “হাত পুরোপুরি ঠিক হয়নি আমার এখনও।”

আরিফের বাহুতে হাত ঘষে রুমঝুম বলে, “বেশি ব্যথা পেয়েছো?”

“না। কয়টা বাজে?”

“নয়টা বাজতে আর দশমিনিট বাকি।”

আরিফ রুমঝুমের হাত ধরে পানির সামনে যায়। রুমঝুম অবাক হয়ে বলে, “পানিতে নামবে নাকি?”

“না। পা ভিজাবো শুধু।”

আরিফ, রুমঝুম কিছুক্ষণ পা ভিজিয়ে হাঁটে। রুমঝুম একটু পর আচমকা আরিফকে পিছন থেকে ধাক্কা মেরে কয়েক পা পিছিয়ে যায়। আরিফ একটুর জন্য পানিতে পড়েনি। রুমঝুম হাসতে থাকে। আরিফ ঠোঁট কামড়ে রুমঝুমের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে ওকে ধাওয়া করে। রুমঝুম আরিফকে ওভাবে আসতে দেখে সাইড ব্যাগ মুঠো করে ধরে নিজেও দেয় দৌঁড়। আরিফ রুমঝুমের পিছনে আসতে আসতে চিল্লিয়ে চিল্লিয়ে বলে,

“তুই আমার সাথে পারবি রুমঝুমি? আমি ধরতে পারলে তোর খবর আছে কিন্তু।”

রুমঝুম হাসতে হাসতে সর্বশক্তি নিয়ে দৌঁড়াতে থাকে৷ কিছুক্ষণ গোল গোল করে ঘুরার পর একসময় আরিফ ওকে ধরেও ফেলে। দুজনেই হাঁপাতে থাকে। আরিফ রুমঝুমকে ধরে রেখেই বালুতে বসে পড়ে। ব্যঙ্গ করে আরিফ বলে,

“খুব লাভ হলো না দৌঁড় দিয়ে? আমি তো ধরতেই পারলাম না।”

“তোমার স্পিডের সাথে কি আমি পারবো নাকি?”

“তাহলে দৌঁড় দিলি কেনো?”

“এমনিতেই।”

“তুই আগেও দৌড়াদৌড়িতে আমার সাথে পারতি না। এখন তো আরো পারবি না।”

“নানুবাড়িতে কতকিছু খেলতাম তাই না? মজাই হতো।”

“হুহ।”

“জামায় বালু লেগে গেলো। এটা ছাড়া তো আর ড্রেসও নেই।”

আরিফ উঠে দাঁড়ায়। “হোটেলে চল আগে।”

রুমঝুমের দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়। আরিফের হাত ধরে রুমঝুম উঠে দাঁড়িয়ে জামা ঝেড়ে আরিফের প্যান্টের বালুও ঝেড়ে দেয়। আরিফ হোটেলের দিকে পা বাড়িয়ে বলে,

“ঘেমে যাওয়ায় জার্সি গায়ের সাথে লেপ্টে আছে। বিরক্ত লাগছে। গোসল করতে হবে।”

“ড্রেস এনেছো যে গোসল করে ওটা পরবে? নিজেও কিছু আনোনি, আমিও কিছুই আনলাম না।”

“এটা ধুয়ে দিয়ে গালি গায়ে ঘুরলেও আমার কি? শুকিয়ে গেলে আবার পড়া যাবে।”

“তাও ঠিক।”

একটা হোটেলে ঢুকতেই রুমঝুম বলে, “রুম এখন হঠাৎ এই রাতেবেলা গিয়ে জীবনেও পাবো না।”

“বুক করা আছে।”

অবাক হয়ে বলে, “কখন করেছো?”

“গতকালকে।”

“প্ল্যান তো সব আগে থেকেই। তাহলে আমাকে বললে না কেনো?”

“সারপ্রাইজ হতো তাহলে?”

“না।”

আরিফ রিসিপশনে কথা বলে চাবি নেয় রুমের। রুমঝুমের সামনে আসতেই রুমঝুম বলে, “খিদে লেগেছে। খেয়ে রুমে গেলে ভালো হতো না?”

“খাবার পাঠিয়ে দিবে।”

“আচ্ছা।”

দুজনেই লিফটে উঠে গেল। চারতলায় নেমে রুমে ঢুকতেই রুমঝুমের চোখ বিস্ময়ে বড় বড় হয়ে গিয়েছে। হানিমুন প্যাকেজ রুম। পুরো রুম গোলাপ দিয়ে সাজানো। রুমঝুম পুরো রুম হেঁটে দেখে। বিছানা, ফ্লোর, ডিভান, সেন্টার টেবিল সবকিছু ফুল দিয়ে সাজানো। আরিফের দিকে তাকায়। আরিফ দরজার লক লাগিয়ে ডিভানে বসে। পকেট থেকে মোবাইল বের করে কি যেন মনোযোগ সহকারে দেখতে থাকে। রুমঝুম খাটের একপাশে বসে। ফুলগুলো ধরে দেখতে থাকে। দু’টো হাঁসও আছে। হাসফাস করতে করতে রুমঝুম ওয়াশরুমে গেল। ওখানে একটা বাথটব আছে৷ সেটাতেও ফুল ছিটিয়ে রাখা। রুমঝুম মুখ ধুয়ে দ্রুত ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে যায়।

একটু পরেই খাবার দিয়ে গেলো। আরিফ হাত ধুয়ে এসে দুটো প্লেটে বিরিয়ানি সার্ভ করে রুমঝুমকে ডাকে। রুমঝুমও হাত ধুয়ে আসে।

আরিফ খেতে খেতে বলে, “বিয়ে যখন হয়েছেই এখন প্রপারলি সংসার করা উচিত।”

রুমঝুম ঢোক গিলে। কথা কোনদিন থেকে কোনদিকে যাচ্ছে! আরিফ ঠান্ডা গলায় বলে,

“দেখ বিয়েটা হয়েছে। মাঝে অনেক ঝামেলা টামেলা হয়েছে। প্রায় তিনমাস ধরে কাহিনিই হচ্ছে। আমি চাচ্ছি না আজকের পর থেকে এইসব কিছু হোক। একটা সুস্থ, ভালো, সুন্দর সংসার চাচ্ছি। বুঝেছো?”

রুমঝুম মাথা ঝাঁকায়। আরিফ বোরহানি গ্লাসে ঢেলে বলে,

“আমি এখানে হানিমুন টানিমুনে আসিনি। আমি এসেছি নিজেদের ঝামেলা মিটমাট করে সামনে এগোতে। দুজনেরই মাইন্ড রিলাক্স করা প্রয়োজন।”

রুমঝুম মাথা ঝাঁকায়। আরিফ দাঁতে দাঁত চেপে বলে,

“আরেকবার এভাবে মাথা ঝাঁকালে পাগলাগারদে রেখে আসবো। সারাদিন মাথা ঝাঁকাস বেয়াদব।”

রুমঝুম থতমত খায়। আরিফ বলে, “আমি খালামণিকে আম্মু টাম্মু ডাকতে পারবো না। আমার এত বছরের অভ্যাস।”

“আমিও। বড় খালামণিকে আম্মু ডাকতে হবে ভাবলেই হাসি পায়।”

“রিমিকে আমার বউয়ের বড় বোন হিসেবে সম্মান দিতে হবে এটা ভাবতে পারছি না। ওকে দেখলেই আমার এখনও মনে পড়ে ও আমার সব মেডেল, সার্টিফিকেট জানালা দিয়ে ফেলে দিয়েছিল। যার জন্য আম্মু পরে আমাকে পিটিয়েছিলো।”

“আমিও ইসরাত আপুকে ননদ হিসেবে ভাবতে পারি না। কেমন জানি লাগে।”

“ফারহানকে আমি কোনো ভায়রা টায়রা মানতে পারবো না। ও আমার ছোট বোনের জামাই, ছোট বোনের জামাই-ই থাকবে।”

“ইসরাত আপুর বাচ্চা যাতে আমাকে মামি না ডাকে। খালামণি ডাকবে বলে দিলাম। এইসব মামি টামি অন্তত প্রথম বাচ্চার ক্ষেত্রে হবো না। পরের আরেকটা হলে মামি ডাকুক গিয়ে। আগে খালামণি। মামিদের সাথে ভাগ্নি, ভাগিনাদের ঝামেলা থাকে। আমি তো ইসরাত আপুর ছেলে বা মেয়ের সাথে খোঁচাখুঁচির কথা ভাবতেই পারি না।”

“কিন্তু আমি তোকে বউ হিসেবে ভাবতে পারি। একজন হাসবেন্ড তার ওয়াইফকে নিয়ে যেমনটা চিন্তা করে আমিও তোকে নিয়ে ঠিক তেমনটাই চিন্তা করি।”

“আমিও…”

আরিফকে নকল করতে গিয়ে থেমে যায়। আরিফ রুমঝুমের দিকে তাকিয়ে বলে,

“আই নো। আমার ভাঙা হাতের সুযোগ নিয়ে যা যা করেছিস তুই আমাকে হাসবেন্ড হিসেবে ভাবিস আমি জানি।”

রুমঝুম মাথা নামিয়ে খাওয়ায় মনোযোগ দেয়। আরিফ বলে,

“অন্যদের সাথে আমাদের সম্পর্ক যেমনই হোক, আর দশটা হাসবেন্ড, ওয়াইফ যেমন থাকে আমরাও তেমন থাকবো। ওইযে মাঝেমধ্যে ভাইয়া ডেকে ন্যাকামি করবি না। দ্যান তুমি তো খালাতো ভাই, এডজাস্ট করতে কষ্ট হয় এইসবও বলতে পারবি না। এইসব ভাই টাই বাদ। জেনে বুঝেই প্রেম করেছিস।”

রুমঝুম শুনে গেলো। আরিফ ফের বলে,

“বিয়ে করেছি, কাছাকাছি আসবো সো বাচ্চাকাচ্চাও হবে। আমাকে মামা ডাকা শিখিয়ে দিয়ে প্র্যাঙ্ক করবি তাহলে এক থাপ্পড়ে গালের দাঁত এপাশ থেকে ওপাশে নিয়ে যাবো।”

রুমঝুম এঁটো হাতেরই নখ কামড়ায়৷ আরিফ ধমকে বলে,

“এই খবিশ এই! নখ খাচ্ছিস কেনো? তোকে খেতে দিচ্ছি না?”

“অভ্যাস।”

“দুনিয়ার সব ব্যাড হ্যাবিট সব আছে।”

রুমঝুম ভেংচি কাটে। আরিফ বলে,

“খা। তোর সাথে পরে কাজ আছে।”

“কি কাজ?”

“স্বামী-স্ত্রী মূলক কাজ। বিয়ের আড়াই মাস চলে রাইট?”

রুমঝুম জমে গেল। খাবার আর ঢুকলো না। কোনোমতে আর দুই লোকমা খেয়ে হাত ধুয়ে বারান্দায় চলে গেল।

রুমঝুমের এতবছর প্রেম করে, ভালোবাসি ভালোবাসি বুলি আওড়িয়ে তো ভালোই লেগেছে। আড়াই মাস আরিফের ভাঙা হাত নিয়েও থাকতে বেশ ভালো লেগেছে। একটু আধটু জড়িয়ে ধরা, হাত ধরা, কিস করা এই পর্যন্তই সব ভালো ছিল। কিন্তু এখন তো রুমঝুমের ভালো লাগছে না। রুমঝুম কপাল চাপড়ায়। কি অদ্ভুত! এমন করছে কেনো? আপন মনে নিজেকে বুঝ দেওয়ার সময় বারান্দায় গ্লাস টানার শব্দে রুমঝুম গুটিয়ে গেল।

আরিফ রুমঝুমের পাশে এসে দাঁড়ালো। রুমঝুম বাইরের দিকে তাকিয়ে রইলো। আরিফ গলা খাঁকারি দিয়ে বলে, “কি দেখছো?”

জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে রুমঝুম খাপছাড়া গলায় বলে,

“এমনিতেই। বাতাস এখানে..ভালো লাগছে।”

“রুমে চলো।”

রুমঝুমের গলা শুকিয়ে গেল। মনে করার ভান করে বলে,

“তুমি যে আমার ড্রেস আনোনি, আমার এখন ড্রেস করার প্রয়োজন। ড্রেস কোথায় পাবো আমি?”

“আমার ব্যাগে আছে।”

“নিয়ে এসেছো?”

“জ্বিইইই।”

“ব্যাগটায় ছিল?”

“জ্বি।”

রুমঝুম চলে আসতে নিলে আরিফ রুমঝুমের হাত টেনে আটকায়। রুমঝুম আরিফের দিকে তাকাতেই আরিফ বলে,

“পাঁচ মিনিট দাঁড়াও এখানে। ভালো লাগছে বাতাস অনেক।”

রুমঝুম মাথা ঝাঁকায়। আরিফ রুমঝুমকে আলতো করে জড়িয়ে ধরে। রুমঝুম বুক থেকে মাথা তুলে একটু পরে বলে,

“ঢেউর শব্দ শুনতে ভালোই লাগে না?”

“হুম।”

রুমঝুম আরিফের গলা জড়িয়ে ধরে রাখে। আরিফ একটু পর ওকে ছেড়ে দিয়ে বলে,

“ড্রেস পাল্টাও গিয়ে।”

রুমঝুম রুমে গিয়ে আরিফের ব্যাগের প্রথম চেইন খুলে দেখে ওখানে আরিফের দুটো টিশার্ট আর জিন্স। রুমঝুম মনে মনে ভেঙ্গায়। কিছু নাকি আনেনি। ব্যাগে কি আছে জানতে চাইলে বলেছে কাজের জিনিসপত্র। এগুলো কাজের জিনিসপত্র? রুমঝুম ওই চেইন আটকে আরেকটা চেইন খুলে। ওখানে রুমঝুমের দুটো শাড়ি ছিল। একটা নরমাল, স্কাই ব্লু রঙের। আরেকটা হলো সেই শাড়িটা যেটা বাসর রাতে আরিফকে জ্বালাতে পড়েছিল। সাথে সেই ব্লাউজটাও আছে।

রুমঝুম ওগুলো তড়িঘড়ি করে ব্যাগে ঢুকিয়ে ফেলতেই পিছন থেকে রাশভারি গলা শোনা গেল।

“ব্যাগে ঢুকালে কেনো? পড়বে এখন এটা।”

রুমঝুম আরিফের দিকে তাকিয়ে দুদিকে মাথা নেড়ে বলে,

“না।”

আরিফ রুমঝুমের মুখোমুখি চলে এলো। চোখে চোখ রেখে বলে, “পড়বে। আমি চাই তুমি এখন এটা পড়ো।”

রুমঝুম আরিফের দিকে তাকিয়ে রইলো। আরিফ আঙুল তাক করে বলে, “ওইযে ওয়াশরুম। আর হাতে শাড়ি। গো!”

রুমঝুম কেনো যেন আর নিষেধ করতে পারলো না। ঢোক গিলে ওয়াশরুমে চলে গেল। সময় আধাঘন্টা পেরুলেও রুমঝুম বের হয় না। আরিফ শেষ মোমবাতি জ্বালিয়ে দরজায় নক করে।

“রুমঝুমি?”

রুমঝুম দরজা খুললো। মাথা নত করে বাথরুম বের হয়। আরিফ রুমঝুমকে দেখে মনোযোগ দিয়ে। রুমঝুম রুমের চারদিকে একবার চোখ বুলায়। পুরো ঘর অন্ধকার। শুধু মোমবাতি জ্বলছে। আরিফ রুমঝুমের হাত টেনে ওকে নিজের সাথে জরিয়ে ধরে। বাঁকা হেসে বলে,

“লুকিং ভেরি গুড বেইব।”

“এইভাবে কথা বলছো কেনো? এইসব ঠিক না।”

“এখন হাত ঠিক হয়ে গিয়েছে জানেমান। কোথায় পালাবে? আমার ভাঙা হাতের সুযোগ নিয়ে আমাকে অনেক জ্বালিয়েছো।”

রুমঝুম আরিফের চোখের দিকে তাকায়। আরিফ রুমঝুমের গালে চুমু খায়। রুমঝুম সামনে থেকে চলে যেতে চাইলে আরিফ হাত ধরে আটকায়। রুমঝুম বলে,

“তোমার কেমন কেমন লাগছে না খালাতো বোনের সাথে এইসব করতে?”

“কেনো তোর কেমন কেমন লাগেনি খালাতো ভাইকে মেসেজ দিতে? তুই জানতি না এমন কিছু হবে? তুই বিয়ের পর যে ভাঙা হাতের সুযোগ নিয়ে বদমাশি করেছিস তখন জানতি না এমন কিছু হবে? আমি করলেই দোষ?”

রুমঝুম আরিফের বুকে ধাক্কা দিয়ে সরাতে চায়। কিন্তু আরিফ ওকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে বলে,

“পালাচ্ছিস কেনো? এই শাড়ি না আমার সামনে পড়তে কিনেছিস? এই ব্লাউজ না নিজে কাস্টম করেছিস? সব না আমার জন্য? ভাঙা হাতের সুযোগ নিয়ে না দুই তিনবার রং ঢং করলি ইচ্ছে করে? তাহলে এমন করছিস কেনো?”

রুমঝুম কি উত্তর দিবে? কিছুই দিলো না। আরিফ রুমঝুমের ঘাড়ে নাক ঘষে। রুমঝুম কেঁপে ওঠে। আরিফকে সরিয়ে দিতে চায়। আরিফ আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলে,

“বিয়ের তিনদিনের মাথায় যে গানটা গেয়েছিলি সেটা আবার গা তো।”

“কোনটা?”

“আমি জানি তোমার মনে পড়েছে। ফটাফট গাও।”

রুমঝুম চোখমুখ খিঁচে গাইলো, “আযা পিয়া তুঝে পেয়ার দু।”

কানের ডগায় চুমু খেয়ে বলে, “তারপর কিছুদিন আগে কোনটা গেয়েছিলে?”

কাঁপা গলায় বলে, “মনে নেই।”

“বিয়ের তিনদিনেরটা মনে আছে? আর কিছুদিন আগেরটা মনে নেই?”

রুমঝুম মাথা ঝাঁকায়। রুমঝুমের খোলা চুলগুলোকে একপাশে এনে কাঁধে ঠোঁট চেপে ধরে বলে,

“বলতে বলেছি না?”

“বাড়াবাড়ি করছো আমার সাথে।”

“তুমিও তো আমার ভাঙা হাতের সুযোগ নিয়ে বাড়াবাড়ি করেছো। শোধ তুলতে হবে না?”

রুমঝুম শাড়ি ধামচে ধরে। রুমঝুমের কোমরে হাত রেখে বলে, “বলো?”

“আঙ্গ লাগাদেরে মোহে রাঙ্গ লাগাদে রে!”

রুমঝুমকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলে, “কাপল ডান্সের শখ না ভীষণ?”

রুমঝুম উত্তর দিলো না। আরিফ রুমঝুমকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে বলে, “ডান্স করার সময় ওই খেচ্চরের সাথে লুইচ্চামি করেছি বলেছিলে না? এখন দেখাবো কাপল ডান্স করার সময় লুইচ্চামি করা কাকে বলে।”

আরিফ মোবাইলে জারা জারা গানটা চালু করে। রুমঝুম অবাক হয়। আরিফ রুমঝুমকে টেনে বুকে জড়িয়ে ধরে। কোমরে হাত রাখতেই রুমঝুম আরিফের পায়ের উপর দাঁড়ায়। আরিফ কতশত উল্টাপাল্টা কাজ করলো সেই হিসেব রুমঝুমের কাছে নেই। এই খালাতো জামাই যে ভীষণ ধড়িবাজ তা ও হাড়ে হাড়ে টের পেলো। রুমঝুম লজ্জায় লাল হলে গেলেও আরিফ দাম দিলো না। কানে ফিসফিস করে উল্টাপাল্টা কথা বলেই গিয়েছে।

গান শেষ হতেই আরিফ রুমঝুমকে কোলে তুলে নেয়। রুমঝুমের আরিফের চুল খামচে ধরে। রুমঝুমের পিঠ বিছানায় লেগে যেতেই রুমঝুম হাসফাস করে ফেলে। অর্ধেক ভর ছেড়ে দিয়ে আরিফ রুমঝুমের গালে ঠোঁট ছোঁয়ায়। গলার মুখ গুঁজতেই রুমঝুম জোরে হেসে উঠে। আরিফ কপাল কুচকে তাকায়। রুমঝুম হাসি থামিয়ে বলে,

“কাতুকুতু লাগে।”

আরিফ রুমঝুমের হাসি বন্ধ করে দিলো। পুনরায় গলায় মুখ গুঁজতেই রুমঝুম আবারও হেসে উঠে। আরিফ মহা বিরক্ত। রুমঝুমের পেটে হাত দিতেই রুমঝুম হাসতে হাসতে বলে,

“কাতুকুতু লাগে, কাতুকুতু লাগে। হাত সরাও।”

রুমঝুমের শাড়ির আঁচলে হাত দিতেই রুমঝুম বলে,

“আচ্ছা এই রুমে কি সিসিটিভি ক্যামেরা আছে?”

আরিফ বিরক্ত। ওর ধৈর্য নিয়ে খেলতে বোধহয় মেয়েটার ভালো লাগে। রুমঝুম বলে, “সিসিটিভি ক্যামেরায় তো চাইলেও সব দেখা যাবে না? এটা তো সেফ না তাহলে। কেউ রেকর্ড করে রাখলে? মান সম্মানের ব্যাপার।”

আরিফ রাগি চোখে তাকিয়ে থাকে। রুমঝুম বলে,

“ভেবো দেখো। সেফটি ফার্স্ট।”

আরিফ দাঁতে দাঁত চেপে রুমঝুমের দিকে তাকিয়েই রইলো। রুমঝুম হেসে আরিফের গলা জড়িয়ে ধরে। আরিফ রাগে রুমঝুমকে আর ধরলোই না। রুমঝুম হাসতে হাসতে আরিফের ঠোঁট ঠোঁট ছোঁয়ায়। আরিফ বুঝে ফেলে রুমঝুমের দুষ্টুমি। একহাতে রুমঝুমের দুহাত চেপে ধরে সত্যি সত্যই কাতুকুতু দেওয়া শুরু করে। শাড়িটা এমনিতেই পাতলা, রুমঝুমের ছটফটানিতে শাড়ির হাল আরো নাজেহাল হয়ে গেলো। আরিফ শেষরাতে রুমঝুমের কানে ফিসফিস করে বলে,

“সরি।”

“কেনো?”

“সেদিন তোকে মারার জন্য।”

“কোনদিন?”

“ওইযে গাড়িতে।”

রুমঝুম আরিফের গলা জড়িয়ে ধরে। “আরেহ ভুলেই গিয়েছিলাম আমি।”

“সরি এক্সেপ্ট করেছিস?”

“মামি বলেছে আমি সরি এক্সেপ্ট করলে সমাজে এইসব প্রোমোট করবো।”

“তো সরি এক্সেপ্ট করবি না?”

“একটা কাজ করলে করবো।”

“কি?”

রুমঝুম আরিফের কানে কানে বলল। আরিফ হাসে। রুমঝুমের হাতে চুমু খেয়ে বলে, “সরি।”

রুমঝুমের গালে চুমু খেয়ে বলে, “সরি।”

নাকে চুমু খেয়ে বলে, “সরি।”

চোখের পাতায় চুমু খেয়ে বলে, “সরি।”

এভাবে একশোটা চুমু দিয়ে একশোবার সরি বললো। আরিফ ঠোঁটে শেষ চুমু দিয়ে বলে, “হয়েছে? এক্সেপ্ট করলি?”

রুমঝুম আরিফকে জড়িয়ে ধরে হেসে উঠে। “নিব্বা-নিব্বি রে! আমরা ওদেরকেও হার মানিয়েছি।”

চলমান…..

(হ্যাপি রিডিং)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here