বলো_কোন_প্রিয়_নামে_ডাকি #সূচনা_পর্ব (২য় অংশ)

0
63

#বলো_কোন_প্রিয়_নামে_ডাকি
#সূচনা_পর্ব (২য় অংশ)
#সমৃদ্ধি_রিধী

খাওয়া দাওয়ার পর্ব শেষ হয়েছে আধঘন্টার মতো হবে। পুনমকে মাত্র বাসর ঘরে বসিয়ে রেখে ইসরাত, রিমি বেরিয়েছে। জেরিনরা একটু গাইগুই করছিলো। গেট ধরবে কিনা! ইসরাত সাফ সাফ বলে দিয়েছে নওশাদ দরকার হলে আজ ঘরেই ঢুকবে না, তবুও ওর মতো কিপ্টে লোক নাকি টাকা দিবে না। পুনম চারদিকে চোখ বোলায়। জানালার পাশে পড়ার টেবিল। দেওয়ালের সাথে খাট। পাশেই ড্রেসিংটেবিল। মুখোমুখি একটা মাঝারি সাইজের কাঠের ওয়ারড্রব। বুক সেলফ আছে একটা। হরেক রকমের বই রাখা তাকে।

সারাদিন শেষে পুনমের কান্না পেল হঠাৎ। অপরিচিত জায়গা, সব অপরিচিত মানুষ। পুনমের ভয় লাগছে। মানসিকভাবে প্রস্তুত নয় ও। বুক কাঁপছে রীতিমতো। ও মোবাইল নিয়ে সিরাতকে কল করে। সিরাত রিসিভ করে হু, হ্যালো কিছু বলার আগেই পুনম বলে,

“দোস্ত ওদের গ্রামের বাড়ি ফেনী। ওরা নোয়াখাইল্লা দোস্ত। বুঝতে পারছিস! নোয়াখাইল্লাদের মতো ভেজাইল্লা এই দুনিয়াতে আছে? আমি বাকি জীবন কিভাবে থাকবো! আমার পাগল পাগল লাগছে।”

সিরাত কনটেক্স বুঝে না। “কাদের কথা বলছিস?”

পুনম নিজেকে আর আটকাতে পারে না, কেঁদে দেয়। গত দুদিনের কাহিনি বলে। ওর মোবাইল জব্দ করা হয়েছিল সেটাও বলে। সিরাত খাপছাড়া গলায় বলে,

“তাই বলে বিয়ে দিয়ে দিবে? তোর বড় ভাই যে ইসলামের নাম দিয়ে এত উপদেশ দেয়; উনি জানেন না ইসলামে মেয়েদের মত ছাড়া বিয়ে হয় না?”

“মত তো আমি দিয়েছি। কিন্তু জেদ করে। আমি আর ফিরবো না ওখানে। কখনো না।”

কথা বলতে বলতে পুনমের হেঁচকি উঠে যায়। কাঁদতে কাঁদতে বলে, “দোস্ত আমাকে মামার মতো এক লোকের সাথে জোর করে বিয়ে দিয়ে দিয়েছে। লোকটার বড় বোনের ছেলে আমার চেয়ে বয়সে বড়। লোকটার বড় ভাগ্নীর বিয়ে হয়ে গিয়েছে। মেজো ভাগ্নির আক্দ হয়ে আছে। ছেলে বিদেশে থাকে। দেশে ফিরলেই বিয়ে। লোকটার বড় বোন আমার আম্মুর বয়সী হবে বোধহয়। লোকটার মা আমার দাদীর বয়সী তো হবেই। আম্মু, আব্বু, ভাইয়া কিভাবে পারলো আমার সাথে এমন করতে?”

সিরাত কথা বলতে ভুলে গেল বোধহয়। ঢোক গিলে জিজ্ঞাসা করে, “তোর হাসবেন্ডের বয়স কত দোস্ত? পঞ্চাশ না আরো বেশি?”

“পঞ্চাশ কেনো হবে? ত্রিশ শুনেছি।”

সিরাত ভ্রু কুচকে ফেলে। কপাল কুচকেই বলে,

“এটা তো বিয়ের জন্য পারফেক্ট বয়স। তোর সাথেও ঠিক আছে। সাত, আট বছরের গ্যাপ তোদের! তাহলে তোর মামার বয়সী হলো কি করে?”

“মামার বয়সী না! মামার মতো! লোকটার বড় বোনের ছেলে আমার বড়। ছোট ভাইয়ার চাইতে দু বা তিন বছরের ছোট হতে পারে। তো আমার আম্মুর বয়সী ওর বড় বোন হলে ওই মহিলার ভাই আমার মামার মতো না? আর নামও কি ব্যাকডেটেড জানিস? নওশাদ বিন নাসির! এটা কি নাম? পেশায় আবার নাকি প্রফেসর! আব্বারা এমন প্রোফেশনে চাকরি করে। ইয়াং কেউ এই প্রোফেশনে থাকে বল? তারপর ক্লিন সেইভ করা ছিলা মুরগি! আমার কিচ্ছু ভালো লাগেনি, কিচ্ছু না। আমাকে জোর করে বিয়ে দিয়েছে। বড় পাঁচটা বোনও আছে জানিস? আমায় নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরাবে। ছোট ভাইয়া ইচ্ছে করে এমন করেছে বুঝেছিস? নিজের ওই প্রেমিকাকে ঘরে তুলবে বলে আমাকে তাড়াহুড়ো করে এমন পরিবারে বিয়ে দিয়েছে। একেকজন কি বড় বড়! সমবয়সী কোনো ননদ নেই, কেউ নেই আছে সব আমার চেয়ে বয়সে বড় অথবা আমার সমবয়সী ভাগিনা ভাগনিরা! ব্যাকডেটেড পরিবার একটা! আমি ওই ছিলা মুরগির সাথে সংসার করবো না…”

পুনমের মুখ বন্ধ হয়ে গেল। নওশাদ ঠিক দরজার সামনে দাঁড়ানো। পুনম তাড়াতাড়ি করে কল কেটে দিলো। নওশাদ দরজা বন্ধ করে পুনমের ঠিক সামনে দাঁড়ালো। কঠোর মুখভঙ্গি নিয়ে পুনমের দিকে কঠিন চোখে তাকিয়ে আছে। কি শক্ত চাহনি! পুনম তাকিয়ে থাকতে পারলো না। মাথা নুইয়ে ফেলে। বুঝতে বাকি নেই লোকটা সব শুনেছে। নওশাদ গম্ভীর গলায় বলে,

“নামাজ পড়তে পারবেন? পারলে ওজু করে আসুন।”

পুনম তো ভেবেছিলো গালে ঠাটিয়ে একটা চড় মারবে। মারলো না দেখে অবাকই হলো! কিন্তু ওই পুনমের সমবয়সী ভাগ্নি কি যেন নাম! রুমঝুম যে বললো তাদের একমাত্র মামা ভীষণ রাগী! হুটহাট হাত উঠানোর স্বভাব আছে? বর সেজেও বিয়ে করতে যাওয়ার আগ মুহুর্তে নাকি সবচেয়ে ছোট ভাগ্নের গালে ঠাটিয়ে একটা চড় মেরেছে!

দরজায় ঠকঠক শব্দ হয়। নওশাদ পুনমের দিক থেকে চোখ সরিয়ে দরজা খোলে। ইসরাত পুনমের লাগেজ দিয়ে কি যেন বলে আবার চলে যায়। পুনম শুনতে পায়নি ওদের কথা। নওশাদ লাগেজ রুমে টেনে এনে ওয়ারড্রবের কাছে যায়। একটা লুঙ্গি বের করে। পুনম মনে মনে নাক ছিটকায়। নওশাদ যদি এখন লুঙ্গি পড়ে তাহলে পুনম এখানেই, ঘরের মাঝেই বমি করে দিবে। নওশাদ লুঙ্গি নিয়ে বেরিয়ে যায়। মিনিট দুয়েক পর এসে দরজা লাগিয়ে পুনমের দিকে তাকিয়ে বলে,

“ঘুমিয়ে পড়ুন যান।”

বলে ওয়ারড্রব থেকে টিশার্ট, টাউজার বের করে। পুনম অত্যন্ত ক্ষীণ কণ্ঠে বলে,

“নামাজ?”

নওশাদ ঘাড় বাঁকিয়ে তাকায়। “ওজু করে আসেননি কেনো?”

পুনমের জবাব না পেয়ে বলে, “আমি বের হওয়ার পর ফ্রেশ হয়ে আসবেন।”

নওশাদ ওয়াশরুমে চলে গেল। পুনম লাগেজ খোলে। নিশা গুছিয়ে দিয়েছিলো। একটা থ্রী পিস নিয়ে ওয়াশরুমের দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে। পনেরো থেকে বিশ মিনিট পর নওশাদ নেভি ব্লু রঙের টিশার্ট, কালো রঙের টাউজার পড়ে বের হয়। গোসল করেছে, শ্যাম্পুর ঘ্রাণ নাকে লাগছে পুনমের। পুনম হাফ ছাড়ে। যাক লুঙ্গি পড়েনি।

পুনম ওয়াশরুমে ঢুকে দরজা লাগায়। জোরে জোরে নাক টেনে ঘ্রাণ নিতে থাকে। পুনম এতদিন জানতো ছেলেরা লাক্স সাবান দিয়েই সব কাজ চালায়। ওদের আলাদা ফেইসওয়াশ, শ্যাম্পু লাগে না। কিন্তু নওশাদের আলাদা ম্যান শ্যাম্পু, ফেইসওয়াশ আছে। শ্যাম্পুটার ঘ্রাণ খুব সুন্দর। পুনম একদিন লুকিয়ে এই শ্যাম্পু ইউজ করবেই। ম্যান শ্যাম্পু তাতে কি! পুনম এটা একদিন ইউজ করবেই করবে। পুনম ফ্রেশ হয়ে ওজু করে বের হয়। দুজনে নামাজ পড়ে নেয়।

নওশাদ জায়নামাজ জায়গা মতো রাখে। পুনম দাঁড়িয়ে মেঝেতে আঙুল দিয়ে আঁকাআকি করছে। নওশাদ গম্ভীর গলায় বলে, “ঘুমিয়ে পড়ুন।”

পুনম চোখ তুলে তাকায়। নওশাদ খাটের ফুলগুলো ঝেড়ে ফেলে দেয়। মেঝে থেকে নিয়ে বেলচায় তুলে মেঝের ফুল, বিছানার ফুল সব বিনে ফেলে। পুনম দেখে পরিপাটি মানবটিকে। পুনমও অগোছালো নয়, নওশাদও পরিপাটি। ব্যাপারটা ওর ভালো লেগেছে। নওশাদ মোবাইল নিয়ে খাটে বসে। সময় দেখে।

“শুয়ে পড়ছেন না কেনো?”

“কোন দিকে ঘুমাবো?”

“দেওয়ালের দিকে যান।”

পুনম উঠে দেওয়ালের সাথে চেপে শুয়ে পড়ে। নওশাদ কাঁথা এগিয়ে দেয়। পুনম কাঁথা দিয়ে নিজেকে পুরো প্যাঁচিয়ে নওশাদের দিকে পিঠ দিয়ে শুয়ে পড়ে। ঠোঁটে ঠোঁট চেপে শুয়ে আছে। যদি লোকটা সুযোগ নেয়! যদি পুনমের মতামতকে দাম না দেয়! পুনম আটকাতেও পারবে না। আবার জোরে করলেও এইসব লজ্জার কথা কাউকে বলতেও পারবে না। চোখে পানি চিকচিক করছে ওর।

নওশাদ কিছুক্ষণ পর লাইট নিভিয়ে টান টান হয়ে শুয়ে পড়ে। “ঘুমিয়ে পড়েছেন?”

পুনম নওশাদের দিকে ফিরে না। গলা দিয়ে শব্দ হতে চায় না যেন, তবুও জোর খাটিয়ে বলে, “উহু।”

“বিয়ে করার ইচ্ছা না থাকলে করেছেন কেনো?”

পুনম ঠিক ধরেছিলো। নওশাদ সব শুনেছে। ক্ষীণ স্বরে সত্যিটাই বলে, “জেদ করে।”

“সংসার তো করতে চান না। পরশু আপনাদের বাসায় গেলে আর এখানে আসতে হবে না।”

“আমি ওখানে যাবো না।”

নওশাদ শক্ত গলায় বলে, “তাহলে এখানে থেকে কি করবেন? আপনি তো সংসার করতে চান না। সংসার না করতে চাইলে আপানাকে রেখে লাভ কি? আমি বিয়ে করেছি সংসার করতে, পুতুলের মতো সং সেজে থাকতে নয়। আমি সিনেমার ডায়ালগ দেবো না- “আপনি আপনার মতো থাকবেন, আমি আমার মতো থাকবো।” আর দশটা পুরুষমানুষ যেভাবে সংসার করে, আমিও ঠিক সেভাবেই সংসার করবো।”

“আমি কি বলেছি আমি এখানে থাকবো না? সংসার করবো না?”

“মন থেকে না মানলে কিছুই ভালো হয় না। আমি জোরজবরদস্তি চাই না।”

পুনম চুপ করে থাকে। নওশাদ নিজের মতো বলে,

“আপনি প্রথমত মন থেকে রাজি নন, আপনি আপনার পরিবারের সাথে জেদ করে বিয়ে করেছেন। এখনও জেদ করেই টিকে আছেন, কিন্তু দুদিন পর টিকে থাকবেন না। আমিও আজ ছাড় দিয়েছি, দুদিন পর দিবো না। তখন কোলাহল হবে, অশান্তি হবে। আমি চাই না এমন কিছু হোক। সময় থাকতে থাকতেই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিন।”

পুনমের বুক এতটাই জোরে ধুকধুক করছে ও নিজের হৃদসম্পদন নিজেই শুনতে পারছে। নওশাদ বলে,

“আপনাকে দুটো অপশন দেওয়া হলো। এক. সংসার করবেন না। সব ডিসমিস। পরশু গেলে আর আসতে হবে না। ডিভোর্সের ব্যবস্থা করা হবে।

দুই. যদি আসেন তাহলে আপনাকে সংসার করতে হবে। কঠিনভাবে পুরোদমে সংসার করতে হবে। ওখানে জোরজবরদস্তি, স্বৈরাচারিতা, রাগ, অভিমান, ভালোবাসা, সব থাকবে। আপনার আর আমার মধ্যে যা হবে সব চার দেওয়ালের মধ্যে থাকবে। এখন সেটা ভালোবাসাই হোক বা রাগ- অভিমান হোক। আপনার আগামী জীবন আপনার হাতে। উত্তরটা খুব সোজা। হ্যাঁ অথবা না। আমি কারো জেদ বয়ে বেরাবো না। আপনাকে কোনো কিছু নিয়ে দোষারোপও করবো না।”

নওশাদ এমনভাবে এতক্ষণ কথা বলেছে পুনম খেই হারিয়ে ফেলে। খাপছাড়া গলায় ক্ষীণ কণ্ঠে বলে,

“আমি পড়াশোনা কমপ্লিট করে, নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে চলে যাবো। তখন আপনি আরেকটা বিয়ে কইরেন, নতুন বউয়ের সাথে সংসার কইরেন।”

“পড়াশোনা করতে যে টাকা লাগে ওটা? ভাইদের কাছ থেকে খরচ নিবেন?”

“কেনো? আপনি দিবেন?”

নওশাদ কেমন করে যেন হাসে। “আমাকে আরেকটা বিয়ে যদি করতে হয়, তবে করলাম। সমস্যা নেই। কিন্তু আমাকে যদি আরেকটা বিয়ে করতেই হয় তাহলে আমি আপনার পিছনে টাকা খরচ করবো কেনো? আমার টাকায় পড়াশোনায় করে সাবলম্বী হয়ে আমাকে ডিভোর্স দেওয়ার জন্য?”

পুনমের বুক ধকধক করে উঠে। “আমি শোধ করে দিবো সব টাকা চাকরি পেলে।”

“চাকরির বাজার নিয়ে কোনো আইডিয়া আছে? যদি চাকরি না পান? আমি আমার এত কষ্টে ইনকাম করা টাকা খরচ করবো কেনো? আমার টাকাগুলো লস প্রোডাক্টে যাবেই বা কেনো!”

“এমনি করতেন না খরচ?”

“এমনি অবশ্যই করতাম। এখন এমনির সাথে তো ওমনির সম্পর্ক নেই। আপনার সাথে আমার ভবিষ্যৎ নেই। যেখানে ভবিষ্যৎ নেই, ওখানে খামোখা খরচ করতে যাবো কেনো?”

“আমি তো বলিনি আমি চলে যাবো! আপনি আমাকে জোর করে এটা বলাচ্ছেন।”

“আমি তো আপনার বলা কথাই পুনরায় আপনাকে দিয়ে বলাচ্ছি। এভাবে হয় না, অন্তত জেদের বশে সংসার হয় না।” নওশাদ তেজ নিয়ে বলে।

পুনম কিছু বলে না। নওশাদ উঠে বসে। বলে, “আর আমি প্রফেসর নই। এখনও ওই পর্যায়ে যেতে পারিনি। আমি লেকচারার। প্রফেশনটা অন্তত জানতে পারতেন! ওহ জানবেন কি করে! বিয়েতে তো মতই ছিল না।”

নওশাদ বিছানা থেকে নামে। তা টের পেয়ে পুনম ঘাড় বাঁকিয়ে তাকায়। নওশাদ দরজার দিকে যাচ্ছে। পুনম ঘাবড়ে যায়। এই রাতে সালিশ বসাবে নাকি! নওশাদ দরজার ছিটকিনিতে হাত দিয়ে সুইচবোর্ডে টিপ দিয়ে লাইট জ্বালিয়ে সাথে সাথে দরজা খোলে। দরজার ওপাশ থেকে হুড়মুড়িয়ে ইসরাত, রিমি, রুমঝুম, জাইমা, জেরিন, তাহিয়া সবাই মেঝেতে পড়ে। সবাই মুখ কুচকে ফেলে। পুনম তড়িঘড়ি করে উঠে বসে। সাথে সাথে বারান্দা থেকে “আশিক বানায়া আপনে” গান বেজে উঠে। পুনম চোখ বড় বড় করে ফেলে।

নওশাদ দাঁতে দাঁত চেপে বাজখাঁই গলায় ধমক দিয়ে বলে,

“এই গান বাজছে কোথা থেকে?”

রুমঝুম ঢোক গিলে। “আরিফ ভাইয়া, মাহতাব ভাইয়া, মাহাদী ভাইয়া, মুমিন, জিসান, তিহান, তুহিন ছাদ থেকে শাড়ি ফেলেছে।”

“গান কোথা থেকে বাজছে?” নওশাদ উচ্চস্বরে বলে। সবাই কেঁপে ওঠে। এমনকি পুনমও। নওশাদ রেগে লাল হয়ে আছে। “তোদের কাছে শাড়ির কথা জানতে চেয়েছি?”

“শাড়িতে বোতলের মতো ছোট্ট একটা সাউন্ডবক্স প্যাঁচিয়ে বারান্দার সামনে ফেলেছে। ওখান থেকেই গান বাজছে।”

নওশাদ রেগে মুষ্টিবদ্ধ করে ফেলে। পুনম নওশাদের হাতের দিকে একবার তাকায়। আবার মুখের দিকে তাকায়। ঢোক গিলে। না বলে দিবে ও। ভাইদের মাইর খাবে, ভাবির চামচা হয়ে থাকবে, ভাবির সব কাজ করে দিবে, বাসায় বাসায় কাজের বুয়ার কাজ করবে তাও এর সাথে সংসার করবে না। নওশাদ রেগে বলে,

“উঠ, সবগুলো উঠ। ছাদে যাবো এখন। তোরাও যাবি। ছাদের গুলোরও হচ্ছে, তোদেরও হচ্ছে। সবগুলোর বেয়াদবি যদি না ছুটিয়েছি আমি!”

ইসরাত ঢোক গিলে উঠে বসে। জাইমা মিনমিন করে পুনমের দিকে তাকিয়ে বলে,

“মামি তুমি কিছু বলো?”

একে তো ওই মেয়েকে জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়েছে, মেয়ের সংসার করার ইচ্ছে নেই–এইসবে নওশাদের মেজাজ এমনিতেই চটে আছে; তারউপর জাইমার মিনমিনে কথা শুনে নওশাদের মেজাজ আরো গরম হয়ে গেল। রাগ সপ্তম আকাশ ছুঁয়েছে যেন। গলার স্বর চওড়া করে বলে,

“কি বলবে তোদের মামি? আমার যা করার আমি করবোই। আমাকে নিষেধ করলে আমি শুনবো? স্পর্ধা দেখে অবাক হচ্ছি আমি! সাহস কত বড় হলে মামিকে কিছু বলতে বলে! তোদের মামির কথা শুনে তোদের মতো বেয়াদবকে ছেড়ে দিবো আমি? তোদের মামির কথা শুনে উঠবস করবো এখন আমি?”

তক্ষুনি গান বেজে উঠলো। “ওও টুনির মা তোমার টুনি কথা শুনে না, যার তার লাগে ডেটিং মারে আমায় চিনে না।”

ওই গান বন্ধ হয়ে নতুন গান বাজা শুরু হলে পুনমসহ ওরাও চোখমুখ খিঁচে ফেলে। আর নওশাদ! ও সবগুলোকে এখন সিরিয়ালে দাঁড় করিয়ে থাপ্পড় দিবে।

“তুমি এত পাগল হইছো কেনো পাইয়া আমারে, বাড়াবাড়ি করো যদি থাকবো না ঘরে।”

চলমান….

(হ্যাপি রিডিং)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here