#আমার_বোবাফুল(১৯)
#তৃপ্তি_এহসান_নাওরা
‘শিকদার নিবাস’ এর সামনে গাড়ি থামতেই নিঃশব্দে নেমে এলো সুখ।কলেজ থেকে এই পর্যন্ত আসার ফাঁকে চুপচাপ ছিলো পুরোটা সময়।যা বর্ণকে বেশ পিড়া দিয়েছে।যদিও মাহিরের দু একটা কথার জবাব সুখ ইশারায় দিয়েছিলো। কিন্তু বর্ণ’র দিকে ফিরেও চায়নি।যা মেজাজে স্ফুলিঙ্গ উতলে পড়তে আরো সাহায্য করেছে।সুখের গতি পথের দিকে তাকিয়েই হাত মুষ্টিবদ্ধ করে বর্ণ গম্ভীর গলায় বললো,
“ গাড়ি স্ট্যার্ট কর মাহির!”
“ আমরা এখন কোথায় যাবো বস?”
নাজুক চোখে তাকিয়ে প্রশ্ন করে সে। গন্তব্য কোথায় না জেনে গাড়ি চালানো যায়?বর্ণ দাঁতে দাঁত নিষ্পেষিত করে জবাব দেয়,
“ জাহান্নামে!”
“ কিন্তু তার জন্য তো মরতে হবে!”
তড়িৎ প্রত্যুত্তর করার পরপরই জিভ কাটে মাহির। ঢোক গিলে শুষ্ক। অবিলম্বে তার দিকে তড়াক করে ফিরলো বর্ণ।চোখের তারায় আগ্নেয়গিরির লাভা আঁচড়ে পড়ছে যেনো।এখনি মাহিরকে ভষ্ম করে দিবে।আমতা আমতা করে স্ট্রেয়ারিং-য়ে হাত চালাতে চালাতে মাহির বলে উঠে,
“ স্যরি.. স্যরি ভাই! এখনি গাড়ি ঘুরাচ্ছি!”
→
এক লম্বা শাওয়ার। এরপরই বাথরুম থেকে বের হলো সুখ। এবার একটু শান্তি শান্তি লাগছে শরীরটা। এতোক্ষণ মনে হচ্ছিল আগুনের মধ্যস্থে অবস্থান করছিল সে। যদিও গাড়িতে এসি ছিল কিন্তু দূর আকাশের সূর্য রশ্মির তাপমাত্রা তীক্ষ হওয়ায় বাতাসেও গরমের ভাপ লেগেছে। কেননা ডোরের কাঁচ খোলা ছিল তখন।বাহিরের আবহাওয়া বেশ ভালো ভাবেই প্রবেশ করেছে অভ্যন্তরে।
বর্ণ একবার কঠোর গলায় কাঁচ তুলে দিতে আদেশ করেছিল।রসকষহীন গলায় আদেশ জারি করেছে তাই সুখ কানে তুলার প্রয়োজন বোধ করেনি। কিন্তু ভয়ে ছিল এই বুঝি গাড়ি থামিয়ে বলবে,
“ এখনি নেমে যা আমার গাড়ি থেকে। তোকে নিয়ে আর এক মিটার দূরত্বও যাওয়া সম্ভব নয়!”
ভাগ্যিস বলেনি।বললেও বা কী? প্রতিবাদ না করে সে নিঃশব্দে নেমে যেতো। তখন নিজেই আবার পিছু নিয়ে তাকে গাড়িতে তুলার জন্য কানের কাছে ঘ্যানঘ্যান করতো। সুখের দৃঢ় বিশ্বাস আছে বর্ণ নামিয়ে দেওয়ার পর পুণরায় গাড়িতে উঠার জন্য ধমকের নামে ঘ্যানঘ্যান-ই করতো।সে খুব ভালো মতোনই বর্ণকে চেনে! পুরুষটিকে ভালোবাসে কী না! ভালোবাসার মানুষের আদ্যোপান্ত আয়ত্ত করে না নিলে হয়?
আয়নায় সামনে দাঁড়িয়ে চুল মুছতে মুছতে দরজার দিকে নজর দিলো সুখ।নূরা দাঁড়িয়ে আছে মুখ গুঁজ করে। সাহসা কপাল কুঁচকে এলো। ইশারায় জিজ্ঞেস করে,
“ কিছু হয়েছে?”
নূরা সজোরে উপর নিচ মাথা ঝাঁকালো। তাওয়াল ব্যালকনিতে মেলে দিয়ে সুখ পুণরায় রুমে ফিরে আসে।নূরার হাত ধরে টেনে নিয়ে বেডে বসিয়ে দেয়। জানতে চাইলো,
“ কী ব্যাপার?”
“ জানো সুখ,আমি খুব বাজে ভাবে হেরেছি আজ! লজ্জায় এই মুখ কাকে দেখাবো ভাবছি?”
তার বলার ধরন দেখে ঠোঁট টিপে হেসে ফেললো সুখ। পরপর নূরা আহত চোখে চাইতেই ঠোঁটের হাসি গায়েব করে তার দুঃখে দুঃখী হওয়ার ভান করে,
“ কীভাবে হেরেছো?”
“ তোমার ওই চিটার দাদু আমার সাথে লুডু খেলায় চিট করেছে। ট্রাস্ট মি! প্রায়ই হারতে হারতে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে, না?তাই ভুল পথ বেছে নিয়েছে এবার!”
শেষের দুটো বাক্য শুনে হাসি থামাতে পারলো না সুখ।ধপ করে বেডে বসে নূরার বাহুতে বাহু চেপে খিলখিলিয়ে মৃদু শব্দে হেসে উঠলো।নূরা পিটপিট করে চেয়ে রয় ঠোঁট উল্টেপাল্টে।হাসলে সুখকে ভীষণ সুন্দর লাগে। ঠোঁটের সাথে সাথে চোখ দুটোও চঞ্চল হয়ে ওঠে।একপেশে হাসছে সুখ, তাই টোল পড়েছে সেই পাশে।
সুখ ফোন হাতে নিলো।লিখলো,
“ থাকনা..বুড়ো মানুষ! বাচ্চা ভেবে মাফ করে দাও। তুমিই তো বললে দাদু প্রায়শই হেরে যায়?বার বার হেরে গিয়ে মাঝে মধ্যে উইনার হতে কে না চায় বলো?”
নূরা ফোনে চোখ ডুবিয়ে বিড়বিড় করে লেখাটা পড়ে চোখ তুলে বললো,
“ আমি ভয়ে আছি অন্য ব্যাপারে।আজকে যেই দু নম্বরি করে জিতে গেলো পরের বার যদি একই ট্রিক্স এ্যাপ্লাই করে? তখন তো বার বার আমিই হেরে যাবো!তাই না?”
সুখের জানতে কোতুহল জাগে দাদু কীভাবে চিট করেছে!প্রশ্ন করতেই নূরা মুখ কুঁচকে জবাব দেয়,
“ আমি একটু এদিক ওদিক তাকিয়েছি ওমনিই দাদু দু দুটো কাঁচা গুটি পাকা ঘরে ঢুকিয়ে দিলো। সত্যি বলছি.. তার একটু আগেই ওই দুটো দাদুর ঘরের স্টপে ছিল!ভাবা যায় বুড়িটা কতো বড় চিটার”
“ বুড়ি বলতে নেই.. দাদু বকবে!!”
“ একশো বার বলবো.. বুড়ি! বুড়ি! বুড়ি!”
“ তোমার ফোনটা দাও!”
বেডে পা গুটিয়ে বসে সুখ সন্দিহান চোখে গালে হাত দিয়ে নূরার দিকে চাইলো। ভ্রু নাচিয়ে ইশারায় জানতে চাইলো,
“ দুঃখের কথা শেয়ার করতে এসেছিলে?নাকি সেটা ফোনের কাছাকাছি আসার অযুহাত মাত্র!”
নূরা নড়েচড়ে বসে।সুখের হাতে থাকা ফোন আচমকা ছোঁ মেরে নিজের আয়ত্তে এনে চুল উড়িয়ে দম্ভ নিয়ে বললো,
“ এক ঢিলে দুই পাখি!”
→
সময় চলে সময়ের গতিতে।সে কারো জন্য থেমে থাকে না। কেটে গেলো আরো কিছুদিন।মাঝের দিনগুলোতে সুখ যত পারে তত এড়িয়ে যেতে চেয়েছে বর্ণকে।
কিন্তু বর্ণ?সেতো সুখের মাঝে ফেঁসেছে নিজের অজান্তেই।এই নতুন সুখকে সে বরদাস্ত করতে পারছে না।বাড়িতে যতোক্ষণ থাকে মনে হয় আশেপাশে কিছু একটা নেই।হৃদয়টা যেনো খালি খালি। হঠাৎ একঝলক সুখের দেখা ফেলে আবার মনে হয় -এই তো অন্তঃকরণে প্রশান্তিরা ডানা মেলে উড়ছে। কিন্তু এমন কেনো হয়?সঠিক কারণটা আজো খুঁজে পায়নি বর্ণ! অথবা সে খুঁজতেই চাইছে না।
সময়টা এখন পড়ন্ত বিকেলের। সূর্য ধীরলয়ে হেলে পড়ছে পশ্চিম আকাশে। মৃদু মন্দ হাওয়ায় পাখির কিচিমিছি শব্দ মিলেমিশে একাকার।
বর্ণ হাত পা ছড়িয়ে বসে আছে তার রুমের ব্যালকনিতে।পড়নে হাতা কাটা কালো গেঞ্জি। সিল্কি চুল আঁচড়ে এসে কপালের অর্ধেকাংশ ঢেকে গেছে।পায়ের কাছে ছোট টুলে পড়ে আছে হেড ফোন।পাশে হেলান দিয়ে রয়েছে শখের গিটার। গিটারে যেনো আজকাল সুর উঠেনা সহজে।মনে হয় তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে।খানিক আগে গিটারে টুং টাং শব্দ তুলে গান ধরেছিল বরাবরের মতো।
বাড়ি থাকা কালীন বিকেলের এই সময়টায় গিটার নিয়ে এখানে বসতো সে।তবে যেদিন থেকে গুটিসুটি পায়ে সুখ এসে সামনে বসে না তবে থেকেই কমে এসেছে এই অভ্যাস।হয়তো সুখ আসে না বলে।অথবা অন্য কোন কারণে।
কোলের উপর ডায়রি মেলে –কোনো এক পাতায় কলম ঘঁষে যাচ্ছে বর্ণ।কপাল মাত্রাতিরিক্ত কুঁচকে আছে।ফলে চোখের মণি দুটোও ঢেকে গেছে।দূর থেকে দেখলে মনে হবে -সে এখন চোখ বুজে আছে।
নিম্নাষ্ঠ কামড়ে এক ভ্রু উঁচিয়ে নিজের লেখাগুলোতে বার কয়েক নজর বুলিয়ে নেয় বর্ণ। পরপর নাক সিঁটকায়।
আচমকা একটানে ডায়েরি থেকে পৃষ্ঠা আলাদা করে নিলো।আরো একবার লেখাগুলোতে চোখ হাঁটিয়ে ছুঁড়ে মারলো দিক শূন্যে। হাওয়ার দাপটে খোলা পৃষ্ঠা ব্যালকনি থেকে উড়ে চলে গেলো বেনামি গন্তব্যে।
বর্ণর খেয়াল সেদিকে নেই।এক প্রান্তে ডায়েরি-কলম দুটোই ছুড়ে মেরে কপালে হাত দিয়ে চোখ বুজলো সে।মাথাটা ঝিম মেরে আছে।হেড ফোনের পাশে থাকা কফির মগ। এতোক্ষণে হয়তো ঠান্ডা বরফে রুপান্তরিত হয়েছে।
মুখ থেকে ‘চ’ বাচক শব্দ বের করে বর্ণ। বিরক্তিকর ঠেকছে সবকিছু। ভাঙচুর করতে ইচ্ছে করছে,র/ক্ত দেখার পিপাসা পেয়েছে। এলোমেলো পা ফেলে ত্রস্ত রুমে চলে এলো সে। ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ার হাতড়ে ইনজেকশন সিরিঞ্জ বের করে বাঁ হাতে পুশ করে ধীরে ধীরে নিঃশ্বাস ত্যাগ করে।খানিক পর অস্থিরতা কমে আসতেই চোখ বুজে গা এলিয়ে দেয় বেডে।
→
বর্ণ’র রুমের ব্যালকনির উত্তর কোণ থেকে উঁকি দিলে সুইমিং পুল লক্ষ্য করা যায়।এই মূহুর্তে সে যদি উঁকি দিতো –নিঃসন্দেহে পুলে পা ভিজিয়ে বসে থাকা সুখকে চোখে পড়তো ।
সুখের ঠোঁটে খেলা করছে মৃদু হাসি।পড়নের প্লাজু কিঞ্চিৎ উপরে তুলে পা দুটো পুলে ভিজিয়ে নড়াচড়া করছে। হাওয়ায় ছেড়ে রাখা চুল উড়ে চলে এলোমেলো।সময় সময় সেসব কানের পিঠে গুঁজে দিচ্ছে সুখ।
নজর নিবদ্ধ রয়েছে পায়ের দিকে।পায়ের গোড়ালিতে আটকে থাকা রূপার পায়েল দুটো আকর্ষণীয় দেখাচ্ছে পুলের কালচে সবুজ পানিতে।
গালের ডানপাশে কিছু একটা উড়ে আসতেই ধ্যানাচ্যুত হয়।চকিতে হাত উঠে এলো গালে।একটা কাগজ।কোতুহল বশত সেটা চোখের সামনে তুলে ধরে পিটপিট চোখে তাকায় সুখ।
যে তোমায় ভালোবাসে..
_তাকে দুঃখ দাও”
_তাকে দাও গভীর যাতনা”
_দাও তাকে সহস্র বছরের..
জমানো অনিদ্রার রাত”
“ অগোচরে,
যে তোমার দিকে মুগ্ধতা নিয়ে তাকিয়ে রয়”
_চোখে তার এনে দাও নিঃশব্দ আর্তনাদ,
অঝোর জল”
“তোমায় ভালোবাসার অপরাধে
_ভেঙেচুরে দাও তার অন্তঃস্থল”
“শাস্তি হিসেবে..
_তার হৃদয় করে দাও নিষ্প্রাণ”
_যেনো সে কখনোই কাউকে..
ভালোবেসার স্পর্ধা না দেখায়”
(কিছু কথা সংগৃহীত)
পৃষ্ঠায় লেখা প্রতিটি শব্দে নিঃশ্বাস আটকে আসছিলো তার। হৃদযন্ত্র ছটফট করছিলো তৃষ্ণায়।
সুখের শ্বাস প্রশ্বাস বৃদ্ধি পায়। ভেতরটা যেনো হুঁ হুঁ করে উঠলো।
আলগোছে লেখাগুলোয় হাত বুলিয়ে দেয় সুখ।এই টানা টানা লেখাগুলো তার খুব চেনা। ভীষণ চেনা।এই দারুন লেখাগুলোর অনুকরণ করতে সে বার বার চেষ্টা করতো একসময়। প্রতিবার ব্যর্থ হয়ে হাল ছেড়ে দিয়েছিল একদিন।
সুখ ঘাড় বাঁকিয়ে বর্ণ’র ব্যালকনির দিকে চাইলো।কেউ নেই ওখানে। লেখাগুলো সুখ পুণরায় মনোযোগ দিয়ে পড়তে লাগল।এই কথাগুলো কাকে নিয়ে হতে পারে?প্রতিটি কথা তো তার সাথেই মিলে যাচ্ছে!
কাগজটা যেভাবে বেখেয়ালে হঠাৎ উড়ে এসেছিল সেভাবে ছেড়ে দিতে গিয়ে সুখের হাত থমকে যায়। লেখাগুলো নিজের কাছে যত্ন করে গচ্ছিত রাখার ইচ্ছে জাগে।
কাগজটি ভাঁজ করে হাতের মুঠোয় পুরে সুখ উঠে দাঁড়ায় ত্রস্ত। শরীরে কাঁপুনি অনুভব হয় মৃদু হারে। হৃদয় তখন অশান্ত।এই মূহুর্তে খোলা আকাশের নিচে বসে থাকা দায়।
উল্টো পথে পা বাড়াতে গিয়ে তামিজ শিকদারের মুখোমুখি হয়। ভদ্রলোক মেয়েকে সঙ্গ দিতে এসেছিলেন।সুখকে উঠে যেতে দেখে সহাস্যে জিজ্ঞেস করলেন,
“ উঠে যাচ্ছো কেনো আম্মু?”
সুখ ঠোঁট এলিয়ে হাসার চেষ্টা করে। এদিক ওদিক নজর ছিটিয়ে নিজেকে ধাতস্থ করে ইশারায় বুঝিয়ে দিলো,
“ ব্যাস, এমনিতেই! এখানে বসতে আর ভালো লাগছে না”
মেয়ের মাথায় আদুরে হাত রাখেন তিনি। বললেন মুচকি হেসে,
“ তাহলে রুমে যাও!”
এলোমেলো পা চালিয়ে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে সে। ড্রয়িং রুম ভিড়িয়ে আসার সময় হানিফা বেগমের খ্যাটখ্যাট স্বর ভেসে আসছিল,
“ ওই দামড়ি মাইয়া।এমন কইয়া ধড়ফড়াইয়া কই যাস?গায়ে গতরে খালি লম্বাই হইছস.. এহনো ছুটাছুটি কমে নাই!এসব ঢং দেখার জন্যই এতোদিন বাঁইচা আছি…”
নজর পায়ের পাতায় নিবদ্ধ রেখে একের পর এক সিঁড়ি পার করছিলো সুখ। আশেপাশের কোন শব্দই তার কানে পৌঁছাতে পারছেনা।
চোখ অবনমিত রেখে আনমনে শেষ সিঁড়ি পার করার আগ মূহুর্তে সম্মুখে কিছু একটায় ধাক্কা লেগে পেছনে ছিটকে পড়ে।মুখ ভেঙে অস্ফুট শব্দ বেরিয়ে আসে,
“ আঃ..!”
অতিরিক্ত ভয়ে তার চোখ বন্ধ। বুকের বাঁ পাশে কাঁপতে থাকা যন্ত্রটি এখন আতঙ্কে ধড়ফড় করছে।টের পেলো সে গড়িয়ে পড়েনি ধারালো উঁচুনিচু সিঁড়িতে। পূর্বেই একটি শক্তপোক্ত হাতের বাঁধনে আটকা পড়েছে তার কোমল হাতের কব্জি।
সুখ ধীর গতিতে চোখ মেলে।মাথা থেকে সিঁড়ি ছুঁতে আর কিছুটা দূরত্ব বাকি। আড়চোখে নিচে তাকাতেই ভয়ে রূহ কেঁপে উঠলো । ঢোক গিলে ধীরস্থির উপরে চাইলো সুখ।
বর্ণ ভাই! ঠোঁট এলিয়ে হাসছে। একহাত জিন্সের পকেটে। অন্যহাতে কব্জা করেছে তার হাত।সুখ তাকাতেই চোখাচোখি হয়। মৃদু ঠোঁট নাড়িয়ে কিছু একটা বললো বর্ণ।যা সুখের কানে আতঙ্ক হয়ে বাজলো,
“ ছেড়ে দেই?”
#চলবে🥀
[কী মনে হয় রিডার্স?বর্ণ ছেড়ে দেবে বোবাফুলকে?যা ধূর্ত.. বিশ্বাস নেই!]

