#আমার_বোবাফুল(১৮)
#তৃপ্তি_এহসান_নাওরা
গা ঝেড়ে সংকুচিত মনে সুখ হেঁটে যায় দরজার কাছে।লক খুলে দ্বোর মেলে দিলো অথচ কাউকে চোখে পড়ে না। অজানা শঙ্কায় বুকটা ধ্বক করে উঠলো যেনো। ভীতিতে ঢোক গিললো সুখ।
উঁকি দিয়ে এদিক ওদিক চাইলো।নাহ,কেউ নেই ।টিপটিপ পা ফেলে ধীর লয়ে রুম ছেড়ে বেরিয়ে এলো সে।
করিডোরে নিয়ন আলোর অল্পবিস্তর প্রখরতা ঠিকরে পড়েছে। কিছু কিছু জায়গা আবার আঁধারে ঢাকা।
সুখ কয়েক ধাপ এগুতেই আবছা দেখতে পায় আঁধার হতে একটা অবয়ব বেরিয়ে যাচ্ছে। সবুজ নিয়ন আলোয় পিঠের দিকটায় কেবল দৃশ্যমান।আলো-আঁধার মিলে একাকার হয়ে যাওয়ার ফলে ছায়াটি স্পষ্ট নয়। সন্তর্পণে পা ফেলে সুখ। বর্ণ’র কক্ষের অভিমুখে হাঁটছে অবয়ব। কিন্তু..সেতো বাড়িতে নেই।থাকলেও তার দরজা কখনো এভাবে ধাক্কায় না।
“ উমম..”
মুখের অভ্যন্তরে এমন আওয়াজ তুলে সুখ অবয়বটির দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইলো।
বেখেয়ালে হাঁটার ফাঁকে হঠাৎ পায়ের নিচে সরু কিছুর উপস্থিতি টের পেয়ে তড়িৎ নিচে ঝুঁকে গেলো। সূক্ষ্ম ব্যাথায় পায়ের তলা চিনচিন করছে।
সূচালো পিন বিঁধেছে পায়ে।পা খানিক উপরে তুলে সুখ কিঞ্চিৎ ঝুঁকে পিন বের করে নিয়ে ফের সামনে তাকাতেই বিষম খেলো।কোন অস্তিত্ব চোখে পড়ছে না আর। কোথায় উধাও হয়ে গেলো?
শুষ্ক ঢোক গিলে স্থির মুখে উঁকি দিয়ে মণিদ্বয় এদিক ওদিক ঘুরালো সুখ।
“কে ছিল ওখানে?” –কথাটি মুখ ফুটে উচ্চারণ করার সক্ষমতা তার নেই।
আচমকা কাঁধে হাত রাখলো কেউ।চমকে উঠে সুখ।বুকের ভেতর অসহনীয় অস্থিরতা শুরু হয়। শঙ্কিত ফ্যাকাশে মুখে আস্তে ধীরে পিছু ঘুরে।
“ এতো রাতে করিডোরে কী করছিস? ধুমধাম কিসের আওয়াজ শুনলাম একটু আগে?মনে হলো কেউ দরজায় করাঘাত করেছে?”
ঢুলুঢুলু চোখে হেলে পড়ে যেতে চাইছে তুহফা।ঘুমের ঘোরে ধাক্কানোর গর্জন কর্ণকৌঠরে পৌঁছাতেই ধড়ফড়িয়ে উঠে এসেছে সে।
ফোঁস করে শ্বাস ছেড়ে বুকে ফুঁ দেয় সুখ।এই সবুজ নিয়ন আলোয় ইশারায় কিছু বললে সঠিক বুঝলে পারবে না;ফোনও সাথে আনা হয়নি।তুহফার হাত ধরে সুখ রুমে টেনে নিয়ে গেলো তাকে।শুভ্র বাতি জ্বালিয়ে কিছু একটা ইঙ্গিত দিলে ঘুম উড়ে যায় তুহফার। অবিশ্বাস্য নেত্রে চোখ পাকিয়ে তাকায় রমণী। জড়োসড়ো গলায় বলে,
“ কী বলিস?যদিও ভুতে-টুত ওসব কুসংস্কার কিন্তু…
→
ভোর বেলা।গাছ গাছালির ফাঁকফোকর দিয়ে সূর্যের রশ্মি ঠিকই শিশির ভেজা জমিন ছুঁয়ে দিয়েছে। শূণ্য আকাশে পাখির কলতানে মুখরিত পরিবেশ। ব্যালকনির আগে দেয়াল অনুরূপ বিশালাকার কাঁচের উপর হালকা বাদামি পর্দার আস্তরণ। কাঁচ আর পর্দা দুটোরই বাঁধা ছিন্ন করে কক্ষে প্রখরতা উপচে এসে জানান দিচ্ছে নিদ্রা ছেড়ে উঠার সময় হয়ে এসেছে।
সুখ চোখ মেলে অলস ভঙ্গিতে ক্ষণকাল বেডে পড়ে রয়। অল্পসময় অতিবাহিত করে আবার উঠে বসলো।
ভোর ৫টা বেজে ৭ মিনিট।এই সময় খালি পায়ে গার্ডেনে হাঁটার অভ্যাস আছে তার।মাঝে মাঝে অভ্র’র সাথে মিলিত হয়ে জনমানবহীন রাস্তায় সাইক্লিং করতেও বেরোয়। ত্রস্ত পায়ে বাথরুমে ঢুকে ফ্রেশ হয়ে এলো সুখ। মাথায় চিরুনি অভিযান চালিয়ে চুলগুলো দু কাঁধে ছেড়ে দিয়ে নিচে চলে এলো।
হানিফা বেগমের রুমে অল্পক্ষণ সময় কাটিয়ে বৃদ্ধার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন তামিজ শিকদার। ভদ্রলোক সম্পূর্ণ পরিপাটি।ব্যবসার খাতিরে জরুরী কাজ পড়েছে।এখনি রাজশাহী রওনা দিতে হবে।
“ব্_বাঃ!”
পথিমধ্যে পদযুগল থেমে যায় ওনার। পিছু ঘাড় ঘুরিয়ে চাইলেন। গার্ডেন থেকে দ্রুত কদমে ছুটে আসে সুখ।তামিজ শিকদার অভিভূত হয়ে অপলক তাকিয়ে রইলেন।এ যেনো সেই ছোট্ট সুখ।আধোঁ আধোঁ স্বরে সদ্য বলতে শেখা পরীটা!
কাছে আসতেই একহাতে মেয়েকে জড়িয়ে নিলেন তামিজ শিকদার।সুখ মুখ তুলে আব্বুর দিকে চাইলো। ঠোঁটে ঠোঁট গুঁজে হাতের ইশারায় বললো,
“ এতো ভোরে কোথায় যাওয়া হচ্ছে আব্বু!”
তিনি মৃদু হাসলেন। মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে আদুরে স্বরে জবাবদিহি করলেন যেনো,
“ ইমার্জেন্সি রাজশাহী যেতে হচ্ছে আম্মু! তোমার জন্য কী কী আনতে হবে?”
“ পরে বলবো.. তুমি কখন ফিরবে?”
পুণরায় ইশারা করে সুখ।বাধ্যের মতো ভদ্রলোক প্রত্যুত্তর করে,
“ তিন চার দিন-ও লাগতে পারে। আবার তার চেয়ে কমও”
সুখ বড়দের মতো তামিজ শিকদারের মাথায় হাত রাখলো।হাতের ইশারায় বুঝালো,
“ দোয়া করে দিলাম।সব ভালো হোক। সাবধানে যেও!”
তামিজ শিকদারের ঠোঁটে প্রাণবন্ত হাসি খেলে যায়।সুখের কপালে চুমু এঁকে পাশে তাকায়।বর্ণ এগিয়ে আসছে।গায়ে জড়ানো ধবধবে সাদা হাতা কাটা গেঞ্জি।জিম করা পেশিবহুল দৃশ্যমান।ঘর্মাক্ত মুখশ্রী দেখে চিহ্নিত করা যাচ্ছে –সে এখন ‘জিম হাউজ’ থেকে বেরিয়েছে।
“ এখনি চলে যাবে?” – হ্যান্ডসেক করলো চাচা/ভাতিজা।আড়চোখে একঝলক সুখকে দেখে প্রশ্নটি করলো বর্ণ’।সুখ তখন শক্ত আদলে অন্যত্র তাকিয়ে।যেনো বর্ণকে দেখেইনি।
মুখের অভ্যন্তরে দাঁতে দাঁত পিষে বর্ণ। ক’দিন ধরে এই বোবাফুল তাকে অস্থিরতার সাগরে ডুবিয়ে বেশ ভালোই আছে।সাহসও খুব বেড়েছে আজকাল।আগে যেখানে চোখ চোখ রেখে মুখোমুখি দাঁড়ানোর সাহস দেখাতো না, সেখানে কাল কতো বড় কাণ্ডই না ঘটালো।
তামিজ শিকদারের কথা কানে ভেসে আসে,
“ হ্যাঁ!এখনি যেতে হবে।তোকে কাল রাতে কী দায়িত্ব দিয়েছিলাম মনে আছে?”
প্রতিক্রিয়ায় বর্ণ ঘাড় কাত করে কপাল গুটিয়ে ঠোঁট উল্টালো কেবল। ভদ্রলোক পুণরায় বললেন,
“ ভাইজান নেই আমিও ক’দিনের জন্য চলে যাচ্ছি.. বাড়িটা দেখে রাখবি!আর বাড়ির ফুলেদের..”
আরো একবার সুখের দিকে চেয়ে ঠোঁট এলিয়ে ঘর্মাক্ত শরীরেই তামিজ শিকদারকে এক মূহুর্তের জন্য জড়িয়ে ধরে পরপর ছেড়ে দেয় বর্ণ। অর্থাৎ, সে দেখে রাখবে!
সুখ যখন আহত চোখে গেইট পেরিয়ে তামিজ শিকদারের গাড়ি চলে যাওয়ার দিকে ধ্যানমগ্ন তাকিয়ে,বর্ণ তখন চোখ কুঁচকে তাকেই দেখছে।এই ফুলের সাথে আগের ফুলের বিস্তর ফারাক দেখতে পাচ্ছে সে।
ছোট থেকেই বর্ণ তাকে ফুল বলেই সম্বোধন করে। তখন সে সবাইকে বলে বেড়াতো সুখ ফুলের মতোই নজরকাড়া সুন্দর, কোমল। অতঃপর সময় গড়ানোর সাথে সাথে যখন দেখতে পেলো সুখ শুধু ফুলের মতো কোমল আর সুন্দর নয়, বরং তাদের মতো শব্দহীন নিশ্চুপও বটে। তখন ফুলের আগে আরো একটি শব্দ যোগ করে ডাকে –বোবাফুল।যদিও বোবা শব্দটা বাড়ির অন্য সদস্যের সামনে ডাকা হয়নি কবু। কিন্তু আড়ালে সুখকে এই নামেই বলে।
কপালে তর্জনীর টোকা লাগতেই ব্যথাতুর চোখ খিচে ক্ষিপ্র চোখে বর্ণ’র দিকে চাইলো সুখ। টোকাটা বর্ণ দিয়েছে;তাও ভীষণ জোরে।
“ পাপা কী প্রিন্সেস.. এভাবে তাকিয়ে আসিস কেনো!এ্যাট্রাক্টিভ লাগছে আমায়? অবশ্য লাগারই কথা?” –কাঁধ ঝাঁকিয়ে বেশ ভাব নিয়েই শুধালো বর্ণ।
সুখ কপালে হাত রেখে অসন্তোষ নেত্রে চেয়ে।কী চাইছে লোকটা? সেদিন নিজের ত্রিসীমানায় ঘেঁষতে নিষেধ করে এখন নিজেই যেচে পড়ে তার সাথে লাগতে আসছে! আশ্চর্য..!
“ ওইদিন চিরকুটে কী যেনো লিখেছিলি..?”
এক মূহুর্তের জন্য লজ্জা, অপমান,অস্বস্তি এসে ঘিরে ধরে সুখকে। চোখে চোখ রাখার সাহস পায়না আর। আড়চোখে এদিক ওদিক চেয়ে দ্রুত কদমে বাড়ির ভেতরে চলে যায়।
বর্ণ ঠাঁই দাঁড়িয়ে রয়। অকারণেই সুখের উপর রাগ উঠছে। ইচ্ছে করছে দুটো থাপ্পর দিয়ে বলতে,
“ ব্যাস,আগের মতো হয়ে যা। বুঝতে পারছি না তুই আমার বাজে অভ্যেসে কখন পরিণত হয়েছিস। আমার জন্য তোর এই নির্বিকার ভঙ্গি সহ্য হচ্ছে না! ”
এই যেমন একটু আগে কপালে টোকা দিলো? স্থানভেদে ইতোপূর্বে আরো কয়েকবার এমন করেছে বর্ণ। তখন সুখের চোখে মুখে ভিড় করতে একরাশ লজ্জা, অল্পস্বল্প ভীতি,নরম কোমল রক্তাভ গাল।
অথচ আজ সেই একই মেয়েটির একই চোখে তার জন্য স্পষ্ট বিরক্ত দেখতে পেয়েছে বর্ণ। সেদিনের হিসেব অনুযায়ী ধরতে গেলে সুখের পক্ষ থেকে এটা জায়েজ কিন্তু বর্ণ কেনো যেনো মানতে পারছে না এই বিরক্তি।বুকের বাঁ পাশটায় অদ্ভুত আলোড়ন হচ্ছে। এমন কেনো হয়? প্রশ্নের উত্তর আজো মেলেনি তার!
→
কলেজে রূপম খু!নের তদন্তে পুলিশ এসেছে আজ।অফিস কক্ষে ঢুকেছে প্রায় আধঘন্টা হবে। এতোক্ষণ সময় নিয়ে কী করছে কে জানে?
সুখ চুপচাপ ক্লাসে বসে। অনেক শিক্ষার্থী উঁকি ঝুঁকি দিচ্ছিলো অফিসের সামনে। একজন স্যার এসে ইশারায় শাসিয়ে দিতেই সুড়সুড় আপন আপন ক্লাস কক্ষে ফিরে গেছে সকলেই। কলেজের বিশাল বড় মাঠ এখন ফাঁকা বললেই চলে।
ফাহা পাশে বসেছে সুখের। মেয়েটা ক্ষণে ক্ষণে এদিক ওদিক কান পাতছে। মূলত ক্লাসে গুঞ্জন উঠেছে। মূল বিষয় একটিই –রূপম স্যারের খু!ন!
—কে হতে পারে কি’লার?
—স্যারের দোষ কী ছিল?
–খু!নি নিশ্চয়ই খুব ডেনজেরাস!
উক্তিটির সাথে তাল মেলালো অনেকেই,
—হ্যাঁ,দেখলিনা কেমন কলিজা কেড়ে নিলো!বাপরে।দম আছে খু!নির শরীর…
→
ছুটির ঘন্টা পড়ার মিনিট দুয়েক পর সুখ বেরিয়ে এলো কক্ষ থেকে।ফাহাও আছে সঙ্গী হিসেবে।এই পুরো কলেজে মনের মতো ওকেই পেয়েছে সুখ। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে করিডোর দিয়ে ধীর পায়ে এগিয়ে আসছে দুজন।
“ সাইড প্লিজ..!”
দুজন একসাথে সরে দাঁড়াতেই মধ্যস্থ বেয়ে চুল উড়িয়ে হেঁটে গেলো প্রিয়া ও তার সঙ্গীরা। কিছুদূর গিয়ে পিছু ফিরে ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসি ছুঁড়ে যেতে ভুললো না।সুখ ভ্রু কুটি করে তাকায়।এই হাসির অর্থ কী?তাদের চলার পথে ব্যাঘাত ঘটাতে পেরে তৃপ্তি পেয়েছে নাকী অন্যকোন ব্যাপার?
সুখ অতোশতো ভাবার প্রয়োজন বোধ মনে করলো না। পুণরায় ফাহা’র হাত টেনে এগিয়ে গেলো অগ্রভাগে।মেয়েটার মুখ থেমে নেই, দাঁতে দাঁত নিষ্পেষিত করে বলে চললো মেজাজ তুঙ্গে তুলে,
“ ওই প্রিয়ানি হাসি দিয়ে কী বুঝাতে চাইলো? অসভ্য,অভদ্র,লান্টকি মেয়ে একটা।সব জায়গায় তোর পথে বাগড়া দিতে আসে!মন তো চায় ওই সুন্দর চুলগুলো…
→
মূল ফটকে ছেলে মেয়েদের ঢল নেমেছে।কেউ কেউ রিকশা,কেউবা টেক্সিতে উঠে ছুটে চলছে আপন নিড়ে।আবার কারো কারো পারিবারিক নিজস্ব কার এসে থেমে আছে রাস্তার কিনারে।
আজ তুহফা আসেনি।সুখ ভীড় ঠেলে বেরিয়ে আসে। ফাহার বাড়ি উল্টোপথে।সে সঙ্গ ছেড়ে চলে গেছে সেদিকে।
সুখ রাস্তায় পা দেওয়ার আগে সামনে গাড়ি এসে থামলো। ভ্রু কুঁচকে আসে ।আজ আব্বু আসার কথা নয়,গাড়ি সহ ড্রাইভারও উনার সাথে রাজশাহী গেছে।
তবে…
এই গাড়ি তার খুব চেনা কিন্তু মনে খানিক সন্দেহ রয়েই যায়!
সুখ পাশ কাটিয়ে ফুটপাত ধরে হেঁটে গেলে গাড়িটিও তার পাশাপাশি চলতে লাগে। বিস্মিত হলো কিঞ্চিৎ। হঠাৎ গাড়ির ফ্রন্ট উইন্ডো ধীরে ধীরে নেমে গেল। ঢেকে রাখা মুখশ্রীতে বর্ণকে চোখে পড়ে তখন।সুখ স্থির দাঁড়িয়ে রয় নিশ্চুপ। বর্ণ’র নজর ফোনে নিবদ্ধ ছিল। ড্রাইভিং সিটে মাহিরের বসবাস। আচমকা ঘাড় বাঁকিয়ে তাকালো বর্ণ,
“ থম করে কী দেখছিস?তোর বাপ চাচা যে দায়িত্ব অর্পণ করে গেছে বাধ্য হয়ে জাস্ট সেটা পালন করতে এসেছি!দু সেকেন্ডের ভেতরে উঠে আয়।নয়তো তোর গাল আর আমার হাত!নাউ ইউর চয়েস!”
#চলবে🦋
[এই বর্ণটা কী ভালো হবে না? আমার তো সন্দেহ হচ্ছে, প্রচুর!! আপনার কী হচ্ছে হচ্ছে রিডার?‼️]

