#আমার_বোবাফুল(২২)
#তৃপ্তি_এহসান_নাওরা
বর্ণ হঠাৎ অগ্নি চক্ষু নিয়ে তেড়ে আসতেই ভড়কে গেলো মাহির।দু কদম পিছিয়ে হড়বড় করে বললো ভীত গলায়,
“ আমি কিছু করিনি ভাই!”
চোয়াল খিচে চোখ বুজে ভ্রু রেখার উপর তর্জনী ঘঁষে বর্ণ। নিজেকে সংযত করার এটাই প্রচেষ্টা।চোখ খুলে দৃঢ় অথচ রুঢ় স্বরে বললো স্বল্প ভাষায়,
“ সরে আয়!”
মাহির তাই করে।বাইক ছেড়ে খানিক দূরে সরে আসে। বর্ণ বিলম্ব না করে উঠে বসলো।পরপর হেলমেট পড়ে ভোঁ ভোঁ শব্দ তুলে উড়ে বেরিয়ে গেলো গেট পেরিয়ে। হতভম্ব দাঁড়িয়ে মাহির সেকেন্ড কয়েক পর চেঁচিয়ে উঠলো,
“ ভাই আমি এখানে!”
বর্ণ শুনতে পেয়েছে তার হতাশ মিশ্রিত বাক্য?সেতো ততোক্ষণে চোখের আড়ালে।মাহির দীর্ঘ শ্বাস ছাড়ে। এভাবেই চলছে জীবন!তবে বর্ণ’কে সে বড় ভাইয়ের মতোই সম্মান এবং ভালোবাসে সর্বদা।তার জন্য জীবন দিতেও দুবার ভাববে না।
আজ সে এখানে দাঁড়িয়ে আছে,দম ভরে শ্বাস নিতে পারছে শুধু মাত্র বর্ণ’র জন্যই। নয়তো কবেই আকাশের মেহমান হয়ে যেতো।
আজ থেকে তিন বছর আগের কথা। হসপিটালের বেডে শায়িত ছিল মাহির।দুটো কিডনিই ডেমেজ; প্রতিস্থাপন করতে হবে! মধ্যবিত্ত পরিবারে বাবার টাকাতেই সংসার চলে।তিন ভাই বোনের মাঝে সে-ই সবার বড়।তখন সে ভার্সিটির গন্ডিটাও পেরোয়নি। বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিউশনি করে কতো টাকায় বা আয় হতো? অন্যদিকে তাকে সুস্থ করতে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করার সামর্থ্য বাবার ছিল না। কিন্তু কেউ হাল ছেড়ে দিতে নারাজ।মায়ের বিয়ের গহনা বিক্রি করে দিলো মাহিরের নিষেধ অমান্য করে।যা তিনি পরম যত্নে দীর্ঘ বছর আগলে রেখেছেন।কোন মায়ের কাছে নিশ্চয়ই সন্তানের জীবনের চেয়ে ওই সামান্য গহনার প্রয়োজনীয়তা বেশি হবে না?
বাস্তবতা বড্ড নিষ্ঠুর। মধ্যবিত্ত অথবা গরীবদের জন্য তো আরো দুর্বিষহ। প্রতিবেশী আত্মীয়-স্বজন কেউ ধার দিতে নারাজ।মাহিরের মতো তাদেরও বিশ্বাস ছিল —সে আর বেঁচে ফিরবে না ওই পথ থেকে। মৃত্যু-ই শেষ পরিণতি। শুধু শুধু টাকা নষ্ট।ছেলেকে হারিয়ে ধার নেওয়া টাকা আর ফেরত দিতে ইতিউতি করতে পারে –এই ভয়ে সবাই সাহায্যের বদলে নিজেদের অভাবের কাহিনী পাঠ করে শুনাতো!
আজ মাহির সম্পূর্ণ সুস্থ,সবল ও স্বাভাবিক।সেদিন বর্ণই পাশে দাঁড়িয়েছিল তার;তাদের ভেঙে পড়া পরিবারের।চিকিৎসার সমস্ত টাকা নিজে বহন করেছে।এই ঝণ কী দিয়ে শোধ করা যায়?
→
বর্ণ ফেরার পর থেকে উদ্বিগ্ন চিত্তে প্রশ্নের পর প্রশ্ন করে যাচ্ছে আইজা। ভদ্রমহিলা ভয় পেয়েছিলেন পুলিশ দেখে। তারচেয়ে বেশি ভয় পেয়েছেন কোথাও ছেলের প্রেস্টিজে আঘাত আসবে না তো?
বর্ণ মাছি তাড়ানোর মতো হাত ঝাড়া দেয়,আশ্বস্ত করে– “তেমন কোন ব্যাপার নয়।ব্যাস, অল্পস্বল্প প্রয়োজন ছিল আমাকে ওই অফিসারদের!”
হানিফা বেগম এহেন সংবাদে গদগদ করে উঠলো,
“ সত্যি বলতেছো দাদুভাই? পুলিশ গো তোমার সাহাইয্য দরকার ছিল?তোমার কাছে আইছে তারা!”
বর্ণ ড্রয়িং রুম ভিড়িয়ে যাচ্ছিলো।দাদুর কথায় ছন্দ হেসে পিছু ঘুরলো। পরপরই দুদিকে হাত প্রসারিত করে কিঞ্চিৎ মাথা ঝুঁকিয়ে সায় জানালো।বুঝালো উনার কথায় সঠিক।
বৃদ্ধা আরো পেয়ে বসে। রুবাইয়্যাতকে শুনিয়ে গর্বের সহিত বললো,
“ দ্যাখছো আমার নাতির কাছে হাত পাততে স্বয়ং পুলিশ অফিসাররা আইছিলো।কতো মান্য করে তারে…
সুখ তখন গার্ডেনে বসেছিল বই হাতে। রুমের ওই চার দেয়ালের থেকে বেশি খোলা আকাশের নিচে প্রকৃতির মৃদু হাওয়ায় বসে পড়তে সাচ্ছন্দ্য বোধ করে সে।বর্ণকে ফিরতেও দেখেছে।বাড়ি প্রবেশের পূর্বে একঝলক তার দিকে চেয়েছিল।চোখাচোখি হওয়ার আগেই নজর সরিয়ে নিয়েছে সুখ।পাছে যদি পা উল্টো চালিয়ে তার কাছে উড়ে এসে নির্লজ্জের মতো অহংয়ের সাথে বলে বসে,
“ তুই এখানে বসে গেটের দিকে তাকিয়েছিলি!দ্যাট মিন্স, আমার জন্য ওয়েট করছিলিস?এ্যা’ম আই রাইট?”
এমন কথাগুলো আগের বর্ণ’র মুখে শোনা দিনের আকাশে চাঁদ দেখার মতো হলেও এই বর্ণ বেশ দম্ভ নিয়ে বলতে পারে –তা গত কয়দিনে বেশ ভালো করেই বুঝে নিয়েছে সুখ।সে-যে ভালোবাসে তা ওই উজবুক রকস্টার জানতে পেরেছে যে?কেনো যে সেদিন যাত মান ভুলে মনের কথা তুলে ধরতে গেলো!
→
বাড়িতে পুলিশ আগমনী বার্তা আযাদ শিকদারকে পৌঁছে দিয়েছিলেন আইজা।তিনি ছট জলদি ছেলের নাম্বারে ডায়াল করেন তৎক্ষণাৎ।বর্ণ সেসময় থানায় ছিল বিধায় রিসিভ করেনি।রুমে পৌঁছে ল্যাপটপ সামনে নিয়ে ভদ্রলোককে কল ব্যাক করে। এমনিতেই প্রথমে কল তুলেনি; তারউপর যদি কল ব্যাক না করা হয় –সেই চির পরিচিত বাক্যটি আবার শুনতে হবে,
“ এতোটা অধঃপতন হয়েছে তোমার?খুব বড় হয়ে গিয়েছো? এখন বাবাকে আর চোখে পড়ে না,না?”
রিং পড়ার সাথে সাথে আযাদ শিকদার কল তুললেন।যেনো বর্ণ’র কলের অপেক্ষাতেই বসেছিলেন।মুখের ভাষা গম্ভীর।বর্ণ দু চার কথা বলে ফোন রেখে দিলো টি টেবিলে। বাজপাখির ন্যায় তীর্যক নজর পূর্ব থেকেই স্থির ছিল ল্যাপটপে।
আযাদ ফিরছেন শিকদার নিবাসে।মাঝ পথেই আছেন।
→
বাতাসের সাথে খিলখিল হাসির শব্দ ভেসে আসছে।ক্ষণে ক্ষণে মৃদুমন্দ চিৎকার চেঁচামেচি।সুখের মন টিকছে না গার্ডেনে। দোলনা ছেড়ে উঠে খানিক দূরে শিউলি গাছের গোড়ায় গিয়ে উঁকি দিলো অদূরে স্থাপিত সুইমিং পুলের ওপাশে খালি জায়গায় –নূরা,অভ্র ফুটবল ছুড়াছুড়ি খেলছে।
অভ্র সময় সময় বল না ছেড়ে অদ্ভুত কায়দায় পায়ের পাতায় ঘুরাচ্ছে আর নূরা তার পেছনের টি-শার্ট টেনে ধরে বল নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। ব্যর্থ হয়ে আবার মেকি কান্নার ভান ধরছে; তো আবার কোমল হাতে আঘাত হানছে;অথবা অভ্র’র আগে পিছে ছুটছে।
খানিক বাদে সহাস্যে যোগ দিলো তুহফাও।তিনজন ত্রিকোণ আকৃতির দাঁড়িয়ে একে অপরকে বল ছুটছে।
সুখ আর থাকতে পারলো না।বই হাতে নিয়ে এগিয়ে গেলো সেদিকে। ঠোঁটের কোণে অল্পবিস্তর হাসি।কালো পোশাকধারী আতিফ এবং আসলাম দুই গার্ড সটান দাঁড়িয়ে আছে বাড়ির ভেতরে প্রবেশের মূল দরজায়।সুখ ত্রস্ত গিয়ে হাতের মোটা বইখানা আতিফের কাছে জমা রেখে চলে এলো নূরাদের কাছে!
“ শিকদার বাড়ির চার রত্ন কী করছে? ”
মাহিরের আগমনে খেলা স্থগিত হলো।অভ্র কিছু বলতে চাইছিলো তার আগে নূরা উচ্ছ্বল গলায় শুধায়,
“ মাহির তুমিও এসো!অনেক মজা করছি আমরা!”
“ গোল কতোবার খেলি আমার কাছ থেকে সেটাও এক্সপ্লেইন কর!”
অভ্র’র ঠোঁটে দুষ্টু হাসি।তার কথায় ঠোঁট টিপে হাসলো বাকিরাও।নূরা ছোট ছোট চোখে তাকায় অভ্র’র মুখশ্রী পানে। অতঃপর পায়ে পাড়া দিয়ে ক্ষিপ্র স্বরে বললো,
“ দাদুর মতো চিট করে ভাদ্র মাসের কু/ত্তার মতো আমায় পিছু পিছু ঘুরিয়ে এখন গাল এলিয়ে হাসছো?শেইম অন ইউ্যু অভ্র!শেইম অন ইউ্যু!”
অচিরেই মাহিরের জিভ চলে এলো দাঁতের ফাঁকে।জিভ কেটে পরপর ঠোঁটে ঠোঁট গুঁজে মৃদু হাসলো সে। একবার বেখেয়ালে চোখাচোখি হয় তুহফার সাথে। রমণী বোধহয় তার দিকেই তাকিয়েছিল।সে তাকাতেই ধরা পড়া চোরের মত লজ্জা মিশ্রিত হেসে নজর সরিয়ে নেয়।মাহির তপ্ত শ্বাস ফেলে।গত কয়েকদিন সে অনেক ভেবেছে।তুহফাকে এখানেই থামাতে হবে নয়তো পরিণতিতে যা হবে তার জন্য নিজের কাছে নিজেই অপরাধী হয়ে থাকতে হবে!
অভ্র’র চোয়াল ঝুলে এলো। থমথমে মুখে চোখ পাকিয়ে চেয়ে থাকা সুখের দিকে একপলক তাকিয়ে নূরার মাথায় ঠাস করে গাট্টা লাগিয়ে বললো,
“ হোয়াট ইজ ভাদ্র মাসের কু/ত্তা?এসব কে শেখায় তোকে?”
“ দাদুই এটা বলে!কেনো শুনতে ভালো লাগেনি?”
“হ্যাঁ,বুড়ির মুখের ভাষা এক যা তা আর তুই বুড়ির কাছে কাছে থেকে তৈরি হচ্ছিস তার লাইট ভার্সন! তেঁতুল পাতায় খাপে খাপ এঁটে যাবি দুজন; কোন সন্দেহ নেই!”
এহেন অপমান মূলক বক্তব্য শুনে নূরা চতুর নেত্রে সকলকে পরখ করে নিলো। প্রথমে নজর দিলো সুখের দিকে।হাতের উল্টো পিঠে অধরজোড়া লুকিয়ে রেখেছে সে।হাসছে কিনা ঠাহর করা যাচ্ছে না,তবে আঁখিদ্বয় জ্বলজ্বল দ্যুতি ছড়াচ্ছে।তুহফা অভ্রকে সায় দিয়ে মিটিমিটি হাসছিলো।আর মাহির বুকে দুহাত গুঁজে সভ্য হয়ে দাঁড়িয়ে।
কোমরে একহাত চেপে, অপর হাতের পাতা অভ্রর দিকে ইঙ্গিত করে দৃষ্টি অন্যত্র রেখে চোখ কুঁচকে বললো নূরা,
“ সেদিনের এই পিচ্চিটা আমাকে ইনসাল্ট ফিলিং দিচ্ছে আর তোমরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এনজয় করছো গাইজ?এই জন্যই তোমাদের খেলায় নিয়েছিলাম?আর মাহির…”
হাসি দমিয়ে চকিত হওয়ার ভান ধরে তাকায় মাহির।নূরা ফিরতি বললো মুখ খিচে,
“ এরা.. এরা দুজন নাহয় বাচ্চা মেয়ে কিন্তু তুমি অন্ততঃ এই বকে যাওয়া ছেলেটাকে কিছু বলতে পারতে?বড়দের সাথে কীভাবে কথা বলছিলো দেখতেই তো পেয়েছো একটু আগে?”
সজোরে উপর নিচ মাথা ঝাঁকিয়ে অভ্র’র দিকে চাইলো মাহির।গলা খাঁকারি দিয়ে বললো,
“ আসলেই তো.. এটা কেমন ব্যবহার অভ্র? এল্ডার সিস্টারকে কেউ এভাবে বলে?ব্যাড ম্যানার!”
অভ্র কঠোর চোখে দাঁতে দাঁত নিষ্পেষিত করলো।নূরার কোমর সম লম্বা ঝুঁটি করা চুল টেনে ধরলো হঠাৎ।মেয়েটা জোরে আর্তনাদী চিৎকার করে উঠে গেটের দিকে চেয়ে,
“ আব্বুউ…!!”
.
আযাদ শিকদারের সাথে কথা বলতে বলতে বাড়ির ভেতরে চলে এলো মাহির।নূরাকে কোলে তুলে কাঁধের একপাশে নিয়ে সকালের বর্ণ’র ব্যাপারে এটা ওটা জিজ্ঞেস করছেন ভদ্রলোক। তাদের পিছু ঢুকছে অভ্র।নূরাকে ইশারায় কিছু একটা বলে ক্ষেপাতে চেষ্টা করছে। বিপরীতে মেয়েটা বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জিভ বের করে মুখ ভেংচি দিলে উল্টো নিজেই চটে গেলো অভ্র।দিন দিন পাজি হচ্ছে পাকনিটা!কথায় কথায় নিজেকে বড় বোন দাবি করে তাকে কী না বলে —সেদিনের পিচ্চি!!
সেকন্ড ফ্লোরে অভ্র’র শোভার ঘর।মাহির সময় সময় এবাড়িতে রাত্রি যাপন করে।অভ্র’র পাশেই তার রুম দিয়েছেন আযাদ শিকদার। যেহেতু বাড়ির অনেকগুলো কক্ষ এখনো খালি পড়ে আছে।
নিজ রুম থেকে বেরিয়ে একবার মাহিরকে দেওয়া রুমে উঁকি দিলো অভ্র।কাউকে দেখা যাচ্ছে না। নিশ্চয়ই দাদু আটকে রেখেছে। দুঃখ সুখের কথা ভাগাভাগি করে নিচ্ছে হয়তোবা।মাহির মতবিরোধ ছাড়া যেদিন হ্যাঁ তে হ্যাঁ মিলিয়ে আগ্রহ দেখায় সেদিন খুব সহজে তাকে ছাড়তে চাননা বৃদ্ধা। বেশিরভাগ সময় তার আলোচনার মূল বিষয় হয় –দাদাভাই বেঁচে থাকতে কতোটা ভালোবাসতেন, ভালোবেসে কী কী করেছেন!
এসব তুহফা কিংবা অভ্রকে বলার মুখ পাননা তিনি। শুরু করলেই তাদের একটাই প্রশ্ন,
“ তোমার মতো জল্লাদ বউয়ের সাথে কীভাবে দাদাভাই পুরো জীবন কাটিয়ে দিলো ভাবতেই মায়া হয় মানুষটার প্রতি!”
ব্যাস, ওমনিই বৃদ্ধা ক্ষিপ্র বাঘিনী হয়ে উঠেন।পরবর্তী কথাগুলো বলতে জোর জবরদস্তি করলেও মুখে কুলুপ এঁটে বসে থাকেন।
মাঝে মাঝে রামসা,সাইমাকেও পাশে বসিয়ে পুরোনো দিনের কথা বলতে দ্বিধা করেননা।হয়তো সেদিন দাদাভাইকে খুব মনে পড়ে তাই!চোখের সামনে যাকে পান আর যে উনার কথাগুলো নিশ্চুপ শুনেন তাকেই মনে উঁকি দেওয়া কথাগুলো উগলে দিতে চান।
কিন্তু…
কোন এক অব্যক্ত কারণে সুখের সাথে উনার বনেনা।তাকে পাশে বসিয়ে মিষ্ট ভাষায় কখনো কথা বলতে দেখেনি অভ্র।সুখ আপির সাথে খ্যাক খ্যাক কথা বলায় সে বার কয়েক কথাও শুনিয়েছিল দাদুকে। প্রতিক্রিয়া দেখে তিনি তার কথা সবসময় কানের বাইরে রেখেছেন বলেই মনে হতো।অভ্র এই বিষয়ে হতাশ!
শিস বাজাতে বাজাতে থার্ড ফ্লোরে চলে এলো সে। ফোন বের করে উমামাকে মেসেজে লিখলো,
“ হাউ আর ইউ্যু জানু?”
অনলাইনে ছিল উমামা।ফোন স্ক্রিলিংয়ের মাঝে অভ্রর আইডি থেকে আগত মেসেজ দেখে দাঁতে দাঁত খিচলো। অতঃপর সিন করেই বেডের এক কিনারে ফোন ফেলে রেখে বালিশে মাথা রাখলো। সেদিনের কিচ্ছু ভুলেনি সে!তাকে ভালোবাসি বলে অন্য মেয়েকে নিয়ে ঘুরাঘরি করা? আবার ফোনটাও ওই মেয়ের হাতে তুলে দিয়েছে।কই, সেতো এখনো অভ্র’র ফোন দেখতে কেমন সেটাও জানে না!
এসেছিল বলতে –তুমি যা ভাবছো তেমন কিছু নয়!উনি আমার…
পরবর্তী কথা শুনাতে আগ্রহ তার মুটেও ছিলনা। ধোঁকাবাজ, প্রচারক!এসএসসি টাও এখনো পাস করে উঠতে পারেনি অথচ দুয়ের অধিক গার্লফ্রেন্ড পকেটে পুরে রেখেছে!বড় হলে নির্ঘাত প্লেবয় হবে!এর সাথে সম্পর্ক আগানোর মানেই হয়না!
→
তুহফার সাথে অনেক্ষণ ছাদে সময় কাটানোর পর সিঁড়ির দিকে পা বাড়ালো সুখ।বসে থাকতে আর ভালো লাগছে না।একটু শুতে ইচ্ছে করছে।
তুহফা এখনো ছাদেই।ছাদ থেকে ওই জমিন দেখা যায়। যেখানে শিকদার বাড়িটি জীবন্ত করে তুলতে গার্ডেন করা হয়েছে। সেখানে পাতানো চেয়ারে মাহির বসা।পাশে হানিফা বেগম।তুহফার মন্ত্রমুগ্ধ নিষ্পলক দৃষ্টি যদিও মাহিরের দিকেই নিবদ্ধ; তবুও সে দেখতে পাচ্ছে অন্যমনস্ক হয়ে নানু কিছু একটা বলছে।
খোলা চুল গুলো হাত খোঁপা করতে করতে করিডোর ভিড়িয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলো সুখ।ঘাড় ভিজে গেছে চুলের উষ্ণতায়।একটু স্বস্তি প্রয়োজন।
ছাদ থেকে সুখের রুমে পৌঁছানোর আগে বর্ণ’র কক্ষ। ত্রস্ত পা ফেলে এগিয়ে চলার পথে আচমকা পা থমকে গেলো তার।সক্রিয় মস্তিষ্কে কান সজাগ করলো।
বর্ণর রুমের দরজা খোলা। এদিক ওদিক নজর না দিয়ে দ্রুত পা চালিয়ে আসার পরেও এমন মনে হয়েছে তার। গোঙানির আওয়াজ ভেসে আসছে রুম থেকে।সুখের বুকটা ধ্বক করে উঠলো অজানা শঙ্কায়।
গোঙানির তীব্রতা বাড়ছে ক্রমশ। ঝনঝন.. করে কাঁচ ভেঙ্গে পড়ার আওয়াজ ভেসে এলো।সুখের পা জমে যায় এক মূহুর্তের জন্য। ঝাঁকি দিয়ে উঠে শরীর। লোমকূপ সিধে হয়ে গিয়েছে ইতোমধ্যে।
দেখবে না দেখবে না বলেও সে বর্ণ’র দরজার সামনে চলে আসে। সেদিনের পর থেকে আজ প্রথম এই রুমের সামনে এসে থেমেছে সুখ। অদৃশ্য ভয়ে তেমন কোন অনুভূতি তাকে গ্রাস করতে পারছিলো না।গোঙানির শব্দ তখনো ভেসে আসছিলো তার কানে। দুরুদুরু বুকে ভেতরে পা ফেলে দরজার ডানে নজর ছিটাতেই আতঙ্কে দেহ ঝংকার দিয়ে উঠে সুখের। নিমেষেই হাতের ফোনটা ছিটকে পড়ে যায় ফ্লোরে। কাঁচে আবৃত ফোনের কভার টাইলসের সাথে সংঘর্ষ লেগে ভেঙে দু টুকরো হয়ে দুদিক ছড়িয়ে পড়ে। সুখের মনোযোগ সেদিকে নেই। স্তব্ধ চোখে হতবুদ্ধি হয়ে সামনে তাকিয়ে আছে।গলা শুকিয়ে আসছে তার। অবিশ্বাস্যে দুহাত উঠে এলো ঠোঁটের উপর।আতঙ্কিত কন্ঠে অস্ফুট স্বরে বেরিয়ে আসে মুখ ভেঙে,“ আঃ ”
#চলবে
®তৃপ্তি এহসান নাওরা•
[রিডার্স 🦋
কী দেখে ভয় পেয়েছে সুখ?গেইজ করুন 🤍]

