আমার_বোবাফুল(৪৬.২) #তৃপ্তি_এহসান_নাওরা

0
65

#আমার_বোবাফুল(৪৬.২)
#তৃপ্তি_এহসান_নাওরা

৪৬–শেষার্ধ·💔
মেঝেতে কাগজের ছেঁড়া পাতার খণ্ড-অংশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে। বেডের কিনারা ঘেঁষে সুখ বসা। শাড়ির লম্বা আঁচল গড়াগড়ি খাচ্ছে মেঝেতে।কালো পাড়ের সাদা শাড়ি।এলোমেলো মাথার চুল।

স্টেইনলেস ধাতু’র পাত্রে ধোঁয়া সমেত দাউদাউ জ্বলছে অনল। সিলভার ধাতুর নিচ অংশ ক্ষণে ক্ষণে র-ক্তাভ হয়ে ওঠে।কোলের কাছে অবহেলায় ঘেঁষে থাকা ডায়েরি’ থেকে একেকটা পৃষ্ঠা ভীষণ.. ভীষণ নির্মমতা দেখিয়ে টেনে হিঁচড়ে অগ্নিতে ছুঁড়ে দিচ্ছে সুখ। ঠোঁট কাঁপছিল থরথর। অথচ নিথর তার দৃষ্টিযুগল। চোখে জল শুকিয়ে গেছে।

এসব অগণিত পৃষ্ঠা;তাতে খচিত রঙ-বেরঙের কালিতে লেখাগুলো কেবল শব্দ ছিল না।এর প্রতিটি লাইনে, প্রতি কোণায়, আনাচে-কানাচের এক এক শব্দে বেশ যত্নে আটকে আছে সুখের একমাত্র শখের কল্প পুরুষের জন্য হৃদয়ের বিগত চার বছরের সুপ্ত অনুভূতি, তার আবেগ, তার ছোট-ছোট ছেলেমানুষী; পাগলামি‌র উদ্দীপ্ত প্রমাণ।ছড়িয়ে আছে অপ্রমেয় বন্দীত্ব ভালোবাসা।না পাওয়ার কিছু চাপা আর্তনাদ।

বাকশূণ্য চোখে প্রজ্বল্লিত পাবকে চেয়ে রয় সুখ। জোয়ারের ঢেউ যদি আচমকা তীরে এসে আঘাত হানে, অথবা ঘুটঘুটে অন্ধকার রাতে প্রচন্ড ঝড়ের তাণ্ডবে সমুদ্রের বুক যেমন উথলে ওঠে; তেমনি হাহাকারে গর্জে উঠছে অন্তঃকরণ। অথচ উপরে উপরে সে ঠিক ততোটাই শান্ত দীঘির মতো নিশ্চল।যেন কোন নারী মূর্তি।তার মাঝে প্রাণ আছে অথচ তাকে দেখতে কেমন নিষ্প্রভ।

দোর আটকানোর শব্দ কানে পৌঁছায়নি সুখের। মনে হয় তালা লেগে আছে কানে।

বর্ণ ঢোক গিলে আস্তে-ধীরে পা ফেলে এগিয়ে আসে।পায়ের নিকটে পিষ্ট হতে চাওয়া কিছু পৃষ্ঠা কুড়িয়ে হাতে তুলে।নজর বুলিয়ে নেয় বার কয়েক।
প্রতিটি পৃষ্ঠা, প্রতি অক্ষর নিজে নিজেই যেন কানের গোড়ায় বলে দিচ্ছিল,

‘ আফসিয়ান বর্ণ!এতে শুধুমাত্র তোরই নাম নিবেদিত!’

‘ ফুল..!’ – ফাঁকা ঢোক গিলে ধপ পাশে বসে পড়ল বর্ণ।জিমে গড়া শক্তপোক্ত শরীরটাও ঝেঁকে উঠে আকম্মাৎ।

সুখ চোখ তুলে একনজর চেয়ে দৃষ্টি ফিরেছে আনে। শুষ্ক মুখ।থমকে যাওয়ার মতো স্থির চোখে গভীর মনোযোগ এক এক পৃষ্ঠা ডায়েরির বুক থেকে ছিনিয়ে আগুনের জলন্ত মুখে আহার দিচ্ছে যেমন।
কিছু পৃষ্ঠা বাঁচার তাগিদে পালিয়ে উড়ে আশেপাশে চলে যায়; বাকিগুলো নিদারুণ যন্ত্রনায় পুড়ে ছাঁই।

একটা পাতায় বর্ণ’র স্ক্যাচ ছিল।গিটার হাতে; ঠোঁটের কোণে মাইক্রোফোন; কপাল কুঁচকে, এক চোখ টিপে, কিঞ্চিৎ ঘাড় বাঁকিয়ে অপর হাত সামনে তাক করে আছে তর্জনী ইশারা করে ।খুব আকর্ষণীয় লাগছে মঞ্চে দাঁড়ানো রকস্টার আসফিয়ান বর্ণ’কে।অতি যত্নে এঁকেছিল সুখ।নিচে একটা লেখা দেখা যায়।যেন স্ক্যাচের দিকে মন্ত্রমুগ্ধ চোখে একদৃষ্টে চেয়ে থাকতে থাকতেই আহ্লাদী সুরে ঠোঁট উল্টেপাল্টে সুখ লিখেছে,

‘ শুনুন না শখের পুরুষ!আপনি একদিন… আমার হবেন তো?’

লেখাটি মাঝখানে কলমের সরু রেখা টেনে কেটে দেয়া হয়েছে আবার। এবং তার পাশে পুণর্বার লিখেছে প্রচন্ড অভিমান বুকে চেপে,

‘ স্যরি..ভুল বলে ফেললাম। আপনাকে আমি আর চাইবো না। কক্ষোনো না!’

আগুনে ছুঁড়ার আগে হঠাৎ বর্ণ’র দিকে পাতাটি এগিয়ে দিল। হুটহাট। কেন কে জানে?

সুখের দেয়া কাগজটি হাতের মুঠোয় চেপে বুকে,গলায় হাত ঘঁষে বর্ণ। আগুন যেভাবে তার নামে লেখা অনূভুতি মালা, অভিযোগ সমগ্র, বোবাফুলের দীর্ঘকালের অব্যক্ত ভালোবাসা বড্ড সাচ্ছন্দ্যে গ্রাস করে নিচ্ছে; তেমনি তার হৃৎপিণ্ডে যেনো স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে শোষণ করে নিচ্ছে কিছু একটা। অনূভুত হচ্ছে ওই পৃষ্ঠা গুলোর সাথ-সাথ তার বুকের বাঁ পাশে অবস্থিত হৃদযন্ত্রটাও বোধহয় দাউ দাউ জ্ব লে পুড়ছে। শরীরটা হীম হয়ে আসতে চায়। বর্ণ কাঁপা গলায় বিড়বিড় করে,

‘ ফ্_ফুল.. স্টপ! ডোন্ট ডু দিস।’ — তৃষ্ণায় কাতর পথিকের মতো ছটফট করে উঠল বর্ণ। হামাগুড়ি দিয়ে সুখের পাশ ঘেঁষে মুখটা দুহাতের আঁজলায় তুলে বলল অদ্ভুত কাতর স্বরে,

‘ এই লেখা; এই কথাগুলো তোর ঠোঁট থেকে পড়ে নেওয়া এখনো বাকি আছে আমার ফুল।এমনটা করিস না প্লিজ।’

কোল থেকে সুখের নিস্তেজ হাতটা টেনে নিজের বুকের বাঁ পাশে রেখে বলল,

‘ দ্যাখ, হৃদয়ে রক্ত/ক্ষরণ হচ্ছে। শ্বাসরোধ অনুভূতি হচ্ছে তো!ডু ইয়্যু পারসিভ?’

মোটা মোটা দুটো ডায়েরি। একটাই কোন পৃষ্ঠাই অবশিষ্ট নেই।সব জ্বলে পুড়ে ছারখার। আধো-ছেঁড়া অপর ডায়েরি নিজের কাছে নিয়ে এলো বর্ণ। সেকেন্ডের জন্য বুকে চেপে প্রলম্বিত শ্বাস ছাড়ে ক’বার।

সুখ নিরুত্তাপ।অধিক শোকে পাথর বনে স্তব্ধ হওয়া মানুষের মতো নিস্তেজ চোখে তাকিয়ে রইলো।একসময় ধীরে হাত এগিয়ে বর্ণকে ছুঁতে গিয়েও গুটিয়ে নিল, কঠোর মুখভঙ্গি করে দরজা দেখিয়ে বুঝাল,

‘ চলে যান এখান থেকে!এই রুমে আপনার প্রয়োজনীয়তা নেই!’

‘ নো.. নোপ! এভাবে কীভাবে যাই বল?তুই আমায় ভালোবাসিস ফুল। আরেকবার সেটা স্বীকার কর।দ্যাখ তখন আমি কী করি!’

‘ বার বার সেই একই কথা; -তুই আমাকে ভালোবাসিস ফুল’! আর কতোবার বলবো আমি বাসি না ভালো আপনাকে!’

‘ তো কাকে বাসিস? ডক্টরকে?’

শক্ত চোখে অল্পক্ষণ তাকিয়ে সুখ মাথা ঝাঁকায়,

‘ হ্যাঁ! তাই তো বিয়েতে রাজি হয়েছি। এবং ওনার জন্য খুব শিঘ্রই বউও সাঁজবো’ –ভেতরটা গুঙ্গিয়ে উঠল সুখের।তবু, দুহাত মুঠোবন্দী রেখে কঠোর হয়ে থাকল।

বর্ণ কপালে হাত ঘঁষে হঠাৎ ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে ফেলল,

‘ সেতো ওয়াক্ত-ই বলে দেবে।’

চোখ দুটো আচানক করুণ হয়ে এলো। আস্তে-ধীরে হুট করে নিজের দুকান ছুঁয়ে বলল বাচ্চাদের মতো,

‘ অভিমান পাহাড় চূড়া ছুঁয়েছে তো?এই দ্যাখ কান ধরছি আর কখনো কোনদিন আঘাত করবো না তোর মনে।’

থেমে অত্যন্ত ধীর লয়ে, বক্ষস্থলের বাঁ পাশে ইশারা করে, -‘ জানিস,এই বুকের ভেতরে প্রচন্ড অনুভূতির অভাব।আমার কোন পিছুটান ছিল না ঠিক ততোদিন পর্যন্ত; যতোদিন তুই আমার কাছ থেকে গুটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা না করেছিস। আমাকে হতাশায় ডুবিয়ে ৬ ঘণ্টা ১৫ মিনিট অর্থাৎ ২২৫০০ সেকেন্ড লাপাত্তা ছিলি। আর জানিস,ওই সময় প্রতি মূহুর্তে মনে হচ্ছিল আমার ভেতরের আমিটা আর নেই। নোওয়্যার ইন মাই হার্ট ইজ অ্যাট পীস!অদ্ভুত না?এরপর তোকে রক্তাক্ত অবস্থায় পেলাম, তোকে ছুলাম যখন; ঠিক তখনই আবার মনে হলো –এই বুঝি দেহে অল্প একটু প্রাণ ফিরে এসেছে।এটাও বুঝলাম -পারহাপ্স,আ’ম এডিক্টেড টু ইয়্যু আন-ইনটেনশনালি!তুই ছাড়া আমি অপূর্ণ।ওই মূহুর্তে প্রতিজ্ঞা করেছি তোর এই পরিণতির পেছনে যে আর যারা…

চুপ হয়ে কথার সুর পাল্টে নিল বর্ণ। সুখের গালে হাত রেখে উম্মত্ত গলায় বলে গেল,

‘এই বাড়ি-ঘরের প্রতি মায়া কাজ করতো না আমার। আজকাল মনের ভেতর একটা তাড়া খুঁজে পাই তোকে একঝলক দেখার অযুহাতে। কখনো কখনো এমন মনে হয় –জীবনের এই প্রথম কোথাও শান্তি খুঁজে পেয়েছি। আমার তোকে ভীষণ প্রয়োজন ফুল।সুইটহার্ট, আই নিড ইউ্যু সো বেডলি।আই ওন্ট লস ইয়্যু।যা কিছু হয়ে যাক।শুনেছিস তুই, মেমোরিতে সেট করে নে।’

একটু থামল বর্ণ’। ঠোঁট কামড়ে জোরে জোরে নিঃশ্বাস ছাড়ে।সুখ নির্বাক চোখে চাতক পাখির মতো তাকিয়েই রইল শুধু।বর্ণ’র ঠোঁটের দিকে। ঠোঁট থেকে নির্গত প্রতিটি অদৃশ্য শব্দের দিকে।

বর্ণ এরপর আবার মুখোমুখি হল।খুব নিকটে গিয়ে ফিসফিসিয়ে বলল,

‘ মাই ফ্লাওয়ার কুইন ইয়্যু ডোন্ট নো।আমি এতোটাই পাওয়ারফুল যে তোকে এই মূহুর্তে এক লহমায় নিজের করে নিতে পারি, যা-চ্ছে করে।বাট, আই ওন্ট ডু দ্যাট।ততোক্ষণ পর্যন্ত তোকে দ্বিতীয় বার জিতে নিতে চাইবো যতোক্ষণ না ডক্টর দুলহা রাজা বেশে বিয়ের গাড়িতে চড়ে বসছে।’

‘ এরপর কী করবেন?’ —নিস্পন্দ চোখ বেয়ে টুপ করে একবিন্দু অশ্রু দানা গড়িয়ে পড়ে অবচেতনেই।

বর্ণ চুপিসারে ঠোঁট বাঁকিয়ে অল্প হাসল বৈকি। প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেল,

‘ সেদিন দুঃখ দেয়ার পরও তুই আমায় ভালোবেসেছিলি।এখন কেনো মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছিস?ভালোবাসি বল না!ব্যাস একবার! প্লিজ জান..’ —ভালোবাসি শব্দটি পুণর্বার সুখের ঠোঁটে ফুটাতে উম্মাদ হয়ে উঠল বর্ণ।জিভে ঠোঁট ভিজিয়ে হাতের আঁজলায় সুখের মুখখানি তুলে।

ঠোঁটে কামড়ে ধরে সুখ।অ-শব্দে অশ্রু গড়ায় বিরামহীন।বর্ণ মুছে দিতে চাইলে হাত ঝাড়া মেরে সরিয়ে দেয়।

আচমকা…

আগ্রাসী হয়ে অশ্রুসিক্ত চোখে বর্ণ’র বুকে এলোপাথাড়ি কিল ঘুষি মারতে শুরু করে,

‘ভালো বাসলেও দোষ; না বাসলেও দোষ।কী করবো আমি?মরে যাবো? যাচ্ছিলামই তো মরতে। তবে, বাঁচিয়ে এনেছেন কেনো?’

‘ ফুল..!’ —বলতে দিল না সুখ। আঙুলে ঠোঁটে চেপে ধরে থামিয়ে দেয়, কপালে ঠেকাল সেখানে। বুকের কাছে খামচে ধরা শার্টে নখ বিঁধে যায়।বর্ণ কিচ্ছুটি বলল না, চুপ রয়।সুখ কাঁদছে।থরথর কাঁপছে দেহ।

একসময় সরে আসে। অশ্রু গলিত চোখে বলল,

‘ কেনো করছেন এসব?এখন আর ভালোবাসি না বলায় ইগোতে লেগেছে খুব?জেদ চেপেছে মনে? ছেঁড়ে দিন না এসব জেদ। আমাকে হারালে আপনার আহামরি ক্ষতি হবে না।আপনি তো চাঁদ। হাজারো নক্ষত্ররাজি আপনাকে ভালোবাসবে!’

বর্ণ’র চোখ জোড়া টগবগে লাল।শীতল দৃষ্টিতে অপলক চেয়ে থাকার মাঝে হুট করে মৃদু হাসল সে। সুখের এলোমেলো চুলগুলো জোরপূর্বক অধিকার কাটিয়ে মুখ থেকে সরিয়ে কানের পিঠে গুঁজে বলল,

‘ আমার বোকা ফুল.. চাঁদের আশে-পাশে হাজারো নক্ষত্ররাজির বসবাস যেমন সত্য; সেই বাহানায় তাদের সাথে চাঁদের বনিবনা কখনো হবার নয় এটাও চিরন্তন সত্য।তাকে সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে আলোকিত হতে হয়।’
—বর্ণ নিজের দিকে ইঙ্গিত করে, -‘আর এই চাঁদকে আলোকিত করার সূর্যও একজনকে নির্বাচন করে নিয়েছে চাঁদ নিজেই। সেটা হলি তুই!হবি আমায় আলোকিত করার মূল উৎস? ’

চোখের কৌটা ভরে আছে অশ্রুতে। দুদিক মাথা ঝাঁকায় সুখ,

‘ এই সূর্য আপনাকে কলঙ্ক ব্যতীত রশ্মি দিতে পারবে না কখনো।আমি আপনার হতে পারব না।হতে পারি না! প্রয়োজনে এই জীবন নিশ্চিহ্ন করে দিবো; তাও না!’

দাঁতে দাঁত চেপে সুখের দু বাহু জোরে চেপে ধরল বর্ণ।ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে বলল,

‘ দোষ স্বীকার করে নিয়েছি।আত্মসমর্পণ করেছি তোর সামনে। এটাই তো চেয়েছিলি তুই!তবু, পিছু ফিরতে কীসের বাঁধা?কেনো পারবি না? বল কেনো?’

সুখ অশ্রু বিসর্জন দিয়ে গেল কেবল। দুহাত চোখ ঢেকে চুপসে গেল। এই ‘কেনো’র প্রত্যুত্তরে যদি বর্ণ একবার সুখের হৃদস্পন্দনে কান পাততো।তবে প্রতিটি ছন্দে ছন্দে গর্জন শুনতে পেতো,

‘ ভালোবাসি তাই! ভালোবাসি তাই! ভালোবাসি তাই!’


সন্ধ্যা নেমে এলো বলে।কাঁধে ভাঁজ করা জামার স্তুপ নিয়ে রুমের সামনে ভ্রু গুটিয়ে দাঁড়াল তুহফা।ছাদে শুকাতে দেওয়া জামা-কাপড় নিয়ে ফিরছিল সে।

সুখের রুমের দরজার নিচ দিয়ে ধোঁয়া ধেয়ে আসছে ফিরফির।কান পেতে তুহফা হালকা ধাক্কা দিল ।খুলছে না, দরজা ভেতর থেকে লকড।বার কয়েক ধাক্কিয়ে ডাকল,

‘ সুখ.. সুখ.. ভেতরে থাকলে ডোর খুল।এতো ধোঁয়া কীসের?’

সাড়াশব্দ না পেয়ে শঙ্কায় ভীত হল।লিফট ধরে দ্রুত নিচে নেমে মামা-মামিকে ডেকে নিয়ে এলো পুণরায়। রুবাইয়্যাত অস্থির কন্ঠে ডাকতে শুরু করেন,

‘ সুখ.. আম্মা তুমি ঠিক আছো?দরজা খুল মা আমার !’

বাড়িতে কোন পুরুষ বর্তমান নেই।রুম থেকে তড়িঘড়ি করে চাবি নিয়ে দরজা খুলা হলো।

মৃদু আলো জ্বলছে কক্ষে। ফাঁকা ফ্লোর। ছেঁড়া-কাঁটা পৃষ্ঠার লেশমাত্র নেই আর।পাত্রে ধোঁয়া উড়ছিল তখনো।সুখ নিকটেই থম মেরে বসা। রুবাইয়্যাত ছুটে গিয়ে মেয়েকে ধরতেই ধুম.. করে চোখ বুজে ঢলে পড়ল কোলে। জ্ঞান হারিয়েছে।

রাতে গা কাঁপিয়ে জ্বর আসে সুখের। ডক্টর নিয়ে এলেন তামিজ শিকদার।

‘ অতিরিক্ত শক পেয়ে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন হ্রাস যাওয়ায় জ্ঞান হারিয়েছে!’ —ডক্টর আশরাফ পর্যবেক্ষণ করে জানালেন।

শকড!অপর নাম চমক!বিষ্ময়!কী ঘটেছিল বদ্ধ কক্ষে? প্রশ্নাতীত চোখে পরষ্পরের চোখাচোখি হল ক্ষণকাল। রুবাইয়্যাত সন্দেহি চাহনিতে তাকালেন তুহফার দিকে,

‘ ওর সাথে তুই ছিলি না তুফ?’

সে দুদিক মাথা দুলিয়ে ‘না’ বুঝাল।আজ সারাবেলা একা থাকতে চেয়েছে সুখ। বাহিরে বের হয়নি রুম ছেড়ে। ঘাপটি মেরে বসেছিল। অগত্যা কেউ জোরাজুরি করেনি তাকে।তবে প্রশ্ন এখন একটাই –কোন বিষয়ে শক পেয়েছে সুখ? ধোঁয়ার আগুনে কিই বা ছাই হলো?

(বদ্ধ দরজার ওপারে থাকা বর্ণই বা গেল কই?)
#চলবে🥀

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here