#আমার_বোবাফুল(৫৩.১)
#তৃপ্তি_এহসান_নাওরাহ্
৫৩–প্রথমার্ধ·
‘ একটা কথা বলবো বলবো করেও বলা হয়নি।আজ বলেই ফেলি। তোমাকে দেখার প্রথম দিন আমার হসপিটাল কিন্তু ছিল না সুখ। হয়তো তোমার মনে নেই –তারো আগে আমাদের আরো তিনবার সাক্ষাৎ হয়েছে।কখন, কোথায়, কীভাবে সেটার ব্যাখ্যা না দেই আজ।সেই তিন সাক্ষাৎকারে একটা কমন ব্যাপার কী জানো? তোমার ভীতু চাহনি আর নিশ্চুপতা। প্রথম দেখার সেই ভীতু চোখ দুটো আমি আজো ভুলতে পারিনি, ট্রাস্ট মি।না চাইতেও মনের কোণে ভেসে উঠতে হামেশাই। দিনের সকল ক্লান্তিকে ছুটি দিয়ে বিছানায় পিঠ এলিয়ে চোখ বুজলেই নয়নতারায় ভেসে উঠতো তোমার ভীতু মুখখানি। তোমার শহরে তোমায় খোঁজতেও গিয়েছিলাম দু দু বার; পাইনি। এরপর হঠাৎ একদিন হসপিটালে একটা রক্তাক্ত দেহ এলো।এই রকস্টারও না ,পাগলটে স্বভাবের আছে কোন সন্দেহ নেই। বন্ড্ ব্যাপারে সাইন না করার আগে পেশেন্টের অপারেশন সম্ভব নয় বলতেই কীভাবে চড়াও হয়েছিল আমার উপর। আঙ্কেল না সামলালে হয়তো এক ঘুসিতে আমাকেই হসপিটালের বেডে শুইয়ে দিতো। এরপর ও.টি’তে ঢুকলাম। প্রথম দেখায় তোমার চিনতে পারিনি।পরে যখন চেহারা থেকে র-ক্ত পরিষ্কার হয়ে গেল, আমি প্রায় স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম এক মূহুর্তের জন্য।এই তো সেই মুখ, যেটা রোজ আমার চোখের তারায় ভেসে উঠে। অতঃপর তোমার সাথে বন্ধুত্ব পাতলাম। এরআগে এটাও জানলাম তুমি কথা বলতে অক্ষম।বলা হয়— ‘হৃদয়ে ভালোবাসা জাগাতে একটা সুন্দর মূহুর্ত অথবা এক নজরই যথেষ্ট।’ জানি না কথাটা পৃথিবীতে কে উপলব্ধি করেছিল সর্বপ্রথম।তবে,কথাটি যে রটিয়েছে সে কিন্তু ঠিকই বলেছে।
ভালোবাসি কী না জানি না ।তবে তোমার ভাবনায় মশগুল হলে হৃদয়ে অদ্ভুত এক প্রশান্তি অনুভব হয়। মস্তিষ্কের যতো ধকল সব যেন ফিকে হয়ে আসে। তোমার অক্ষমতা নিয়ে আমার কোন মাথাব্যথা নেই সুখ। তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে মনের না বলা কথা পড়ে নেওয়ার কঠিন প্রশিক্ষণ নেবো নাহয়।’
.…
এমনি কিছু মেসেজ সুখের ফোনে প্রবেশ করেছিল সেদিন মেহরাবের নাম্বার থেকে। প্রবেশ মাত্রই তার নম্বর ব্লক করে দেয়া হয় পরপর।আসফিয়ান বর্ণ’র প্রজ্ঞায়। জীবনের এই পর্যায়ে এসে তার হৃদয়ের কোথাও না কোথাও শঙ্কা জেঁকে বসেছিল। ডক্টরের এই লেখা পড়ে যদি ফুল দূর্বলতা অনুভব করে ডক্টরের প্রতি?যদি তার নাম মুছে হৃদ কুঠুরে ডক্টরের নাম লেখা শুরু করে?এমনটা হওয়ার কথা নয়!হতে দেওয়া যায় না। ফুলের হৃদয় কেবল আসফিয়ান বর্ণ’র রাজ চলবে আ-জীবন,আ-মৃত্যু!
ঠিক তেমনি ডক্টরের মনেও ফুলের জন্য অনুভূতি বাঁচিয়ে রাখাটা অপরাধ।তাই জেসি বা যে কারো সাথে তার বিয়েটা হওয়ার প্রয়োজনীয়তা ছিল। এখন ক্লান্তিদের ছুটি দিয়ে চোখ বুজে ফুলের কথা ভাবার আগে অন্য নারীর প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠবে ডক্টর মেহরাবের মনস্পটে। নৈঃশব্দ্যে বুঝিয়ে দেবে এটা অপরাধ,পাপ।
ঠোঁট গোল করে শিস বাজিয়ে বর্ণ মেসেজ খানা পুণরায় সেইভ করে রাখে। এরপর ছুঁড়ে ফেলার মতো ফোন রেখে দেয় ড্রয়িং টেবিলে। একবার ঘাড় কাত করে বেডের দিকে চায়।সুখ ঘুমিয়ে যাওয়ার ন্যায় চোখ বুজে, কম্ফোর্টার বুক অব্দি। অথচ বর্ণ’ তুড়ি মেরে বলে দিতে পারে ফুল এখনো জেগে।
•
চোখ লেগে এসেছিল প্রায়ই।কিছু শব্দগুচ্ছের অবিরত নির্যাতনে হুমমুড়িয়ে চোখ খুলল সুখ। ফ্যালফ্যাল চোখে শব্দের উৎস খুঁজে। ওইতো পায়ের দিকে,বেডের কিনার ঘেঁষে ল্যাপটপ হোল্ডারে ল্যাপটপ চলছে নির্বিকার।বেডে আধশোয়া হয়ে তাতে একদৃষ্টে চোখ স্থির রেখেছে বর্ণ। সুখের পাশেই, কিছু দূরত্বে তার অবস্থান। ফোঁস করে শ্বাস ছাড়ে সুখ। শব্দের তীব্রতা বাড়ছে ক্রমশ।উঠে বসে।এই গভীর রাতে কী এমন দেখে মহাভারত উদ্ধার করছে?অতিষ্ঠে চোখ ঘুরালো ল্যাপটপে। অচিরেই চোখ পাকিয়ে আসে।
মুভি চলছে। পটর-ফটর ইংরেজিতে কথা বলছে সেখানে।হিরো হিরোইনের বিশেষ সিন চলমান। পরষ্পরকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে গভীর চুম্বনে লিপ্ত হওয়া সিন। শক্ত করে চোখ খিচল সুখ।কতোবড় খারাপ..নির্লজ্জ মানুষটা!এসব অশ্লীল জিনিস দেখে?আওয়াজ তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছিল।মাথা ভনভন করে উঠে সুখের। কঠিন চোখে বর্ণ’র দিকে তাকাল।তার ধ্যান জ্ঞান সব যেনো ল্যাপটপেই ঢুকে বসে রয়েছে। পৃথিবীর অন্যকিছুকে প্রাধান্য দেওয়ার সময়ই নেই।
সুখ আরো এক নজর ল্যাপটপ স্ক্রিনে দেখল।নর-নারীর আদর মোহাব্বত গভীরে যাচ্ছে ক্রমশ। একদৃষ্টিতে লোকটা ওদিকে কীভাবে চেয়ে আছে দেখো! ইচ্ছে করছে…!ইচ্ছে তো অনেক কিছুই করে,সব কী পূরণ হতে আছে?
দুহাতে কান চেপে শুয়ে পড়ে সুখ।নাহ , কর্ণকৌঠরে ল্যাপটপ থেকে ধেয়ে আসা আওয়াজ এতো জোরে ঠেকছে যে হাঁসফাঁস শুরু হয়েছে।হয়তো আওয়াজ গুলোর প্রতি ঘৃণা ধরেছে বিধায় আরো পীড়িত হচ্ছে মস্তিষ্ক।কানের উপর বালিশ চাপা দিয়েও রেহাই পাওয়া গেল না। তুলতুলে নরম বালিশ ভেদ করে ঠিকই আওয়াজ পৌঁছে যাচ্ছে।
ফের উঠে গেল।কটমট করে দাঁতে দাঁত চেপে একদৃষ্টিতে বর্ণ’র নিরুত্তাপ মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। ঘাড় মটকে দেওয়ার বাসনা জাগছে এবার। বর্ণ’র হাত উঠে আসে আচানক। আলগোছে সুখের চোয়ালে চেপে মুখশ্রী ঘুরিয়ে দিল ল্যাপটপের দিকে।মুখ খুলল–
‘ ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে এভাবে একবার কিস করতে দে! সোয়্যার,পরবর্তী এক সেকেন্ডের মাঝে রুমে নিরবতা নেমে আসবে।’
কান দুটো ঝিনঝিন করল উঠে বোধকরি। উষ্ণ ধোঁয়া বের হচ্ছে যেমন। সুখের চোখে বিষ্ফোরণ!শক্ত হাতে চাদর খামচে ধরে।কিস?তাও ওমন অশ্লীল ভাবে!
কক্ষে আলো জ্বলে উঠল;ব্রাইটনেস নেহাৎ কমিয়ে রাখা।।সুখ জানতে চায় দাঁতে দাঁত নিষ্পেষিত করে,
‘ সব সময় এই বাজে জিনিস গুলো দেখেন?’
‘ কেনো?’
‘ আগে জানলে কখনোই…’ – ঠোঁট নড়ল সুখের।বর্ণ লিপ রিডিং করে বলল ধূর্ত হেসে,
‘ কী? ভালোবাসতি না?’
ক্ষিপ্র চোখে চেয়ে,সুখ মুখের ভেতর বিড়বিড় করে,-‘ কখনোই না! নষ্ট পুরুষ!’
‘ আমি ওতোটাও নষ্ট নই জানেমান; যতোটা তুই ভাবছিস।ব্যাস তোর জন্যই নাহয় অল্পবিস্তর নষ্ট পথে হাঁটা ধরলাম আজ থেকে।তবে এটাও বিশ্বাস রেখে ঠকবি যে আমি সভ্য পুরুষ!’
–বাচ্চাদের মতো ঠোঁট উল্টে কন্ঠ মণিতে হাত ছুঁয়াল। এরপর বলল আবার,-‘তোকে কাছে পেতে কতোটা উঠে পড়ে লেগেছি,তুই ফিরেও দেখছিস না;নির্দয়া তুই পাষাণী!খুব শিঘ্রই তোকে কঠিন কায়দায় শায়েস্তা করব!’
মুখশ্রী তেজ হারায় তখনই, অদ্ভুত করুণ চোখে অদৃশ্যে চেয়ে থাকে সুখ। তাচ্ছিল্য হেসে বর্ণ’র চোখে চোখ রাখে হঠাৎ করেই।
‘ অপ্রত্যাশিত ভাবে যা পেয়েছি,যা পাচ্ছি, বাকি জনম-ভর যা বয়ে বেড়াতে হবে;এর চেয়ে কঠিন শাস্তি কী আর হতে পারে এক জীবনে?’
শুয়ে পড়তে চায় সুখ। পুরোপুরি সফল হয়না, টান পড়ে আঁচলে।বর্ণ হাতের মুঠোয় আঁচল পেঁচিয়ে একটানে সুখকে মুখোমুখি নিয়ে এলো। শীতল অথচ গম্ভীর গলায় বলে–
‘ কে?কে দুঃখ দিয়েছে শুধু একবার বল আমায়?অবশ্য তুই নিজ থেকেই বলবি যখন আমি চাইব।আমার উপর রাগ, ক্ষোভ ঝাড়ার সময় দিয়েছি না?তুই-আমি, আমাদের মাঝে আপাতত থার্ড কোন টপিক আনতে চাইছি না। আড়ালে আড়ালে আরো কদিন প্রাণভরে কেঁদে নে! এরপর অশ্রুদের ছুটি!’
•
‘কাঁদছো যে?ঘুমোওনি এখনো?মেয়ে তো দূরে যায়নি।একই বাড়িতেই আছে!’
রুবাইয়্যাত চোখের অশ্রু মুছে।পাশ ফিরে চায়। কাতর স্বরে বলে উঠে,
‘ আপা বোধহয় সুখকে মন থেকে মেনে নিতে পারেনি বর্ণ’র পাশে!’
শুয়েছিলেন তামিজ সাহেব।উঠে গেলেন। স্ত্রীর দিকে অল্পক্ষণ তাকিয়ে প্রলম্বিত শ্বাস ছাড়লেন।কী বলবেন তিনি?এমন কথার বিপরীতে কিছু বলার থাকে?
‘ নিষেধ করেছিলাম ছেলেটাকে।এখন সে যদি নিজের চাওয়ায় অটুট থাকে,এতে আমাদের কী করণীয়?তুমি খুশি নও?’ —যদিও তিনি জানেন এই বিয়েতে সবচেয়ে খুশি রুবাইয়্যাত।
‘ সুখ আমার চোখের সামনে থাকবে। আমার মেয়ে, আমার সোনা মা।আর আমি খুশি হবো না?’–প্রফুল্ল চিত্তে বলে উঠে ভদ্রমহিলা।তামিজ সাহেব তার হাত ধরলেন।
‘ ঘুমোও এখন।ভাবীকে বর্ণ সামলে নেবে!’
•
তুহফার চোখে ঘুম নেই। এদিক থেকে ওদিক ছটফট করতে করতেই বিতে যাচ্ছে রাত।চোখ বুজলেই একটি হৃদস্পন্দন থমকে যাওয়া দৃশ্য ভেসে উঠছে বারংবার।তখন সাপ দেখে চিৎকার করতে মুখ খুলেছিল সে। পরপরই চিৎকারটা গলায় আটকে রইল, যখন মাহিরের আঙুল এসে তার ঠোঁট দুটো ছুঁয়ে দিল। ইশশ্ কী যে দমবন্ধকর অনুভূতি।এক মূহুর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল তুহফা।গত রাতে লিফটে হলুদ ছোঁয়ে দেওয়ার দৃশ্যটাও এসে হাজির হলো চোখের তারায়। ধড়ফড়িয়ে উঠে বসল সে।গলা শুকিয়ে এসেছে।পানি পান করা অতি প্রয়োজন।
‘ আপু এই ঠান্ডায় যাও কোথায় ?’ —ঘুমু-ঘুমু গলায় ইবরাত জানতে চায়।তুহফা হাঁসফাঁস করে, এলোমেলো অনুভূতিতে হৃদয় ভার।গলার স্বর আমতা আমতা,
‘ আব.. প-পানি পানির তেষ্টা পেয়েছে।তুই এখনো জেগে আছিস?’
‘ ঘুমিয়েছিলাম তো। কিন্তু তুমি ঘুমাতে আর দিলে কোথায়? যেভাবে একাত-ওকাত নড়ছিলে! আরামের ঘুমটাই ভেঙ্গে গেল!’
‘ স্যরি রে।আমি আসলে…’
‘ থাক! আমার চোখে এখনো ঘোর। ঘুমাই আমি।বেশি কথা বললে ঘুম পালিয়ে যেতে পারে।গুড নাইট!’ —মুখের উপর কম্ফোর্টার তুলে দিল সে।তুহফা ফোঁস করে শ্বাস ছাড়ে। অযথাই বুকটা ধড়াস ধড়াস করছে অস্থিরতায়। এমন কেনো হয়?
•
আইজা কক্ষে প্রবেশের পর থেকেই থম মেরে বেডের এক কিনারে বসে। প্যাচপ্যাচ কাঁদছেন।রাগ ঝাড়ছেন স্বামীর উপর।
‘ আমি কী ওর মা নই?নাকি মা হিসেবে মানেই না?বিয়ে করবে ভালো কথা।আমাকে একবার জানানোর প্রয়োজন বোধই মনে করলো না। এতোটা নগণ্য হয়ে গেছি?’—নাক টেনে আঁচলে মুখ মুছলেন।আযাদ সাহেব নিরুপায় মুখে বললেন,
‘ আমাকেও তো বলেনি কিছুই!’
মুখ ঝামটা মেরে অন্যত্র ঘুরে গেল আইজা।সময় গড়ায় অল্পক্ষণ।ফের বলল–
‘ পৃথিবীতে এতো এতো মেয়ে থাকতে সুখকেই বা কেনো মনে ধরল ওর?’
‘ কেনো?সুখের মাঝে কীসের কমতি?’
•
ভোরের পাখি ডাকছে কিচিমিচি। আজকের ভোরটা অন্যরকম, কোমল-স্নিগ্ধ। মৃদু হাওয়ায় যেনো বইছে প্রেমের সুরগান।
সুখ তখন ঘুমে বিভোর।মুখের উপর আঁচড়ে এসেছে অবাধ্য চুলগুলো।ছোট বাচ্চারা রেগে গিয়ে অভিমানে যেমন নিম্নাষ্ঠ উল্টে মুখ গুঁজ করে রাখে, তেমনি সুখের ঠোঁটও উল্টে আছে বাচ্চাদের মতো।ফুলো ফুলো মুখশ্রীটা কী স্নিগ্ধ, মোহনীয় লাগছে ঘুমন্ত মেয়েটা যদি জানতো!বর্ণ ডান হাতের কুনুই বেডে ঠেস দিয়ে,হাতের মুঠোয় মাথা এলিয়ে একদৃষ্টে চেয়ে রয় ঘোর লাগা চোখে। চেয়ে থাকার মাঝে ঠোঁট দুটো বড্ড নিশপিশ করছে ওই উল্টেপাল্টে থাকা ঠোঁটটা একবার ছুঁয়ে দেখতে। পরক্ষণে বর্ণ নিজেকে সংযত করে।এখনো সময় আসেনি।সে নিজ থেকে কোন পদক্ষেপ নেবে না, যতোক্ষণ না ফুল নিজেই নিজেকে শপে দিচ্ছে।
বাঁ হাতটা বাড়িয়ে দেয় আলগোছে।মুখের উপর থেকে চুল সরিয়ে কানের পিঠে গুঁজে দেয় প্রেমিক পুরুষের মতো।তবে… প্রেমিকার ঠোঁটে লাজুক হাসিটা মিসিং। বর্ণ ঠোঁট কামড়ে সুখের ঠোঁটটায় বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে স্লাইড করে।ঢোক গিলে পরপর। পুরুষালী বক্ষস্থলে আলোড়ন উঠে।নিজেকে নিজেই সাবধান বাণী শুনায়,
‘ রিল্যাক্স বর্ণ!বি স্ট্রং,রিস্ট্রেইন ইয়্যুর ডিজায়ার!সঠিক সময় এখনো আসেনি।
নড়েচড়ে উঠল সুখ। বিরক্তিতে কপাল কুঁচকে নেয়।হিম শীতল পরশ পেয়ে অবচেতনে বর্ণ’র হাত সরিয়ে দিল, নিঃশ্বাসের শব্দ ভারী।বর্ণ ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসল হয়তো।ফের হাত রাখে সুখের গালে। খানিকটা এগিয়ে যায় সুখের কাছাকাছি।কোমল মুখটাতে হাত বুলিয়ে দিতে বেশ একটা মন্দ লাগছে না।মোম নাকি?তাপের উষ্ণতা পেলেই যেন গলে যাবে।আগে কখনো এতোটা গভীর চোখে পরখ করা হয়নি ফুলকে।আজই প্রথম… নাহ, বোধহয় তৃতীয়!
বারবার ঠান্ডা কিছুর বিচরণ অনুভব করে একসময় ঘুম ভাঙ্গে সুখের।ধীরে চোখ খুলে প্রথমেই আবিস্কার করল বর্ণ’র মুখশ্রীটা।থমকায় সে। বর্ণ’র হাত তার গালে তখনো বিচরণ করছে।সে যে জেগেছে সেটা দেখেও লোকটার মাঝে কোন প্রকার হেলদোল নেই।দ্যাখো… কেমন অসভ্যের মতো চেয়ে আছে। নিষেধ করেছিল তাকে ছোঁয়ার চেষ্টাও না করতে।তার নিষেধের কোন মূল্য নেই!চোয়াল শক্ত করে অল্পক্ষণ সেও তাকিয়ে রইলো।বর্ণ’র মাঝে ধরা পড়ে যাওয়ার কোন অস্বস্তি নেই, বিভ্রান্তি নেই, সে পূর্বের মতো নিজের কাজে অত্যন্ত ব্যস্ত। সুখের কপাল থেকে চুল সরিয়ে দিচ্ছে, ঠোঁট ছুঁয়ে দেখছে।
“আই ওয়ান্ট ডিভোর্স।” — ঠোঁট নড়ল সুখের। বর্ণ’র দৃষ্টি সেদিকেই স্থির ছিল।সে হাসল হঠাৎ।
“ ওয়ান্ডারফুল!আমাকে পার্মানেন্টলি নিজের করে পাওয়ার খুশিতে তোর গোলাপি ঠোঁট দুটো কথা ডেলিভারিতে মিস্টেক করে ফেলল সুইটহার্ট।ভোরে ঘুম ভাঙলে আই ওয়ান্ট ডিভোর্স নয় —বাংলায় সুপ্রভাত আর ইংলিশে গুড মর্নিং বলে।”
থমথয়ে হয়ে এলো মুখখানা।সুখ তবু বলল ফের,-‘‘বাট ওয়ান্ট ডিভোর্স।”
“ ওহ্ তার মানে মিস্টেক ছিল না? কোন
ব্যাপার না।গণিতে তোকে কতো ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট ভেবেছিলাম।বাট আই ওয়াজ রং।”
সুখের কপাল কুঁচকে এলো।
“ কথা হচ্ছে এক টপিকে মাঝখানে গণিত কোত্থেকে এলো? তাছাড়াও একদম মিথ্যে অপবাদ দেবেন না।আমি অবশ্যই ব্রিলিয়ান্ট-ই।”
“ তবে হিসেবে এতো কাঁচা কেনো?বিয়ে করেছি ভালো বাসা-বাসি, কাছে আসা-আসির জন্য। ডিভোর্সের জন্য নয় সুইটহার্ট!কাছে আয় আদর করি!”
#চলবে🥀

