আমার_বোবাফুল(৫০.২) #তৃপ্তি_এহসান_নাওরা

0
60

#আমার_বোবাফুল(৫০.২)
#তৃপ্তি_এহসান_নাওরা

||৫০—শেষার্ধ•বিবাহ স্প্যাশাল||
‘ রাত-বিরেতে প্রাপ্তবয়স্ক কোন মেয়ের রুমে এভাবে হুটহাট প্রবেশ করা বাহাদুরি’র কাজ নয় বরং এই হ্যাভিট ক্যারেক্টারলেস উপাধি পাওয়ার যোগ্যতা রাখে।এটা বুঝেন?’ —সে বলেছিল নিজস্ব ভাষায়। অথচ বর্ণ’র প্রতিক্রিয়া ছিল নির্বিকার।যেন কথাগুলোতে তার কিছু এলোও না,গেলোও না।শীতল চোখে অগ্নিশর্মা সুখের দিকে অপলক চেয়ে থেকেছিল কেবল। এবং অবলোকন করছিল পরবর্তীতে সুখের মুখশ্রীটা ধপ করে কীভাবে মলিন আর ব্যাথাতুর হয়ে উঠেছিল,

‘ছেড়ে দিন না এসব পাগলামী। আপনাকে ভালোবেসে ভুল করেছি তো?এই যে আমিও কানে ধরছি!’ —সত্যি সত্যিই সুখ কানে হাত রাখে,-‘ এই ভুলে দ্বিতীয় বার কখনো পা বাড়ানোর দুঃসাহস দেখাবো না। প্লিজ এবার থামুন।’

‘ ভুল!…’ —তাচ্ছিল্য মিশ্রিত হাসি ছিটকে আসে স্বর থেকে,-‘জিনিসটার সাথে শাস্তি শব্দটাও আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকে জানতিস না?তুই একটা ভুল করে কিন্তু থামিসনি।পদে পদে ভুলই করে এসেছিস কেবলি।তোর সবচেয়ে বড় ভুল ছিল —আমাকে ভালোবাসা।তোর দ্বিতীয় বড় ভুল —সেটা প্রকাশ করা।তৃতীয় বড় ভুল —আমাকে ইগনোর করা। অ্যান্ড দ্যান —রোজ আমার স্বপ্নে এসে বেচারা হৃদয়’টার স্পন্দন এলোমেলো করে দেওয়া।এতো এতো ভুলের ক্ষমা কান ধরে আর করবো না বললেই হয়ে যাবে?অথচ আফসিয়ান বর্ণ’র ডায়রীতে অণু পরিমাণ ভুলের শাস্তিও কঠোরতায় লিপিবদ্ধ।

‘ কীভাবে নিস্তার পাবো বলতে পারেন?’

বর্ণ তাকায় কোমল চোখের দৃষ্টি মেলে। চোখাচোখি হতেই নজর সরিয়ে নেয় সুখ।অশ্রু জমতে চাইছে কৌটায়।ঘনঘন পল্লব ঝাপ্টে চোখ মুখ গম্ভীর করে।বর্ণ জবাব দেয় নরম স্বরে,

‘ নেই…এর কোন নিস্তার নেই। কোন পথ অবশিষ্ট নেই। তোকে…
সারাজীবন..
আমার হয়েই থাকতে হবে।তোর ওই অন্তরে শুধু এবং শুধুমাত্র আসফিয়ান বর্ণ’র রাজ চলবে। ওখানে শুধুই আমার হক থাকবে,আ-মরণ। অন্য কারো প্রবেশের প্রশ্নই উঠে না।এটাই তোর শাস্তি।গট ইট?’

‘ কী চাইছেন আপনি?’
‘ আপাতত তুই হলেই চলবে !’

অতিষ্ঠ হয়ে হাঁফিয়ে উঠার মতো শ্বাস ছেড়ে সুখ বুঝাল,
‘ রাত পোহালেই আমি অন্যকারো…’
‘ অন্যকারো হতে এতো তাড়া?গুড!’

চাপা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে, বুকে হাত ভাঁজ করে অন্যত্র ফিরে গেল সুখ। হলুদ ছোঁয়ার ফলে মুখটা হলদেটে। সিঁথিতে রাখা কাঁচা ফুলের টিকলি’ উল্টে আছে। আড়চোখে তাকায়।বর্ণ’র হাতের মুঠোয় স্প্রের মতো দেখতে কিছু একটা। ঠোঁট গোল করে সেটা নেড়েচেড়ে হুট করে সুখের দিকে চায়। এরপর এগিয়ে এলো দু-ধাপ।

“ স্প্রেটা দেখতে সুন্দর না?”
“ কী এটা?”

“ ক্লোরোফর্ম বলে একে!”
“ যা হোক। আমাকে দেখাচ্ছেন কেনো?”

“ এর সঠিক ব্যবহার করবো আজ!ওয়ান্না সি?”
“ তার কোন প্রয়োজন নেই।”

বর্ণ ঠোঁট এলিয়ে হাসে,
“ এমন বললে তো হবে না সুইটহার্ট। স্মেলটা জাস্ট শুঁকে দেখ, ভীষণ মিষ্টি!”

বলার ফাঁকে সুখের মুখের আশেপাশে স্প্রে করে দিল, সযত্নে। আকম্মাৎ কাজে হতবুদ্ধি বনে যায় সুখ।থামিয়ে দিতে নাক কুঁচকে হাত উঁচালো ,তবে শেষ রক্ষা হয়না। পরক্ষণেই মাথা চক্কর কেটে উঠে।তার খানিক পর আলগোছে ঢলে পড়ে বর্ণ’র প্রসস্থ বুকে।মনে হলো ছোট বাচ্চা শিশুটি আশ্রয়ের খোঁজে প্রশান্তির জায়গায় মুখ লুকিয়েছে নিশ্চিন্তে।

বর্ণ সাবধানে আগলে নেয় তাকে। আয়নায় দু’জনের প্রতিবিম্ব ভেসে উঠেছে। সেদিকে লক্ষ্য রেখে বেশ খানিক্ষণ কী যেন পর্যবেক্ষণ শেষে বিড়বিড় করে,

“ ওয়াও,নাইস কাঁপল!”

ব্যালকনির রেলিং থেকে গ্রাউন্ড ফ্লোর অব্দি মোটা রশি বাঁধা ছিল আগে থেকেই। সুখকে কোমরের সাথে প্রথমে ওড়নায় বেঁধে একহাতে বুকের খাঁচায় ঝাপ্টে ধরল বর্ণ।অপর হাতে রশি চেপে জাম্প দেয় আলগোছে। ফিফ্থ ফ্লোর, অনেক উঁচু।অতো উঁচু থেকে জাম্পিং যে-কারো জন্য ঝুঁকিপূর্ণ অথচ এই ঝুঁকি জীবনে নতুন নয়।কাজটাতে বর্ণ বহুকাল পূর্ব থেকে পারদর্শী।

ফাহার মন রক্ষার্থে সুখ একবার পেড়ে দেখেছিল তাকে নিজের সাথে রাখবে বলে।সে সায় দেয়নি।ইবরাত, রুশ্মিতা, মৃধা, আয়রা, রুয়াত এবং আরো কজন সুখের কাজিন। তাদের সাথে অল্প সময়েই ভাব জমে উঠেছে।একটা বড় কক্ষে ঠেলাঠেলি করেই বেডে, সোফায় কোন রকম এঁটে গেল সকলে।তুহফাও চেয়েছিল আজকের দিনে সবার মাঝে থাকতে।পরে পিঠ রাখার স্থানের ঘাটতি দেখে নূরা সহ দুজন কাজিন নিয়ে স্বীয় কক্ষে ফিরে গেছে।

নীলচে ড্রিম আলো জ্বলছে।ফাহা’র চোখে ঘুম নেই। সোফায় পা তুলে গুটিসুটি মেরে বসে, ব্যালকনির দিকে মুখ করে একধ্যানে ফোনে মেসেজ টাইপ করছে।ক্ষণে ক্ষণে লাজ রঙা মুখে ঠোঁট টিপে হাসছে। নতুন নতুন প্রেমে পড়েছে কী না!রাত জেগে আলাপ না জমালে হয়?হঠাৎ…

ব্যালকনির দিকে নজর যেতেই মনে হলো উপর থেকে বিশালাকার কিছু ছিটকে পড়ল নিচে। কালচে ছায়ার মতো।ঠিকঠাক খেয়াল করার সুযোগ হয়নি।অচিরেই বুকটা ধ্বক-ব্বক করে উঠে শঙ্কায়।শীত শীত আবহে পায়ের পাতা ঠান্ডা।এই অবস্থাতেই বরফের মতো টাইলসে ধীরে কদম ফেলে ভেতর থেকেই উঁকি দিল নিচে দেখার চেষ্টায়।লাভের লাভ কিছুই হলো না।থাই গ্লাস খুলতে গিয়েও হাত থামিয়ে ভয়ার্ত চোখে কক্ষজুড়ে নজর ঘুরায়।সকলে যে যার মতো ঘুমে বিভোর। অথবা, কম্বলের নিচে ফোন ঘাঁটতে ব্যস্ত।

বুকে থু দিয়ে ব্যালকনির কাছ থেকে এক ছুটে বেডে যে জায়গা তার জন্য বরাদ্দ, সেখানে এসে কম্বল মুড়ি দিয়ে চোখ বুজে নেয় ফাহা। ভুতে প্রচুর ভয় আছে তার। নির্ঘাত ওই ছায়াটা কোন ভুতের ছিল।

‘ কী ব্যাপার ফাহা?হঠাৎ ছুটে এলে যে?’ —কম্বল থেকে মুখ তুলে ঘুমঘুম গলায় বলল ইবরাত।তার হাতেও ফোন।ফাহা বলল ভয়ার্ত কন্ঠে ফিসফিসিয়ে,

‘ একটু আগে.. আমি বোধহয় ভ_ভুত দেখেছি।’
‘ হোয়াট?ভুত?এই রাত দুপুরে মাথা-টাথা গেল নাকি তোমার? আমার জানা মতে খালামণিদের বাড়িতে ভুত-টুতের আনাগোনা নেই!’

‘ তাহলে একটু আগে ব্যালকনির ওপারে কীসের ছায়া দেখলাম?মনে হচ্ছিল ছায়াটা ছাদ থেকে নিচের দিকে নামছিল হাওয়ায় ভেসে!’

‘ সত্যিই এমন কিছু দেখছো? চোখের দেখায় ভুলও তো হতে পারে?’

ফাহা এবার সন্দিহান হলো নিজের ভাবনা নিয়ে।সত্যিই কী তার দেখায় ভুল ছিল।নাকি..

সময় বেজে ৪টা ১২মিনিট, রাতের শেষ প্রহর।শিকদার নিবাস এখন কোলাহল মুক্ত,নিরব।যেন লাজুক লতার মতো গভীর ঘুমে নেতিয়ে পড়েছে সব।অতিথিরা অধিকাংশ ঘুমে।পর্দার ফাঁকফোকর দিয়ে দেখা যায় ফোর্থ ফ্লোরে, একটি কক্ষে শুভ্র আলো জ্বলে।ওই রুমে দুমাস বয়সী বাচ্চার মা রয়েছে মূলত।তাই লাইট নিভিয়ে রাখার উপায় নেই।

গ্রাউন্ড ফ্লোরে প্রতিটি কক্ষের দরজা বন্ধ। দু-য়েকটা ব্যতীত। রুবাইয়্যাত, আইজা এখনো জেগে।কাজ করছেন ভদ্রমহিলারা। মিনিট বিশেক আগে উনাদের সকল বোনেরাও অবশ্য জেগেছিল।পরে জোরপূর্বক পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে তাদের আলাদা কক্ষে।বাড়ির অতিথি তারা,একটু ঘুমানোর ও তো প্রয়োজন।

ডাইনিং পরিষ্কার করে দুই জা মিলে পেঁয়াজ, রসুন আদার খোসা ছিলে, মাংস কাটতে বসল।বিয়ে উপলক্ষে খাবারের আয়োজন করা হবে দুপুর হতে রাত অব্দি। ডেকোরেটররা করবে সেসব। এরপর প্যাকেটিং করে কমিউনিটি সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হবে।তবে,বাড়িতে অবস্থানরত অতিথিদের জন্য সকালের রান্নাটা বাড়ির কর্ত্রীরাই করবে।তাই এখন থেকেই চলছে প্রস্তুতি । দৃশ্যপটে সাইমা এলো ধীর পায়ে।

‘ তোমায় ঘুমাতে পাঠালাম। আবার চলে এলে কেনো?’

রুবাইয়্যাতের প্রশ্নে সে হালকা হাসল।পাশে বসে হাতে পেঁয়াজ এবং চাকু নিয়ে বলল,

‘ ঘুম আসছিল না।তাই ভাবলাম আপনাদের সাথে আমিও কাজে হাত লাগাই।এতো নতুন কিছু নয় আমার জন্য!’

কেউ দ্বিমত পোষণ করল না। তিনজন টুকটাক কথা বলতে বলতে কেটে গেল প্রায় ছ-সাত মিনিটের মতো।আইজা বিষ্ময় নিয়ে সাইমার শিক্ষিকা হয়ে উঠার গল্পটা জানতে চাইছিল এটা ওটা প্রশ্ন করে। বেল বাজল হঠাৎ-ই।কথা থামে তাদের।এই শেষ রাত্রিতে কার আগমন ঘটতে পারে? অবাক হওয়ার বিষয় হলেও, ততটা অবাক হলেন না কেউ।বিয়ে বাড়ি চলছে। বাহিরে আড্ডারত বহু অতিথি রয়ে গেছে।

কর্ত্রীদের পাশাপাশি কর্তারাও জেগে ছিলেন। তাদের অবস্থান ড্রয়িং রুমে; সদর দরজার নিকটেই। রান্নাঘর ছেড়ে রুবাইয়্যাত বেরোতে বেরোতে তামিজ সাহেব দরজা খুলে দেন। পরমুহূর্তে ভদ্রলোক কথা ভুলে নির্বাক তাকিয়ে রইলেন সামনে।

অচেতন সুখকে পাঁজাকোলা করে বর্ণ দাঁড়িয়ে। চোখের ভাষা নির্লিপ্ত। কোন দ্বিধা নেই,নেই কোন জবাবদিহির ভয়।তামিজ সাহেব স্তম্ভিত গলায় প্রশ্ন করলেন,

‘ ওও… তোর সাথে? এভাবে?কী হয়েছে আমার মেয়ের?’ —সুখের গালে, কপালে তড়িঘড়ি করে হাত ছোঁয়ালেন।গায়ে জ্বর-টরও তো নেই।তবে? প্রশ্নাতীত চোখে চান তিনি।বর্ণ প্রত্যুত্তর না করে পাশ কাটিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। মুখোমুখি হয় রুবাইয়্যাতের।আযাদ সাহেবও উপস্থিত আছেন। সোফায় শুয়েছিলেন ভদ্রলোক। বর্ণ’র আগমনে উঠে বসলেন।

‘ ওকে এভাবে কোথা থেকে আনছো? কিছু জিজ্ঞেস করা হচ্ছে তোমায়?’

‘ বাড়ির পেছনে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল!’
‘ কীহ?কেনো? ওখানে কী করে পৌঁছাল ও?’

‘ আমি কীভাবে বলতে পারি?’ — গম্ভীর গলায় এটুকু জবাব করে বর্ণ দাঁড়াল না আর। সুখকে কোলে রেখেই লিফটের দিকে এগুলো।আযাদ সাহেব গলা বড় করতে চাইছিলেন, হাত ধরে থামিয়ে দিলেন আইজা।

‘ আস্তে কথা বলো।বাড়ি ভর্তি অতিথি।পাছে সত্যি যাচাই না করেই উল্টো পাল্টা মন্তব্য গাওয়া শুরু করবে আবার।’

‘ দেখেছো তোমার পাজি ছেলের কর্মকাণ্ড?কী হলো! কীভাবে হলো এক্সপ্লেইন না করেই কেমন ভাব ধরে চলে যাচ্ছে!অতি নগণ্য হয়ে গেছি ওর চোখে আমরা!’

‘ এটা নিয়ে পরে কথা বলা যাবে।চলো গিয়ে দেখি.. জ্ঞান ফেরাতে হবে ওর।ও-তো বলল সুখ অজ্ঞান অবস্থায় আছে!’

পিটপিট করে সুখ যখন চোখ মেলে, মাথা ভারি ভারি অনুভূত হয়। একবার চোখ খিচে পুণরায় মেলে কিছু মনে পড়তেই তড়িঘড়ি উঠে বসে। ফ্যালফ্যাল চোখে আশেপাশে পর্যবেক্ষণ করে ডানে তাকায়।বর্ণ.. বেডের কিনারে,ঢুলে বসা।সুখের মাথার পাশ ঘেঁষে একটা হাতের কুনুই বেডে ঠেকিয়ে, দৃষ্টি রেখেছে তার আদলে।

‘ নিজেকে নিজের রুমে পেয়ে অবাক হলি? আফসোস হচ্ছে নাতো?’

‘ মানে কী এতো নাটকের?’

বর্ণ ওঠে দাঁড়ায়। কাঁধ দুলিয়ে শুধু বলল ঠোঁট এলিয়ে অল্প হেসে,
‘ ওটা জাস্ট ট্রেইলার ছিল… পিকচার আভি বাকি হ্যাঁয় মেরি জান!’ —থেমে বলল,-‘ তোকে কিডন্যাপ করে জোর করে, সিনেমার হিরু বা ভিলেনের মতো এই-ওই ব্ল্যাকমেইল করে নিজের করে নেয়া আমার বাঁ হাতের খেল।বাট এই পথ-টা ভেরী চিপ.. কাপুরুষ না ডেকে বসিস আবার।তোর মুখে আমার জন্য এই শব্দটা বরদাস্ত করার মতো নয়। অতঃপর… ’ —আচমকা ঝুকে সুখের মুখোমুখি হয়ে গেল সে, -‘তোকে নিজের করবো সিংহের মতো!জাস্ট ওয়েট.. এন্ড ওয়াচ সুইটহার্ট!’

দুহাতে চাদর খামচে ধরে সুখ। ঠোঁট নড়ে তার,
‘ আমি আপনার হবো না এ জীবনে!’

‘ চেয়েছিলাম।ইয়্যু ডোন্ট নৌ.. চেয়ে না পেলে, কেড়ে নিতে হয়!-কথাটা আসফিয়ান বর্ণ’র রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে গেছে খুব অল্প সময়ে!’

‘ আবার হেঁয়ালি!সবসময় এমনই করে যাবেন?’

মৃদু শব্দে হেসে ফেলল বর্ণ,
‘ ওটা তো ব্যাস হেঁয়ালি!’ —এরপর হাসি নিভিয়ে চোখে চোখ রেখে গম্ভীর সুরে নিরব হুমকি দিল যেন,-‘সাবধান.. ডক্টরের নামে কবুল পড়ার আগ মূহুর্তে শ্বাসরোধ হয়ে নিজের মৃত্যু কামনা করিস না যেনো।খুব দুঃখ হবে আমার!এখানে..’–বুকের বাঁ পাশে হাত রাখল।

ঘাড়ে হাত বুলিয়ে সুখ অতিদ্রুত নজর নামিয়ে আনে।চোখ তুলে তাকানোর সাহস যেন হলো না আর।তার নজর লুকোনোতে বর্ণ ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসে।হেঁটে গিয়ে ব্যালকনি থেকে পুণরায় জাম্প করে নিচে নেমে যায়। রুমের দ্বার তখন ভেতর থেকে লকড।নিচে বর্ণ’র অপেক্ষায় সিয়াম, জিসান, আরিয়ান, বাইক সমেত।ফজরের আযানের সুরেলা ধ্বনি ভেসে আসছে।চারটি বাইক চোখের পলকে মিলিয়ে গেল দূরের পিচঢালা রাস্তায়।

সুখ ঠাঁই বসে রয় পাথরের মতো।

ফের তোড়জোড় শুরু হলো বিয়ের।কাল থেকে আটকে রাখা কান্নাগুলো সকাল থেকে উতলে পড়ছে রুবাইয়্যাতের চোখে। মেয়েকে তিনি হাতজোড় করে বলতে পারছেন না।

‘ বিয়েটা না করলে হয়না আম্মা?আমরা তোমায় দূর করে দিয়ে বাকি জীবন কার মুখ দেখে বাঁচব?’

বউ সাজানো হয়েছে সুখকে।কমিউনিটি সেন্টারে।পুরো সেন্টার রাজ প্রাসাদের মতো সাজানো।আর সুখ যেন সেই প্রাসাদের পরী-রাণী!এ্যাশ এন্ড সিলভার মিশেলে ঝকঝকে পাথরের প্রিন্সেস গাউনটিতে সুখকে তেমনি লাগছিল। মাথায় পাথর খচিত তাজ। গোল্ডের বদলে গলায় ডায়মন্ড নেকলেস। মূলত, সরঞ্জামাদি পাল্টে গেছে কীভাবে কীভাবে যেনো। গোল্ডের জায়গায় ডায়মন্ড কোত্থেকে চলে এলো? কমিউনিটি সেন্টারে এসে পর্যবেক্ষণের সময়েই এটা খেয়ালে এসেছে তুহফার।এসব দেখে রাখার দায়িত্বটা তার ছিল।

যাক মনক্ষুণ্ণ হওয়ার কারণ নেই। সুখকে এই সাজেই আকর্ষণীয় দেখাচ্ছে। তাছাড়া… এই পাল্টা-পাল্টির ব্যাপারে কিছুটা আন্দাজ করতে পেরেছে তুহফা।তখন থেকেই শঙ্কায় সিঁটিয়ে আছে মন।বিয়েতে কোন প্রকার অঘটন ঘটবে না তো? বর্ণ ভাইয়া… পুরো সেন্টার চক্কর দিয়েও তার দেখা পায়না তুহফা।এতে ভয়টা ক্রমশ বাড়ছে।

বরযাত্রী এসেছে কিন্তু বরের গাড়ি এখনো এসে পৌঁছায়নি।প্রায় আধঘন্টার মতো অপেক্ষা করেও বর আসার হদিস না পেয়ে, গেইট থেকে বিনে পয়সায় সরে দাঁড়ায় মেহরাবের হবু শালীকারা।
মায়রা একেরপর এক লাগাতার কল করে যাচ্ছে মেহরাবের নম্বরে অথচ কল তুলার নামই নেই ভাইটার। উপরন্তু, সুখকে দেখেই মনটা ঈষৎ ব্যথিত হয়ে উঠে। সুখকে গোল্ডের জিনিসগুলো পড়ানো হয়নি, যেগুলো তাদের পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছিল। অথচ রীতি এমন যে—- কনেকে বিয়ের দিন সেই গোল্ড অথবা ডায়মন্ড পড়ানো হয়, যেটা শশুর বাড়ি থেকে পাঠানো হয়ে থাকে। মায়রা প্রতিবাদ করল না এই নিয়ে। মন খারাপিও দেখাল না সামান্যটুকু।ঝুট-ঝামেলা পছন্দ নয় তার।তাছাড়া সে নিজেও উপলব্ধি করছে, সুখের পড়নের গর্জিয়াস গাউনের সাথে গোল্ড বেমানান।

‘ স্যরি আপু..ভরা মজলিসে তোর সম্মানহানি হোক আমি কখনো চাইনি। কিন্তু এই বিয়েটা আজ আমি করতে পারবো না।ক্ষমা করিস আমায়’

মেহরাবের নাম্বার থেকে আসা মেসেজ দেখে থ বনে গেল মায়রা।এই সংকট ময় মূহুর্তে এসে মজা করছে বানরটা! দাঁতে দাঁত চেপে তড়িঘড়ি করে ফোন লাগায়।তবে রিসিভ হয়না, বরং এখন বন্ধ দেখাচ্ছে তার নম্বর। এবার দরদরিয়ে ঘামতে থাকে। কোথাও বিপদাপদ হলো নাতো? মেহরাবের সাথে তার একাধিক বন্ধু আছে। তারমধ্যে সঞ্জিৎ একজন।তার ফোনে ডায়াল করে…
রিং পড়ছে কিন্তু রিসিভ হয়না।ধপ করে চেয়ারে বসে পড়ল মায়রা।খুব কান্না পাচ্ছে এবার।লাবিয়া মায়রার কাজিন হয়।মেয়েটা এগিয়ে আসে দ্রুতলয়ে।মায়রার কাঁধ ঝাঁকিয়ে জানতে চায়,

‘ মেহু ভাইয়া এখনো আসছে না কেনো আপু? ওখানে অতিথিরা কতো কী বলছে একবার শুনে এসো…

#চলবে🥀

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here