#গল্প_তোর_কারণে_ফিরে_আসা
#পর্ব_৮
#লেখিকা_ছায়ালিপি
আজ গালিবের বাড়িতে সবাই যাচ্ছে, কাল নিলয় এবং নিলার মেহেদি নাইট, নিলয় আগেই চলে গেছে গালিব সহ বাড়িতে কোথায় কি হবে সেটা দেখিয়ে দেয়ার জন্য। নিলা, তূবা, জিসান ও চলে এসেছে। জিসান আজ বাড়ি এসেছে কিন্তু নিলা একটু রেস্ট না নিতে দিয়েই তূবা আর জিসানকে নিয়ে গালিবের বাড়িতে চলে গেছে।
জিসান: আপু শরীরটা খুব খারাপ লাগছে প্লিজ একটু ঘুমাতে
নিলা: গালিব আর নিলয় তো নিচে তুই আপাতত এখানে একটু রেস্টনে পরে আমি তোর রুম দেখিয়ে দিবো।আমি এখন একটু নিচে যাচ্ছি।
নিলা নিচে গেলে তূবা বলে ভাইয়া তুমি রেস্ট নাও আমিও একটু ঘুরে আসি।দুইবোন চলে গেলে জিসান পা থেকে মাথা ওব্দি ব্লানকেট ডাকানিয়ে ঘুমিয়ে পরে।
অনি রুমে এসে চুপি চুপি তূবাকে চমকে দেয়ার জন্য ঘরে ডুকে, এসে দেখ বিছানায় কেউ একজন শুয়ে আছে, অনি তূবা মনে করে পাশে শুয়ে থাকে। আর বলতে থাকে-
অনি: তূবা জানোতো আমার মনটা আজ এক অতিথি পাখি এসে নিয়ে গেছে। আজ একটা ছেলেকে দেখে পুরা ক্রাস খেয়ে গেছি, আর্মির ড্রেস পরে ছিলো’ তার হাটার স্টাইল লুক বডি শেপ একদম পারফেক্ট ঠিক যেমন ছেলে আমি চেয়েছিলাম। আমার মনের রাজকুমার। কিন্তু দুখের বিষয় হলো আমি ছেলেটা ঠিকানা জানিনা এখন খুজে পাবো কিভাবে।
ধুর তোমাকে বলে লাভ নেই তুমি তো ঘুমন্ত পরি, নিজের বোনের বিয়ে আর সে এসে ঘুমিয়ে পরেছে।
অনি চলে গেলো নিচে গিয়ে দেখে তুবা সুইমিংপুল এ বসে পানিতে পা ভিজাচ্ছে,
অনি: এই মেয়ে তুমি কি ভূত হয়ে গেলা নাকি, এখনি ঘরে আবার এখনি বাইরে।
তূবা: আমি ঘরে থাকতে যাবো কেনো, আমিতো অনেকক্ষন এইখানে বসে আছি।
অনি: তাহলে রুমে কে ঘুমিয়ে আছে?
তূবা: ওটা আমার ভাই, অনেক টায়াড তাই একটু রেস্ট নিচ্ছে।
অনি: আর আমি তুমি ভেবে কি সব আবল তাবল বলে আসলাম ছি। যদিও ঘুমাচ্ছে কিছুই মনে হয় শুনেনি।
কালকে তো মেহেদি তাহলে ডান্স প্রাক্টিস করেছো?
না রে আমি তো সেই ছোট বেলায় ডান্স করা বাদ দিয়ে দিয়েছি আর ডান্স করিনা।
অনি: তোমার বোনের বিয়ে আর তুমি ডান্স করবে না এটা কমন কথা।
তূবা: আচ্ছা তুমি আর আমি এক সাথে ডান্স করবো আমাকে একটু শিখিয়ে দিও।
অনি: অকে প্রবলেম নেই।আজ সারাটাদিন আছে এনাফ তোমাকে শিখানোর জন্য। চলো তাহলে শুরু করে দেই,
—————————————————-
—————————————————-
তূবা আর অনি দুইজন সারাদিন ডান্স প্রাকটিস করেছে, নিলা,জিসান,গালিব,নিলয় মিলে সব সুন্দর করে ডেকোরেট করেছে। তূবা সেইদিন এর পর থেকে গালিবের ধারের কাছেও যায় নি গালিবকে দেখতে পেলেই অদৃশ্য হয়ে যায় এমন একটা অবস্থা। সসন্ধায় তূবার খিদে পেয়েছে তাই তূবা জিসান কে বলে ভাইয়া আমার খুব খুদা পেয়েছে,
জিসান: কি খাবি বল আমি ওয়াডার করে দিচ্ছি।
তূবা: বিরিয়ানি খাবো।
জিসান: তাহলে সবার জন্য বিরিয়ানি ওয়াডার করে দেই।
যা মন চায় বাট আমার টা আমার আগে চাই আমার খুব খিদে পেয়েছে। তূবা আসলে সবার সাথে খেতে চায় না কারণ সেখানে গালিব থাকবে তাই সে আগেই খেয়ে ঘুমিয়ে পরবে।
জিসান ফোন টিপতে টিপতে নিচে যাচ্ছিলো আর অনিও তারাহুরো করে উপরে যাচ্ছিলো, হঠাৎ দুজনের ধাক্কা লেগে যায়।
অনি: ও মাগো পরে গেলাম রে,
জিসান: সরি সরি আমি আসলে দেখতে পাইনি সরি!
অনি: দেখে……. চলতে….. পারেন………
( আরে এই তো আমার চকলেট বয়,আর আমি কোথায় কোথায় খুজেছি)
জিসান: সরি আমি দেখতে পাইনি।
অনি: ইটস অকে, আমার লাগেনি ( হেসে উত্তর দিলো)
জিসান: হ্যালো! আমি জিসান নিলা আপু আমার বোন হয়।
অনি: আমি অনি তূবার ফ্রেন্ড।
জিসান: ( পরে কি তাহলে এই মেয়েটা বকবক করছিলো তখন তো মনে করেছিলাম শ্যাওলা গাছের পেতনি হয় এখন তো দেখছি সুন্দর আছে।
অনি জিসান কে দেখছে তো দেখছেই তার কোনো হেল দুল নেই। জিসান আর কিছু না বলে একটা মুচকি হাসি দিয়ে চলে গেলো,…….
অনি: ও এম জি…. হাসলে আবার গালে টোল পরে, আমি পুরাই ফিদা।
অনি রুমে গিয়ে তূবাকে বললো ননদিনী তোমার ভাই যে এত সুন্দর আগে বলনি কেনো?
তূবা: আমার ভাই সুন্দর কই আমি জানতাম না তো, তুমি হয়তো আজ নতুন দেখেছো তাই তোমার কাছে সুন্দর মনে হয়েছে।
অনি: মোটেও না তোমার ভাই যথেষ্ট সুন্দর।
তূবা: তাহলে আমার ভাবি হয়ে যাও।
অনি: তুমি চাইলেই তো হবে না তোমার ভাইকেও চাইতে হবে।
—————————————————-
তারাতাড়ি ঘুমিয়ে যেতে হবে কালকে অনেক লোকজন আসবে, আর বিয়েতে ঠিক মত ঘুম হবে না তাই ঘুমিয়ে যাই তারাতাড়ি,
অনি- কিরে খাওয়া করবে না?
তূবা : তুমি আমার ভাগেরটা এনে রেখে দিও আমি পরে খেয়ে নিবো আমার খুব ঘুম পাচ্ছে।
তূবা শুয়ে পরলো আর কিছু বলার সুযোগ দিলোনা অনিকে। অনি নিচে চলে আসছে, নিলা জিগ্যেস করলো তূবার কথা। অনি বলে সে ঘুমিয়ে গেছে,
নিলা: না খেয়ে ঘুমিয়ে গেলো কেনো।
অনি: ও বলেছে ওরটা রেখে দিতে পরে খেয়ে নিবে।
গালিব: ( লিটিল বার্ড আর কত দিন এভাবে লুকিয়ে থাকবে, আমার যে কষ্ট হচ্ছে তুমি কি সেটা বুঝবে না)
—————————————————-
সবাই খেতে বসেছে এক সাথে, অনি বেশ কয়েকবার জিসান এর দিকে তাকালেও জিসান অনিকে ইগনোর করেছে। খাওয়া শেষ করে সবাই ঘুমাতে গেলো। নিলয় আর জিসান এক রুমে নিলা,তূবা,অনি এক রুমে, গালিব একা এক রুমে। গালিব কারো সাথে বেড শেয়ার করেনা তাই সে একাই থাকে।
রাত ১২ টার দিকে তূবার ঘুম ভেঙে যায়, পেটে ইদুর দৌরাচ্ছিলো তাই সে চুপি চুপি উপরতালা থেকে নিচে নামছে। গালিব ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করছিলো কারো পায়ের শব্দ পেয়ে ল্যাপটপ ডাউন করে দিলো। অন্ধকারে কিছু দেখা যায় না, তূবা ফোনের ফ্লাস জালিয়ে আস্তে আস্তে আসছি। চুপিচুপি রান্না ঘরে গিয়ে বিরিয়ানি গরম করে খেয়ে আবার চলে যাচ্ছিলো ‘ গালিব এই সব দেখে অন্ধকারে বসে আসছে। তূবা সিরি দিয়ে উঠতে গিয়ে স্লিপ করে পরে গিয়ে আউ…. করে উঠে। গালিব দৌড়ে গেলো –
গালিব: দেখি দেখি কোথায় ব্যাথা পেয়েছো,
তূবা বোকা বনে চলে গেলো, যার ভয়ে এত কিছু করা সেকিনা সব কিছুই দেখছিলো এতক্ষণ ধরে।
গালিব: কি হলো কোথায় ব্যাথা পেয়েছো লিটিল বার্ড?
তূবা : কিছু হয়নি আমার ছারুন আমার পাটা।
গালিব কিছু একটা ভেবে দূরে সরে আসলো, তূবা উঠেছে কিন্তু হাটতে পারছে না গালিব পিছন থেকে এসে হেচকা টান দিয়ে কোলে তুলে নেয়।
তূবা: আরে কি করছে কি ছারুন, কেউ দেখে ফেললে কি ভাববে।
গালিব: লিটিল বার্ড তুমি সব সময় ওভার থিং করো কেনো একটু চুপ করে বসে থাকো।
গালিব তূবাকে নিয়ে গালিবের রুমে গেলো-
তূবা: ভাইয়া আপনি আমাকে এই রুমে কেনো নিয়ে আসলেন, আমাকে ঐ রুমে দিয়ে আসেন প্লিজ।
গালিব: একটু নিজেই বলেছিলে কেউ দেখে ফেললে কি ভাববে এখন আবার নিজেই সবাইকে দেখাতে চাইছো।
তূবা: আরে না না!
গালিব: চুপ করে বসে থাকো আমি আসছি,
একটু পরে একটা গরম কাপর আর একটা স্পেরে নিয়ে রুমে ডুকলো গালিব। পায়ে হালকা করে গরম কাপর দিয়ে ভাব দিয়ে স্পেরে করে দিলো-
গালিব: যদি সকালের মধ্যে ঠিক হয়ে যেতে চাও তাহলে চিংড়ি মাছের মত লাফালাফি না করে চুপকরে ঘুমিয়ে যাও।
তূবা: আমি আপনার সাথে ঘুমাবো না।
গালিব: এই মেয়ে বলেছি না অভার থিংকিংক করবা না। আমি এক বারো বলেছি আমি তোমার সাথে ঘুমাবো।
তূবা: আমি আপনার সাথে এক রুমে ঘুমাতে পারবো না।
গালিব: ও গোড! দরজা লাগিয়ে দিয়ে গেলাম সকালের আগে খুলবো না তাই ঘুমিয়ে পরো।
গালিব চলে গেলো,
তূবা: যতটা খারাপ ভেবেছিলাম ততটাও খারাপ না কিছু ভালো গুনও আছে।
তূবা ঘুমিয়ে পরলো, নিলা ১ টার দিকে ঘুম ভেঙে তূবাকে দেখতে না পেয়ে নিচে নেমে আসে। গালিব তখনও কাজ করছিলো নিলাকে দেখে-
গালিব: কি রে এত রাতে ঘুম ভেঙে গেলো কিভাবে?
নিলা: তূবা ঘরে নেই তাই খুজতে আসলাম।
গালিব: তোর বোন তার রুমে ঘুমাচ্ছে, পায়ে একটু ব্যথা পেয়েছে তাই ঐ ঘরে শুয়ে দিয়েছি।
নিলা গালিবের পাশে বসলো-
নিলা: আর কতদিন এভাবে দূর থেকে ভালোবেসে যাবি। এখন তো ও যথেষ্ট বড় হয়েছে এখন অকে নিজের করে নে। কত দিন আর এক তরফা ভালোবাসবি।
গালিব: এখনো সেই সময় আসেনি রে, ও এখনো আমার ঘৃনা / ভয় দুটই করে।
চলবে……

