#আকাশপ্রিয়া
#পর্ব৫
#Dure_Dilshad_Dua_দুর_এ_দিলশাদ_দুআা
[[🚫কপি করা নিষিদ্ধ, সম্পূর্ণ প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ]
গাড়ি এখন রিয়ান চালাচ্ছে।আকাশ পাশে বসা।চোখে কালো সানগ্লাস, হালকা অফ হোয়াইট শার্ট,চুলগুলো বাতাসের সাথে সাথে উড়ছে পিছনদিকে।আর পেছনে রাতুল, রেদোয়ান আর রাকিব।কেউ তালে তালে তালি দিচ্ছে, কেউ গানের লাইন ভুলে হেসে উঠছে, কেউ আবার পাহাড়ের দিকে হাত বাড়িয়ে চিৎকার করে উঠছে আনন্দে। পাহাড়ি হাওয়ায় ভেসে যাচ্ছে তাদের গান আর হাসি, যেন পুরো পথটাই তাদের উচ্ছ্বাসে ভরে উঠেছে।
-এই দারা দারা নিশি কল দিচ্ছে, একটু আওয়াজ কম কর বাপ…
রেদেয়ান এর কথায় গান বন্ধ করলো সবাই।নিশি রেদোয়ান এর গার্লফ্রেন্ড। ওদেরও ফ্রেন্ড। একই গ্রুপের সবগুলো…ওদের গ্রুপে ২ জন মেয়ে।নিশি ছাড়াও বাকি আরেকজন রাকা।রাকা রাকিব এর প্রিয়তমা…একসাথে বন্ধুত্ব থেকে সম্পর্কে প্রণয়ে পরিণত হয়েছে আরও বেশ কয়েকবছর আগেই।তাদের মধ্যে আপাতত ব্যাচেলর আকাশ এবং, রাতুল,রিয়ান…রিয়ানের যদিও বিশাল ছ্যাকা খাওয়া লাভ স্টোরি।৩ বছর আগে তার ভালোবাসা তাকে ছেড়ে বিয়ে করে নেয় কোনো এক বড়লোকের আদুরে দুলাল কে।তারপর থেকে এ অবধি আর বসন্ত আসেনি তার জীবনেও…
রেদোয়ান কপাল কুচকে নিচ্ছে বারবার, বাকিরা বোঝার চেষ্টা করছে বিষয়টা।নিশ্চয় আবার কোনো ঝামেলা হবে এদের।এদের রিলেশনশিপ এ ঝামেলা নিত্যদিনের…রেদোয়ান কল কাটতেই রাতুল গম্ভির হওয়ার ভাব নিয়ে করলো…
-দোস্ত্ এটা ৬১২ নাম্বার…
রেদোয়ান বুঝতে না পেরে ভ্রু উচু করে জিজ্ঞেস সূচক ভঙ্গি করে…
-না মানে তোদের ব্রেকআপ নাম্বার ৬১২।তাই মনে করিয়ে দিলাম আরকি…
বাকিরা াহো হো করে হেসে উঠলো।দিনের মধ্যে নিশি, রেদোয়ান আর কম করে হলেও ১০ বার ব্রেকআপ হওয়া ওরা দেখে অভ্যস্ত…
রেদোয়ান মুখ বাকিয়ে বললো
– বাজে বকিস না তো। ওরা আসছে বললো।
সবাই এবার থ মেরে গেলো।
-আসছে মানে টা কি?
-আসছে মানে আসছে।বললো তাদের ছাড়া আমরা ট্যুর দিচ্ছি এটা তারা মানবে না।ওরা দুজন জন।সাথে ওদের আরেকটা ফ্রেন্ড কি নিয়ে পরশু রওনা দিয়ে পৌচ্ছুচ্ছে এখানে।
রাকিব বিরক্ত স্বরে বললো…
-আমার টা তো আমাকে বললো না কিছু।এই ঝামেলাগুলো আবার এখানে কি করতে আসছে।
আকাশ কিছু বললো না…এরা মেয়েগুলো কে যতটা ঝামেলা মনে করে ততটা একদম নয়।প্রেমিকা আসলে এদের মনুষ্য জীবন কাটাতে হবে নিয়মমাফিক সেটায় এরা বিরক্ত…
রাকিব বিরক্ত হয়ে বললো
-আমরাই এখনো গুছিয়ে উঠিনি।ওদের রাখবো কোথায়।কটেজটাও তো পুরো পরিষ্কার হয়নি।বলিসনি থাকার সমস্যা এখন?
রেদোয়ান চ সূচক শব্দ করে বললো
-আমাকে কি তোর এতোই জেল প্রিয় মনেহয়। বলেছি সেটা।ওদের নাকি কোন আদিম বেস্ট ফ্রেন্ড এখানে থাকে।তার কাছে উঠবে সবাই…
রাতুল জেনো হাফ ছেড়ে বাচলো।
-বাঁচালি তাহলে।না হলে এনাদের বায়না খাটতেই হাফিয়ে যেতাও…
আবার একদফা শব্দ করে হেসে উঠলো সবগুলো…
-এই রিয়ান গাড়িটা সাইট করনা একটু।দেখছিস কি জোশ ভিউ।
রাকিব এর কথায় রাস্তার কিনারে জিপ সাইট করে দারায়।সমতল থেকে অনেক উচুয় রাস্তা।নিচে গভির খাদ।সামনে অদূরে পাহাড়ের দূড়া আর মেঘ ভেসে বেরাচ্ছে…সবাই ফটোগ্রাফি তে ব্যাস্ত…
আকাশ জিপে হেলান দিয়ে দাড়ালো।সানগ্লাস টা খুলে হাতে নিয়ে চুল গুলে হাত দিয়ে ব্যাকব্রাশ করে পিছনে ঠেলে দিলো…রিয়ান সিগারেট ধরালো।পাশে দাড়ালো আকাশের একই ভঙ্গিতে। সিগারেট টা অভ্যাস সূচক আকাশের দিকে বারাতেই আকাশ হাতে নিলো।রিয়ান অবাক হলো বইকি।সিগারেট ধরিয়ে রাগানোর জন্য আকাশকে সাধা তার স্বভাব।আকাশ এ যবৎ কালে ২-১ বার হাতে নিয়েছে।তখনই বোঝা গেছে কিছু নিয়ে সে দারুন চিন্তিত।
রিয়ান ভ্রু কুচকে জিজ্ঞেস করলো
-কি রে, কিছু হয়েছে
-হু.?
-কিছু হয়েছে?
-উহু,হয়নি কিছু।
-তবে?সিগারেট হাতে নিলি যে!
-তেমন কিছু না।শিয়া কে নিয়ে ভাবছিলাম আরকি।
রিয়ান বুঝলো আকাশের চিন্তার কারণ।তবুও শুধু শিয়া ঘটিত বিষয় নিয়ে তার এতো চিন্তার কারণ তো দেখছে না সে।
-শিয়া কে নিয়ে ভাবিস না।এক অফিসে যখন।চোখের সামনে পরশু থেকে ২৪ ঘন্টাই প্রায় থাকবে।সবাই মিলে দেখবো কিছু ঠিক করা যায় কিনা…আমার মনে হয় ঠিক হবে…
আকাশ কিছু বলেনা।উদাসীন হয়ে সিগারেট টান দিতে থাকে।তার অবশ্য মনে হয়না।এতো সহজে সবটা ঠিক হওয়ার।যেটা ৬ বছর আগে ঠিক হয়নি,সেটা এখন এসে ঠিক হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।কে জানে অভিমান এর পাহাড় আরও অভিমান এ ছেয়ে গেছে কীনা…
****
হঠাৎ খিলখিল হাসির শব্দে সবগুলো ছেলে ফিরে তাকায়।অদূরে দুটো মেয়ে হেটে আসছে।।পাহাড়ের গায়ে, ফাঁকা রাস্তায় হাসির প্রতিধ্বনি করছে। আকাশ তাকায় না।বন্ধু গুলো তার বরাবরই ছ্যাচড়া।।
রাতুল চোখ বড় বড় করে বলে
-দোস্ত মেয়ে নাকি পরী ভাই।
রাকিবও তার সুরে তাল মেলায়
-পাহাড়ি রাস্তায় জ্বীন পরী নয় তো?
আকাশ বিরক্ত হয় তাদের এই মেয়ে গবেষণায়।এরা সবকটা একেকটা ক্যারেকটারলেস।মেয়ে দেখলেই এদের পছন্দ হয়ে যায়।তখন তাকে ছাড়া আর বাচেনা…মুখ কঠিন করে ধমক দিলো
-তোদের না গার্লফ্রেন্ড আছে।অথচ মেয়ে দেখলেই ছ্যাচরামি কেনো এতো…
রাতুল কপট রাগ দেখায়।
-রাকিব কে বল।আমার তো নেই।আমি তো তাকাতেই পারি…
-ঘোর সবাই বেয়াদব।মেয়েগুলো নিশ্চয় অকওয়ার্ড ফিল করছে।এটা কোন ধরনের অসভ্যতা!
আকাশের ধমকে সবাই খুকখুক করে এদিকসেদিক তাকিয়ে স্বাভাবিক হওয়ার নাটক শুরু করে…
হুট এবার মুখ খোলে রিয়ান…
-আকাশ,আমি তো এমন করি না কখনো।আমার যদি কখনো কাউকে পছন্দ হয় তুই কি আমাকেও এভাবে বলবি?
রিয়ানের এহেন কথায় নড়েচড়ে ওঠে সবাই।সবার মুখে হাসি খেলে যায়।আকাশও হাসি মেখে তাকায় ওর দিকে।ভ্রু উচিয়ে তাকায়…
রিয়ান হেসে ফেলে…আকাশ বন্ধুর মন বুঝে ঘুরে তাকায়।কিন্তু মেয়ে দুটো ততক্ষণে পার হয়ে গেছে।একজন হিজাব বাধা।অন্যজন এলোমেলো হালকা খোপা করা…
-ইশশশ আকাশটা দেরি করে ফেললো তাকাতে।
রাতুল এর কপট আফসোস এ হেসে উঠলো সবাই…
-রিয়ান,আছি তো এখন আমরা এখানেই।ছোট্ট এলাকা।স্থানীয়ই মনে হলো।ঠিক খুজে বের করে ফেলবো…এতোদিনে বন্ধুর উপোস ভাঙ্গার শখ হয়েছে যখন…
রেদোয়ান এর এহেন কথায় সবাই হো হো করে হেসে উঠলো…
*****
কলেজের কাজ শেষে বাসায় ফিরতেই প্রিয়া দেখে শিয়া অফিসের একগাদা ফাইল খুলে বসে আছে…প্রিয়া কে দেখেই ঘাড় ঘুরিয়ে বললো
-বনু খাবার টেবিলে রাখা আছে।খেয়ে নে
-তুমি খেয়েছো?
-খাবো।হাতের কাজটা শেষ করে নেই।কাল থেকেই তো আবার যুদ্ধ শুরু…
প্রিয়া কথা বাড়ায় না।মাথাটা বড্ড ধরেছে।খেয়ে ওষুধ খাওয়া দরকার জলদি।
রুমে এসে গোসলে ঢোকে সে।লম্বা সময় নিয়ে শাওয়ার নেয়।ফ্রেশ লাগছে এখন অনেকটা।।বের হয়ে খোলা চুলগুলো ছেড়ে জানালায় দারায়…কাল থেকে বৃষ্টি নেই,আকাশটা যথেষ্ট পরিষ্কার। তবে আজ খানিকটা মেঘলা দেখাচ্ছে… গুনগুন করে গান গাইতে গাইতে পর্দা টেনে দিলো জানালার।শিয়ার ডাক আসলো নিচ থেকে।দেখলো শিয়া ভিডিও কলে বাবা মার সাথে কথা বলছে…
দুবোন বাবা মার সাথে কথা বলে যারযার কাজে মন দিলো।পরীক্ষার একদমই সময় নেই।পড়াশোনায় একটু মন দেওয়া দরকার…ভেবেই নিজের অলসতা কে কয়েকদফা ধমক দিয়ে বইখাতা নিয়ে বসে পড়লো…
***
*সকাল সকাল বেরিয়েছে প্রিয়া।অপেক্ষা করছে কলেজ গেটের সামনে। হালকা গোলাপি একটা চুড়িদার পরা।চুল বরাবরের মতো তার নিচু করে হালকা খোঁপা করে রাখা।ঝিরিঝিরি বাতাসে সামনের চুলগুলো চোখ মুখে ছেয়ে যাচ্ছে বারবার। বিরক্ত ভঙ্গিতে বারবার সরাচ্ছে চোখের ওপর থেকে।এদিক সেদিক পায়চারি করছে রিমির আসার অপেক্ষায়।
আজকেও কলেজে আসতে হয়েছে।শিয়া ওকে কলেজের সামনে নামিয়ে দিয়ে অফিসে চলে গেছে।প্রিয়া রিমির অপেক্ষায় কলেজ গেটে দাড়িয়ে আছে প্রায় ১০ মিনিট…রিমি আসলে একসাথে ভিতরে যাবে।কলেজে আসা যাওয়ার ঝামেলা আজকেই শেষ।
***
আকাশ আর রাতুল একটা মিটিং বেরিয়েছে একসাথে। বাকিরা আগেই কনস্ট্রাকশন সাইটে পৌছে গেছে।আকাশ ড্রাইভিং সিটে বসে কানে ব্লুটুথ স্পিকারে ক্লায়েন্ট দের সাথে কথা বলে যাচ্ছে সেই থেকে।সাদা শার্ট, কালো প্যান্ট,একদম অফিসের জন্য পরিপাটি করে পরা…শার্টের পকেটে কালো সানগ্লাস টা ভাজ করে রাখা।।পাশের সিটে রাতুল কাচা ছোলা চিবুচ্ছে পকেট থেকে বের করে।
কল কাটতেই,রাতুল বলে উঠলো
-ছোলা খাবি?
আকাশ বিরক্ত হয়ে যায়।আশ্চর্য একটা গুরত্বপূর্ণ কাজে যাচ্ছে।পকেট ভর্তি কাচা ছোলা!তার বন্ধুগুলোর কোনো ম্যানার্সই নেই।
-তোর ছোলা তুই খা।রাবিশ…
-ছোলায় কতো শক্তি জানিস তুই!রাবিশ বলছিস কেনো!ছোলা খেলে উহুম উহুম…সব ধরনের কর্মক্ষমতা বারে।
বলেই বাঁকা হাসতে থাকে রাতুল।তার ডাবল মিনিং কথা ধরতে পেরে আরও বিরক্ত হয় আকাশ।
-যার যেটায় প্রবলেম তার সেটা নিয়ে চিন্তা করাটা স্বাভাবিক। আমার বোঝা উচিত ছিলো।ইট’স ওকে।ইউ ক্যারি অন…
আকাশের খোটা দেওয়া স্পষ্ট বুঝতে পারলো রাতুল।
-মোটেও আমার কোনো সমস্যা নেই,ভবিষ্যতে সার্ভিস যেনো ভালো দিতো পারি তার জন্য এতো চেষ্টা। খেয়েই দেখ না।
-বললাম তো আমার সার্ভিসিং এ কোনো সমস্যা নেই।তোর নিজেকে নিয়ে ডাউট তুই খা…
রাতুল আকাশের কথায় খিটমিট করে উঠলো।
-শালা আমার প্রবলভাবে কে বললো।চেক কর শালা!
-দূরে সর।আমি তোর মতো গে না শালা.
-আমি গে? আমি গে? এবার যদি একটা মেয়ে পটাতে না পারি আবার নাম রাফসান রাতুল না।মিলায় নিস তুই।
রাতুল এর কথায় আকাশ চোট টিপে হাসে।ছেলেটা সবসময় ওর পিছনে লাগে। অথচ দু একবার ও লাগতে গেলে ক্ষেপে যায়…ড্রাইভিং এ মনোযোগ দেয় সে…
কিছুক্ষণ পর হুট করে ব্রেক কষে রাস্তায় পাশে…রাতুল সামলাতে না পেরে হুমড়ি খেয়ে পরে।
-মারবি নাকি ভাই,এভাবে ব্রেক করলি ক্যান…
আকাশ থমকে গেছে ততক্ষণে। সামনে অল্প দূরে রাস্তার ডানপাশে কলেজ গেটে একটা মেয়ে দাড়িয়ে আছে…সেই মেয়েটা…আজকে হালকা গোলাপি রঙ্গের একটা চুড়িদার। শিফনের হালকা রঙের ওড়না টা হালকা করে মথায় দেওয়া।সামনের একগোছা চুল বাতাসে বারবার চোখমুখ ছেয়ে যাচ্ছে।মেয়েটা বিরক্ত হয়ে বারবার উদাসীন হয়ে চুলগুলো কানের পাশে গুঁজে দিচ্ছে।ব্যাস্ত ভাঙিতে হাতে ফোন নিয়ে এদিক সেদিক তাকাচ্ছে। যেনো কাউকে খুঁজছে…
মেয়েটা সুন্দর, দারুণ সুন্দর, এখ আকাশ এহনাজ এর বরফ কঠিন হৃদয় টা নিমিষে গলিয়ে ফেলার মতো সুন্দর, সেই হৃদয়ে ঝড় তুলে আবার নিমিষেই থমকে দেওয়ার মতো সুন্দর।এ পৃথিবীর বাকি সব সৌন্দর্য এক নিমিষে মিথ্যে করে দেওয়ার মতো সুন্দর। ওইচোখে তাকিয়ে গোটা একজীবন অপলক পার করে দেওয়ার মতো সুন্দর, এই কঠিন পুরুষকে খুন করার মতো সুন্দর। সবশেষে ওই একজোড়া চোখে চোখ রেখে হাসতে হাসতে সেই মৃত্যু কবুল করে নেওয়ার মতো সুন্দর… সে চোখের পলক ফেলতে পারছে না।বুকের বা পাশে কিছু একটা হচ্ছে। ।অদম্য ইচ্ছে জাগে মেয়েটার খুব কাছে গিয়ে মেয়েটার কন্ঠধ্বনি শুনতে।কোনোকিছুতে এতো আগ্রহ সে জন্মে হয়েছে কীনা মনে পরছে না…
-কি রে, অ্যাই আকাশ,থ মেরে গেলি কেনো?
আকাশের এবারও কোনো রেসপন্স না পেয়ে তার নজর অনুসরণ করো রাতুল।চোখ যায় রাস্তার অপর পাশে একটা মেয়ের।একটা মেয়ে দাড়িয়ে আছে।মেয়েটা দারুণ মায়াবী, পুতুল এর মতো সুন্দর। এক নজরে চোখ আটকে যাওয়ার মতোই সুন্দর। রাতুল এক পলক বন্ধুর দিকে তাকিয়ে।বিষয়টা বুঝতে পেরে হো হো করে হেসে ফেলে।এবার হুশ ফেরে আকাশের…বিরক্ত চোখে তাকায় রাতুল এর দিকে।
-পাগলের মতো হাসছিস কেনো!
-তোকে কেউ পাগল করেছে কিনা এই হিসাব মিলাতে গিয়ে…
আকাশ কিছু বলে না।ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায়।ততক্ষণে মেয়েটা ভিতরে চলে গেছে…
ওপর দিকে তাকিয়ে।কলেজ নামটা দেখে নেয়।চোখে সানগ্লাস টা পরে গাড়ি স্টার্ট করে…
-তোকে কখনো কোনো মেয়ের দিকে এভাবে হুশ খুয়িয়ে তাকাতে দেখিনি দোস্ত আই সোয়্যার…
রাতুল হাসছেই…এক মূহুর্তের জন্য আকাশের রাগ পরে গেলো বইকি।সত্যিই তো।এভাবে কখনো কোনো মেয়ে ওর হৃদয় থমকাতে পেরেছে!নাহ,পারেনি।
-পারেনি!
আকাশ এর মুখে অস্ফুটে বলা শব্দটায় রাকিব বলে
-কি পারেনি?
-এভাবে হৃদয় থমকে দিতে …
কথাটা বলেই আকাশ আবার গম্ভীর হয়ে গেলো।কাকে কি বলছে খেয়াল হলো তার।এই ছেলে এখন সবাইকে মাইক ভাড়া করে জানানোর দায়িত্ব নেবে।
রাতুল সিট থেকেই লাফিয়ে হাততালি দিয়ে বসলো।
-সর্বনাশ আকাশ।তোর এ রুপ আমি দেখিনি।এক দেখাতেই গেছোস। দোস্ত্
-উহু।এর আগেও দেখেছি,নীল শাড়িতে,খোলা চুলে
আরেক দফা চকমকানোর পালা।এগুলো কে বলছে! আকাশ! তাদের আকাশ এহনাজ!যার কিনা মেয়ে জাতিতে এলার্জি,যে কি না বিশ্বাস করোনা প্রেম ভালোবাসায়!
-দোস্ত বলিস কি!আগে বলিস নি কেনো।হায়হায়…
আকাশ বিরক্ত ভঙ্গিতে বললো
-কি বলবো!
-তুই সবটা বল।কাহিনি বল দোস্ত প্লিজ
রাতুল এর এহেন বাচ্চামো অনুরোধে আকাশ উদাসীন হয়ে সবটা বলে…-এতো বড় ঘটনা কিভাবে লুকায় গেলি আকাশ!
-আশ্চর্য! এখানে এতো কি কাহিনি দেখছিস! সেদিন জাস্ট রাস্তায় হেঁটে যেতো দেখেছি,আর আজকে দেখলাম।ব্যাস।এখানে ঘটা করে বলার কি আছে!
-তোর কাছে এটা সামান্য? হতে পারে সামান্য। কিন্তু অন্যদের জন্য। এই ধর রাকিব,রেদোয়ান আমি কেউ যদি বলতাম এটা খুব সামান্যই হতো।কিন্তু তুই শালা সহজে থমকানোর বান্দা না।তোর ভিতরের সব খোদা পাথর দিয়ে বানাইছে।সেটা টলে উঠেছে মানে বিশাল ঘটনা…
সামান্য বিষয়টাকে এতো ঘটা করে গবেষণায় দারুণ বিরক্ত হয় আকাশ।
-থামবি!সেরকম কিচ্ছু না…
-আগে এমন হয়নি তোর।তাই বুঝতেছিস না।লাভ অ্যাট ফার্স্ট মামা এটা…
রাতুল বাঁকা হাসে।
-মন বলছে,তুই কট খাইছোস…
-আর একটা ফালতু কথা বললে লাত্থি দিয়ে বের করে দেবো গাড়ি থেকে…
আকাশের ধমকে রাতুল থামার পাত্র নয় মোটেই।বরং ধমক খেয়ে আর দ্বিগুণ আগ্রহ নিয়ে জানালো
-দোস্ত প্রথম নিশানাই একেবারে আগুন… মেয়েটা পুতুল পুরো,আগুন সুন্দরী। যে কেউ ফসকাবে।
আকাশ চোখ গরম করে তাকায়..।
-আরোহ্ আমি ফসকাইনি কসম।আমার জন্য এতো আগুন সুন্দরী নাকি! ওটা তো তোর জন্য বললাম।তুই চোখ দিয়ে তাকিয়েছিস মানে ও আমার ছোট বোন হয়ে গেছে।
আকাশ আর কথা বলে না।এ ছেলের সাথে সায় দেওয়ার মানেই হয়না।কথা যত বলবে তত প্যাচাবে,আর তাকে আরও ফাসাবে…কোনো মানেই হয়না এসবে।এগুলো জাস্ট ফ্যাসুয়েশন।প্রেম,ভালোবাসা কিচ্ছু না…হতেই পারেনা।আকাশ এহনাজ রাস্তায় একটা মেয়েকে দেখে বারবার হা করে তাকিয়ে থাকছে আর বন্ধু গুলো কট খাইছোস,কট খাইছোস বলে হেদিয়ে মরছে এটা তার ইমেজ এর সাথে যায় নাকি।যায়না!একদম যায়না।
ড্রাইভিং এ মন দেয় সে…
চলবে…..
[ভুল ত্রুটি ক্ষমা করবেন,এক্সাম চলছে,বানান একদম রি চেইক দিতে পারিনি]

