#আকাশপ্রিয়া
#পর্ব_৬
#dure_dilshad_dua_দুর_এ_দিলশাদ্_দুআা
[🚫কপি করা নিষেধ, সম্পূর্ণ প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ]
-মিস ইনশিয়া রহমান।উই আর সরি।বাট এই মূহুর্তে, প্রজেক্ট টার এমন পিক পয়েন্ট এ এসে কিছুতেই আপানকে আমরা এখন ট্রান্সফার করতে পারছি না…
-কিন্তু স্যার…
-কোনো কিন্তু শুনতে চাচ্ছি না।চৌধুরী কোম্পানি থেকে পারমিশন দিলেও আমাদের কোম্পানির ক্ষেত্রে এখন নতুন ট্রেইনি ম্যানেজ করে,প্রপার ট্রেনিং দেওয়ার মতন সময় নেই।আপনার পিছনে আমরা অনেক ইফোর্ট,টাইম দিয়েছি।প্রজেক্ট এর কাজ আজ থেকে শুরু হচ্ছে। আমি চাইনা আর কোনো এসকিউজ আপনি আমাদের বা চৌধুরীদের সামনে দেন।বুঝতে পারছেন নিশ্চয়ই!আর যদি এত কথার পরও আপনার কিছু বলার থাকেই,আমি বলবো রিজাইন করুন।
– সরি স্যার।আমি লেটার উইটড্র করছি।আমি সামলে নেবো সবটা।
শিয়া বসের রুম থেকে বেরিয়ে আসলো।প্রজেক্ট টা থেকে ট্রান্সফার এর জন্য পরশু লেটার দিয়ে গিয়েছিলো।তার পক্ষে চৌধুরী দের সাথে কাজ করা সম্ভব না।কিন্তু কিছুতেই বস তাকে ট্রান্সফার করবেন না জানিয়ে দিলেন…জোরে শ্বাস ছাড়লো সে।কিচ্ছু করার নেই।চাকরিটা তার স্বপ্ন, কোনো ব্যাক্তিগত সমস্যার জন্য সে সেটা ছাড়বে না
।প্রফেশনালিজম বজায় রেখে কাজ করলেই তো হলো।এতো ভাবার কি আছে।এমন হাজার টা বুঝ দিতে দিতে সে করিডরে এসে দাড়ালো।
বাইরে শীতল বাতাস বইছে।চোখ মুখ লেপটে ছুয়ে যাচ্ছে সেই শীতল বাতাস।শিয়া আকাশের দিকে তাকিয়ে চোখ বন্ধ করে নিলো।সময় তাকে যেনো জোর করেই ৮ বছর আগের সময়ে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে।
তখন তার বয়স ১৮।কলেজ এর গন্ডি পার হবে হবে।কিছুদিন পরই এইচএসসি। অথচ ফিজিক্স এ সে দারুণ দূর্বল,কিছুতেই ফিজিক্স এর ভয় সরাতে পারছে না।ঠিক করলো বাবা মাকে জানাবে এইকয়টা দিনের জন্য হলেও আলাদা একটা টিউটর চাই তার।
কলেজ গিয়ে বন্ধুদের টিউটর এর কথা জানাতেই তার বেস্ট ফ্রেন্ড রাকা জানালো তার এক ফ্রেন্ড এর বড় ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্স এর স্টুডেন্ট। দারুণ ফিজিক্স বোঝায়।সেও নাকি দু একদিন পড়া দেখতে গিয়েছে।শিয়া রাজি থাকলে তাকে বলে দেখবে।
শিয়া না করে না।তিন দিন পর রাকা জানায়, পড়াতে রাজি হয়েছে কিন্তু ফি নেবেনা।ছোট বোনের ফ্রেন্ড হিসেবে পড়াবে।শিয়া প্রথমে মানতে চায়না,কিন্তু ভেবে দেখে লাভ বই ক্ষতি তো নেই।পড়তে শুরু করার পর না হয় ধীরে সু্স্থে ফির কথা বলবে….
শিয়া পরের সপ্তাহে পড়তে যায়।সেখানেই তাকে প্রথমে দেখেই তার কিশোরী মন থমকে যায়।একটা পুরুষ তার হৃদয় থমকে দেয়…ধীরে ধীরে পুরুষটাও মনটা গলে বইকি।দুটো মন এক হয়,পাগলের মতো ভালোবাসে একে অপরকে।গোটা একটা জীবন একসাথে কাটিয়ে দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করে তারা।
সময় যায়,ভালোবাসা সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে।তখন তাদের সম্পর্কের ২ বছর পেরিয়ে গেছে…হঠাৎ এতো এতো ভালোবাসার মধ্যেও একদিন……
-ম্যাডাম, স্যার আপনাকে ডাকছেন।
অফিস ক্লার্ক এর ডাকে হুশ ফেরে শিয়ার।
-আমি আসছি।
উল্টো হয়েই ভেজা চোখজোড়া মুছে নেয়।মানুষ বেইমান,বড্ড বেইমান,শখের জিনিসকে একটা সময় পর ছুড়ে ফেলতেও দুবার ভাবেনা।বেইমান,খুব বেইমান।
****
কলেজের কাজ শেষে রিমি আর প্রিয়া হাত ধরাধরি করে বের হচ্ছে। যার যার বাড়ির দিকে রওনা দিবে।কলেজে এক্সাম এর আগে আর আসতে হবে না।
কে জানে আবার কবে দেখা হয়।পরীক্ষা সামনে,বাবা মা কে ম্যানেজ করে ঘুরতেও তো বের হতে পারবে না দু বান্ধবী…
-জিন্দা রাহে তো যারুর মিলেঙ্গে মেরা রিমি জান।
-মাত যাও মুঝে ছোড় কার প্রিয়ু…
নাটক করতে করতে একে অপরের দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়।কৃত্রিম কান্নার অভিনয় শুরু করে দুজন।একগাদা নাটক সিনেমার ইমোশনাল ডায়লগ অভিনয় করে বিদায় নেয় দুজন…
যার যার বাড়ির রাস্তায় হাঁটা দেয় দুজন…
প্রিয়া রিকশার জন্য অপেক্ষা করে।আজ কেমন যেনো ভাপসা গরম পরেছে।এইতো দুদিন আগেও শীত,সাথে বৃষ্টি অসহ্যকর পরিবেশ। কই আজকে বৃষ্টি নামলে কি হয়।
ভাবতে ভাবতে বিরক্ত হয়ে এদিক ওদিক তাকায়।ভর দুপুরে কোথাও রিকশা দেখা যাচ্ছে না।ফর্শা মুখ গরমে লাল টমেটোর মতো লাগছে।অনবরত ঘামছে।ওড়না দিয়ে মুখের ঘাম মুছে দারুণ বিরক্ত হয়ে আবশেষে হাঁটা ধরে সে…
বাড়িতে ফিরতে আরও আধ ঘন্টা লাগে।ঘড়িতে এখন বাজে বেলা ২টা বেজে ১৬।আপু নিশ্চয়ই এতো জলদি ফেরে নি।রুমে গেটের সামনে এসে ব্যাগে হাত দিতেই আবার চমকে ওঠে সে।
সর্বনাশ! সকালে তো সে তাড়াহুড়োয় চাবিই নিয়ে বের হয়নি।
প্রিয়ার এবার হাত পা ছড়িয়ে সিড়ির ওপর বসে।ব্যাগ হাতড়ে ফোনটা বের করে বোনের নাম্বার এ ডায়াল করে।বারবার রিং বেজে যাচ্ছে, কেউ ফোন তুলছে না।
টানা কয়েকবার বোনকে ফেনে না পেয়ে প্রিয়ার এবার কান্না পেয়ে যায়।একদিকে দারুণ ক্ষিদে পেয়েছে তার,তার ওপর অসহ্য গরম।নিজের ওপরই রাগে তার গা জ্বলে যায়…বাগানের ট্যাপ থেকে হাত মুখ ধুয়ে বের হয় সে।সামনের দোকান থেকে একটা কেক আর পানির বোতল কিনে রিকশার জন্য অপেক্ষা করে।শিয়ার অফিস যেতে হবে।সেটাও এখান থেকে ঘন্টাখানেক এর পথ,আর শহরের জ্যাম তো আছেই।
****
-মিস ইনশিয়া।
-স্যার বলুন।
-আমাদের এখন প্রজেক্ট সাইটে যেতে হবে।আজ থেকে ওখানেই আমাদের কাজ।বলতে পারেন এসির নিচে বসে হাওয়া খাওয়ার দিন শেষ আরকি…
মিটিং রুমে আকাশ,অয়ন সহ বাকিরা সবাই আছে।অয়ন এর এমন কথায় শিয়ার মেজাজ খারাপ হয়ে যায়…
এসির বাতাস খায় মানে কি! কাজ করেনা নাকি! তার খুব করতে বলতে মন চাইলো।
বাতাস তো আপনারা খান,আর অর্ডার করেন, আর কথাও শোনান আমাদেরই।
কিন্তু বলা হয়ে উঠলো না।মনের কথা মনেই চেপে মুখে বললো
-জ্বী স্যার,সাইটের কাজ শুরু হলে যেতে তো হবেই…
-চলুন তাহলে,ওঠা যাক।কাজ অলরেডি সকাল থেকে শুরু হয়েছে।বাকিটা এখন থেকে দেখতে হবে।
আকাশ কথাটা বলে ফোন হাতে নিয়ে আগে বের হয়।একে একে সবাই রুম থেকে বেরিয়ে অফিস বাসে উঠে পরে।তাদের প্রজেক্ট সাইট বেশ খানিকটা ভিতরে।পর্যটক দের কথা মাথায় রেখে সুন্দর ভিউ এর আশেপাশে করা হচ্ছে এতো বড় হোটেল…
*****
প্রিয়া প্রায় এক ঘন্টার মাথায় এসে পৌছায় বোনের অফিসের সামনে।রিকশা ওয়ালার ভাড়া মিটিয়ে অফিসে ঢুকে যায়…
–
কাউরে খুজতেছো মা?
দারোয়ান এর কথায় ফিরে তাকায় প্রিয়া।
-আংকেল? একটু ইনশিয়া রহমান কে জানাবেন তার বোন এসেছে।আরজেন্ট দরকার।
-আচ্ছা আচ্ছা আপনি অপেক্ষা করেন,আমি ওপরে কন্ট্রোল রুমে জানাচ্ছি।
দারোয়ান কল করে অফিসের কন্ট্রোল রুমে।আধ মিনিট পর ফোন রেখে জানায় শিয়া অফিসে নেই।
– মা ম্যাডাম তো অফিসে নাই।
-নাই মানে।
-নাই মানে,আমাদের অফিসের প্রজেক্ট এর সাইটে গেছে।এখন তো আর অফিসে ফিরবে না
এবার যেনো প্রিয়ার দুংখের ষোলকলা পূর্ন হলো।চোখে না চাইতেও পানি চলে এলো।
-দারোয়ান বোধহয় বুঝতে পারলো।তার দারুণ মায়া হলো মেয়েটার জন্য।
প্রিয়া কান্না গিলে নিয়ে বললো
-আপনি কি একটু সেই ঠিকানা টা দিতে পারবেন।
– হ মা। দাড়াও তুমি।আমি ঠিকানা টা নিয়া লেইখা দেই।
দারোয়ান এর থেকে ঠিকানা টা লিখে নিয়ে আবার রাস্তায় বের হলো প্রিয়া।কিছু খেয়ে নেওয়া দরকার। কিন্তু ম্যাপে যে ঠিকানা দেখাচ্ছে সেটা সে চেনে।শহর থেকে বেশ খানিকটা ভিতরে।সেখানে যে দেড় ঘন্টার মতো লাগবে।
ঘড়ির দিকে তাকায় সে।বেলা বাজে পোনে ৪ টা।নিশ্চয় যেতে যেতে সাড়ে ৫ টার বেশি হয়ে যাবে।শীতের সময়,৬ মানে তো অন্ধকার। বাসায় ফিরে গেটে অপেক্ষা করবে নাকি আপুর কাছে রওনা দিবে বুঝে উঠতে পারে না প্রিয়া।
পর মূহুর্তেই মনে পরলো আপু বারবার বলে গেছিলো।তার ফিরতে বেশি রাত হলে যেনো জেগে অপেক্ষা না করে,খেয়ে ঘুমিয়ে পরে।রাত করে একা একা গেটের সামনে বসে থাকার মানেই হয়।মনেমনে আপুর কাছে যাওয়ার প্ল্যানই করলো।বের হয়ে একটা অটো ডেকে নিলো সে…
********
আকাশ সবে কনস্টাকশন সাইট ভিজিট শেষে টেন্টে(তাবু) এসে বসে।অফিসের সব স্টাফদের বিশ্রামের জন্য বেশ কয়েকটা তাবু টানানো হয়েছে।সে নিজেরটা ইচ্ছে করেই বাকিদের থেকে একটু দূরে নিয়েছে।রাতে আজ থাকতে হতে পারে,বাকিরা রাতভর জাগার প্ল্যানে আছে।তার হৈচৈ একদম পোষাবে না।
গায়ের শার্ট টা খুলে চোখে মুখে পানি ছিটায়…মাথাটা তার দপদপ করছে!বাবার ওপর তার খুব রাগ হচ্ছে। এসবে সে অভ্যস্ত নাকি!আবার তাকেই নাকি স্বশরীর এ সবটা দেখতে হবে। বিরক্ত হয়ে বেডে গা এলিয়ে দেয়..
******
—এ তো মহা সমস্যায় পরলাম।এখানে কোন ব্যাক্কেল এর ফাইভ স্টার হোটেল বানানোর সাধ জাগলো বুঝি না…
আপন মনে বিরবির করতে করতে জঙ্গলে পাহাড় এর ধার বেয়ে ওপরে উঠছে প্রিয়া।গুগল ম্যাপে তো আর ২ মিনিট দেখাচ্ছে।অথচ এখনো তো মানুষ জনের দেখা নেই।
এই গুগল ম্যাপ জিনিসটাও আরেক ফ্যাসাদের..
শিয়ার ফোনও যথারিতি রিং বেজে কেটে যাচ্ছে,কেউ ধরছে না।
-আপু তোর এই ফোন আমি যদি বেচে না দিতেছি আজকে।আমার নাম প্রিয়ানিশা রহমান না…
হাত পা অবশ হয়ে আসছে তার হাঁটতে হাঁটতে। অন্ধকার হয়ে এসেছে আসপাশে।এতক্ষণ রাগে কিছু টের না পেলেও এখন ভালোই টের পাচ্ছে।সাথে দিনের সব ভ্যাপসা গরম ঠেলে দিয়ে ঠান্ডাটাও ভালোই পরেছে…
আর পাঁচ মিনিট হাঁটার পর একটু দূরেই একটা তাবু চোখে পরলো তার।ভালো করে তাকানোর পর বুঝলো ওই তাবু থেকে আরেকটু দূরে আরও বেশ কয়েকটা তাবু।১-২ টা তে হালকা আলো জ্বলছে।তার ম্যাপও এই ঠিকানাই দেখাচ্ছে,সামনে মানুষ আছে আর সঠিক জায়গায় পৌছেছে ভেবেই সে হাফ ছেড়ে বাচলো।মহা উৎসাহে হাঁটা ধরলো তাবুটার দিকে…
হুট করে একটা পুরানো ডালের সাথে পা জড়িয়ে হুমড়ি খেয়ে পরলো।চিৎকার দিয়ে উঠলো।
-ও মাগোওওওওওওওওওও
পরেই গাছের গুড়িতে মাথা ঢেকলো।চোখের সামনে তারা দেখতে লাগলো। এমনিই সারাদিন না খাওয়া,তারমধ্য এতোদূর হেটে আসার ফলে শরীর এমনিই দূর্বল।সাথে সাথে জ্ঞান হারালো সে…
চলবে…
[সামনের পর্বটা একটু একটু রোমান্টিক পর্ব হবে🫢রিঅ্যাক্ট না দিলে তাড়াতাড়ি দিবো না কিন্তু।বানান চেক করা হয়নি,ভুল হলে ক্ষমা করবেন প্রিয়তমারা]

