#আকাশপ্রিয়া
#পর্ব_৭
#dure_dilshad_dua_দুর_এ_দিলশাদ্_দুআা
[🚫কপি করা নিষেধ, সম্পূর্ণ প্রাপ্ত বয়ষ্কদের জন্য ]
দিনের আলো মিলিয়ে গিয়েছে অনেক্ক্ষণই হলো।আশপাশে থেকে ঝি ঝি পোকার শব্দ ভেসে আসছে।হঠাৎ
একটা মেয়ের গলার চিৎকার আকাশের কানে এলো।হুড়মুড় করে উঠে বসলো।
চোখটা লেগে এসেছিলো তার।
মনের ভুল ভেবে সরিয়ে দিতে চাইলেও পর মূহুর্তে মনে পরলো বেশ মহিলা স্টাফ আছে তাদের সাথে। যে কারোর গলা হতে পারে।
শার্ট টা গায়ে জড়িয়ে দ্রুত হাতে বোতাম গুলো কোনোমতে আটকে ফোন এর ফ্লাশ জ্বালিয়ে বেরিয়ে আসে তাবু থেকে…
শব্দ টা যেদিন থেকে আসছে সেদিকে আলো ধরে।বেশ ঢালু…এদিকে রাস্তা আছে কিনা বোঝে না সে।তারা উল্টোদিকের রাস্তায় এসেছিলো।
তারপরেও আলো নিয়ে এগিয়ে যায়…একটু পরেই চোখে পরে কিছু একটার।আরেকটু এগোতেই জামাকাপড় দেখে টের পায় সত্যিই মানুষ, এবং একটা মেয়ে…
আশেপাশে মানুষ খোঁজে সে।উহু এখন এদিকে কেউ নেই,সে কাজের সাইটে নেই মানে বাকিরা ওখানেই আছে।কারোর সাহায্যের আশা বাদ দিয়ে নিজেই এগিয়ে আসতে থাকে মেয়েটার দিকে…
নিচে নেমেে আসতেই তার ধারনাই সত্যি হয়।একটা মেয়ে জ্ঞান হারিয়ে পরে আছে।উল্টো হয়ে।চুলগুলো এলোমেলো হয়ে পিছনে পরে আছে।হালকা গোলাপি চুরিদার পরা।ওড়নাটাও শরীর থেকে সরে পিছনে পরে আছে।পাশেই ফোনটা…
আকাশ হাত বাড়িয়ে ওড়না টা দিয়ে মেয়েটার গা ঢেকে দেয়।মেয়েটাকে ধরতে ইতস্তত করে।এক-দুবার ডাক দেয়
-এই মেয়ে?শুনছো?
মেয়েটার সারা না পেয়ে বাধ্য হয়েই কাধ ধরে টেনে সোজা করে।
এবার স্তম্ভিত হওয়ার পালা…এক মূহুর্তের জন্য আকাশের একট হার্টবিট মিস হয়ে গেলো।তার হাতে জ্ঞান হারিয়ে পরে থাকা মেয়েটি আর কেউ নয়।সেই মেয়েটা।যার কথা মনে করলে বারবার থমকে যায় তার পাষান হৃদয়… একবার ভাবলো কল্পনা নয় তো।একহাতে চোখদুটো ডলে ভালো করে আলো ফেললো মেয়েটার মুখে!নাহ্ ভুল নয়,কল্পনাও নয়!এটা তো তার কল্পনা জুড়ে বিরাজ করা সেই কিশোরী!
-অ্যাই মেয়ে,এখানে কি করছো তুমি?শুনছো?
সাড়া পায় না কোনো।বসা অবস্থায় বা হাতে তুলে নেয় প্রিয়াকে।ডান হাতে কপালের এলোমেলো চুলগুলো সরিয়ে যত্নকরে কানের পাশে গুজে দেয়।
ঠোটের পাশে, কপালে বেশ খানিকটা কেটে গিয়ে রক্ত পরছে।
আকাশ কাপা হাতে চোটের ওপর স্লাইড করে রক্ত খানিকটা মুছে দেয়..আকাশ এর গলাটা শুকিয়ে আসছে একদম…আলতো হাতে মেয়েটা গালে হাত দিয়ে ডাকে
-শুনছো মেয়ে?
উহু,জ্ঞান ফেরার নয় বুঝতে পেরে হাত বারিয়ে মেয়েটার ফোন পকেটে গুজে কোলে তুলে নেয় মেয়েটাকে….
প্রিয়া আকাশের বুকে পরে আছে।তাড়াহুড়োয় শার্টের ওপরের দুই বোতাম খোলা ছিলো।প্রিয়ার মুখ গুজে আছে সেই বুকে,তার নরম ঠোটের ছোয়া লাগছে পাষান পুরুষটার বুকে।।আকাশের হাত পা অবশ হয়ে আসছে যেনো।হৃদপিণ্ড টা যেনো বিদ্রোহ শুরু করেছে।প্রথম কোনো মেয়ের ছোয়া, তাও সেই মেয়ে যাকে দেখে কীনা তার শক্তপোক্ত হৃদয় পুরানো নিয়মনীতির বিরুদ্ধে গিয়েছিলো।সেই মেয়ে অজান্তেই তার বুকে পরে আছে,ঠোট ছোঁয়াচ্ছে সেই বুকে।অসময়ে আকাশের পৌরুষ্যত্ব আজ যেনো বিদ্রুপ করছে তার কঠিন হৃদয় কে…
নাহ এ অনূভুতি সম্পূর্ণ অন্য,সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এই মূহুর্তে।
এই অনূভুতি তার চরিত্রের সাথে এটা তো অন্তত এই মূহুর্তে একদমই যাছে না।দ্বীর্ঘ একটা শ্বাস নিয়ে মেয়েটাকে নিয়ে দ্রুত পা চালায় তাবুর দিকে,মেয়েরটার জ্ঞান ফেরানো দরকার আগে।তারপর ধমক দিতে হবে এই অন্ধকারে কোন বুদ্ধিতে এই জঙ্গলে এসেছে…
ঢালু বেয়ে ৫ মিনিটের মাথায় তাবুর কাছে প্রিয়া কে নিয়ে পৌছায় আকাশ…
তাবুতে ঢুকে বিছানায় শুয়িয়ে দেয় মেয়েটাকে…একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ। ঠোটের সাইটে কেটে রক্ত শুকিয়ে আছে,কপালের সাইটেও তাই…তার খোলা বুকের ওপর সেই রক্ত লেগে বুকের ওপরও শুকিয়ে রয়েছে,শার্টেও রক্তের দাগ লেগে গেছে…
মেয়েটার জ্ঞান ফেরানো দরকার। দ্রুত হাতে পানি নিয়ে চোখে মুখে ছিটিয়ে দিতে থাকে…
-এই মেয়ে শুনছো!
আলতো ভাবে গালে হাত দিয়ে ডাকে প্রিয়াকে।বেশখানিকটা পর প্রিয়া কপাল কুচকে নেয়।জ্ঞান ফিরছে তার।নিভু নিভু চোখে হালকা তাকায়…মাথাটা ব্যাথায় টনটন করছে।সামনের মানুষ টাকে একদম ঘোলা লাগছে তার।আকাশ মেয়েটার পাশে বসে।বা হাতে মাথাটা উঁচু করে ধরে পানির বোতল মুখের সামনে ধরে।প্রিয়া হা করে পানিটা মুখে নেয়।চোট টাতেও ব্যাথায় টান লাগছে… আকাশ পানির বোতল রেখে হালকা গলায় বলে,
-উঠতে হবে না,শুয়ে থাকো।পরে শুনছি সব…
আকাশের কন্ঠে প্রিয়ার ঘোর অনেকটা ছুটে চায়।এবার বেশ স্পষ্ট করেই তাকানোর চেষ্টা করে, সামনে একটি অতি সুদর্শন পুরুষ বসে।শ্বাস আটকে আসে তার।
একে সে দেখেছে,কোথায় দেখেছে সে!মনে করার চেষ্টায় চোখমুখ খিঁচে বন্ধ করে ফেলে।মনে পরছে না,এই মূহুর্তে সে এখানে কেনো তার তো সেটাও মনে পরছে না…
প্রিয়া উঠে বসার চেষ্টা করে,আকাশ ধরলো না এবার।সে একাই উঠে বেডে হেলান দিয়ে বসে।
-আমি এখানে কেনো!
এবার আকাশ ধমকে ওঠে।
-সেটাই তো প্রশ্ন। তুমি এখানে কেনো!সেটা তো তুমি জবাব দেবে,জানো না এটা রেস্ট্রিকটেড এড়িয়া।এই রাতে তুমি এখানে কি করছিলে…
আকাশের ধমকে প্রিয়ার চোখে পানি চলে এসেছে।একেতো মাথাটা ব্যাথায় টনটন করছে,তারমধ্যে অচেনা একটা মানুষ ধমকাচ্ছ। মানে হয় কোনো!
পর মূহুর্তেই তার মনে পরে কেনো, কি কারণে সে এখানে।
আশপাশে তাকতে থাকে ফোনের আশায়..।
-কি হলো!কি জিজ্ঞেস করছি।জবাব দিচ্ছো না কেনো!
-আমি আসলে…
-আসলে কি!রাত বিরেতে একা একা ঘোরাঘুরি এখনকার মেয়েদের রিচুয়াল হয়ে গেছে।তাও সোজা পথে না এসে
উল্টাপাল্টা পথে…
আকাশ তাকে কথাই তে দিচ্ছে না।প্রিয় াএবার ফুঁপিয়ে কেদে ওঠে।
আকাশের এবার মনটা নরম হয়।সত্যি তো সবে জ্ঞান ফিরলো মেয়েটার,এখনই ধমকটা দেওয়া..।
-ওকে ওকে,কেঁদো না,রিল্যাক্স…
-আমার আপু কোথায়?
প্রিয়া ফুপিয়ে কেঁদেই যাচ্ছে।
-কি আশ্চর্য! তোমার আপু কে?আমি কিভাবে জানবো?
তাই তো।এই লোকটা কিভাবে জানবে।প্রিয়া নিজের বোকা বোকা কথার জন্য নিজেকে ধমক লাগায়।
-আসলে আমি আমার আপুর কাছে আসছিলাম।আপুর এখনে অফিসের দরকার এ আসতে হয়েছে…
আকাশ টের পায়,তার কোনো স্টাফ এর বোন তাহলে।কারণে এখানে একমাত্র তাদেরই কাজ চলছে…সে গম্ভির গলায় জিজ্ঞেস করে
-কি নাম তোমার আপু?
-শিয়…ইনশিয়া রহমান
আকাশ চোখ তুল তাকায়।চমকে গেছে সে।কাঁপা গলায় হালকা করে জিজ্ঞেস করে.
-তুমি শিয়ার বোন?
-হু
আকাশ একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে,
– আপনি চেনেন আপুকে?
কিভাবে না চিনি তোমার বোনকে,এ পরিচয় যে বহুবছরের।কিন্তু মুখে বলে
-হু,আমার প্রজেক্ট এ আছে সে।
প্রিয়া অসহায় চোখ নিয়ে তাকিয়ে আছে…
-আমার ফোনটা দেখেছেন?
আকাশ ফোনটা বের করে তার হাতে দেয়।ফোনটা সুইচ অফ,গ্লাস ফেটে গেছে পাথরের সাথে বারি খেয়ে।
কাঁদো কাঁদো মুখ নিয়ে গাল ফুলিয়ে ফেনটা আকাশের দিকে দেখায়।
-দেখুননা ভেঙে গেছে।আপনি একটু আপুকে আসতে বলেন না…
আকাশ চোখ সরাতে পারছে না মেয়েটার ওপর থেকে।কপালে আঘাতের কারণে কপালটা ফুলে গেছে এক সাইটে।কাদার ফলে ফর্শা ফুলোফুলো গালের দুপাশে টমেটো মতো লাল হয়ে গেছে।মাথার খোলা কোমড়ে ছাড়ানো চুল গুলো এলোমেলো হয়ে বিছানা ছড়িয়ে আছে।তার ওপর এই মেয়ে চোঠ উল্টিয়ে বাচ্চাদের মতো মতো ভাঙ্গা ফোনটা দেখাচ্ছে।
যেনো ছোট কোনো বাচ্চা খেলনা ভেঙে যাওয়ায় অভিমান করে গাল ফুলিয়ে অভিযোগ দিচ্ছে।আকাশের গলাটা
শুকিয়ে আসছে কেনো জানি, বুকের বা পাশটায় বোধহয় কিছু একটা হচ্ছে। কি হচ্ছে! উহু সে টা জানে না,শুধু জানে বেয়াদব হৃদপিন্ড টা খাচার ভিতর ঝড় তুলেছে…
-দিন না ফোন…
আকাশ এলোমেলো দৃষ্টি সরিয়ে নেয় মেয়েটার মুখ থেকে।ফোন করে কাউকে।
-আসতে বলেছি।ওখান থেকে আসতে একটু সময় লাগেব।অপেক্ষা করো…
প্রিয়া হাফ ছাড়ে।আবার এদিক ওদিক তাকাতে থাকে…
-কিছু খুজছো!
-খাবার আছে আপনার কাছে? আমি সারাদিন না খাওয়া আজকে আপুকে খোঁজার চক্করে,ক্ষুধা পেয়েছে…
আবার একই রকম গাল ফুলিয়ে আবদার করছে মেয়েটা।বারবার ঠোট ভেজাচ্ছে ঠোট কামড়ে।আকাশ এর বুকের বা পাশ টা অবশ হয়ে আসতে চাচ্ছে কেনো!
আকাশ উঠে দাড়ায়।বাকেট থেকে কাপ নুডলস্ বের করে,ফ্লাক্স থেকে গরম পানি ঢেলে দিয়ে মেয়েটার হাতে দেয় নুডলস্ এর কাপটা।
-এটা খেয়ে নাও।এই মূহুর্তে এর থেকে বেশি কিছু নেই এখানে।
-আমার তো ভাতের ক্ষুধা পেয়েছে।
-তো আমাকে কি দেখে কি ভাতের হোটেলের ওয়েটার মনে হচ্ছে?
আকাশের এহেন কথা প্রিয়া রেগে গেলো।
-কি আশ্চর্য। আমি তা কখন বললাম।
-বলো নি।খাও এটা।
প্রিয়া মুখ ফুলায়।ঠোট উল্টে নুডলস্ টাই খাওয়ায় মন দেয়…
আকাশ চেয়ারে বসে।প্রিয়া একগাদা গরম নুডলস্ ও মুখ ভরে নিয়ে চিবুচ্ছে। দু গাল খাবারের জন্য ফুলকো লুচির মতো হয়ে আছে।চুলগোছা বারবার মুখের ওপর আসছে।সে সেটা বিরক্ত ভাবে সরাচ্ছে।আকাশের খব ইচ্ছে করছে চুলগুলো বেধে দিয়ে আসতে।
নাহ্ মেয়েটা তো বড্ড বিরক্ত করছে।স্বাভাবিক ভাবে খেতে পারছে না! নাহ স্বাভাবিক ভাবেই তো খাচ্ছে।তার হৃদপিন্ড টা কি সেটা বুঝতে পারছে না? পারছেই তো না।পারলে কি আর এতো লাফালাফি করতো সামান্য মেয়েটার ফুলো ফুলো গাল দেখে…
আকাশ এই অসভ্য মনটা নিয়ে পরে গেছে বিপদে।না পারছে নিজের কনট্রোল এ রাখতে আর না পারছে বদলাতে!এর সমাধান নেই,নাহ্ একদম নেই।
সে ধপ করে উঠে দারায়..ব্যাগ হাতড়ে সিগারেট বের করে।তাবু থেকে বেরিয়ে আসে…খোলা আকাশের নিচে কাঁপা হাতে সিগারেট টানতে থাকে।আবার হাত টা কাঁপছে কেনো! নাহ, পুরো শরীরই দেখছি ওর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।আপাতত কিছুতেই ভিতরে যাওয়া যাবে না।একদম না…
চলবে….
[আপনারা পড়েন অনেকে।ভিউ দেখায় ৪,৫ হাজার মানুষ গল্প পড়েছেন।অথচ আশ্চর্য রিঅ্যাক্ট তো ১০০ জনও দেন না।এটা কিন্তু অন্যায়।আপনারা রেসপন্স না করলে লেখার আগ্রহ একদম চলে যায়,লিখতে মন চায়না আর।আপনারা ভালো হলে সেটাও জানাবেন, পছন্দ না হলে সেটাও জানাবেন। আপনাদের কোনো ডিম্যান্ড থাকলে সেটাও জানাবেন সেরকম করেও লিখার ট্রাই করবো।কিন্তু রেসপন্স না করলে ভালো লাগে বলুন?]

