আকাশপ্রিয়া #পর্ব_৮

0
40

#আকাশপ্রিয়া
#পর্ব_৮
#dure_dilshad_dua_দুর_এ_দিলশাদ্_দুআা

[🚫কপি করা নিষেধ, সম্পূর্ণ প্রাপ্তবয়স্ক দের জন্য ]

রাতের অন্ধকার, আশপাশ থেকে ভেসে আসছে ঝি ঝি পোকার শব্দ। সন্ধার আলো মিলিয়ে রাতের আধারে ছেয়ে গেছো অনেকক্ষণ। বেশ ঠান্ডা পরেছে,শীতল বাতাস বয়ে যাচ্ছে।দূরে তাদেরই বাকি জনমানবহীন তাবুগুলো থেকে আলো জ্বলা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে।আকাশ সেই আলোর দিকে তাকিয়ে একমনে সিগারেট এর ধোয়া উড়াচ্ছে…

হঠাৎ ফোন বেজে উঠলো।পকেট থেকে ফোন বের করে দেখলো রাতুল এর নাম ভেসে আছে।কল ধরতেই ওপাশ থেকে রাতুল বললো
-অ্যাই তুই নাকি শিয়া কে দেখা করতে বলছেিস
-হুম,হ্যা…কতক্ষণ লাগে আসতে? কল করেছি ঘন্টাখানেক হয়ে যাচ্ছে
-আরেহ্ শোন।সেটা বলতেই তো কল টা করেছি।
-শিয়া বেড়িয়ে গেছে তুই কল করার আরও আধ ঘন্টা আগে।
-মানে কি!
-হ্যা, হাসান জানতো না।এখানে খুঁজতে আসার পর বললাম চলে গিয়েছে।তখন জানালো তুই নাকি আরজেন্ট দেখা করতে বলেছিস…
-হ্যা,ওর ছোট বোন টা এসেছে…

আকাশ বাকি ঘটনা সংক্ষেপে জানায় রাতুল কে…রাতুল
শুনে উত্তেজিত হয়ে বলে

-বলিস কি! শিয়াও তো ওর বোনের কথা বলেই বেরিয়ে গেলো।ওর ফোন সাইলেন্স থাকায় দেখতে পায়নি।ওর বোনটা নাকি অনেকবার কল দিয়েছে।তারপর ও যখন কল ব্যাক করে তখন ফোন সুইচ অফ দেখাচ্ছিলো।মেয়েটা নাকি বাসায় একা।তাই তাড়াহুড়ো করে বেড়িয়ো গেলো।আমরাই যেতে বললাম আরকি।
-বুঝেছি,তবে এতো রাতে একা যাবে কিভাবে।একা ছেড়েছিস কেনো?
-নাহ নাহ্। পাগল নাকি।আমাদের একটা দায়িত্ব আছে তো নাকি।অফিসের গাড়ি দিয়ে পাঠিয়েছি…
-ওকে।শোন একটা কাজ কর।শিয়া কে কল দে।দিয়ে ওর বোনের ব্যাপার টা জানা।ওউ নিশ্চয়ই মেয়েটাকে খুঁজছে। আমি মেয়েটাকে নিয়ে শহরে ব্যাক করছি।পৌছে দিচ্ছি বাসায়…

রাতুল এর সাথে কথা শেষ করে।হাতের আধপোরা সিগারেট টা ছুড়ে ফেলে তাবুর সামনে এসে দাড়ায়…

-উহুম উহুম…আসবো ভিতরে

প্রিয়া যেনো অপেক্ষাই করছিলো আকাশ এর ফেরার…
-আসুন।

আকাশ ভিতরে গিয়ে দেখে খাওয়া শেষ করে প্রিয়া বিছানায় পা ঝুলিয়ে বসে আছে।এখন অনেকটা ফ্রেশ লাগছে তাকে…
আকাশ শিয়ার কথা বলতেই প্রিয়া কপাল চাপড়ে ওঠে।

-মহা মুশকিল। আজ সারাদিন আপুর সাথে এই গোলকধাঁধাই খেলছি আমি।আমি বাড়ি যাবো কিভাবে এখন।
-কেনো যেখান দিয়ে এসেছিলে

আকাশের কথায় প্রিয়া ভয় পেয়ে গেলো।চোখ বড় বড় করে বলে উঠলো

-অসম্ভব। আমি একা কিভাবে যাবো
-যেভাবে এসেছিলে।
-তখন তো দিন ছিলো…

আকাশ এর মজা হেয়ালি প্রিয়া ধরতে পারেনি।আকাশ এবার গলা বেশ গম্ভির করে বললো
-আমি শহরে ফিরছি,চাইলে..
-হ্যা হ্যা আমাকে প্লিজ সাথে নিয়ে চলুন।মানুষ জন আছে এমন কোনো এড়িয়ায় নামিয়ে দিলেই হবে।আমি ফিরতে পারবো…

আকাশ ভ্রু কুচকে তাকিয়ে রইলো।পুঁচকে মেয়েটা তাকে কি মনে করে.! এতোটাই ইরেসপনসিবল!আশ্চর্য!

-চলো…
বলেই আকাশ বেড়িয়ে আসে তাবু থেকে।প্রিয়াও পিছন পিছন বেড়িয়ে আসে।আকাশ রাতুল কে মেসেজ করে জানিয়ে দেয় সে চলে যাচ্ছে,এদিকটা যেনো তারা সামলে নেয়…
আকাশের গাড়ি অবধি যেতে যেতেই প্রিয়ার পা ব্যাথা হওয়ার জোগাড়। জঙ্গল থেকে বেড়িয়ে যে রাস্তায় গাড়ি রাখা সেখানে আসতে তাদের ১৫ মিনিট সময় লেগে গেলো…
গাড়িতে উঠে বসতেই প্রিয়া হাফ ছেড়ে বাচলো।কি শুনশান এলাকা রে বাবা।কাজ হচ্ছে যেখানে সেখানকার ওদিকটা ছাড়া পুরো রাস্তায় একটাও গাড়ি নেই আর না আছে মানুষ এর যাতায়াত। কেমন ভূতুড়ে পরিবেশ।
আকাশ সিটে বসতে বসতে বলে
-সিট বেল্ট বেধে নাও।
প্রিয়া সিট বেল্ট হাতে নেয়,বুঝতে পারেনা কিভাবে লাগাবে।
-পারছিনা তো…
আকাশ বিরক্ত হয়ে তাকায়,
-সামান্য একটা সিট বেল্ট লাগাতে পারছো না!
প্রিয়া এবার বেশ অপমানিত বোধ করে।মুখে কিছু বলে না।গাল ফুলিয়ে বসে থাকে।

সিট বেল্ট বেধে আকাশ প্রিয়ার মুখের দিকে তাকায়..বাইরে ঠান্ডা,কিন্তু এতোটা হেটে আসার কারণে মেয়েটা ঘেমে নেয়ে একাকার। গাড়ির আলোতে সেই ঘাম চিকচিক করছে।কপাল থেকে গড়িয়ো পড়ছে গালের দিকে।আকাশের খুব করে ইচ্ছে করছে মেয়েটার মুখটা আলতো হাতে ছুঁয়ে দিতে,ভেজা মুখটা মুছিয়ে দিতে…
এলোমেলো দৃষ্টি দ্রুত সরিয়ে বড় নিঃশ্বাস ছাড়ে।বোতল থেকে পানি খেয়ে শুকনো গলাটা ভেজায়…
গাড়ি স্টার্ট করে…

***
ভিষন নিরব আশপাশ।রাস্তায় না আছে আর একটা মানুষ বা গাড়ি।না আছে কয়েক কিলোমিটার এর মধ্যে কোনো লোকালয়। গাড়ি আপন মনে চলছে সেই নিরব,আধারময় রাস্তায়।
প্রিয়ার কেনো মনে হচ্ছে তার দিকে কেউ তাকিয়ে আছে।বারবার তার দিকে দৃষ্টি দিচ্ছে কেউ।
হেঁটে আসার দরুন সেই যে ঘেমে গিয়েছিলো শরীর এখনোও ঘামে চিটচিট করছে।।গাড়ির ভিতর দু’জনেই চুপ।আকাশ এক মনে গাড়িয়ে চালাচ্ছে। প্রিয়ার অসস্তি হচ্ছে খুব কেনো জানি।এসি থাকা সত্ত্বেও ঘামছে এখনো সে…

আচ্ছা লোকটা কি পারফিউম ব্যবহার করে।পুরুষ মানুষ এর গায়ের গন্ধটা কি এতোই সুন্দর হয়!প্রিয়া চোখ বাকিয়ে তাকায়…শার্টের ওপরের দুটো বোতাল খোলা।শার্টে রক্তের দাগ শুকিয়ে আছে…গলার কাছেও তাই…
প্রিয়া আর একটু ভালো করো তাকায়…উহু আর পাঁচটা ছেলের মতোন সিগারেট খাওয়া আধপোড়া কালচে ঠোট নয়…কপালের বা পাশে একটা কালো তিল।ওইতো গলায় অ্যাডমস্ আপেলের ওপরও একটা তিল।ছেলে মানুষ এতো ড্যাশিং হয় কিভাবে! আচ্ছা লোকটা কি বিবাহিত, বউ আছে?উহু নেই বোধহয়!তবে গার্লফ্রেন্ড নিশ্চয় আছে।জিজ্ঞেস করবো! না থাক…
কি ব্যাপার তার মন খারাপ হচ্ছে কেনো তাতে।এতো হ্যান্ডসাম,গুড লুকিং,ড্যাশিং ছেলে।না থাকাটাই অস্বাভাবিক…
প্রিয়া এক মনে দেখে যাচ্ছে আকাশকে…সে খেয়াল করলো আকাশও ঘামছে।গাল বেয়ে ঘামের ফোটা গড়িয়ে গলা বেয়ে শার্টের ভিতর চলে যাচ্ছে,বুকটা ঘেমে জ্বলজ্বল করছে…
কি আশ্চর্য, হয়েছে টা গাড়ির ভিতর!এসি চলছে ফুল পাওয়ারে,অথচ গরম লাগছে।লাগছে তো লাগছে এই লোকটারও কেনো লাগছে।প্রিয়া বুঝে পায়না…

-আমি কি খুব বেশি হ্যান্ডসাম?

আকাশের গলা পেয়ে চমকে ওঠে প্রিয়া।এদিকওদিক দৃষ্টি ফেরাতে ব্যাস্ত হয়ে ওঠে…
– কি হলো? বললে না…

-আমি কিভাবে বলবো
-কেনো রাতকাণা কি তুমি?

আকাশের কথায় ক্ষেপে গেলো প্রিয়া।তাকে রাতকানা বলছে মানে
-আজব মানুষ তো।রাতকানা হলে হেটে গাড়ি অবধি আসতে পারতাম আমি! কেনো মনে হলোো আমি রাতকানা…

-তখন থেকে তাকিয়ে আছো।খেয়াল করছিলাম।ভাবলাম আমি বোধহয় খুউুব সুন্দর। তা জিজ্ঞেস করতেই তো বললে জানোনা।তাই ভাবলাম তাকিয়ে ছিলে হয়তো,কিন্তু দেখতে পারছিলে না..
আকাশের হেয়ালি বুঝতে পেরে তেতে উটলো প্রিয়া।গলা উচিয়ে বললো
-মোটেই তাকিয়ে ছিলাম না আপনার দিকে আমি।কি মনে করোন টা কি নিজেকে
-ছিলে না তাকিয়ে!
-একদমই না।আমি তো বাইরে তাকিয়ে ছিলাম।-আমাকে ডিঙ্গিয়ে বাইরে অন্ধকার এ কি চোখ আদৌ যেতে চাচ্ছিলো…

ধরা পরে যাওয়ায় নিজের ওপরই রাগ হচ্ছে তা।কিচ্ছু না বলে জানালার কাচ নামিয়ে দিলো…
হুড়মুড় করে ঠান্ডা বাতাস চোখমুখে লাগতে থাকলো।আকসশ এক নজর তাকালো মেয়েটার দিকে।খোলা চুলগুলো এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে বাতাসে।চোখমুখে আছড়ে পরছে বারবার। মেয়েটা সরাচ্ছে না…আকাশ কপাল কুচকে সমানে তাকায়।কি সমস্যা মেয়েটার।মুখ চুল আড়াল করে দিচ্ছে। সরাচ্ছে না কেনো চুলগুলো।তার তো ইচ্ছে করছে নাকি!চুলগুলো সরিয়ে দিতে।কিন্তু পারছে না।এ দায় কি এ মেয়েটার নয়!

বারবার চোখ চলে যাচ্ছে তার মেয়েটার দিকে।কি নিষ্পাপ চেহারা। মুখটা কেমন শুকিয়ে আছে।হয়তো সারাদিন এর ধকলে…আনমনে চেয়ে আছে বাইরে,মেয়েটা এতো ঠান্ডায়ও তার মতো ঘামছে কেনো.সেই বা কেনো ঘামছে।খেয়াল করেছে সে।মেয়েটার দিকে চোখ পরতেই তার ভয়াবহ গরম লাগছে।প্রিয়া বারবার ঠান্ডা বাতাসে শুকিয়ে যাওয়া চোট কামড়ে ভেজাচ্ছে।এ তো মহা সমস্যা। মেয়েটা আজ তাকে দিয়ে অ্যাক্সিডেন্ট করাবে…
আকাশ হুট করে ব্রেক কষে রাস্তায়..হঠাৎ ব্রেক এ চমকে ওঠে প্রিয়া।প্রায় চিৎকার করে আর্তনাদ করে ওঠে।
-হায় আল্লাহ, কি হলো…
আকাশ কঠিন চোখে তাকায় একাবার মেয়েটার দিকে।গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে।দরজা শব্দ করে লাগায়..।প্রিয়া বুঝতে পারেনা হঠাৎ গাড়ি থামানোর কারণ।আকাশকে ওভাবে বাইরে নামতে দেখে সেও নেমে আসে।অস্থির হয়ে আকাশের পাশে এসে দারা।
-কি হলো।কি সমস্যা, গাড়ি থামালেন কেনো…
আকাশ তাকায় চোখ তুলে প্রিয়া দিকে।
গাড়ির বাতাসে চুলগুলো এলোমেলো হয়ে গেছে,এখনো মুখের ওপর কয়েকগাছি চুল.।।জোরে শ্বাস ছাড়ে সে।মেেয়েটা আবার গাড়ি থেকে নেমে এসেছে!
-কি হলো শরীর খারাপ লাগছে কি!শ্বাস ছাড়ছেন জোরে জোরে!পানি আনবো?

আকাশ ধমকে ওঠে কর্কশ গলায়
-কে নামতে বলেছে গাড়ি থেকে,একটু শান্তি দিবে না তুমি.

কি আশ্চর্য। সে কি করলো।সে তো চুপচাপ বসেই ছিলো।তার দোষ কিভাবে হয়।এই যে সে যে এক সেকেন্ড কথা না বলে থাকতে পারেনা,অথচ এই লোকটার গাড়িতে সে তো একটা কথাও বলছে না।প্রিয়ার এই কম্প্রোমাইজ কি এই লোক বোঝে!বোঝেনা,সে বোঝাবেও না,কে সে?
-আমি কি করলাম?আমাকে বকছেন কেনো।আজব লোক…

বলেই গটগট করে গারিতে গিয়ে বসলো প্রিয়া।
আকাশ জোরে শ্বাস নিয়ে নিজেকে স্বাভাবিক করলো।গিয়ে বসলো ড্রাইভিং সিটে..।

জানালার কাচ নামিয়ে গাড়ি স্টার্ট করলো। আকাশ এবার মনে মনে পণ করলো কিছুতেই মেয়েটার দিকে ফিরেও দেখবে না…
বেহায়া মন সেটা মানবে কেনো!চোখটা হয়েছে বেহায়া মনটার সাগরেদ।চোখটাও সামনে ফোকাস করা বাদ দিয়ে বারবার তাকাচ্ছে এদিকওদিক।

প্রিয়ার এই লোকটার ওপর দারুণ রাগ হচ্ছে, এভাবে ধমক দিলো কেনো তাকে।

-অ্যাই মেয়ে চুল গুলো খোলা রেখেছো কেনো।বাধতে পারোনা?রাবিস্

এবার প্রিয়ার চোখ ভেঙে পানি গড়িয়ে পড়তে চাইছে,সে হঠাৎ আকাশের ধমকের কারণ কিছুতেই ধরতে পারছে না।

-আমি আবার কি করলাম!
আকাশ সামনের দিকে তাকিয়েই বিরক্ত গলায় বললো
-রাবিস্ ওই এলোমেলো চুলগুলো বাধতে বলছি।আমি ড্রাইভ করতে পারছি না।

প্রিয়া অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো।তার চুল কিভাবে ড্রাইভিং এ সমস্যা হয়।এমন তো না যে চুল গিয়ে ওনার চোখমুখে লাগছে।

-কথায় কথায় ধমকাধমকি কি আপনার সভাব? চুলের জন্য আপনার কি সমস্যা হচ্ছে!

-সেটা তোমার জানার বিষয়না,চুল খোলা রাখা আমি পছন্দ করিনা।বাধো,ইটস্ ড্রিসট্রাক মি!

প্রিয়ার ইচ্ছা করলো লোকটার চুলগুলো হাতের মুঠোয় নিয়ে ঝাঁকিয়ে দিতে। গাল ফুলিয়ে আলতো হাতে খোপা করে নিলো চুলগুলো। বুকের ওপর আড়াবড়ি হাত ভাজ করে বাইরে তাকিয়ে রইলো।

প্রিয়া ঘুমিয়ে আছে।আকাশ জানালার কাচ তুলে দিয়েছে।এসি কমিয়ে দিলো।পৌছুতে আরও ঘন্টাখানেক লাগবে!
১০ মিনিটের মাথায় প্রচন্ড শব্দে ধাক্কা খেয়ে ঘুম ছুটে গেলো প্রিয়া।গাড়ি ব্রেক করার কারণে চমকে উঠেছে সে…আকাশের দিকে তাকিয়ে ভীত গলায় বললো

-আবার আমাকে দোষ দিবেন না কিন্তু। আমি কিছু করিনি…

আকাশ কপাল কুচকে তাকায় প্রিয়ার দিকে।এতটুকু ঘুমেই চোখমুখ টমেটোর মতো ফুলিয়ে ফেলেছে।কিছু না বলে বেরিয়ে আসে গাড়ি থেকে।গাড়ির সামনে ধোয়া উঠছে..
এই সময়ই এই ঝামেলা হতে হলো।জোরে গারির ওপর লাত্থি দিলো সে।মেজাজ খারাপ হচ্ছে।
-ড্যাম ইউ
প্রিয়া এবার বেরিয়ে আসলো।সেও দেখতে পেলো ধোয়া।
-কি হলো!
-গাড়ির গরম লাগছে, এখন সে দৌড়াদৌড়ি করবে না বললো।বসে থাকো সারারাত এখানে।
আকাশ এর খোটা দেওয়া কথায় প্রিয়ার রাগ হলো
-বললেই তো হয় কি সমস্যা গাড়ির।
-দেখতে পাচ্ছো না!বোঝাই তো যাচ্ছে সমস্যা হয়েছে।দেখতে হবে।এতো কথা না বলে গাড়িতে গিয়ে বসো
প্রিয়া মুখ বাঁকিয়ে গাড়িতে হেলান দিয়ে দাড়ালো।

****
-রাবিস্
আকাশের বিরক্তিমাখা গলা পেয়ে আবার এগিয়ে আসলো প্রিয়া।
-তোমাকে না বললাম গাড়িতে গিয়ে বসো।রাত করে রাস্তায় দাড়িয়ে থাকা নিরাপদ নয়। বুঝতে পারোনা?

এবার অবশ্য আকাশের ধমকে গা করলো না প্রিয়া।সে খুব বুঝতে পারছে গাড়ির ভালোরকম সমস্যাই হয়েছে…
আকাশ রাতুল কে কল করে।জানিয়ে দেয় দ্রুত একটা গাড়ি পাঠাতে…

প্রায় আধঘন্টা ধরে অপেক্ষা করছে তারা মাঝ রাস্তায়…এখনো তাদের গাড়ি এসে পৌছায়নি,প্রিয়াকে গাড়িতে গিয়ে বসতে বলছে আকাশ বারবার। সে কিছুতেই যাচ্ছেনা।সেও আকাশের আশেপাশে ঘুরঘুর করছে…দূরে কোথাও শেয়াল ডাকছে,প্রিয়া ভয়ে জড়সড় হয়ে বারবার আকাশকে ঘেঁষে দাড়াচ্ছে।

আকাশ বিরক্ত হয়।নাহ্ মেয়েটাকে কিছুতেই কথা বললে শোনে না,এ মেয়ে তো আর বোঝেনা সে আশেপাশে থাকলে আরেকজন এর বুকের ভিতর কিছু একটা হয়।এই অন্ধকার রাতে,মাঝরাস্তায় এতো কাছে এসে দাড়িয়ে থাকার মানে হয়!তার ওপর বেয়াদব মেয়েটার বেয়াদব চুলগুলো আবার খুলে এলোমেলো হয়ে আছে,আর আবার মুখের ওপর উড়ে এসে পড়ছে বারবার। আর এই মেয়ের ঠোট কামড়ে, ঠোট ভেজানোর স্বভাব তো আছেই।আর কিছুক্ষণ এই মেয়ে তার কাছে ঘেঁষলে তার জঙ্গলে ছুট লাগাতে হবে এই অসহ্য অনূভুতি থেকে পালাতে…

প্রিয়ার ঠান্ডা ালগছে এখন।আবার গাড়িতে একা একা বসে থাকতেও ভয় লাগছে।আশেপাশে তাকায় সে।নিস্তব্ধ চারিপাশ। অথচ ঝিঁঝি পোকার আওয়াজ সাথে মাঝেমধ্যেই কোথা থেকে বন্য শেয়াল এর গলা পাওয়া যাচ্ছে। ভয়ে তা রহাত পা ধরে আসছে।সে তো হরর মুভিতে দেখেছে যত কাহিনি শুরু হয় এই ধরনের রাস্তার মাঝেই…
আরেকটু ঘেঁষে দাড়ালো আকাশের কাছে।হঠাৎ আবার শেয়ালের ডাকে চমকে খামচে ধরে আকাশের শার্ট…আকাশ তাকায়। মেয়েটা চোখমুখ বন্ধ করে আছে,কপাল কুচকে।যথারীতি কামড়ে ধরে আছে নিচের ঠোট…

প্রিয়া এবার চোখ বন্ধ করেই কাপা কন্ঠে বলে ওঠে
-কি ব্যাপার বলুন তে।আপনার লোক আসতে এতক্ষণ লাগে?জানিয়েছেন তো নাকি!

মানে কি!মেয়েটা কি বোঝাতে চাচ্ছে।এই গভির রাতে তার মতো একটা ইডিয়ট কে নিয়ে জনমানবহীন এলাকায় জঙ্গলের মাঝরাস্তায় মশার কামড় খেতে তার ভালো লাগছে।
ভ্রু উচিয়ে ধমক দেয়…
-আমার কি খুব ভালো ালগছে তোমার মতো একটা ইডিয়ট কে সাথে নিয়ে দাড়িয়ে থাকতে।

ইডিয়ট বলায় প্রিয়া রেগে ওঠে…
-ইডিয়ট বলছেন কাকে হ্য?কাকে বলছেন?গাড়িটা আমার জন্য খারাপ হয়েছে? এখন তো আমার মনে হচ্ছে আপনি ইচ্ছে করেই এতসব নাটক করছেন গাড়ি খারাপ হওয়ার।একা একটা মেয়েকে সাথে পেয়ে…

আকাশ প্রিয়ার কথা শেষ হওয়ার আগেই রেগে গিয়ে হাতটেনে জোরে ধাক্কা দিয়ে নিয়ে এতে ফেললো গাড়ির ওপর।পিঠে ব্যাথায় গুঙিয়ে উঠলো প্রিয়া।আকাশ তার দুপাশে হাত দিয়ে গাড়ির ওপর হাত রেখে তার মাঝে বন্দি করলো নিজের সামনে।প্রিয়া চোখ খিচে বন্ধ করে ফেললো ভয়ে।সাথে এটাও টের পেলো সত্যি ইডিয়ট এর মতোই কি ভুলভাল বলে ফেলেছে…মানুষ টা তাকে বাচালো,আর রেগে গিয়ে তাকেই এতো বাজে কথা বলে ফেললো। দুজনের নিঃশ্বাস আছড়ে পড়ছে একে অপরের ওপর।তিরতির করে কাপছে প্রিয়ার।ঠোট।কামড়ে ধরছে আছে নিচের ঠোঁট।
আকাশ এবার এক নজর তাকালো সে ভেজা ঠোঁটের ওপর।কম্পিত বন্ধ চোখ জোড়া থেকে শুরু করে গলার বা পাশে কালো তিলটা অবধি একবার চোখ বুলালো।চোখ স্থির করলো ভেজা গোলাপি ঠোঁট জোড়ার ওপর।
এই মেয়ের ভেজা ঠোঁট জোরার ওপর চোখ পরতেই তার গলা এমন শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেলো কেনো। আশ্চর্য! এই যে।এই বেয়াদব হৃদপিন্ড টাআবার ঠুকরে বের হয়ে আসতে চাইছে।এই বুকের বা পাশের শব্দ টা কি এই মেয়ে শুনতে পাচ্ছে? নাহ্ পাচ্ছে না…

চলবে….

[এক্সাম চলছে,গল্প দিতে তাই দেরি হলো।সরি প্রিয়তমা রা]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here