#আকাশপ্রিয়া
#পর্ব_৯
#dure_dilshad_dua_দুর_এ_দিলশাদ্_দুআা
[🚫কপি করা নিষেধ, সম্পূর্ণ প্রাপ্ত বয়স্ক দের জন্য ]
চোখ বন্ধ অবস্থায় ও খুব কাছে কারোর অস্ত্বিত্ব টের পাচ্ছে প্রিয়া।সেই পারফিউম টার ঘ্রান,তার বুকের ভিতর দুড়ুমদুড়ুম শব্দ হচ্ছে। গা ছেড়ে দিতে চাইছে যেনো।সামনের মানুষটার নিঃশ্বাস ছুয়ে যাচ্ছে তার চোখমুখ…
-তোমার সাথে চাইলে আমি এই মূহুর্তে অনেক কিছু করতে পারি।উহু ভুল বললাম।অনেক আগেই করতে পারতাম।যখন তুমি আবার বেডের ওপর ছিলে,ভেবে দেখেছো?সেন্সও ছিলো না তোমার,এখনকার থেকে ভালোমতো কিছু করতে পারতাম তাই না?এখন তো মাঝরাস্তা, গাড়ির ভিতর।তখন রিল্যাক্সে বেডে পেয়েছিলাম তোমাকে।ছুঁয়েছি খারাপ ভাবে?
আকাশের এহেন কথায় বড় বড় করে তাকালো প্রিয়া।আকাশ এর চোখমুখ লাল হয়ে গেছে রাগে।
-আ আমি আসলে ওভাবে বলতে…
-উসসসস্। চুপ।
প্রিয়া থমকে তাকিয়ে থাকে।তার শ্বাস আটকে আসছে। সে তো মুখ ফসকে বলে ফেলেছে…
– আমি ভুল বলছি কিছু?পারতাম কী না বলো।স্পিক আপ ড্যামেড
-পারতেন…
-এখনও পারি। তুমি আর যে ১০টা ছেলের চরিত্র বিচার করে আমাকে তাদের সাথে মিলাচ্ছো তোমার এই ধারণা আমি সত্যি করে দিতে পারি।কিন্তু আকাশ এহনাজ চৌধুরীর রুচি এতোটা নেমে যায়নি যে সে মাঝরাস্তায় কোনো মেয়ের অসহায়ত্বের সুযোগ নেবে।সে ডাকলে মেয়ে মানুষ হুমড়ি খেয়ো এসে পড়বে।তাই পথেঘাটে আমার কারোর তোমার ওই সো কলড্ সুযোগ। ওইটা নেওয়ার কোনো ধান্দা আমার নেই
প্রিয়ার চোখ টলমল করছে পানিতে।যতটা না আকাশ এর এই রুপ দেখে,তার থেকে বেশি মানুষ টাকে মুখ ফসকে এতো বাজে কথাটা বলে দেওয়ার জন্য। এই মানুষ টা আজকে তাকে না বাঁচালে ওই জঙ্গলের মধ্যে এতোক্ষণে তার সাথে কি কি হতে পারতো সেটস ভেবেই গা শিউড়ে উঠছে তার।
এবার ফুপিয়ে কেঁদে উঠলো প্রিয়া…আকাশ যেনো হুশ এ ফিরলো।ছিটকে সরে গেলো অনেকটা দূরে প্রিয়ার থেকে।এভাবে এতো কঠিন করে বলা উচিত হয়নি মেয়েটাকে…
ব্যাস্ত ভঙ্গিতে এগিয়ে গেলো আবার,মাথায় হাত রাখলো পিছনে দিকে হেলালো মাথাটা
-হেই্ লিসেন,লিসেন…ডোন্ট ক্রাই,ডোন্ট ক্রাই।আই ডোন্ট মিন ইট সো রাফ।
প্রিয়া ফুঁপিয়ে কেদেই যাচ্ছে।
-আমার বলা উচিত হয়নি এভাবে।ডোন্ট ক্রাই…
আকাশের অস্থির হওয়া দেখে এবার প্রিয়া ফুপিয়ে ফুপিয়ে হেচকি তুলতে তুলতে বললো
-আমি সরি।আমাকেে ক্ষমা করুন।আমি ওভাবে বলতে চাইনি।সরি।অনেক সরি..।আপনি আমাকে বাঁচালেন,আর আমি এভানে বাজে কথা বললাম..।
-ইটস ওকে,ইট’স ওকে…কেঁদো না তুমি।তোমার ডিস্টার্ব থাকা স্বাভাবিক। ডোন্ট ক্রাই প্লিজ।
প্রিয়া ওড়না দিয়ে চোখ মুছে তাকায়।আকাশ মাথার ওপর থেকে হাতটা সরিয়ে নেয়।
তখনই দূরে গাড়ির আলো ভেসে আসছে।ফোন বেজে উঠলো আকাশের।ফোন রিসিভ করতেই বুঝলো তাদের গাড়ি চলে এসেছে…
****
গাড়ি থামতেই অফিস ক্লার্ক হাসান একজন মেকানিক নিয়ে নেমে আসলো…
-স্যার আপনারা এই গাড়ি নিয়ে চলে যান।আমি এই গাড়ি ঠিক করে পৌছে দিচ্ছি।
-ঠিকাছে…
আকাশ প্রিয়া কে নিয়ে গাড়িতে উঠে বসে…
****
অফিস থেকে রাতুল এর ফোন পাওয়ার পর যেনো নিশ্চিন্ত হয় শিয়া।প্রিয়ার এতোবার কল দেখে কল ব্যাক করে ফোন বন্ধ পেয়ে একপ্রকার ছুটে ছুটে এসেছিলো বাসায়।আসার পর প্রিয়া কে না দেখে তার পাগলপ্রায় অবস্থা।
সে বুঝতে পারছে না কি এমন দরকার যে বাসায় না থেকে সে কেনো শিয়ার অফিসে চলে গেলো…শিয়া ব্যাস্ত হয়ে পায়চারি করছে।এতক্ষণেও আসছে না কেনো।
***
আধঘন্টার মধ্যে গাড়ির শব্দে ছুটে বেড়িয়ো এলো শিয়া।গাড়ি থেকে প্রিয়া আর আকাশ নেমে আসছে।আকাশ কে দেখেই থমকে গেলো তার মুখ..
প্রিয়া এসে বোনের সামনে অভিমান চোখে দাড়ালো।
শিয়া ব্যাস্ত স্বরে বললো
-প্রিয়ু ঠিক আছিস তুই
-আমার সাথে কথা বলবি না তুই।ফোন সাথে থাকে কি দরকার? যদি প্রয়োজন এর সময় নাই পাওয়া যায়।
বোনের অভিমান বুঝলো শিয়া।একহাতে জড়িয়ে নিলো নিজের সাথে।
-ভুল হয়ে গেছে আমার বোন।আর কখনো হবেনা।কিন্তু কি হয়েছিলো বলতো।তুই হঠাৎ ওখানে চলে গেলি আমাকে খুঁজতে খুজতে।
-বলছি সব। ভিতরে গিয়ে,আগে ওনাকে..।
আকাশ দাড়িয়ে আছে এখনো।ওরা ঘুরতেই বলে উঠলো
-আমি আসি এখন।আর ভবিষ্যতে এ চলাফেরা একটু সাবধানে করবে
শিয়া এবার বোনকে রেখে এগিয়ে গেলো আকাশের দিকে।
-ভিতরে আসুন স্যার…
শিয়ার মুখে স্যার আর আপনি ডাক শুনে নিঃশব্দ হাসির রেখা দেখা গেলো আকাশ এর মুখে।
তবে স্বাভাবিক গলায় বললো,
-এটা অফিস নয়।আর আমি এখানে তোমার বস নই।আপনি আর স্যার টা হাস্যকর লাগছে।
শিয়া জানতো বোধহয়, এরকম উত্তরই হয়তো আশা করছিলো সে।
সামান্য হেসে বললো
-ভেতরে এসো।চা খেয়ে যাও…
আকাশ মাথা নাড়লো।
-আজ পসিবল না।তোমার এই বোকা বোনটার জন্য আজ কাজের সবটা ঘেটে গেছে।অন্য দিন…
নিজেকে বোকা বলায় তীব্র প্রতিবাদ করতে প্রায় ছুটে এলো প্রিয়া
-আমাকে বোকা বললেন মানে.
-তুমি শুধু বোকা নও আস্ত ইডিয়ট একটা।
প্রিয়া চোখ রাঙিয়ে আবার কিছু বলতে যাওয়ার আগেই শিয়া হাত টেনে পিছিয়ে আনে প্রিয়াকে।
-কি হচ্ছে টা কি প্রিয়া।
বোনের ধমকে প্রিয়া চুপ করে যায়।আকাশ সেই রাগী মুখটার দিকে তাকায় এক পলক।মেয়েটা রাগলে এক নিমিষে ফর্সা মুখটা লাল হয়ে ওঠে।গাল ফুলিয়ে রাগ দেখায় মেয়েটা।আকাশ চোখ সরিয়ে নেয়।
-আসছি আজকে।
শিয়ার সাথে কথার ধরনে প্রিয়া স্পষ্ট বুঝতে পারছে এরা পূর্ব পরিচিত…শুধু অফিসের বস এমপ্লয়ি নয় অন্য ভাবেও।
****
আকাশ চলে গেলে দু বোন ভিতরে আসে।ঘরে আসতেই প্রিয়া রনচন্ডী রুপ ধারন করে বোনের সামনে।একঝুড়ি অভিযোগ নিয়ে বসে।শিয়া বুঝতে পারে সবটা।বোনের অভিমান করাটাও স্বাভাবিক। কিন্তু সে যে বোকার মতো চাবি রেখে গেছে সে দায় কার!
-আমাকে যে এতো কথা বলছিস।চাবিটা নিতে ভুললি কেনো!
প্রিয়া বোনের কথা মোটে গায়ে মাখলো না।বরং আরও জোর গলায় বললো
-তুই তো বলিস আমি বাচ্চা। বাচ্চা দের তো ভুল হতেই পারে মাঝে মধ্যে।
শিয়া হাসে,জড়িয়ে ধরে বোনটাকে।
-বেশ বেশ।ভুল হয়েছে আমার সোনাবাচ্চা।আর হবেনা।রাগ কমেছে?
প্রিয়া গাল ফুলিয়ে মাথা ঘোরায়।
-নাহ্ কমেনি
শিয়া হাসে।সে জানে বোন রেগে নেই মোটে।একটু আহ্লাদী, আহ্লাদ করতে হবে আর কি
– বেশ তো।কি করলে আমার বোনটার রাগ,অভিমান কমবে,শুনি
-প্রিয়া লুকিয়ে হাসে,মুখ গম্ভীর করে জানায়
-বিরিয়ানি খাবো আমি।
শিয়া জানতো প্রিয়া এটাই বলবে।বোনের কপালে একটা চুমু দিয়ে বলে।
-যথাআজ্ঞা প্রিন্সেস। আপনি ফ্রেশ হয়ে আসুন। আমি রান্না বসাচ্ছি। আজ রাতে পড়া ছুটি।দু বোন পিকনিক করবো আর এনজয় করবো।
প্রিয়ার আর নাটক করার ধৈর্য হলো না।বোনকে লাফিয়ে জড়িয়ে ধরলো
-লাভ ইউ আপুউউউ
–
হয়েছে হয়েছে।এবার যা গোসল করে আয়,গায়ে কি ধুলা…
-এক্ষুনি যাচ্ছি। তুই সব রেডি করতে থাক।একসাথে রান্না করবো।
ব’লেই প্রিয়া দোতলায় ছুট দেয়…শিয়া বোনের দিকে তাকিয়ে হাসে।রান্না ঘরের দিকে যায়..।
চলবে…
[সরি প্রিয়তমা রা।বেশি ছোট হয়ে গেলো আজকে তাইনা?আসলে অ্যাডমিশন টেস্ট নিয়ে খুব প্রেশার এ আছি তো।পরশু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এর পরীক্ষা পরপর ২ দিন।পড়াশোনার প্রচুর চাপ।এই কয় দিন একটু সমস্যা হবে হয়তো,একটু ছোই দিবো।তবে এর মধ্যে সুযোগ পেলেই বোনাস পর্ব দিয়ে দিবো🥹]
–

