#আকাশপ্রিয়া
#পর্ব_১০
#dure_dilshad_dua_দুর_এ_দিলশাদ্_দুআা
[🚫কপি করা নিষেধ ]
ঘড়ির কাটায় সময় এখন রাত্রী ১১টা বেজে ১৮।
বাইরে ঝুম আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নেমেছে,বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে ঘনঘন।
রাত্রির বৃষ্টি নিঃশব্দে নয়—আজ যেন আকাশের ভেতর জমে থাকা সমস্ত কথা ঝরে পড়ছে। বারান্দার রেলিং ছুঁয়ে জল নেমে আসে, টুপটাপ শব্দে ছন্দ কাটে সময়ের। আকাশ সেখানে দাঁড়িয়ে আছে—নামটা আজ অদ্ভুতভাবে তার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে যেনো! মাথার ওপর আকাশ কালো, ভারী, আর তার ভেতরের আকাশটাও ঠিক তেমনই।
বুকের ভিতর অজানা ঝড় বয়ে যাচ্ছে আজকাল।
নিজেকে প্রশ্ন করলে উত্তর আসে না।
অথচ মেয়েটা সামনে এলেই সব এলোমেলো হয়ে যায়। সাজানো ভাবনা, শক্ত করে বাঁধা অনুভূতি—সব যেন হঠাৎ খুলে যায়, অকারণে। বুকের ভেতর অচেনা একটা আলোড়ন ওঠে, যাকে সে কোনো নাম দিতে পারে না, আবার অস্বীকারও করতে পারে না।
বৃষ্টির ঠান্ডা হাওয়া তার মুখ ছুঁয়ে যাচ্ছে,দমকা বাতাস বইছে সাথে। তার বোধহয় এখন শীত করার কথা ছিলো।কিন্তু কেনো জানি লাগছে না।বরং উল্টো টা হচ্ছে। তার দারুণ গরম লাগছে,অস্থির লাগছে। একজোড়া চোখ ভেসে উঠছে বারবার —সেই তাকানো, হাসি,সেই উপস্থিতি,শরীর এর ঘ্রান,নিঃশ্বাস এর শব্দ…
আকাশ এর নিজের কাছেই বিষয়টা অসহ্য লাগছে।এ আবার কেমন অনূভুতি। আগে কখনো হয়েছে কী! নাহ্ মনে পরছে না।হয়নি কখনো।
সেই স্কুল লাইফ থেকেই তো কতো মেয়ে আসেপাশে ঘুরঘুর করেছে,পাগলামি করেছে তার জন্য, তার নিজের ফ্রেন্ডসার্কেল এউ মেয়ে ছিলো।এখনো আছে।কই কখনো কিছু তো মনে হয়নি।
তাহলে ওই বাচ্চা মেয়েটাকে দেখে এতোসব তোলপাড় এর মানে হয়!কি নাম দেবে সে এ অনূভুতির!নাম হয় আদৌ!
-অ্যাই আকাশ,কি ভাবছিস তখন থেকে বলতো।
রেদোয়ান এর ডাকে পাশ ফিরে তাকায় আকাশ…বিচ্ছু গুলো সবকটা একেকটা এসে ঢুকলো রুমে।আকাশ সবগুলোকে একসাথে দেখে ভ্রু কোচকায়।বারান্দা ছেড়ে রুমে ঢোকে।বারান্দার দরজা আটকে বিছানায় এসে বসে।
-এখানে কি করছিস। রুম নেই তোদের?
রাকিব লাফ নিয়ে বিছানায় হাত পা মেলে শুয়ে পরে।পকেট থেকে ফোন বের করতে করতে বলে
-তোর কি হয়েছে সেটা বল!
-আমার কি হবে…
আকাশ দেখে বাকিরা মিটিমিটি হাসছে…আকাশ বুঝতে পারছে না এদের মতলব।
-তুই নাকি কট খাইছোস.।
রেদোয়ান কথাটা বলেই হাত বের করে হাসি হাসি মুখ করে তাকিয়ে রইলো।আকাশ কপাল কুচকে তাকায় রাতুল এর দিকে।বেয়াদব টা নিশ্চয় রংচঙ মাখিয়ে ওই মেয়েটার কথা বলেছে।
মুখ বরাবরের মতো গম্ভীর করে জিজ্ঞাসা করে
-বুঝলাম না।কট মানে কি!
“তুমি তলে তলে টেম্পু চলাও আমি কইলেই হরতাল”
“আমি কইলেই হরতাম মামা, আমি কইলেই হরতাল”
বেসুরো গলায় রেদোয়ান গেয়ে ওঠে গান।বাকিরাও সাথে গলা মেলায়।আকাশ বিরক্ত হয়।বেয়াদব গুলো রেডি হয়েই এসেছে তাকে বিরক্ত করতে।
-তোদের কাজ নেই কোনো?
রিয়ান বেশ ভাবুক কন্ঠে জবাব দিলো…
-ছিলো ছিলো।কিন্তু আপাতত আর নেই।আকাশ এহনাজ চৌধুরী একটা মেয়েকে দেখে থমকে গেছে,বর্তমানে এটার থেকে গুরত্বপূর্ণ কাজ আমাদের আর নাই।
রিয়ান এর কন্ঠে বাকিরাও তাল মেলায়…আকাশ বেশ উদাসীন ভাবে জবাব দেয়
-মাথা কি পুরো গেছে?রাতুল এমনি বলেছে,সে-রকম কিছু নয়।
রাতুল প্রতিবাদ করে উঠলো।
– কে মিথ্যা বলছে হ্যা? তুই সেদিন ওই মেয়েকে দেখে মাথা ঘুরে ব্রেক ফেল করিস নি? গাড়ি গাছের সাথে ধাক্কা লাগাসনি?প্রথমদিন এসে ওই মেয়ের পিছুপিছু গিয়ে পথ হারাসনি???
রাতুল এর কথা শুনে বাকিরা হা করে তাকিয়ে আছে,এতো কিছু ঘটে গেছে তারা জানেই না?আর এসব কিনা করেছে সয়ং আকাশ এহনাজ চৌধুরী…
আকাশ রাতুল এর এই তীল থেকে তাল বানানো কথা বার্তায় দারুণ বিরক্ত হয়।দীর্ঘশ্বাস ফেলে।ওর বন্ধু গুলো সবগুলো একেকটা শয়তান।
বাকিরা অভিমান নিয়ে আকাশের দিকে তাকায়।রাকিব কাঁদো কাঁদে মুখ বানিয়ে আকাশ কে বলে
-এতো কিছু তুই আমাদের থেকে লুকিয়ে যেতে পারলি!ভাবির পিছু গিয়ে পথ হারিয়েছিলি.।.
আকাশ ধমকে ওঠে
-থামবি তোরা! তোরা ওই গাধাটার বানানো কথা বিশ্বাস করছিস?তেমন কিচ্ছু না বললাম তো।আর পিছু গিয়ে পথ হারিয়েছি মানে কি.!
আকাশ ফোন স্ক্রল করতে থাকে…
রেদোয়ান বেশ সিরিয়াস হওয়ার নাটক করে বলে
-কি রে আকাশ! বলছিস তেমন কিছুনা। মানলাম।সত্যি তো,ভাবারই তো বিষয়,আকাশ এহনাজ এর মাথা ঘুরাতে পারে এমন সুন্দরী হয় নাকি!
পাশ থেকে রাকিব ও একই স্বরে বলে ওঠে
-নিশির ডাক নয় তো মামা!
রিয়ান:-হতেই পারে, এবার হয়তো মনুষ্য জাতী না পেরে উঠে, জ্বিন পরীরা মিশনে নেমেছে আকাশ এহনাজ এর মন পাওয়ার।
পাগলগুলোর অবাস্তব কথায় আকাশের অসহ্য লাগছে।চোখ রাঙ্গিয়ে তাকায় সবকটার দিকে।ধমকে বলে
-বেরিয়েছিস আমার রুম থেকে? নাকি ঘাড় ধরে বের করবো
আকাশ ধমক,অপমান থোড়াই কেউ গায়ে মাখলো।আকাশকে ক্ষেপানোর সুযোগ পেয়ে আরও আটঘাট বেধে মহা উৎসাহে সবাই তাকে বিরক্ত করে যাচ্ছে। আকাশ বুঝলো অসভ্যগুলো কিছুতেই থামবে না এখন…
*****
বিরিয়ানি রান্না শেষের দিকে।প্রিয়া রান্নাঘরের তাকের ওপর পা ঝুলিয়ে বসে আছে।সালাদ কেটে রেডি করে এখন টমেটো হাতে নিয়ে বলের মতো উঁচু তে ঠেল দিয়ে ক্যাচ দিচ্ছে বারবার…
হঠাৎ ড্রয়িং রুম এ শিয়ার ফোন বেজে উঠলো।
-দেখতো প্রিয়ু।ফোনটা ধর।আমি ধরতে গেলে বিরিয়ানি টা পুরে ধরবে।
প্রিয়া দৌড়ে গিয়ে ফোনটা ধরলো।আননোন নাম্বার…
ফোন ধরে সালাম দিতেই।ওপাশ থেকে ভাড়ি,জড়িয়ে আসা কণ্ঠস্বর এ এক মূহুর্ত যেনো থমকে গেলো প্রিয়া…
-আমি কি এতো টাই খারাপ শিয়া,আমার কথা একবার শোনা যায়না,বোঝা যায়না।
রং নাম্বারে যে কল আসেনি স্পষ্ট বুঝতে পারলো প্রিয়া।কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করলো
-কে বলছেন!
অপর ব্যাক্তি বোধহয় ধরতে পারলো না প্রিয়ার গলা।সে শিয়া ভেবেই একের পর এক কথা বলে যাচ্ছে…
-অ্যাম সরি শিয়া।অ্যাম সরি।আমি কি করতাম বলো,পারি নি বলতে…শিয়া…
প্রিয়া এবার জড়িয়ে আসা কন্ঠের রহস্য ধরতে পারলো বোধহয়।অপর পাশের ব্যাক্তি হয়তো নেশাগ্রস্ত।
প্রিয়া কিছু বলতে যাওয়ার আগেই কল কেটে গেলো।ফোনের দিকে তাকিয়ে বুঝলো ফোন আসলে সুইচ অফ হয়েছে।চার্জ শেষ বোধহয়!
দৌড়ে চার্জে লাগালো।ততক্ষণে শিয়া হাতের কাজ শেষে চলে এেসেছে।বোনের এমন কিংকর্তব্যবিমুঢ় অবস্থা দেখে অবাক হলো
-কী রে! কি হলো তোর
প্রিয়া এবার ফোনের ব্যাপারে সবটা খুলে বললো।শিয়া চুপচাপ শুনে গেলো।অবাক হলো না।স্বাভাবিক ভাবে ফোন চালু করে প্রিয়া কে বললো
-চল খেয়ে নেই।রাত হয়েছে তো অনেক নাকি।
বোনের কোনো রেসপন্স না পেয়ে প্রিয়া অবাক হয়।
– কে ছিলো আপু?
শিয়া স্বাভাবিক গলায় জবাব দেয়
-চিনিনা তো নাম্বার। হবে কোনো মাতাল।
প্রিয়া আর কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই শিয়া স্বাভাবিক ভাবে খাবার বাড়তে শুরু করে।প্রিয়া আর প্রশ্ন করেনা…
****
-হ্যালো হাসান.
-স্যার বলুন
-অয়ন ভাই কোথায়?তোমার সাথে না?
-জ্বী স্যার।আমি নিয়ে আসছি স্যারকে
-নিয়ে আসছো মানে?সাইটের কাজ তো অনেক আগেই শেষ,এখনো ওখানেই ছিলে
-ইয়ে মানে স্যার।অয়ন স্যার একটু…
-কি হয়েছে,স্পষ্ট করে বলো।কই আছো?
-স্যার রাস্তায় তেই আছি।কটেজে ফিরতে ১৫ মিনিটের মতো লাগবে।আসলে অয়ন স্যার একটু বারে গিয়েছিলো।ড্রাইভিং করার মতো সেন্স এ ছিলো না।আমি নিয়ে আসছি।আপনি টেনশন করবেন না…।
হাসানের কথা শুনে আকাশ কয়েক মূহুর্ত স্থির হয়ে বসে রইলো।ঝামেলা হবে এটা সে জানতো,কিন্তু অয়ন ভাই তো কখনো ড্রিং করেনা…জোরে নিঃশ্বাস নিয়ে গা এলিয়ে দেয় বিছানায়।
অয়ন ভাইকে ফোনে না পেয়ে টেনশন হচ্ছিলো তার।রাত দেড় টা বাজে এখনো ফেরেনি কটেজে।এমনটা তো হয়না।হাসান অয়নের পারসোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট। হাসান সাথেই থাকে অয়নের।সেই আন্দাজ থেকেই ফোন করে হাসানকে।অয়ন ভাই বারে গেছে!এখন বর্তমান এ সে ড্রাংক!
আকাশ মনে মনে ভাবে যত দ্রুত সম্ভব অয়ন ভাইয়ের বিষয়টা সমাধান করতে হবে।অনেক বছর তো হলো! আর কত! এর একটা ইতি টানার সময় এখন এসে গেছে…
*****
সকাল সকাল শিয়া বেড়িয়ে গেছে অফিস এ।প্রিয়ার বোনের সাথে নাস্তা করতে পড়তে বসেছিলো।আজও শিয়ার ফিরতে রাত হবে।বাসায় টুকিটাকি প্রয়োজনীয় জিনিস শেষ হয়ে গেছে।কোনো এক ফাঁকে প্রিয়াকে সমানের মার্কেট থেকে নিয়ে আসতে বলেছে।প্রিয়া জানালা দিয়ে তাকায়।এখন আকাশ যথেষ্ট পরিষ্কার। এখন বের হওয়া উচিত। বলা তো যায় না বৃষ্টির মতিগতি। প্রিয়া টেবিল ছেড়ে উঠে চটপট রেডি হয়ে বেরিয়ে যায়….
***
কেনাকাটা শেষে রাস্তায় এসে দাড়ালো প্রিয়া।এইযে বৃষ্টি নামলো বলে।ছাতা টাও আনেনি।তাড়াতাড়ি ফিরতে হবে বাসায়।তাড়াহুড়ো করে বের হতে গিয়ে আচমকা জোরেশোরে ধাক্কায় মাটিতে বসে পরলো সে।হাতের জিনিসগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে পরলো আশেপাশে। রাগান্বিত হয়ে চোখ তুলে তাকালো। দু তিন জন ছেলে হাসতে হাসতে পাশের চায়ের দোকানে গিয়ে সিগারেট ধরালো… বর্তমান এ তার দিকেই চোখ ছেলেগুলোর।নানা ধরনের বাজে কথা বলতেথাকে প্রিয়াকে উদ্দেশ্য করে…প্রিয়া কিছু বলতে যাওয়ার আগেই ছেলেগুলোর একজন এর গালে স্ব জোরে থাপ্পড় পরলো।ছেলেটা ধমকে উঠলো
-মেয়ে মানুষ দেখলেই বাজে কথা বের হয় না?জিভ টেনো ছিড়ে ফেলবো বেয়াদব।
দুটো ছেলেই এহনে ধমকে মিয়িয়ে গেলো।
-সরি ভাই,ভুল হয়ে গেছে
ছেলেটা বখাটেগুলো আরও কিছুক্ষণ ধমকালো বুঝতে পারলো প্রিয়া।সে ততক্ষণে উঠে দাড়য়িে গেছে।ছেলেটা এগিয়ে এসে প্রিয়ার সাথে তার জিনিসগুলো তুলে ব্যাগ টা প্রিয়ার হাতে দিলো।
প্রিয়া হাসিমুখে ব্যাগটা হাতে নিলো।
-থ্যাংক ইউ…
ছেলেটা মিষ্টি হেসে জাবাব দিলো
-ইট’স ওকে।তোমার কোথাও লগেনি তো?ঠিক আছো.
প্রিয়া জোরে জোরে ঘাড় নাড়লো।বোঝালো সে একদম ঠিক আছে।
-রিকশা নেবে তো?
প্রিয়া হ্যা সূচক ঘাড় নাড়ায়।
-চলো এগিয়ে দেই।যদিও এখন আর ওরা কিছু বলবে না…
প্রিয়া ছেলেটার পাশাপাশি হেটে মেইন রাস্তায় চলে এলো।
ছেলেটা ওর দিকে ঘুরে মোলায়েম কন্ঠে বললো
-বাই দ্যা ওয়ে।আমি রিয়ান…
-প্রিয়া…প্রিয়ানিশা রহমান…
-নাইস টু মিট ইউ।ডোন্ট মাইন্ড,তোমার নামটাও তোমার মতোই মিষ্টি।
প্রিয়া হালকা হেসে বিদায় নিয়ে রিকশায় উঠে বসলো…রিয়ান দাড়িয়ে আছে,একন নিমিষেই তাকিয়ে আছে মেয়েটার দিকে।রিকশা চোখের আড়াল হওয়া অবধি তাকিয়ে রইলো।
বেশকিছুক্ষন আগে যখন প্রিয়া মার্কেটে ঢোকে তখবই রিয়ান দেখতে পায় প্রিয়াকে।সে নিজে এসেছিলো ফোনের চার্জার কিনতে।প্রিয়াকে দেখেই চমকে ওঠে।এই তো সেই মেয়েটা।যাকে সে সেদিন দেখেছিলো রাস্তায়।যাকে দেখে মনে হয়েছিলো দ্বিতীয় বার ভালোাবসা সম্ভব। খুব সম্ভব। রিয়ান মৃদু হাসে।হাত দিয়ে মাথা চুলকায়…বিরবির করে বলে
-অবশেষে আবার তোমার দেখা পেলাম আবার হুরপরী…
****
-কি হলো মামা.
-মামা চাক্কা তো ভাইঙ্গা গেলো।
-ভেঙে গেলো মানে।এখন উপায়.
-আপনে আরেকটা রিকশা দেখেন মামা।এইডা তো আর চালানো সম্ভব না…
প্রিয়া রিকশা থেকে নামে।সত্যিই সম্ভব না।মেজাজ খরাপ হচ্ছে তার।তার কপালই খারাপ।এদিকে মেঘ ঘনকালো হয়ে আসছে।যেকোনো সময় ঝুম বৃষ্টি নামবে।রিকশা ওয়ালাকে ভাড়া মিটিয়ে হাঁটা ধরে।এদিকে এমনিতেই রিকশা পাওয়া মুসকিল। দাড়িয়ে থাকলে সময় নষ্ট তো হবেই,বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়ার সম্ভবনাও ১০০ %…….
***
আকাশ কালো শার্ট গায়ে জড়িয়ে,হাতে ঘড়ি পরে নেয়।চুলগুলো ব্যাকব্রাশ করে বাইকের চাবি, হেলমেট হাতে বেরিয়ে আসে।আজ বাইক নিয়েই বেরোবে।।এখান থেকেই সোজা কাজের ওখানে যাবে।বাকিরা বেড়িয়ে গেছে আরও আগেই।
দূর থেকে সাদা জামা পরা মেয়েটাকে দেখে বাইকের গতি থামিয়ে কমিয়ে দেয়…এতদূর থেকে স্পষ্ট বুঝতে পারছে মেয়ে টা কে!নাকি মনের ভুল!
আরেকটু কাছে গিয়েই বুঝতে পারে ভুল একদমই হয়নি!প্রিয়াই।খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছে মেয়েটা।আকাশ কপাল কুঁচকে ওঠে।বাইক থামায় প্রিয়ার একদম পাশে।প্রিয়া চমকে তাকায়।ভয়ে ছিটকে দু হাত পিছনে সরে যায়…
হেলমেট থাকায় চিনতে পারেনা আকাশকে।আকাশ বাইক থেকে তড়িঘড়ি করে নামতে গেলে প্রিয়া ধমকে ওঠে
-দেখুন একদম আমার গা ঘেঁষবেন না।তখন শিক্ষা হয়নি তাইনা।
আকাশ থ হয়ে দাড়িয়ে পরে।কি বলছে এ মেয়ে।কি শিক্ষা হবে!
একহাতে হেলমেট খুলে হাতে নিতেই প্রিয়া আরেক দফা চমকে ওঠে।আকাশকে দেখে যেনো শান্ত হয় অস্থির মন।
-আল্লাহ। বাচলাম।আমি ভেবেছিলাম।অসভ্যগুলো…
আকাশ বোঝার চেষ্টা করছে এ মেয়ের কথা।
– অসভ্য মানে! কাকে মনে করেছিলে।
– না না কাউকে না।হুট করে এভাবে বাইক থামিয়েছেন তো তাই ভয় পেয়েছি আরকি।
আকাশ পায়ের দিকে তাকায়।
-কি হয়েছে পায়ে
প্রিয়া আমতা আমতা গলায় বলে
-জুতা ছিড়ে গেছে,আর একটু ছিলে গেছে আরকি
আকাশ অধৈর্য হয়ে জিজ্ঞেস করে
-দেখি দেখি,অনেকটা?
আকাশ তার পায়ের দিকে হাত বাড়াতে গেলে পিছিয়ে যায় সে
-আরেহ্ কি করছেন টা কি।তেমন না কিছু।একটু
আকাশ ভ্রু কুচকে সোজা হয়ে দাড়ায়।নিজের ওপর খানিকটা বিরক্ত হয়।এই মেয়ের জন্য এতো টেনশন হচ্ছে কেনো।নিজের গম্ভীর রুপে ফেরে সে।ঘুরে বাইকে এসে বসে।
প্রিয়া দাড়িয়েই আছে।আকাশ তাকায় এবার মেয়েটার দিকে ভালো করে।রাগ হয় তার।
এই বৃষ্টির দিনে কোন পর্যায়ের বেআক্কেল হলে সাদা জামা পড়ে বের হয়।আজও চুল খোলা! এতো বড় চুল,বড় চুল হলেই খুলে রাখতে হয়!ওড়না টাও গলায় দেওয়া।কেনো ভালো করে গায়ে জড়াতে সমস্যা কোথায়।এইযে তার হার্টবিট বেড়ে যাচ্ছে।এর দায় কার।বাকিরা কেনো দেখবে তাকে এভাবে।খোলা চুল থেকে এতদূরেও মিষ্টি গন্ধ ভেসে আসছে!কি স্যাম্পু ইউজ করে।আকাশ এর গলায় শুকিয়ে আসে।রাগ হয় নিজের ওপর…
প্রিয়া এগিয়ে আসে খানিকটা।আকাশ ঢোক গেলে,মেয়েটার গায়ের মিষ্টি ঘ্রান আরও যেনো তীব্রভাবে তসকেমছুয়ে যায়।আকাশ কিছু বলতে যায়,তখনই প্রিয়া তার মুখের ওপর উঠতে থাকা একগোছা চুল কানের পাশে গুঁজে দেয়।আকাশ ভুলে যায় সে কি জেনো বলতে যাচ্ছিলেো।
আকাশ মনে মনে ধমকে ওঠে নিজেকে।এটা কোনো কথা!যে আকাশ এহনাজ চৌধুরীর সামনে সবাই কথা বলতে কাপে,সে সবাইকে ধমকের ওপর রাখে।এই বাচ্চা মেয়ের সামনে আসলে নাকি তার কথা হারিয়ে যায়।
-একটু পৌছে দিন না বাসা অবধি।দেখছেন তো পা টা কেটে গেছে,জুতাও ছিড়ে গেছে,গাড়িও নেই রাস্তায়…
মিনমিন করে কথাটা বলে স্বভাব মতো ঠোট ভেজায়…
-যখনই আমার সাথে তোমার দেখা হয়,হয় তুমি হুশে খুয়িয়ে বসে থাকো না হয় আমার হুশ খেয়ানোর ব্যাবস্থা করো।সমস্যা টা কি তোমার?
প্রিয়া বুঝে ওঠে না সে কি করলো।তার সাথে দেখাই তো হয়েছে এর আগে একদিন মাত্র…
-আমি কখনআবার আপনার হুশ খোয়ালাম
-চুল বাধো ইডিয়ট। দেখছো না কথা বলছি আমি?
-আপনার কথা বলার সাথে আমার চুল বাধার কি সম্পর্ক!
আকাশ বিরক্ত হয় প্রিয়ার প্রশ্নে।
– বাঁধো জলদি।আমি কথা এলোমেলো করে ফেলছি!
-মানে?
-মানে…খোদা…অ্যাই মেয়ে তোমার বাসায় ভ্যাসলিন নেই…
কথার মাঝে হঠাৎ চুল বাধা এখন আবার বাসায় ভ্যাসলিন আছে কীনা এহনে প্রশ্নে প্রিয়া হতবুদ্ধি হয়ে তাকিয়ে থাকে আকাশের দিকে।
– হ্যা. মানে? বুঝলাম না।এ কথা জিজ্ঞেস করলেন কেনো!
-ইডিয়ট, সবসময় ঠোট কামড়াও কেনো।সামনের মানুষ এর তো সমস্যা হয়
প্রিয়া এবার বিরক্ত হয়।এ বার কেমন কথা।
-আমি কি সামনের মানুষ এর ঠোট কামড়েছি, যে তার সমস্যা হবে!
– নাহ্।হৃদয়ে তাও কামড়ের ব্যাথা লাগে। ইডিয়ট…
প্রিয়া আরও কিছু বলতে যাওয়ার আগেই আকাশ জোরে ধমক দিলো।
-এসে বসো।
প্রিয়া উঠে বসে বাইকে।মিনমিন করে বলে
-দেখুন আস্তে চালাবেন। আমি এর আগে কখনো বাইকে উঠিনি।
-ধরে বসো।আমার বাইক আস্তে চলে না,আর না আকাশ এহনাজ আস্তে কিছু করতে পারে।
আকাশের বাকা কথায় প্রিয়ার লজ্জায় গাল দুটো লাল হয়ে আসে।এই মানুষ টার সামনে যতবার আসে ততবারই তো তার দিনদুনিয়া কেমন ওলটপালট লাগে।এখব আবার ধরে বসতে হবে!
-কি হলে।ধরেছো? পরে গেলে কিন্তু টেনে তুলবো না।
প্রিয়া এবার কাঁপা হাত রাখে আকাশের ঘাড়ে।
এবার একদফা দু’জনেই যেনো কেপে উঠলো।জোরালো হলো বুকের বা পাশের আওয়াজ।একে অপরের সেই ভিতরের ঝড়,ভাঙচুর শুনতে পেলো কি কেউ।পেলোনা বোধহয়…
চলবে…
[পর্ব বড় করার চেষ্টা করেছি।কাল হয়তো গল্প আসবে না]

