আকাশপ্রিয়া #পর্ব_১১

0
38

#আকাশপ্রিয়া
#পর্ব_১১
#dure_dilshad_dua_দুর_এ_দিলশাদ্_দুআা

[🚫কপি করা নিষেধ ]

শিয়া প্রায় ১ ঘন্টা অপেক্ষা করছে অফিস রুমে।আজ তাকে আগে অফিসে দেখা করে যেতে বলা হয়েছে।কিন্তু কেনো ডাকা হয়েছে সেটাই বুঝতে পারছে না।তার তো কনট্রাকশন সাইটে থাকার কথা এখন…

দরজায় আওয়াজ হতে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো।সামনের মানুষটাকে দেখে চমকালো,থমকালো, পর মূহুর্তেই সামলে নিলো নিজেকে।ব্যাগ হাতে উঠে দাড়ালো।পেশাদার ভঙ্গিতে সালাম জানালো…

অয়ন সালাম এর উত্তর নিলো কিনা বোঝা গেলো না।কোনো শব্দ করলো না।এক হাতে দরজার লক করে দিলো।শিয়া এবার নড়েচড়ে উঠলো।দরজা নক করছে কেনো…
সামনের মানুষ টার দিকে সে তাকাতে পারছে না।
অয়ন এবার একদম সামনে এসে দাড়ালো শিয়ার।শিয়া দম আটকে নিলো এক মূহুর্ত…
এবারও সাথে সাথে সামলেও নিলো নিজেকে।গলার স্বর
স্বাভাবিক রেখে বললো
-স্যার ডেকেছিলেন?

অয়ন গম্ভীর মুকে তাকিয়ে ছিলো সামনের পাষান মেয়েটার মুখের দিকে।তার মুখে স্যার ডাক শুনে বাকা হাসলো।খুব আস্তে করে বললো….

-হুম?কি? শুনি নি?কি ডাকলে!স্যার?

অয়নের কণ্ঠস্বর কেমন যেনো অন্যরকম লাগছে আজ।ঝট করে চোখ তুলে তাকালো মানুষ টার মুখের দিকে।
কেমন মাতাল চাহনি…
শিয়ার বুকের ভিতর তোলপাড় করছে।
অয়ন আরেকটু এগিয়ে আসলো।এবার তার নিঃশ্বাস এর গরম বাতাস এসে পরছে শিয়ার চোখে মুখে।
শিয়া এবার পিছিয়ে গেলো দু পা।অয়নও সাথে সাথে এগিয়ে দু হাতে চেপে ধরলো শিয়ার দু হাত।কেপে উঠলো মেয়েটা।অয়ন আবারও ঠান্ডা গলায় বললো

-জোর করতে চাইনি,এতোবছর পর তিক্ততা দিয়ে কথা শুরু করতে চাইনি,সময় দিতে চেয়েছিলাম তোমাকে। কিন্তু নাহ্ তুমি আমার কথা শোনার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করবে বলে
মনে হচ্ছে না।পালিয়েই বেরাচ্ছো।

শিয়া হাত ছাড়াতে চায়।বেশ কড়া গলায় বলে
-এটা অফিস।আপনি আমার বস।এমন কিছু করবেন না যাতে বদনাম হয়…

অয়ন বাকা হাসে।
-বদনাম! কার?কে করবে?
-দেখুন স্যার?আপনার বদনাম হবেনা।আপনি পুরুষ মানুষ। দিন শেষে ব্লেম সমসময় মেয়েদের কেই করা হয়,সাফারও মেয়েদের করতে হয়।পুরুষ মানুষ ঠিক সময় মতো পালিয়ে যায়।

-সব পুরুষ যায়?নারীরা যায়না?তুমি যাওনি?

শিয়া লাল চোখে তাকায়। কড়া স্বরে বলে ওঠে
-আপনার মুখে এ কথা মানায় না স্যার।আমাকে বলছেন পালিয়ে বাচি? আমাকে?অন্যের ঘাড়ে বন্দুক রেখে হিরো সাজবেন এতটা এক্সপেক্ট করিনি অন্তত।আপনার কাছে তো নয়ই..অবশ্য ভুল আমারই।আপনার থেকে এটা এক্সপেক্ট করা উচিত ছিলো অনেক আগে ছিলো।

এবার অয়ন দু হাতে হেচকা দিয়ে ছেড়ে দেয় শিয়া কে।চেয়ারে লাথি দিয়ে সরে দাড়ায় তার থেকে।চিৎকার করে ওঠে…

-অস্বীকার করতে চাও সেদিন তো তুমিও পিছু হটে গেছিলে। তুমি যাকে বদনাম বলছো সেটা গায়ে না মেখে কে ভালোবাসা জয় করতে পেরেছে।পেরেছে কেউ!

-পারেনি। আমিও পারিনি।এটাই শুনতে চাচ্ছিলেন তো।হ্যা সত্যি এটাই।আপনার ধারনাই সঠিক।আমাকে যেতে দিন।

শিয়া ঘুরে দরজা দিকে পা বাড়াতেই। অয়ন আবার হাত চেপে ধরলো।

-আমি যদি বলি ভুলটা সেদিন তোমার দিক থেকে হয়েছিলো।তবুও কি শেষ অবধি শুনতে চাইবে না কিছু।

শিয়া হেচকা টানে হাত ছাড়িয়ে নেয়।তাচ্ছিল্যের হাসি হাসলো…
-আপনি বোধহয় আমার কথাটা শুনতে পাননি।-আমিতো বললামই,স্বীকার তো করলামই।আমি পালিয়ে এসেছিলাম।বদনমা থেকে বাঁচতে। আপনার ভালোবাসার বদনাম…

-এটা বলছো অভিমানে,রাগে…

-হাসালেন স্যার।আপনার সাথে আমার বোধহয় রাগ অভিমান এর সম্পর্কটা আর নেই।আজ থেকে ছ বছর আগে অনেক সিদ্ধান্তই আবেগ,রাগ,অভিমান এর জেদে নিয়েছি।এখন সে সময় ফেলে এসেছি।বাস্তবতা ছাড়া কোনো কিছু যুক্তিতে টেকে না।

-আজও শুনবে না তাহলে?

শিয়া এবার শান্ত চোখে তাকায় অয়নের দিকে।ছেলেটার চোখদুটো লাল হয়ে আছে।অসহায় দৃষ্টিতে তে তাকিয়ে আছে তার দিকে।শিয়ার বুকের ভিতর কেমন যেনো উথাল-পাতাল অনূভুতি হলো।চোখ সরিয়ে নিলো মূহুর্তেই।

-এতগুলো বছর কোথায় ছিলো আপনার যুক্তি.! কোথায় ছিলেন আপনি?৬ বছর অনেক সময় স্যার অনেকটা…আমরা কেউই আর ছোট নেই,আবেগের দিন পেরিয়ে এসেছি বহু আগেই।নিজেদের জীবন নিয়ে অনেক এগিয়ে গেছি যে যারযার মতো।এখন পুরানো স্মৃতি নিয়ে থিসিস রচনা করা সময় একদম নেই।আমার অন্তত নেই।মাফ করবেন।
শিয়া দম নেয়।অয়ন ছলছল চোখে তাকিয়ে কাছে।পুরুষ মানুষ এর কাঁদতে নেই,না হলে আজ সব বাধ ভেঙে হয়তো কাদতো।চোখ জ্বালা করছে প্রচুর।

-আমি আশা করবো অতীত নিয়ে আমাকে আর কখনো কোনো অসস্তিকর মূহুর্তে ফেলবেন না।তাছাড়া আমার বিয়ে ঠিক করা। বাবা মা ফিরলেই আমার বিয়ে। আমি চাইনা বাচ্চাকালের কোনো ভুলে আমার বর্তমান আমাকে ভুল বুঝুক…
-ভুল?কোনটা ভুল? আমাদের ভালোবাসা?আমি?
-ধরে নিন তাই।

অয়ন স্তম্ভিত হয়ে যায়।শিয়ার বিয়ে!অয়ন থমকে তাকিয়ে থাকে।শিয়া এবার আর দাড়ায় না,আর না তো অয়ন তাকে থামাতে চায়।সে কি ঠিক শুনলো!এতোটাই দেরি হয়ে গেছে তার!ভালোবাসা নেই!

-আমাকে ক্ষমা করে দিয়ো অয়ন,আমি তোমাকে ক্ষমা করতে পারবো না।আর না তো আবার সেদিন এর মতো নিজের আত্মসম্মান বিসর্জন দেবো।আর সম্ভব নয়।মিথ্যে টা তো বলতেই হতো।
শিয়া মনে মন আওড়ায়।মুখ চেপে কান্না লুকায়।বেড়িয়ে আসে অফিস থেকে…

***
-আপনি এদিকে কোথায় যাচ্ছিলেন?
-অফিসে।
-এই রাস্তায় কেনো?
-কেনো রাস্তা কি তোমার বাবার?
-এখানে বাবার কথা উঠলো কোত্থেকে!আমি তো এমনিই জিজ্ঞেস করলাম।এটা তো ভিতরের রাস্তা।দেরি হয় এ রাস্তায়!
-তোমার সমস্যা কি তাতে?
আকাশের কাটকাট জবাবে রাগ হয় প্রিয়ার।

-আমার সমস্যা সেটা কখন বললাম…
-রাবিস..
-কথায় কথায় ধমক না দিলেও তো পারেন!স্বভাবই কি এমন..
-শাট আপ।
-আমার মুখ আমার সিদ্ধান্ত।
-এসব রাবিস সিদ্ধান্ত ফলাও কোন সাহসে?তাও আবার আমার সমানে।
-আপনি কে!
-কে বোঝাবো?বেয়াদবই টা কি জন্ম থেকেই করো?

প্রিয়া জবাব দেয় না এবার।লোকটা বড্ড রসকষহীন।একটু স্বাভাবিক ভাবে কথা বলতেই জানে না।তার ইচ্ছে হচ্ছে লোকটার ঘাড়ে খ্যাচ করে খামচে দিতে।কিন্তু না,সেটা করা যাবেনা।এ লোককে বিশ্বাস নেই,মাঝরাস্তায় ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে চলে যাবে…
কিছুক্ষণ এর মধ্যে বাইক এসে থামলে প্রিয়াার বাসার সমানে।প্রিয়া নেমে এগিয়ে আসলো বাইকের সমানে।

-বাসায় আসবেন?

আকাশ হেলমেট খুলে হাতে নিলো।চোখ তুলে প্রশ্ন করলো

-এভাবে কেউ বাসায় ইনভাইট করে?
-না করে না।।
-তাহলে।
-আমি তো ইনভাইট করিনি।আমি জিজ্ঞেস করলাম আসবেন কিনা।

আকাশ বিরক্ত চোখে তাকায়।বেয়াদব মেয়ে আতিথিয়েতাও শেখেনি।হেলমেট টা মাথায় লাগিয়ে বাইক স্টার্ট দেয়।প্রিয়া কিছু বলার আগেই আকাশ চলে যায়।
প্রিয়া মুখ বাঁকিয়ে ভেঙ্গচি কাটে,চাবি বের করতে করতে বাসায় আসে।

****

-কিরে আকাশ ডেকেছিস?কোনো সমস্যা।
আকাশ জবাব দেয়না কোনো।
রেদোয়ান আবার জিজ্ঞেস করে,
– কি ভাবছিস এতো!
আকাশ ঘুরে দাড়ায়…
-উম্ ভাবছি তো অনেক কিছুই।রিয়ান,রাতুল কোথায়?
-ওরা কাজের ওখানেই রয়েছে।দরকার? ডাকবো?
আকাশ কিছু বলেনা,কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে ফোন বের করে অয়নকে কল করে।
-ভাইয়া?
-হ্যা আকাশ বল..
-আমাদের রেস্ট টেন্ট এ চলে আসো তো।আরজেন্ট।
-আসছি
কল কেটে রেদোয়ান এর দিকে ফেরে।
-রাতুল,রিয়ান,রাকিব, আর মিস্টার হায়দার কে ডেকে নে।ফাস্ট…

১০ মিনিটের মধ্যে সবাই টেন্ট এ হাজির হলো।
আকাশ গম্ভীর গলায় বললো
– একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি,উম্ ঠিক নিয়েছি বলবো না,নিতে চাচ্ছি,মতামত এর জন্য ডেকেছি।

অয়ন চুপচাপ বসে ছিলো।আসার পর সে টেন্ট এই ছিলো।আকাশ না ডাকলে বোধহয় বের হওয়া হতো না আজ।

সেই ভাইয়ের মতোই গম্ভীর গলায় জিজ্ঞেস করলো
-তুই সিদ্ধান্ত নিবি,এতে আমাদের মতামত এর কিছু নেই,আমরা আপত্তি করবো না।
আকাশ মাথা নাড়ে…
-উহু্ বিষয় টা একা নেওয়ার মতে না।আর তাছাড়া এদিক থেকে মিস্টার হায়দার সাহেব আছেন ওনার কিছু বলার থাকতে পারেন।
হায়দার সাহেব বিনয়ে মাথা নাড়েন,
-আমার কিছু বলার নেই আকাশ বাবা।আপনি বলুন। কিসের জন্য ডেকেছেন।
আকাশ চেয়ার ছেড়ে উঠে দাড়ায়।

-দেখুন কাজ কয়েকদিন হলো সবে শুরু হয়েছে। তবে আমি খেয়াল করেছি মেইন রোড থেকে আমাদের ওয়ার্ক সাইট অনেকটা ভিতরে।আইমিন আমাদের এখানে বেশ কয়েকজন মহিলা স্টাফ রয়েছে।ফিরতে ফিরতে রোজ বেশ রাত হয়ে যায়।বুঝতে পারছেন নিশ্চয়। আমি ভেবেছি আমাদের এখানে পাশে যে আহসান সাহেবের কোয়ার্টার গুলে আমরা আমাদের স্টাফ দের জন্য বুক করে নিবো।যতদিন ওনাদের কাজ এখানে চলবে ওনারা ওখানেই থাকবে।আমরাও এখানেই থাকবো..

আকাশ এর প্রস্তাব এ বাকিরাও মাথা নাড়ালো

-বেশ ভালো প্রস্তাব। সত্যি সমস্যা হয়ে যায়,মহিলা স্টাফ দের।আমি তাদের সাথে কথা বলবো।

আকাশ এবার অয়ন এর দিকে ঘুরলো।
-ভাইয়া।তোমার কিছু বলার আছে?
-নাহ্।যা ভেবেছিস এটা মাথায়ই ছিলো না কারোর।গুড জব

আকাশ মুচকি হাসে।সে যে উদ্দেশ্য সিদ্ধান্ত টা নিয়েছে, এখন সেটা ঠিকমতো হলেই হয়।বন্ধু গুলোর দিকে তাকায় একবার, সবার মুখে হাসি।সে যা করতে চায় সেটা সফল করতে এই বিচ্ছুগুলেকে তো লাগতই…

চলবে…

[আজকের পর্ব একটু ছোট্ট হলো,রাতে আরেকটা পর্ব দেওয়ার চেষ্টা করবো,রিঅ্যাক্ট না দিলে দিবোনা]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here