আকাশপ্রিয়া #পর্ব_১২

0
40

#আকাশপ্রিয়া
#পর্ব_১২
#dure_dilshad_dua_দুর_এ_দিলশাদ্_দুআা

[🚫কপি করা নিষেধ, সম্পূর্ণ প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ]

শিয়া যখন রাতে বাসায় ফিরলো।প্রিয়া তখন ঘুমের দেশে… মাথা যন্থনায় বিছানায় শুয়েছে অনেকক্ষণ। দরজা খুলে ভিতরে কারোর আসার আওয়াজ পেয়ে ঘুম ভাঙলো।চোখ পিটপিট করে তাকালো।
হাতড়ে ফোন খুঁজে সময় দেখলো।রাত্রী সাড়ে ৯ টা।উঠে বসে আড়মোড়া ভাঙলো।এলোচুলগুলো খোপা করে বিছানা থেকে নেমে আসলো।
শিয়া বোধহয় বাথরুম এ ফ্রেশ হচ্ছে। পানির শব্দ আসছে বাথরুম থেকে,প্রিয়া বিছানায় পা ভাজ করে বসে ফোন হাতে স্ক্রল করতে থাকে…
হঠাৎই হালকা ডুকরে ডুকরে কাঁদার শব্দ কানে আসে তার!চমকে এদিকওদিক তাকায়।শব্দ টা কি সত্যি শুনলে! নাকি মনের ভুল।কেমন গা ছমছম করতে লাগলো।পাশ ফিরে তাকালো,জানালা বন্ধ। হাফ ছেড়ে ঘাড় ঘোরাতেই আবার শব্দ পেলো।এবার সে বুঝতে পারলো শব্দ টা আসছে।

বাথরুম থেকে,এগিয়ে গেলো বাথরুম এর দরজার দিকে,কান রাখলো দরজায়। হতবাক হয়ে গেলো সে।ভিতর থেকে স্পষ্ট শিয়ার কান্নার আওয়াজ আসছে।যদিও ভিতরে পানির কল ছাড়া,পানির শব্দ আসছে,তবুও কান্নার শব্দ এখন স্পষ্ট। প্রিয়ার দারুণ কান্না পাচ্ছে এখন,বোন তার সবসময় স্ট্রং,তার মতো ছিট কাঁদুনে নয় কোনো জন্মেই,আহ্লাদ করে না কখনো।
আজ কি এমন হলো যে সেই মেয়েটার এভাবে লুকিয়ে কাঁদছে! পানির শব্দ বন্ধ হতেই প্রিয়া দ্রুত পায়ে বিছানার অপর পাশে জানালর দিক মুখ করে বসে,নিজের চোখের পানিটুকু মুছে ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকে।

মিনিটখানেক এর মধ্যে বাথরুম থেকে শিয়া বেরিয়ে আসে।প্রিয়া স্বাভাবিক ভাবেই ঘাড় ঘুরিয়ে উচ্ছাস প্রকায় করতে চায়,বোনের দিকে তাকাতেই বুকের ভিতর তার থমকে আসে।চোখদুটো যথেষ্ট লাল।সে কিছু জিজ্ঞেস করনে তার আগেই শিয়া হাতের জামাকাপড় চেয়ারে রাখতে রাখতে কৃত্রিম হাসি মুখে ফুটিয়ে বলতে থাকে
-জানিস আজ কি হয়েছে?

প্রিয়া কিছু বলার আগেই শিয়া বলতে শুরু করে রাস্তার ট্রাফিক এর আদ্যোপান্ত। প্রিয়া অবাক হয়,বেশ অবাক হয়।বুঝতে পারে বোন তাকে বুঝতে দিতে চাচ্ছে না নিজের মনের অবস্থা..
জামাকাপড় গুছাতে গুছাতে শিয়া আজকের দিনে ঘটা নানা ঘটনা বলতে থাকে,প্রিয়াও মনোযোগী স্রোতা হয়ে শোনে সবটা…

-খেয়েছিস প্রিয়ু? খাসনি না?তোর ঘুম দেখেই বুঝেছি?
-মাথা ধরেছিলো আপু।
-এক্সাম নিয়ে এতো প্রেশার নিতে না করেছি তো আমি।যা হওয়ার হবে।আয়, নিচে চল খাবি আয়।

প্রিয়া কথা বাড়ায় না।বোনের মন সে আজকে বুঝতে পারছে না।কষ্ট হচ্ছে তার।নিচে নেমে আসে একসাথে।

****
আকাশ বাড়িতে কথা বলছে ১ ঘন্টা হলো।কাজের চাপে এ কয়দিনে দু একবার মা ছাড়া আর অফিসের দরকার এ দু একবার বাবা কাকা ছাড়া আর কারের সাথেই কথা হয়নি।

আজ সময় আছে বলাতে যেনো বাড়ির সবাই সে সুযোগই নিচ্ছে।চাচা,চাচি,ভাই বোন সবকটার কথা শেষই হচ্ছে না…
সবার কথার ফাকে মা ফোনটা হাতে নিয়ে একটু দূরে গিয়ে বসলেন।ছেলের দিকে তাকিয়ে চিন্তিত গলায় জিজ্ঞেস করলেন।

-আব্বা,অফিসের কি খুব চাপ?
-একটু তো চাপ আছেই মা।
-অয়ন টা কি বেশি প্রেশার এ আছে আব্বা?
-তেমন কিছু না মা,কেনো বলো তো
-বড় আব্বা সেদিন কথা বলতে গিয়ে… মানে ওর গলা কেমন জেনো শোনালো,জিজ্ঞেস করলাম।বললো ব্যস্ত। পরে কথা বলবে।সেই যে ফোন কাটলো,আর তো আমার ফোন ধরে না।ও তো এমন কখনো করেনা।
-মা তুমি অযথা টেনশন করছো।তেমন কিছুনা।অফিস এর ব্যাস্ততা একটু বেশি তে।তাছাড়া কনস্ট্রাকশন সাইটে ফোনের খেয়ালই থাকে না আমাদের সবার।আমি ভাইয়া কে বলে দিবো,জলদি তোমার সাথে যেনো কথা বলে।

মায়ের ফোন কেটে ভাইয়ের নাম্বার ডায়াল করে আকাশ।কল তোলে না ওপাশ থেকে।আকাশ অবশ্য এটাই আশা করেছিলো।
ল্যাপটপ বন্ধ করে গাড়ির চাবি নিয়ে বের হয়ে যায়…নক করে রাতুল এর রুমে।রাতুল বোধহয় ঘুমাচ্ছিলো।
-কোন হারা***

দরজা খুলেই বিচ্ছিরি ভাষায় গালি দিতে গিয়ে আকাশকে দেখে দুহাতে মুখ চেপে ধরে।আকাশ কপাল কুচকে দেখে বেয়াদব টাকে।
-তাড়াতাড়ি নিচে নাম।৫ মিনিট টাইম।
রাতুল চোখ ডলতে ডলতে প্রশ্ন করে
-কোথায় যাবো?
-তোর জমের বাড়ি।নাম তাড়াতাড়ি।

আকাশ গটগট করে চলে গেলে রাতুল এক সেকেন্ড সময় নষ্ট না করে রেডি হয়ে নিচে নেমে আসে কিছুক্ষণ এর মধ্যে…
কে জানে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যমের বাড়ি আবার কি,যার সাথে যাচ্ছে সেই যদি সাক্ষাৎ যম হয় তাহলে আর বাড়ি অবধি কষ্ট করে কেনো যাবে।রাতুল তবুও আর প্রশ্ন করেনা।জবাব যে যমসাহেব দেবেন না তা সে ভালো করেই জানে।

***
দুবোন রাতের ডিনার শেষে ওপরে উঠে আসে।শিয়া ল্যাপটপ খুলে বসেছে বিছানায়।প্রিয়া বাথরুম থেকে বের হতেই তাকে পাশে এসে বসতে বললো শিয়া।
প্রিয়া বাধ্য মেয়ের মতো বোনের পাশে বসে…
-বাবা মার সাথে কথা হয়েছে?
-হুম বিকেলেই হয়েছে।তোমার?
-আমারও হয়েছে।শোন একট দরকারি কথা আছে।

প্রিয়া বোনের চিন্তিত মুখের দিকে হা করে তাকিয়ে থাকে।ভাবতে থাকতে দরকারি কথাটা কি হতে পারে।
শিয়া বুঝতে পারে বোনের কৌতুহলি মনোভাব।

-আচ্ছা শোন,পরীক্ষার তো বেশিদিন নেই আর।তোর কি এখন কোনো টিউশন দরকার?

এটা বোনের দরকারি কথা!প্রিয়া হতাশ হয়…ঘাড় নেড়ে বলে
-নাহ্।এখন তো দরকার নেই।
-তাহলে আমি যদি অন্য কোথাও কিছুদিন এর জন্য শিফট হই দরকারে।তোর কোনো অসুবিধা হবে না তো?

প্রিয়া এবার চমকে ওঠে,শিফট হবে মানে,কোথায় যাবে তাকে ছেড়ে।জোরে জোরে ঘাড় নারে।
-একদম না আপু।আমি একা অসম্ভব। থাকতেই পারবোনা।পাগল নাকি!ভয়েই মরে যাবো।
শিয়া বোনের ছেলেমানুষী কথা শুনে হাসে।
-আমি কি একা শিফট হওয়ার কথা বলছি নাকি গাধা মেয়ে। তোকে রেখে কোথায় যাবো আমি!

প্রিয়া হাফ ছেড়ে বাঁচে। দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে বুকে হাত দিয়ে বোঝায় সে ভয় পেয়েছিলো..।
-তাও ভালো!নো প্রবলেম। কোথায় যাবো বল?কতদিন এর জন্য?

শিয়া জানায় বিস্তারিত। অফিসের কাজে তাদের আপাতত কনস্ট্রাকশন সাইটের কাছাকাছি থাকতে হবে,রাতেও শিফট থাকবে,মেয়ে মানুষ এতোরাতে যাতায়াত মোটেই নিরাপদ নয়।সেজন্য অপিস কতৃপক্ষে তাদের সেখানেই স্থানীয় সব কটেজগুলে বুক করে নিয়েছে।যতদিন থাকার দরকার হবে আরকি.
বেশিরভাগই একা থাকলেও শিয়ার বোনকে রেখে কিছুতেই থাকা পসিবল না।কতৃপক্ষ প্রিয়া কেও সাথে থাকার বিষয়ে রাজি হয়েছেন। কাল বিকেলে তারা সেখানেই শিফট হবে…
আদ্যোপান্ত শুনে প্রিশা বাচ্চা মেয়ের মতোন খুশিতে লাফিয়ে উঠলো।
জন্মের পর থেকে এ বাড়ি ছাড়া তাদের কোথাও যাওয়া হয়নি,থাকা তো দূর।কয়েকবার অবশ্য পরিবার নিয়ে ঘুরতে যাওয়া হয়েছে,তবে হোটেলে থাকা হয়েছে ২-৩ দিন যা থাকতো…সে মহা উৎসাহে যাবতীয় জিনিসপত্র প্যাক করতে শুরু করে দিলো।শিয়াও হাতে হাতে নিজের বোনের সহ বাড়িটা গুছিয়ে নিলো…

****

আকাশের গাড়ি এসে থামলো একটা কটেজের সামনে।রাতুল এতক্ষণে জিজ্ঞেস করলো
-কই নিয়ে এলি বলতো!কোনো ইনভাইটেশন আছে?তা এতো রাতে কেনো।কাদের বাড়ি এটা?

আকাশ এতো প্রশ্নে বিরক্ত হয়।তবে বেশ স্বাভাবিক গলায় জবাব দেয়..।
-প্রিয়া
রাতুল চিনতে পারেনা।প্রিয়া টা আবার কে!
-কে প্রিয়া?

আকাশ কপাল কুচকে তাকায় রাতুল এর দিকে।রাতুল বুঝতে পারেনা সে কি করলো! সে কিভাবে জানবে প্রিয়া কে?এতো রাতে নিয়ে আসলো,জিজ্ঞেস করাও কি তার ভুল।

-দেখ আকাশ।আমি জ্যোতিষি নই ভাই,না বললে কেমনে বুঝবো।বল না।পেটের ভিতর গুড়গুড় করছে তো…

আকাশ কিচ্ছু বলেনা এবারেও।গাড়ি থেকে নামে না।সে থাকে ঠায় ওখানেই। রাতুল বিরক্ত হয়ে গাড়ি থেকে নেমে আসে।পায়তারা করতে থাকে এদিল ওদিক,সিগারেট ধরায় একটা।এ যম যখন জবাব দেবেনা ঠিক করেছে,তবে দেবেই না,তার হয়েছে এক জ্বালা…
_____

প্রিয়ার প্যাকিং শেষ,বই,জামাকাপড় প্রয়োজনীয় জিনিস সব স্যুটকেটে তুলে ফেলেছে।বোনের সাথে মিলে পুরো বাড়ির সবও জায়গামতো গুছিয়ে রাখছে।বাড়িতে মানুষ না থাকলে নিশ্চয়ই ধুলো পরে যাবে।কাজ শেষে খেয়াল করলো শরীর দারুণ চুটমুট করছে।ধুলার কারনে হয়তো।ঝটপট শাওয়ার নিয়ে নেয় সে।শিয়া প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুলো উল্টে পাল্টে দেখছে।প্রিয়া চুল মুছতে মুছতে বারান্দায় এসে দাড়ায়।

-উফফফ্ এখন শান্তি লাগছে…টাওয়াল হাতে নিয়েই রেলিং এ ভর করে দাড়ায়।ঝিরিঝিরি বাতাস বইছে।

***
আকাশ দোতলা কটেজটার বারান্দার দিকে তাকিয়ে ছিলো।হয়তো এই অপেক্ষায় ছিলো সে।রুমের আলোর স্পষ্ট বুঝতে পারছে মেয়েটাকে।ভেজা চুল গুলো বারবার হাত দিয়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে মেয়েটা।দূরের ল্যামপোস্টের আলো মেখে আছে চোখেমুখে। এতো সিন্ধ মায়াবী মুখখানা।
আকাশের বুকের ভিতর ঢিপঢিপ শব্দ হচ্ছে। হঠাৎ মেয়েটার গলার দিকে তাকাতেই তার হৃদপিন্ড আরে আন্দোলন শুরু করলো যেনো।মেয়েটার ওপর ভারি রাগ হচ্ছে। আশ্চর্য! বারান্দায় এসেছে,এতো রাতে,ভেজা চুলে তাও আবার গায়ে ওড়না নেই!এইযে একজন মানুষ এর এখন দিনদুনিয়া উতালপাতাল হচ্ছে তার কি হবে!ঢোক গেলে সে।
এ মেয়ে কে দেখলেই তার কেমন গলা শুকিয়ে আসে।ঘামতে থাকে সে,এইযে যেমন এসির ভিতরে থেকেও এখন দরদর করে ঘামছে।
নিজের ওপর দারুণ বিরক্ত সে ইদানীং। এই যেমন আজ এখানে কেনো এসেছে সে! কিসের টানে! হুট করে কেনো কোনো ভাবনা চিন্তা ছাড়া দেড় ঘন্টা হলো গাড়ির ভিতর বসে আছে!যেটা আকাশ এহনাজ চৌধুরী কল্পনাও করতে পারে না।সেটাই হচ্ছে, এবং সে সেটা স্বইচ্ছায় করছেন।মেয়েটার কথা ভাবলে কোথায় যায় তার ইমেজ, তার চিন্তাভাবনা! জাদু করেছে কি মেয়েটা তাকে!

আকাশ সিটে গা এলিয়ে বসে চোখ বন্ধ করে জোরে শ্বাস নিয়ে আবার ঘাড় কাত করে তাকিয়ে থাকে বারান্দার দিকে।প্রিয়া এতক্ষণ এ বারান্দায় থাকা বসার চেয়ারে গালে হাত দিয়ে বসে আছে।
আচ্ছা কি ভাবছে মেয়েটা!আকাশের খুব জানতে ইচ্ছে করছে এখন…

৪ নাম্বার সিগারেট শেষ করে রাতুল ঠিক করে ছোটখাটো খুন হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও সে এখন আকাশকে জিজ্ঞেস করবে এখানে এমন পাহারাদার হয়ে কিসের পাহারা দিচ্ছে তারা…
গাড় ঘুরিয়ে গাড়ির দরজা খুলতে যাবে তখনই চোখে পরে রাস্তার ওপাশের দোতলা কটেজটার দিকে।বারান্দায় একটা মেয়ে বসে আছে।মুখটা দূরের আলোয় স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। থতমত খেয়ে ওঠে রাতুল।
এ মেয়েকে সে কখনো ভুলতে পারবে না, সম্ভবই না।এই মেয়ের দয়ায় তাদের আকাশ এহনাজ চৌধুরী কয়েক সেকেন্ড ড্রাইভিং ভুলে,চোখের পলকও ফেলতে ভুলতে গেছিলো।হ্যা হ্যা তার ঠিক মনে আছে।নিচু হয়ে গাড়ির ভিতরে তাকায়।

হেসে ওঠে সে।ঠিক ধরেছিলো সে।এতক্ষণ কেনো মাথায় আসেনি।ঘড়ির দিকে তাকায়। পাক্কা পোনে ২ ঘন্টা এখানে বসে আছে তারা।কোনো ভুল নেই হিসাবে,আর না সামনে হবে।অংক তো মিলে খাপে খাপ…
ফটাফট ছবি তুলে নেয়।আকাশের মেয়ের টার দিকে তাকিয়ে থাকার।হাসতে হাসতে গাড়িতে উঠে আসে।আকাশের যেনো খেয়ালই নেই।

রাতুল হর্ন এ চাপ দিতেই গাড়ি কর্কশ শব্দ করে ওঠে।আকাশ চমকে হাত সরিয়ে দেয় রাতুল এর।ধমকে ওঠে।
-পাগল নাকি তুই।উফফফ্ কি করিস।এতো রাতে কেউ হর্ন বাজায়!

রাতুল বাকা হেসে বললো
-এটা তুই বলছিস!তুই!এতো রাতে হর্ন দেওয়া খারাপ,আর প্রেয়সীীর বাড়ির সমানে এসে হা করে বসে তাকে লুকিয়ে দেখা খারাপ না।
আকাশ আবার চমকে ওঠে…সামলে নিয়ে মুখ প্রচন্ড গম্ভীর করে বলে.।
-উল্টাপাল্টা বকিস না।ড্রাইভ কর।এ পাশে আয়…
– কেনো! তোর সমস্যা কি।
আকাশ ক্লান্ত ভঙ্গিতে আবার হেলান দেয়।চোখ বন্ধ করে বলে
-গা অবশ হয়ে আসছে,বল পাচ্ছি না শরীর এ।নিজের এনার্জি লুজ করে নতুন ভিটামিন লাগতো।এই মূহুর্তে পসিবল হচ্ছে না যেহেতু। একটা ঘুম দরকার। আয়…

আকাশ সিট বেল্ট করে সিট বদল করে নেয় রাতুল এর সাথে। এতক্ষণে আকাশ এর কথা মিনিং ধরতে পেরে হো হো করে হেসে ওঠে।

-শালা,আমাদের নষ্ট বলিস!তুই তো আসল নষ্ট রে।কি কথা বললি মামা।তোর কখনো এ ভিটামিন এর দরকার হবে বুঝতে দিস নি তো।

রাতুল এর বকবকে কান দেয় না আকাশ।
-রাবিস,ডোন্ট ডিসটার্ব। ড্রাইভ কর।

শেষ একবার বারান্দায় তাকায়।গাড়ির হর্ণ পেয়ে তখন প্রিয়াও চমকেছিলো বইকি।ওখানে যে গাড়ি আছে তা সে টেরই পায়নি,উঠে দাড়িয়ে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করছে তখন থেকে গাড়ির ভিতরের মানুষ কে।
অন্ধকার এ একদম বোঝা যাচ্ছে না…ধীর পায়ে ঘরে চলে আসে,দরজা আটকে পর্দা টেনে দেয়।
রাতুল বুঝলো এবার গাড়ি ছাড়া উচিত… আকাশ গা এলিয়ে চোখ বুঝে থাকে।রাতুল এক নজর দেখে মুচকি হাসলো…বিষয়টা জটিল।বাকা গলায় বললো

-কেউ একজন প্রেমে পরেছে,তা কি সে টের পাচ্ছে!

অন্য সময় হলে বোধহয় আকাশ লাত্থি দিয়ে বসতো রাতুল কে।কি আশ্চর্য! আজ তার কিচ্ছু বলতে ইচ্ছে হচ্ছে না।উল্টো রাতুল এর কথা শুনে তার বা পাশের অসভ্য বস্তুখানা দ্বিগুন জোরে আন্দোলন শুরু করলো।

তাকে আরও ক্ষেপানোর সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইলো না রাতুল।মিউজিক প্লেয়ারে ফুল ভলিউম এ গান ছেড়ে নিজে গলা মেলালো…

Na Jaane Mere Dil Ko Kya Ho Gaya
Abhi To Yahin Tha Abhi Kho Gaya
Na Jaane Mere Dil Ko Kya Ho Gaya
Abhi To Yahin Tha Abhi Kho Gaya
Na Jaane Mere Dil Ko Kya Ho Gaya
Abhi To Yahin Tha Abhi Kho Gaya

Ho gaya hai tujhko to pyar sajna
Laakh Karle Tu Inkaar Sajna
Ho Gaya Hai Tujhka To Pyaar Sajna
Laakh Karle Tu Inkaar Sajna
Dildar Sajna Hai Ye Pyaar Sajna

[পর্ব বড় করে দেওয়ার চেষ্টা করেছি,রিঅ্যাক্ট দেবেন দয়া করে।যদি ভালো লাগে আরকি!বানান চেক করা হয়নি।ক্ষমা করবেন ভুল হলে]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here