আকাশপ্রিয়া #পর্ব_১৩

0
36

#আকাশপ্রিয়া
#পর্ব_১৩
#dure_dilshad_dua_দুর_এ_দিলশাদ্_দুআা

🚫কপি করা নিষেধ

আজ ঝলমলে রোদ উঠেছে সকাল সকাল।শীতের আমেজ সেরকম নেই আর।আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে বৃষ্টির সম্ভাবনাও নেই।
সকাল সকাল নিজদের স্যুটকেস নিয়ে প্রিয়া অপেক্ষা করছে তাদের নতুন কটেজের সামনে।শিয়া তাদের জন্য বরাদ্দকৃত রুমের চাবি আনতে গেছে।
আজকে সকাল সকালই তারা চলে এসেছে, এদিকটায় প্রিয়াকে গুছিয়ে দিয়ে শিয়া আবার চলে যাবে কাজে। তার জন্য তারা আগে আগেই চলে এসেছে।
প্রিয়া এই মূহুর্তে শিয়ার একটা স্যুটকেসের ওপর পা ছড়িয়ে বসে চানাচুর খাচ্ছে।এবং সতর্কও হয়ে আছে,শিয়া আসার শব্দ পেলেই লাফিয়ে উঠতে হবে তো!

আশেপাশে খোলামেলা না খুব একটা।এই জায়গা টা মোটামুটি চেনে সে।শিয়াকে সেদিন খুঁজতে এসে বোধহয় এখনকার আশেপাশেই কোথাও সেন্সলেস হয়ে গেছিলো সে।আসার রাস্তাটা সে ঠিক চিনেছে…জায়গা টা সুন্দর খুব।
তাদের এলাকাটাই আসলে সুন্দর।মানুষ জনের আনাগোনা কমই।পর্যটক ছাড়া স্থানীয় বাসিন্দা হাতে গোনা,এদিকটায় বোধহয় আরও নিরিবিলি।
এই যেমন শিয়া তাকে ২০ মিনিট বসিয়ে রেখে গেছে,সে বসে বসে মশাদের সাথে গল্প করছে নিজের রক্ত দিশে মশাদের ব্রেকফাস্ট এর ব্যবস্থা করছে অথচ আশপাশে একটা মানুষ এর দেখাও মেলেনি তার।রাত বিরেতে একা একা দারুণ ভয় করবে।

কটেজ টা এরই মধ্যে এক চক্কর ঘুরে এসেছে সে।পরপর একটু দূরে দূরে ৫- থেকে ৬ টা কটেজ।সবগুলো পর্যটকদের জন্য। তবে আপাতত এটা তাদের।তাদের বলতে শিয়াদের অফিস থেকে কাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত ভাড়া নিয়ে নেওয়া হয়েছে।তাদের কটেজটা বাকিগুলের থেকে একটু দূরে।দোতলা তলা কটেজ।নিচতলায় ডাইনিং প্লেস,স্টোর রুম,ছোটখাটো গ্যারেজ।আর দোতলায় মোট ১১ টা রুম…বারান্দা থেকে দূরে পাহাড় গুলোর দারুণ ভিউ দেখা যায়।আশেপাশের পাহাড়,সবুজের মাঝে তাদের কটেজগুলো।প

****

-রাতুল,আমার রুমের চাবিটা?
শিয়ার ডাকে রাতুল পকেট থেকে চাবি বের করতে করতে এগিয়ে আসে।
-এসে গেছিস তুই?এতো তাড়াতাড়ি?

শিয়াও এগিয়ে আসে।রাতুল এর প্রশ্নের জবাবে বলে
-আমার বোনটার কথা বলেছিলাম না?ওর তো সামনে এক্সাম।সকাল সকাল আসলে আমি সাথে গুছিয়ে দিয়ে ওর পড়ার ব্যবস্থাটা করে দিয়ে যেতে পারি।তাছাড়া আবার ওকে আনতে যেতে হতো।ঝামেলা! তাই চলে এলাম।সমস্যা হবে কি কোনো?

রাতুল হাত নেড়ে ওঠে,
-আরেহ্ না।সমস্যা কি।রুম সব রেডি।আগে চলে এলি তাই বললাম আরকি।এই নে চাবি।দোতলার ৭ আর ৮ নাম্বার রুম তোদের।

শিয়া ব্যাস্ত হয়ে বলে
-আমাদের একটা রুমেই হয়ে যেতো তো!

-রুমগুলো ঠিকঠাক, কিন্তু বেড গুলো দুজনের জন্য ছোট হয়ে যেতো ওই দুটো রুমে।তাছাড়া ওইদিকের রুমগুলোতে একটা ভিতর দিয়ে আরেকটায় যাওয়ার দরজা আছে।তাই ভাবলাম তোদের দুবোনের ওটাই পারফেক্ট। একটু ম্যানেজ করে নে..।

-আরেহ ঠিক আছে।সমস্যা নেই।

রাতুলও সাথে হাঁটা ধরে।
-চল তোদের দিয়ে আসি।জিনিসপত্র আছে তো সাথে…
-তোর না গেলেও চলতো,ভারি তেমন কিছু নেই।

*****
রাতুল, শিয়া যখন কটেজের সামনে আসে প্রিয়া তখন চানাচুর শেষ করে বাদামের ঠোঙ্গা নিয়ে বসেছে।বোনকে আসতে দেখেই তাড়াহুড়ো করে তার স্যুটকেসের ওপর থেকে উঠে সরে দাড়ালো।না হলে একটা মারও বাইরে পরবে না।

“রাতুল এটা আমার বোন প্রিয়া।”

রাতুল আকাশকে মেসেজ করে জানাচ্ছিলো শিয়ার আসার কথা,ফোন থেকে হাসিমুখে প্রিয়ার দিকে তাকাতেই সে স্তম্ভিত হয়ে গেলো।হা হয়ে গেলো তার মুখ।এই মেয়ে তাদের শিয়ার বোন!বলে কি এতক্ষণে!কি শুনলো সে।

-ও এবার এইচএসসি দিবে।প্রিয়া এটা আমার ফ্রেন্ড অবশ্য এখন আমার অফিসের সিনিয়র। রাতুল…

-আসসালামু আলাইকুম ভাইয়া…

রাতুল কোনো মতে সালামের উত্তর আওরায়…
-ওয়ালাইকুম আসসালাম….তুমি প্রিয়া?
-জ্বী।প্রিয়ানিশা রহমান…

রাতুল এখনো ঘোর থেকে বেরোতে পারেনি।আকাশ কি জানেনা এ কথা! প্রিয়া যে শিয়ার বোন!জানেনা বোধহয়…অবশ্য জানলেও বা কি!আকাশ আর দশজনের মতো চিৎকার করে নিশ্চয় তাদের জানাতে আসবে না!সে যত বড়ই খবর হোক।সে আকাশের থেকে এটা আশা করে কিভাবে! হেহ্।

ব্যাগগুলো হাতে নেয় রাতুল আর শিয়া।ওপরে উঠে আসে।রুমগুলো খুলে দেয়।দারুণ সুন্দর রুম।শিয়া আর প্রিয়ার রুম আলাদা হলেও ভিতর দিয়ে একটা দরজা।বাড়ির রুমগুলোর মতো।প্রতি রুমের সাথে লাগোয়া বারান্দা, বাথরুম। বারান্দায় দাড়ালে সামনে খোলা মেঘাচ্ছন্ন আকাশ,অদূরে ভাসা ভাসা পাহাড়। অসাধারণ দেখতে চারপাশ।
প্রিয়া লাফিয়ে ওঠে খুশিতে।
-আমার খুব পছন্দ হয়েছে আপু।হে হে এখন আমার নিজের রুম এটা।ভুলেও নক না করে ঢুকবি না বাড়ির মতো।বুঝলি।

শিয়াও বোনের সাথে হেসে ফেলে।
-বেশ তো।দেখবো আমাকে ছাড়া কতটা গুছিয়ে রাখিস রুম।সেই তো দেখবো রুমের মতো পাখি এসে বাসা করছে এলোমেলো কাপড়ের স্তুপ দেখে।

প্রিয়াবোনের কথায় মুখ বাকায়।প্রতিবাদ করে ওঠে।
-মোটেই না।দেখবি আমি কত্তো সুন্দর করে গুছিয়ে ফেলি।বারান্দা গাছ দিয়ে ডেকোরেশন করে ফেলবো। একট অ্যাকুইরিয়াম বসাবো বুঝলি আপু।।মন খারাপ করিস না।তোরটাও গুছিয়ে দেবো…
-আর আমার টা?” রাতুল হাসি মুখে জিজ্ঞেস করে।
-হ্যা?
-বললাম আমার টাও গুছিয়ে দিতে হবে কিন্তু। ইনফ্যাক্ট আমাদের সবার রুম সাজিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব তোমার।দেবে তো?আমি কিন্তু তোমার বোনের বেস্ট ফ্রেন্ড ছিলাম…

-ছিলেন?এখন নেই?
-এখনো আছি।
-ঠিকাছে দেবো।বড় ভাই এর জন্য এতটুকু করাই যায়…
রাতুল হাসে।মুগ্ধ হয় মেয়েটার কথায়।মেয়েটা দারুণ মিশুক। আকাশটার পছন্দ আছে।তাই তো বলি শুধু চেহারায় নিশ্চয় আকাশ ঘায়েল হয়নি,অন্যকিছুও আছে…
-বেশ,আমার ছোট একটা বোনের অভাব ছিলো।শিয়া তো সেম এজ এর হলেও ছোট বোন হতে রাজি ছিলো না কখনো,সে বড় বোনের অধিকার ফলাতে ব্যাস্ত হতো সবসময়। এবার না হয় ছোট বোনের ইচ্ছা টাও পূরণ হলো…

প্রিয়া হেসে সব গোছাতে চলে গেলো।শিয়া আর রাতুলও বের হবে এখন।শিয়া বোনকে ডেকে বলে গেলো —
-প্রিয়ু রুমেই থাকিস।আশপাশে তো চেনাজানা নেই।একা একা তোর কিন্তু বের হওয়ার দরকার নেই।পড়তে বস,আমি ফিরে সব গুছিয়ে ফেলবো।আর বক্সে খাবার আছে খেয়ে নিস..।

রাতুলও সায় জানালো।
-হ্যা। একা কোথাও বের হবে না।আজকের মতো খাবার ম্যানেজ করে নাও।বাকিরা চলে আসলে, কাল থেকে নিচেই বুয়া রান্না করে দিয়ে যাবে।নো টেনশন..।
-আপনারা কোথায় থাকেন ভাইয়া?এখানে আমাদের একা একা ভ্য় করবে তো।

প্রিয়ার প্রশ্নে রাতুল বলে
-আমরা এখনো আসিনি তো।তোমরা ফার্স্ট আরকি।
আমরাও আসবো।পাশের রুম গুলো দেখছো।ওগুলোতে উঠবো। তারপর ফ্যামিলির মতো সবাই আশেপাশে থাকলে আর তোমার ভয় করবে না।আজকের দিনটা ম্যানেজ করে।সবাই রাতের মধ্যেই চলে আসবে হয়তো।

শিয়া আর রাতুল আর দারায় না…প্রিয়া বইখাতা বের করে তার টেবিলে সাজাতে থাকে।

****

আকাশ অফিস থেকে ফিরে সকালে গুছিয়ে রাখা জিনিসপত্র নিয়ে নতুন কটেজের উদ্দেশ্যে বের হবে এখন।অয়ন এর রুমের সামনে এসে নক করে।অয়নও রেডি হয়ে বের আসে।
আকাশকে দেখেই অয়ন চোখ কুচকে প্রশ্ন করে
-রাতে ঘুমাসনি?
আকাশ পাল্টা বলে
-আমাকে বলছো!আমার তো তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে রাতে ঘুমাওনি…

অয়ন দরজা লক করে আকাশের কাধে ডান হাত রেখে বা হাতে স্যুটকেস টানতে টানতে হেঁটে চলে।
-নাহ্ তেমন কিছু না,হয়েছে ঘুম।একটু কম হয়েছে,এইযা..।
-মায়ের ফোন ধরছো না কেনো!

অয়ন চুপ করে থাকে।কি বলবে সে!মায়ের সাথে কথা বললে মা তে ঠিক বুঝে যায় তার মনের খবর।হাজার একটা প্রশ্ন করা শুরু করে।তখন তার তো মায়ের কোলে সেই ছোট্ট বেলার মতো মাথা রেখে খুব করে কাঁদতে মন চায়।তখন মাকে কোথায় পাবে,আর একটা বয়সের পর আর এভাবে কিভাবেই বা মনের কষ্ট প্রকাশ করবে সে…
দুজনের জিনিসপত্র গাড়িতে তুলে আকাশ অয়নের দিক গাড়ির চাবি উচু করে দেখিয়ে প্রশ্ন সূচক তাকায়?অয়ন মাথা নেড়ে না করে।আকাশকেই গাড়ি চালাতে বলে।

গাড়িটা কটেজের দিকের সরু পাহাড়ি রাস্তায় ঢুকতেই আকাশ জানালাটা নামিয়ে দেয়। হালকা ঠান্ডা হাওয়া মুখে এসে লাগে। চারপাশে সবুজ, মাঝে মাঝে কুয়াশা নামছে।
অয়ন চুপচাপ বসে আছে পাশের সিটে।
—এ জায়গাটা… বেশ আলাদা, না?প্রথমে খুব একটা ভালো লাগেনি,তবে এখন সেরকম খারাপ আর লাগে না।তাইনা?
আকাশ আনমনেই বলে ওঠে।
অয়ন হালকা মাথা নাড়ায়।
—হুম।
কথা এখানেই থেমে যায়। দুজনেই নিজের নিজের চিন্তায় ডুবে। আকাশের চোখ বারবার রাস্তার বাঁক পেরিয়ে সামনে এগিয়ে যায়, কিন্তু মনটা কেমন করে যেন আগেই এসে পড়েছে এই কটেজে। সে হয়তো জানে কেন, সকাল থেকে কেমন অদ্ভুত অস্থির লাগছে তার।কিন্তু বেয়াহা মনকে এ নিয়ে হাজারবার ধমক দেওয়া হয়েছে,মন তার কথা শুনলে তবে তো!

কটেজগুলোর সামনে গাড়ি থামাতেই দূর থেকে দোতলা কটেজটা চোখে পড়ে। বাকি কটেজগুলোর থেকে একটু দূরেই তাদেরটা। আকাশ গাড়ি থামিয়ে ইঞ্জিন বন্ধ করে কয়েক সেকেন্ড বসে থাকে।
—নামবি তো নাকি.
অয়ন জিজ্ঞেস করলে আকাশ মাথা নাড়ায়।
—হ্যাঁ…জিনিসপত্র রেখে আসছি।

অয়ন গাড়ি থেকে নেমে এসে আকাশের টর হাত থেকে গাড়ির চাবিটা নেয়।ব্যাগগুলো এগিয়ে দিতে দিতে বলে,
-আমার ব্যাগটা নিয়ে যেতে পারবি!আমি এখন আর ওপরে যাবো না,অলরেডি অনেকটা দেরি হয়ে গেছে,হাসান ফোন দিচ্ছে বারবার, তুই ধীরে সু্স্থে আয়…

ভাই এর কথায় আকাশ সায় জানায়।অর্থাৎ সেই নিয়ে যাবে ব্যাগ গুলো।অয়ন গাড়ি নিয়ে চলে যেতেই পিছন ঘুরে কটেজের দিকে হাঁটা দেয় আকাশ।

ঠিক তখনই দোতলার বারান্দা থেকে হালকা একটা নড়াচড়া চোখে পড়ে তার। আকাশ স্বাভাবিকভাবেই তাকিয়ে ফেলে উপরের দিকে।
বারান্দার রেলিংয়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে একটা মেয়ে। হালকা রঙের ওড়না বাতাসে দুলছে। চুলগুলো কাঁধের পাশে এসে পড়েছে। হাতে একটা বই, যদিও বইয়ে মন নেই, দূরে তাকিয়ে আছে।
এক মুহূর্তের জন্য আকাশ থমকে যায়।
এই মুখটা,এই চোখ দুটো…মস্তিষ্ক দ্রুত হিসেব কষতে থাকে।এ অনূভুতি তে আকাশ এহনাজ বিরক্ত, নাহ্ বিরক্ত বলা যায় কি!হয়তো না।তবে কি এটা?রাতুলের ভাষায় সে প্রেমে পরেছে!সত্যি কি!না না,অসম্ভব।

ঠিক তখনই প্রিয়া নিচের দিকে তাকাতেই আকাশের চোখে চোখ পরে তার। চোখাচোখি হয় দুজনের।
এক সেকেন্ড।দুই সেকেন্ড।
এবার প্রিয়ার বুকের ভেতর কেমন করে ওঠে। সে চিনতে পারে সামনের মানুষটাকে। ভুল হবার সুযোগ নেই। সেদিন জঙ্গলের ধারে, সেন্সলেস হওয়ার আগের ঝাপসা মুখটা,মাঝরাস্তায় ঘোর অন্ধকারে এই মানুষ টার নিঃশ্বাস আছড়ে পরেছিলো তার চোখেমুখে,এ জীবনে প্রথম কোনো পুরুষের বুুকে আশ্রয় পেয়েছিলো সে,সে শরীরের ঘ্রান,তার মাতাল চাহনি…ইশশ ছি্ সে কিসব ভাবছে।নিজেকে বেয়াদব আখ্যা দিয়ে প্রিয়া তড়িঘড়ি করে রেলিং থেকে সরে যায়। বুক ধুকধুক করতে থাকে।
—এ না… এটা কীভাবে সম্ভব!এমন হচ্ছে কেনো তার সাথে! এই খিটখিটে লোকটা সামনে এলেই এমন হয়।আশ্চর্য!

আকাশ ধীরে চোখ সরায়।স্বাভাবিক ভঙ্গিতে হেটে ভিতরে চলে আসে।
আকাশ ব্যাগগুলো নামিয়ে নিজের রুমের দরজা খুলে ঢোকে। দরজা বন্ধ করেই কয়েক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে থাকে। বুকের ভেতর কেমন একটা ঢিপঢিপ শব্দ হচ্ছে না!
ব্যাগগুলো বিছানার পাশে রেখে জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়ায়। পাশের বারান্দাটা—ওটাই প্রিয়ার রুম। পর্দা টানা।

নিজের রুমে প্রিয়া দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। হাতের বইটা কখন যে মেঝেতে পড়ে গেছে, সে খেয়ালই করেনি। বুকের ধুকপুকানি এখনো থামেনি।এই লোকটাকে দেখে তার ওলটপালট অবস্থা হয় কেনো!
এই চিন্তাতেই সে মরে যাচ্ছে যেনো!
নিজেকে সামলে নিয়ে সে টেবিলের কাছে গিয়ে বসে। খাতা খুলে কলম হাতে নেয়। কয়েকটা অংক লেখে, কেটে দেয়। আবার লেখে। নাহ্ কিছুতেই
মন বসছে না পড়ায়..

হঠাৎই দরজার ওপাশ থেকে হালকা একটা শব্দ আসে।করিডোরে পায়ের শব্দ।প্রিয়া এবার চমকে ওঠে।হাতের কলম থেমে যায়।
ঠিক তখনই দরজায় নক করার শব্দ হলে।
টুক। টুক।
প্রিয়া কাঁপা গলায় প্রশ্ন করে।
—কে?
বাইরে থেকে পরিচিত কণ্ঠ ভেসে আসে।
—আমি…
প্রিয়া ঠায় দাড়িয়ে রইলো
-আমি টা আবার কে…

আকাশ বিরক্ত হয়।তার কন্ঠ এই মেয়ে চেনেনা নাকি!তাছাড়া জানেই তো কটেজে একমাত্র এখন সেই আছে।অযথা কে কে করার মানে কি।

প্রিয়া স্পষ্ট বুঝতে পারছে বাইরে আকাশ ই দাড়িয়ে আছে।তার বুকটা আরও জোরে ধুকধুক করছে জেনো। সে উঠে দরজার দিকে এগোয়, কিন্তু খোলে না।
—কিছু বলবেন?

কণ্ঠটা যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে সে।
—দরজা না খোলা কি ধরনের বেয়াদবি।

প্রিয়া এবার দরজা খুলে দেয়।
-বলুন।
আকাশ ভ্রু বাকিয়ে তাকিয়ে রয়।মেয়েটা আস্ত বেয়াদব, কেমন কাটকাট করে জিজ্ঞেস করছে বলুন!আশ্চর্য।

গম্ভীর গলায় বললো
-তিড়িংবিড়িং এর স্বভাব আছে তা তো আগেই টের পেয়েছি।একা একা বের হবে না এখান থেকে।

আকাশের কথা দু পা তেড়ে আসে প্রিয়া।কোমড়ে দুহাত রেখে মুখে একরাশ রাগ এনে বলে

-কে তিড়িংবিড়িং করে।কখন করলাম।এমনি এক কথা বললবেন না!
-মহা বেয়াদব মেয়ে তো।তেড়ে আসছো কার দিকে।পিছিয়ে দারাও।
-দাড়াবো না,আমার পা আমার সিদ্ধান্ত।
-সিদ্ধান্ত! তোমার পা! কেটে হাতে ধরিয়ে দেবো।তখন দু পা দু হাতে নিয়ে তাদের নিজের সিদ্ধান্তের ডিকশনারি বাংলা অনুবাদ করে বুঝিয়ো।রাবিস..।

আকাশের ধমকে আবার হুড়মুড় করে পিছিয়ে গেলো প্রিয়া।
-যা বললাম কানে ঢুকিয়ে নাও ভালো করে।কিছু হলে সে দায় আমার ঘাড়ে এসে পরবে।এই এড়িয়া এখন আমার আন্ডারে।সো অযথা ঝামেলা না বাড়াতে চাইলে রুমেই থাকবে।

আকাশ প্রিয়া কে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে গটগট করে চলে যায়..।

আস্ত রাক্ষস একটা।দেখতে হিরো হিরো হলে কি হবে,মন থেকে পুরো ভিলেন।
বিরবির করতে করতে ঠাস করে দরজা আটকে দিলো প্রিয়া…

চলবে…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here