#আকাশপ্রিয়া
#পর্ব_১৪
#dure_dilshad_dua_দুর_এ_দিলশাদ_দুআা
[🚫আজকের পর্বটা এট্টু রোমান্টিক আরকি👉👈🙃]
[🚫কপি করা নিষেধ, সম্পূর্ণ প্রাপ্তবয়স্ক দের জন্য উন্মুক্ত ]
প্রিয়া রা নতুন কটেজে এসেছে সাত দিন হয়ে গেছে।তার পরীক্ষার আর মাত্র ১২ দিন বাকি আছে।প্রিয়া পড়াশোনা নিয়ে দারুণ ব্যাস্ত।সেই যে প্রথম দিন এসেছিলো।এরমধ্যে আর একদিনও কটেজ থেকে বের হওয়া হয়নি।বাকি রুমের মালিকরা অনেক আগেই চলে এসেছে।সকাল সকাল সবাই যারযার মতো অফিসের কাজে বেড়িয়ে যায়।শিয়া বেড়িয়ে যাওয়ার পর কটেজে পুরো একা থাকে প্রিয়া।তাই আরও বের হওয়া হয়না কোথাও।প্রথম দিনের বক্তব্য অনুযায়ী মোটেও ঘর,বারান্দা নিজের মতো সাজাতে পারেনি।পারতই কিভাবে,বই রেখে ওঠার সময় পেলে তবে তো বাকি কাজ!
টানা পড়তে পড়তে ঘাড়,কোমড় ব্যাথা করছে তার।ঘড়ির দিকে তাকালো।ঘড়ির কাটা সন্ধ্যা ৬ টা।সবার ফিরতে এখনো অনেক দেরি।খিদেও পেয়েছে এই অসময়ে।ফোনটা হাতে নিয়ে বেরিয়ে এলো রুমের বাইরে।যথারিতি সবার রুম লক করা।নিচের আলোও জ্বালা হয়নি এখনি।সে বুঝতে পারলো বুয়া এখনো আসেনি রাতের রান্না করতে।
রাতের ডিনার তাদের একসাথে করার কথা থাকলেও আসার পর একদিনও কেউ একসাথে কোনো বেলার খাবারই খেতে পারেনি,এতো ব্যাস্ত সবাই,একসাথে আর খাবে কি,খাওয়ার সময় টা পাচ্ছে কি না এটাই সন্দেহ।
কি মনে করে প্রিয়া আজ নিচে নেমে এলো।দোতলা থেকে এতোরা অন্ধকার না লাগলেও,নিচে নামার পর ভালোই অন্ধকার লাগলো আশেপাশে। অদূরে তাদের বাকি কটেজ গুলো থেকে কোনো আলো জ্বলেনি এখনো।হাঁটতে হাঁটতে অনেকটা দূরে চলে এলো সে।জায়গা টা দারুণ সুন্দর। ছোট্ট একটা লেকের মতো।লেকের সমানের সাইটে ফাঁকা। একটু দূরেই বোধহয় খাদ।বোঝা গেলো তারাই সমতল থেকে অনেকটা উঁচু তে আছে আরকি।দূরের সবুজ গাছপালায় ঘেরা পাহাড়ের ছায়া এসে পরেছে লেকের পানিতে।অপূর্ব দৃশ্য। নিশ্চয়ই সকালে সূর্য ওঠার সময় আরও রোমাঞ্চকর লাগে।
প্রিয়া ঠিক করে নিলো,কাল ভোরে আসবে একবার এজায়গায়।একটা পাথর এর ওপর বসলে সে।লেকের পানিতে পা ভিজিয়ে।এতো শান্তি লাগছে তার।ফোনে একটা গান চালিয়ে গুনগুন করে গলা মেলাতে লাগলো তার সাথে…
****
“ভাইয়া,আমি কটেজে ফিরছি তাহলে,বাকি হিসেব টা মিটিয়ে তুমি চলে এসো।আমি রিয়ান দের বলে দিয়েছি,আজকে কাজ দ্রুতই শেষ হবে,বেশিক্ষণ থাকার প্রয়োজন নেই,আমার গা চিটচিট করছে,রুমে ফিরে শাওয়ার না নিলেই নয়”
” বেশ। তুই যা,আমি বাকিটা সামলে আসছি”.
অয়ন এর সাথে কথা শেষ করে আকাশ বাইক নিয়ে বেরিয়ে এলো। প্রচন্ড গরম পরেছে,কনস্ট্রাকশন সাইটে সারাটাদিন, একদম অসহ্য লাগছে তার।এখানে আসার পর থেকে শ্বাস ফেলার সময়টা অবধি পাচ্ছে না তারা কেউ।খুব ইচ্ছে হচ্ছে বাবা,চাচাদের নিয়ে এসে কয়েকটা দিন দায়িত্ব দিতে।বুঝুক, শহরে বসে দায়িত্ব নেওয়া,কমান্ড দেওয়া আর এরকম প্রত্যন্ত অঞ্চলে পাহাড়ের ওপর বসে দায়িত্ব নেওয়ার কি পার্থক্য… বোনটা জন্মদিন সমানে।এরমধ্যে সে আর অয়ন একবার বাড়ি না ফিরলেই নয়।
আকাশ কটেজে ফিরে রুমের দিকে এগোলো।নিচতলার মেইন দরজা খোলা। কেউ কি এসেছে। দোতলায় তাকালো।নাহ্ কোনো লাইট তো জ্বলছে না।নিজের রুমে চাবি নবে দিতেই পাশের রুমে তাকালো। রুমের ভিতরে আলো জ্বলছে। যাক প্রিয়া তাহলে রুমেই আছে।
আকাশের খুব ইচ্ছে হলো রুমটাতে নক করতে।মেয়েটাকে এক নজর দেখতে।পাশাপাশি রুমে থেকেও মেয়েটার সাথে তার ৫ দিন হলো দেখা হয়না।সে নিজেও ব্যাস্ত থাকে,রাত ২-৩া টায় ফেরে,মেয়েটাও সারাদিন পড়াশোনা নিয়ে ব্যাস্ত…দীর্ঘশ্বাস নিয়ে রুমে ঢুকে গেলো সে।ফোন আর হাতের ম্যানিব্যাগ টা বিছানায় ঢেল দিয়ে তোয়ালে হাতে বাথরুমে ঢুকে গেলো।মাথাটা টনটন করছে,একটা লম্বা শাওয়ার না নেওয়া পর্যন্ত হচ্ছে না…
***
ফোনটা টুংটাং শব্দ করে সুইচ অফ হতেই প্রিয়ার ধ্যান ভাঙলো।চট করে আশপাশে তাকালো।সর্বনাশ, পুরো ঘুটঘুটে অন্ধকার চারপাশে। কোন ঘোরে সে এতক্ষণ এখনে বসে ছিলো,খোদা জানে।ফোনে চাপাচাপি করে লাভ হলো না।চার্জ নেই,বোঝাই যাচ্ছে।এতক্ষণ টের না পেলেও হুট করেই দারুণ ভয় করছে তার।গুটিগুটি পায়ে হাটা ধরলো কটেজের দিকে।বারবার মনে হচ্ছে কেউ একটা তার সাথে সাথে আসছে।যদিও সে জানে এটা সম্পূর্ণ তার মনের ভুল,তবুও এই জঙ্গলের মধ্যে ভূত না থাকুক মানুষ কেই তো বিশ্বাস নেই।কটেজের অনেকটা কাছে চলে এসেছে সে।হঠাৎ ই একটা কাঠবিড়ালি তার পাশ দিয়ে দৌড় দিলো।শুকনো পাতার ওপর মচমচ শব্দ হতেই প্রিয়া চিৎকার করে কটেজের দিকে দৌড় দিলো।
“ও মাআআআ গোওওওও,আল্লাহ এবারের মতো বাঁচাও।এ জীবনে আর কোনোদিন পাকনামি করবো না
,লা ইালাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ….
আর যা যা দোয়া কালাম জানে বিড়বিড় করতে করতে ছুটো এসে রুমে ঢুকে পড়লো সে।রুম লক করে বিছানায় লাফিয়ে মুখ গুঁজে শুয়ে রইলো বিছানায়।ভয়ে হাত পা এখনো কাঁপাকাঁপি করছে তার…
আকাশ শাওয়ার নিয়ে বের হলো বাথরুম থেকে।কোমড়ে একটা তোয়ালে পেচানো।বিছানার দিকে তাকাতেই চমকে ভ্রু কুচকে নিলো সে।এদিকে দরজার লক করার শব্দে লাফিয়ে উঠে বসেছে প্রিয়া।আকাশ ততক্ষণে এসে বিছানার সামনে এসে দাড়িয়েছে।আকাশকে দেখেই ভূত দেখার মতো চমকে উঠলো প্রিয়া।চিৎকার করে উঠলো।
আকাশ দ্রুত গিয়ে মুখ চেপে ধরলো তার।
“অ্যাই মেয়ে,চেচাচ্ছো কেনো।চুপ…”
প্রিয়া বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে আছে আকাশের দিকে।মুখ চেপে ধরায় উম্ উম্ শব্দ করেছে।আকাশ সবে শাওয়ার নিয়ে বের হওয়ায় গা ভালো করে এখনো মোছা হয়নি। উদাম শরীর বেয়ে গড়িয়ে পানি পড়ছে।মাথা ভেজা চুল থেকে পানি এসে প্রিয়ার চোখেমুখে পরছে।প্রিয়ার দম আটকে আসছে।যতটা না আকাশ মুখ চেপে ধরার কারণে,তার থেকেও বেশি লোকটা এতো কাছাকাছি আসার কারণে।প্রিয়ার গলা শুকিয়ে আসছে।কি ব্যবহার করেছে লোকটা।শরীর থেকে কেমন চকলেট চকলেট ঘ্রান নাকে এসে লাগছে।চিরাচরিত চকলেট এর ঘ্রান নয়,কেমন যেনো নেশা নেশা ধরে যাচ্ছে এক নিমিষেই।প্রিয়া ছলছল চোখ নিয়ে তাকালো আকাশের মুখের দিকে।কপাল গড়িয়ে পানি পরছে কানের পাশ দিয়ে।পুরো মুখ ভেজা,গলার অ্যাডমস্ আপেলের ওপরে পানি চিকচিক করেছে।ছেলেমানুষ কেনো এতো সুন্দর হবে,আজব তো!নিজেকে ধমক দিলো প্রিয়া,এমন সময়ে সে এমন বেহায়ার মতো ছেলেটার শরীরের আকর্ষণে মজেছে।ছিহ্।
আকাশ এত কাছে দুজনের অস্তিত্ব টের পেয়ে ছিটকে দূরে সরে এলো।হাত বাড়িয়ে শার্ট আর প্যান্ট হাতে নিয়ে প্রিয়া কিছু বলার আগেই এক সাইটে গিয়ে দ্রুত হাতে পরে নিলো।প্রিয়া নিজের মুখে হাত চাপা দিয়ে থ হয়ে বসে আছে।দারুণ চমকে গেছে সে।
তোয়ালে চেয়ারে ঢেল দিয়ে দু হাত বুকের ওপর ভাজ করে বিছানার কিনারে প্রিয়ার সমানে দাড়ালো সে।প্রিয়া এবার যেনো হুশে ফিরলো।লাফ দিয়ে নামলো বিছানা থেকে।মুখোমুখি চোখ গরম করে দাড়ালো আকাশের সমানে।
কোমড়ে হাত রেখে দাত কিটিমিটি করে প্রশ্ন করলো
” আপনার কি মাথায় সমস্যা আছে?”
আকাশ চোখ কুচকে তাকিয়ে রইলো।মেয়েটা বলে কি!তার সমস্যা আছে কি না এটা জিজ্ঞেস করছে!
আকাশ কিছু বলার আগেই আবার প্রিয়া বলে উঠলো
“কি হলো,চুপ করে আছেন কেনো,কমনসেন্স নেই কোনো!
আকাশ এবার ধমকে উঠলো।
” মহা বেয়াদব মেয়ে তুমি,কার সাথে কিভাবে কথা বলতে হয় বাবা মা শেখায়নি?
“খবরদার বাবা মা তুলবেন না।কে বেয়াদব, কাকে বেয়াদব বলছেন।অসভ্য তো আপনি,আপনাকে শেখায়নি কেউ কিছু?”
“একটা থাপ্পড় মারবো,বেয়াদব”
প্রিয়া থামলো না মোটেই।বরং আর রেগে গেলো।
“আশ্চর্য, রুমে নক না করে ঢুকলেন আপনি।আর ধমকাচ্ছেন আমাকে?চরিত্রের ঠিক নেই,অথচ দোষ দিচ্ছেন আমাকে,লজ্জা করেনা?
আকাশ ভেবে পেলোনা,মেয়েটা এতোটা বেআক্কেল কেনো।সে ঢুকেছে ওর রুমে!নাকি ওই হুট করে এসে সোজা বিছানা দখল করে শুয়ে ছিলো এতক্ষণ! কড়া গলায় বললো।
– না তো।!করেনা,একদম করেনা।কারণ ভুল রুমে তুমি ঢুকেছো।আমি না।
প্রিয়া চমকে গিয়ে এদিক ওদিক তাকানো শুরু করলো।হায়হায়।তাইতো।এটা তো তার নিজের রুম না।ভালো করে খেয়াল করে বুঝলো এটা আসলেই আকাশের রুম।দৌড়ে ভুল রুমে ঢুকে পরেছে তাড়াহুড়ো করে,খেয়লাই করেনি।এবার কি হবে।সে হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইলো আকাশের দিকে।
“কি হলো!এখন চুপ কেনো?কি যেনো বললে?আমি কি?চরিত্রহীন?
প্রিয়া মাথা নিচু করে নিলো।লোকটা দারুণ রেগে গেছে।কন্ঠ টা কেমন যেনো শোনাচ্ছে।চোখটাও লাল হয়ে গেছে।প্রিয়া ঢোক গেলে।আকাশ ততক্ষণে তার দিকে এগিয়ে এসেছে অনেকটা।
” আপনি এ…এগোচ্ছেন কেনো?দূরে সরুন।ভুল হয়েছে আমার।”
আকাশ সরলো না।বরং আরও এক পা এক পা করে এগোতে থাকে প্রিয়ার দিকে।
“চরিত্রহীন রা যা করে,আমি যদি এখন তাই করি!তখন”.
আকাশের কন্ঠ আগের থেকে আরও অন্য রকম শোনাচ্ছে,কেমন একটা রাগ আর মাতাল করা কন্ঠের মিশ্রণ যেনো।
“আ…আমি কিন্তু চিৎকার করবো,সবাইকে ডাকবো।”
আকাশ এবার বাকা হাসলো।হাস্কি স্বরে বললো
“কিন্তু কটেজে তো আপাতত তুমি আর আমি ছাড়া কেউ নেই”
প্রিয়া পিছাতে পিছাতে দেয়ালে ধাক্কা খেলো।ঘাড় ঘুড়িয়ে বুঝলো আর পেছাবার রাস্তা নেই।
“আ…আবার এগোচ্ছেন আপনি?”
আকাশ মাতাল চাহনি দিলো প্রিয়ার দিকে।ধক করে উঠলো তার বুকের ভিতর।মেয়েটা ঘেমে নেয়ে একাকার। এসির মধ্যেও মেয়েটা ঘামছে,রীতিমতো হাপাচ্ছে যেনো।আকাশ শেষ এক পা এগিয়ে গেলো।একদম প্রিয়ার শরীর ছুঁই ছুঁই অবস্থা। বাম হাত প্রিয়ার মাথার কাছে দেয়ালে রাখলো।ঝুকে এলো তার মুখের দিকে।
আবার আরও হাস্কিস্বরে বললো
“আরেহ্ হাপাচ্ছো কেনো! ঘামছোও!এখনি এতো উত্তেজিত হলে চলে?”
আকাশের শ্বাস এসে পরছে প্রিয়ার মুখে।গরম বাতাসে সে কেঁপে কেঁপে উঠছে এবার।ধুকপুকানি বেড়ে গেছো কেনো!ইশশশ্ এই লোকটা এমন কাছে এলেই,একটা অসহ্য ঘ্রান এসে লাগে তার নাকে।ঘ্রান টা ড্রাগ নাকি!আশ্চর্য। না হলে সে হাত পায়ে বল পায়না কেনো!
আকাশের হাত শার্টের বোতাম ছোঁয়াতেই প্রিয়া আবার চমকে উঠলো।মৃদু চিৎকার দিয়ে উঠলো।
“সরুন বলছি।আরেহ্ আপনি শার্টের বোতাম খুলছেন কেনো?”
আকাশ ততক্ষণে ওপরের দুটো বোতাম খুলে ফেলেছে।মেয়েটাকে বলেছে ঠিকই,কিন্তু এবার খেয়াল করলো সে নিজের ঘেমে গেছে,এবং বুকের বাম পাশ টায় রীতিমতো কেউ হাতুড়ি পেটাচ্ছে।মেয়েটার মুখের কাছে তার মুখ।একে অপরের নিঃশ্বাস এর গরম বাতার অনুভব করতে পারছে।
আকাশ নিজেকে কি কনট্রোল করতে পারছে না নাকি!সে এভাবে এতো কাছে যাচ্ছে কেনো মেয়েটার!নিজেকে চিনতে পারছে না সে নিজে।
মুখটা এবার মেয়েটার কানের কাছে নিয়ে গেলো।ফিসফিস করে বললো,
“ছুঁয়েছি আমি? ছোঁয়ার আগেই তো চরিত্রহীন বদনাম দিচ্ছো।তাহলে কিছু না করে বদনাম কেনো নিবো?লেট মি ফিল ইউ হোয়াট ইজ কলড ক্যারেকটারলেস!অ্যান্ড দ্যা ফিলিং অফ মাই টাচ।”
আকাশের কন্ঠে কি ছিলো এটা।প্রিয়ার শিরদাঁড়া বেয়ে শীতল একটা স্রোত বয়ে গেলো।শরীর ঘেমে ভিজে জবজবে হয়ে গেছে।লোকটা চোখে চোখ রেখে তাকিয়ে আছে।শরীর শিরশির করছে কেনো।লোকটা তো তাকে সত্যিই স্পর্শ করেনি।
আকাশ দিকবিদিকশুন্য হয়ে তাকিয়ে আছে প্রিয়ার দিকে।মেয়েটার চোখের পাতা কাঁপছে, ঠোট বারবার কামড়াচ্ছে যথারীতি স্বভাবমত। গোলাপি ঠোটখানা ভিজে চিকচিক করছে।তসর দিকে তাকাচ্ছে না এখন।নাকের পাটা ফুলাচ্ছে।কেঁদে ফেলতে চাচ্ছে বোধহয়।না চাইতেও চোখ দুটো আরেকটু নিচের দিকে গেলো।মেয়েটার গলায় ওড়না নেই।বিছানা থেকে উঠার সময় এতেটাই চমকে গেছিলো,আর রেগে তেড়ে এসেছিলো গায়ের ওড়না টা যে মেঝেতে পরে গেছে খেয়ালই করেনি।গলার একটু নিচে বুকের বাম পাশে একটা কালো কুচকুচে তিল দেখা যাচ্ছে।
জামার গলা বড় হওয়ায় নিষিদ্ধ জায়গার ভাজ বোঝা যাচ্ছে। মেয়েটা জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে বিধায় বুকটা ওঠানামা করছে।
আকাশের শরীরে একটা ঝাঁকি দিয়ে উঠলো,বুকের হার্টবিট অস্বাভাবিক জোরে চলছে,মেয়েটার শরীরের ঘ্রানটা মাথাটা যেনো আরও ফাঁকা করে দিচ্ছে।আবার মুখের দিকে তাকালো। প্রিয়া এখনো মাথা নামিয়ে আছে নিচের দিকে।ঠোট কামড়ে ধরছে একটু পরপর।ঠোঁটের দিকে তাকিয়ে রইলে।নিচের ওষ্ঠের ওপর একটা তিল আছে।আকাশের শরীর বিদ্রোহ করছে হাত দিয়ে ওই ভেজা ঠোঁট টার তিল স্পর্শ করতে।
হঠাৎ যেনো নিয়ন্ত্রণ হারালো সে।ডান হাত বাড়িয়ে বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে নিচের ঠোঁটে স্লাইড করলো একবার।
প্রিয়া স্তম্ভিত হয়ে গেলো একেবারে। চট করে তাকালো আকাশের দিকে।আকাশ তখনো তাকিয়েই আছোে প্রিয়ার ঠোঁটের দিকে।হাতটা সরালো না ঠোট থেকে।গলাটা শুকিয়ে গেছে,ঢোক গিলছে…
প্রিয়া বাঁধা দিতে পারছে না কেনো।আকাশ বোধহয় চাইছে প্রিয়া বাধা দিক।অনর্থ হওয়ার আগে।
হঠাৎ এই নিষিদ্ধ মূহুর্তের যবনিকাপাত করতেই যেনো ফোন টা চিৎকার করে বেজে উঠলো আকাশের।দুজন হুশে ফিরলো এক মূহুর্তে। আকাশ নিজের অবস্থান টের পেয়ে ছিটকে সরে এলো। বিছানা থেকে হাত বাড়িয়ে ফোন টা হাতে নিয়ে কল কেটে, কপাল চেপে ধরলো সে।
“শিট,শিট,শিট”
প্রিয়া তখবও দেয়ালে সেটে দাড়িয়ে আছে।খেয়াল করলো তার ওড়না খানা সামনে মেঝেতে।নিজের দিকে একবার তাকালো।বুকের ওপর ওড়না নেই,লজ্জায় লাল হয়ে গেলো তার মুখ।এতক্ষণ তার মানে এভাবে ছিলো সে।ইশশশ্ কি লজ্জা,তার এখন মাটি খুড়ে ঢুকে যেতে মন চাচ্ছে।
আকাশ পিছন ফিরলো না।অস্বাভাবিক গলায় বললো।
” গেট আউট”।
প্রিয়া কাঁপা হাতে ওড়না টা তুলে নিলো।
আকাশের দিকে ফিরলো।চোখ না তুলেই বলতে গেলো
” আপনি…
“আই সেইড লিভ,জাস্ট গেট আউট ফ্রম হেয়ার”
প্রিয়া আর এক সেকেন্ড দাড়ালো না।ছুটে বেরিয়ে আসলো। এক দৌড়ে নিজের রুমে ঢুকে তাকালো।ভিতরটায় খট করে দরজা আটকে বসে পরলে দরজায় পিট ঠেকিয়ে।কয়েক মিনির আগের ঘটনা গুলো ভেসে উঠতে লাগলো চোখের সমানে।ইশশশ কি লজ্জা!দু হাতে মুখ ঢেকে ফেললো সে।
চলবে….
[আপনারা একদম রেসপন্স করেন না,রিঅ্যাক্ট করেন না🙂লিখতে মন চায়???]

