আকাশপ্রিয়া #পর্ব ৩৮[প্রথম অংশ ]

0
42

#আকাশপ্রিয়া
#পর্ব ৩৮[প্রথম অংশ ]
#dure_dilshad_dua_দুর_এ_দিলশাদ্_দুআা

[🚫কপি করা নিষেধ]

কাঠফাটা রোদ আজকে।তবে গরমের তীব্রতায় স্পষ্ট বুঝতে পাওয়া যাচ্ছে যেকোনো সময় ঝড় উঠে আসতে পারে।এরকম ভ্যাপসা গরমের পর সাধারনত ঝড় বৃষ্টিই হয়।সারারাত ঘুম না হওয়ার দরুন প্রচন্ড মাথাব্যাথা নিয়ে বিছানার হেডবোর্ডে চোখ বুজে হেলান দিয়ে বসা অয়ন।একটু আগেই আরশি এসে কফি দিয়ে গেছে।
আকাশের মতো ব্ল্যাক কফি তার পোষায় না।সে নিজেও হেল্থ কনসিয়াস তবে আকাশের মতো এতো ঘাসপাতা খেয়ে বাচতে পারবে না।তবে আজ তার এই দুধ চিনি মেশানো কফিটাও অস্বাভাবিক তেতো লাগছে মুখে।কারণ কি হতে পারে!

অয়ন ক্রমাগত বেজে যাওয়া নিজের ফোনের দিকে তাকায়।শিয়া ফোন করে যাচ্ছে।সে ধরছে না।তার বুকটা কাঁপছে। এটারও কারণ নেই আপতত।কোনো একটা ব্যবস্থা হবেই।তবে অশান্তি লাগছে মনের মধ্যে। শিয়া খুব কষ্ট পাবে বিষয়টা জানলে।অয়ন দীর্ঘশ্বাস ফেলে,তার মা অত্যাধিক জেদি।এতো সহজে মানবে বলে মনে হয়না।বাবা তো এখনো জানেই না।সে জানার পর আরও কি ঝড় হবে কে জানে।

___”ফোন তুলছো না কেনো!”
আকাশের গলা পেয়ে স্বাভাবিক ভাবেই তাকালো অয়ন।হাতে ল্যাপটপ আর বেশকিছু ফাইল নিয়ে আকাশ ঢুকেছে ঘরে।আকাশ ধীরেসুস্থে এসে জায়গা করে নিলো বিছানায়।হাতের জিনিসপত্র গুলো রেখে ভইয়ের দিকে তাকালো।
___”শিয়া কল করছে নিশ্চয়। আমাকে টেক্সট করেছিলো।আমি বললাম ব্যাস্ত খুব।কিন্তু তুমি তো দিব্যি পায়ের ওপর পা তুলে বসা।কল ধরছো না কেনো?”

___”মা এরকম করছে কেনো বলতো।”

___”এখন তাহলে মায়ের ওই কথায় শিয়াকে ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা সাজাচ্ছো নাকি?”

অয়ন আৎকে উঠলো প্রায় আকাশের কথা শুনে।জোর গলায় বলে উঠলো,
___”এ জীবনে সম্ভব সেটা?তোর মনে হয় এটা?”

আকাশ হাসে না।গম্ভীর মুখে বলে,
___”মনে তো হচ্ছে এটাই।মা না করলো। তারপর থেকে কল তুলছো না ওর।”

অয়ন মাথায় এলিয়ে দেয়।চোখ বোজে।
___”আমার গিলটি ফিল হচ্ছে। কত বড় মুখ করে বলে এসেছিলাম ওকে।আমার পরিবার কে রাজি করানো এক সেকেন্ড এর বিষয়।তারপর আমার পরিবারই রাজি করাবে ওর বাবা মা কে।এখন দেখ।আমাদের বাবা মা কে মানাবো কিভাবে সেটা নিয়ে পরেছি অথৈ সমুদ্রে।মেয়েটা জানলে কতটা কষ্ট পাবে বল।ওর সম্পর্কে আমার মা এতো বাজে ধারনা পোষন করে আছে।”

আকাশ বোঝে ভাইয়ের চিন্তার কারণ।সেও একই কথা ভাবে।তবে তাদের বিষয়টা আলাদা।প্রিয়া এখনো বেশ ছোট।বয়স অল্প। শিয়া যতটা বোঝে,ম্যাচুয়র প্রিয়া একদম নয়।অল্পে আবেগে ভাসবে,ভুল বুঝবে।একই বিষয় সে প্রিয়া কে বললে প্রিয়া হয়তো মন খারাপ করবে।শিয়ার করার কথা না।সে যথেষ্ট বুঝদার।তাছাড়া আকাশের বিয়ের বিষয় সে নিজে ঠিক থামিয়ে রাখতে পারবে দু চার বছর।কিন্তু অয়নের ক্ষেত্রে সেটা ভিন্ন। তার কারণ অয়ন নয়,কারণটা শিয়া।
আমরা যতই যা বলি আমাদের সমাজে একটা বয়সের পর কথা সব মেয়েদেরই শুনতে হয়।শিয়ার যথেষ্ট বয়স হয়েছে।তার পরিবার, আশেপাশের সমাজ থেকে নিশ্চয় বিয়ে নিয়ে কথা ওঠে।নিশ্চয় ওর পরিবার চাপ দেয় ওকে।তাছাড়া এর আগেই অন্য একটা ছেলের সাথে বিয়ের কথা চলছিলো বলে শুনেছিলো।সবদিক মাথায় রেখে অয়ন শিয়ার সমস্যা টাই আগে সলভ কর জরুরি।আকাশ স্বাভাবিক গলায় বললো,
___”মায়ের কথা নিয়ে ওকে আগেই আপসেট করে দেবে কেনো!ওর সাথে নরমাল থাকো।এদিকে যা সলভ করার করে ফেলবো আমরা।ওদের এসবে জড়াবো কেনো!”

অয়ন জবাব দেয় না।সোজা হয়ে বসে ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে।
___”সৌমি একটা মেয়ে বল?আমি অয়ন মেহনাজ চৌধুরি বিয়ে করবো ওরকম একটা মেয়েকে?সে আবার তোর প্রতি অবসেসড্।ছিহ। মা এটা জানে না?”

আকাশ ভাইয়ের কথা বলার ভঙ্গিতে হেসে ফেলে।মাথায় হাত চালাতে চালাতে বলে,
___”বিষয়টা ইন্টারেস্টিং ভেবে দেখেছো?”

অয়ন মুখ কুচকে ফেলে।আকাশ বাঁকা হাসছে।মুখ অমন কুচকে রেখেই বলে,
___”এক্সপ্লেইন…”

আকাশ কোলের ওপর বালিশ আনতে আনতে বললো,
___”বাজে শোনায়।যতই হোক আমার বড় ভাইয়ের বউ হবে সৌমি।”

___”তুই তো এমন ছিলিস না আকাশ।এসব ফাইজলামি রাতুল করলে মানায়।প্রিয়া শেখাচ্ছে এসব?”

আকাশ খুকখুক করে গলা পরিষ্কার করে নিলো।ভারত্ব আনতে চাইলো মুখে।কিন্তু হচ্ছে না।তার ভিষন হাসি পাচ্ছে।
___”সৌমির মন বড় ভাবতে পারছো।চৌধুরী বাড়ির বউয়ের মন বলে কথা।”

অয়ন মুখ বাঁকায় ভাইয়ের কথায়।বিরক্তমাখা গলায় বলে,
___”সবই বড়।”

আকাশ এবার শব্দ করে হেসে ফেলে।ভাইয়ের দূর্দশায় হাসি পাচ্ছে তার।

___”আমি সৌমির সাথে দেখা করতে যাচ্ছি।”

আকাশ কপাল কোচকায়।
___”পাগল হয়েছো নাকি।ওকে দিয়ে আমাদের কাজ কি।মা কে বোঝালেই তো হয়।”

___”উহু।মেয়েটাকে টাইট না দিলে নাচতে নাচতে গলায় ঝুলতে হাজির হবে।”

অয়ন বিছানা ছেড়ে উঠে সোজা বাথরুম এ যায়।মিনিট পাঁচেক এর মধ্যে প্যান্ট,শার্ট পরে রেডি।ড্রেসিং টেবিল এর সামনে চুলে জেল লাগাতে লাগাতে বলে,
___”আমাকে নিয়ে যে এতো মজা নিচ্ছিস।অপুর কথা মা বললো,শুনেছিস?”

আকাশ খানিকক্ষণ ধ্যান ধরে বসে রইলো।মনে করার চেষ্টা করলো হয়তো।অয়ন হাসে খানিকটা।
___”অপুকে বিয়ে তাহলে করছিস!”
___”পাগল!”
___”তাহলে ওটা নিয়ে টেনশন করছিস না কেনো!”
___”আপাতত টেনশন এর কিছু নেই।বড় ছেলের বিয়ের আগে ছোট ছেলেকে নিয়ে টানাটানি বাজে বিষয়।”

অয়ন কথা বাড়ায় না।ভাইয়ের মাথায় যে অন্য পরিকল্পনা চলছে তা সে খুব টের পাচ্ছে।

______________

গাড়ি এসে দাড়ালো বিশাল একটা পাঁচ তারকা হোটেলের পার্কিং জোনে।অয়ন নিজের গাড়ি পার্কিং করে এসে ঢুকলো ভিতরে।হোটেল তা তাদেরই।রিসেপশনিস্ট সহ ভিতরের সকলে তাকে দেখেই ব্যাস্ত হলো উঠে সালাম জানাতে। ম্যানেজার ছুটে এলো তার দিকে।অয়ন চোখের সানগ্লাস টা নামিয়ে নিচু গলায় বললো,
___”সৌমি?”

ম্যানেজার অতি বিনয়ের সাথে জানায়,
___”সৌমি ম্যাডাম অনেক আগেই এসেছে স্যার।তিনতলার ফুড জোনে আছেন উনি।অপেক্ষা করছেন আপনার জন্য। “
অয়ন গম্ভীর ভাবসাবে এসে পৌছুলো সেখানে।পুরো ফ্লোর ফাঁকা। বুঝতে বাকি রইলো না সৌমির কাজ এটা।এই হোটেলের ৩০% শেয়ার সৌমির বাবার।অয়ন গম্ভীর মুখে এসে বসলো টেবিল টায়।টেবিল টা সুন্দর মতো ক্যান্ডেল দিয়ে সাজানো।সৌমি বরাবরের মতোই বেশ খোলামেলা পোষাকে বসা।অয়ন সেদিকে খেয়াল করলো না।নজর তার অন্য নারীর ওপর বরারবরই সংযত।
সৌমির গদগদ ভাব নজরে এড়ালো না তার।
___”কাল আমরা যাচ্ছি তোমাদের বাসায়।বিয়ের ডেট ফিক্সড করতে…আজকে…

অয়ন আচমকা বেশ ঝুকে এলো তার দিকে।হাস্কিস্বরে বললো,
___”বিয়ের আগে রোমান্টিক ডেট দরকার একটা।নয়?””

সৌমি খুশি হলো।বেশ খুশি হলো।সামনের চুলগুলো পেছনে ঠেলে দিলো।অস্বাভাবিক বড় জামার গলা।এটা স্টাইল হয়তো।অয়নকে দেখাতে এসব!মনে মনে হাসলো অয়ন।সৌমিকে সন্তুষ্ট করতে একনজর তাকালোও সেদিকে।সৌমির মুখ জ্বলজ্বল করছে।

সৌমির ফোন বাজছে।এক্সকিউজ মি বলে উঠে গেলো সে।অয়ন এর মুখটা তেঁতো লাগলো।অসহ্যকর নারী একটা।রাত কাটিয়ে আসে বারো পুরুষের সাথে। বাপ বিয়ে ঠিক করে একজনের সাথে, সে মেয়ে সিডিউস করতে উঠেপড়ে লাগে সে ছেলের ছোট ভাইকে।মুখে থুথু জমছে অয়নের।

সৌমি এসে মোটেই বসলো না নিজের চেয়ার।ঘুরে এসে পিছন থেকে আগলে ধরলো অয়নের গলা।অয়ন শক্ত হাত চেপে ধরলো সৌমির নরম হাত।ঝটকা টানে এনে বসালো কোলে।সৌমির মুখে সন্তুষ্টির হাসি।এতদিনে একভাই অন্তত ধরা দিলো তবে।

সৌমি ঝুকলো অয়নের মুখে দিকে অশ্লীল অঙভঙ্গি মেয়েটার।হাত গলিয়ে দিয়েছে অয়নের ঘাড়ে।মুখ বাড়িয়ে ঠোঁট ছোয়াতে যাওয়ার আগেই টান পরলো চুলে।অয়ন নিজের হাতের মুঠোতে নিয়েছে সৌমির চুল।সৌমির মুখের হাসি সরেনি এখনো।সে হয়তো ডার্ক রোমান্স এক্সপেক্ট করছে অয়নের থেকে।তবে সে চাওয়ায় এক বালতি পানি ঢেলে অস্বাভাবিক জোরে নিজের ওপর থেকে সরিয়ে ফেললো সৌমিকে।মেয়েটা একপ্রকার ছিটকে গিয়ে ধাক্কা খেলো সামনের চেয়ারের।ব্যাথা পেয়ে আর্তনাদ করে উঠলো।অয়ন ততক্ষণে নিজেও উঠে দাড়িয়েছে।শক্ত হাতে চেপে ধরা সৌমির চোয়াল।দাঁতে দাঁত চাপলো।

___”এসেছিলাম ভদ্র ভাবে কথা বলতে।সম্ভব হলো না।গায়ে পরা নারী কোনো পুরুষ পছন্দ করে না।এটা তোমার খুব ভালো বোঝা উচিত সৌমি।তোমাদের মতো মেয়েকে পুরুষ শুধু বিছানা অবধিই নেয়।ঘরের বউ করে না।তবে হ্যা।আমাকে বা আকাশকে আবার ওই ধরনের পুরুষের লিস্টে ফেলো না।ওগুলো পুরুষ নয় কাপুরুষ।আমরা চৌধুরী রা এক নারীতে আসক্ত। গোটা দুনিয়ার আর কোনো নারী এই নজর তাদের দিকে ঘোরাতে পারবে না।আশা করবো কাল তোমার পায়ের ধুলা আমার বাড়িতে পরে নোংরা করবেনা।তোমার বাপের সম্মান ডোবাতে না চাইলে,নিজের এই নোংরা সত্ত্বাটা সবার সামনে উন্মুক্ত করতে না চাইলে ভদ্র নারীর মতো বাবাকে বলবে তুমি চৌধুরী পরিবার এ বিয়ে করবে না।ওকে?”

অয়ন শব্দ করে নিজের বসা চেয়ারটায় লাথি মেরে সরিয়ে বেড়িয়ে আসে সেখান থেকে।সৌমি রাগে ফুসছে।ঠোঁট কেটে রক্ত ঝড়ছে তার।চোখ দিয়ে গড়িয়ে পরলো কয়েকফোটা। আক্রোশের পানি।তবে আচমকাই হেসে ফেললো।আয়েশ করে বসলো নিজের চেয়ার টায়।।টানা কয়েকমিনিট থামলো না সে হাসি।ধীরেসুস্থে উঠে গিয়ে পাশের টেবিলের ফুলদানির পাশ থেকে বের করে আনলো আরেকটা ছোট্ট ক্যামেরা।ঝটপট ল্যাপটপে কানেক্ট করে ফেললো মেমোরিটা।কিছুক্ষণ আগের সম্পূর্ণ ফুটেজ এখানে।অট্টহাসিতে ফেটে পরলো মেয়েটা।গা ছমছম করা হাসি।সুন্দরমতো কাট করলো অয়নের কোলে বসার অংশটুকু।

অয়ন গাড়ি চালাচ্ছে চিন্তিত মুখে।এসি ছেড়ে রাখা গাড়ির ভিতর অথচ দরদর করে ঘামছে।বুকের ভিতর অসহ্য অনূভুতি হচ্ছে। ছুটে চলে যেতে ইচ্ছে হচ্ছে শিয়ার কাছে। মেয়েটাকে দেখে না দু দিন হলো,অথচ মনে হচ্ছে কত যুগ ধরে দেখা হয়না,কথা হয়না।পকেট হাতড়ে ফোন চেক করে।ঘন্টাখানেক হলো মেয়েটা কল করা বন্ধ করেছে।বুকটা ছটফট করে উঠলো।”

_____

ঘরময় ব্যাস্ত হয়ে ছটফট করতে করতে পায়চারি করছে প্রিয়া।শিয়া অনবরত কল করে যাচ্ছিলো অয়নকে।অয়ন কল তুলছে না কিছুতেই।প্রিয়া কয়েকবার আকাশকে কল করেছে।বিয়ের কথা জানায়নি।জিজ্ঞেস করেছে অয়ন ভাইয়ের কথা।বিয়ের কথা শিয়াই না করেছে জানাতে।সে নিজে অয়নকে জানাতে চায়।গতকাল রাত থেকে অয়নকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না।আকাশের থেকে বারবার জবাব আসছে ব্যাস্ত অয়ন।কি এমন ব্যাস্ততা থাকতে পারে হিসেবে মিলছে না শিয়ার।

এখন অবশ্য পাথর হয়ে বসে আছে মেয়েটা।বাবার এমন করার কারণও খুঁজে পাচ্ছে না সে।মনে মনে ভীষন আঘাত পেয়ছে বাবার ব্যবহারে।

আচমকা ফোন বেজে ওঠায় একপ্রকার হুমড়ি খেয়ে কল তোলে মেয়েটা।অয়নের কল।আনন্দে চোখে পানি চলে আসছে মেয়েটার।কল ধরার আগেই প্রিয়া শুনতে পেলো বোনের ফুপিয়ে ফুপিয়ে ওঠার শব্দ।শিয়া কল রিসিভ করে কাঁপা গলায় জবাব দিলো।এমন ভেঙেচুরে যাওয়া কন্ঠে বুকটা মোচড় দিয়ে উঠলো অয়নের।ড্রাইভিং এ থাকা হাত কেঁপে উঠলো।গাড়ি থামালো না সে,কানে আইপডস গোজা।
___”শিয়া…?
___”অয়ন…”
অয়ন স্পষ্ট বুঝতে পারলো শিয়ার কান্না মাখা কন্ঠ।ধারনা করলো।সে কল না তোলায় অভিমান হয়েছে মেয়েটার।এপাশ থেকে মলিন হাসলো।
___”হু..
___”কল তুলছিলে না কেনো!কতবার কল করেছি জানো কাল রাত থেকে।”
___”জানি।”
___”এতো ব্যাস্ত ছিলে?”

অয়ন এ পাশ থেকে হাসে।মেয়েটাকে ক্ষেপানোর একটা মোক্ষম সময় এটা।যদিও উচিত নয়।কাল রাত থেকে তাকে কলে না পেয়ে নিশ্চয় অনেক আপসেট।তবুও অয়ন এ সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইলো না।কি আর হবে,তার অভিমানীনি আবার একটু অভিমান করবে।তবে সে তো যাচ্ছেই অভিমান ভাঙ্গাতে।সারপ্রাইজড হবে তো মেয়েটা।তখন শক্ত করে জিড়িয়ে বুকের ভিতর বন্দি করে ঠিক অভিমান টা ভাঙ্গিয়ে ফেলবে।অয়ন হাসি আটকে বেশ নির্বিকার গলায় বললো,
___”ব্যাস্ত ছিলাম না তো।”

শিয়া থমকায়।তবে সাথে সাথেই আবার ব্যাস্ত গলায় বলে,
___”তাহলে কল তোলোনি কেনো।শরীর খারাপ?”
___”কথা বলতে ইচ্ছে হয়নি।”

শিয়া এবার হতভম্ব হয়।নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারেনা।
___”অয়ন…”
___”আমি এখন ব্যাস্ত আছি শিয়া।ড্রাইভ করছি।রাখি কেমন?”

অয়নের পেটে ফেটে হাসি আসলো কথাটা বলেই।ওপাশে তার ব্যাক্তিগত নারীটির দূর্দশা কল্পনা করে হাসলো। সাথে নিজের খানিকপর কি হতে পারে সেটা ভেবেও একটু ভয় পেলো।ম্যাডামের সামনে গেলে ম্যাডাম নদীতে না চুবায়।

___”অয়ন।এমন বিহেভ করছো কেনো হু?আমার তোমার সাথে জরুরি কথা আছে।সময় হবে না তেমার এখনও!”

___”কি বলো।”

অয়নের কথা ভঙ্গি অন্যসময় হলে ঠিক ধরে ফেলতো হয়তো শিয়া।এখন এতো এতো মানসিক চাপে তাকে ক্ষেপানোর নিমিত্তে অয়নের করা মজা ধরতে পরলো না মেয়েটা।কান্না আটকে কেনোমতে বললো,

___”আমার বিয়ে আজকে অয়ন!আমি… “

কান থেকে ব্লুটুথ স্পিকাট সরিয়ে হেসে ফেললো অয়ন।মেয়েটা তার মতোই অভিনয়ে নেমেছে! কি ভেভেছে অয়ন এতো সহজে ভয় পায়!মুখে বললো,

___”কংগ্রাচুলেশনস মিস ইনশিয়া রহমান। “

শিয়া পাথর বনে গিয়েছে।প্রিয়া আগ্রহ চোখে বোনের দিকে তাকিয়ে আছে।বারবার সময় দেখছে।

___”অয়ন আমার সত্যিই বিয়ে।আমি এখন নিলয়ের সাথে… “
___”আমাকে নাচানো অতো সোজা নয় ম্যাডাম।রাখি।”

শিয়া কে কিছু বলার সুযোগই দিলো না আর।কল কেটে।গেলো।অয়ন এবার শব্দ করে হেসে ফেলে।মেয়েটা শেষমেশ বিয়ের কথা বলে রাগানোর চেষ্টায় আছে।সামনে ব্যাস্ত রাস্তায় মনোযোগী দৃষ্টি রেখে হাসতেই থাকে সে।আচ্ছা মেয়েটা খুব রেগে গেলো বোধহয়! নাকি বেশি অবাক হলো অয়নের এমন ব্যবহারে।কষ্ট পেলো কি খুব!
অয়ন চমকায়।খুব কষ্ট পেলো কি!সে তো শুধু মজা করছে,যাতে একটু পর সারপ্রাইজ টা সারপ্রাইজ লাগে।ম্যাডাম আজকে তার খবরই করে ফেলবে।

শিয়া পাথরের মতো বসে আছে বিছানার চাদর আকড়ে।অয়ন এভাবে কথা বলতে পারে না তার সাথে। তার বিয়ের কথা শোনার পরও এতো অনিহা প্রকাশ।মাথা যন্ত্রণা করছে শিয়ার।প্রিয়া হতবিহ্বল হয়ে দাড়ানো।কি করবে সে এখন।অনবরত শিয়ার ফোনে মেসেজ আসছে।শিয়া বোধহয় সেদিকে তাকচ্ছেও না।
___”অয়ন ভাই কি না দেখ।”

শিয়া নড়চড় করে না।প্রিয়া করুন মুখে শিয়ার ফোন হাতে নেয়।অয়নের নাম্বার নয়।আননোন নাম্বার দেখাচ্ছে।বেশ কয়েকটা টেক্সট এসেছে।শিয়া জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকায় বোনের দিকে।প্রিয়া মাথা নাধে দুদিকে অয়ন নয়।
___”চেক করবো?ছবি পাঠাচ্ছে কেউ।”

শিয়া এবারেও জবাব দেয় না।প্রিয়া ফটো ক্লিক করে এগিয়ে দেয় শিয়ার দিকে।বড্ড অনিহা নিয়ে ফোন টা হাতে নেয় শিয়া।ফোন স্ক্রিনে তাকাতেই মাথা চক্কর কেটে ওঠে তার।প্রথমেই ছোট্ট একটা কয়েক সেকেন্ড এর ভিডিও। তারপর বেশ কয়েকটা ছবি।বুকের ওপর কে যেনো পাথর চাপা দিলো তার।শ্বাস নিতে ভুলে গেলো।শব্দ করে হাত থেকে মেঝেতে পরলো হাতের ফোনটা।প্রিয়া আৎকে উঠলো।তড়িৎ বেগে ফোনটা ধরতে চাইলেও সম্ভব হলো না।ফোনের কাচ ভেঙে চুড়চুড় হয়ে গেছে।দীর্ঘশ্বাস ফেললো প্রিয়া।ফোনটার ওপরের অবস্থা শোচনিয়।শিয়া রোবটের মতো একদৃষ্টিতে বসা।
___”দিলি তো ফোনটা ফেলে।”

নিচু হয়ে ফোনটা তুলে কাচ পরখ করতে গিয়ে তার চোখ আটকালো ফোনের সবেমাত্র আসা ফটো ফোল্ডালের দিলে।চোয়াল ঝুলে পরলো তার।মিস হলে কয়েকটা হার্ট বিট।বোনের দিকে তাকালো।অস্ফুটস্বরে উচ্চারণ করলো,
___”অসম্ভব। “

ফোনের ছোট্ট ১১ সেকেন্ড এর একটা ভিডিও সাথে ছয় থকে সাতটা ছবি পাঠানো হয়েছে একটা নাম্বার থেকে।ছবিতে স্পষ্টত দৃশ্যমান অয়ন আর একটা মেয়ে।প্রিয়া মেয়েটাকে চিনলো।ভালোমতোই চিনলো।সৌমি নামের ওই মেয়েটি।সেবার কক্সবাজারে গিয়েছিলো যে।রিয়ান নিয়ে গিয়েছিলো।অতি ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দুজন।ছবিগুলো ভালোমতো পরখ করলো প্রিয়া।উহু,ফেক নয়।ভিডিওটা তো আরও স্পষ্ট। গা সিওড়ে উঠলো প্রিয়ার।মন প্রান দিয়ে চাইলো এটা দুঃস্বপ্ন হোক।আজকের দিনটাই দুঃস্বপ্ন হোক।

শিয়া থরথর করে কাঁপছে। ছুটে গিয়ে বোনকে আগলে নিলো প্রিয়া।কাঁদো কাঁদো গলা বললো,
___”,এগুলো কিচ্ছু না হ্যা?আমি তোমার ভাইয়ের সাথে কথা বলবো।”

শিয়া এখন বোধহয় এই দুনিয়াতেই নেই।কেমন একটা উন্মাদের মতো করে প্রিয়ার হাত থেকে নিজের ফোনটা ছিনিয়ে নিলো।অসম্ভব কাঁপছে তার হাতজোড়া।বুকের ভিতর টা দুমড়েমুচড়ে উঠছে।কোনোমতে বের করলো সৌমির নাম্বার টা।ডায়াল করলো সেটায়।ওপাশ থেকে সৌমি সম্ভবত তৈরিই ছিলো,অথবা অপেক্ষায় ছিলো শিয়ার কলের।সাথে সাথেই রিসিভ হলে।শোনা গেলো কেমন একটা করুন সুর,
___”অ্যাম সরি শিয়া।”

শিয়া শুকনো ঢোক গিলে ব্যাগ্র কন্ঠে বললো,
___”অয়ন কোথায়?”
___”সবে শুলো।”

শিয়া কাঁপছে, চোখ কেমন অন্ধকার হয়ে আসছে।শুলো মানে কি!এটা শোয়ার সময়!অয়ন যে তাকে বললো ড্রাইভ করছে।কঠিন গলায় বললো,
___”এই ছবিগুলো দিয়ে কি বোঝাতে চাইছো তুমি।”

সৌমি ওপাশ থেকে অশ্লীল হাসলো।হাস্কিস্বরে বললো,
___”কি বোঝাতে চাইছি তা কি এখন তোমাকে পরের অংশটুকু দিয়েও বোঝাতে হবে।”

শিয়া প্রিয়ার হাত ধরলো শক্ত করে।প্রিয়ার চোখের পানি টলমল করছে।সেও শুনছে সব কথা।
___”অ..অয়ন..”
___”আমার সাথে ছিলো শিয়া।”
___”আমি বিশ্বাস করিনা।”
___”সেটা তোমার প্রবলেম। আর কিভাবে বিশ্বাস করাবো।বলো।”

শিয়ার হাত থেকে কল কেটে দিলো প্রিয়া।মেয়েটা বাজে বকছে।উল্টাপাল্টা কথা এসব।

দরজায় কড়া পরলো এর মধ্যে। চমকে উঠলো দু বোন।দ্রুত রেডি হতে বলা হচ্ছে। একটু আগে এসেই এ বাড়ির মেডসার্ভেন্ট রা জামাকাপড়, গহনা সব দিয়ে গেছে ওদের দু বোনকে।শিয়া, প্রিয়া আশ্চর্যের ওপর আশ্চর্য হয়।ওইরকম একটা সিদ্ধান্ত নিলো তার বাবা মা একা একা,তারপর একটা বার একটু দেখা করার প্রযোজন টাও বোধ করলো না।যতবার দেখা করতে চাইলো বাবা মার সাথে তাদের জানানো হলো,জরুরি আলাপ করছে তারা আজগর সাহেবের সাথে। একদম তৈরি হয়ে নিচে যেতে বলা হয়েছে দুজনকে।কেউ একজন বাইরে থেকে উঁচু গলায় জানিয়ে গেলো কাজি চলে এসেছে।কি হচ্ছে এসব তাঁদের সাথে। এমন ধরে বেধে বিয়ে মানে কি!তাদের বাবা মা একটা বার জানতে চাইবে না তার মতামত! এ হতে পারে!কখনো পারে না।কি এমন ঘটেছে তার বাবা মার সাথে! এগুলো হতেই পারে না।শিয়া দু হাতে খামচে ধরলো বোনকে।
___আ..আ..আকাশকে কল দে তো।কল দে।”

প্রিয়া এই অপেক্ষাতেই ছিলো।শিয়ার ফোনেই কল করলো আকাশকে।

___

ভাইয়ের ফোন আচমকা বন্ধ পাওয়ায় বিরক্তই হচ্ছে আকাশ।মা এসে একশবার জিজ্ঞেস করছে অয়নের খোঁজ। তাছাড়া সৌমির সাথে দেখা করতে গিয়েছে।ওদিকটায় কি ঝামেলা হলো খোদা জানে।ফোন বন্ধ করে ফেলার মানে কি!আকাশ এরই মধ্যে অয়নের ম্যানেজার সহ যেখানে যাওয়ার কথা অয়নের সব জায়গায় ফোন করেছে।কোত্থাও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছেনা ভাইয়ের।অন্য সময় বা দিন হলে মোটেই চিন্তিত হতো না সে।তবে সৌমি মোটেই সুবিধার মেয়ে নয়।আর না তো তার বাবা।অয়ন আকাশের মতো সামলাতে পারে না সবটা।হুটহাট রেগে যায়,মাথা গরম করে ফেলে।আকাশ নিজে গম্ভীর হলেও ভাইয়ের মতো হুট করে রাগা বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানুষ সে নয়।এই যেমন আজকে কি ভেবে অয়ন গেলো সৌমির সাথে দেখা করতে,সে হলে মোটেই এট করতো না।কখনো না।কাল ওরা আসতোই।যা ঘটানোর সবার সমানে ঘটাতো।
আকাশ ব্যাস্ত হয়ে আবার অন্য এক জনের নাম্বার ডায়াল করতে যাওয়ার আগেই ভেসে উঠলো শিয়ার নাম।দীর্ঘশ্বাস ফেললো সে।কি বলবে এখন!সে নিজেই তো জানেনা।সৌমির কথা আগেই বলবে!শিয়া নিশ্চয়ই রিঅ্যাক্ট করবে সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে কল।তোলে আকাশ।নিজে কিছু বলার আগেই ওপাশ থেকে শিয়ার উদভ্রান্তের কন্ঠ শোনা যায়,
___”আ..আকাশ ত..তোমার ভাই কোথায়।হ্যা?”
__””ভাইকে ফোনে পাচ্ছিনা বেশ কিছুক্ষন হলো।আমি খোজ…
___”না না আমি পেয়েছিলাম তোমার ভাইকে কলে।কিছুক্ষণ আগেই।কি হয়েছে তোমার ভাইয়ের এমন করছ কেনো! হ্যা?কি করেছি আমি?”

অয়ন কল ধরছে না। অবশ্যই বিষয়টা চিন্তার।কিন্তু মেয়েটা তো একদম ভেঙে পরেছে।প্রচন্ড খারাপ লাগলো তার এখন।তবে কল ধরেছে শুনে আগ্রহী গলায় বললো,
___”কখন?আমি কল করে যাচ্ছি।”

___”,আকাশ আমার… আ..আমার বিয়ে আজকে..আকাশ…”

আকাশ খানিক্ষন ঝিম মেরে গেলো।বিয়ে মানে!
___”কি সব বলছো।কিসের বিয়ে।”

কোনোমতে দ্রুত গলায় সব ব্যাখা করলো শিয়া।গলা কাঁপছে তার প্রচন্ড রকমের।সব শুনে তব্দা খেলো আকাশ।এক রাতের মধ্যে এতকিছু ঘটে গেলো!তার বোকা ভাইটা জানতেও পারলো না।
___”আমি ভাইকে জানানোর ব্যবস্থা করছি।তুমি প্যানিক করো না কেমন।”

শিয়া আর্তনাদ করে উঠলো ওপাশ থেকে।
___”তোমার ভাই সব জানে। “

আকাশ এর কপালে ভাজ পরলো।ভাই জানে মানে!
___”জানে মানে!

শিয়ার মুখে অয়নের সাথে ফোনের কথাগুলোও মন দিয়ে শুনলো সে।আঙুলে কপাল ডললো।অসম্ভব কথাবার্তা। অয়ন এমন ব্যবহার করতে পারে না শিয়ার সাথে। হতেই পারেনা।এটা কি করে হয়।আর সৌমি!কিসব শুনছে সে।
___”আর কিছুক্ষণের মধ্যে ওরা চলে আসবে।কাজি এরইমধ্যে চলে এসেছে।আমি কি করবো এখন?অয়ন.।অয়ন কোথায়?সব জেনেও ও আসছে না কেনো হ্যা?”

কথা বলতে বললে ততক্ষণে আকাশ ছুটে এসেছে বাইরে।গাড়ির চাবি নিয়ে ছুটলো ভাইকে খুজতে।ব্যাস্ত গলায় শান্তনা দিলে সে।
___”ভাই আসবে শিয়া।”

শিয়ার আর মাথা কাজ করতে চাচ্ছে না।অয়নের ব্যবহার,সৌমির পাঠানো ওইসব সব গুলিয়ে ফেলছে সে।বুকটা জ্বলে যাচ্ছে।
___”তোমার ভাই কি প্রতিশোধ নিলো আকাশ?আমি ছয় বছর আগে ওকে ছেড়ে গিয়ে যে ভুল করেছিলাম সেই ভুলের শাস্তি দিলো ও আমাকে?হ্যা?ও এর জন্য ফিরে এসেছিলো আমার জীবনে?”

আকাশের হতাশ লাগছে এখন।অনবরত তার অন্য ফোনে বিভিন্ন বন্ধু বান্ধব চেনাপরিতিদের মেসেজ আসছে।যাদের কে সে অয়নের কথা জিজ্ঞেস করেছিলো আরকি।কোত্থাও নেই সে।
___”এসব কি বলছো শান্ত হও শিয়া।”

এপাশে উদভ্রান্তের মতো করছে শিয়া।চোখের কাজল ছড়িয়ে মেখেছে মুখ।কান্নার স্রোতে মেখে গেছে সব।এলোমেলো চুলগুলো ছড়িয়ে আছে পিঠে।দু হাতে তাকে জাপটে ধরে প্রিয়া।সেও অনবরত কেদেই যাচ্ছে।দরজায় এরই মধ্যে বারবার কেউ না কেউ এসে তাড়া দিচ্ছে।শিয়া পাগলের মতো হাতের উল্টো পিঠে চোখ মোছে।একই গলায় বলে,
___”আমার বিয়ের কথা শুনেও তোমার ভাই আসলো না কেনো?ফোন বন্ধ করে ফেললো!তোমার ভাইকে বলো আমি যা করেছিলাম ভুল করেছিলাম।শাস্তি সরুপ ও আমাকে সারাজীবন যা বলবে তাই।করবো। সব শুনবো।কিন্তু ও যেনো আমাকে অন্য কারোর নামে কবুল না পড়ায়।”

খানিক দম নিতে থামে।কথা বলতে পারছে না সে।হাপাচ্ছে।সম্ভবত শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।
___”আকাশ শুনছো?তোমার ভাইকে ফিরতে বলো।আমাকে ছেড়ে যেতে না করো।মরে যাবো আমি।সত্যি মরে যাবো।।”

মেয়েটার আর্তনাদে বুকটা ভারি হয়ে আসছে আকাশের।ভাইয়ের জন্য অজানা এক ভয় কাজ করছে তার।শিয়া যা বলছে তা তো এখন মানসিক অবস্থা থেকে বলছে।কিন্তু তার মন বলছে অন্য সমস্যা। রাস্তায় এদিক ওদিক তাকাতে তাকাতে ব্যাস্ত গলায় বললে,
___”শিয়া আমি দেখছি তো।তুমি কেনো এতো প্যানিক করছো।আমি আছি না?আমি সব সামলে নেবো।তুমি একটু অপেক্ষা করো।একটু সময় দাও আমাকে। আমি তোমার ভাই তো বলে?হুম?ভাইকে এতটুকু ভরসা করা যায়।যায়না?কিছুক্ষন সামলেরাখো নিজেকে।আমি আসছি হ্যা?”

___”অয়ন এমন কেনো করলো আকাশ।অন্য ভাবে শাস্তি ূদিতো।আবার আমাকে কঠিন ভাবে ওর মায়ায় ফেলে,পাগলের মতো ভালোবাসতে শিখিয়ে, পুরানো ভালোবাসা জাগ্রত করে হারিয়ে গেলো?অন্য মেয়ের কাছে গেলো!হুম?হতে পারে না তো এটা। বলো?
আমাকে অন্য কারোর হয়ে যেতে বলছে তোমার ভাই?
এর থেকে ওকে বলো ফিরে এসে নিজের হাতে বিষ করে যেতে।না কি আমিই খাবো?হ্যা?সেটাই ভালো হবে।আমিই খাবো এখনই।”

ওপাশ থেকে আকাশ কিছু বলার আগেই বিছানায় ফোনটা ছুড়ে পাগলের মতো এদিকওদিক কিছু খোজায় ব্যাস্ত শিয়া।প্রিয়া শব্দ করে কেঁদে ফেললো বোনের অবস্থা দেখে।আকাশ ক্রমাগত ডাকছে শিয়া প্রিয়ার নাম ধরে।
এলোমেলো অবস্থা। আকাশ কি করবে বুঝতে পারে না।গাড়ি রাস্তায় দাড় করিয়ে বেশ কয়েকজন কে মেসেজের রিপ্লাই করে।শিয়ার কল কাটে নি এখনো।আকাশ বিরক্তও হয় খানিকটা।যেকোনো সিচুয়েশন মাথা ঠান্ডা রাখতে হয়।এমন উন্মাদের মতো করলে চলে!সে যাই হোক না কেনো।বাচ্চাদের মতো অবুঝ হলে সমস্যা কখনো সমাধান হবে না।
প্রিয়া সর্বশক্তিতে বোনকে টেনে এনে বিছানায় বসালো।বুকের সাথে আগলে ধরলো।এই সময়টাতে তাদে মা কে।খুব পাশে লাগতো। অথচ একবাড়িতে, হয়তোবা পাশাপাশি ঘরে থেকে তাদের পাচ্ছে না দু বোন।শিয়া জ্ঞান হারিয়েছে খুব সম্ভব। ছটফট থেমে গেছে।প্রিয়া ূ হাতের আজলায় বোনকে তুলে ঝাকালো।সত্যি জ্ঞান হারিয়েছে।

ছুটে টেবিল থেকে পানি এনে ছেটালো চোখেমুখে। বেশ কিছুক্ষণ পর নড়েচড়ে উঠলো।পিটপিট করে তাকিয়েই আবার ফুপিয়ে উঠলো।দু হাতে জড়িয়ে ধরলো ছোট।বোনের কোমড় খানা।

প্রিয়া ফোন কানে নিলো এবারে।পাগল পাগল লাগছে তার এখন।কার ওপর অভিমান করবে বুঝতে পারছে না।বাবা মায়ের ওপর অভিমানে মাথা ছিড়ে যাচ্ছে তার।সৌমি নামের মেয়েটাকে সামনে পেলে তো বোধহয় খুনই করতো।
ওপাশ থেকে এবার অধৈর্য হচ্ছে আকাশ।এমন একটা পরিস্থিতি তে দুদিকেই সামলাতে হলে মহা বিপদ।একদিক অন্তত ঠিক থাকলে নিশ্চিতে অন্য দিক নিয়ে ভাবা যায়।শিয়ার এ অবস্থায় ফোন কাটতেও পারছে না সে।গাড়ি ছুটছে শহরের এদিক সেদিক। তাদের সবগুলো হোটেল চেক করবে সে।তার দু দুজন ওসি বন্ধু কেও জানানো হয়েছে।সৌমির বাবাকে সে একদম ভরসা করেনা।নেহাৎ তাদের বিজনেস পার্টনার।তবে কুকুর তো কুকুরই হয়।

___”আপনি জানেন আপনার ভাই কোথায়?”

এই চিন্তার মধ্যে এমন বেআক্কেলে কথা শুনে মেজাজ খারাপই হলো তার।প্রিয়ার কন্ঠ শুনলো কতক্ষণ পরে
আর প্রথম কথাই এটা!
কর্কশ গলায় বললো,
___”জানলে জানাতাম না তোমাকে?এতটুকু বিশ্বাস নেই!”

___”আপুর বিয়েটা কিছুক্ষণের মধ্যে শুরু হবে।অয়ন ভাই সব জানেন।তারপরও…”

আকাশের ফোন ভাইব্রেট হচ্ছে থানা থেকে কল আসছে তার বন্ধুর কল।।
___”প্রিয়া পরে ব্যাক করছি।”
___”একদম না।আমার কথার জবাব দিন।”

আকাশের ধৈর্য এবার ভাঙ্গে। বাচ্চাদের মতো কথা বলছে দুজনেই।প্রিয়ার তো এই মূহুর্তে অন্তত মাথা ঠান্ডা করে কো-ওপারেট করা উচিত তাকে।তা না করে জেরা করছে এমন সন্দেহভাজন গলায়!
___”এতো অধৈর্য হলে,বিশ্বাস না থাকলে করে ফেলতো বলো ওই ছেলেকে বিয়ে।”

প্রিয়ারও সমান হারে মেজাজ খারাপ হচ্ছে। শিয়া তার পেটে মুখ গুছে কেঁদে যাচ্ছে।বোনকে এতো ভেঙে পরতে কখনো দেখেনি সে।আকাশের এমন কথায় অভিমানই হলো তার।সেও সমান তালে বললো,
___”মেয়েরা এইসময় কি পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যায় তা আপনারা পুরুষ মানুষ রা কখনো বোঝেন না কেনো বলতে পারেন?”

আকাশের ভ্রু জোড়া অস্বাভাবিক কুচকে আসে।সে নিজে টেনশনে নেই!ভাই তার এমন কখনো করে না।তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছেনা।তার ওপর শিয়ার বিয়ে!কোনদিক সামাল দেবে সে!আর সে নাকি বুঝতে পারছে না!ধমকের গলায়।বললো,
___”একটু কম বোঝো প্লিজ।টেনশনে আছি।মাথাটা ঠান্ডা করে ভাইকে খুঁজতে দাও।”

___”বেশি বুঝি আমি!আমাদের এই সিচুয়েশনে আপনি হলে এই একই কথা বলতেন?”

আকাশ হতাশ হয়।দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে।গাড়ি সাবধানে মোড় নিয়ে এগোয় থানার দিকে।এদিক দিয়ে থানার সামনে থেকে তার বন্ধুর গাড়িও এগোবে।সামনেই সৌমির বাসা।কন্ঠ খানিকটা নরম করে বলে,
___”প্রিয়া…তোমরা যতটা টেনশনে আছো
আমিও সেম।একটু সময় দাও।পায়ে ধরি।সৌমির সাথে লাস্ট দেখা হয়েছে ভাইয়ের।ওর কাছে যাচ্ছি আমরা।”

প্রিয়া চমকায়।সৌমির সাথে লাস্ট দেখা মানে!সৌমি মিথ্যা বলেনি তবে!মেয়েটার নাম শুনতেই মাথা জ্বলে যায় তার
___”আপু বোধহয় ভুল বলেনি তবে।সৌমির কাছেই অয়ন ভাইয়া। আপু আমি ভুল দেখিনি তবে।সৌমিও ঠিকই বলেছিলো।আপনারা বেইমান।জেনে বুঝে ঠকালেন আমার বোনকে।সাথে আমাকেও।”

কঠিন কথাগুলো কঠিন গলায় বলে কল কাটে প্রিয়া।নিজেও শব্দ করে।কেঁদে জড়িয়ে নেয় বোনকে।আকাশের রাগ হওয়া উচিত ছিলো কি!হলো না।হাসি পেলো এই দুঃসময়েও।প্রিয়া টা বড্ড ছেলেমানুষ।ওর তো অন্তত শোনা উচিত ছিলো ঠিকঠাক আকাশের কথা।ওউ এমন ইমোশনাল হয়ে পাগলামি শুরু করলো।ভুল বুঝলো!
আকাশ গাড়ির স্পিড বাড়ায়।শিয়া বা প্রিয়া কারোরই এখন মানসিক অবস্থা ঠিক নেই।বিয়ে টা যখন হচ্ছে তার মানে ওর বাবা মায়ের সম্মতিতেই হচ্ছে।
ওরা তাহলে সাহায্য চাবে আর কার কাছে।এই অবস্থায় অয়নের ওই ব্যবহার,কল না ধরা,উধাও হওয়া।…জোরে জোরে শ্বাস নেয় আকাশ।মেয়ে দুটো কি অবস্থায় সামলাবে এখন কে জানে।আধঘন্টার মধ্যে এদিকটা না সামলাতে পারলে রওনা দেবে শিয়াদের ওখান টায়।এরইমধ্যে রাতুল,রাকিব দের বলা হয়েছে দ্রুত শিয়াদের বাড়ি পৌছুতে।

____

আঁকাবাকা রাস্তায় ছুটছে অয়নের গাড়ি খানা।নেটওয়ার্ক এর সন্ধানে বেশকিছুক্ষন আগেই মেইনরাস্তায় অন্য এক কারের নিচে পরে চূর্ণবিচূর্ণ হয়েছে তার দামি ফোনখানা।আপাতত সেটার ঝাঝরা অংশ পাশে নিয়ে চলছে সে।ওখানে গিয়ে একেবারে ফোন কিনে নেবে একটা।তার আগে।দ্রুত যাওয়া উচিত শিয়ার কাছে।ম্যাডাম নিশ্চিত তাকে খুন করতে তৈরি হয়ে বসে আছে।এখন দ্রুত গিয়ে অভিমান না ভাঙ্গালে ধরে মাথা টা আর থাকবে না।

লোকলয় এর মধ্যে দিয়ে ক্রশ করছে তার গাড়ি।
অয়নের আচমকা চোখ পরে রাস্তার আশেপাশে। যথাসম্ভব কোনো শাড়িপট্টি ক্রশ করছে সে।মাথায় খেলে গেলো অন্য চিন্তা।ঝটপট গাড়ি থেকে নেমে দোকান থেকে একটা লাল শাড়ি কিনলো।তাকে বিয়ে বিয়ে করে ক্ষেপানো না?আজ বউ সাজাবে,জোর করে বিয়ের ভয় দেখবে।পাশের সিটে থাকা লাল শাড়ির প্যাকেটে চোখ বুলায় সে বারবার।লাল অবশ্য প্রিয়ার পছন্দের রঙ।শিয়ার গোলাপি সম্ভবত। প্রিয়ার জন্য একটা শাড়ি নিতে হতো। একটা মাত্রই শালি তার,আবার একটামাত্র ভাইয়ের প্রেয়সী।হতাশ হয় অয়ন।ভুলই হয়ে গেছে।আরেকটা শাড়ি কিনতে হতো।পাশের শাড়িটা সামনে দৃষ্টি রেখে কোলের ওপর এনে রাখে,কল্পনায় ভাসছে শাড়িখানা পরিহিতা এক রমনী।কি মিষ্টিই না লাগছে।অয়নের মুখজুড়ে কল্পনার নারীটিকে ঘিরে একরাশ মুগ্ধতা কাজ করছে।
___”তুমি এভাবে লাল টুকটুকে বউ সাজলে আমি বোধহয় সে দৃশ্য দেখার সৌভাগ্যই পাবো না অভিমানীনি।হার্ড অ্যাটাকেই মারা যাবো।”

শব্দ করে হেসে ওঠে অয়ন।আজই শিয়ার বাবার কাছেও যাবে সে।দরকার হলে পায়ে পরবে।তারপর।যেভাবেই হোক দু পরিবার কে রাজি করাবে।অনেক হয়েছে এই দুরত্ব। ছয়টা বছর কি যন্ত্রণা তেই না কাটিয়েছে দুজনে।ভালোবেসে দূরে দূরে।থাকার চেয়ে।কঠিন আর কিছু হয়না। একটাই জীবন!ভালোবাসার মানুষ কে নিজের করে না পাওয়ার চেয়ে বড় ব্যার্থতা আর একটা হয়না।তার মা যতই বলুক।শিয়ার সম্পর্কে সত্যি টা জানার পর আর রাগ করে।থাকতে পারবে না।নেহাৎ এখন জেদ করে শুনছে না।সুখের একটা সংসার হবে তাদের।তাদের সব ঠিল হলে তার ভাই টার ও সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।আকাশ প্রিয়ারও একটা সংসার হবে!হাসি পায় অয়নের।দু বোনকে তাদের দু ভাইয়ের বউ করে চৌধুরী বাড়িতে নিয়ে আসবে তারা।

আচমকা চোখ ধাঁধিয়ে এলো তার।কোথা থেকে এক ট্রাক চলে এলো মোড় ঘুরতেই।সরু রাস্তায় আচমকা কোনো হর্ন, বা কেনো সংকেত ছাড়াই…
অয়ন বুঝে উঠতে পারলো না। তবে যতক্ষণে বিষয়টা মাথায় ধরলো,দক্ষ হাতের কারসাজিও কাজ করলো না।ততক্ষণে সময় পেরিয়ে গিয়েছে।দেরি হয়ে গেছে অনেকটা।ভাগ্য সহায় নেই বোধহয়।এতক্ষনের সব মধুর চিন্তাগুলো এক চুটকি তে মিথ্যা প্রমানিত করে মুখোমুখি তুমুল শব্দ করে সংঘর্ষ হলো অয়নের প্রাইভেট কার আর একটা বড় ট্রাকের।
এক মূহুর্ত কানে টানা টিংংং শব্দ ছাড়া আর কিছু খেয়াল করতে পারলো না সে।এরইমধ্যে তার কার টা তিন তিনবার উল্টেপাল্টে গিয়েছে ।সেই সাথে খাদে পরে গেছে ট্রাকটা।

সময় থমকে গেলো হয়তো।কোনো কারণ ছাড়াই শ্বাস আটকে এলো শিয়ার।বুকের ভিতর তীব্র ব্যাথায় ঝাকি দিয়ে উঠলো শরীরটা।আবার প্যানিক অ্যাটাক হলো।দ্বিতীয় বারের মতো উচু হয়ে গেলো বিছানা তেকে শরীরটা।জ্ঞান হারালো আবার।

আশেপাশে বহুদূরে থেকে মানুষের হৈ হৈ রৈ রৈ কানে হালকা ভেষে আসলো অয়নের।
দুমড়েমুচড়ে যাওয়া কারের ভিতরটায় থাাকা এক পাগল প্রেমিক এর চোখ বন্ধ হচ্ছে ধীরে ধীরে…
কেমন সিনেমার গল্পের মতো হাতঘড়ির সাথে আটকে গেছে লাল টুকটুকে শাড়ি খানা।তবে ছিড়ে দু ভাগ হয়ে গেছে।ছিন্নভিন্ন গাড়িটির পার্স পাতির সাথে জড়িয়ে আছে কোনো এক অপেক্ষায় মগ্ন অভিমানি রমনীর জন্য কেনা লাল টুক টুকে শাড়িখানা।
ওঠার শক্তি বিন্দুমাত্র নেই।বড্ড নিষ্ঠুরভাবে পেটের বা পাশে গাড়ির ভিতরের একটা রড আলগোছে পেট, পিঠ ভেদ করে বেড়িয়ে গেলো!রাস্তা নিমিষেই ভেসে গেলো ওই লাল টুকটুকে একই রঙের লাল তরলে।নাক, মুখ দিকে ঠিকরে বের হওয়া রক্তের আড়ালে হাসলো বোধহয় অয়ন।কাত হয়ে রাস্তায় পড়ে আছে সে।শাড়িটা?ওইতো শাড়িটা তার সাথে আষ্টেপৃষ্টে আটকানো।নিভু নিভু চোখে এক আজব জিনিস দেখলো অয়ন!
ওইতো তার কেনা এই লাল শাড়িটা গায়ে জড়ানো শিয়ার।আহ্ মেয়েটাকে কি মিষ্টিই না লাগছে। আরে পাশে আকাশ প্রিয়া না?ওরাও তো বিয়ের সাজে!শিয়া হেসে তার দিকেই ছুটে আসছে আসছে।ইশশ বোকা মেয়ে।শাড়ি পরার অভ্যেস নেই।পায়ে জড়িয়ে পরে যাবে তো!অযথা ছুটছে।আচ্ছা ওরা সবাই যে বিয়ের সাজে।তাদের অন্য জনমে বিয়ে হয় নিশ্চয়ই!পূর্নতা পায় সম্পর্ক!
আবার হাসতে যায় অয়ন।মুখ দিয়ে রক্ত বেড়িয়ে আসছে।কয়েক ইঞ্চি উঁচু হয়ে ঝাঁকি দিলো শরীর খানা।শিথিল হচ্ছে শরীর।কি আশ্চর্য শিয়া দৌড়ে পৌছুছেনা কেনো তার অবধি!এতটুকু পথ আসতে এতক্ষণ লাগে!লাল শাড়ির ওই ব্যাক্তিগত নারীটিকে একবার ছুয়ে দেখবে না সে!পরের জন্ম তো হয়না।এই জন্মে শেষ বারের মতো লাল শাড়ি পরিহিতা ওই লাল টুকটুকে বউটাকে সে ছুতে পারবে না!খোদা এত নিষ্ঠুর হতে পারেনা।একদম পারেনা।
তবে খোদা সেটাই করলেন বোধহয়।শিয়া আর হাসছে না।কাঁদছে। কাঁদুক! কিন্তু তার কাছে আসুক। শিয়া তো তার কাছে আসছে না।ছুটে চলে যাচ্ছে।পিছিয়ে যাচ্ছে তার থেলে।দুরত্ব বাড়ছে।ক্রমশ দূরে চলে গেলো মেয়েটা।হাস্যজ্জল মুখটা আড়াল হলো তার।একবুক আক্ষেপ নিয়ে নিজের অজান্তেই চোখ বুঝলো শিয়ার পাগল প্রেমিক পুরুষটা।ছয় বছরের অপেক্ষা,এক সমুদ্র ভালোবাসা,একবুক স্বপ্ন, অবাস্তব ভবিষ্যতে সব এক মূহুর্তে মিথ্যা করে দিয়ে পালানোর পায়তারা জুড়লো বোধহয় সে।

চলবে ইনশাআল্লাহ 🌼❤️‍🩹

[আমি আরও কেমন কেমন করে যেনো লিখেছিলাম।রাতেই লিখতে গিয়ে কেঁদে ফেললাম আচমকা।পরে রি চেইক দেওয়ার সময় নিজেকে পাষান মনে হলো।আপনাদের কমেন্ট দেখে আরও গিলটি ফিল হলো।তাই সেনসিটিভ অনেকটা অংশ পরিবর্তন করে ফেলেছি।পর্ব টা নিয়ে আপনাদের মতামত,চাওয়া-পাওয়া জানাবেন দয়া করে।প্রথম গল্প এটা আমার।আশা করবো বকাবকি করে খুব হতাশ করবেন না আমাকে,নিজেরাও হতাশ হবেন না।গল্পের কাহিনি যেদিক যাচ্ছে যেতে দিন না হয়🌼]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here