#আকাশপ্রিয়া
#পর্ব_১৭ (খানিক রোমান্টিক)
#dur_e_dilshad_dua_দুর_এ_দিলশাদ_দুআ
[🚫কপি করা নিষেধ ]
আজকের আবহাওয়া খুব একটা সুবিধার বলে মনে হচ্ছে না।আবহাওয়া অফিসও একই কথা বলছে যদিও।বৃষ্টি নামার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।সাথে ঝড়েও পূর্বাভাস দিয়েছেন।
এখন সকাল ন টা বাজে।প্রিয়া ব্রেকফাস্ট করতে নিচে নেমেছে।শিয়া বেড়িয়ে গিয়েছে আরও ঘন্টাখানেক আগে।রাতে ঘুমাতে দেরি হওয়ায় উঠতে বেশ বেলা হয়ে গিয়েছে তার।ঘুম থেকে উঠে বোনের দেখা পায়নি।প্রিয়াকে মেসেজ দিয়ে শিয়া অফিসে চলে গেছে।
প্রিয়া এই মূহুর্তে ডাইনিং এ বসে আছে।ব্রেড এ জ্যাম লাগাচ্ছে।বুয়া সকালের খাবার বানিয়ে দিয়ে চলে যায়।আবার আসে দুপুরের দিকে।সমস্যা হলো আজকে এই মূহুর্তে তার গরম ভাত,আলু ভর্তা আর ডিম ভাজি খেতে মন চাচ্ছে।কিন্তু পুরো রান্নাঘর খুঁজেও এর একটা উপকরণ ও পেলো না সে।
অগত্যা টেবিলে ফিরে জ্যাম-পাউরুটি চিবুতে হবে।আপু আজকে আসলে বিষয়টা জানাতে হবে,বুয়াকে যেনো বলে রাখে টুকিটাকি জিনিস চোখের সামনেই রাখতে।বাড়িতে একটা ইদুর বাস করে কীনা,তার তো আবার হরহামেশাই
খিদে পায়।তিতুর বিরবির করলো একা একা।
হঠাৎ সিড়িতে কারোর পায়ের আওয়াজ পেয়ে চমকে ওঠে প্রিয়া।এ সময়ে বাড়িতে কারোর থাকার কথা না তো।চোর টোর না তো।ধুর দিন দুপুরে চোর আসবে কোত্থেকে।
ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাতেই চোখাচোখি হলো আকাশের সাথে। সঙ্গে সঙ্গে আরেকটা হার্টবিট মিস হলো মেয়েটার।গায়ে একটা ব্ল্যাক শার্ট জড়ানো।তবে শার্টের সবগুলো বোতামই খোলা।বোঝা যাচ্ছে বড্ড তাড়াহুড়োয় বের হচ্ছে, দ্রুত হাতে বোতাম লাগাতে গিয়ে ফোনেও কিছু একটা করছে।
প্রিয়ার বেহায়া নজর সরতে চাচ্ছে না সামনের মানুষ টার পেটানো উদাম শরীর থেকে।গলার অ্যাডমস্ অ্যাপল থেকে, লোমহীন প্রশস্ত বুক…
চোখ ধীরে ধীরে আরও নিচে নেমে এলো প্রিয়ার।পেটের ওপর নিখুতভাবে আঁকা ছয়টি রেখা কেমন তেল চিকচিক করছে পুরো।
প্রিয়ার হঠাৎ জল তেষ্টা পেলো।গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আছে,ঢোক গিললো একটা।চোখটা সরাতে পারছে না।সামনের মানুষ টা যেনো জাদু করে ফেলেছে।বেহায়া মন আর চোখ।
আকাশ হঠাৎই ফোন প্যান্টের পকেটে গুঁজে নামতে নামতে বোতামে হাত দিলো।ড্রয়িং রুমে প্রিয়াকে দেখে ভয়াবহ চমকে উঠলো।এ সময় এই মেয়েকে অন্তত এখানে আশা করেনি। দ্রুত হাতে শার্টের বোতাম গুলো লাগালো।একনজর তাকালো প্রিয়ার দিকে।
আকাশের তাকানোয় প্রিয়ার এবার বোধহয় টনক নড়লো।এলোমেলো দৃষ্টি ফেললো এদিক ওদিক।চট করে ঘুরে সোজা হয়ে বসলো।মাথা নিচু করে প্লেটের খাবার মুখের সমানে ধরলো।কি যে সমস্যা, হা টাও তো করতে পারছে না।স্পষ্ট টের পাচ্ছে মানুষ টা তার দিকেই হেঁটে আসছে।পায়ের শব্দের সাথে তার বুকের ভিতরের শব্দ টাও জোর কদমে বাড়ছে।
এই লোকটা তার বুকের ভিতরের শব্দ শুনে না ফেলে আবার।খুব কাছে কারোর অস্তিত্ব টের পেয়ে পিছন দিকে চট করে মাথা ফেরায় প্রিয়া।
আকাশ এই মূহুর্তে বুকে হাত ভাজ করে তার ঠিক পিছনে দাড়িয়ে।এই অবস্থায় নিশ্চয় তার খাওয়ায় মন দিতে পারার কথা না।হাত পা সহ কাঁপছে। গতকাল রাতের ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা চোখের সমানে ভেসে উঠতেই প্রিয়া লাফিয়ে সরে গেলো চেয়ার থেকে।
আকাশ পলকহীন নির্বিকার ভাবে তাকিয়ে রইলো মেয়েটসর চোখের দিকে।প্রিয়া কিন্তু তাকাতে পারছে না।চোখে চোখ রাখা তার জন্য অসম্ভব ব্যাপার।এ লোক না আবার তার মন পরে ফেলে।এলোমেলো দৃষ্টি কোন দিকে নেবে বুঝে উঠতে পারছে না সে।আকাশের দিকে চোখ তুলে তাকাতে চাইলো সে।কিছুতেই তো চোখে চোখ মেলাতে পারছে না,কি আশ্চর্য।
আবার লোকটার গলার অ্যাডমস্ অ্যাপেলে চোখ আটকে গেলো,ঢোক গেলার সাথে সাথে কেমন ওপর নিচ করছে।তার বেহায়া মন আলতো হাতে জায়গাটা ছুয়ে দিতে চাইছে।
ওপরের বোতাম টা অসভ্য লোক এখনো আটকায় নি।ইশশশ মহা যন্ত্রণা। এক গ্লাস পানি খেতে পারলে ভালো হতো।
এবার হাত বুকে ভাজ করা অবস্থায়ই আকাশ এগিয়ে এলো প্রিয়ার দিকে।প্রিয়া আরও দু কদম পিছিয়ে ফ্রিজের সাথে ধাক্কা খেলো।আকাশ চোখমুখ কুচকে তাকিয়ে রইলো।মেয়েটার সমস্যা কি।এমনি তো ছটফট করে।তার সামনে এলেই এমন বিড়ালের মতোন এদিক সেদিক করা শুরু করে কেনো।
গম্ভীর গলায় জিজ্ঞেস করে
“তোমার সমস্যা কি?চোরের মতো এদিক সেদিক করছো কেনো?”
“পা..পা..পানি খাবো।”
আকাশ বিরক্ত মুখে তাকিয়ে থাকে মেয়েটার দিকে।এ মেয়ে এমন প্রতিবন্ধীর মতো ব্যাবহার করছে কেনো।হাত বাড়িয়ে টেবিল থেকে পানির গ্লাস এগিয়ে দিলো প্রিয়ার দিকে।কাঁপা হাতে গ্লাসটা নিয়ে ঢকঢক করে শেষ করলো।
আকাশ হাত থেকে আবার গ্লাসটা নিয়ে টেবিলে রেখে।ব্রু উচালো প্রিয়ার দিকে।
“কি হয়েছে?”
প্রিয়া এবারও চোখ তুলে তাকালো না।কাশি দিয়ে নিজের গলা পরিষ্কার করলো।স্বাভাবিক হওয়ার প্রচেষ্টা।
অন্য দিকে তাকিয়েই বললো
“আপনি প্লিজ শার্টের বোতাম ভালো করে লাগান.”
“কি!বুঝলাম না।”
“শার্টের বোতাম লাগাচ্ছেন না কেনো।ছাপড়িদের মতো বুক খুলে রেখেছন।আজব!”
আকাশ এবার তাজ্জব বনে গেলো।ছাপড়ি কাকে বললো এ মেয়ে।সাহস কতো।আকাশ এহনাজ কে কি না বলে ছাপড়ি।কষিয়ে থাপ্পড় মারতে ইচ্ছে হলো তার।
দাত কিড়মিড় করে বললো
“হোয়াট ননসেন্স। ছাপড়ি বলছো কাকে!আকাশ এহনাজ চৌধুরী কে!অবশ্য তুমি কি বুঝবে এসবের।”
প্রিয়া ফট করে তাকালো আকাশের দিকে,সাথে সাথেই আবার সরিয়ে নিলো চোখ।
“না বুঝলাম কিছু,আপনি বোতাম লাগান। দোহাই লাগে।”
আকাশের মুখে এবার বাঁকা হাসি ফুটে উঠলো।মুখ নিচু করে এগিয়ে নিলো প্রিয়ার দিকে।প্রিয়া শ্বাস আটকে দাড়িয়ে রইলো।লোকটার শরীরের ঘ্রানে তার চোখ বন্ধ হয়ে আসতে চায়।আকাশ হাস্কিস্বরপ বললো
“বাই এনি চান্স, আমার বডি দেখে তুমি কি সিডিউস হচ্ছো?”
এই যা লোকটা বুঝে গেলো কিভাবে।প্রিয়ার ইচ্ছে হলো দৌড়ে পালিয়ে যেতে।তা তো সম্ভব হচ্ছে না।খাম্বার মতো সামনে দাড়িয়ে আছে।তার ওপর হালকা কালচে গোলাপি ঠোটটা জলজল করছে।মনটা উল্টোপাল্টা ইশারা করছে।মরার ওপর খাড়ার ঘা হিসেবে এই লোকের শরীরের মাতাল করা ঘ্রাণটা তো আছেই।ইশশশ কোনোভাবে ফ্রিজের ভেতর উঠে পরা গেলেও বোধহয় হতো।
ঢোক গিলে নিজেকে স্বাভাবিক করতে চাইলো আবার।রাগী গলায় বললো
“মোটেই না।এ আর এমন কি!সিডিউস হওয়ার কি আছে!”
আকাশ মুখের বাঁকা হাসি বজায় রেখেই এক ভ্রু তুললো।
“তাই?নেই কিছু?সিওর তো?”
“হ্যা হ্যা সিওর। ”
আকাশ এবার আরেকটা বোতাম খুলে দিলো, বুকের কাছটা উদাম হয়ে গেলো।প্রিয়া না চাইতেও আবার চোখ আটকে গেলো বুকটায়।দাত টা কিড়মিড় করছে।তার বুকের ওপর টায় কামড়ে দিতে মন চাচ্ছে।ছিহ্ প্রিয়া,এসব কি বেহায়াপনা।নিজেকে নিজেই ধমক দিলো এবার।
আবার আগের থেকে রাগী গলায় বললো
“সরুন তো সামনে থেকে।মহা সমস্যা তো।”
“সিডিউস হচ্ছো না।তাহলে খোলা থাকলে সমস্যা কি।”
“আছে সমস্যা। আটকান বলছি।”
প্রিয়া চোখ তুলছে না এখনো।আকাশের দারুণ হাসি পাচ্ছে মেয়েটার অবস্থা দেখে।
কপট স্বরে বললো
“হচ্ছো না সিওর!তুমি কি মেয়ের মধ্যে পরো তাহলে!এই সিন দেখর জন্য মেয়েরা লাইন ধরে থাকে,আর তুমি বলছো কিচ্ছু নেই দেখার।”
“থাকতেই পারে লাইন।সে লাইনের পথিক আমি নই।সরুন তো।”
“তাই? ভালো করে দেখে বলো তো।”
“ইশশশ যে আমার বডি,সেটা নিয়ে আবার এতো অহংকার এর কি আছে?”
“হুম হুম,শুনিনি।আবার বলো?”
“এইযে আবার এগোচ্ছেন!কথায় কথায় গায়ের ওপর এসে পরেন কেনো?”
“কি বললে সেটা শুনতে।নাও কান এবার মুখের কাছে এনেছি।এবার বলো।”
“আমি কথা বলছি,কিস করছি না।এতো ঘেষে দাড়ানোর মানে কি!”
ফট করে বেফাঁস কথাটা মুখ থেকে বেড়িয়ে গেলো প্রিয়ার।ইশশ লজ্জায় মরে যেতে ইচ্ছে হচ্ছে। কিসব বলে ফেললো।
“কি জানো বলছিলে।শুনতে এলাম।চাইলে এখন যেটা বললে সেটাও করতে পারো,আমি মাইন্ড করবো না।সব মেয়েই আমাকে কাছে পেলে এটাই চায়।অস্বাভাবিক নয়।বলো বলো।”
প্রিয়ার এবার হাত পা ও অবশ হয়ে আসতে চাচ্ছে।
কাপা কাঁপা গলায় বললো
” ব্..ব..বলছিলাম যে ওই বডি নিয়ে এতো ঢ…ঢ..ঢং কি..কিসের?এ বাবা আবার শার্ট খুলে ফেললেন কেনো?”
আকাশ এরই মধ্যে সামনের সবগুলো বোতাম খুলে দিয়েছে।প্রিয়ার চোখের সামনে দৃশ্যমান হলো পুরো শরীর।বুকের ভিতরের হৃদ পিন্ড টা ঠুকরে বেড়িয়ে এলো বোধহয়।গলার কাছে দলা পাকিয়ে যাচ্ছে কি একটা।দু হাতে মুখ ঢেকে ফেললো সে।
প্রিয়ার বেহাল দশা দেখে আকাশের পেট ফেটে হাসি আসতে চায়।সযত্নে মুখের হাসির টুকু গিলে দ্বিগুণ মাতাল করা গলায় কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিসিয়ে বলে,
“তা ম্যাডাম,দুহাতে ওভাবে চোখ ধরে রাখলে বুঝবেন কেমন করে?কি কারণে এতো অহংকার এই বডি নিয়ে। এ অহংকার অবশ্য আমার বউয়েরও হবে তার স্বামীর জন্য। তাকান,তাকান…”
প্রিয়া না চাইতেও হাত নামিয়ে আনলো মুখের ওপর থেকে।হুশ খুয়িয়ে তাকিয়ে রইলো সামনের মানুষ টার ফুটে ওঠা শরীরের ভাজের দিকে।গেমে যাচ্ছে পুরো সে নিজে।একি! শ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে। নিজের অবস্থায় নিজেরই লজ্জায় মরে যেতে ইচ্ছে হচ্ছে।
আকাশ ঘোর লাগা চোখে তাকিয়ে রইলো প্রিয়ার দিকে।মেয়েটা দারুণ জব্দ হয়েছে।ঘেমে নেয়ে একাকার। রীতিমতো হাপাচ্ছে।বারবার অভ্যামতো ঠোঁট কামড়ে ধড়ছে।আকাশ হাস্কিস্বরে বললো
“এইতো গুড গার্ল।দেখেছেন?কেমন?”
প্রিয়ার গলা শুকিয়ে আসছে।ঠোট খড়খড় করছে যেনো। ঢোক গিলছে বারবার।
“আরেহ্ পানি খাবেন?ইশশশ নিঃশ্বাস আটকে আসছে তো আপনার! তা আপনার হাঁপানি রোগ আছে বলেননি তো।নাকি আজকে থেকেই শুরু হলো।”
আকাশের ব্যাঙ্গ করা কথা স্পষ্ট বুজতে পারলো প্রিয়া।লোকটাকে কামড়ে ধরতে মন চাচ্ছে।তাকে জ্বালাতন করা!এর শোধ যদি সে না নেয়!
” অসভ্য লোক।শার্ট পড়ুন তো! উফফফ অসহ্য!”
প্রিয়া পুরো সরে যাওয়ার জন্য হাসফাস করতে থাকলো।লোকটা আজকেও গতরাতের মতো তাকে দু পাশের দেয়ালে হাত রেখে।তার সাথে বিন্দু মাত্র স্পর্শ লাগেনি।তবুও তার মনে হচ্ছে মানুষ টা তাকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে আছে।শরীরে শীতল ঢেঠ বয়ে যাচ্ছে শিরদাঁড়া বেয়ে।
মেয়েটার ভয়াবহ অবস্থা দেখে খানিকটা মায়া হলো বোধহয় এবার আকাশের। দেয়াহ থেকে হাত নামিয়ে পিছিয়ে গেলো দু পা।এই সুযোগ আর হাতছাড়া করলোনা প্রিয়া।পাশ কাটিয়ে দৌড়ে চলে গেলো।
আকাশ এর ইচ্ছে হলো শব্দ করে হেসে ফেলতে।বোতাম গুলো আলতো হাতে লাগাতে লাগাতে তাকিয়ে রইলো প্রেয়সীর প্রস্থান এর দিকে।
হাত দিলো মাথার পিছনে।বাঁকা হাসির রেখা ঢেউ খেলে গেলো চোখেমুখে। নিজেকে এতো অচেনা কখনো মনে হয়নি তার।কি ছিলো আর কি হয়ে গেলো!কখনো কি সে নিজে ভেবেছিলো আকাশ এহনাজ চৌধুরীর এই হাল হতে পারে কোনো এক কিশোরীর ছলনায়।একটা কিশোরী তার রাতের ঘুম হারাম করবে,কঠোরতার খোলস থেকে বের করে এমন নির্লজ্জ বানিয়ে ফেলবে।ভাবে নি,স্বপ্নেও ভাবেনি।এই এক সদ্য ফোঁটা পুষ্পকলির ন্যায় কিশোরীর ওই হরিণী চোখের মায়ায় ডুবেছে সে,হারিয়েছে ওই মুখের মায়ায়।এ জীবনে কি সে মায়া কাটানো সম্ভব। না বোধহয়…
ঘড়িতে নজর দিলো এবার।প্রেয়সীর মোহে আটকে অনেকটা লেট হয়ে গেলো।ডাইনিং এ তাকালো।মেয়েটা বোধহয় সবে বসেছিলো খেতে।সব খাবার টেবিলেই সাজানো।সামনেই প্রিয়ার আধা গ্লাস জুস আর আধা খাওয়া ব্রেড,অমলেট রয়ে গেছে প্লেটে।আকাশ এগিয়ে এলো।প্রিয়তমার এটো খাবার গুলো দ্রুত হাতে মুখে তুলে নিলো।নিমিষেই শেষ করলো খাবার গুলো।জুসের গ্লাস হাতে তুলে নিলো।
কাচের চকচকে গ্লাসে প্রেয়সীর ঠোঁটের ছাপ স্পষ্ট। ঠোঁট ছোয়ালো নিজেও সেখানটায়।এক চুমুকে শেষ করলো। গ্লাস হাতে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ গ্লাসের দিকে।মৃদু হাসলো।বিরবির করে বললো
“একদিন এই সমস্ত অপেক্ষার প্রহর ফুরোবে প্রাণের প্রিয়া।তোমার স্পর্শ তোমার আড়ালে অনুভব করতে করতে একদিন তোমাকে স্পর্শ করার হালাল অধিকার নিয়ে নেবো।সেদিন আর তোমার ঠোঁটের স্পর্শের নিশানা নয়, সোজা ওই ঠোঁট জোড়াতেই ঠোঁট রাখবো।সে অধিকার তুমি নিজে থেকে দেবো,দিতেই হবো। কথা দেওয়া রইলো।”
চলবে ইনশাআল্লাহ….

