আকাশপ্রিয়া #পর্ব_১৮

0
36

#আকাশপ্রিয়া
#পর্ব_১৮
#dure_dilshad_dua_দুর_এ_দিলশাদ_দুআ

[🚫কপি করা নিষেধ ]

দরজায় হেলান দিয়ে রীতিমতো হাঁপাচ্ছে প্রিয়া।ঠিক গতকাল রাতের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলো যেনো। অসভ্য লোকটাও একই রকম ব্যবহার করলো,সাথে সাথে সায় দিয়ে তার অবাধ্য, বেহায়া হৃদপিন্ড টাও একই রকম করছে কালকের মতো।দৌড়ে এসে বিছানায় উপুড় হয়ে বালিশে মুখ গুছে পরে রইলো সে।হাত পা অবশ হয়ে আসছে।শ্বাস চলতে চাচ্ছে না।মানুষ টা কি পারফিউম ব্যবহার করে!তাকে স্পর্শ অবধি করেনি,অথচ লোকটার পারফিউম এর ঘ্রানে তার মাথা ঝিমঝিম করছে এখনো।নিজের সারা শারীর থেকেও পাচ্ছে মানুষ টার পুরুষালি মিষ্টি, কড়া, মাতাল করা ঘ্রান টা।
প্রিয়া নিজের ওপর রীতিমতো বিরক্ত, কতো বোঝালো নিজের মন কে গত রাতে,লোকটা তাকে বিরক্ত করে,ভয় দেখিয়ে মজা পায়,তার নিজের শক্ত থাকতে হবে মানুষ টার সামনে।কি হলো এতো বুঝিয়ে।যা হওয়ার তাই হলো।সেই তো মানুষ টাকে দেখা মাত্রই হুঁশ জ্ঞান খুয়িয়ে উল্টা পাল্টা ব্যবহার শুরু করে দিলো।কেনো হচ্ছে এমন।কই

স্কুল,কলেজে তো কতবার কত ছেলে বন্ধু দের সাথে মারামারি করেছে।এই লোকটা তো স্পর্শ অবধি করেনি,দু এক মাস আগেও তো কলেজে তার বন্ধু রিমন টা তার থেকে আইসক্রিম কেড়ে খাওয়ার জন্য দেয়ালে হাত চেপে ধরলো।কই তখন তো এমন লাগলো না,তাদের সাথে নিত্য ওঠা বসা হতো।কখনো এমন হয়নি।তাদের কেনো সত্যি বলতে কখনো কোনো পুরুষ মানুষ দেখেও তো কিছু ফিল হয়নি।কতো হ্যান্ডসাম,সুন্দর সিনিয়র, ব্যাচমেট প্রপোজ করতো তাকে।কখনো তো এতো জোরে হার্টবিট চলেনি। এখন এমন হচ্ছে কেনো।

বালিশ জড়িয়ে সোজা হয়ে শুলো এবার।ফ্যান চলছে ফুল দমে।বাতাসে খোলা চুল এলোমেলো হয়ে পরে আছে বিছানা জুড়ে।
তার বুকটা এখনো ঢিপঢিপ করছে।ডান হাত টা আলতো করে রাখলো বুকের বা পাশটায়।অস্ফুটেস্বরে বিরবির করলো

“কোনো এক অচেনা পুরুষের মোহে ডুবে গেছি আমি।ফেরার পথ বন্ধ হয়ে গেছে বোধহয়।সে পুরুষের শরীরের ঘামে ভেজা ঘ্রান,গরম নিঃশ্বাস, মাতাল করা চাহনি,বরফশীতল কন্ঠ।তাকে কখনো না ছুঁয়েও অনুভব। এ কোন সাগরে ডুবলাম আমি।না পাচ্ছি কূল,না পাচ্ছি কিনারা।তার মধ্যে কেনো ডুবতে ইচ্ছে হয়,কেনো তার মধ্যে ডুবে নিজেকে খুঁজতে মরিয়া আমি!এ কেমন দহন!কি নাম দেওয়া যায় এ অনূভুতির?”

চোখ বন্ধ করে পরে রইলো একা বিছানায়..উত্তর খুঁজতে ব্যাস্ত সে আজ…

*****

আকাশ রাতুলকে নিয়ে যাচ্ছে শহরের দিকে।গাড়ি রাতুল ড্রাইভ করছে।পাশের সিটে বসে আপনমনে ল্যাপটপে কাজ করে যাচ্ছে আকাশ।রাতুল বারবার আড়চোখে তাকাচ্ছে আকাশের দিকে।হুট করে তাকে নিয়ে শহরের দিকে যাওয়ার কারণ বুঝতে পারছে না। আকাশ কে প্রশ্ন করে লাভ হয় না।গাড়িতে ওঠার পর তিন চার বার প্রশ্ন করা হয়ে গিয়েছে অলরেডি। জবাব দেয়নি।ল্যাপটপে ঢুকে আছে যেনো।রাতুলের এদিকে শরীর নিষপিষ করছে কোথায় যাচ্ছে সেটা না জানতে পেরে।
রাতুল নিজেকে মহা ধৈর্যবান একজন বন্ধু মনে করে,অবশ্য আকাশের সাথে তারা যেকয়জন ই ওঠাবসা করে মহা ধৈর্যবান সবকটা তারা।এই ছেলে মহা ঠ্যাটা।নিজে যা বোঝার সেটার বাইরে এক লাইনও বোঝানোর সাধ্য কারোর নেই।এবার থাকতে না পেরে রাতুল মুখে “চ” শব্দ করলো। বিরক্ত প্রকাশ করলো।বিরক্তি গলায় বললো
“হ্যারে আকাশ।আমি কে বরং তোর ড্রাইভার হিসেবে নিযোগ দিয়ে দে।”

আকাশ শুনলো কি না বোঝা গেলো না।কোনো প্রতিক্রিয়া দেখলো না রাতুল এর কথায়।রাতুল আবার একই স্বরে বললো,
“কি বলি আমি?আমার কথার গুরত্ব নাই কোনো।কি রে”

আকাশ এবার নির্বিকার চোখে তাকালো।নরম গলায় বললো,
” ঘ্যানঘ্যান করিস কেনো।কি সমস্যা? ”

রাতুল আহত চোখে তাকিয়ে রইলো বন্ধুর দিকে।কপট অভিমান দেখিয়ে বললো,
“আমি ঘ্যানঘ্যান করি,তুই এটা বলতে পারলি।”
আকাশ একফোঁটা ও গুরত্ব দিলো না।বিচ্ছুগুলোর নাটক সে খুব ভালো করে জানে।ল্যাপটপ বন্ধ করলো।ব্যাগে তুলে বুকে হাত গুঁজে তাকালো রাতুল এর দিকে।
“বল।কি বলছিলি?”

রাতুল অভিমান ভুলে নির্লজ্জ এর মতো সবকটা দাঁত বের করে তাকালো।
“বলছিলাম,সকাল সকাল উল্টা রাস্তায় কোথায় নিয়ে যাচ্ছিস?আর কাউকে নিলি না, হ্যা হ্যা?”

আকাশ বিরক্ত চোখে তাকিয়ে রইলো।ছেলেটা যে কি পরিমাণ বিরক্তিকর ভাবে দাত বের করে হাসতে হাসতে উল্টা পাল্টা ঘ্যানঘ্যান করতে পারে।
গম্ভীর গলায় বললো,
“তোর কি মনে হয়?আমি তোকে কি জন্য নিয়ে যেতে পারি?”
“ইটিশ পিটিশ করতে তো আর সবাইকে লুকিয়ে আমাকে নিবি না।নিলে প্রিয়াকে….”

বেফাঁস কথা বলছে বুঝতে পেরে আকাশের দিকে না তাকিয়েই জিহ্বায় কামড় দিয়ে ধরলো।এখনি লাত্থি দিয়ে বের করে না দেয়।
আকাশের এই ছেলেটার সাথে কথাই বলতে ইচ্ছে করে না মাঝেমধ্যে। কথাবার্তার ব্রেক নাই একদম।
“হোয়াট ননসেন্স রাতুল।কথাবার্তা ঠিক করে বলতে বলেছি কতবার?”
সাথে সাথেই সাফাই দেওয়ার মতো করে রাতুল বললো,
“সেভাবে বলতে চাইনি মোটেই।উদাহরণ দিলাম আরকি।বল না কেনো নিয়ে যাচ্ছিস।”

আকাশ আর অন্য কথা বাড়ায় না।সামনের রাস্তার দিকে তাকায়।বুকে হাত গুজে গম্ভীর গলায় বললো,
“শিয়া কে আসতে বলেছি।ওর সাথে কথা বলবো।তাই।”

রাতুল চমকে ওঠে।উত্তেজিত গলায় বলে,
“বাই এনি চান্স অয়ন ভাইয়ের বিষয়টা?”

আকাশ মাথা নাড়ায়।অয়ন আর শিয়ার প্রবলেম সলভ না করা পর্যন্ত মানসিক ভাবে কেউই শান্তিতে থাকতে পারছে না।ভাইকে দিনদিন এমন অবস্থায় আর দেখতে পারছে না সে।একটা বিহিত তো করতেই হবে।আর এতদিন এ এটা বুঝে গেছে এদের নিজেদের মতো করে বোঝাপড়া করতে দিয়েও লাভ হবেনা।দু’জনেই একইরকম একরোখা,কেউ কারোর কাছে মাথা নোয়াতে নারাজ।অথচ কষ্ট দুজনেই পাচ্ছে।

“শিয়া কে আসতে বলেছি।অফিসের দরকার এর কথা জানিয়ে।তারপর বাকি সবটা নিয়ে ডিসকাস করবো।ভাইয়ার দিকটা আমি জানি,সবটা।তবে শিয়ার দিকেও নিশ্চয়ই অবজেকশন রয়েছে।এবং বেশ ভালোরকম কোনো সমস্যাই হয়েছিলো।যে কারণে এতো দুরত্ব। ও যে ভাইয়া কে ভুল বুঝছে সেটারও কারণ অবশ্যই ছিলো।সেটা জানতে হবে,শুনতে হবে।বাকিটা তারপর দেখবো।”

রাতুল এতক্ষণ মন দিয়ে শুনছিলো আকাশের কথা।সেও মাথা নেড়ে সম্মতি জানালো। তারা নিজেরা সাক্ষী অয়ন আর শিয়ার ভালোবাসার সময়টার।শিয়া তাদের ব্যাচমেট,তাদের ফ্রেন্ড ছিলো।রেদোয়ান এর গার্লফ্রেন্ড রাকার মাধ্যমে প্রথম পরিচয় শিয়ার সাথে। এক পর্যায়ে সবাই একটা গ্রুপের মতো হয়ে য়ায়।অয়ন ভাই তাদের বছরের সিনিয়র ছিলেন।অয়ন আর শিয়ার প্রথম আলাপ হয় অয়ন যখন রাকার অনুরোধে শিয়াকে টিউশনি করায়।ধীরে ধীরে ভালোলাগা, তারপর ভালোবাসা…সব ঠিকঠাকই চলছিলে।
সেবার অয়ন আর শিয়ার তিন বছরের এনিভারসারি সেলিব্রেট করার আয়োজন হচ্ছিলো ভার্সিটি ক্যাম্পাসে।আকাশ নিজে দায়িত্ব নিয়ে সবটা আয়োজন করেছিলো।

হঠাৎ কি থেকে কি হয়ে গেলো।সারাদিন তারা অপেক্ষা করার পরও শিয়া বা অয়ন কেউ আসলো না।খোঁজ নিয়ে জানা গেলো শিয়া বা অয়ন সারাদিন কেউ কারোর সাথে কনটাক্টে নেই।অতপর যা হওয়ার নয় সেটাই হলো।তিন চারিদন পর হুট করেই শিয়া টিসি নিলো ভার্সিটি থেকে।কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই শিয়া নিখোঁজ হয়ে গেলো পুরো।সবার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিলো হুট করে।অনেক খোঁজ করেও তার ঠিকানা পাওয়া গেলো না।বন্ধু বান্ধব রা কম চেষ্টা করলো না খোঁজার।সয়ং আকাশ এহনাজ চৌধুরী পেলেন না সে খোঁজ। নাকি পেলো,সেটা তারা জানেনা।
কারণ এরপর আকাশ ও এ নিয়ে কথা বলতো না।আর রইলো বাকি অয়ন ভাই।সেদিন তার অ্যাক্সিডেন্ট হয়।ভয়াবহ অ্যাক্সিডেন্ট।টানা তিন দিন সেন্স এ ছিলো না।জ্ঞান ফেরার পর শিয়ার বিষয়টা নিয়ে একই ভাবে মুখে কুলুপ এটে রইলেন।স্তব্ধ হয়ে রইলেন বলা যায়।আকাশ জানতো হয়তো অয়নের দিকটা,কিন্তু তারা এ নিয়ে জিজ্ঞেস করার সাহস পায়নি।কারণ অয়ন ভাই সেদিন পর থেকে পুরো পরিবর্তন হয়ে যায়।আগে যেমন ছোট ভাইয়ের বন্ধু হওয়া স্বত্বেও নিজেও তাদের সাথে বন্ধুর মতো মিশতো,সেখানে বড় ভাইয়ের মতো দুরত্ব বাড়িয়ে দেয়।গুরুগম্ভীর, চুপচাপ হয়ে যায় পুরো।তাদের মধ্যে কি হয়েছিলো,কেনো শিয়া নিরুদ্দেশ হয়েছিলো,অয়ন ভাই কেনো তারপর শিয়ার খোঁজ করলেন না,বা পরে খোঁজ করেছিলো কিনা এটা তাদের কাছে রহস্য রয়ে গেলো পুরো।

রাতুল বর্তমানে ফিরলো। আজকে হয়তো অনেক কিছুই জানা যাবে শিয়া র মাধ্যমে।বেচারিও দারুণ পরিবর্তন হয়ে গেছে।তাদের রিলেশনশিপ ভাঙ্গার সাথে তাদের ফ্রেন্ডশিপ কিভাবে নষ্ট হয়ে গেলো আজও তার কুলকিনারা সে পায়না।

****
গাড়ি এসে থামলো একটা রেস্তোরাঁর সামনে।এই ঠিকানেই শিয়া কে অপেক্ষা করার কথা বলেছে আকাশ।রাতুল এই মূহুর্তে ভয়ে আছে,কেননা আকাশ না আবার তাকে বলে বসে নিয়ে যাবেনা।তবে তা ঘটলো না।আকাশ রাতুল কে নামতে ইশারা করলো।নিজেও নেমে এলো। সানগ্লাস চোখে লাগলো। রাতুল গাড়ি পার্কিং করে আকাশের সাথে সাথে এলো।
শিয়া অপেক্ষা করছিলো মিনিট বিশেক হলো।আকাশ কে দেখে হাত নেড়ে ইশারা করলো। আকাশ, রাতুল গিয়ে বসলো একই টেবিলে।শিয়াই জিজ্ঞেস করলো
“ব্ল্যাক কফি নেবে তো?”
আকাশ মাথা নাড়লো,নেবে।।শিয়া এবার তাকালো রাতুল এর দিকে,
রাতুল মাথা নাড়লো।মুখ বাঁকিয়ে বললো,
“উহু,আমার ওসব চলেনা।ওর মতো সারাদিন তেতো খেয়ে মুখ দিয়ে তেতো কথা বের করতে চাইনা।আমি থাই স্যুপ খাবো উইথ অনথন।”

শিয়া হেসে ফেললো রাতুল এর বলার ভঙ্গিতে।রাতুল নিজেও দাত বের করে হেসে তাকালো আকাশ এর দিকে।আকাশ তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে আছে।সে সেটা থোরাই পরোয়া করলো।আকাশের দিকে তাকিয়ে দ্বিগুণ হাসি দিয়ে বললো,
“ভুল বললাম আমি?ওভাবে তাকিয়ে ভয় দেখাবি না।”

আকাশ আর কথা বাড়ায় না। ভ্রু কুচকে চোখ সরিয়ে নেয়। এবার ঘুরে বসলো শিয়ার দিকে। গলা যথাসম্ভব নরম করে।বললো
“দিনকাল চলছে কেমন সেটা বলো।”
শিয়া খানিকটা অবাক হলে।আকাশের এমন প্রশ্ন আশা করেনি সে।হালকা হাসলো,বললো,
“আলহামদুলিল্লাহ, ভালো।”
বলেই চুপ করে রো আকাশের পরের কথাটা শোনার জন্য। রাতুল পরপর দুজনের দিকে তাকাচ্ছে।ওয়েটার কফি আর স্যুপ দিয়ে গেলো।আকাশ কফি হাতে নিতেই রাতুল দ্রুত হাতে নিজের খাবার টেনে নিয়ে খাওয়ায় মন দিলো।আগ্রহ নিয়ে বসে আছে এতোদিন এর রহস্য উন্মোচন এর আশায়।
আকাশ কফিতে এক চুমুক দিলো।কাপ নামিয়ে রাখলো টেবিলে।
“আমার মনে হয় তোমার কিছু কথা জানা দরকার।কিন্তু তার আগে তোমার দিকের কথাটা আমার জানা দরকার।এবং আশা করবো বিষয়টা আর প্যাচাবে না তোমরা।ক্লিয়ার কাট কথা বলবে।”
শিয়া চুপ করে রইলো।নিজের কফির কাপ হাতে ঘোরাতে থাকলো বারবার। বোঝার চেষ্টা করছে হয়তো আকাশের কথাটা।
“শোনো শিয়া।তোমাকে জোর জবরদস্তি করার অধিকার আমার নেই।বন্ধুত্বের দাবি আমি আজ রাখবো না।সেটা নষ্ট হয়েছে বহু আগেই।”
শিয়া ফট করে তাকালো আহত চোখে।আকাশ নিজেও তাকিয়ে রইলো শিয়ার দিকে।গম্ভীরগলায় বললো,
“কিন্তু আমার ভাইয়ের বিষয়টা জড়িত এখানে।তার অবস্থা তোমাকে বর্ণনা আমি আগে করতে চাচ্ছি না।তুমি মুভ অন করেছো কিনা, তোমার বর্তমান আমি জানতে চাইনা।আমি ওইদিন টার কথা চানতে চাই।”
শিয়া স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করলো।অনেকটা ধীরে গলায় বললো,
“এতবছর পর এসব কথা…”
“কারণ বললামই তো।তুমি মুভ অন করে থাকতে পারো,কিন্তু আমার ভাই আজও ওইদিন এ আটকে আছে।”
শিয়া ছলছল চোখে তাকালো।না চাইতেও চোখে পানি এসে গেলো তার।সামলে নিলো মূহুর্তেই।একই স্বরে বললো
“তুমি কি আজ এ কারণেই এসেছো।?”
“হ্যা।”
“এর কোনো সমাধান নেই।”
“সেটা আমি বুঝবো।”
“তোমার ভাই…”
“ভাইয়া আমাকে পাঠায়নি।সে এই মূহুর্তে… বাদ দাও। তার খোজ তোমার না জানলেও চলবে।আই গেস তুমি জানতে চাও না।কিন্তু আমারও বুঝতে হবে তাকে অন্যভাবে মুভ অন করানোর চেষ্টা আমাদের করা উচিত কিনা।”

শিয়া বুঝতে পারলো আকাশের কথার মানে।বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠলো তার।কেনো হচ্ছে আজও এমন।সে তো সরে এসেছিলো বহু আগে,বুঝিয়েছিলো নিজের মনকে,সব মায়া মোহ ত্যাগ করেছিলো,তাহলে আজ এমন হচ্ছে কেনো।
হবে নাই বা কেনো!সে নিজেও তো থমকে আছে ওই দিনটায়,থেমে গেছে তার সময়,সবকিছু। ভালোবাসা এতো সহজে ভোলা যায়..!?যায়না তো।

চলবে ইনশাআল্লাহ….

[আপনাদের রেসপন্স পাচ্ছি না মনমতো।মন খারাপ হয়তো আমার 🙂 ফেসবুকে অঢেল অঢেল গল্প দেখি,সব চ্যাটজিপিটি দিয়ে লেখা।স্পষ্ট টের পাওয়া যায়।কিছু গল্পে শুধু অশ্লীলতা,বাকিগুলোতেও না আছে কোনো সাজানো গোছানো কথা না আছে কিছু। আমি নিজেও হয়তো লিখতে জানিনা সুন্দর মতো।তবে নিজ থেকে যতটুকু চেষ্টা করা যায় আরকি। তবে সেসব গল্প আমার কাছে পড়ার যোগ্য মনে হয়না।অথচ সেগুলো তে হাজার হাজার লাইক,কমেন্ট,তাদের পেজের হাজার হাজার ফলেয়ার।আমি দারুণ অবাক হই।সত্যি বলছি।আমি ভেবে পাইনা মানুষ কেন আগ্রহে সেগুলে পরে।বা তারাই কেমন লেখিকা যারা সত্যি কারের লেখালেখি, সাহিত্য, সত্যিকারের লেখক দের সম্মান দিতে জানেনা,চ্যাটজিপিটি দিয়ে লেখেন। রেসপন্স না করলে সংক্ষিপ্ত করে ফেলবো পর্ব যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। অনুপ্রেরণা না পেলে খারাপ লাগে বইকি,তার থেকেও খারাপ লাগে ওই ধরনের লেখালেখির, লেখকের এতো হাইপ দেখে। ]🌼🦋

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here