আকাশপ্রিয়া #পর্ব_১৯

0
37

#আকাশপ্রিয়া
#পর্ব_১৯
#dur_dilshad_dua_দুর_এ_দিলশাদ_দুআ

[🚫কপি করা নিষেধ ]

আবহাওয়া কেমন গুম ধরে আছে যেনো।থেমে থেমে কিছুক্ষণ পর পর ঝিরিঝিরি বৃষ্টি নামছে ধরনীর বুকে।কালো মেঘে ঢাকা আকাশের দিকে চোখ রাখলে যতটা মন খারাপ হয়,প্রকৃতির সবুজের ওপর জ্বলজ্বল করা পানির বিন্দুকনা ততটাই মন ভালো করে দেয়।বিগত মাসখানেকের বেশি সময় ধরে রোদ বৃষ্টির এই লুকোচুরি খেলা নতুন কিছু নয়।

রেস্তোরাঁর সুন্দর সাজানো লবিতে ভিআইপি টেবিলে বসে আছে তিনজন মানুষ। একজন সেই তখন থেকে গুমোট মেঘের ভেসে যাওয়ায় চোখ রেখে আছে।আকাশ,রাতুল সময় দিচ্ছে শিয়াকে।সামলে নিক নিজেকে খানিকটা,ধীরে সুস্থে বলুক।
শিয়া সোজা হয়ে বসলো।মাথা নিচু করে একহাতে কয়েকবার নিজের কফির কাপ টা ঘোরালো।একপর্যায়ে দৃষ্টি তুললো আকাশের দিকে।সেকেন্ড খানেক স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো।আকাশ এর বুঝতে সময় লাগলো না মেয়েটা কিভাবে এতোবছর পর সবটা শুরু করবে গুছিয়ে উঠতে পারছে নয় বোধহয়।
রাতুল এর চিন্তাভাবনা বোধহয় হচ্ছে না।সে নিজমনে তার থাই স্যুপ,অনথন শেষ করে পুনরায় আবার ফ্রাইড রাইস,চিলি চিকেন সাটাচ্ছে।
বারকয়েক মাথা তুলে একবার শিয়া,আরেকবার আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলো রাতুল।দু’জনেই যেনো কথা না বলার প্রতিযোগিতায় নেমেছে।আকাশটা সেই কখন থেকে ব্ল্যাক কফি তে চুমুক দিচ্ছে,তিন কাপ শেষ করলো।
রাতুল চোখ মুখ কুচকে বাঁকা করে নেয়।ব্ল্যাক কফি তিন কাপ খাওয়ার জিনিস!ছ্যাহ্। তাকে হাজার খানেক টাকা হাতে ধরিয়ে দিলেও তো সে গিলতে পারবে না, সম্ভবই নয়।তবে বাজেট বারালে অন্য কথা।আর ওদিকে শিয়া।সে তো তার খালি কাপ নিয়ে সেই যে শূন্যে চোখ রেখেছে দেখে তো মনে হচ্ছে এভাবেই সে গোটা জীবন পারি দিতো সক্ষম। শিয়া আবার নড়চড়ে উঠতেই রাতুল মাথা নামিয়ে খাওয়ায় মন দিলো।

শিয়া সামান্য কেশে এবার গলা পরিষ্কার করে এবার তীক্ষ্ণ চোখে তাকালো আকাশের চোখে।আকাশ নিজেও একই দৃষ্টি তে তাকিয়ে আছে।
“আগে তো অন্যরকম ছিলে,প্রেম ভালোবাসায় আগ্রহী ছিলে না।এখন তো সময় পালটেছে। ভালোটালো বাসো কাউকে? প্রেম এসেছে জীবনে?”

শিয়ার কাছ থেকে প্রথমেই এই কথাটা বোধহয় আশা করেনি আকাশ।খানিক চমকে গেলো।শিয়া কি বলতে চাইছে বোঝার চেষ্টা করে নিলো সামান্য।মাথা নাড়লো,
“জানিনা এখনো।”। আকাশের উত্তরে শিয়া সামান্য হাসলো।”
“নিজের ভালোবাসা বুঝতে পারো না এমনটা হয় নাকি?নাকি আমাকে বলতে সমস্যা।! ”
আকাশ নিজেও খানিক হাসির ছাপ আনলো চোখেমুখে। শিয়াকে বলতে সমস্যা তার কোনোকালেই থাকার কথা না।মেয়েটা তার ভাইয়ের প্রেমিকা পরে হয়েছে,তার আগে মেয়েটা তার বোন,তার বেস্ট ফ্রেন্ড। সমবয়সী কোনো অচেনা একটা ব্যাচমেট যে তার এতো ভালো বন্ধু হবে,সাথে বোনের মতো হয়ে যাবে ছ,সাত বছর আগে এটা আকাশ কল্পনাও করেনি।কিন্তু সেটাই হয়েছিলো।সে নিজে চেয়েছিলো তার এই বোনটা তার ভাবি হয়ে তাদের সংসার এ আসুক।তার ভাই নিজেও লাখে একটা,এই লক্ষী মেয়েকে বোন থেকে ভাইয়ের বউ বানাতে পারলে বেশ হয়।
“তোমাকে বলতে সমস্যা নয়। সমস্যা টা পরিস্থিতির। এখন আমার বিষয়টা নিয়ে আলাপ করার সময় আসেনি।আসলে বোধহয় আজও তোমাকেই লাগবে সাহায্যের জন্য।”

শিয়া সন্তুষ্ট দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো।আকাশ এবার গলা গম্ভীর করলো খানিকটা।”এবার আমি সবটা জানতে চাই।”

শিয়ার চোখমুখ পুনরায় কালো হয়ে গেলো।হেলান দিলো চেয়ারে।
“আকাশ তোমার ভাইকে ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত আমার। এবং ব্যাক্তিগত।বিচ্ছেদের পর তিক্ততা আমি বাড়াতে চাইনি।এটা নিয়ে আর দশজন কথা বলুক সেটা তো আরও চাইনি।”

“সেটা আলাদা বিষয়,আমি তোমার বা ভাইয়ার কারোরই আর দশ জনের লিস্টে পরি বলে আমি মনে করি না।”
শিয়া মাথা নিচু করলো,স্থির দৃষ্টিতে তাকালো শূন্য কাপের দিকে।
“নাহ পরো না।আর পরো না বলেই কারণ টা আমি আর ও জানাতে চাচ্ছি না।বিশেষত তোমাকেই।”

আকাশ ভ্রু কুচকে রইলো।স্বাভাবিক গলায় অথচ প্রচন্ড অধিকারববোধ নিয়ে বললো,
“কিছু একটা তো অধিকার আমার আছে তোমার কাছে।তোমার মনে পরে কি না।ভাইয়ের অধিকার দিয়েছিলে আমাকে।লাবন্যকে আমি যে নজরে দেখি,তোমাকেও একই নজরে দেখি আমি।আর কিছু অধিকার দিয়ে কেড়ে নেওয়া যায়না বোধহয়।আমি সেই অধিকার এর দাবিতে জিজ্ঞেস করছি।তোমার ভাই হিসেবে তোমার কষ্টের কথা আমি জানতে চাইছি।বলো”

আকাশ এর মুখে এতদিন পর বোন ডাক শুনে এবার চোখে পানি জমলো শিয়ার।এতবছরের চাপা দেওয়া আগুনের দহন, কথার বোঝা বুকের ভিতরটা পুড়িয়ে ছাই করে দিতে চাচ্ছে।টপটপ করে কয়েক ফোঁটা পানি পরলো টেবিলে।আকাশ, রাতুল কারোরই নজর এড়ালো না।রাতুল নিজেও এখন সিরিয়াস হয়ে অপেক্ষা করছে বাকিটা শোনার।আকাশ একটা ট্যিসু বের করো হাতে গুঁজে দিলো শিয়ার।শিয়া চোখমুখ মুছলো।চোখ তুললো,চোখটা অস্বাভাবিক লাল হয়ে গেছে নিমিষেই,
“সে আমাকে ভালোবাসেনি আকাশ।তোমার ভাই আমাকে ভালোবাসেনি।আমাকে সে তার নোংরা মনমানসিকতার শিকার বানিয়েছে। বন্ধুদের সাথে বাজিতে আমাকে জিততে চেয়েছিলো। আর এই বাজির প্রধান শর্ত কি ছিলো জানো?আমি তার ভালোবাসায় ধরা দিলে প্রথম রাত টা তার বন্ধু রা আমাকে পাবে।তার আট জন বন্ধু। বুঝতে পারছো আমি কি বলছি?আমি কিন্তু কোনো বাজারের মেয়ে নই,একদম নই।অযাচিত পুরুষের স্পর্শ আমার শরীরে নেই।কিন্তু সেদিন,সেদিন এর পর আমাকে হয়তো বাজারের মেয়ে বলা হতো।আমার স্থান কোথায় হতো বলোতো?জানো? গিয়েছো কখনো?তোমার ভাই কিন্তু যায়।পতিতালয়…। হ্যা তাহলে?এরপর আমার থেকে আর কি শুনতে চাও।তাকে ভালোবাসি কিনা?বাসি হয়তো,এটা আমার জীবনের সবথেকে বড় পাপ, তবুও বাসি।আজও বাসি।আমি শুরুর সেই অয়নকে ভালোবাসি।কিন্তু, কিন্তু শেষের জনকে…নাহ্। ঘৃনার মাত্রা এতো বেশি যে ভালোবাসাটা দেওয়ার আর জায়গা নেই।সম্ভবই নয়।”
একদমে কথা গুলো বলে থামলো শিয়া।দু হাতে মুখ চেপে ফুপিয়ে কেঁদে উঠলো।

আকাশ আর রাতুল এক মূহুর্ত স্তম্ভিত হয়ে গেলো।বিস্ময়ে হতবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো শিয়ার দিকে।রাতুল সবে খাবার মুখে তুলছিলো,চামচ টা হাত থেকে পরে টুংটাং শব্দ করে উঠলো।কারোর হুশ নেই কোনদিকে।

শিয়া বেশকিছুক্ষন সময় নিয়ে স্বাভাবিক হলে,চোখের পানি মুছে আবার তাকালো আকাশের দিকে।আকাশ নির্বিকার হয়ে তাকিয়ে আছে।
“তোমার ভাইকে আমি অসম্ভব ভালোবাসতাম আকাশ, অসম্ভব। ওইদিন আর কয়েক সেকেন্ড এর হেরফের এ আমার অবস্থা কি হতো তোমার আন্দাজও নেই হয়তো।আমি করতে পারি আন্দাজ।কারণ আমি সেই মূহুর্তের ভিকটিম।আর একজন আছে,সাক্ষী… না না ভুল বললাম,সাক্ষী নয় সেও ভিকটিম।কে জানো?”
আকাশ কোনো কথাই বললো না।অসহায় জিজ্ঞাসু চোখে তাকিয়ে রইলো শিয়ার বলার অপেক্ষায়। শিয়া একহাতে চোখের পানি মুছে নিলো।
“প্রিয়া। আমার ছোট বোন।”

এবার যেনো চমকানোর ষোল কলা পূর্ন হলো।রাতুল তাকালো ফট করে আকাশের দিকে।আকাশ এর চোখ লাল হয়ে গেছে।রাগে নাকি অসহায়ত্বে বোঝা যাচ্ছে না।
এবার শিয়াই উত্তরের আশা বসে রইলো না।
“হ্যা।সেদিন আমাদের অ্যানিভারসারির আয়োজন এ যাচ্ছিলাম আমরা।তার আগের রাতেই বাবা মা কে জানিয়েছিলাম তোমার ভাইয়ের কথা।আমার বাাব মা দ্বিমত করেননি।ভাবতে পারো?তখন আমি সবে কুড়ি বছরের এক কিশোরী। সে বয়সের একটা মেয়ের সিদ্ধান্তে বাবা মা মানা করেননা।কতটা ভরসা থাকলে সেটা করা যায়।আমার বাবা মাও ভরসা করতেন আমাকে।পরের দিন রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় আমাদের দু বোনকে। এক পর্যায়ে সামনে আসে এই কঠিন সত্যি। সেসময় আমার বোনটার কতই বা বয়স। বারেো বছরের একটা বাচ্চা মেয়ে।ওকে অবধি ছাড়েনি ওরা।সর্বনাশ হয়ে যেতো যদি না সেদিন আমার বাবা আর তার বন্ধু নিয়াজ আংকেল সেদিন আমাদের না বাচাতেন।আমার বোনটা, আমি…আল্লাহ। ভাবতে পারিনা আমি ওইদিন এর কথা আকাশ।জাস্ট ভাবতে পারিনা।”

আর কথা বলতে পারলো না শিয়া।আবার হু হু করে কেঁদে ফেললো।আকাশ এর গা হাত পা ছেড়ে দিচ্ছে।নাহ তার ভাই এসব করেছে বলে নয়,শিয়া প্রিয়ার সাথে কি কি হতে পারতো।তার প্রাণপাখিটার সাথে ওইটুকু বয়সে।কতটা মানসিক ট্রমা।আকাশ কিচ্ছু ভাবতে পারছে না আর।নিজেকে অসহায় লাগছে তার।
শিয়া কান্না আটকে ধীরে গলায় ফুপিয়ে বললো,
“আমাকে তারপর আর কি করতে বলতে তোমরা?আমার তোমার ভাইয়ের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া রুচি টাও হয়নি।তখন জাস্ট হারিয়ে যেতে ইচ্ছে হয়েছিলো।বাবা মার সামনে মুখ দেখাতে ঘিন্না লাগতো আমার।আমার সিদ্ধান্তের জন্য আমসর বোনটার যদি…”

আকাশ হাত তুলে থামিয়ে দেয় শিয়াকে।শুনতে পারছে না এসব সে।রাতুল মাথা নিচু করে বসে আছে।
আকাশ কিছুক্ষন সময় নিলো।জোরে শ্বাস নিশে নিজেকে স্থির করলো খানিকটা।তারপর নির্বিকার গলায় বললো,
” আমি যদি বলি ভাইয়া এসবের মধ্যে ছিলো এটা সত্যি নয়…”
শিয়া এবার তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে উঠলো।
“জানতাম এটাই বলবে।তার জন্যই তোমাকেও না জানিয়ে হারিয়ে গেছিলাম আকাশ।তোমার দোষ নেই।অয়ন তোমার ভাই।”
“তুমিও আমার বোন আর প্রিয়া…”
থেমে গেলো আকাশ।কি বলে দিতে যাচ্ছিলো সে!
“তুমি আমার বোন শিয়া।এটায় কোনো মিথ্যে নেই।তবে আমি যা বলছি সেটাই সত্যি। ”
শিয়া দৃঢ় গলায় বলে,”আমি দেখেছি অয়নের বিরুদ্ধে সব।”
আকাশ মাথা নাড়ে। “সবসময় যেটা দেখা যায় সেটা তো নাও সত্যি হতে পারে শিয়া।সত্য কখনো কখনো পরিস্থিতিতে পরে মিথ্যা বলে হয়, আবা কখনো মিথ্যাকে সত্যি। ”
“আমি তোমার দিকটা বুঝতে পারছি। কিন্তু মানতে কষ্ট হলেও এটাই সত্যি আকাশ।”

“মানতে কষ্ট নয় শিয়া।সত্যি টা তুমি ভুলভাবে জেনেছো।আর এটা যে ভুল সেটা তোমার অবচেতন মন ও জানে।সেও মানতে পারেনি তুমি যেটা বিশ্বাস করে নিয়েছো।আর তার জন্যই আজও তুমি ভাইয়াকে ভালোবাসো।সেদিন কি হয়েছিলো পুরোটা জানলে তুমি নিজেকে দোষ দেবে, গিলটি ফিল করবে এতগুলো বছর এভাবে পার করার দায়ে।সেদিন… ”
শিয়া উঠে দাড়ায়।চোখমুখ কঠোর হয়ে আছে।কঠোর গলাতে বললো,
” প্লিজ আকাশ।তুমি অন্তত এভাবে তোমার ভাইকে ডিফেন্ড করো না।আমার বিশ্বাস ভেঙে যাবে তোমার প্রতি। ”
শিয়া ব্যাগ হাতে উঠে গেলো।একমুহূর্ত তাকালো আকাশের দিকে।
“আমি আসছি।আশা করবো পুরানো ক্ষত আর বাড়াবে না প্লিজ।বোনকে এতটুকু রহম করো।আমি কিচ্ছু শুনতে চাচ্ছি না।”
আকাশের এবার মুখ শক্ত হয়ে গেলো।চোখ লাল টকটক করছে।রাতুল এবারের মুখের ধরণ বুঝতে পারছে।সত্যি টা শিয়া কে বোঝাতে না পারার রাগ,আক্ষেপ এটা হয়তো।
“বেশ।আজকেও তুমি শুনলে না সবটা।সেদিন কি ঘটেছিলেো।একই ভুল রিপিট করলে আজও।অপর দিকটার কৈফিয়ত শুনলে না।ভালোবাসার মানুষ কে একটা বার সামনে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করতে পারতে।পালিয়ে বাচা সমাধান নয়।ভালোবাসার মানুষ এর থেকে বেশি বিশ্বাস করলে কিছু বখাটে ছেলেদের কথায়?তাদের কথার দাম এতো বেশি?মানলাম সেদিন একটা বাজে সিচুয়েশনে পরে গেছিলো।ট্রমাতে তোমার চিন্তাভাবনা এমন হওয়া স্বাভাবিক। তাই বলে এই ছয় বছরে কি একবারও মনে হলো না যে মানুষ কে ভরসা করেছিলে,ভালোবেসেছিলে তার দ্বারা ওই জঘন্য কাজটা করা সম্ভব নয়?ঠিক আছে।ভুলটা আমরও ছিলো।তোমাকে বোঝাতে আশা।মানা না মানা পরের কথা।কথাটা শুনতে হয় অন্তত।আমি আর তোমাকে বোঝাবো না।কেউ বোঝাবো না।আমি এবার আমার ভাইকে বোঝাবো।তোমাকে ভুলে যেতে।যেখানে ভরসা নেই,বিশ্বাস নেই সেই সম্পর্ক আকড়ে থাকার মানেই হয়না।তবে শিয়া আবার বলছি তোমাকে আমি দোষ দিলাম না।পরিস্থিতির দোষ দিয়ে তোমাকে আজ থেকে এই সবকিছু থেকে মুক্তি দিলাম।আমার ভাই ও নেবে কথা দিলাম।তুমি আমার বোন, বোনই থাকবে।তবে আমি ভাইয়ের অধিকার আর দেখাবো না।সে অধিকার আমার নেই,সেটা আমি রিয়েলাইজ করেছি।অ্যাম সরি ফর এভরিথিং। যাওয়ার আগে একটা কথা শুনে রাখো আমি নিজপ, রাতুল আরও অনেক প্রমান ছিলো আমরা ভাই নির্দোষ। তবে এতকিছুর পর দোয়া রাখি তোমার ধারণা না ভাঙ্গুক,যেহেতু তুমি চাওনা।কারণ যতদিনে হয়তো সত্যি টা শুনবে ততদিনে হয়তো অনেকটা দেরি হয়ে যাবে।আসি। ভালো থাকো।”

একটানে কঠিন গলায় সবটা বলে এক সেকেন্ড দারালো না আকাশ।শিয়া ধপ করে বসে পরলো চেয়ারে।চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে হচ্ছে তার।সবটা শোনা উচিত ছিলো কি?আকাশ এতো কনফিডেন্সে কিভাবে বললো।সত্যি তো সেদিন এর ঘটনা তো তাকে তার আপনজন কেউ বলেনি।যারা বলেছিলো তারা সত্যি বলেছিলো,সত্যি দেখিয়েছিলো তার কি নিশ্চয়তা। কেনো শোনেনি সে অয়নের কথা,আর আজ কেনো শুনলো না আকাশ এর কথা।ভুল করলো কি সে?কিচ্ছু ভাবতে পারছে না এই মূহুর্তে শিয়া।বুক ফেটে যাচ্ছে কষ্টে।রাতুল এতক্ষণ রোবটের মতো বসে ছিলো।এখানে তা রকথা বলা সাজেনা।উঠে দারালো।শিয়া টেবিলে মুখ গুজে ফোপাঁচ্ছে।আলতো হাত রাখলো শিয়ার মাথায়।
“তোকে আগেও বলেছিলাম,শেষ টা হয়তো অন্যরকম।থ্রিলার সিনেমা গুলোতে যেমন শেষটায় চমকে যেতে হয়।জীবনও অনেকটা তেমন।কেজানে শেষে হয়তো দেখতি পুরো সিনেমায় তোর চিন্তাভাবনাই ভুল ছিলো।মূল টুইস্ট অন্যকিছু।সিদ্ধান্তের আগে হাজার বার ভাবতে হয় শিয়া।সিনেমার শেষ অবধি অপেক্ষা করতে হয়,মাঝপথে ছেড়ে দেওয়া সমাধান হতে পারে না।যতই কঠিন পরিস্থিতি আসুক সামনে থেকে মোকাবেলা করতে হয়,সমস্যার সাথে বোঝাপড়া করতে হয়,তারপর ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত। অয়ন ভাই এমন করতে পারে ভাবলি কিভাবে তুই?যাকগে আসি কেমন?আকাশটা রেগে গেলে ড্রাইভ করতে পারেনা।আবার উল্টাপাল্টা হয়ে গেলে বিপদ।সামলা নিজেকে। আর ওইযে বললাম ধীরে সু্স্থে সিদ্ধান্ত নে।”

রাতুল দ্রুত পায়ে বেড়িয়ে আসলো আকাশ এর খোঁজে।গাড়িটা দেখতে পেয়ে হাফ ছাড়লো সে।ড্রাইভিং সিটে বসলো।আকাশ মাথা এলিয়ে বসে আছে সামনের সিটে।রাগ নিয়ন্ত্রণ করছে হয়তো।শিয়া ব্যাগ হাতে বেড়িয়ে এলো রেস্তোরাঁ থেকে।বাইরে আবহাওয়া টা আজকে তার মনটার মতেোই অন্ধকার।যেকোনো সময় কেঁদে কেটে ভাসাবে…মাথা ঘোরাচ্ছে তার।কটেজে ফিরে যাওয়া দরকার…

চলবে ইনশাআল্লাহ ❤️🌼(চলতে দিলে আরকি)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here