#আকাশপ্রিয়া
#পর্ব_২০ (পর্বটা এট্টু এট্টু রোমান্টিক। প্রেমে পরার মূহুর্তের ব্যাপারই আলাদা 🥹)
#dure_dilshad_dua_দুর_এ_দিলশাদ_দুআ
[🚫কপি করা নিষেধ ]
“বলিস কিইইই,প্রেম?তুই?কবে?”
রিমির চিৎকার এ কানে তালা লাগার দশা প্রিয়ার। দু হাতে কান ধরে বসে রইলো।মেয়েটা এতো জোরে চিৎকারের কারণ প্রিয়ার এতক্ষণের কথাবার্তা। আকাশ বেড়িয়ে যাওয়ার পরপরই সে এসেছে রিমির বাসায়।শিয়া কে জানানোর জন্য কয়েকবার কল দিয়েও কলে পায়নি। এই মূহুর্তে দু বান্ধবী ছাদে পা ঝুলিয়ে বিষদ আলোচনায় ব্যাস্ত।আর আলোচনার বিষয়বস্তু আকাশ।এই মানুষ টাকে নিয়ে মহা সমস্যায় পরে গিছে প্রিয়া।রাতের ঘুম তো হারাম করেছেই,দিনের হুশও খুয়িয়ে বসছে সময় অসময়।
চৌদ্দ দিন পর পরীক্ষা, অথচ পড়ার টেবিল এ একদন্ড মন বসাতে পারছে না সে।বইয়ের অক্ষরগুলো নাচানাচি করে কেমন কেমন করে যেনো সব শব্দই আকাশের নাম হয়ে যায়।না খাবার গিলতে পারছে আর না স্থির হয়ে অন্য কিচ্ছু ভাবতে পারছে।আপুটা তার নানা বিষয়ে ব্যাস্ত,ইদানীং টেনশনেও থাকে কিছু একটা নিয়ে।তাকে বিরক্ত করে নি সে কারণে।বাধ্য হয়ে ছুটে এসেছে রিমির কাছে।এই একটা মেয়েই সব বিষয়ে তাকে সুবুদ্ধি, কুবুদ্ধি দেয় আরকি।
প্রিয়া কান থেকে হাত ছেড়ে অসহায় দৃষ্টিতে তাকালো রিমির দিকে।গাল ফুলিয়ে বললো,
“তাহলেই ভাব।আমাকে কখনো এসব নিয়ে চিন্তা করতে দেখেছিস?অথচ দেখ,আমার আজ এই দশা।”
রিমির চোখেমুখে ভয়াবহ চিন্তার ছাপ দেখা যাচ্ছে।প্রিয় বান্ধবীর বিষয়টা নিয়ে একটু বেশিই টেনশনে পরে গেছে বোধহয় মেয়েটা।প্রিয়স ঠোট ভিজিয়ে নিলো।উদাস গলায় বললো,
“আজ সকালের কথা বললাম না?তারপর গিয়ে দেখি আমার খাবারগুলো নেই।সব কে যেনো খেয়ে নিয়েছে।বাড়িতে ওইসময় আমি আর আকাশ ভাইয়া ছাড়া কেউ ছিলো না আর।”
প্রিয়ার মুখে আকাশ ভাইয়া শুনে হো হো করে হেসে উঠলো রিমি।
“ভাইয়া?নাকি সাইয়া সাইয়া” …
রিমির বলার ভঙ্গিতে মুখ বাকালো প্রিয়া।
“বাজে বকিস না।তো কি বলবো?আপুর ফ্রেন্ড। কম করে হলেও ৮-৯ বছর বছরের বড়।তাছাড়া ওরকম হ্যান্ডসাম পুরুষকে আংকেল নিশ্চয়ই বলতে পারিনা।”
রিমি শব্দ করে হেসেই যাচ্ছে।গড়িয়ে পরছে প্রিয়ার কোলের ওপর।চোখে পানি এসে গেছে।চোখ মুছে জোরে শ্বাস নিলো।হাসি থামানোর প্রচেষ্টা করে যাচ্ছে মেয়েটা।
“খাবার কে খাবে!আকাশ ভাইয়া?”
প্রিয়া মুখের ওপর মাছি তাড়ানোর মতো হাত নাড়লো।
“ধুর পাগল নাকি!আমার খাবার সে খাবে কেনো।বিড়াল হয়তো।”
“তোর বাসায় বিড়াল আসে না বললি তো তখন।তাছাড়া বিড়াল অতো সুন্দর করে ব্রেড খাবে?জ্যাম খাবে?গ্লাসে করে জুস খাবে?”
প্রিয়া নিজেও কথাটা ভেবেছে।আকাশ খেয়েছে!ভুলে নাকি?নাকি তাড়াহুড়ায়। আকাশ চলে যাওয়ার পর খাবার খেতে নিচে আসার পর নিজের খাবার গুলো না দেখে প্রথমে বিড়াল এর কথা মাথায় আসলেও রিমির মতো সবদিক ভেবে তারো আকাশ এর কথাই মনে হয়েছিলো।ধুর কিসব ভাবছে সে।এটা সম্ভব.!যা তা ভাবছে সে।নিজেই কি এক ঘোরে আছে।আবার চোখেমুখ অসহায় করে তাকালো রিমির দিকে।ঠোট উল্টালো।
“বল না। কি হচ্ছে এসব।আমার এমন লাগে কেনো।”
রিমি বিজ্ঞের মতো মাথা ঝাকালো।দু হাত আড়াআড়ি ভাজ করলো বুকের ওপর।ঘাড় ঘুরিয়ে চোখ ছোট করে তাকালো প্রিয়ার দিকে।
“আই থিং ইউ আর ইন লাভ।ডিপলি ইণ লাভ মেরা জানেমান.”
প্রিয়া হা হয়ে গেলো।কি বলছে এ মেয়ে আবার।তার মাথাটা আরও এলোমেলো করে দিচ্ছে।সে উল্টাপাল্টা ভাবছিলো বলে এসেছিলো এই মেয়ের কাছে,ভেবেছিলো এ মেয়ে বলবে তার চিন্তাভাবনা ভুল।তা নয়।উল্টো বজ্জাত মেয়েটা আর হাতুড়ি দিয়ে মাথায় গেঁথে দিচ্ছে সে যেটা ভাবছে সেটাই ঠিক।
জোরে জোরে মাথা ডানে বায়ে মাথা নাড়লো প্রিয়া।
“অসম্ভব। জাস্ট অসম্ভব। কিসব বলছিস!এসব কিচ্ছু না।অমন হ্যান্ডসাম ছেলে আগে দেখেনি।তাই এমন হচ্ছে। ফিল্মে দেখে আগে তুই আর আমি হ্যালুসিনেট করতাম না?এখন সামনে পরায় অমন লাগছে।”
রিমি হেসে ফেললো।মেয়েটা কিছুতেই মানতে চাচ্ছে না।সে অলরেডি ফেসে গেছে।পুরো ফেঁসে গেছে।আগে এমন হয়নি কখনো তাই আন্দাজও করতে পারছে না।অথচ অনেক আগেই মনপাখিটা ওই মানুষ এর খাঁচায় বন্দি হয়ে গেছে।”
বা হাতে প্রিয়ার ঘাড়ের ওপর দিয়ে হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরলো। মাথা হেলিয়ে মাথা ঠেকালো প্রিয়ার মাথায়।
“তুই অনেক লক্ষ্মী একট মেয়ে প্রিয়া।এসবে তোর এক্সপেরিয়েন্স কম,প্লাস আন্দাজও কম।সারাজীবন পড়াশোনায় মাথা দিয়ে রাখলে হুট করে কাউকে মন দিয়ে বসলে বুঝতে সমস্যা হবেই।অস্বাভাবিক নয়।”
রিমি আজ দারুণ বিজ্ঞের মতো কথা বলছে।আড়চোখে তাকালো রিমির দিকে।
“তুই ক্লাস সেভেন এ এক মুদিখানার দোকানির সাথে তেরো দিনের প্রেম করেছিলি।তাই এতে অভিজ্ঞতা হয়ে গেছে!”
রিমি মুখ বাকায়।ইশশ ছোটবেলার সেই গাধার মতো করা কাজটার কথা মনে করিয়ে লজ্জা দেওয়ার মানে হয়!অথচ প্রিয়া টা সবসময় এটা করে।
প্রিয়া কে ছেড়ে সোজা হয়ে বসে চানাচুর এর বাটি থেকে একমুঠ চানাচুর ঠেলে দিলো প্রিয়ার মুখে।
“চুপ কর তো।ওটা তো তখন অল্প বয়সে পাকার ফল।লজ্জা দিস না।আমার এখন একটা ক্লাস আছে।”
প্রিয়া হো হো করে হেসে উঠলো।রিমিটাকে এই একটা কথায় দারুণ ইমব্যারেসড্ করা যায়।
“ভুল কি বললাম।ওই তেরো দিনের অভিজ্ঞতা থেকে এতো বয়ান ছাড়িস তাই তো?”
রিমি তাকালো না প্রিয়া র দিকে।নিজেও মুখে পুরলো একটা বিস্কিট। চিবুতে চিবুতেই বললো”
“ওসব কিছু না।আশেপাশে নজর দিয়ে চলতে হয় বুঝলি,সিনিয়র,ব্যাচমেট দের কাহিনি দেখতে হয়।সিম্পল।”
“হয়েছে.।এখন বল কি করবো।আমার কিচ্ছু ভালো ালগেনা।মন বসে না পড়ায়।”
“মন টা বেঁধে রাখ।ভুলেও আগে প্রকাশ করবি না।তোর মতো পরীর মতো মেয়ে আগে অ্যাপরোচ করলে দাম বেড়ে যাবে।”
“সেও তো রাজপুত্রের মতোই।”
রিমি বিরক্ত প্রকাশ করে,”গাধা তুই একটা।হোক সে রাজপুত্র। তো? তুই তো রাজকন্যা। এটা বুঝিস না!ও পুরুষ মানুষ। ও আগে প্রকাশ করলে তাহলে ব্যাপার টা জমবে।না হলে পুরুষ মানুষ তো স্বভাব একরকম সবার।তোকে চাপের ওপরই রাখবে একবার টের পেলে।”
প্রিয়া বোঝার ভঙ্গিতে মাথা নাড়লে।ভুল বলেনি।সে কেনো আগে প্রকাশ করবে!তাছাড়া ওই অসভ্য লোকটাই তো আগে আগে গায়ে পরে কেমন কেমন ভাব ভঙ্গি করে।তারও মনে কিছু আছে, নাকি,বাচ্চা মেয়ে ভেবে মজা নেয় সেটাও তো দেখতে হবে।নিজের মনে যাই থাকুক।ওই লোকটা আগ বাড়িয়ে না এগোলে সে এক পা ও আগাবে না।শেষ কথা।
***
আকাশ কপাল চেপে ধরে আছে।মাথাটা দপদপ করছে যেনো।রাতুল নিজেও সাহস করে কিছু বলতে পারছে না আকাশকে।আকাশ হাত বাড়িয়ে পানির বোতল টা নিলো।ঢকঢক করে অর্ধেক বোতল পানি শেষ করে কপাল কুচকে সামনে তাকিয়েই বললো,
“ভেবেছিলাম আজকে ওদের প্রবলেম টা সলভ করে দিতে পারবো।ওরা দু’জনেই বিষয়টা এতেটা তিক্ততার পর্যায়ে নিয়ে গেছে,এটা কোনো থার্ড পারসন সমাধান করতে পারবে না যদিনা ওরা নিজেরা চায়।”
রাতুলও কথাটা ভেবেছে।সায় জানায় সাথে সাথে আকাশের সাথে।
“কিন্তু ওদের যে অবস্থা ওডা নিজেরা নিজেরা মেটাবে না আকাশ।”
“সেটাউ তো সমস্যা। একট াকাজ করতে হবে এখন।”
রাতুল প্রশ্ন চোখে তাকায় আকাশের দিকে।”
আকাশ স্থির দৃষ্টিতে তাকায় একবার ওর দিকে।গম্ভীর গলায় বলে,”ওদের সেই সিচুয়েশনে ফেলতে হবে।যাতে এটা নিয়ে ওদের বোঝাপড়া করা ছাড়া কোনো পথই ফাঁকা না থাকে।ভালো তো দুজনেই বাসে।দু’জনেই কষ্ট পাচ্ছে।দুজনেরই দোষ নেই।এরা যে আলাদা আলাদা জীবন সাজাতে পারবেনা সেটা ওরা নিজেরাও জানে।অথচ দেখ জেদ ধরে আছে।”
“তো কি করবি এখন।”
আকাশ বাঁকা হাসলো।হাতে সময় দেখেনিলো একবার।”দেখ কি করি।,দেখতেই পাবি।”
রাতুল আর কথা বাড়ায় না।আর জবাব পাওয়া যাবে না এটা সে জানে।”
***
“কেনো যে তোকে পাহারা পাহারা দিলো মন
কেনো যে এতো সাহারা সাহারা সারা দিন
কেনো যে তোকে পায়না পায়না মনে হয়…
সামনের মানুষ টাকে দেখে গান গাওয়াথেমে গে্লো প্রিয়ার।আজ তার চমকানোর দিন বোধহয়। রিমির বাসা থেকে চলে এসেছে।গাড়ি থেকে নেমে নেচে-কুঁদে হেলেদুলে কটেজের দিকে আসছিলো সে।এসময় কেউ থাকে না কটেজে।সে ছাড়া সম্পূর্ণ ফাঁকা থাকে।অথচ আজকে গেটের সামনে দাড়িয়ে আছে একজন মানুষ। সামনের মানুষ টাও প্রিয়াকে দেখে বোধহয় ভূত দেখার মতোই চমকেছে।হা হয়ে গেছে একপ্রকার। প্রিয়া নিজেও এগোবে কি না বুঝতে পারছে না। ওভাবে নেচে-কুঁদে আসছিলো, লোকটা বোধহয় দেখে ফেলেছিলো।ইশশ কি লজ্জা।এতো বড় ঢিঙ্গি মেয়ে নাচতে নাচতে আসছে।প্রিয়া সামলে নেয় নিজেকে। ধীরে সু্স্থে এগিয়ে যায় গেটের দিকে।ব্যাগ হাতড়ে চাবি বের করে।লোকটাও কয়েকপা এগিয়ে এসেছে প্রিয়ার দিকে।ছোট্ট একটা ট্রলি ব্যাগ পাশে রাখা।চোক শার্ট,কালো প্যান্ট।চোখের সানগ্লাস টা খুলে হাসিমুখে এগিয়ে এলো ওর দিকে।
” তুমি এখানে?”
প্রিয়া কি বলবে বুঝতে পারলো না।সে এখানে মানে কি!সেই তো এখানে থাকবে,এনার কাজ কি।
প্রিয়া সৌজন্যতার হাসি হাসলো।
“আপনি?”
“সেটা তো আমিও প্রশ্ন করতে পারি।তুমি এখানে?”
প্রিয়া অবাক গলায় বললে।আমি তো এখানেই থাকি।
রিয়ান এবার বড়বড় চোখ করে তাকিয়ে রইলো।
“এখানে মানে!কবে এসেছো?”
“গতমাস”
“মানে কি!কার সাথে উঠেছো!আই মিন এখানে তো সবাি আমাদের অফিসের। ”
“আমার বোনের নাম ইনসিয়া।”
রিয়ানের চোয়াল ঝুলে গুলো নিজের দিকে। একপ্রকার চিৎকার করে বললো,”শিয়ার বোন তুমি?এখানে থাকো।আমি দেখিনি কেনো তাহলে?”
লোকটার এতো আফসোস এর কারণ বুঝলো না প্রিয়া।এখানে আসার পর একই বাসায় থেকেও এক আকাশ আর রাতুল ছাড়া কারের সাথেই দেখা হয়নি ওর।
হাসার চেষ্টা করলো প্রিয়া সামান্য।
“আসলে পড়াশোনার চাপ তো।কারোর সাথেই আলাপ হয়নি এখানে আসার পর।”
“একই বাসায় থাকি।অথচ দেখো পুরো একটা মাস জানিইনা যে তুমি এ বাসায়।ভাবতেই পারি নি আমি।”
“ভেতরে যাবেন তো?
” উমম হ্যা।আমি কয়েকদিন এর জন্য একটু বাসায় গিয়েছিলাম।আজ এসেছি।চাবি নেই মেইন গেটের।”
প্রিয়া চাবি দিয়ে খুলে ভেতরে ঢুকলো।রিয়ান এর থেকে বিদায় নিয়ে রুমে চলে আসলো নিজের। লক করে দিলো দরজা।
রিয়ান দাড়িয়ে আছে নিজের দরজার সামনে।এই সারপ্রাইজ এর আশা ছিলো না তার।মেয়েটাকে সেদিন এর পর খুঁজেছে বহু জায়গায়।অথচ এ মেয়ে নাকি গত এক মাস হলো তারই দুই রুম পাশে বসবাস করছে।একই বাড়িতে।আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করলো সে।একগান হাসলো।তাকালো প্রিয়ার দরজার দিকে।
“এটা আল্লাহর ইশারা বোধহয় হুরপরী।এতোবার তোমার আমার দেখা নেহাৎ কো ইন্সিডেন্ট মানতে পারলাম না আমি।আর তোমাকে ছাড়ছি না, মন জয় করে, বউ করে নিয়ে যাবো তোমাকে।”
*****
ঘনঘন বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামলো বলে।সারাদিন এই নামি নামি করে এখন অবধি একটু ঝুম বৃষ্টি নামলো না।মানে হয় কোনো।আজ একটু বৃষ্টি তে ভিজতে বড্ড মন চাচ্ছে।বৃষ্টি তসর এমনিতেই প্রিয়,কতটা প্রিয় তা কেবল সেই জানে।জানালা খুলে দিলো।ঝাপটা বাতাস এসে লাগলেো চোখেমুখে।ঝিরিঝিরি বৃষ্টির ফোটা চোখমুখ ভিজিয়ে দিচ্ছে। আলাদা এক প্রশান্তি লাগছে।চুলগুলো আলতো হাতে খুলে দিলো।চোখ বন্ধ করে অনূভব করতে চাইলো বৃষ্টির ছোঁয়া। চোখ বন্ধের সাথে সাথে ভেসে উঠলো এক অত্যন্ত সুপুরুষ এর মুখ।প্রথমদিনের মতো সাদা শার্ট,বোতাম দুটো খোলা।লোমহীন বুকটা..আলতো চুমু খেতে ইচ্ছে করে ওর সেখানে।ইশশশ কি সব ভাবছে।দু হাতে লজ্জায় মুখ চেপে ধরলো সে।ধ্যাত কান দিয়ে গরম বাতাস বের হচ্ছে। নাহ্ অসভ্য লোকটা অসভ্যতামি করে ওর এই ছোট্ট হৃদয়ে ঝড় তুলে দিয়েছে।বাইরে যতটা না বৈরি আবহাওয়া তার থেকে দ্বিগুণ তো তার বুকের ভেতর টায়…
আচ্ছা সে একা একা আর কতদিন এভাবে অনূভুতি সাজাবে।ওই মানুষ টার মনে কি কখনো কিচ্ছু আসবে না ওর জন্য। প্রিয়া পিছিয়ে এসে গা এলিয়ে দেয় বিছানায়।কোলবালিশ খানা ঝাপটে ধরে বুকের সাথে। কেমন যেনো দহন হচ্ছে বুকের বা পাশ টায়।মন বলছে এটা থামানোর একমাত্র উপায় সেই মানুষ টার মাথাটা শক্ত করে এখানটায় চেপে ধরতে পারলে।তার অসভ্য পুরুষের যদি এই বুকে মাথা রাখে একটিবার সে অবস্থায় মরণও কবুল…চোখ বন্ধ করে মাথা গুজলো বালিশে।বুকের এ অসহ্য অনূভুতি কবে থামাবে মানুষ টা।আর কত প্রহর গুনতে হবে তার!
***
রাতুল কনস্ট্রাকশন সাইটে নামার পর আকাশ কটেজের দিকে গাড়ি ঘুরিয়েছে। মনটা অস্থির হয়ে আছে।,প্রিয়াকে দেখতে ইচ্ছে হচ্ছে। আকাশ নিজের ওপরউ বিরক্ত হয়।কি যে ঝামেলায় ফেসে গেছে এই মনটাকে নিয়ে।ভয়াবহ ভাবে ফেঁসেছে। না হলে আকাশ এহনাজ চৌধুরী কি না মন ভালো করতে ছুটে যাচ্ছে ওই বাচ্চা মেয়েটাকে দেখতে।মনে হচ্ছে মেয়েটাকে না দেখা অবধি মন শান্ত হবে না।আকাশ দীর্ঘশ্বাস ফেলে।কি লাভ গিয়ে।সেই তো এক নজর দেখা হবে।তাও হবে কি না সন্দেহ। ঝাপটে জড়িয়ে তো আর ধরতে পারবে না।এলো চুলে ঘুরঘুর করবে তার সামনে,অথচ সে চুলে মুখ ডোবাতে পারবে না,ঘনঘন ঠোট কামড়াবে অভ্যাসমাফিক।অথচ ওই ঠোট সে স্পর্শ করতে পারবে না।মেয়েটার শরীরের ঘ্রানে তার মাতাল মাতাল লাগবে। অথচ তার গলায় মুখি গুঁজে সে ঘ্রান সে টেনে নিতে পারবে না।
ইশশশ কি যন্থ্রনা এটা।মেয়েটা বড় কবে হবে। কোনো কিছুর বাধাই আর মানতে ইচ্ছে হচ্ছে না।মেয়েটার বয়স,ক্যারিয়ার,পড়াশোনা হাবজাবি একগাদা বাধা।তার সাথে মড়ার ওপর খাড়ার ঘা হিসেবে শিয়া -অয়নের ঝামেলা তো আছেই।শিয়ার সমস্যা সমাধান না হলে ছোট মেয়েকে যে কিছুতেই ওর কাছে দেবে না প্রিয়ার বাবা মা তা সে খুব ভালো করে জানে।না দেওয়াটাই স্বাভাবিক। প্রেমে এতো বাধা,এতো ঝামেলা পোহাতে হয়।না চাইতেও কিভাবে এই জঘন্য জিনিসে ফেসে গেলো,মেয়ে নামক ঝামেলাকর বস্তুুতে আটকে গেলো মাথাতেই আসছে না।
****
গাড়ি থেকে নেমে সোজা দোতলায় চলে আসলো আকাশ।প্রিয়ার রুম বরাবর এর মতো আটকা।এখন কি করবে সে!কতক্ষণ অপেক্ষা করবে।এ মেয়ে দিনের মধ্যে আর বের হবে বলে তো মনে হয় না।বেশ খানিকক্ষণ পায়চারি করলো করিডরে।সাড়া না পেয়ে নিজের রুমে ঢুকে গেলো সে।শার্ট টা টান দিয়ে খুলে ঢেল দিলো বিছানায়।অস্থির লাগছে।এ মন শান্ত হবে না মেয়েটাকে না দেখলে।
ঘড়িতে সময় দেখলো।দুপুর আড়াইটা।কপাল ঘসলো একহাতে।খেতে নামেনি নাকি মেয়েটা।নাকি ঘরেই নেই।
এদিকে পাশের রুমের দরজা খোলার শব্দ পেয়ে আলতো হাতে দরজা খুলে বেড়িয়ে এলো প্রিয়া।আকাশ এর দরজা খোলার শব্দ।এ লোক অসময়ে আজ আবার!কাহিনী কি।কি একটা মনে হলো তার।এগিয়ে এলো আকাশের ঘরের দিকে।লোকটাকে দেখতে ইচ্ছে হচ্ছে। কিন্তু কি বলবে।কেনো এসেছে।খানিকক্ষণ চিন্তা করলো।মনে পরলো এখন তো দুপুর,মাত্র এলো,খাবার নিশ্চয়ই খায়নি।এই উছিলায় যাওয়া যেতে পারে,জিজ্ঞেস করলে বলা যাবে খেতে ডাকতে এসেছে।
দরজায় ছোয়াতেই সটানে খুলে গেলো দরজা।প্রিয়া খানিকটা হতচকিত হলো।ভেতর থেকে আওয়াজ নেই কোনো।
“শুনছেন…”
ভিতর থেকে এবারও সাড়া পাওয়া গেলো না।প্রিয়া ভ্রু কুচকালো।রুম খোলা রেখে গেলো কোথায় মানুষ টা।।এক পা বাড়ালো ভিতরে ঢুকতে খানিক ইতস্তত করলো বোধহয়।ফিরে যেতে গিয়েও থেমে গেলো।ডাকলো আবার।উহু এবারও সারা নেই।চিন্তা হচ্ছে তো এবার।জড়তা কাটিয়ে ধীরে পায়ে ঢুকলো রুমে।রুম ফাঁকা।প্রিয়া চোখ বোলালো পুরো রুমে।দারুণ সাজানো গোছানো। টেবিল এর ওপর কাগজপত্রের ধীর পায়ে এগিয়ে গেলো বারান্দার দিকে।বারান্দাও ফাঁকা। গেলো কোথায়।ঘুরতে যাবে এমন সময় পিছন থেকে বিষ্ময়মাখা গলা শুনতে পাওয়া গেলো।
“তুমি আমার রুমে কেনো।”
প্রিয়া পিছন ফিরলো।এলোমেলো চুল গুলো কপালে ভিজে লেপটে পরে আছে।বাথরুম থেকে বের হলো।মুখ ভেজা,এখনো মোছা হয়নি।প্রিয়ার খুব ইচ্ছে করছে কোনো কিছু না ভেবে এগিয়ে গিয়া লোকটার কপাল থেকে আলতো হাতে চুলগুলো সরিয়ে মুখটা মুছে দিতে।।
আকাশ এগিয়ে এলো খানিকটা।এগিয়ে যেতেই প্রিয়া দু পা পিছিয়ে গেলো।চোখ পড়লো আকাশের দিকে।খালি গা।কি আজব।এ লোক তার সামনে আসে শুধু খালি গায়ে।পাগল করার তালে থাকে।প্রিয়া চোখ বড় বড় করে পিছাতে দেখে আকাশ বোধহয় আরও ঘোরে চলে গেলো। আরও একপা এগোতেই প্রিয়া হুড়মুড় করে পিছাতে গিয়ে ঠাস হয়ে পরলো বিছানায়…
ওভাবে বিছানায় পরে যেতে দেখে আকাশ বাঁকা হাসলো।খেয়াল হলো তার গায়ে শার্ট নেই।মেয়েটা হা করে তাকিয়ে আছে তার বুকের দিকে।ঢোক গিলছে বারবার।আকাশের বেশ লাগছে বিষয়টা দেখতে।প্রেয়সীর কামুক ভয়ার্ত দৃষ্টি।যেকোনো প্রেমিক মনে ঝড় তুলতে সক্ষম। এগিয়ে বিছানায় বা হাত ভর দিয়ে ঝুকলো প্রিয়ার ওপর।দুরত্ব বজায় রাখলো।নেশাক্ত গলায় ফিসফিসিয়ে বললো,”তা ম্যাডাম,এতদিন তো জানতাম আমার সামনে আসলে আপনার হাঁপানি, এ্যাজমা মাথাচারা দিয়ে ওঠে।কিন্তু আজকাল তো আপনার আবার মৃগী রোগের উপসর্গ দেখা দিয়েছে, কই তা তো বলেননি।তাও রোগ শোক যাই হোক মানলাম।পরলেন তো পরলেন একদম আকাশ এহনাজ চৌধুরীর বিছানায়?বাহ্ বুদ্ধি আছে তো।তা আমি কি ধরে নেবো
আপনি আমাকে সিডিউস করছেন?অবশ্য না করলেও আমি তো হচ্ছি।এভাবে শেয়ালের সমানে মুরগীর ভঙ্গিতে ভুলেও তাকিয়ে থাকবেন না।ভুল টুল হয়ে গেলে তখন?
চলবে ইনশাআল্লাহ..🌼🍀
[বিশাল বড় করে দিয়েছি কিন্তু আজকে।বানান রি চেক দেওয়ার সময় হয়নি।।]

