আকাশপ্রিয়া #পর্ব_২৪

0
38

#আকাশপ্রিয়া
#পর্ব_২৪ (আমার মতে খুউউউব রোমান্টিইইইইইইইক কিন্তু)
#dure_dilshad_dua_দুর_এ_দিলশাদ্_দুআা

[🚫কপি করা নিষেধ,১৮++++ কিন্তু, সম্পূর্ণ প্রাপ্তবয়স্ক বয়ষ্কদের জন্য উন্মুক্ত। আজকের পর্বটা অনেকের পছন্দ নাও হতে পারে।বেশি বেশি মনে হলে বলবেন প্লিজ।কমিয়ে ফেলবো]

*
আকাশ এর অবস্থা টা যদি একবার আন্দাজ করতো মেয়েটা,দেখতো অধীকারহীন এক পুরুষ মানুষ কে দিয়ে এমন নিষিদ্ধ কাজ করানোয় মানুষ টার কি পরিমাণ শাস্তি অনূভব করে…
আকাশ কাঁপা কাঁপা দুহাত এগোলো প্রিয়ার জামার চেইনে।সে নিজেও যেনো শক্তি পাচ্ছে না,প্রিয়া তো বুঝতেই পারছে না কি ঘটাতে যাচ্ছে সে আকাশকে দিয়ে।

এক হাতে জামার ওপরের অংশ চেপে ধরে অন্য হাতে চেইনে হাত রাখলো।আকাশের হাতের স্পর্শে প্রিয়া কেঁপে উঠলো এবার।থ মেরে গেলো।আকাশ চোখ বন্ধ করলো একবার।নিজেকে ধাতস্থ করে নিলো হয়তো,জোরে শ্বাস নিয়ে টান দিলো জামার চেইনটা।কোমড় অবধি বিদ্যামান চেইনখানা একটানে খুলতেই চোখের সামনে দৃশ্যমান হলো কালো কিছু কাপড়ের অংশ।যা ফর্শা উন্মুক্ত পিঠের মাঝামাঝি জুড়ে আছে।আকাশ জামা থেকে হাত সরিয়ে দু পা পিছিয়ে গিলো।আয়নায় দেখলো প্রিয়ার ভয়ার্ত মুখখানা।চোখ বন্ধ করে রেখেছে।
“কই বের করুন এখনো আছে বোঝা যাচ্ছে তো।”

আকাশের মেয়েটাকে জোরেসোরে একটা থাপ্পড় মারতে মন চাচ্ছে।এ মেয়ে রীতিমতো টর্চার করছে তার ওপর।প্রিয়া আকাশের কোনো সাড়া না পেয়ে ফট করে চোখ মেললো।আয়নার দিকে চোখ পরতেই হতভম্ব হয়ে গেলো সে। হুশ ফিরলো তার।কি অবস্থায় আছে তারা।আকাশ ঘোর লাগা চোখে আয়নায় তার দিকেই তাকিয়ে আছে।তার কাঁধের জামাটা বাম সাইটে বেশখানিকটা নেমে আছে।আরও নামার আগেই দ্রুত হাতে জামা টেনে নিয়ে পিছন ঘুরতে চাইলে আকাশ ফট করে প্রিয়ার দু বাহুতে চেপে ধরে থামিয়ে দিলো তাকে।ঘুরতে দিলো না।বরং যতটুকু দুরত্ব ছিলো দুজনের মধ্যে সেটুকু ঘুচিয়ে নিয়ে একদম ঘেষে আসলো প্রিয়ার দিকে।প্রিয়ার নিঃশ্বাস আটকে আসলো,চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইলো।

বাইরে দমকা বাতাস শুরু হয়েছে।ঝিরিঝিরি বৃষ্টিও সাথে আছে।খোলা জানালার ওপর পর্দা গুলো এলোমেলো ভাবে ডানা ঝাপটাচ্ছে।প্রিয়ার খোলা চুলগুলো এলোমেলো হয়ে আকাশের চোখেমুখে ছুয়ে দিচ্ছে বারবার। সেই মাতাল করা চুলের ঘ্রান।মুখ ডুবিয়ে দিতে ইচ্ছে করেছে।সামনে ঠেলে দেওয়া চুলগুলো দমকা বাতাসে পিছন দিকে চলে আসতে চাইছে।আকাশ হাত বাড়ালো।সযত্নে ঘাড়ের ওপর থেকে উড়ে আাসা বাকি চুলগুলো আবার সামনের দিকে দিলো।স্থির চোখে তাকিয়ে রইলো চোখের সামনের প্রিয় নারীর উন্মুক্ত ফর্শা পিঠে।মাঝখানের শিরদাঁড়ার নিচু রেখা স্পষ্ট দেখতে পাওয়া যাচ্ছে।হাত দিয়ে গভির ভাবে ছুয়ে দিতে ইচ্ছে হচ্ছে আকাশের।
প্রিয়া আবার ঘুরতে চাইলো।ভয়ে মুখচোখ শুকনো লাগছে।আকাশ তার মুখ এগিয়ে নিলো প্রিয়ার কানের কাছে।প্রিয়া খিঁচে দম আটকে দাড়িয়ে রইলো।আকাশের গরম নিঃশ্বাস তার কান, গালের বাম পাশ টায় এসে লাগছে।শিরশির করে উঠছে শরীরটা।পা কেমন একটা অবশ হয়ে আসছে।বাইরের ঠান্ডা বাতাসের থেকেও আকাশের এই নিঃশ্বাস এর শব্দ, উষ্ণতা তাকে বেশি কাঁপাচ্ছ হয়তো।
“নড়ছো কেনো?”
আকাশের হিশহিশিয়ে বলা নেশাক্ত কন্ঠে মাথা ঘুরে উঠলো প্রিয়ার।না চাইতেও স্থির হলো সে।
আকাশ কানের ওপরের চুলগুলো কানে গুজলো।আবার একই হাস্কিস্বরে বললো,”শরীরে কিচ্ছু নেই,মিথ্যে বলে কাছে আনলে?”
প্রিয়া সজোরে মাথা নাড়লো।কাঁপা গলায় মিনমিনিয়ে বললো,”সত্যি ছি..ছিলো..”
আকাশ একদম পিঠের সাথে লেগে দাড়ালো।প্রিয়া আবেশে মাথা খানিক এলিয়ে দিলো পিছন দিকে।মাথা গিয়ে ঠেকলো আকাশের শক্তপোক্ত বুকে।আকাশ হাত ছোয়ালো প্রিয়ার কোমড়ে।উল্টো আঙ্গুল ছুয়িয়ে ধীরে ধীরে হাত পিঠের ওপরের দিকে তুললো।প্রিয়া খামচে ধরলো নিজের দু পাশে জামার অংশ।নিচের ঠোট কামড়ে ধরে চোখ বন্ধ করে ফেললো।
আকাশ দেখলো সবটাই।বাঁকা হাসলো নিঃশব্দে। হাত গিয়ে থামালো কালো ইনার এর ওপর।প্রিয়া লজ্জায় লাল হয়ে যাচ্ছে।ফুলোফুলো ফর্শা গালদুটো,নাকের ডগা টমেটোর মতো লাল দেখাচ্ছে একদম।
আকাশ ইনার এর পাতলা ফিতে টেনে ধরলো ধীরেসুস্থে। প্রিয়া এবার আর থাকতে পারলো না,ভয় লজ্জায় চোখ ছলছল করছে তার।মোচড়ামুচড়ি শুরু করলো আবার নিজেকে ছাড়াতে।কিন্তু আকাশের জিম করা শক্তপোক্ত হাত থেকে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা মাঠে মারা গেলো তার আবার।
খুব চেষ্টা করলো দৃঢ় গলায় কিছু বলতে,কিন্তু বুকের দ্রিমদ্রিম আওয়াজে নিজের কথাগুলো রীতিমতো এলোমেলো করছে ফেলছে সে।আকাশের খসখসে টান্ডা হাতটা এখনো তার পিঠ ছুয়ে আছে,আঙ্গুলগুলো নড়াচড়া করছে পিঠজুড়ে।অন্য হাতে তার হাতের কবজি শক্ত করে ধরা।
প্রিয়া খুব কষ্টে বিরবিরিয়ে বললো,”থামুন”
“পারছি না”।আকাশের এমন কন্ঠ প্রিয়ার এর আগে কখনো শোনেনি।এমন অধৈর্য ও কখনো হয়নি।এর আগে কখনো স্পর্শ অবধি করেনি।কিন্তু আজকে!আজকে কি হয়েছে মানুষ টার।আয়নায় আকাশের যে দৃষ্টি দেখা যাচ্ছে সে দৃষ্টিতে চোখ মেলানোর মতো শক্তি তার এ জীবনে হবে না।চোখ ঘোরে বন্ধ করে করতে বললো,”পারতে হবে।”
“উশশশশ্ চুপ”
“কি করছেন টা কি।আমরা..”
“কথা না প্লিজ”।আকাশ বাম হাতে শক্ত করে ধরা প্রিয়ার কবজি থেকে ধীরে ধীরে হাত ওপরে ওঠালো। হেচকা টানে আবার নিজের সাথে আটকে ধরলো।
“জামার চেইন টা লাগান দয়া করে।আর খুলবেন না প্লিজ”
“ ব্ল্যাক পছন্দ?
আকাশের হিসহিসিয়ে বলা প্রতিটা কথায় শরীর কেঁপে উঠছে তার।টের পেলো আকাশ তার মাথায় পিছনে কপাল ঠেকালো।দুজনেই চোখ বন্ধ করে রেখেছে।
“ মানে!”
“পছন্দ?
“ উমম্ হু…কেনো”
“ আমার পছন্দ। আই লাইক ব্ল্যাক,অ্যান্ড ইউ, উইথ ইওর ব্ল্যাক ইনার…ক্যান আই আনবাটন ইট।”

বুকের ভিতর ঝড় উঠে গেছে তো আগেই।শ্বাস নিচ্ছে জোরে জোরে।আবার এ লোক বলে কি।তাকে আজ খুন করতে চায় এ মানুষ টা।কোন কুক্ষণে যে আজ এই অসভ্য লোককে ডেকেছিলো সে।এরপর এ জীবনে আর ভুলেও সে একে ডাকবে না,মরে গেলেও না।কি লজ্জা দিচ্ছে তাকে,সে তো একটা মেয়ে,তারও তো কমট্রোল এর লিমিট আছে নাকি।এখন আবার কি বলছে এটা।গুঙিয়ে উঠলো প্রিয়া।
“প্লিজ না।কেউ এসে যাবে।এটা ঠিক না।”
“ ঠিক ভুল তুমি শেখাচ্ছো?তাও এখন?আমার মাথাটা ঘুরিয়ে দেওয়ার আগে মনে ছিলো না? নাউ আই কান্ট…। “

বলেই সঙ্গে সঙ্গে একটা অঘটন ঘটালো আকাশ।প্রিয়া কল্পনাও করতে পারেনি আকাশ এমন কিছু করতে পারে।আকাশ বোধহয় নিজেও ভাবেনি এটা করার কথা।একটানে ইনার এর হুক খুলে দিতেই এবার আরও দৃশ্যমান হলো সম্পূর্ণ অবয়ব।ইনার এর ফিতের দাগ পরে লাল হয়ে আছে আড়াআড়ি। সে দাগে হাত বোলালো আকাশ।

প্রিয়া বাকরুদ্ধ হয়ে গেছে,আকাশের এহেন ব্যবহারের প্রতিত্তোর খুঁজে পাচ্ছে না।শরীর তো অবশ সেই কখন থেকেই।কিচ্ছু বলতে পারছে না কেনো সে।
বাইরে ইতিমধ্যে ঝড় উঠেছে।ঝড়ো হাওয়ার সাথে মুষুলধারে বৃষ্টি পরছে প্রকৃতির বুকে।জানালা খোলা থাকায় বৃষ্টির শব্দ ভেসে আসছে কানে।প্রকৃতি বোধহয় আগুনে ঘি ঠালার দায়িত্ব নিয়েছে আজকে।
কথায় আছে বর্ষা যেমন বিরহ বাড়ায় তেমন প্রেমকে করে দ্বিগুণ। প্রকৃতির বুকে ওঠা ঝড়ের সাথে সাথে বাড়ছে দুটো মানব মনের নিষিদ্ধ কামনার ঝড়।মস্তিষ্ক বলছে এ ভুল,এ ঘোর পাপ,অন্যায়।অথচ মনটা বলছে আজকে হয়তো ভুলটা করাই যায়।অবাধ্য মনটাকে সায় জানা্চ্ছে বাহিরের বৃষ্টি, ঝড়ো বাতাস।ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে, বাজ পরছে বিকট আওয়াজে।ইলেক্ট্রিসিটি চলে গেছে আরও আগে।ধরনীর বুকে একে রাত নেমেছে,তার ওপর ঘোর অন্ধকার পুরো রুমে।ঘনঘন বিদ্যুৎ চমকানোয় আলো এসে পরছে চোখেমুখে।
আকাশ এবার আরেকটু অধৈর্য হলো।হাটু ভেঙে বসে বসলো।দু হাত প্রিয়ার বাহু থেকে নেমে শক্ত করে ধরলো কোমড়।চমকানোর ওপর চমকাচ্ছে প্রিয়া।পুরুষ মানুষের এহেন স্পর্শ, সে আবার সেই পুরুষ যে কি না তার রাতের ঘুম কেড়েছে, মরণ ডাকছে বোধহয় তাকে আজকে।আজ সর্বনাশ ঘটতে চাচ্ছে।
কি আশ্চর্য সে কেনো চাইছে সময় টা থমকে যাক।এ দুরত্ব না মিটুক।এ স্পর্শ বিলীন না হোক।আকাশ নিজের অজান্তেই ঠোট ছোয়ালো প্রিয়ার ইনারের ফিতের সেই লাল হয়ে যাওয়া দাগের ওপর।এক নিমিষে শরীর ঝাঁকি দিয়ে উঠলো প্রিয়া।সরে যেতে চাইলে আকাশ দ্বিগুণ শক্ত করে চেপে ধরলো কোমড়।ব্যাথা পেলো প্রিয়া।আবেশ আর শক্ত করে ধরায় ব্যাথায় মৃদু গুঙিয়ে উঠলো সে।চোখ খুলছে না কিছুতেই।
আকাশ এখনো ঠোট সরায় নি।এ মেয়ে শরীরে কি ব্যবহার করে।কেমন একটা ভ্যানিলা ভ্যানিলা স্মেল পাচ্ছে সে।কামড়ে ধরতে ইচ্ছে হলো।আইসক্রিম এর মতো খেতে ইচ্ছে হচ্ছে তার।ঠোট সরালো এক মূহুর্তের জন্য। জিব দিয়ে ভেজালো একবার নিজের অধরজোরা।আবার পারলো না আটকাতে নিজেকে।
এবার সত্যিই ঘাড় কাত করে মৃদু কামড়ে ধরলো কোমড়ের ডান পাশে।প্রিয়া খামচে ধরলো আকাশের চুল।সে নিজেও আর হুশে নেই,শরীর মন কোনোটাই তার নিয়ন্ত্রণে নেই আর।চাইলেও পারছে না আর কিছু,পারবেও না।আর সম্ভব নয়,বুকটা জ্বলেপুড়ে যাচ্ছে তার।
এ স্পর্শ থামলেই বোধহয় আরও মরে যাবে সে।সব যুক্তিতর্ক, পাপপূন্যের হিসাব মাথা থেকে বেড়িয়ে গেছে দুজনের।এতে সায় দিচ্ছে সয়ং প্রকৃতি। আকাশ এ দুনিয়াতে নেই,সে শুধু জানে সামনের নারীটি তার।তার শরীরের প্রতিটি ভাজ,অংশ শুধু তার।শুধুই তার।

দু হাতে প্রিয়ার কোমড় শক্ত করে ধরে ঘুরিয়ে ফেললো তাকে।প্রিয়া চোখ খুললো না।আকাশ ওপর দিকে তাকিয়ে দেখলো ঠোঁট কামড়ে চোখ বন্ধ করে থাকা মায়াবী মুখখানা।এবার সামনে থেকে কুর্তির ভিতরে হাত দিয়ো কোমড়ে হাত দিতই ধপ করে হাটু ভেঙে বসে থাকা আকাশের মুখোমুখি বসে পরলো প্রিয়া।চট করে জরিয়ে ধরলো আকাশের গলা।এ মানুষ টার মুখোমুখি হওয়ার মতো সাহস তার নেই,লজ্জায় নুয়িয়ে যাচ্ছে সে।প্রিয়ার কাছে আসা, আচমকা জড়িয়ে ধরা, আকাশের জ্বলে ওঠা মস্তিষ্ক আবার জ্বালিয়ে দিলো।শক্ত করে এক হাতে জড়িয়ে ধরলো কোমড়।
এক হাতে আরও নামিয়ে দিলো জামার অংশ, মুখ ডুবালো উন্মুক্ত ঘাড়ে।প্রিয়া খামচে ধরলো আকাশের শার্ট।বাকা হয়ে গেলো পিছনে দিকে।হাত বারিয়ে প্রিয়ার ঘাড় শক্ত করে ধরলো আকাশ।ঝটকা টানে মায়াবী লজ্জা রাঙা প্রেয়সীর মুখটা এগিয়ে নিয়ো এলো নিজের মুখের সামনে।লাল টুকটুকে লজ্জায় মিলিয়ে যাওয়া গালটা টানছে টাকে,রক্তিম ঠোটজোড়া জলজল করছে। চুম্বকের মতো টানছে তাকে।
একে অপরের সাথে মিশে আছে একপ্রকার।তার এক হাত বিচরন করছে মেয়েটার কোমড়ে,অন্যহাত এবার গাল স্পর্শ করলো।আবেশে বারবার নড়েচড়ে উঠছে মেয়েটা।বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে দুবার স্লাইড করলো মেয়েটার ঠোঁটজোড়া।নিচের ঠোটের ওপর চাপ দিয়ে ধরলো।গলা টা শুকিয়ে গেছে তার।গলা ভেজাতে হবে,ওই অধরসুধা পান না করা অবধি না জুড়োবে তার জ্বলে খাক হয়ে যাওয়া বুকটা,শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাওয়া গলাটা।পুরো মুখে চোখ বুলালো একবার।এগিয়ে আনলো মুখটা, নিঃশ্বাস আছড়ে পড়ছে একে অপরের।সামান্য একটু দুরত্ব এখন তাদের মধ্যে। শ্বাস নিচ্ছে জোরে জোরে দুজনেই।কপালে কপাল ছোয়ালো আকাশ।
“লুক অ্যাট মি।”
প্রিয়া মাথা নাড়লো। তাকালো না একদম।
“আই সে লুক অ্যাট মি,আই ওয়ানা সি ইউর ফাকিং স্কেয়ার্ড আইস দ্যাট ইউ ওয়ান্ট মি সো ডিপলি। (আমি বলছি তাকাও আমার দিকে,আমি তোমার ভয় পাওয়া চোখের দৃষ্টি দেখতে চাই,যেখানে তুমি আমাকে খুব গভীরে চাচ্ছো)

প্রিয়া এবারেও তাকালো না।পারছে না তো সে তাকাতে।ঘাড়,কোমড় সব জায়গায় এই লোকটার ছোয়া এখন।সে তো সত্যি চাইছে তাকে,খুব গভীরে চাইছে।না চাইতেও নিজেকে মানাতে পারছে না।শরীর মন দুটোয় আকাশের হয়ে সায় দিচ্ছে।ছোঁয়া চাইছে,মাতাল তো হয়েই আছে আরও পাগল হতে চাচ্ছে সে এখন।
আকাশ বুঝলো লজ্জায় বুদ হয়ে থাকা মেয়েটির মনের কথা।হাত সরালো ঠোটের ওপর থেকে। নিজের ঠোঁটজোরা ভিজিয়ে নিলো একবার।ঠোঁট ছোঁয়াবে এমন সময় প্রকৃতিরও বোধহয় মায়াদয়া হলো।
ঝট করে ইলেক্ট্রিসিটি চলে আসলো,জ্বলে উঠলো রুমে আলো।খোলা জানালা দিয়ে দূরের কটেজগুলোর আলোয় আশপাশ আলোকিত হয়ে উঠলো।ঘোরে থাকা দুজন মানুষের নেশাক্ত চোখজোরা খুলে গেলো।দেখতে পেলো একে অপরকে নিজেদর অস্তিত্বের এতো কাছে।সবথেকে বেশি ঘোর কাটলো বোধহয় আকাশের।সে নিজে এতক্ষণ কোথায় ছিলো,কি করছিলো,আর কিই করতে যাচ্ছিলো ঝট করে মাথায় এসে খেলে গেলো তার।প্রিয়া কে ছেড়ে ঝড়ের গতিতে উড়ে দাড়ালো। পিছিয়ে গেলো কয়েকপা।অস্থির ভঙ্গিতে ঘাড় ডলতে লাগলো।সজোরে কয়েকটা আঘাত হানলো দেয়ালে।হাত কেটে রক্ত বেরিয়ে এলো এবার।
“ওহ গড।ফা*ক,ফা*ক…”
প্রিয়া ধাপ করে মেঝেতে বসে পরেছে ইতিমধ্যেই।দু হাত আড়াআড়ি রাখলো বুকের ওপর।কি করছিলো তারা, ঝরঝর করে কেঁদে ফেললো সে।আকাশ দেয়ালে রক্তাক্ত হাত রেখে হাঁপাচ্ছে রীতিমতো।কান্নার আওয়াজে ঘুরে দাড়ালো।প্রিয়াকে দেখলো অনেকটা বিদ্ধস্ত অবস্থায়।ফুঁপিয়ে কাদছে মেয়েটা।আকাশ ভ্রু কুচকে ফেললো। নিজের ওপর তো রাগ লাগছেই,মেয়েটার ওপরও।এগিয়ে এসে দারালো।দু হাতে বাহুতে ধরে টেনে দাড় করালো।প্রিয়া মাথা নিচু করে আছে।ফুঁপিয়ে ফুপিয়ে কান্নায় কেঁপে কেঁপে উঠছে শরীরটা।আকাশ স্থির চোখে দেখলো সবটাই।হাত বারিয়ে চুলগুলো পিছনে ঠেলে দিলো।কোমড় ছড়িয়ে পড়লো চুলগুলোয়।আবার এগিয়ে আসতেই,প্রিয়া এবার সজোরে ধাক্কা দিলো আকাশকে।হাত তুললো থাপ্পড় মারতে।তবে মারলো না।চোখ ছলছল করছে তার।মুখটা কঠিন করে ফেললো।
“অসভ্যের মতো আর এগোবেন না প্লিজ।মেয়েদের সম্মান করতে শিখুন।”
প্রিয়ার মুখে এমন শব্দ আশা করে নি সে।সে অসভ্য?একা করেছে এই অসভ্যতামি?একা দায়ি সে?আজ এই মূহুর্ত তৈরি কি তার একসর জন্য হয়েছে? মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো তার।প্রিয়ার থেকে বেশি বোধহয় নিজের ওপর।রাগে চেপে ধরলো প্রিয়ার দু বাহু।প্রিয়া ব্যাথা শব্দ করে কেদে ফেললো।আকাশ ধাক্কা দিয়ে চেপে ধরলো দেয়ালে।শক্ত করে চেপে ধরলো চোয়াল।
“অ্যাই মেয়ে তাকাও,লুক অ্যাট মি।তাকচ্ছো না কেনো। আমার চোখে চোখ রাখো।”
আকাশের ধমকে রীতিমতো লাগাতার কাপছে প্রিয়া।তাকালো কিন্তু চোখে চোখ রাখতে পারলো না।
“আমি অসভ্য?আমি?আমার দোষ সবটা?”
প্রিয়া জবাব দিলো না।সে নিজেও অপেক্ষা করলো না সে জবাবের।আরও কঠেন হয়ে গেলো তার কন্ঠ।

“আমাকে সামান্য কারণে নিজের রুমে ডাকার আগে মনে ছিলো না?একা বাড়িতে একা রুমে একজন পুরুষকে ডাকার আগে খেয়াল ছিলো না?কি করতে বলছিলে আমাকে খেয়াল আছে?আছে খেয়াল?আমাকে রোবট মনে হয়?আমি মানুষ, হ্যা পুরুষ মানুষ, কতক্ষণ একা একা যুদ্ধ করা যায় সীমার মধ্যে থাকতে,যেখানে সামনের মানুষ টা থাকতে দিতো চাচ্ছে না।বোঝো সে যন্ত্রণা? তুমি জোর দেখাওনি কেনো।দুটো থাপ্পড় তখন মারোনি কেনো।কেনো?তুমিও তো পারোনি আমার ছোঁয়া থেকে পালাতে,আমাকে কি করতে বলছো তুমি?কেমন কন্ট্রোল এ থাকতে বলছো তুমি?কতক্ষণ? আমি দুরত্ব রাখিনি? এর আগে করেছি লাইন ক্রস?বোকা তুমি, আস্ত একটা বোকা।আগুনে ঘি ঢালতে আসতে তুমি নিজের বোকামি তে।আজ যেটা করছিলে।জানতাম আমি সেটা।দূরে থাকতাম তাই।মানুষ বলে মনে হয় না আমাকে?অসভ্য লাগে?অন্য কারোর সাথে অসভ্যতামি করতে দেখেছো এ চার মাসে?চেনোনি আমাকে? বোঝোনি তোমার প্রতি আমার কি আছে?মেয়েজাতি নাকি দু মাইল দূর থেকে টের পায় তাকে কে দেখছে,পছন্দ করে।আর দিনের পর পাশাপাশি ঘরে এক বাড়িতে থেকে আমার ফিলিংস বোঝোনি।বুঝেছো নিশ্চয়ই।তাহলে একবারও ভাবলে না আমি কেনো তাও দূরে থাকি তোমার থেকে।ভাবলে না?নিজের নারীর অসম্মান কোনো পুরুষ চায়না,পারেনা করতে।আরেহ আমি চাইলে অনেক কিছু করতে পারতাম।পারি না?আমি জানতাম এখন যা করবো সেটা পাপ,নিষিদ্ধ। তাই দূরে থেকেছি।প্রতি মূহুর্তে জ্বলেছি,পুড়েছি কিন্তু তোমার কথা ভেবে,তোমার মানসম্মান, ধর্ম,ক্যারিয়ার সব ভেবে সরিয়ে রেখেছি।আর আজ আমি….ড্যাম ইট…

প্রিয়ার শরীর শিথিল হলো।কানে বাজলো আকাশের ওই লাইন।কি বললো সে।তার নারী।তাকে বললো!তারমানে আকাশ তাকে সত্যিই…সে যেটা ভেবেছিলো ভুল ছিলো না।টপটপ করে পানি গড়িয়ে পরলো চোক থেকে।মাথা তুলে কিছু বলতে যাওয়ার আগেই আকাশ ছেড়ে দিলো তাকে।পিছিয়ে গেলো কয়েকপা।তাকালো প্রিয়ার দিকে।প্রিয়ার তাকালো সেদিকে আজকে।রক্তিম হয়ে গেছে আকাশের চোখজোড়া। অসহায় দেখচ্ছে মানুষ টাকে।
প্রিয়া কিছু বলার আগেই হাত তুলে থামিয়ে দিলো তাকে।
“নো..ডোন্ট সে এনিথিং।ইট ওয়াজ মাই ফল্ট।ইউ আর রাইট।অ্যাম সরি,সরি।আমি মাথায় রাখবো বাকি দিন গুলো।এই ডিসট্যান্ট, লাইন আর ক্রছ হবে না।আজ যা হলো তোমাকে অসম্মান…
শ্বাস ছাড়লো জোরে।”তোমাকে অসম্মান করেছি।ইনটেনশনালি না করলেও করেছি।অ্যাম সরি।”

আবার দ্রুত এগিয়ে এলো প্রিয়ার দিকে।প্রিয়া ভয়ে পিছিয়ে যেতেই।অসহায় হাসলো আকাশ,”ভয় নেই।সরি বলেছি।ভুল হয়েছে।আমাকে চাচ্ছো না তুমি।তো এ ভুল দ্বিতীয় বার হবে না।”
বুকের ভিতরটায় দুমড়েমুচড়ে উঠলো প্রিয়ায়।আকাশের অভিমান বুঝতে পারলো।চোখ দিয়ে অনর্গল পানি গড়ালো।আকাশ নিচু হলো খানিকটা। চোখ বন্ধ ঝট করে টেনে লাগিয়ে দিলো প্রিয়ার জামার চেইন।হাত বাড়িয়ে মেঝেতে পড়া থাকা ওড়নাটা জড়িয়ে দিলো গায়ে।মেঝেতে পরে থাকা একটা শুকনো পাতা তুলে ধরলো প্রিয়ার সামনে।
“এটা ছিলো। বাট অ্যাম সরি।”

এক সেকেন্ড দাড়ালো না আর।দ্রুত পায়ে বেড়িয়ে গেলো রুম থেকে।শব্দ করে দরজা আটকানোর শব্দে কেঁপে উঠলো প্রিয়া।হু হু করে কেঁদে ফেললো।লোকটাকে রাগের মাথায় কি বলবো সে।কেনো বললো।গায়ে হাত তুলতে যাচ্ছিলো সে!দোষ টা তো সত্যি মানুষ টার ছিলো না।তার চিৎকার এ লোকটা হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে ছুটে এসেছিলো তার জন্য। সে পুরুষ মানুষ, তাকে দিয়ে সে তার…ছিহ্। আকাশ তো বুঝাতে চেয়েছিলো তাকে।বোকামি তো সে নিজে করেছে।তারপর আকাশ কিভাবে করতো নিজেকে কনট্রোল।কতক্ষণ পারতো সে।অথচ দোষ টা সে একতরফা আকাশকে কেনো দিলো।
দু হাতে মুখ চেপে ধরলো সে।বসে পরলো বিছানার কিনারে।লোকটার কাছে ক্ষমা চাওয়ার মুখ নেই।লজ্জায় আর চোখ মেলাতে পারবে না সে কখনো।হঠাৎ চোখ গিয়ে ঠেকলো দেয়াল।ধক করে উঠলো তার বুকে।রক্ত গড়িয়ে পরছে সেখান থেকে।মেঝেতে চোখ বুলালো সে অস্থির দৃষ্টিতে। পুরো রুমে ফোটা ফোটা রক্ত।মনে পরে গেলো তখন রেগে দেয়ালে আকাশের আঘাত করার মূহুর্তটা।হৃদপিণ্ড টাতে কেউ সূচ দিয়ো আঘাত করছে কেউ হয়তো।চিৎকার করে কাদতে ইচ্ছে হচ্ছে তার।মানুষ টাকে তো ভালোবাসে সে।আজকে তার কথা শুনে সেও নিশ্চিত আকাশেরও তার প্রতি…অথচ কেনো ওভাবে বললো সে।আবার শব্দ করে কেঁদে ফেললো সে।

চলবে ইনশাআল্লাহ…🌼🍂

[🚫যথেষ্ট বড় পর্ব দিছি কিন্তু, নির্বাচন নিয়ে বাসার অবস্থা গরম।চাকরিজীবী চাচা,ফুপুরা সব বাসায় আসছে।সব কাজিনের অ্যাডমিশনের প্রেশার ছিলো।প্রায় ২ বছর দেখা হয় নি কারোর সাথে। এতোদিন পর এই পারপাজে একসাথে হওয়ায় বাসায় হৈ হট্টগোল পুরো।খুব কষ্টে সময় বের করেছি কিন্তু। আপনারা মন খারাপ করলে আমারও তো মন খারাপ হয়।মন খারাপ করবেন না কেমন?রেগুলার চেষ্টা করি তো দেওয়ার]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here