আকাশপ্রিয়া #পর্ব_২৬

0
38

#আকাশপ্রিয়া
#পর্ব_২৬ (রোমান্টিক)
#dure_dilshad_dua_দুর_এ_দিলশাদ্_দুআা

[🚫কপি করা নিষেধ, সম্পূর্ণ প্রাপ্তবয়স্ক ও মুক্তমনাদের জন্য উন্মুক্ত]

হাতে গল্পের বই নিয়ে বিছানায় একাত ওকাত গড়াগড়ি করছে প্রিয়া।বোর হওয়ারও তো একটা লিমিট থাকে নাকি।এতদিন তাও পরীক্ষার চাপে পড়াশোনা করতে হতো।সময়ও কাটতো।পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর থেকে এখন আর সময়ই কাটতে চায়না।সারাদিন একা একা বই পরে আর মুভি,সিরিজ দেখে দেখে সময় কাটেনা।ফোন হাতে নিলো সে।সময় দেখলো একনজর।
রাত আটটা বাজে।এখনো বাসায় কেউ আসেনি।সন্ধ্যা বেলা সেই যে আকাশ কি একটা কাজে এসেছিলো, তারপর কখন চলে গেছে তাও টের পায়নি।বাইরে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে হালকা হালকা।বোধহয় বৃষ্টি নামবে।বইটা উপুড় করে রাখলো সে।নিজেও উপুড় হয়ে শুয়ে দু হাত ভাজ করে জানালার দিকে তাকিয়ে রইলো।বৃষ্টি আর এখানে নতুন কি।বারো মাসের দশ মাসই তো বৃষ্টি নেমেই থাকে।সন্ধ্যায় নাস্তা খাওয়ার দরুন এখন অবধি খিদে পায়নি তার।পাবে পাবে করছে।বাতাস ছাড়ছে বাইর।
প্রিয়া উঠে গিয়ে জানালা বন্ধ করে এসে বসলো বিছানায়।ফোন করলো শিয়ার নাম্বার এ।দু বার কল করার পরও কল তুললো না।তার আসলে ভয় ভয় করছে।এত বড় বাড়ি,তার ওপর জঙ্গল আশেপাশে। রাত হয়েছে,ঝড় নামে যদি। ইলেকট্রিসিটি বন্ধ হলো বলে।ভয় ভয় করছে তার এখন। এ বাড়ির কারোর নাম্বার নেই তার কাছে,থাকলে তাও ফোন দিয়ে খোঁজ নেওয়া যেতো শিয়ার।কখন ফিরবে। রাত হবে কিনা।আজ বাসার সবার নাম্বার নেবে সে।মনে মনে ঠিক করে।
ফোন হাতে বের হলো রুমে থেকে।নাহ্ কেউ সত্যি ফেরেনি।এর মধ্যে পাকনামি করে হাটাহাটির মানেই হয় না।এর চেয়ে ভালো কাঁথা মুরি দিয়ে নিজের রুমে বসে থাকা,কেউ এলে বের হওয়া যাবে না হয়।প্রিয়া রুমে এসে ভয় কাটাতে কমেডি মুভি চালু করে বসলো।নাহ ভয় তো যাচ্ছে না।জানালার পর্দা গুলোর ভালোমতো টেনে দিলো।বাইরের বিদ্যুৎ চমকানোর আলো যাতে ভেতরে না আসে।কিন্তু আলো না হয় আটকালো বাজ পরার শব্দ! সেটা কিভাবে আটকাবে।সিনেমায় মন দেওয়ার চেষ্টার মাঝেই ফোন বেজে উঠলো।শিয়ার ফোন।তড়িঘড়ি করে রিসিভ করলো প্রিয়া।
“প্রিয়ু..ভয় করছে তাইনা?”
“খুউুব আপু।কখন ফিরবি।”
“আমার ফিরতে দেরি হবে তো।আমি সে শহরে এসেছি।”
প্রিয়া মৃদু আর্তনাদ করে উঠলো।,”বলিস কি।ফিরতে তো তার মানে অনেক দেরি।”
“তা তো একটু হবেই।একটা আরজেন্ট মিটিং এ এসেছিলাম।এখনও চলছে।”
“ঝড় হবে বোধহয়। ফিরবি কিভাবে এতো রাতে?”
“একা নই আমি।রেদোয়ান, রিয়ান রা আছে। ওরাও ফিরবে।ওদের সাথে ফিরবো।ভয় তো তোকে নিয়ে হচ্ছে। আকাশ ফিরেছে?”
“নাহ তো।কেউ ফেরেনি এখনো।”
শিয়া খানিকক্ষণ চুপ করলো,কিছু একটা ভাবলো হয়তো।তারপর বললো,”ভয় পাস না।রাতুল আর আকাশ ওখানেই আছে।কিছুক্ষণ এর মধ্যে কটেজে ফিরবে হয়তো।আমি আকাশকে মেসেজ করে দিচ্ছি। আর তোকেও আকাশের নাম্বার সেন্ট করছি।ভয় পেলে সাথে সাথে ওকে কল করবি কেমন?”
“তুুই সাবধানে ফিরিস।”
প্রিয়া ফোন রাখলো।কিছুক্ষণ এর মধ্যেই শিয়ার ফোন থেকে মেসেজ আসলো।আকাশের নাম্বার পাঠিয়েছে।নাম্বার টা দেখে হুট করেই কেমন যেনো ভয় কেটে গেলো অনেকটা।নাম্বার টা আপুর থেকে কিভাবে নেওয়া যায় অনেক ভেবেছে।কেমন একটা লজ্জা লজ্জা লেগেছে।আর আকাশ এর থেকে চাওয়া তো তার জন্য অসম্ভব। ঝটপট নাম্বার টা সেভ করে নিলো সে।তাকিয়ে হাসলো।হঠাৎ কি একটা মনে হলো তার,দুষ্টু বুদ্ধি চাপলো বোধহয়। তার নাম্বার তো আকাশের কাছে নেই।একটু মজা নিলে কেমন হয় ! যে ভাবনা সেই কাজ।মেসেজ দিয়ে বসলো আকাশকে।রিপ্লাই আসলো প্রায় সাথে সাথে। প্রিয়া অবাক হলো।লোকটা ফোন চোখের সামনে নিয়ে বসে ছিলো নাকি।
“কেমন আছো?”
“ভালো।কে?”
“আমাকে জিজ্ঞেস করবেন না আমি কেমন আছি।”
“আপনি কে?”
“তোমার রাতের ঘুম হরন করতে চাই।”মেসেজ টা পাঠিয়েই হেসে কুটিকুটি হলো প্রিয়া।এবার দেখি কি রিপ্লাই দেয় লোকটা।বেশকিছুক্ষন পরেও আর রিপ্লাই আসছে না দেখে আবার মেসেজ পাঠালো সে।
“কি গো।ভয় পেলে?”
প্রিয়া কে অবাক করে দিয়ে ওপাশ থেকে মেসেজ আসলো।মেসেজ টস দেখে রীতিমতো কাশি উঠে গেলো প্রিয়ার।.
“এখন আসবো নিজের ঘুম হরণ করাতে?আমি রেডি কিন্তু। “
প্রিয়া হা হয়ে তাকিয়ে রইলো মেসেজটার দিকে।কি অসভ্য লোকরে বাবা।এভাবে ফ্লার্ট করে মেয়েদের সাথে। ছিহ ছিহ্।কি বলবে সে এখন।তার তো রাগ হচ্ছে।

** *
“কি হচ্ছে টা কি রাতুল।ফোনটা রাখ বলছি।”
“দারা না।দেখি মালটা কে”।কথাটা বলেই চোখ বন্ধ করে দাতে জিব কাটলো সে।এ টাইপের শব্দ মেয়েদের প্রতি আকাশ একদম পছন্দ করে না।
সাথে সাথে শুধরে নিলো।”না মানে এভাবে ফ্লার্ট করছে,দেখতে দে না তোর কোন প্রনয়প্রার্থী।”
আকাশ ড্রাইভিং এ মন দিলো।এমন আননোন নাম্বার থেকে অঢেল কল, মেসেজ আসে,রাতুলদের এ নিয়ে ফাইজলামির শেষ নেই।তাকে এমন মেসেজ দেওয়া বেশিরভাগ মেয়েরই মেইন কথা থাকে ওয়ান নাইট স্ট্যান্ড।হতাশায় মাথা নাড়লো সে।আড়চোখে দেখলো একবার রাতুল ফোন হাতে বসে আছে।
“দোস্ত মেয়েটা বোধহয় চমকে গেছে,দেখ রিপ্লাই দিচ্ছে না।”
“কি উল্টোপাল্টা বলেছিস বলতো।”
“দেখনা আরও কি কি বলি।তারপর এমন ধমক দেবো না।চরিত্র বেচার শিক্ষা পেয়ে যাবে।”
আকাশ কিছু বললো না।লোকেশন দেখাচ্ছে আরও দশ মিনিট লাগবে বাড়ি পৌছুতে।
ফোন বেজে উঠতেই রাতুল ফোনটা বাড়িয়ো দিলো তার দিকে।”শিয়া কল করেছে।”
“রিসিভ কর।”
রাতুল কল রিসিভ করে লাউডে দিয়ে ধরলো সামনে।ওপাশ থেকে শোনা গেলো শিয়ার গলা।
“আকাশ।”
“হ্যা বলো।”
“কোথায় তুমি।”
“কটেজে ফিরছি।”
“ওহ এটার জন্যই।কতক্ষণে ঢুকছো।”
“মিনিট দশেক।”
“রাতুলও সাথে। “
“হ্যা।কোনো দরকার?”
“দরকার বলতে ঝড় হবে বোধহয়। প্রিয়াটা একা কটেজে।আমাদের তো ফিরতে দেরি হবে।ও ভয় পায় তো বাজ পরলে।তার জন্য। “
“চিন্তা করার দরকার নেই আমরা যাচ্ছি।”
“হ্যা আমিও সেটাই বলছি,ওকে একটু কল করো কেমন।আমি মিটিং থেকে এতো কথা বলতে পারছি না।তোমার নাম্বার অবশ্য ওকে দিয়েছি।”
“ওর নাম্বার টা আমাকে টেক্সট করো।আমি জানিয়ে দিচ্ছি ভয় না পেতে।”
“থ্যাংক ইউ।”

রাতুল কল কেটে আবার মেয়েটার মেসেজ চেক করলো।না এখনো রিপ্লাই আসেনি।মেয়েটা বোধহয় ভয়ই পেয়েছে।আকাশের দিকে তাকালো। সামনে মনোযোগ দিয়ে ড্রাইভিং করছে।
“আকাশ।একটা কাজ করতে পারিস কিন্তু। প্রিয়া যেহেতু ভয় পায় একা থাকতে। কি দরকার মেয়েটাকে একা রাখার।তুইও একা একা রাতে ঘুমা পারিস না।ওউ….”
“শাট আপ রাতুল।বাজে বকিস না।”
“ওহ তোমার মনের কথা আমি মুখ ফুটে বলি বলে আমি খারাপ?”
“বলতে হবে না চুপ থাক।”
শিয়ার মেসেজ আসতেই হা হয়ে গেলো রাতুল।একপ্রকার চেচিয়ে উঠলো।,”এই আকাশ।”
ছেলেটা কারণে অকারণে চেঁচায়। বিরক্ত চোখে তাকালো একনজর।”কি হয়েছে।”
“নাম্বার টা”বলেই ফোন টা এগিয়ে ধরলো তার সামনে।শিয়ার মেসেজ।
“হ্যা।প্রিয়ার নাম্বার।তো?কল কর।করে বল রাস্তায় আছি। পাঁচ মিনিটে ঢুকছি ভয় না পেতে।”
রাতুল বড় বড় চোখ করেই দু দিকে মাথা নাড়লো,”সেটা না।”
“তাহলে কি।”
“ওই মেয়েটা”
“কোন মেয়ে?”
“একটু আগে যে মেেসজ করছিলো।”
“তো?”
আকাশ এবার চূড়ান্ত বিরক্ত হচ্ছে। এতো হেয়ালিপনা কথা সে একদম পছন্দ করে না।তাকালো না রাতুল এর দিকে।
“আরেহ ওই মেয়েটা প্রিয়া।মানে ওটা প্রিয়ার নাম্বার। “

“কিহ্”।আকাশ আচমকা ব্রেক করলো গাড়ির।ফোন টা হাতে নিলো।হতভম্ব হয়ে গেলো সে।সত্যিই ওটা প্রিয়ার নাম্বার। খানিকক্ষণ লাগলো বুঝতে।বাঁকা হাসলো এবার।ফেনটা ছুড়ে দিলো রাতুল এর দিকে,সাথে সাথে ক্যাচ ধরলো সে।
“ ম্যাডাম আমাকে নাচাতে চাইছে।ব্যাপার না।যাচ্ছি আমি।”
রাতুল দুষ্টু হাসলো।“নাচতে নাকি নাচাতে?”
“দুটোই।”
“আমার কি তাহলে আজ রাতে কটেজ ফেরা উচিত।আই মিন কাবাব মে হাড্ডি হবো কি না আবার।””
“ডাবল মিন করিস না।তাছাড়া তুই থাকবি তোর রুমে।”
রাতুল কপট চিন্তিত গলায় বললো,”রুমগুলো কি সাউন্ডপ্রুফ?”
আকাশ গরম চোখে তাকালো রাতুল এর দিকে।রাতুল দু হাত ক্ষমা চাওয়ার ভঙ্গি করে ফিক করে হেসে ফেললো।মিনিট দুইয়েক এর মধ্যে গাড়ি এসে ঢুকলো কটেজে।গাড়ি পার্কিং লটে রেখে বাড়ির ভিতরে ঢুকলো দুজন।
প্রিয়া বোধহয় এই অপেক্ষা তেই ছিলো।তবে বের হলো না নিজে থেকে।একবার দরজা খুলে উকি দিয়ে দেখলো কে কে এসেছে।রাতুল কে নিজের রুমে ঢুকতে দেখলো।তবে আকাশ কে দেখতে পেলো না কোথাও।গুটিগুটি পায়ে বেরলো। আকাশের রুমের সামনে গিয়ে বুঝতে পারলো আকাশ আরও আগে রুমে ঢুকে গেছে।আবার আগের মতোই নিজের রুমে চলে আসলো।আচ্ছা সে যে মেসেজ করেছিলো আকাশ কি সেটা জানে!নাহ জানবে কিভাবে। তার নাম্বার লোকটার কাছে থাকলে তবে তো।

****

শিয়া বেশ কিছুক্ষন হলো অপেক্ষা করছে রেদোয়ানদের জন্য। আগেই বলেছিলো যাওয়ার সময় ওদের সাথেঔ যাবে।এখন ফোনে পাচ্ছে না।এদিকটায় ঝড় না হলেও গুড়িগুড়ি বৃষ্টি আছে।সময় দেখলো রাত সাড়ে নয়টা বাজে।

“কিরে শিয়া কে রেখে যাবি মানে টা কি।মেয়েটা একা একা ফিরবে কিভাবে।”
রাকিব এর কথায় রেদোয়ান হাসলো।তবে গাড়ি থামালো না।উল্টো আরও গতি বাড়িয়ে ক্রমশ এগিয়ে যেতে লাগলো।
“একা ছেড়ে যাচ্ছি কে বললো।”
“তবে। ফিরবে কার সাথে। “
রিয়ান মাথার পিছনে গাট্টা মারলো রাকিব এর।”হাঁদা তুই একটা।সামান্য বিষয় মাথায় ঢুকলো না।অয়ন ভাই আছে না?”.
রাকিব বন্ধুদের প্ল্যানটা বোধগমঢ় হতেই হো হো করে উঠলো।”সত্যি তো এটা তো ভাবিনি।সেরা সেরা।”
রাকিব এর উচ্ছাস দেখে রেদোয়ান, রিয়ান হাসলো।
কিছুক্ষণ আগেই প্ল্যানটা করেছে দুজন।দুজন একসাথে সময় কাটালে যাই হোক হবে তো একটা।
রেদোয়ান পাশ ফিরলো। তাকালো রাকিব এর দিকে।
“হাসান কে কল দে।দিয়ে বল ইমারজেন্সি কিছু একটা বলে আজকে নিজের বউয়ের কাছে চলে যেতে।”

“ওর বউয়ের কাছে পাঠাতে তোর এতো চিন্তা কেনো।”

“ইশশ তোর কি রাতুল এর রোগ ধরলো রাকিব?হাসান ওদের মধ্যে কাবাবের হাড্ডি হয়ে থাকবে?”
“উপপপস্ সরি সরি।বুঝেছি।দারা। “

হাসানের সাথে কথা বলে কল কাটলো রাকিব”ডান।”
“এবার ঝগড়াই করুক,আর মারামারিই করুক একসাথে থাকুক তো আগে।নিজেদের টা বুঝে নেবে ওরা।”

***
অয়ন ক্লায়েন্ট দের বিদায় জানিয়ে বাইরে আসতেই হাসান হু হু করে উঠলো।
“স্যার স্যার সর্বনাশ হয়ে গেছে। “
“কি হয়েছে?
“আমার বউ অসুস্থ স্যার। একটাবার একটু বাড়ি যেতে হচ্ছে। “
হাসান চলে গেলে তার থেকে গাড়ির চাবিটা নিয়ে নিচে আসতেই চোখে পরলো শিয়া।মেয়েটা দাড়িয়ে আছে গেটের সামনে।ব্যাস্ত ভঙ্গিতে সময় দেখছে,কাউকে বারবার কল ও করছে বোধহয়।অয়ন নড়লো না।দাড়িয়ে রইলো কিছুক্ষণ। বুঝতে চাইলো বিষয়টা।পকেটে ফোন বেজে উঠতেই দেখলো রেদোয়ান এর মেসেজ।
“ভাই,একটা প্রজেক্ট এর জন্য আমার সেকেন্ড সাইডে যেতে হচ্ছে। শিয়াকে নিতে পারলাম না।ওকে প্লিজ নিয়ে ফিরো।একা মেয়েটা ফিরতে সমস্যা হতে পারে।”

অয়ন মেসেজ টা দেখলো।স্পষ্ট হলো শিয়ার দাড়িয়ে থাকার কারণ।একই সময় শিয়ার ফেনেও একই মেসেজ আসলো।শিয়াও দেখলো মেসেজ টা।ততক্ষণে অয়ন এসে দাড়িয়েছে পাশে।শিয়া ঘুরে দাঁড়াতেই দেখলো তাকে।অয়ন কিচ্ছু বললে না।পাশ কাটিয়ে চলে গেলো।কিছুক্ষণ পর সামনে এসে দাড়ালো গাড়ি নিয়।
“উঠে এসো।”
কথা টা বলে শিয়াকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই গ্লাস উঠিয়ে নিলো।শিয়া থ হয়ে দাড়িয়ে আছ।কি করবে সে।ঘড়ি তে তাকালো।পোনে দশটা বাজে।এখন বাস বা উবার পাওয়া ওদিকটার জন্য অসম্ভব প্রায়।তাছাড়া প্রায় তিন ঘন্টার রাস্তা,সে যাবে কি করে।বাধ্য হয়ে বিনা বাক্যে উঠে গিয়ে বসলো।
অয়ন গাড়ি স্টার্ট দিলো।আশ্চর্যজনক ভাবে অয়ন একটা কথাও বলছে না।মুখ কঠিন করে ড্রাইভিং করছে।শিয়া বেশ কয়েকবার তাকালো আড়চোখে।অয়ন একবারের জন্যও পাশে তাকাচ্ছে না।দৃষ্টি একদম সোজা রাস্তাতে।শিয়ার মনে পরে গেলো সেদিন এর কথা।বুকটা চিনচিন করে উঠলো তার।চড় মেরেছিলো অয়নকে।তাই কি রেগে আছে এখনো।হয়তো,সে কি করতো।আর কতো নিজেকে সামলাবে সে।আর কত কি সহ্য করবে সে।

****
বিকট শব্দে হুড়মুড় করে উঠে বসলে প্রিয়া।
ডিনার করে শুয়ে ছিলো প্রিয়া।কখন চোখ লেগে গেছে জানেই না।বাইরে প্রচন্ড ঝড় হচ্ছে। দরজা, জানালা সব আটকা।তবুও আওয়াজ হচ্ছে। গাছপালার ডাল ভেঙে পরার আওয়াজও পাওয়া যাচ্ছে।অন্ধকার ঘর।ইলেকট্রিসিটি চলে গেছে এরই মধ্যে বুঝতে পারলো।অন্ধকারে আশপাশ হাতড়ে ফোন বের করলো।রাত সাড়ে দশটা বাজে।শিয়ার মেসেজ পেলো। আসছে।তবে অনেক রাত হবে।খেয়ে, ঘুমিয়ে পরতে বলেছে।প্রিয়া কাথা গায়ে জড়িয়ে গুটিসুটি হয়ে বসলো।কয়েক সেকেন্ড পরপর বাজ পরছে প্রচন্ড শব্দ করে।ভয়ে হাত পা অসাড় হয়ে আসছে।কি করবে।বের হবে সে?যাবে আকাশের রুমে!খারাপ দেখায় এতো রাতে গেলে।কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে রইলো।নাহ,ভয় কিছুতেই কমছে না।বরং শব্দে আরও কেঁপে কেঁপে উঠছে সে।ফোনের ফ্লাস জ্বেলে বের হলো সে।দরজা খুলতে হাত দিতেই চমকে উঠলো।তার দরজার লক খোলা।অথচ তার স্পষ্ট মনে আছে খাবার খেয়ে রুমে ঢোকার সময় লক করে ঢুকেছিলো।দরজা খুলে উকি দিলো একবার বাইরে।করিডর অন্ধকার। আকাশ, রাতুল দুজনের রুম বন্ধ। এক পা এক পা করে এসে দাড়ালো আকাশের রুমের সামনে। দিধা করলো অনেকক্ষণ। শেষ বাজ টা পরতেই তাড়াহুড়ো করে কড়া নাড়লো দরজায়।

আকাশ মৃদু হাসলো ভিতর থেকে। রকিং চেয়ারে বসে ছিলো সে।এতক্ষণ প্রিয়ার রুমে ছিলো সে।মেয়েটা ঝড়ে ভয় পায়,দারুণ ভয় পায়।অন্ধকারেরও।এর মধ্যে একলা থাকতে যে পারবে না তা সে জানতো।সব রুমের ডুপ্লিকেট চাবি আছে। প্রিয়ার রুমের টা সে কাছেই রেখেছিলো।এতক্ষণ বসে ছিলো প্রিয়ার পাশে।বিভোর হয়ে দেখছিলো ঘুমন্ত প্রেয়সীকে।তবে প্রিয়া নড়েচড়ে উঠতেই বেড়িয়ে আসে সে।অন্ধকার থাকায় ভালো ফায়দা হয়েছে, প্রিয়া টের পায়নি।পেলে ভূত ভেবে চিৎকার করে বাড়ি মাথায় তুলতো।

দরজায় ক্রমশঃ কড়া নারার শব্দ আসছে।এবার কন্ঠও শুনতে পাওয়া গেলো।ভয়ার্ত, কাঁপা কাঁপা আওয়াজ।
“আকাশ ভাই,আকাশ ভাই? জেগে আছেন?”
আকাশের মেজাজ খারাপ হলো।ভাই কি!কোন জন্মের ভাই লাগে ওর সে।ইচ্ছে হলো ওখানটাতেই সারারাত দাড় করিয়ে রাখতে।পাক ভয় একটু।শিক্ষা হোক।ভাই ডেকে তার কলিজা ছিদ্র করে দেওয়ার শাস্তি এটা।
তবে সেটা সে করলো না।ধীরে পায়ে উঠে গিয়ে খুললো দরজা।দু হাতে ফোন চেপে ধরে অসহায় চোখে তাকিয়ে আছে প্রিয়া।ওকে অবশ্য ভূত ভূতই লাগছে।ফোনের ফ্লাশ বোকা নিজের দিকে ধরে রেখেছে।আর ম্যাডাম এর চুল কখনো বাধা থাকা দেখতে পারা তো অষ্টম আশ্চর্য একটা বিষয়।গায়ে ডাস্টি পিংক কালারের একটা টি শার্ট আর, ক্রিম কালারের স্কার্ট।গলায় ক্রিম কালারের একটা ওড়না পেচানো।আকাশ দরজা ছেড়ে সরলো না।দু ভ্রু উচোলো?
“কি দরকার। “
“ভে..ভেতরে আসি?”
আকাশ হাত ঘড়ির দিকে তাকালো।গম্ভীর মুখ টা তুললো।”রাত এগারো টা বাজে।এসময় এখানে কি।”

এমন সময় আবার শব্দ করে বাজ পরলো।প্রিয়া আকাশ কে ঠেলে হুড়মুড় করে ঢুকলো ঘরের ভিতর।আকাশ বুকের ওপর দু হাত গুজে ঘুরে তাকালো।
“কি হলো এটা।”
“আমার ভয় করে আকাশ ভাই।”
মহা ফাজিল মেয়ে।আবার ভাই।বিরক্ত হলেও মুখে বললো না সেটা।গলা কঠিন করে বললো,”রাত বিরেতে নিজে আসো।অথচ পরে তো উল্টোপাল্টা ব্লেম আমাকে করো।বেরোও”.
প্রিয়া বের হলো না।মাথামাথা নাড়লো দু দিকে।যাবে না।গিয়ে কাচুমাচু হয়ে বসলো সোফার ওপর।আকাশ চিন্তিত মুখে দেখলো।দরজায় উকি দিয়ে বাইরে খেয়াল করলো।দরজা লক করে এসে বসলো চেয়ারে।প্রিয়া দু হাতে কান চেপে বসে আছে।ভয়ার্ত মুখ টা দেখে আকাশের বুকের ভিতর ঝড় শুরু হলো বোধহয়।কেমনে বেড়াল ছানার মতো চোখদুটো মেয়েটার।গুটিশুটি মেরে বসার স্টাইলে বিড়াল ছানাই লাগছে। আকাশ পাশ ফিরে বসলো।ফোন,ল্যাপটপ সুইচঅফ হয়ে আছে।সময় কাটাবে কি করে সে।জানালা হালকা খুলে দিয়ে এসে বসলে।
“লাগিয়ে দিন না সব।ভয় করে তো।”
আকাশ লাগালো না।নির্বিকার বসে রইলো। প্রিয়া দেখলো সেটা।খেয়াল করলো তাকে।রকিং চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে আছে।গায়ে ব্ল্যাক শার্ট আর ট্রাউজার। ইশশ কালোতে বুঝি পুরুষ মানুষ এতো সুন্দর লাগে।বাইরে ঝুম বৃষ্টি, ঘনঘন বাজ পরছে,আলোতে দেখা যাচ্ছে মানুষ টার মুখ।এ কি ঘামছে কেনো।বাইরে থেকে তো হু হু করে বাতাস আসছে।একটু পরপর শ্বাস ছাড়ছে জোরে জোরে।শরীর খারাপ কি

প্রিয়া উঠে এগিয়ে গেলো আকাশের দিকে।মিনমিন করে শুধোলো,”আপনার কি শরীর খারাপ লাগছে।”

আকাশ তাকালো প্রিয়ার দিকে।প্রিয়া চোখ সরিয়ে নিলো সাথে সাথে। এ চোখের এই দৃষ্টি তো সে চেনে।খুব চেনে।সেদিন…বুকের ভিতরটা ধক করে উঠলো।এলোমেলো লাগলো নিজেকে খানিকটা।তবে সরলো না।আবার একই প্রশ্ন করলো,”বললেন না তো।খারাপ…”

প্রিয়ার কথা শেষ করতে পারলো না।আকাশ হুট করে দাড়িয়ে পরেছে।পিছিয়ে গেলো সে দু পা।
আকাশ তাকিয়ে রইলো প্রিয়ার দিকে।ঝলসে দেওয়ার মতো মায়া ওই চোখেমুখে। তবে সামলে নিলো নিজেকে।এক ভুল বারবার করে ভালোবাসার মানুষ কে অসম্মান করা কোনো পৌরুষ্যত্ব নয়।কন্ঠ ভাড়ি করে বললো,”রুমে যাও।দরজা খোলা রাখো।আমার দরজাও খোলা রাখবো।ভয়ের কিছু নেই।”

প্রিয়া মাথা নাড়লো দু’দিকে।, “আমি যাবো না এখান থেকে।ঝড় হচ্ছে। আমার একা ভয় করে।”

“তুমি এখানে থাকলে আমার ভয় করে।”

প্রিয়া অবাক হলো।সে থাকলে ভয় করে মানে কি।সে কি বাঘ নাকি ভাল্লুক। চোর ডাকাত ও তো নয়।গাল ফুলিয়ে বললো,”ঝড়ের সময় কাছে কেউ থাকলে ভয় করে?”
“তুমি থাকলে ভয় করে।”

প্রিয়ার বুকের ভিতর টায় মোচড় দিয়ে উঠলো।কন্ঠ অন্য রকম শোনাচ্ছে আকাশের।এক নজর তাকালো সেদিকে।সত্যিই ঘোর লাগা চোখে তাকিয়ে আছে।এ চোখের টান সে নিজেও উপেক্ষা করতে পারেনা।কেমন চৌম্বক এর মতো টানে।নাড়িয়ে দেয় তার নারী স্বত্ত্বা।হঠাৎ কি একটা হলো প্রিয়ার।ভয়ডর ফেলে এগিয়ে গেলো আকাশের দিকে।আকাশ কপালে ভাজ ফেলে খেয়াল করলো সেটা।সরলো না ওখান থেকে।
“আমি কি আপনাকে খেয়ে ফেলবো।”

আকাশ বাঁকা হাসলো এবার।পকেটে গুজলো দু হাত।মাথা নাড়লো,”উহু,আমি খেয়ে ফেলতে পারি।”

প্রিয়াও বাঁকা হাসলো।কেমন একটা নেশাক্ত কন্ঠে বললো,”কনট্রোল নেই নিজের ওপর?”

আকাশ স্থির দৃষ্টিতে দেখলো মেয়েটাকে।মেয়েটা আজ তাকাচ্ছে তার চোখে।এই যেমন এখন চোখে চোখ মিলিয়ে দাড়িয়ে আছে।যেটা কখনো করে না।আকাশের বুকের ভিতরটা জ্বলে যাচ্ছে।মেয়েটার এ দৃষ্টি বুঝতে পারছে সে।কিন্তু এটা হওয়া যাবে না।হতে দেওয়া যাবে না।কন্ঠ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলো আকাশ।
“আছে কনট্রোল। কিন্তু এখন করতে ইচ্ছে হচ্ছে না।আবহাওয়া অন্য কিছু বলছে।ওয়ার্নিং দিচ্ছি রুমে যাও।”

প্রিয়া খিলখিল করে হেসে উঠলো।আকাশের নিজেকে দমিয়ে রাখতে কষ্ট হচ্ছে একপ্রকার। পকেটেের ভিতর মুঠো করে ধরলো দু হাত।এ হাসি বুকে চাকুর মতো খোচাচ্ছে।

“নিজের ওপর এতটুকুন কনফিডেন্স নেই?”

“প্রচুর কনফিডেন্স।তার জন্যই তো রুমে চলে যেতে বলছি।আমার কনফিডেন্স এর পরীক্ষা নিতে গিয়ে নিজের সর্বনাশ করতে না চাইলে যাও।

“যদি তবুও না যাই?”

প্রিয়ার কথা অন্য রকম শোনাচ্ছে।ভয়ংকর শোনাচ্ছে।
“ভয় পাচ্ছো না দেখছি।এতো সাহস দেখিয়ো না।আমি নিজেকে এখন হারিয়ে ফেললো তুমিও বিলীন হবে কিন্তু।সেটা তোমারই অসম্মান।”

প্রিয়া এবার অস্বাভাবিক একটা কাজ করে বসলো।আরও দু পায় এগোলো আকাশের দিকে।আকাশ বসে পরলো ডেস্কের ওপর।পিছনে হাত ভর দিয়ে।মেয়েটার কাহিনি তার সুবিধার লাগছে না।এতদিন তো এ মেয়ে না বুঝে অত্যাচার করতে।আজতো মনে হচ্ছে প্ল্যান করে।আকাশের গলা কাঠ হয়ে আসছে।কিছু বললো না সে।উল্টো প্রিয়া মুখ এগিয়ে নিলো বেশ খানিকটা।ফিসফিসয়ে বলে উঠলো, “বিলীন হতে চাই আজকে।”
আকাশের বাধ ভেঙে যেতে চাইছে।ঠেোট কামড়ে শক্ত হয়ে আছে।
“কেনো সর্বনাশ ডাকছো নিজের…সাথে আমারও।কলঙ্ক লেগে যাবে তোমার।”
প্রিয়া দু হাত আকাশের দু পাশে টেবিলে ভর দিলো।একদম মুখোমুখি গলো আকাশের।মাত্র এক-দেড় ইঞ্চির তফাত দু ঠোটের মাঝখানে।
আকাশ ঘামছে এবার।এ মেয়ে মারবে আজকে।নিজেও মরবে।
“লাগুক একটু।ক্ষতি কি?আপনি সে কলঙ্কের দাগ ঢেকে দেবেন।”
“খুন করতে চাইছো আমাকে?”
“খুন হতে চাচ্ছি।”

আকাশ থ মেরে চুপ করে রইলো।খুন হয়ে গেছে ইতিমধ্যে সে।আর কি বাদ আছে হওয়ার।
হঠাৎ খানিকটা পিছিয়ে খিলখিল করে হেসে ফেললো প্রিয়া।আকাশ হতভম্ব হয়ে গেলো।প্রিয়া হাসতে হাসতে মেঝেতে বসে পরেছে প্রায়।
“পুরুষ মানুষ বুঝি মেয়ে মানুষ এর কাছে গেলে এভাবেই খেই হারায়।”
আকাশ হাফ ছাড়লো।যাক মেয়ে হুশে ছিলো।তাকে জ্বালানোর জন্যই এতকিছু।খানিক রাগ হলো তার।তার ধৈর্যের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। একবার যদি সে বাধ ভাঙতো তখন বুঝতো মজা।সব শোধ তুলবে সে।
“কি হলো।কথা বলছেন না কেনো। কেমন ভয় দেখালাম বলুন।”
প্রিয়ার হাসি থামছে না।খুব পূন্যের কাজ করে ফেলেছে যেনো।
“সবার সমানে কনট্রোল হারাইনা ।স্পেসিফিক কারোর সামনে।”

প্রিয়ার হাসি থেমে গেলো।এবসর আর তাকাতে পারলো না।তখন তো মজা করার মুডে ছিলো।তাছাড়া কিছুতেই সে ওই চোখে চোখ রাখতে পারে না।উঠে দাড়ালো বসা থেকে।কি করা উচিত তার।চলে যাবে?নাকি আকাশই রেগে বের করে দেবে।
“আমাকে কি চলে যেতে বলবেন?”

আকাশ কিছু বললো না।বাইরে ঝড় একদম কমেনি।দেয়ালে ঝোলানো গিটার টা নামালো।এগিয়ে গিয়ে বারান্দার থাই দরজা বেশ খানিকটা খুললো।বাইরের ঝড়ো হাওয়া হুড়মুড়িয়ে ঢুকছে ঘরে।প্রিয়া শক্ত হাতে ওড়না চেপে রাখলো গায়ের সাথে। আকাশ তাকালো প্রিয়ার দিকে।ইশারা করলো সেদিকে যাওয়ার।প্রিয়া বাধ্য মেয়ের মতো এগিয়ে গেলো।বেতের সোফা এগিয়ে দিলো আকাশ তার দিকে।নিজে বসলো একটায়।গিটারে টুংটাং শব্দ আনছে।
প্রিয়া আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ো আছে হাতের দিকে।আকাশ তাকালো সেদিকে।বাতাসে চুলগুলে উড়ছে।গায়ে জড়ানো ওড়নাটাও।প্রিয়া বারবার চুল গুজে দিচ্ছে কানের পিছনে,ওঠনা ঠিক করছে।বিরক্ত হচ্ছে না।আকাশ মোহচোখে পরখ করলো সবটাই।বুকের ভিতরে ঝাপটে রাখতে ইচ্ছে হচ্ছে এখন।বাইরের ঝিরিঝিরি বৃষ্টি এসে ছুশে যাচ্ছে দুজনের শরীর।প্রিয়ার শরীর শিরশির করে উঠে।তার থেকে শিহরণ জাগাচ্ছে আকাশের ওই দৃষ্টি, বাতাসে ভেসে আসা সামনের মানুষ টার শরীরের মাতাল করা ঘ্রান।
আকাশ হঠাৎ নরম কন্ঠে বলে উঠলো,
“মেয়েদের অসম্মান হয় কিসে আমি বুঝি।কোনটা তাদের জন্য সম্মান কোনটা নয় জানি সব।ভুল হয়তো আগে হয়েছে।তার মানে এই নয় সে ভুল আমার সব মেয়ের সাথেই হয়েছে বা হতে পারে,বা সম্ভবনা আছে।উহু। নেই।একদম নেই।আকাশ এহনাজ চৌধুরী নিজের জিনিসের বাইরে কখনো কোনো নারীর দিকে চোখ তোলে নি।তুলবে না।ভয় পাওয়ার কারণ নেই তোমার।”

প্রিয়ার শরীরে শিহরন বয়ে গেলো।বাচ্চা নয় সে।আকাশ কি বলতে চাইলো সবটাই বুঝলো।লজ্জা লাগলো তার এখন।খুব লজ্জা।মাথা নিচু করে মেঝেটা আঙুল খোটাতে লাগলো।মানুষটা মুখে সোজাসাপটা কিছু বলে না,দু একটা কথা মাঝেমধ্যে শোনায়।অথচ ওই টুকু কথার মধ্যেই দুনিয়ার সকল ভরসা মিশিয়ে দিয়ে যায়।

“আর জানো তো একটা কথা।অনূভব সবসময় ছুঁয়ে করতে হয়না।শরীর স্পর্শ অনেক পরের বিষয়।মানুষ শুরুতে কিসে আটকায় বলেতো?”
প্রিয়া কিছু বললো না।চুপচাপ ওড়না চেপে বসে রইলো আকাশের পরের কথা শোনার জন্য। আকাশ কিয়ৎক্ষন স্থির চোখে তাকিয়ে রইলো সেদিকে।
“চোখের দৃষ্টি, চুলের, শরীরের ঘ্রান,তার উপস্থিতি…যারা গান লেখে ভাবতে পারো সে গানের প্রতিটা শব্দ দিয়ে প্রিয় মানুষ কে কতটা স্পর্শ করা যায়।শরীর নয় হয়তো।মন।মন স্পর্শ করতে পারা টা সবথেকে বড় ভালোবাসা…এই স্পর্শ কিন্তু অনূভব করার বিষয়,মন দিয়ে।শরীরের হিসেব অনেক পরে…”
প্রিয়া লজ্জায় লাল হয়ে গেছে।মুখটস টমেটোর মতো লাগছে।ঠোঁট কামড়ে ধরছে বারবার।
আকাশ প্রিয়ার লজ্জা বুঝলো।ঘোরলাগা দৃষ্টিতে তাকালো প্রেয়সীর দিকে।এক মূহুর্তের জন্য সরালো না প্রিয়ার মুখশ্রী থেকে।টুংটাং শব্দ করতে করতে এবার পুরোদমে সুর তুললো, মুগ্ধ করা কন্ঠে গেয়ে উঠলো,

Shohratein Toh Nahin Hai Mili
Na Raees Hoon Main Bada
Jaeb Mein Hai Nahin Kuch Magar
Paas Hai Jo Woh Sunn Le Zara
Tere Iss Dil Ko Churaane Ke Liye
Hai Yahi Ek Dhun
Sanam Ko Apna Banaane Ke Liye
Hai Yahi Ek Dhun
Hai Yahi Ek Dhun
Jab Bhi Barsaat Aaye
Palkon Mein Dhaak Lunga
Na Kami Koi Khalegi
Tujhe Itna Pyaar Dunga
Chaand Taare Le Aaun
Hai Yeh Toh Mumkin Nahin
Par Vaada Hai Yeh Kasam Se
Tere Saath Main Rahunga
Tere Saath Main Rahunga
Yeh Main Daawa Nahin Kar Raha
Koi Taj Mahal Hai Mera
Naam Ki Chand Deewaarein Hain
Jinko Hi Ghar Main Kehta Raha
Tere Iss Ghar Ko Sajaane Ke Liye
Hai Yahi Ek Dhun
Sanam Ko Apna Banaane Ke Liye
Hai Yahi Ek Dhun
Hai Yahi Ek Dhun
Ek Dhun
Ek Dhun
Tere Iss Dil Ko Churaane Ke Liye
Hai Yahi Ek Dhun

চলবে ইনশাআল্লাহ…🌼🍂

[গানটা খুউউউউব সুন্দর না বলো?🥹🤌]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here