আকাশপ্রিয়া #পর্ব_২৯

0
40

#আকাশপ্রিয়া
#পর্ব_২৯
#dure_dilshad_dua_দুর_এ_দিলশাদ্_দুআা

[🚫কপি করা নিষেধ, সম্পূর্ণ প্রাপ্তবয়স্ক দের জন্য উন্মুক্ত ]

সকাল সাতটা। ধরনীর বুকে আলো ফুটেছে।জানালার পর্দা গোলে মিষ্টি রোদ ঘরের মধ্যে এসে হালকা উত্তাপ ছড়াচ্ছে।শীতের ভাব শেষ হয়ে প্রকৃতিতে পুরোদস্তুর বসন্তের ছোঁয়া। তবে এখানকার আবহাওয়ায় বর্ষাকালের অনূভুতিই বেশি চোখে পরার মতো।ঝিরঝিরি মন ভালো করা এলোমেলো বাতাস।।
রোদ এসে চোখেমুখে লাগতেই চোখ কুচকে প্রিয়া কাত হয়ে মুখ গুজলো নরম বালিশে।কেমন একটা ভ্যানিলা,স্যান্ডাল উড মিশ্রিত ঘ্রান নাকে বারি নিয়ে উঠলো।ইশশশ কি মাতাল করা ঘ্রানটা।প্রিয়া আবেশে মুখ ঘোষলো বালিশে। ভালোমতো গায়ের কম্বল টা টেনে নিলে।মাথাসহ ঢেকে ফেললো।ঘ্রানটা আরও ছুয়ে গেলো যেনো।মিটিমিটি হেসে পাশের কোলবালিশ টা জড়িয়ে ধরতে চাইলো।একি তার কোলবালিশটা কই।চোখ বুজেই বিরক্ত মুখে হাতড়ালো সামনে।নাহ্ এবারও পেলো না।বিরক্ত চোখে পিটপিট করে তাকালো।কোত্থাও নেই বিছানায় বালিশটা।নিচে পরে গেছে?
প্রিয়া আধবসা হয়ে বিছানার পাশে উঁকি দিতেই চমকে গেলো।তার বিছানার চাদর থেকে পিংকি পিংকি চেরিব্লোসম এর ফুল গুলো উঠে কালো হয়ে গেলো কিভাবে।ফট করে উঠে বসলো।মাথার খোলা চুলগুলো এলোমেলো হয়ে পাখির বাসার মতো দেখাচ্ছে।আশেপাশে তাকালো বড় বড় চোখ করে।একি বিছানার কাভার থেকে শুরু করে বালিশের কভার,চাদর,সব কালো,এমনকি দরজা জানালার পর্দা গুলোও।কেমন একটা ডার্ক ভাইব পুরো রুম জুড়ে।।ঘুমের ঘোরে কালার ব্লাইন্ড হয়ে গেলো নাকি সে।দু হাতে চোখ ডললো আবার তাকালো।নাহ সত্যিই সব কালো।পুরো ঘরের ভাইবই কালো।
পিংক থেকে সব কালো হওয়ার রহস্যের জট খুললো কিছুক্ষণ এর মধ্যে।ঘুমের ঘোর ছাড়তেই মনে পরে গেলো গতরাতের কথা।খেয়াল হলো সে মূলত আকাশের রুমে।সর্বনাশ, সে তো গান শুনছিলো।ঘুমালো কখন,ঘুমালেও তো সে সোফায় ছিলো, বিছানায় আসলো কখন।হতবুদ্ধি হয়ে গেলো একমুহূর্ত।এদিক ওদিক তাকালো।আকাশকে কোথাও দেখতে পেলো না।বিছানার অবস্থা দেখে বুঝলো একাই ঘুমিয়েছে রাতে।কপালে চিন্তার ভাজ পরলো প্রিয়ার।মানুষ টা কোথায় ঘুমিয়েছে রাতে!
হঠাৎই পাশের বালিশ টা আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরলো প্রিয়া।মুখ ডুবিয়ে ঘ্রান টেনে নিলো।এইতো সেই ঘ্রান টা।আকাশ তার আশেপাশে আসলে ঠিক এই ঘ্রানটাই পায় সে।কি আছে এই ঘ্রাণে।তার গলা শুকিয়ে আসে,কেমন নেশা ধরতে চায়।সটান হয়ে শুয়ে পরলো।বালিসটা বুকে ধরে।মুখ তুললো না বালিশ থেকে।আকাশের শরীরের ঘ্রান।
বেশ খানিকক্ষন চোখ বুঝে পরে রইলো।হটাৎ হুশ হতেই লাফিয়ে উঠে বসলো।লোকটা তাকে এমন রংঢং করতে দেখলে কি ভাববে।
গায়ের চাদর সরিয়ে বিছানা ছেড়ে নামলো। উদ্দেশ্য এই ঘ্রান টার উৎস খোজা।গায়ের ওরনা টা ভালোমতো গায়ে জড়িয়ে গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে গেলো ড্রেসিং টেবিলের দিকে।হরেকরকম জিনিস সাজানো।মুখ বাকালো প্রিয়া।
“” এই তাহলে রহস্য পুরুষ মানুষ হয়েও এতো চকচকে স্কিনের।এ তো দেখি মেয়ে মানুষ এর থেকে বেশি রূপচর্চা করে।”
বিরবিরিয়ে এটা ওটা তুলে হাতে নিয়ে উল্টেপাল্টে দেখছে।বেশিরভাগই বিদেশি নামধাম।সবগুলো খুলে খুলে ঘ্রান শুকলো।উহু তাকে মাতাল করা সেই ঘ্রান এর উৎস পাচ্ছে না।মুখ তুলে পুরো ড্রেসিং টেবিলে নজর বুলালো একবার।একটা পার্ট লক করা।টানলো কিছুক্ষণ। খুললো না।
আবার টানবে হঠাৎ ই দরজায় ঠকঠক শব্দে চমকে দু পা পিছিয়ে দাড়ালো। দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকলো আকাশ।প্রিয়া কাচুমাচু করে দাড়িয়ে আছে।তাকে ওভাবে দাড়িয়ে থাকতে দেখে ভ্রু কুচকালো আকাশ।গলায় ঝোলানো সফেদ তোয়ালে টা দিয়ে ঘাম মুছলো মুখের।এগিয়ে গিয়ে খুলে পর্দা সরিয়ে জানালা গুলো খুলে দিলো।

প্রিয়া হা করে তাকিয়ে আছে।আকাশ কে দেখে বোঝা যাচ্ছে জিম করে আসছে।টাইটফিটিং হোয়াইট টি শার্ট আর থ্রি কোয়ার্টার কার্গো প্যান্ট।হাতের জিম করা পেশি গুলো ফুলেফেঁপে আছে।সেখান দিয়ে ঘাম গড়িয়ে পরছে।চিকচিক করছে ঘামে।এইযে সমস্যা হয়ে গেলো।ফট করে প্রিয়ার গলা শুকিয়ে এলো।রোবটের মতো দাড়িয়ে রইলো ওভাবেই।আকাশ ঘুরে এসে মুখোমুখি দাড়ালো।চুপসে যাওয়া মুখটা নিয়ে প্রিয়া এদিকওদিক চোখ লুকাচ্ছে।

আকাশ নিঃশব্দ দেখলো সেটা।সদ্য ঘুম ভাঙা ফুলো ফুলো মুখটা,এলোমেলো খোলা চুল।কি যে আদুরে লাগছে! আকাশের ইচ্ছে করছে টপাটপ ওই লাল ফুলো গালে চুমো খেতে।তবে অবাস্তব ইচ্ছে টা নিজের মনের মধ্যে দমিয়ে গলা ভারি করে বললো,”এ রুমেই কি থাকার নিয়ত করেছেন?রাতে তো ঘরছাড়া করেছিলেনই।এখনও..কি”

আকাশ কথা শেষ করতে পারলো না।প্রিয়া দু হাত সামনে তুলে থামিয়ে দিলো তাকে,
“এই না না।যাচ্ছি। আমার রুমে।রাতে ডাকলেই পারতেন। ডাকেননি কেনো?”

“এখন তো বলবেই।মহিষ এর মতো তো ঘুমাও।শুধু সাউন্ড বক্সে ডাকা বাদ রেখেছিলাম।বিশটা ঘুমের ওষুধ খেলেও তো মানুষের এতো গভির ঘুম হয় না।শোয়ার স্টাইল এর কথা আর কি বলবো।হুট করে রাতবিরেতে কেউ দেখলে হা পা ভাঙা ভূত ভেবে ভয়ে পালাবে।আর খাট তো তোমার একার লাগে।হাত পা ছড়িয়ে কি এক অবস্থা। তার ওপর নাক তো মাশাল্লাহ ডাকো।এ রুমের আশেপাশে থাকলে আমি আজ কালা হয়ে যেতাম।”

প্রিয়ার চোখেমুখে অবিশ্বাস ঠিকরে পরতে লাগলো।এ লোক বলে কি।সে মহিষের মতো ঘুমায়!নাক ডাকে!প্রতিবাদ করে উঠলো।
“মিথ্যা কথা।আমি মোটেই এমন করি না।”

আকাশ পাশ কাটিয়ে গিয়ে বসলো বিছানায়।তোয়ালে দিয়ে মাথা,বুকে, হাত মুছতে লাগলো।সহজ গলায় বললো “এখন বলবেই।মেয়ে মানুষ এমনই।সহজে তাদের দূর্বলতা স্বীকার করে না।প্রমান লাগবে!দারাও।”

আকাশ ফোন থেকে এডিটেট ভয়েজ রেকোর্ড বের করলো একটা।বাজিয়ে দিলো।ফোন এগিয়ে ধরলো প্রিয়ার দিকে। প্রিয়া হতবিহ্বল হয়ে গেলো।চোয়াল ঝুলে পরলো।কই আপু তো কখনো বলেনি তাকে এ কথা।।হ্যা মানছে তার শোয়ার স্টাইল ভালো নয়।একটু এলোমেলো ভাবে শোয়।আচ্ছা মানলো সে,একটু নয় বেশিই এলোমেলো ভাবে।তাই কি!তাই বলে নাক ডাকে!এটা মানবে সে!কাঁদো কাঁদো মুখ করে ফেললো।
“আপনি এটা…”

আকাশের পেটে ফেটে হাসি আসছে।প্রিয়ার চোখ ছলছল করছে।অপমানিত বোধ করছে বোধহয়।আকাশের ওই অভিমানী মুখের মায়া টা বুকে এসে তীর এর মতো লাগলো। উঠে গিয়ে কিছু বলতে যাবে।তার আগেই প্রিয়া সজোরে পায়ে একটা পারা দিয়ে দৌড়ে বেড়িয়ে গেলো রুমে থেকে।আচমকা এমন করায় আকাশ পায়ে ব্যাথায় মুখ কুচকে ফেললো,প্রিয়া চলে যেতেই এবার শব্দ করে হেসে ফেললো।

নাক ডাকার কথা টা ক্ষেপানোর জন্য। তবে এলোমেলো শোয়ার কথা টা একদম মিথ্যা নয়।ভয়াবহ সত্যি। সকাল বেলা এসেছিলো সে এ রুমে।জিমে যাওয়ার জন্য জামাকাপড় নিতে।সাথে অবশ্যই ঘুমন্ত পরীটাকে দেখতে।কিন্তু একি, পরী তো হাত পা চার দিলে ছড়িয়ে শুয়ে আছে।শীতে বারবার নড়াচড়া করছে।এদিকে গায়ে দেয়ার চাদর মেঝেতে পরে আছে।আকাশ সুন্দর করে ঢেকে দিলো প্রিয়াকে।হাত পা চাপিয়ে ভালোমতো শুয়িয়ে নিঃশব্দে বেড়িয়ে এসেছিলো রুম থেকে।
আকাশ এবার উঠে গিয়ে দরজা আটকে এসে বিছানায় বসলো।নিচু হয়ে প্রিয়ার মাথার বালিশে মুখ ডুবালো প্রিয়ার শরীরের ঘ্রান,কি শ্যাম্পু ব্যবহার করে মেয়েটা!

***
আজকে শুক্রবার।
এই পাচমাসের মধ্যে আজ প্রথম সইচ্ছায় অয়ন বাসাতেই।এতদিন বাসায় থাকার কোনো কারণ ছিলো না।শিয়া তার সামনে আসলে অপ্রস্তুত হয়ে যেতো,বিরক্ত হতো।তাই এ দিনও একগাদা কাজ বানিয়ে অফিসেই সময় কাটাতো সে।সাথে বাকিদের ও কাজে লাগিয়ে দিতো।আজ অবশ্য সেসবের বালাই নেই,সেসব করার আর কারণও নেই।
রাকিব, রেদেয়ান গেছে এয়ারপোর্টে। তুষি,রাকারা আসছে।সামনে মঙ্গলবার কক্সবাজার যাওয়া হবে।এখানে এ চারদিন সময় কাটিয়ে তারপর একসাথে সবাই রওনা দিবে কক্সবাজারের উদ্দেশ্য।

সকাল সকাল ডাইনিং টেবিল এ এসে হাজির হয়ে গেছে রাতুল।পারভীন খালা রান্না করছেন,প্রায় শেষের দিকে।খাবার খেতে এখনো কেউ নামেনি।ফ্রিজ খুলে একটা আপেল বের করে বসলো টেবিলে। একে একে নেমে এলো বাকি সবাই।প্রিয়া চেয়ার টেনে বসলো।আকাশকে খুজলো।আকাশ নামেনি এখনো।
উপরের করিডরে দরজা খোলার শব্দ হলো।অয়ন নেমে আসছে।রাতুলের মুখে বাঁকা হাসি খেলে গেলো।আড়চোখে তাকালো শিয়ার দিকে।শিয়া অজান্তেই লজ্জা পাচ্ছে। অয়ন মুখোমুখি বসলো শিয়ার।বাকিদের সামনে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করলো দুজনেই।অবশ্য এখানে রাতুল বাদে কেউ গতকাল এর খবর জানে না।আবার রাতুল যে জানে বিষয়টা সেটা আবার অয়ন শিয়া জানেনা।শিয়ার চোখ পরলো অয়নের দিকে।
সাদা টি-শার্ট, ধূসর ট্রাউজার—চুল ভেজা, হয়তো সদ্য গোসল করেছে। মুখে স্বাভাবিক ভাব আনার চেষ্টা আছে, কিন্তু চোখের নিচের হালকা ক্লান্তি লুকোনো যাচ্ছে না। রাতে ঘুম হয়নি। বোঝা যাচ্ছেে।
অয়নও তাকালো এক নজর। কিন্তু খুব দ্রুত দৃষ্টি সরিয়ে নিল।
অয়ন চেয়ার টেনে বসতেই রান্নাঘর থেকে পারভীন খালা উঁকি দিলেন।
— “খাবার দিই বাবা আপনাদের?”
— “দেন খালা।”

অয়ন এবার প্রিয়ার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো।প্রিয়াও হাসলো।অয়নের সাথে তার তেমন একটা আলাপ নেই।দু একবার কথা হয়েছে এই যা।এছাড়া এরকম ভাবে একসাথে সবার খাওয়াদাওয়াও বোধহয় আজই প্রথম।তাই গল্প আড্ডা টা কখনে হয়ে ওঠেনি।আজ সব দিনের ব্যাতিক্রম দেখে খানিকটা অবাকই হয়েছে প্রিয়া।

আজ রোজকার শুনশান হয়ে থাকা কটেজের দরজা-জানালা সব খোলা, ভেতরে আলো ঢুকছে নির্দ্বিধায়। রান্নাঘর থেকে ভাজা পরোটা আর সুজির হালুয়ার গন্ধ ভেসে এসে ডাইনিং স্পেস ভরিয়ে রেখেছে।

কিছুক্ষণ এর মধ্যে আকাশ নেমে এলো।গ্রে কালার একটা শার্ট আর হোয়াইট ট্রাউজার। আকাশ ও গোসল করেই নামছে।ভেজা চুল চিকচিক করছে।আকাশ রাতুলের চোখাচোখি হলো।বাঁকা হাসি খেলে গেলো দুজনের চোখেই।আকাশ শব্দ করে চেয়ার টেনে ভাইয়ের পাশে বসলো।
“গুড মর্নিং। “
“” মর্নিং”
“আজকে বাড়িতে কি মনে করে?”
অয়ন খালি প্লেট থেকে দৃষ্টি তুললো।ভাইয়ের দিকে তাকালো।আকাশ মিটিমিটি হাসছে।
“বাড়িতে থাকা মানা?”
“তা কখন বললাম।”
অয়ন আর কিছু বললো না। ভান করে নির্লিপ্ত রইল।আকাশ আসায় হালকা লজ্জা লজ্জা তারও লাগছে।গতকাল কি না কি দেখে ফেলেছে খোদা জানে। অয়ন প্লেটে ডিম কাটছে খুব মনোযোগ দিয়ে। কিন্তু তার ঠোঁটের কোণে চাপা হাসি লুকোনো যাচ্ছে না। শিয়া পানি ঢালতে গিয়ে গ্লাসটা একটু বেশি ভরে ফেলল।
রাতুল এবার শব্দ করে হেসে ফেললো।প্রিয়ার দিকে তাকিয়ে বললে,”
“প্রিয়া,ডুবে ডুবে জল খাওয়া বোঝো?”
প্রিয়া সুজির হালুয়া মুখে দিচ্ছিলো।চামচ মুখ অবধি ধরা অবস্থায় অবাক চোখে রাতুল এর দিকে তাকালো।কথাটা এখন বলার কারণ বুঝতে চাইলো আরকি।
“কেনো ভাইয়া?”
“আচ্ছা তোমার বয়স কত?”
“সামনে উনিশ হবে।”.
“ বিয়ের বয়স কিন্তু পার হয়ে গেছে।”
প্রিয়া লাজুক মুখে আকাশের দিকে তাকালো।কেনো তাকাো সে নিজেও জানেনা।
“তবে শিয়ার বিয়ে না হওয়া অবধি তোমার হচ্ছে না এটা নিশ্চিত। “
প্রিয়া মাথা নাড়লো।”তা তো হবেই না।”
“তাহলে তোমার কি মনে হয় না তোমার এখন একটা দুলাভাই আনা দরকার। “
প্রিয়া মুখটা অসহায় এর মতো বানালো।ঠোঁট উল্টে বললো, “তা তো সবসময়ই মনে হয়।”
“আহ হা। শুধু মনে হলেই কি চলবে?এটার জন্য দুলাভাই পটাতে হবে না?”
“রাতুল থামবি…”শিয়া কপট ধমকে উঠলো।রাতুল মোটেও পাত্তা দিলো না।
আকাশের দিকে ফিরে বললো,”হলিউড মুভি পরে চলবে,আগে একটা খাটি বাংলা মুভির আয়োজন করতো।ওইযে পুরো মুভি জুড়ে মান অভিমান, মারামারি কাটাকাটি শেষে নায়ক নায়িকার মিল হয়,আর লাস্ট দৃশ্যে দেখায় কাজি সাহেব বলছেন বলো মা কবুল!নায়িকা কেঁদে কেটে কবুল পরছে।”
আকাশ ভাইয়ের দিকে তাকালো।”ভাইয়া বুদ্ধি টা কিন্তু নেহাৎ মন্দ নয়।”
অয়ন বেকার চোখ রাঙিয়ে তাকালো দু’জনের দিকে।রাতুলও যে সবই জানে বুঝে গেলো এবার।বিষয়টা শিয়াও ধরতে পেরেছে।লজ্জায় লাল হয়ে যাচ্ছে পুরো।মাথা নিচু করে প্লেটের দিকে তাকিয়ে খাবারে নাড়াচাড়া করে যাচ্ছে।রিয়ান ও মিটিমিটি হাসছে।সকাল সকাল রাতুল তাদের জানিয়েছে বইকি গতরাতের হলিউড মুভি সিনের কথা।তাদের আর বুঝতে বাকি নেই রেদোয়ান এর প্ল্যান খাপে খাপ কাজ করে গেছে।

আকাশ প্রিয়ার দিকে তাকিয়ে আড়চোখে তাকালো।প্রিয়া অবুঝ এর মতো হা করে শুনছে সবার কথা।রাতুল এর দিকে তাকিয়ে মুখ ফুলিয়ে বললো, “
“আমি কি কিছু মিস করেছি?”
“তা আর বলতে।এ সিন কালেভদ্রে চোখে পরে।”
“আমিও দেখবো।”

বাচ্চাদের মতো গাল ফুলালো প্রিয়া।রাতুল বাঁকা হেসে তাকালো আকাশের দিকে।”কিরে আকাশ দেখাবি ওকে?”
আকাশ চোখ গরম করে তাকালো।রাতুল মাথা নিচু করে হাসতে হাসতে হালুয়া মুখে পুরলো।
“রাতুল ভাইয়া বললে না তো।”
রাতুল একবার অয়ন,একবার শিয়া পরপর দু’জনের দিকে তাকালো।গম্ভীর হওয়ার চেষ্টা করলো।
“সবাই জানে যখন।দু পক্ষের সবথেকে কাছের মানুষ টিকে না জানানো কি ঠিক হয়েছে? “
অয়ন হেসে ফেললো, মাথা তুলে তাকাল সোজা শিয়ার দিকে , শিয়াও তাকালো।চোখাচোখি হলো দু’জনের।প্রিয়া বোনের দিকে তাকিয়ে আছে।শিয়া লজ্জায় চোখ সরিয়ে নিলো।
রাতুল টেবিলে আঙুল ঠুকে বলল,
“দেখেছিস? সিঙ্ক্রোনাইজড মুভমেন্ট!”
রিয়ান শব্দ করে হেসে নাটকীয়ভাবে বলল,
“আমাদের সামনে অভিনয় কইরো না, আমরা কিন্তু সব জানি।”
শিয়া এবার সত্যিই হেসে ফেলল। অয়নও আর গম্ভীর থাকার চেষ্টা করল না। মাথা নাড়িয়ে বলল,
“তোদে কল্পনাশক্তি খুব বেশি।”
তীব্র প্রতিবাদ করে উঠলো রাতুল।”মোটেই না।কাল যা দেখেছি ওটা কল্পনা হতেই পারে না।তাই না আকাশ।”
শিয়ার লজ্জায় মাটির নিচে ঢুকে যেতে মন চাচ্ছে।ছেলেগুলো এতো ফাজিল!

“ভাইয়া এটা কিন্তু ঠিক না।কিছু একটা সবাই জানেন শুধু আমি বাদে।”
রাতুল ট্যিসুতে হাত মুছে দু হাত টেবিলে রেখে খুব সিরিয়াস হওয়ার চেষ্টা করলো।শিয়া চোখের ইশারায় বারবার না করছে।রাতুল সেদিকে দেখেও দেখলো না।প্রিয়ার দিকে তাকিয়ে বললো,”
“তোমার একমাত্র দুলাভাই যে অয়ন ভাই সেটা তোমার জানা ছিলো না প্রিয়া?”

প্রিয়ার হাতের হালুয়ার চামচ খানা প্লেটের ওপর ঝনঝন শব্দ করে পরলো।চোয়াল ঝুলে গলা ছুয়েছে।চোখ দুটো এতোটা বড় করেছে, যেনো ঠিকরে বের হয়ে আসতে চাচ্ছে।বোনের দিকে তাকালো প্রিয়া।শিয়া কি বলবে।এমন অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলে দেওয়ার মানে হয় কোনো।সবাই জানে,প্রিয়া কেও আজই জানাতো।সবার সমানে এভাবে লজ্জা দেয়ার মানে হয়!প্রিয়া কথা হারিয়ে ফেলেছে।দু হাতে খামছে ধরলো শিয়ার বাম পাশের বাহু।ঝড়ের গতিতে ঝাকিয়ে উঠলো, “সত্যিইইইই?”

শিয়া বোনের দিকে তাকালো।আড়চোখে মুচকি হাসা অয়নকে দেখে প্রিয়ার দিকে তাকিয়ে ওপর নিচ মাথা নাড়লো।
প্রিয়া বোনকে ছেড়ে দু হাতে মাথার চুল খামচে ধরলো।
“এতো বড় কাহিনি বলিস নি কেনো!আমার একমাত্র বোন প্রেম করে আর আমি জানি না!কবে থেকে বল?”

“আমি বলছি,আমি বলছি।তোমার বোন আর কি বলবে।”

প্রিয়া গোলগোল চোখ করেই রাতুল এর দিকে মুখ করে বসলো।রাতুল সাত বছর আগের কাহিনি থেকে শুরু করে গতকাল অবধি সংক্ষেপে জানালো প্রিয়াকে।

সব শোনার পর খুশিতে প্রিয়ার স্থানকাল ভুলে লাফাতে ইচ্ছে হচ্ছে। বয়স্কদের মতো করে বুকে হাত গুজে মাঝা ঝাকালো,”এর জন্যই তো বলি মিস ইনশিয়া রহমান এর জীবনে এতো কিসের দুঃখ।সকাল বিকেল উদাস হয়ে বসে থাকে,একা একা চোখের পানি ফেলে।কার খেয়ালে। আজ হিসেব মিললো।”

সবাই শব্দ করে হেসে ফেললো।শিয়া বোনের মাথায় হালকা করে চাটি মারলো।প্রিয়া একলাফে উঠে গেলো অয়নের কাছে।পাশের চেয়ারে রাতুল বসা।তার দিকে ফিরলো।
“ভাইয়া.।যদি একটু..।”
রাতুল প্রিয়ার ইশারা বুঝলো।ফট করে চেয়ার ছেড়ে অন্য চেয়ারে বসলো।প্রিয়া বসলো অয়নের পাশে।গালে হাত দিয়ে ভাবুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো অয়নের দিকে।
“আহারে একমাত্র দুলাভাই। এতদিন লুকিয়ে থাকার মানে হয়।আমার ভয়েই লুকিয়ে ছিলেন বুঝলাম।এখন কিন্তু ছাড়ছি না।উহু।একদমই ছাড়ছি না।”

প্রিয়ার নাটকে রীতিমতো হাসতে হাসতে কাশি উঠে গেছে সবার।আকাশ স্বভাবসুলভ চেপে হাসছে।
অয়ন হাত মাথায় রাখলো প্রিয়ার।আলতো হাতে এলোমেলো করে দিলো চুল।
“আমাকে তোমার মনে নেই?তোমার বোন আমার সাথে দেখা করতে আসার সময় তোমাকে নিয়ে আসতো।তোমার তখন দশ -বারো বোধহয়! “

“হাহ্ ওটা আমার জিজু সেটা জানলে তো মনোযোগ দিয়ে মনে রাখতাম।তখন তো বলতো বড় ভাই।তাই বোকার মতো খেয়াল দেইনি।”

“বেশ এবার তুমিও আমাকে একটু খেয়াল করো।আমিও তোমাকে খেয়াল করবো।শালি মানে আধি ঘরওয়ালি বলে কথা।”

শিয়ার দিকে তাকিয়ে চোখ টিপলো অয়ন।শিয়া মুচকি হেসে চোখ রাঙালো।বাকিরা হেসে উঠলো।

*****

সকালের খাবার টেবিলের জমজমাট আড্ডার পর যারযার ঘরে চলে এসেছে সবাই।ফ্লাইট লেট হওয়ায় রাকা আর তুষিকে নিয়ে রেদোয়ান রা এখনো ফেরেনি।জুম্মার নামাজ পরতে বের হবে ছেলেরা।প্রিয়া এতক্ষণ বোনের পিছন পিছন ঘুরঘুর করে,বোনকে নানারকম ভাবে বিরক্ত করে নিজের ঘরে এসে শাওয়ার নিয়ে বেরিয়েছে।
ছাদে এসেছে।রোদে চুল শুকাতে।হঠাৎ কি একটা খেয়াল হতে ছুটলো নিচে নামতে।এসে থামলো আকাশ এর রুমের সামনে। আজকে শুক্রবার তো।নিশ্চয়ই নামাজে যাবেন উনি।এতদিন তো শুক্রবার এও অফিস থাকতো।
আকাশকে ওর পাঞ্জাবি তে দেখা হয়নি কখনো।আজকে তো নিশ্চয়ই পরবে।
করিডর জুড়ে পায়চারি শুরু করলে প্রিয়া।মিনির দশেকের মাথায় আকাশ বেরিয়ে এলো দরজা খুলে।প্রিয়া ঘুরে তাকিয়েই মুখটা শুকনো করে ফেললো। পাঞ্জাবি পরে নি আকাশ।ন্যুড পারপেল কালার একটা শার্ট আর হোয়াইট প্যান্ট।টুপি টা হাত থেকে পকেটে গুজলো।প্রিয়া আকষ্মিক সামনে এসো দাড়ালো।আকাশ দরজা আটকে ঘুরে প্রিয়াকে এভাবে সামনে দেখে চমকে উঠলো।
“কি সমস্যা। এভাবে উপরে উঠছো কেনো।”
“কথার কি ছিড়ি।ওপরে উঠছি মানে কি!”
“সরে দাড়াও।এতো ঘেষে দাড়াবে না।”
“ঘেষে কোথায় দাড়িয়েছি।”
“আরও দূরে দাড়াও।”

প্রিয়া বিরক্ত ভঙ্গিতে পিছিয়ে দাড়ালো।হতাশ গলায় বললো,”শুক্রবার এর দিন।নামাজে যাচ্ছেন।পাঞ্জাবি পরলে সমস্যা কি?”

আকাশের কপালে ভাজ পরলো।মেয়েটার মাথায় হঠাৎ এই কথা কেনো আসলো বুঝতে চাইছে।ফোন বের করে সময় দেখলো।গম্ভীর গলায় বললো,”অভ্যাস নেই।”

লোকটা মহা ব্যাকডেটেড।পাঞ্জাবি পরার নাকি অভ্যাস নেই।পুরুষ হয়ে জন্মেছে। অথচ পাঞ্জাবি পরে না।ভাবা যায়।সখে কি সে রসকষহীন বলে।তীব্র অধিকারবোধ কন্ঠে এনে বললো,
“করে নিন।”

আকাশ সে অধিকার বোধ ধরতে পারলো।তবে না বোঝার ভাব করে বললো,”কেনো কেনো?”

প্রিয়া চোখ সরালো অন্য দিকে।মিনমিনিয়ে জাবাব দিলো,”এমনি।”

আকাশ শব্দহীন হাসলো।প্রিয়ার নজরে সেটা পরার আগেই সযত্নে আড়াল করলে সে হাসি।মাথা নুয়িয়ে আনলো প্রিয়ার কানের কাছপ।ফিসফিসিয়ে বললো
“তোমার পছন্দ। “

আকাশের শরীরের সেই কড়া ঘ্রান এসে লাগলো প্রিয়ার নাকেমুখে।আকাশ বোধহয় আবার শাওয়ার নিয়েছে।দিনের মধ্যে একশবার শাওয়ার নিতে হয় এ লোকের।আধভেজা চুলের ছোঁয়া লাগলো প্রিয়ার কপালের ডান পাশে।শিউরে উঠলো সে।মোহাচ্ছন্নের মতো জাবাব দিলো,”খুউউউব।”

আকাশ এবার সরে আসলো প্রিয়ার থেকে। এ মেয়ের এতো কাছে গেলে তার দিন দুনিয়ার হিসেবের গড়মিল হয়ে যায়।ভাবলেশহীন ভাবে বললো,”কেমন একটা বয়স্ক লাগে।”

“আপনি তো বয়স্কই।”
প্রিয়ার বোকার মতো কথায় কপাল কুচকে ফেললো আকাশ।বলে কি এ মেয়ে।বয়ষ্ক। কে!আকাশ এহনাজ চৌধুরী!
“আমি বয়স্ক? চোখের কি মাথা খেয়েছো?”

“নাহ খাইনি।খাইনি দেখেই তো আগে বলিনি কখনো।মানে আপনার যে বেশি বয়স সেটা বোঝা যায়না। ভালো মেইনটেইন করেন আরকি।”

আকাশ রীতিমতো থতমত খেয়ে গেলো।প্রিয়াকে দেখে মনে হলো না সে ইয়ারকি করে কথাগুলো বলছে।বরং মুখের ভঙ্গিতে স্পষ্ট। সে খুব সিরিয়াস ভাবেই কথা গুলো বলছে।আকাশ চটে গেলো,”অ্যাই মেয়ে,অ্যাম ওনলি টুয়েনটি এইট।”

“মুসলমানি হয়েছিলো আপনার?”

প্রিয়ার কথায় আকাশের কাশি উঠে গেলো।কোন কথার মাঝে কোন কথা বলে।মাথা খারাপ নাকি।কঠিন গলায় ধমকে উঠলো
“হোয়াট রাবিস।”

প্রিয়া অবশ্যই সে ধমকের ইয়ত্তা করলো না।বড় মানুষের ভঙ্গিতে মাথা দোলালো,”আট দশ বছর বয়সে নিশ্চয়ই? ভাবুন আপনি যখন উহুম উহুম। পুরোদস্তুর পুরুষ হচ্ছিলেন আমার তখন সবে জন্ম। নিজেকে এরপরও বয়ষ্ক বলবেন না?”

এহেন বোকার যুক্তিতে কি বলার থাকতে পারে আকাশের।হতাশ চোখে তাকালো সামনের গাধাটার দিকে।”মাথার সমস্যা টা কি জন্ম থেকেই?”

প্রিয়া দু দিকে মাথা নাড়লো।”সমস্যা নেই তো।তবে মা বলে দুবছর বয়সে নাকি একবার কমোটের ওপর উপুর হয়ে পরে গেছিলাম।”

আকাশ নাক মুখ সিটকে উঠলো।প্রিয়া মুখ বেজার করলো তা দেখে।
“নাক সিটকাবেন না।কমোট পরিষ্কার ছিলো।ওই তারপর থেকেই একটু বেশি কথা বলি।”

আকাশ এর দেয়ালে কপাল ঠুকরাতে ইচ্ছে হচ্ছে। কার সাথে কথা বলছে সে।দাঁতে দাঁত পিষলো প্রিয়ার দিকে তাকিয়ে।
“একটু?খোদা কার পাল্লায় ফেললে! শেষমেশ কমোটের পাগল!খোদা মাফ করো।মাফ করো।”

আকাশ আর এক সেকেন্ড দাড়ালো না।নিচে রাতুল টা অপেক্ষা করছে।অয়ন ভাই ক্রমাগত মেসেজ করছে নামার জন্য। নামাজে দেরি হয়ে যাচ্ছে।এখন এখানে এই কমোটে পরা পাগলের সাথে কথা বলে সময় নষ্ট করার মানেই হয়না।সিড়ি দিয়ে নামতে নামতে কপাল চাপড়ালো আকাশ।ওপর দিকে একবার তাকিয়ে মাথা দুদিকে নেড়ে হতাশ গলায় বিরবিরালো,”খোদা আকাশ এহনাজ চৌধুরীর বউ হবে কমোটে পরা পাগল।এ কথা লোকসমক্ষে গোপন রাখতে পারলে বাঁচি। সে তৌফিক দান করো খোদা.”

প্রিয়া বিরক্ত মুখে তাকিয়ে রইলো।এতো করে বলার পরও পাঞ্জাবি পরলো না ত্যাড়া লোকটা।মাঝখান থেকে তাকে কমোটের পাগল বললো।অপমান।এ ঘোর অপমান।মুখ ভেঙচিয়ে ঘরে ঢুকে গেলো।

****
রোদ পরে গেছে।প্রকৃতির দাবিতে ঠান্ডা বাতাস বইছে।বেশিরভাগ গাছেই এখনো নতুন পাতা গজানো শুরু করেনি।জু্মার দিন হওয়ায় নিরব এলাকা আরও নিরব লাগছে।
নামাজ পরে রাস্তার ধারে চায়ের আড্ডায় মেতেছে তিনজন।অয়ন কে এমন রুপে পাওয়া যায়না আজ বহুবছর।অথচ ভাইটা আজ নিজে থেকে হৈ হুল্লোড় এ ব্যাস্ত।আকাশ শান্তির হাসি হাসলো।অয়ন বরাবরই আকাশের উল্টো।আকাশ যতটা গম্ভীর, জনসমাগম বিমুখ। অয়ন ততটাই আমোদপ্রিয়। শিয়ার সাথে বিচ্ছেদের পর সেসব থেকে দূরে সরে যায় সে।আকাশের থেকেও দ্বিগুণ গম্ভীর হয়ে যায়।পরিবার, বন্ধু বান্ধব সবার থেকে এক প্রকার সরিয়ে রাখতো নিজেকে।আর শিয়া ফিরে আসতে না আসতেই একদিনের ভেতর সেই পুরানো ভাইকে দেখে আকাশ খোদার কাছে কৃতজ্ঞ।
রাতুল চায়ের কাপে শেষ চুমুকটা দিয়ে কাপ নামিয়ে রাখলো।
“ভাই।বিয়েটা করে ফেলা উচিত তোমার।”
অয়ন মিটমিটে হেসে চুমুক দিলো নিজের কাপে।”কেনো!তোর এতো জলদি কেনো।”

“আমার মোটেই জলদি না।আপনার বিয়ে হলে আমরা পরপর আরেকটা বিয়ে খেতে পারি আরকি।”

আকাশ চোখ রাঙালো।সবার হাটের হাড়ি ভাঙা এই ছেলেটার স্বভাব।না করলেও শোনেনা।
অয়ন ভ্রু জোড়া তুললো,
“কার বিয়ে?”

“কেনো? আকাশের।কার আবার।বেচারা বউ কাছে না পেয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে একদম।”

“শাট আপ রাতুল।”

আকাশের ধমক,চোখ রাঙানো গায়ে মাখলো না সে।।ঘেষে দাড়ালো অয়নের পাশে।
“ভাই,অভিযোগ চাইলে করতেই পারি।শালিকা আপনার একটা।সেটায় চোখ দেওয়ার মতো মহাপাপ করতে পারতাম আমরা।কিন্তু যেখানে আকাশ…উহুম উহুম।না মানে বেয়াই বেয়াইন এর একটা বিষয় আছে।তাই আপনার শালিকা আমাদের বোন,আমাদের ভাবি।”

জগাখিচুড়ি কথার মানে ধরতে সময় লাগলো অয়নের খানিকটা।চোখমুখে চিন্তার ভাজ এনে ভাবলো খানিকক্ষণ। রিয়ান ও থ হয়ে গেছে।কার কথা বলছে রাতুল।প্রিয়া?নাহ তা কি করে হয়।
অয়ন চমকে তাকালো আকাশের দিকে।
“ভাই…প্রিয়া?”
আকাশ সজোরে মাথা নাড়লো দু’দিকে। রাতুলকে চোখের ইশারায় থামতে বলে ভাইকেও না করলো।
“ওসব কিছু না।সব ওর ফাইজলামি।”

রাতুল মহা ব্যাস্ত হয়ে গেলো আকাশের কথা মিথ্যা প্রমানে।
“মুখ খুলবো আমি?খুলবো?”

“আর একটা ফালতু কথা বললে তোর চাকরি নট।”

রাতুল কপট আহত চোখে তাকালো সবার দিকে।
“আমাকে তুই এ কথা বলতে পারলি আকাশ?”
“পারলাম। যেটা বললাম সেটা করতেও পারবো।মুখ বন্ধ রাখ।ফালতু কথা অফ।”

অয়ন কিছু জিজ্ঞেস করতে যাবে।আকাশ ইশারায় নিষেধ করলো।সেরকম কিছু নয় এটা বোঝালো আরকি।হাঁটা ধরলো কটেজের দিকে।

চলবে ইনশাআল্লাহ….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here