আকাশপ্রিয়া #পর্ব ৪১( প্রথম অংশ)

0
32

#আকাশপ্রিয়া
#পর্ব ৪১( প্রথম অংশ)
#dure_dilshad_dua_দুর_এ_দিলশাদ্_দুআা

[🚫কার্টেসি ছাড়া কপি করা নিষেধ, সম্পূর্ণ প্রাপ্তবয়স্ক দের জন্য ]

____”এইযে একটা অবিবাহিত মেয়ের ঘরে আছেন।মেয়েটাকে আষ্টেপৃষ্ঠে কোলের ওপর বসিয়ে রেখেছেন। জোর করে চুমু খাচ্ছেন। ভদ্রলোকের কাজ এসব?”

অশ্লীল হাসি দিলো এবারে আকাশ।সে হাসিতে শরীর অবশ হয় প্রিয়ার। একরাশ মাদক গলায় বললো,
____”চুমু টা কি শেষ অবধি জোরজবরদস্তিই ছিলোএকফোঁটাও এনজয় করোনি?”

____”ছিহ্”।

মুখ ঘুরিয়ে ফেললো প্রিয়া লজ্জায়।কথাটা তোলায় পাপ হয়েছে তার।আকাশ মুখ টেনে ঘোরালো তার দিকে।
____”ছিহ?সত্যিই কি?”
____”নয়?”
____”আমি তো খেয়াল।করলাম শেষের দিলে আমার সাথে রেসপন্স করছিলো একই তালে।ওটা তাহলে…

প্রিয়া চেপে ধরলো আকাশের মুখ।চোখ বুজে নিলো নিজের।অস্ফুটস্বরে কয়েকবার আওড়ালো,
____”নির্লজ্জ চুপ,চুপ।কিছু বলবেন না।ভুল হয়েছে আমারই।খুব ভুল হয়েছে।”

আকাশ হাসলো আড়ালে। প্রিয়াকে নামিয়ে নিজে উঠে গিয়ে দরজা হাট করে খুলে দিলো। দরজা খোলা মাত্রই কিছুটা দূরে আরশিকে দেখতে পাওয়া গেলো। ভাইকে দরজা খুলতে দেখে মিটিমিটি হেসে এগিয়ে এলো।আকাশের বা পাশ দিয়ে ভিতরে উঁকি দিলো। ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বাকা গলায় বললো,
____”আমার ডিউটি শেষ?”
____”ভিতরে যেতে পারিস। আমি নিচে যাবো এখন…”

আকাশ ঘুরলো প্রিয়ার দিকে। মৃদু হেসে বেড়িয়ে গেলো ঘর থেকে। আরশি ছুটে এলো প্রিয়ার কাছে। প্রিয়া লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে তাকাতেই পারছে না আরশির দিকে। আরশি প্রিয়ার মুখটা গভীর ভাবে অবলোকন করে ফিচেল গলায় বললো,
____”ছোটবউমনি,নিচে যাওয়ার আগে মুখটা কিন্তু একটু ধুয়ে নেওয়া উচিত। না হলে…

প্রিয়া এক হাতে মুখ চাপা দেয় নিজের। ছিহ্ লোকটা তার ছোট বোনের সামনে কি পরিমাণ অপদস্ত করে গেলো।
আরশি হাসে একগাল, প্রিয়াকে এসে জড়িয়ে ধরে দু হাতে।
____”লজ্জার কিছু নেই। আমি কিছু বুঝিনি কিন্তু….

______

নিচের খাওয়াদাওয়ার পর্ব শেষ হয়েছে। প্রিয়ার বাবা আনিসুল রহমান অতিথি দের কটেজে যেতে দেবেন না এতো রাতে। এতোটা পথ জার্নি করে এসে এতো রাতে আবার ঘন্টাখানেক জার্নি করে কটেজে যাওয়ার মানেই হয়না। অয়নের এ শরীরে এতো ধকল নেওয়া উচিত নয়। তাদের বাড়ি যথেষ্ট বড়। সুতরাং কমবেশি করে সবাই নিশ্চিন্তে থেকে যেতে পারবে। শাহজাহান চৌধুরীও বেয়াই এর কথা ফেলতে পারলেন না। সেই থেকে রেনুকা রহমান এর সাথে ব্যাস্ত হয়ে এ ঘর ও ঘর গোছাতে ছুটছে রাকা,তুষি,রিমি। একটু আগে নিজের ঘর থেকে প্রিয়াও এসেছে। না করা সত্ত্বেও আরশি,আয়াত,এরিনও সাহায্য করছে। আর আরাফ এর তো কথাই নেই।

আনিসুল রহমান মুগ্ধ হন চৌধুরী পরিবার এর সকলে দেখে। দুটো মেয়েই যে গোটা জীবনের জন্য সঠিক মানুষ, সঠিক পরিবার বেছে নিয়েছেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই। শিয়া বসে আছে ড্রয়িং রুমে, পাশেই অয়ন। রাকিব,রেদোয়ান, রাতুলও কাছেই। সারাদিন ওরা বাইরে খুব দৌড়াদৌড়ি করেছে। আনিসুল রহমান কড়া নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আর কোনো কাজ ওদের না করতে। আপাতত বন্ধু রা মিলে গল্প করুক সকলে। আকাশকে ওপর থেকে নেমে আসতে দেখে নিজেদের মধ্যে কানাঘুষা শুরু হয়ে গেলো তাদের। আকাশ সেসবে পাত্তা না দিয়ে নির্বিকার হয়ে বসলো অয়নের পাশে। রাতুলদের দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুচকে বললো,
____”যেখানেই যাস গ্রামের চাচাতো বোনদের মতো এতো কানে কানে কি কথা থাকে তোদের! “

রাতুল আহত গলায় বললো,
____”যেই বিয়ের কথাটা পরিবার এর সবাই মানলো।অমনি পাল্টি খেয়ে গেলি আমাদের সাথে হ্যা?”
____”সাট আপ।”

আজেবাজে বকবকানি চলছে, চলবে যতক্ষণ জেগে থাকবে। এটা শতভাগ নিশ্চিত। রিমি দোতলার করিডর থেকে একমনে তাকিয়ে আছে রাতুলের দিকে। হাস্যজ্বল একটা মানুষ। কি যে সরল একটা সত্ত্বা আছে মানুষ টার ভিতরে, সে খুব অল্প সময়ে টের পেয়ে গেছে সেটা। প্রিয়া বালিশের কভার নিয়ে ছুটছে এ রুম থেকে সেরুম। রিমিকে ওভাবে ঠায় দাড়িয়ে থাকতে দেখে বিরক্তই হলো খানিকটা। ভ্রু কুচকে ধমকে উঠলো,
____”হাতে এগুলো পরে গেলো ধরা বাদ দিয়ে হা করে কি দেখছিস।”

প্রিয়ার গলার স্বর বেশ উঁচুই এই মূহুর্তে। নিচে উপস্থিত সকলেই তাকালো ওপরের দিকে। রিমি একপ্রকার ছিটকে কয়েকপা পিছিয়ে আড়াল হলো। কপাল চাপড়ালো,
____”আস্তে কথা বলতে পারিস না!”

প্রিয়ার মাথায় ঢুকলো না এর জন্য এতো ছিটাছিটি করে সরে আসার কি হলো। হাতের অর্ধেক জিনিসপত্র রিমির হাতে গুজে হাঁটা ধরলো রুমের দিকে।

______

ঘড়ির কাটায় রাত পোনে বারোটা। সবে সবে বাড়ির সকলে যারযার জন্য বরাদ্দকৃত রুমে গেলো। রুমের ঘাটতি পরায় অ্যাডজাস্ট করে নিতে হয়েছে প্রায় সবাইকে
যদিও এতে কারোর কোনো আপত্তি বা সমস্যাই নেই। অয়ন, আকাশ দুই ভাই একরুমে। রিমি বাড়িতে যায়নি। প্রিয়ার সাথে রয়ে গেছে এখানেই। ছোটদের সবারই পরিকল্পনা ছিলো রাতভর আড্ডা দেবে ছাদে। কিন্তু এতোটা জার্নি করে কারোরই আর সে এনার্জি অবশিষ্ট নেই। সুতরাং আড্ডা দেওয়ার পরিকল্পনা আপাতত মুলতুবি রেখে যে যার যার মতো ঘুমাতে গিয়েছে। শিয়া শাড়ি চেঞ্জ করে ফ্রেশ হয়ে এসে সবেই বসেছে বিছানায়। প্রচন্ড গলা শুকিয়েছে তার। হাত বাড়িয়ে পানির জগ টা হাতে নিলো। সম্পূর্ণ শূন্য। প্রিয়া বাথরুমে, সম্ভবত গোসল করছে। তার নাকি এলার্জি উঠেছে ওই জামাটা পরে। শিয়ার হাতে শূন্য জগ দেখা মাত্রই দ্রুত চেয়ার থেকে উঠে এলো রিমি।
____”আমি নিয়ে আসি আপু। দাও।”

শিয়া হাতে দিলো জগটা রিমির। রিমি সবার আগে ফ্রেশ হয়েছে। ভারি জামাকাপড় পরে থাকতে অসহ্য লাগছিলো একপ্রকারে। পুরো বাড়িতে ড্রিম লাইট জ্বলছে। সবাই রুমে নিজেদের। দরজা ভেজিয়ে গুটিগুটি পায়ে সিড়ির মাঝবরাবর যেতেই পিছনে কারোর অস্তিত্ব টের পেয়ে ভয়ার্ত দৃষ্টিতে ঘুরে তাকালো রিমি। চিৎকার করবে তার আগেই মুখ চেপে ধরলো রাতুল।
____”কি সমস্যা, চেঁচাতে যাচ্ছিলে কেনো!সবাই কি ভাবতো!’

রিমি রাতুলের চাপা দেওয়া হাতটা সরাতে গো গো শব্দ করে। রাতুল একটা সাদা টি শার্ট পরা, এ বাড়ির ড্রিম লাইটের আলো নীল,রাতুলের বাবড়ি চুলের কারণে অস্বাভাবিক লাগছিলো এই অবস্থায়। হুট করে তাকাতেই অমন জলজলে চোখে কাউকে তাকিয়ে থাকতে দেখে ভীষন ভয় পেয়েছে মেয়েটা। রাতুল ধীরেসুস্থে মুখ থেকে হাতটা সরালো ইশারা করলো নিচে নামতে। বুকের বা পাশে হাত রেখে হাফ ছাড়লো রিমি। গুটিগুটি পায়ে নেমে এলো ডাইনিং এর কাছে,পিছন পিছন নিজের হাতের পানির বোতল টা নিয়ে রাতুলও ফিল্টার থেকে নিজের জগে পানি ভরে হাত বাড়ালো রাতুলের বোতলটা নিতে। রাতুল বিনা বাক্যে দিলোও। সেটায় পানিতে পূর্ণ করে আবার রাতুল এর হাতে ফেরত দিলো সে। অস্যস্তি হচ্ছে রিমির, যতক্ষণ সে কাজ করছিলো ততক্ষণই রাতুলের স্থির দৃষ্টি ছিলো তার দিকে তা সে খুব ভালো করে টের পাচ্ছিলো। এমনকি এখনও একই ভাবে রাতুল তাকানো তার দিকে। মাথা নিচু করে কোনোমতেই অস্ফুটস্বরে বললো,
____”ঘুমিয়ে পরুন গিয়ে।আমি আসি…”

বলেই পাশ কাটিয়ে সম্ভবত চলে যেতে চাইলো। তার আগেই টান পরলো হাতে।নরম হাতের কবজিতে খসখসে একটা হাতের স্পর্শে থমকালো রিমি। বড় বড় হয়ে গেলো আখিজেোড়া। রাতুল পাশ দিয়ে এসে দাড়িয়েছে একদম সামনে।গলা নামিয়ে বললো,
____”একটু অপেক্ষা করো।আমার কিছু বলার আছে।

বুকের ভিতরটা ধুকপুক করে উঠলো রিমির।কি বলতে চায় লোকটা! মিনমিন গলায় বললো,
____”বলুন…”
____আই থিং…

রিমি চোখ তুলে তাকালো।আগ্রহ ভরা চোখে পরের কথাটুকু জানতে চাইলো।রাতুল রিমির হাতের জগটা নিয়ে রাখলো ডাইনিং টেবিলে। নিজের টা আগেই রেখেছে।রিমিকে টেনে কাছে নিয়ে এলো খানিকটা।নরম গলায় বললো,
____”আই থিং..
____”ইউ থিং…

রাতুল শুকনো ঢোক গিললো,কথাটা বলতে সময় নিচ্ছে সে।রিমির হাঁটু কাপছে আচমকা!
রাতুল বেশ কিছুক্ষণ চেপে রইলো হাতটা।হঠাৎ ছেড়েও দিলো,
____”রাত হয়েছে,ঘুমিয়ে পরো।”

রিমি চমকালো। পিটপিট করে তাকালো রাতুলের দিকে।রাতুল আর দ্বিতীয় কোনো শব্দই উচচারন করলো না।
পাশ কাটিয়ে সোজা সিড়ি ভেঙে ওপরে চলে গেলে। রিমি একপ্রকার হতভম্ব হয়ে দাড়িয়ে রইলো শূন্য দৃষ্টি দিয়ে।রাতুলের আবছায়া মিলিয়ে যেতেই থরথর করা পা নিয়ে বসে পরলো চেয়ারে। বুকের বা পাশ টস কেমন শ্বাস আটকে ছিলো এতক্ষণ। কি বলতে চাচ্ছিলো লোকটা।.!সে যা ভাবছিলো তাই?

বিছানায় এদিক সেদিক করে ঘুম আসছে না আকাশের। কতদিন পর মেয়েটাকে কাছে পেলো, ছুঁতে পারলো। নেশা চরে আছে। বারবার ছুঁয়ে দিতে উতলা হচ্ছে মনটা। মাঝখান থেকে এই বড়দের ফরমালিটির চক্করে দু বছরের দেয়াল ঝুলিয়ে দেওয়া হলো তাদের মাঝখানে! ভাবা যায়!

উঠে পরলো আকাশ বিছানা ছেড়ে। অয়ন ঘুমাচ্ছে পাশেই।শার্টা টা গায়ে জড়িয়ে সেলফোন হাতে ধীরেধীরে বেড়িয়ে এলো রুম থেকে।তাদের তিনঘর পর প্রিয়াদের ঘর।করিডরে এসে দাড়ালো। পুরো বাড়ি ঘোর অন্ধকার। কল করবে কি! নাকি মেসেজ! এতো রাতে জেগে আছে কি মেয়েটা? সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে ছোট্ট একটা মেসেজ করলো প্রিয়াকে…

প্রিয়া গোসল করে চুল শুকাতে ব্যাস্ত।তার হেয়ারড্রায়ার টা কটেজে রাখা। ভেজা চুলে একদম শুতে মন চাচ্ছে না। তার রুমে সে,রিমি আর শিয়া শুয়েছে। দুজনই ঘুমে। প্রিয়ার চোখে ঘুম নেই তা নয়। চুল শুকালে সেও শুতে যাবে। জানালার খুলে সেখানটায় বসে আছে। দৃষ্টি বাইরের দিকে। টুংটাং শব্দ করে মেসেজ আসতেই হাত বাড়ালো।
আকাশের মেসেজ! খুবই ছোট্ট। ইনফ্যাক্ট জাস্ট দুটো শব্দের।
____”জেগে?”

প্রিয়া মুচকি হাসে। চেয়ারে ঝোলানো সফেদ ওড়না টা গায়ে জড়িয়ে গুটিগুটি পায়ে বের হয় ঘর থেকে। আলো আধারিতে সামান্য দূরেই চোখে পরে চির চেনা পুরুষটার অবয়ব। শব্দহীন হেঁটে সামনে এসে দাড়ায় আকাশের। আকাশ চমকায় একটু অবাক গলায় বলে,
____”ঘুমাও নি?”
____”তাই চাচ্ছিলেন?”
____”চাচ্ছিলাম না জন্যই জিজ্ঞেস করলাম।”

প্রিয়া মিটিমিটি হাসে।নিঃশব্দে আকাশের হাত টা ধরে।
____”আসুন।”

আকাশ বিনাবাক্যে চলছে প্রিয়ার পিছুপিছু। হাতের ফোনটা পকেটে গুজে মন্ত্রমুগ্ধের মতো পিছু নিয়েছে।

ছাদে এসে দাড়ালো দুজন।আশপাশে তাদের কটেজের মতো এতো জঙ্গল নয়। বরং আশপাশে বেশ পরিষ্কার। যে কারণে অদূরে চাদের আলোয় পাহাড়,নদী সব ফুটে উঠছে সুন্দর মতো। মনোমুগ্ধকর পরিবেশ একেবার। প্রিয়া রেলিঙ এ পিঠ ঠেকিয়ে দাড়ায়। আকাশের হাত ধরে টেনে কাছে আনে। আকাশ ঘোর লাগা দৃষ্টি সরাতে পারে না প্রিয়ার দিকে। প্রিয়ার ডাকে সাড়া দিয়ে একদম সামনাসামনি সামান্য দুরত্ব রেখে দাড়ায়। মৃদু শীতল বাতাসে কোমড় ছড়ানো চুলগুলো উড়ছে অবাধ্যের মতো। এলেমেলো বাতাসে এ চুল এসে বারি দিচ্ছে আকাশের চোখেমুখেও।প্রিয়া একহাতে চুপ গুলো কানে গোজে।ওড়না টার দু পাশ এক হাতে চেপে ধরে রাখে। আকাশ পুরে শরীরে একবার নজর বুলায়। বেবি পিংক একটা ক্রপটপ আর সাদা স্কার্ট…মাঝে সিঁথি করা আধভেজা চুলগুলো থেকে ভীষন মিষ্টি একটা ঘ্রান আসছে। ভ্রু কেচকায় আকাশ। আলতো হাতে স্পর্শ করে প্রিয়ার চুল। সত্যিই ভেজা।
____”শাওয়ার নিয়েছো।”

প্রিয়া মাথা নাড়ে । নিয়েছে,প্রচুর এলার্জি উঠে গিয়েছিলো একেবারে।
____”আপনারা কালই ফিরে যাবেন?”

____”ওদিকটায় তো গোছগাছ আছে। আত্মীয় সজন আছে।আমার দাদা দাদি বেচে আছেন। ওনারা অবশ্য আমাদের সাথে থাকেন না। গ্রামে থাকেন। তবে ওনাদের আনতে যেতে হবে। তাছাড়া কেনাকাটা সব তো আছেই। সব মিলিয়েই…

প্রিয়ার হাত এসে উঠেছে আকাশের কোমড়ের দিকে।দু পাশের শার্টের অংশ হাতে নেওয়া।মাথা নিচু করে মিনমিনে গলায় বললো,
____” তারমানে আপুদের বিয়ের আগের এই পাঁচদিন আবার দেখা হবে না?”
____”তাই তো মনে হচ্ছে। “

প্রিয়া ঠোঁট উল্টে বলে,
____”বিয়ের পর? “
____”কি বিয়ের পর?”
____”আপু ভাইয়ার বিয়ের পর কি হবে।”

আকাশ বাঁকা হাসে।ধীর গলায় বলে,
____”কি হবে! এতদিনের তপস্যার ফল। যা হওয়ার তাই হবে। বিয়ে, জমিয়ে বাসর, সংসার, বাচ্চাকাচ্চা… “

প্রিয়া দু দিকে নাথা নাড়ে।গলার স্বর সামান্য বাড়িয়ে বলে,
____”সেটা না। আমার কি হবে? বাবা মা তো চলে যাবে। আমি থাকবো কোথায়।”

আকাশ প্রিয়ার মনের কথা বুঝতে পেরে ফিচেল হাসে।মুখ ফুটে প্রিয়া বলতে না পারা কথা তাকেই লজ্জায় ফেলতে বলে ওঠে,
____”আমার সাথে থাকবে।”
____”মজা করছি না কিন্তু আমিও।”
____”আমিও না।”
____”বিয়ে করার নাম নেই। এসেছে তার কাছে রাখতে।”

আকাশ প্রিয়ার অভিমানি মুখটা তুললো বাঁকা গলায় বললে,
____”তোমার বাবা তো দিলো না ম্যাডাম…আমি তো যখন তখন রেডি তোমাকে আদর করতে।”

এইযে শুরু হলো লজ্জা দেওয়া। কোনো কথা স্বাভাবিক ভাবে বলতে পারে না লোকটা। প্রিয়া আকাশকে ঠেলে সরায় সামনে থেকে। প্রেয়সীর লজ্জারুণ মুখের ভঙ্গিতে শব্দ করে হেসে ফেলে আকাশ।, প্রিয়া ছোট্ট হাতের আলতো ধাক্কাতেই পিছিয়ে আসে কয়েকপা।
____”কাছে টানো তুমি! আবার লজ্জায় দূরে ঠেলেও দাও তুমিই। আমার এখানে ফায়দা কোথায় ম্যাডাম।হুম?”

প্রিয়া মনে মনে হাসে। আচমকা দু হাত আবার বাড়ায় সামনের দিকে। আকাশ ভ্রু কুচকে ঘাড় বাঁকায় সামান্য। চোখের ইশারায় জানতে চায়। প্রিয়া হাতের ইশারায় কাছে ডাকে।
আকাশ এগোয় না।বুকে আড়াআড়ি হাত ভাজ করে দাড়ায়।
____”আসলে ধরলে কিন্তু ছাড়বো না। তখন মোচড়ামুচড়ি করে লাভ হবে না বলে দিলাম কিন্তু…
____”কাছে আসুন।”

প্রিয়ার কামুকতায় ছেয়ে থাকা মুখের মায়া এড়িয়ে দাড়িয়ে থাকার শক্তি আকাশের নেই। দ্রুতই দুজনের মধ্যের দুরত্ব ঘোচালো। নরম বাঁকানো কোমড় চেপে ধরলো রেলিঙ এর দেয়ালের সাথে। কপালে কপাল ঠেকালো।
____”আমার ক্ষেত্রে কোনো যুক্তিতেই দু বছর অপেক্ষা করা সম্ভব নয় প্রিয়া।আই কান্ট রেসিস্ট মাইসেল্ফ। কি করি বলোতো।”

প্রিয়া অনূভব করে তার ব্যাক্তিগত পুরুষতার দ্রুত চলা শ্বাসপ্রশ্বাস। কোমড়ে দুটো অবাধ্য হাতের নড়াচড়া। চোখ বুজে আসে প্রিয়ার।ধীরগলায় বলে,
____”খুব কষ্ট হবে? “
____”খুব।”
____”বাবাকে বলবেন?”
____”উহু।”
____”কেনো?”
____”এমনিতেই মানসিক চাপে আছেন উনি।শিয়া অয়ন ভাইয়ের অসুস্থতা, বড় মেয়ের বিয়ে।তার ওপর তারা এখানে থাকতেও পারছেন না আর কটা দিন। তোমাদের বিয়ে নিয়ে তার প্রচুর স্বপ্ন, তোমার ক্যারিয়ার নিয়ে তার প্রচুর স্বপ্ন। আমার সাথে কথা হয়েছে আংকেল এর। আমার ওপর সে ভরসা করে। বিয়ে করে আমি যে তোমাকে বেঁধে রাখবো না তা তিনি জানেন। কিন্তু অন্ততঃ তোমার বিয়েটা তিনি তার মতো আয়োজন করে ধীরেসুস্থে দেখে যেতে চান।”

প্রিয়া জানে এসব। দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে। বাবার তাদের দু বোনকে নিয়ে হাজার স্বপ্ন। শিয়ার এভাবে দুম করে বিয়ের আয়োজন করায় মন থেকে ভীষন ভেঙ্গে পরেছেন তিনি।
____”দু বছর দেখতে দেখতে কেটে যাবে।”

আকাশ প্রিয়ার নাকে নাক ঘসে।হাস্কিস্বরে বলে,
____”আমার জন্য কতটা সময় জানো? প্রতিমুহূর্তে বুকে চেপে রাখতে মন চায় তোমাকে। সব ভুল হয়ে যায় তোমার কাছে এলে। তোমাকে নিজের করে পাওয়া, ছুঁয়ে দেওয়ার আকাঙ্খায় জ্বলে পুরে যাই আমি। গভীর থেকে গভীর আদরে মুড়িয়ে ফেলতে মন চায় আমার। ভস্ম হয়ে যাই তোমার সামনে আসার পর তোমাকে ছুতে না পারলে প্রিয়া।

তোমাকে ভালোবাসার এই কয় মাসে হাজার হাজার বার নিজেকে আটকেছি কোনো ভুল হওয়ার আগেই। বুকে পাথর চাপা দিয়ে দূরে সরে থাকি। এইযে এখন।বুকের বা পাশটায় কেউ আগুন ছুয়িয়েছে মনে হচ্ছে জানো? দু হাত তোমার ওই লতানো কোমড়ে। পিষে ফেলতে মন চাচ্ছে তোমাকে নিজের সাথে। তোমার ওই শ্বাসপ্রশ্বাস আমার আদরে দীর্ঘ করতে মন চাচ্ছে। অথচ পারছি না। বোঝো এ যন্ত্রণা…. হুম?”

শ্বাস আটকে আসছে প্রিয়ার। আকাশের হাতের চাপ প্রগাঢ় হয়েছে। জ্বলছে কোমড়। দুজনের উত্তেজিত শ্বাস প্রশ্বাস এর শব্দ পুরো ছাদ জুড়ে। কপালে কপাল ঠেকিয়ে চোখ বোজা দুজন। আচমকা দু হাতে প্রিয়া জড়িয়ে ধরলো আকাশকে। কোমড় আগলে মুখ লুকালো বুকে। আকাশের হুশ হলো। চোখ খিঁচে বন্ধ করে ভ্রু কুচকালো। নিজের হাতের বাধন শক্ত করলো। প্রিয়ার বুকের ওঠানামা বারবার কাঁপুনি ধরাচ্ছে আকাশ কে। আর প্রিয়া! সেও গভীর ভাবে অনূভব করতে ব্যাস্ত আকাশের বুকের বা পাশে তার নামের মেলোডি।
____”আমরা বিয়ে করে নিবো নিজেদের মতো কেমন? বাবা মা ফিরলে না হয় তাদের মতো করে অনুষ্ঠান করে আবার হবে…

প্রিয়ার কথায় আকাশ চমকায়। এ কথা সে কি ভাবেনি? ভেবেছে তো। প্রিয়াকে বলেনি শুধুমাত্র মেয়েটা বরাবরের মতো মজা ভাববে বলে। প্রিয়ার কানের লতিতে নিজের ঠোঁট ছোয়ালো আকাশ। ঠান্ডা ওষ্ঠের ছোঁয়ায় ঝাঁকি দিলো ছোট্ট শরীরটা।খামচে ধরলো আকাশের শার্টের অংশ।
____”ভেবে বলছো? নাকি শান্তনা? হু?”
____”ভে..ভেবে বলছি।”
____”বিয়ে করবে সত্যি? “
____”হুম।”
____”পরে ভুল মনে হবে না তো?”
____” এ জীবনে না।আমি শুধু আপনার। আগে হোক বা পরে। প্রিয়া আকাশের নাম ছাড়া আর কারোর নামে কবুল বলবে না। কখনো না। তাহলে আগে হলে দোষ কি! আপনার কষ্টও কমলো।”

আকাশের বুকের ঢিপঢিপ শব্দ দ্বিগুণ হয়। বাচ্চা একটা মেয়ে। অথচ কি সুন্দর গুছিয়ে কথাগুলো বলে দিলো। শান্ত হয়ে গেলো তার অস্থির মন।
____”আমি কিন্তু তাহলে আর কোনো অযুহাত শুনবো না। ভাইয়ার বিয়ের পর এখানে এসেই…

প্রিয়া সজোরে মাথা নাড়ে। বিড়াল ছানার মতো মুখ ঘষে আকাশের বুকে। আকাশ আলতো কামড় দেয় কানের লতিতে।
____”বিয়ে মানে কিন্তু অনেককিছু…
____”জানি তো।”
____”কি কি জানেন শুনি?”
____”সব জানি।”
____”সবের মধ্যে কি? সেটা বলেন।”
____”বিয়ে মানে এ জীবন,সে জীবন,আজীবনের জন্য আপনি আমার।আমরা একে অপরের।”

আকাশ প্রশান্তির হাসি হাসে। ফিচেল গলায় বলে,
____”সে না হয় আছে।কিন্তু আমি তো বিয়ে বলতে আরও কিছু বুঝি ম্যাডাম।সেসব কি আপনি বোঝেন?”

প্রিয়া মনে হচ্ছে আকাশের বুকের ভিতর ঢুকে যেতে চাচ্ছে।নিজের গায়ের সমস্ত বল প্রয়োগ করে ধরে আছে আকাশকে। আহ্লাদী গলায় মিনমিন সুরে বললো,
____”বললাম তো সব জানি।”

আকাশ বাঁকা হাসে। ঘাড়ে শক্ত করে নিজের হাত চেপে বুক থেকে তোলে প্রিয়ার মাথা। প্রিয়া চোখ বুজে নেয়।তাকায় না আকাশের দিকে।নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে আছে।
____”সব মানে সব?”

প্রিয়া কোনোমতে ঘাড় নাড়ে। আকাশ হাস্কিস্বরে বলে,
____”আমি কিন্তু খুব জ্বালাবো বলে দিলাম।রাতে ঘুমাতে দেবো না। দিনেও কাছ থেকে সরতে দেবো না। দিনে তুমি আমার বুকে,রাতে আমি তোমার..আর…”

প্রিয়া চোখ বুজেই থামিয়ে দেয় আকাশকে। লজ্জায় লাল হয়ে গেছে একদম। টমেটোর মতো গালটা কামড়ে ধরতে ইচ্ছে করছে আকাশের । প্রিয়া ফিসফিসিয়ে বললো,
____”তখন না হয় হবে।এখন বলবেন না দয়া করে।”

আকাশের গলা এবার দ্বিগুণ হাস্কি শোনালো,
____”কেনো? এখন প্লিজ বলো না তোমারও কষ্ট হয় আমাকে ছাড়া…

আকাশের নেশাক্ত দৃষ্টি থেকে বাচার একমাত্র উপায় আকাশেরই বুকে মুখ গোঁজা। প্রিয়া সে কাজে পটু। একে-তো কখনো আকাশের দৃষ্টিতে দৃষ্টি মেলাতে পারে না।শরীর কাপে। তার ওপর লোকটার এহেন তীক্ষ্ণ নজর, ঘোরলাগা কন্ঠ নেশা ধরে তার।
____”আপনি কি বিয়ের পরের জন্য কোনো কথা তুলে রাখতে পারেন না? সব এখনই বলে আমাকে লজ্জায় ফেলতে হবে?”

আকাশ ফিচেল হাসে।ধীরগলায় বলে,
____”বিয়ের আগেই তো সব কথা ম্যাডাম। প্ল্যানপরিকল্পনা তো আগেই করে। সেই মোতাবেক কাজ করবো পরে।টাইম ওয়েস্ট হবে না। তাছাড়া তুমি জানো কথা আমি এমনিতেই কম বলি। তখন তো তোমাকে কাছে পেয়ে আরও সময়ই পাবো না।কত কাজ তোমার সাথে বলো…”
____”ছিহ্,থামবেন আপনি?”
____”ছিহ্ ছিহ্ করে লাভ হবে তখন হ্যা? এই ছিহ্ যুক্ত কাজ গুলোই করতে হবে। “
____”বাজে লোক। চুপ না করলে নিচে চলে যাবো।”

আকাশ শব্দ করে হাসে।হাসির তোরে কাপে তার শক্তপোক্ত বুক। প্রিয়া নিজের হাসলো নিঃশব্দ। কখনো ভেবেছিলো এই গম্ভীর পুরুষটা এতো অসভ্য! তার কাছে এলেই সব নিয়মকানুন এর বাইরে গিয়ে এমন নির্লজ্জতা দেখাতে ব্যাস্ত হয়। প্রিয়া তে মত্ত হতে পাগল হয়!

____”ভালোবাসি আমার প্রেয়সী। এক আকাশ সমান ভালোবাসি।”

শিথিল হয় প্রিয়ার শরীর। আকাশ তাকে এই প্রথম ভালোবাসি বললো। এর আগে যতবার বলতে বলেছে, বারবার জবাব এসেছে বিয়ের পর বলবো! আজ নিজ থেকে বললো আকাশ! ভালোবাসে তাকে! চোখের পানি এসে স্পর্শ করে আকাশের বোতাম খোলা উন্মুক্ত বুক।প্রেয়সীর আশ্চর্যতা অনূভব করে ঠোঁট ছোঁয়ায় প্রিয়ার চুলের ভাজে।চুমু খায় শব্দ করে,

_____“তোমাকে ছাড়া এ আকাশ সাজে না
সহজে তো বাতাসে বাঁশি বাজে না
চলো না আজ এ রূপকথা
তোমাকে শোনাই….

প্রিয়ার শরীর কাঁপছে। ভার ছেড়ে দিয়েছে আকাশের শরীরে।আকাশ গান থামিয়ে প্রিয়ার মুখ দু হাতের আজলায় নিয়ে চুমু খেলো কপালে…ভীষন আদুরে গলায় বললো,
____”শোনাবো রুপকথা? হু?”

প্রিয়া জবাব দেয় না। আকাশ মায়াবী, লজ্জায় রাঙ্গা মুখটা গভীর ভাবে অবলোকন করে হাস্কিস্বরে বলে,
____”ভালোবাসি,ভালোবাসি,ভালোবাসি… শেষ নিঃশ্বাস অবধি তোমাকে ভালোবেসে যেতে চাই। আমরণ এ ভালোবাসা বাচিয়ে রাখতে চাই।”

প্রিয়ার এতো সুখ কখনো অনূভব হয়নি এর আগে।দুনিয়ার সবচাইতে সুখি ব্যাক্তি মনে হচ্ছে তার নিজেকে এই মূহুর্তে।
ভালোবাসার মানুষ এর মুখ থেকে এহেন অতি আকাঙ্খার শব্দগুলো যখন কানে আসলে এমনই অনূভুতি হয় বুঝি! জানা ছিলনা তার।
____”প্রিয়া?”
____”হু।”
____”ক্যান আই…”

চমক তাকায় প্রিয়া।আকাশের হাত ততক্ষণে প্রিয়ার উন্মুক্ত ঘাড়ে।অন্যহাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি ঠোঁট এর ওপর। প্রিয়া বন্ধ করে নিলো চোখজোড়া।

___”আস্তে আস্তে।কনট্রোল। আকাশ এহনাজ চৌধুরী। প্লিজ কনট্রোল,আমরা আছিইই…

ছিটকে পিছিয়ে গেলো প্রিয়া। চেনাপরিচিত হট্টগোল কানে আসলো। হুড়মুড়িয়ে সিড়িকোঠা পার হয়ে ছাদের ওপর প্রবেশ করলো সকলে। প্রিয়া হতভম্ব। আকাশের চোখেমুখে রাজ্যের বিরক্তি। কন্ঠটা রাতুলের ছিলো। এগিয়েও আসলো সেই প্রথম। সোজা কাধ জড়িয়ে ধরলো আকাশের।
____”ভাই,অয়ন ভাই আর শিয়ার কথা বাদ।বিয়ে দেওয়া ফরজ তো তোদের…আমাদের ঘুম পারিয়ে রাতের আধারে ছাদে এসে রোমান্স! সেটাও কে করছে গায়েজ?”

মাহফিল এর মতো করে পিছনে দাড়ানো সবকটাকে উদ্দেশ্য করে জিজ্ঞেস বাণীটা ছুড়লো রাতুল। একসাথে চিৎকার করে উঠলো সবগুলো আকাশের নামে।

প্রিয়া লজ্জা লাল নীল হতে ব্যাস্ত। লজ্জা ছাদ থেকে লাফ দেবে কিনা মাথায় ঘুরছে তার।
রাকিব,রেদোয়ান, রাকা,তুষি সবাইকে দেখা গেলো।আধো আধো অন্ধকারে একটু খেয়াল করতেই সিড়িঘরের দরজায় হাত ধরে দাড়িয়ে থাকতে দেখা গেলো হবু নবদম্পতি কে।তারাও হাসতে ব্যাস্ত।ভাই বোনকে লজ্জা দিতে আর এগিয়ে আসেনি তারা। প্রিয়ার অবস্থা বুঝে রাকা, তুষি ছুটে এলো একপ্রকার। জড়িয়ে নিলো রাকা প্রিয়াকে।
____”ইট’স ওকে।বেবিগার্ল… আমরাই তো।”

ইশশশ কি যে লজ্জা। কে জানতো এ সময়ে সকলে উঠে আসবে একসাথে। আকাশের মুখ গম্ভীর। রাতুল আকাশে কে ছেড়ে ঘেষে দাড়ায় রাকিবের পাশে।রাকিবের দিকে তাকিয়ে ভাবুক গলায় বলে,
____”বিড়ালের মুখ থেকে কাটা কেড়ে নিলে যে অবস্থা হয়, আকাশের সে অবস্থা হয়েছে না?”

রাকিব কপট ব্যাতিব্যাস্ত হয়। রাতুলের বাক্য শুধরে দিতে গিয়ে ভয়ার্ত নজরে তাকায় সকলের দিকে।গম্ভীর গলায় বলে,
____”,আহ্ রাতুল ভুল বলিস কেনো! আকাশ এহনাজ এর সাথে বিড়ালের তুলনা?ছিহ্। বল বাঘ..বাঘের মুখ থেকে হরিণ।”

অভিনয়ে সাড়া দিয়ে একসাথে হলো রেদোয়ানও।হাততালি দিয়ে উঠলো।হাসতে হাসতে বললো,
____”এটা ঠিক আছে।”

আকাশ হতাশায় মাথা নাড়ে দুদিকে। জানো*য়ার গুলো সারাক্ষণ পিছু লেগেই থাকে একেবারে। রোমান্টিক মোমেন্ট এ ব্যাগড়া দিয়েও ক্ষান্ত হয়নি। কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দিচ্ছে একেবারে। অসহ্যকর একেকটা।

অয়ন শিয়া এবারে এগিয়ে আসে ছোট ভাইবোনদের দিকে। প্রিয়ার চোখে পরতেই মেয়েটা মিয়িয়ে গেলো দ্বিগুণ। বড় বোন,দুলাভাই এর সমানে কি বেইজ্জতিই না হতে হলো । শিয়া বাঁকা গলায় বললো,
____”আমাকে বলা হলো চুল শুকাতে দেরি হবে, ঘুম ভেঙে দেখি ঘর ফাঁকা! চুল শুকাতে রাত দুইটায় ছাদে আসতে হলো বুঝি?”

অয়ন প্রিয়ার মাথায় হাত দিলো।আলতো হাতে এলোমেলো করলো চুলগুলো। বাঁকা হাসি দিয়ে বললো,
____”ওভাবে বলছো কেনো! ঘরে দম বন্ধ লাগছিলো হয়তো।”

রাতুল তো আবার এককাঠি ওপরে।
____”হ্যা চৌধুরী সাহেব অক্সিজেন দিচ্ছিলেন তার বেবিগার্ল কে।”

কথা শেষ হতেই সজোরে ঘুষি পরলো পেটে।ব্যাথায় গুঙ্গিয়ে উঠলো বেচারা।আকাশ কটমট চোখ তাকানো।প্রিয়া তো সেই সে রাকা পিছনে মুখ লুকিয়েছে। লজ্জায় মাথা তোলা দায় তার।

চলবে ইনশাআল্লাহ 🌷

[🚫৫৫০০+ শব্দ ছিলো…কপি করতে গিয়ে লাস্টের টুকু কেটে গেছে।এখন ৩১০০+ শব্দ।পড়ে ফেলো…লেখার পর এমন করে কেটে গেলে খুব দুঃখ লাগে। আবার লিখে রাতে দিতে পারতাম। কিন্তু তোমাদের এখন দিবো বলেছিলাম।অপেক্ষা করছিলে নিশ্চয়…কাল #সাঁঝের_মায়া এর সাথে এটারও বাকি অংশটুকু দেওয়া যায় কি না দেখবো…]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here