আকাশপ্রিয়া #পর্ব ৪১ (শেষ অংশ)

0
35

#আকাশপ্রিয়া
#পর্ব ৪১ (শেষ অংশ)
#dure_dilshad_dua_দুর_এ_দিলশাদ_দুআ

[🚫কার্টেসী ছাড়া একূম কপি করা নিষেধ। না মানলে আমি ব্যাবস্থা নিতে বাধ্য হবো কিন্তু। সম্পূর্ণ প্রাপ্তবয়স্ক দের জন্য]

রাতভর ছাদে আড্ডা দিয়ে যার যার রুমে এসে ঘুমোতে ঘুমোতে বেশ রাত হয়েছে সকলের। তবে সকালে উঠতে সেরকম দেরি করেনি কেউ-ই। আকাশ রা সপরিবারে আজকেই ঢাকাতে ফিরতে। বিয়ের তোরজোর শুরু করে ফেলতে হবে। হাতে সময় কম।

ব্রেকফাস্ট সেরে নিজেদের জিনিসপত্র গুছিয়ে নিচ্ছে চৌধুরী পরিবার এর সকলে। ঘন্টাখানেক পর বের হবেন তারা। আকাশ সকাল সকাল শাওয়ার নিয়ে পরিপাটি হয়ে শার্টের বোতাম লাগাচ্ছে। অয়ন তৈরি হয়ে নিচে নেমেছে একটু আগেই। সেও নামবে এখনই।
আয়নার সমানে গিয়ে চুল সেট করতে করতেই চোখে পরলো পিছনে এসে দাড়িয়েছে প্রিয়া। দু হাতে ধরা একটা বাটি। গরম ধোয়া উঠছে সেটা থেকে। আকাশ ঘুরে ড্রেসিং টেবিলে হেলান দিয়ে দাড়ালো। ভ্রু জোরা দুবার নাচালো। জিজ্ঞেস করলো হাতের জিনিসটায় দৃষ্টি দিয়ে।
প্রিয়া এসে দাড়িয়েছে সামনে। আকাশের স্থির দৃষ্টি প্রিয়া তেই। নরম গলায় শুধালো,
____”হাতে ওটা কি?”

প্রিয়া নিজের হাতের পায়েসের বাটি উচুলো আকাশের দিকে। ধীর গলায় বললো,
____”পায়েস। মা পাঠালো আপনার জন্য। “

আকাশ চিনি খায়না। তবে নিশ্চয় পায়েশ চিনিতেই রান্না করা হয়েছে। তবে সে কিছু বললো না। বিনাবাক্য প্রিয়ার হাত থেকে পায়েশের বাটিখানা হাতে নিলো। পাশ কাটিয়ে গিয়ে বসলো বিছানায়। মুখে তুললো পায়েস। তবে এক চামচ মুখে তোলার সাথে সাথে বাঁকা করে ফেললো মুখ। প্রিয়া আগ্রহ চোখে তাকিয়েই ছিলো আকাশের দিকে। আকাশের মুখের ভঙ্গি দেখে মনে হলো না জিনিসটা তার পছন্দ হয়েছে। ব্যাস্ত হয়ে জিজ্ঞেস করলো,
____”মজা হয়নি?”

আকাশ আরেক চামচ মুখে তুলে নিলো নিজের। মুখটা একই রকম পানসে বানিয়ে রেখে হতাশ গলায় বললো,
____”মিষ্টি হয়নি একদম।”

প্রিয়া বুঝি এবারে অবাকই হলো। মা পায়েসে মিষ্টির পরিমাণ দেখার জন্য দিয়েছিলো তাকে। তখনও তো সব ঠিকঠাকই লাগলো । আকাশ যে এতো মিষ্টি খায় জানা তো ছিলো না তার। চিন্তিত গলায় বললো,
___”বলেনকি! আমি তো তখন খেলাম। যথেষ্ট মিষ্টি। “

প্রিয়ার এক হাত ধরে টেনে নিজের পাশে বসিয়ে, আকাশ আচমকা চামচের পায়েস টুকু ধরলো প্রিয়ার মুখের সামনে। প্রিয়া হা করার আগেই পায়েসটুকু ঠোঁটে ছোয়ালো আকাশ। প্রিয়া কিছু বুঝে উঠলো না, ততক্ষণে আকাশ আকড়ে ধরেছে তার ওষ্ঠ। অতি আবেশে ঠোঁট এর ওপরের পায়েস টুকু খেয়ে নিলো। প্রিয়া হতভম্ব। চোখজোড়া ইয়া বড় বড় করে তাকানো। কথা বলতে ভুলে গেলো যেনো। এই মূহুর্তে যা ঘটলো ক্ষুনাক্ষরেও আন্দাজে ছিলো না তার। আকাশ ফিচেল হাসলো, আঙুল ছোয়ালো প্রিয়ার ঠোঁটে। হাস্কিস্বরে বললো,
___”এবার লাগছে মিষ্টি… খুব মিষ্টি। এই মিষ্টি আমার আজীবন লাগবে কিন্তু। মনে থাকবে?”

লজ্জায় কুন্ঠিত হয়ে বসে রইলো প্রিয়া। আকাশ মেয়েটার দূর্গতি বুঝতে পেরে হাসলো। দ্রুত শেষ করলো খাবার টুকু।
____” চলুন ম্যাডাম। নিচে নিশ্চয় অপেক্ষা করছে সকলে।”
প্রিয়া একটা শব্দও উচ্চারন করে না। লাজুক ভঙ্গিতে উঠে দাড়ায়। গোটা ঘরময় এক নজর চোখ বুলায়। আকাশের বা অয়নের কোনো জিনিস রয়ে গেছে কিনা দেখে।
খানিকপর মিনমিন স্বরে বলে,
___”আসুন। আমি নিচে গেলাম।”

_____

বিয়ের তোরজোর এদিকটায় আনিসুল সাহেব কে একা হাতেই করতে হবে। সেরকম আয়োজন না থাকলেও কেনাকাটা, বাড়ির আর সবদিক নেহাৎই কম ঝক্কির নয়। শিয়ার বিয়ের চারদিন পর তাদের ফ্লাইট। স্ত্রী কে একবার রেখে যেতে চাইলেন, কিন্তু রেনুকা রাজি নন। স্বামীর শরীর একদম ভালো নেই। বড় মেয়ে টার অমন একটা দূর্ঘটনার পর তো আরও ভেঙে গেছে শরীর। তাছাড়া শিয়ার বিয়ে হচ্ছে। প্রিয়াকে সামলানোর জন্য অয়ন – শিয়া থাকবে। তাছাড়া আকাশ এর ওপরও তাদের পূর্ণ বিশ্বাস আছে। প্রিয়ার কোনো অসম্মান সে হতে দেবে না। গতকাল আকাশরা চলে যাওয়ার পরপরই বাড়ির মেরামত এর কাজ শেষ করেছেন।

আঁকাবাকা রাস্তা ঘেষে গাড়ি চলছে। বিয়ের বাকি আর তিনদিন। আনিসুল সাহেব স্ত্রী, মেয়েদের নিয়ে বেড়িয়েছেন মার্কেট এ। বাড়ির কিছু মেরামত এর কাজ রাতুল রা লোক নিয়ে এসে করে দিয়ে গেছে। ছেলেগুলো বড্ড কাজের।

গাড়ি এসে যখন থামলো মার্কেট এর সামনে তখন সন্ধ্যা হয়ে এসেছে। সকাল সকাল আসতে চাইলেও আনিসুল সাহেব এর গুরুত্বপূর্ণ কিছু ডকুমেন্টস ফাইল ই মেইল করে আসতে আসতে সেই সন্ধ্যাই হয়ে এলো।
এখন আকাশ পরিষ্কার। বৃষ্টির সম্ভাবনা আপাতত নেই বলেই মনে হচ্ছে। গাড়ি মার্কেটের একদিকে পার্কিং করে সবাইকে নিয়ে নামলেন আনিসুল সাহেব। তবে দু পা এগোতেই থেমে গেলো পাজোড়া। শিয়া প্রিয়া তাদের মায়ের সাথে কিছু একটা নিয়ে হাসাহাসি করছিলো। বাবাকে ওভাবে দাড়িয়ে পরতে দেখে তাকালো সামনে। মুখচোখ চুপসে এলো তাদেরও। সামনে দাড়ানো নিলয় তালুকদার। সাথে বেশ কয়েকজন বন্ধু বান্ধব। সবকটার হাতেই সিগারেট ধরা। তাদের দেখে সর্বপ্রথম এগিয়ে এলো নিলয়। শকুনের দৃষ্টি দিলো শিয়া আর প্রিয়ার দিকে। তারপর হাতে সিগারেট খানা অদূরে ছুড়ে ফেলে লম্বা সালাম দিলো আনিসুল রহমান কে।
____”আংকেল কোনো দরকারে?”

আনিসুল রহমান হাসার চেষ্টা করলেন। ধীর গলাতে বললেন,
____”হ্যা বাবা। একটু কেনাকাটা আরকি।”
____”শিয়ার বিয়ের?”

আনিসুল সাহেব ইতস্তত করলেন খানিকটা।
____”জ্বী। “
____”আমি এতোটাই অযোগ্য ছিলাম বুঝি?”
____”না না বাবা তা নয়। আসলে…
____”আসলে শিয়া আমাকে পছন্দ করেনি কখনো তাই তো? “

কেউ কোনো জবাব দিলো না। প্রিয়া বোনের হাত ধরে দাড়িয়ে আছে। রেণুকা রহমানের এর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিলয় এর দিকেই। ছেলেটাকে তার একদম পছন্দ না। অভিজ্ঞ চোখজোড়া খুব সহজেই ধরে ফেলে পুরুষ মানুষ এর দৃষ্টি কোনদিকে।

নিলয় একদফা চোখ বুলায় সকলের দিকে। কেমন একটা হাসে। ফিচেল গলায় বলে,
____”ইনভাইটেশন চাই কিন্তু আংকেল…বিয়েটা শুক্রবার এ তো?”

আনিসুল সাহেব ব্যাস্ত হলেন। ব্যাস্ত গলায় বললেন,
____”অবশ্যই দেবো বাবা। তোমাদের স পরিবার এ জানাবো। আসলে বুঝতেই পারছো। ছেলে মেয়ে দুটো এক অপরকে…

দু হাত সামনে তুলে অতী বিনয়ের সাথে থামতে বললো নিলয় ওনাকে। হাসি হাসি মুখে বললো,
____”ভালোবাসায় সব সম্ভব আংকেল। ভাববেন না। আমরা কিছু মনে করিনি। তাছাড়া আত্মীয় তার সম্পর্ক না হয় আবার হবে সামনে, অন্যভাবে…

এবারের কথাটা নিলয় বললো প্রিয়ার দিকে তাকিয়ে। সাদা সিধা আনিসুল সাহেব এর চোখে সেটা না পরলেও রেণুকার চোখ এড়ালো না। মেয়েদের হাত ধরে অন্য পাশে নিয়ে এলেন তিনি। ধীর গলায় স্বামীকে তাড়া দিলেন। নিলয় সরে দাড়ালো সমানে থেকে। ভদ্রতার কমতি রাখলো না বিদায়ের সময়।

_____

ঢাকা শহরের জমজমাট একটা ক্লাবে সন্ধ্যা থেকে বসে আছে সৌমি। অপেক্ষা করছে রিয়ান এর। ছেলেটা সেই বিকেলে বলেছে আসতে লাগবে পাঁচ মিনিট।অথচ দু ঘন্টা যাবৎ বসে আছে সে। ক্লাব টা তার বাবার বন্ধুর। তার বাবারও টুয়েন্টি পার্সেন্ট শেয়ার আছে। আজকে যারা আছে সকলেই কমবেশি তাদের পরিচিত। বেশ কয়েকবার ড্রিংক করার জন্য ডেকে গেছে বন্ধু বান্ধব রা।সৌমি আপাতত যায়নি। ড্রিংক করলে কনট্রোল এ থাকবে না। রিয়ান আসলে গুরুত্বপূর্ণ কথাগুলো যাবে মিস হয়ে।
আরও মিনিট ত্রিশ পর ক্লাবে এসে ঢুকলো রিয়ান। ছেলেটাকে অন্য রকম দেখাচ্ছে। প্রায় দেড় মাস হলো দেখাসাক্ষাৎ হয়না তাদের। রিয়ানের পরিবার এর কেউ একজন সম্ভবত অসুস্থ ছিলো। তাকে নিয়ে দৌড়াদৌড়ি তে নাকি ব্যাস্ত ছিলো। হাতে একটা হুইস্কির গ্লাস নিয়ে এসে রিয়ান বসলো সৌমির পাশে।
____”কতক্ষণ অপেক্ষা করছিলাম আমি জানো?”

সৌমির ধমুকে স্বরে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখালো না রিয়ান। ধীরেসুস্থে নিজের হাতের গ্লাসে চুমুক দিলো। তারপর শূন্য অনূভুতির দৃষ্টি ফেললো সৌমির দিকে।
____”একটা কাজে আটকে গেছিলাম।”
____”অয়নের বিয়ে? “
____”হু।”
____”জানাও নি কেনো?”
____”তুমি জানতে না?”
____”বাবার কাছে বিয়ের কার্ড আসাতে জেনেছি।”
____”তো যাবে দাওয়াত এ।”

সৌমি ফুঁসে উঠলো রিয়ানের কথাবার্তার ধরনে। দাঁতে দাঁত চেপে ধরলো।
____”তুমি আদতে কাকে চাও রিয়ান? শিয়া কে চাই না তোমার?”

রিয়ান হাতের গ্লাস ফাঁকা করে ফেললো লম্বা একটা চুমুকে। ঘাড় বাঁকিয়ে ওয়েটারকে দিতে বললো আরও। সৌমির দিকে ঘেষে বসলো। গলা নামিয়ে বললো,
____”চাইতাম। শুরু থেকে চাইতাম। প্রথম যেদিন দেখেছিলাম ভার্সিটি ক্যাম্পাসে,সেদিন থেকে চাইতাম। এখন চাইনা।”
____”এতো সহজে হার মেনে নিলে!”

রিয়ান বাঁকা হাসে এবারে। ভেজা ঠোঁট ছোয়ায় একবার সৌমির ঠোঁটে। সৌমি ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়।
____”সিরিয়াস কথা হচ্ছে রিয়ান। জবাব দাও। চাই না কেনো শিয়া কে? প্রিয়ার জন্য? “

____”আমার হয়েছে যত জ্বালা। যাকে চাই চৌধুরী রা কেড়ে নিয়ে চলে যায়। ওঁদের মধ্যে কি আছে? “
____”ক্লাস।”

সৌমির ব্যাঙ্গ করা ছোট্ট শব্দে অশ্লীল হাসে রিয়ান।ভ্রু নাচিয়ে ফিচেল গলায় বলে,
____”তাই কি ওদের বিছানায় ওঠার স্বপ্ন দেখে আমার মতো ক্লাস লেস কে দিয়ে কাজ চালাতে হয় ম্যাডাম?”
____”শাট আপ রিয়ান।”

ওয়েটার এসে হুইস্কি দিয়ে যায় দুজনকেই। সৌমি নিজের গ্লাস টা পাশে রাখে। তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে থাকে রিয়ান এর দিকে। ছেলেটাকে আজ কেমন একটা অন্য রকম লাগছে। বোকা বোকা মোটেই লাগছে না।

____”শিয়া কে ভালো বেসেছিলাম কি না জানিনা। তবে অয়ন ওকে কেড়ে নেওয়ায় রাগ হয়েছিলো। পরে করলাম একটা প্রেম। সে মেয়ে উঠতে বসতে দেয় আকাশের তুলনা…গেলো সেটাও। নতুন করে পরলাম প্রেমে প্রিয়ার। ভালোবাসি সেটা বলে দেবো, এখন শুনি সে নাকি আকাশ এর ওপর হাবুডুবু খাচ্ছে। কি করি বলোতো।খুন করে ফেলা উচিত নয়কি ওদের দু ভাই কে?”

কথার ভঙ্গিতে কি একটা টান ছিলো। সৌমি অজান্তেই চমকে তাকায়। বড় বড় চোখ করে গলায় খাদে নামিয়ে বলে,
____”বাই এনি চান্স অয়নের ওদিনের…”

শব্দ করে হেসে ফেলো রিয়ান। হাত দিয়ে মুখের সামনে মাছি তাড়ানোর ভঙ্গি করে দুবার। নেশা চড়ছে সম্ভবত ছেলেটার। একঘেয়ে গলায় বললো,
____”আমার অতো টাকা কোথায় ম্যাডাম? তবে এটা ঠিক জানতাম কিছুটা।”

সৌমি আরেকদফা চমকে আশপাশে তাকায়। সেরকম শোনার মতো কেউ নেই আপাতত।
____”ওটা অ্যাক্সিডেন্ট ছিলো না?”
____”অ্যাক্সিডেন্ট হবে না কেনো! গাড়ির সাথে গাড়ির সংঘর্ষ। ট্রাকের ড্রাইভার টা তো মরলোই। অ্যাক্সিডেন্ট ছিলো কি না এটা আবার কেমন কথা?”
____”হেয়ালি করবে না রিয়ান।”
____”হেয়ালি নয় এটা জানেমান। তবে মিসটেক ছিলো।দু ভাই একসাথে থাকলে ঝামেলা মিটতো।”

সৌমির হাতের মুঠো শক্ত হয়। তপ্ত গলায় বলে,
____”কার কথায় করেছো এসব?”
____”পাগল নাকি! আমি ফাঁসবো কেনো। আমি কিচ্ছু করিনি। জাস্ট পরে জেনেছি।”

সৌমি নিজের হুইস্কি তে চুমুক দেয়। অসহ্যকর অনূভুতি সব। তার বাবার পরিকল্পনা অনুযায়ী অয়নকে বিয়ে করতে উঠেপড়ে লেগেছিলো সে। অয়নকে সে ভালোবাসে না। আকাশকে চাই তার। কিন্তু আকাশ নাকি প্রিয়াকে ভালোবাসে! রিয়ান এর মতো ওই দুটো বোনকে যেমন অয়ন আকাশ কেড়ে নিচ্ছে তার কাছ থেকে আকাশ কে কেড়ে নিচ্ছে ওই মেয়েটা।
____”অয়ন শিয়ার চ্যাপ্টার ক্লোজ হোক রিয়ান।”

রিয়ান বাঁকা হাসে।
____”আমিও সেটাই বলতে এসেছি।”
____”আমার আকাশকে চাই।”
____”মুখের কথায় আকাশ এহনাজ চৌধুরী নিশ্চয় নাচতে নাচতে তোমার কাছে আসবে না ম্যাডাম?”
____”আনতে কি করতে হবে সেটা করো।”
____”আমার প্রিয়া কে লাগবে তার বদলে।

সৌমি মাথা ঝাকায়। গম্ভীর গলায় বলে,
____”তাহলে ঝামেলা কোথায়! যার যেটা দরকার নিয়ে নিজের ঘরের ছিটকিনি আটকালেই হয়।”

____”ছিটকিনি আটকালেই ধরা দেবে তারা?”

____”না দেওয়ার কি আছে! ছল না চললে ভিকটিম কার্ড প্লে করতে হবে?”

চোখ টিপলো সৌমি। দু দিকে মাথা নেড়ে বাঁকা হাসলো রিয়ান। উচ্চস্বরে গান বাজছে ওদিকটায়। রাত যত গভীর হবে,ক্লাবে হৈ হট্টগোল তত বাড়বে। সৌমি উঠে এলো। রিয়ানের সামনে ঝুকলো একেবারে। আকর্ষণীয়, বেশ উন্মুক্ত পোষাকে মোহনিয়ই লাগছে মেয়েটাকে। বিনাবাক্যে ঠোঁটে ঠোঁট মেশালো সৌমি। রিয়ান বরাবরের মতোই বাধা দিলো না।
____”আই থিংক উই নিড ইচ আদার রাইট নাউ?”

রিয়ান দু হাতে ঠেললো সৌমিকে। অদূরে অশ্লীল ভঙ্গিতে নৃত্যরত এক পুরুষ কে দেখিয়ে দিলো।
____”আজ ওকে দিয়ে কাজ চালাও। প্রিয়া ছাড়া কোনো মেয়েকে আর বেডে নেবো না আমি।”

____”রেস্ট্রিকশন টা কাল থেকে। ওকে ডার্লিং… লেটস্ গো।”

রিয়ান গো ধরে বসে রইলো। তবে সৌমির আশকারা তে বেশিক্ষণ টেকাতে পারলো না নিজেকে। আগুনের মতো ঝলসে দিচ্ছে ওই নারীদেহ তাকে। চোখ বন্ধ করে নিজেকে শান্ত করার বৃথা চেষ্টায় টিকতে না পেরে সায় দিলো বরাবর এর মতো। দুটো উন্মাদ সত্তা ক্লাব এর হৈ হট্টগোল ছেড়ে চলে এলো ক্লাবের ছয়তলায় গেস্ট দের জন্য বরাদ্দকৃত রুমগুলোতে।

_____

বিয়ের আর বাকি মাত্র চারদিন। দু বাড়িতেই এখন ব্যাস্ততা তুঙ্গে।চৌধুরী বাড়িতে তাদের আত্মীয় সজন রা চলে এসেছে কাছের প্রায় সবাই। এরই মধ্যে গমগম করছে বাড়িটা। আকাশ নিজে গিয়ে গ্রাম থেকে নিয়ে এসেছে তার দাদা, দাদিকে।
চৌধুরী বাড়ির বড় ছেলের বিয়ে, বাড়িতে প্রথম বিয়ে। এলাহি আয়োজন তো হতেই হবে। সামনের এক সপ্তাহ তাদের সব সাইটের কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। বিয়ের এতো এতো কাজের মধ্যে সেদিকে নজর দেওয়ার সময় কোথায়। বিয়ের কেনাকাটা করা হয়ে গেছে মোটামুটি। টুকটাক আর যা বাদ আছে আছে তাও করে ফেলা হবে। কাল কে শিয়ার জন্য কেনা জিনিসপত্র গুলো পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
বাড়ি ঘর সাজানোর কাজ শুরু হয়েছে। রিসিপশনের আয়োজন করা হয়েছে শহরের সবথেকে বড় কমিউনিটি সেন্টার এ। যদিও তাদের ইচ্ছে ছিলো নিজেদের বাড়িতেই সে আয়োজন করা। তবে এতো এতো মানুষ এর আয়োজন, বাড়িতে বিয়ে অবধিই না হয় থাক।

আমিনা চৌধুরী জা দের নিয়ে মহাব্যাস্ত সব সামলাতে। তাদের যার যার বাবার বাড়ি থেকেও লোকজন চলে আসার কথা আজকেই। দুপুরের খাবার খেয়েছে তারা সন্ধ্যে বেলা। একটা বিয়ে বাড়ির কাজ কারবার বলে কথা।

আকাশ কিছুক্ষণ আগেই তাদের ঢাকার অফিস ভিজিট করে বাড়ি ফিরেছে। কাল থেকে অফিস বন্ধ রাখার কথা বলেছে তার বাবা । ছেলের বিয়ের চক্করে খুশিতে আধখানা হয়ে বসে আছেন উনি। অযৌক্তিক সব কথা বলে বসে আছেন। নিচে কফির কথা বলে এসেছে। এখনো এসে পৌছায়নি। এতো কিসের ব্যাস্ততা মাথায় ঢোকে না তার। বাড়ি ভর্তি কাজের লোকজন।তার পরও তার মা চাচিদের দেখে মনে হবে নাক অবধি ডুবে থাকে তারা। ওখানে আরশি,এরিন রাও ছিলেো। যেকোনো একটা গাধা একটু দিয়ে যাবে না কফি! অসহ্যকর সবকটা। ব্যাস্ত হাতে তোয়ালে নিয়ে বাথরুমে ঢুকে গেলো সে। প্রচন্ড গরম পরেছে ঢাকা তে। তাদের কটেজে বারো মাস ঠান্ডা ঠান্ডা। কমবেশি রোজ বৃষ্টি লেগেই থাকে। এ কয়মাসে বলতে পারা যায় বেশ অভ্যস্ত হয়ে গেছে সে ওই পরিবেশ এর সাথে। বাড়িতে এসে এই ভ্যাপসা পরিবেশ পছন্দ হচ্ছে না।তাছাড়া, প্রকৃতি, পাহাড়, সবুজের মধ্যে থেকে এই কৃত্রিম শহর মানুষ এর থোরাই পছন্দ হয়! বেশ সময় নিয়ে কোল্ড শাওয়ার নিয়ে বের হলো সে। গায়ে একটা গ্রে কালার পাতলা শার্ট আর ট্রাউজার।গলায় তোয়ালে ঝুলিয়ে ঘরে আসতেই শব্দ পেলো দরজার ওপাশে। কেউ দাড়িয়ে আছে। মাথায় তোয়ালে টা দিয়ে মুছতে মুছতে বললো ভিতরে আসতে,
____”কে ভিতরে এসো।”

আর কয়েক সেকেন্ড সময় নিয়ে দরজা ধাক্কা দিলো কেউ। হাতে ঠকঠক করে কাঁপতে থাকা কফির কাপ নিয়ে ঘরে ঢুকলো একটা মেয়ে। আকাশ ভ্রু কুচলে তাকালো।
____”অপু! আয় ভিতরে আয়।”

অপু! আকাশের বড় মামার মেয়ে। আমিনা চৌধুরীর বাপের বাড়ির সকলে এসে পৌছেছে এই কিছুক্ষণ হলোই। অপুর হাতে কফির কাপ দেখে এগিয়ে নিজেই হাতে নিলো আকাশ।স্বভাবমতো ভারি গলায় বললো,
____”কখন আসলি?”

অপু মিনমিন গলায় বললো,
____”এইতো। কিছুক্ষণ হলো।”

আকাশ কফির কাপে চুমুক দিয়ে নামিয়ে রাখলো বেড সাইট টেবিলে। দু হাতে চুল নাড়াচাড়া করে বললো,
____”সবাই ভালো আছে?”
____”আছে।তোমার শরীর ভালো?”
____”ফার্স্ট ক্লাস। তোর পরীক্ষা কেমন হলো?”
____”ভালো।”
____”যা সবে আসলি। রেস্ট কর গিয়ে।”

অপু ইতস্তত করে। কিছু বলত চায় হয়তো। তবে আকাশের আশকারা না পেয়ে আর বলতে পারে না। দাড়ায় ও না। অপু বেড়িয়ে গেলো। বিরক্তি ফুটে ওঠে আকাশের চোখেমুখে। এগিয়ে গিয়ে আটকায় দরজা টা। তার মামাবাড়ির লোকেদের মতলব তার জানা। বছরের পর বছর ধরে মেয়েটাকে তার সাথে বিয়ে দিতে উঠেপড়ে লেগে আছে।এই মেয়েকে এখন তার রুমে কফি দিয়ে পাঠানোর বুদ্ধি তার মায়ের হলো কি করে বুঝে পেলো না সে।

বিছানায় ক্লান্ত শরীর ছেড়ে দিলো। ফোন করলো প্রিয়ার নাম্বার এ। প্রিয়া বোনের সাথে বসে দুদিন ধরে করা শপিং এর জিনিসগুলো খুলে খুলে দেখেছে। পাশে রাখা আইসক্রিম এর বাটি। আকাশের ফোন পেয়ে মৃদু হাসলো। কল রিসিভ করে হাটুর ওপর রেখে আইসক্রিম এর বাটি হাতে তুলে নিলো। মুখ ভর্তি আইসক্রিম নিলো।
____”খুব ব্যাস্ত?”
____”না তো”
____”আমার থেকে আইসক্রিম বুঝি বেশি ইম্পরট্যান্ট? “

প্রিয়ার কপালে ভাজ পরলো। ঝট করে তাকালো ফোনের দিকে। আকাশ ভিডিও কলে! সে তো খেয়ালই করেনি। মুখ থেকে চামচ খানা টেনে বের করে ওড়নায় মুখ মুছে লাজুক হয়ে তাকালো ফোনের দিকে। শিয়া মিটিমিটি হাসছে পাশ থেকে। নিচ থেকে শোনা গেলো রেণুকা রহমানের এর কন্ঠ। ডাকছে দু বোনকে। শিয়া বোনকে ইশারা করলো কথা বলতে। সে নিজে গেলো নিচে।

আকাশ মাথার নিচে এক হাত দিয়ে শুয়ে আছে। ভেজা চুলগুলো কপালে পরে আছে।
প্রিয়া মিহি গলায় বললো,
____”শাওয়ার নিয়েছেন?”
____”হু।”
____”অসময়ে?”
____”অভ্যাস করছি।”
____”কিসের?”
____”তুমি এলে সময় অসময়ে গোসল দিতে হবে না?”

লজ্জায় রক্তিম গয় প্রিয়ার গাল।
____”আপনি ভালোমতো কথা বলেন না কখনো।”
____”ইচ্ছে হয়না আজকাল।মনের মধ্যে এক চিন্তা রেখে ওপরে ওপরে সাধু সাজতে আমি পারিনা।”
____”নির্লজ্জ। “
____”সত্যিই তাই।”
____”কাল আসছেন?”
____”নিজ থেকে এসে চুমু খাবে।এই কথা দিলে আসবো।”

প্রিয়া ঠোঁট কামড়ে ধরে। কথা বলতে গেলেই লজ্জায় পরে যায়। কথার পিঠে কি বলবে গুলিয়ে ফেলে।
____”ইশশশ, মজা করছি না তো। আসবেন কি না বলতে কি সমস্যা। “

____”দেবে চুমু?”
____”বিয়ে হোক। সব দেবো। সবই তো আপনার।”
____”সব?”
____”সব।”
____”তোমার দিন, তোমার রাত, তোমার লজ্জা, তোমার…
____”থামবেন?”

শব্দ করে হেসে ফেলে আকাশ। এই মানুষ টার হাসিতে বুক কাপে প্রিয়ার। মুগ্ধ হয় সবসময়। ফোন বাঁকা করে হা করে তাকিয়ে থাকে মানুষ টার দিকে। ওই চোখে চোখ সে রাখতে পারে না। রুহ সহ শিহরিত হয় তার। আকাশ ভেজা চুলে হাত চালায়।
____”আমি যেতে পারছি না। আরাফ, আরশি রা যাবে পরশু শিয়ার তত্ত্ব নিয়ে।”
____”আপনি আসলে সমস্যা কি?”
____”ম্যাডাম একটু বেশিই উতলা দেখছি?”
____”মোটেই সেরকম কিছু নয়।”
____”তাহলে কিরকম কিছু?”
____”আসবেন কি না বলুন।”
____”ভেবেছিলাম যাবো না। এখন না গেলে মরে যাবো। আপনার উতলা মুখটা না দেখলে,লাজুক রক্তিম গালদুটোতে ঠোঁট না বুলালে শ্বাস নিতে পারবো না।”

প্রিয়া ফোন সরিয়ে হেসে ফেলে।
____”আইসক্রিম খাবেন?”
____”মিষ্টি? “

প্রিয়া আচমকা বাঁকা হাসলো। ফোনটা রাখলো বালিশে হেলনা দিয়ে। পুরো চামচ ভর্তি আইসক্রিম মুখে নিলো। চোখ টিপলো আকাশের দিকে।
____”আপনি চাইলে সেদিন এর মতো মিষ্টি করে দিতে পারি?”

তার ব্যাক্তিগত ওই আইসক্রিম এর লোভে শুকিয়ে এলো গলা টা।প্রিয়ার বাঁকা ইঙ্গিত ধরতে এক সেকেন্ড সময় লাগলো না। মেয়েটা তাকে এরকম অপদস্ত করতে তৈরি থাকে সবসময়।
____”দিতেই পারো?”
____”দিতেই পারি।”
____”ভেবে বলছো?”

আরেকদফা আইসক্রিম মুখে নিয়ে চোখ টিপলো প্রিয়া।
____”না ভেবে বলার কি আছে?”
____”যখন চাবো তখন গড়িমসি করলে কিন্তু চলবে না?”
____”আমার মন টা বিশাল বড় চৌধুরী সাহেব। সামান্য আইসক্রিম দিতে কার্পণ্য করবো না। নিশ্চিন্ত থাকুন।”

আকাশ এবারে ফিচেল হাসলো।ঠোঁট কামড়ে ধরলো। শার্টের ওপরের বোতাম খুলে আলগা করে দিলো।
____”আমারও অল্পে সাধ মিটবে না কিন্তু। যখন নেবো সর্বস্ব লুটে নেবো পাখি। লজ্জায় কাতরাতে কাতরাতেও আমার এই বুকেই আশ্রয় খুজবে। সেদিন বেশি দূরে নেই। দু বছর আকাশ এহনাজ চৌধুরী থোরাই অপেক্ষা করবে…!”

____”আমিও তো সেটাই চাইছি। লুটে নিন আমাকে…”

বুকের ওড়নাটা আচমকা সরিয়ে ফেললো প্রিয়া। লেডিস শার্ট এর ওপরে বোতাম টা খুলে ফেললো। ফোন টা এমন ভাবে ধরে রেখেছি ভয়ংকর অবস্থা। আকাশ খেয়াল করলো শরীর শক্ত হয়ে আসছে তার। মেয়েটা তার কথায় অপদস্ত তো হলোই না। উল্টো তাকে মারার পরিকল্পনা করছে। দেখতে দেখতে আরও দুটো বোতাম খুলে ফেললো প্রিয়া। তবে খুলে ফেললেও হাত দিয়ে ধরে আছে শার্টের অংশ। ছেড়ে দিলে সর্বনাশ দেখবে চোখের সামনে বেচারা আকাশ। দু হাতে চোখ ডললো। প্রিয়া অসম্ভব মোহনিয় কন্ঠে বললো,
____”লুটে নিতে চান না বুঝি? কার প্রতি দয়া করে? আমার? আমি একটুও রাগ করবো না কিন্তু। সত্যি।”

____”বোতাম আটকাও পাখি।”

প্রিয়া মিটমিটি হাসলো আকাশকে জব্দ করতে পেরে। হাতের বাধন আলগা করলো খানিকটা। আকাশ আৎকে উঠলো,
____”পাখি। আটকে ফেলো বোতাম। এ বড্ড কঠিন অত্যাচার। এতদূর থেকে মরে যাবো আমি। ধরতে পারবো না, আদর দিতে পারবো না। মাঝখান থেকে ঝড় তুলে দিচ্ছো বুকের ভিতর।”

ফোনটা একদম কাছে আনলো প্রিয়া। সটানে শুয়ে পরলো বিছানায়। বা হাতে মুঠো করে ধরা নিজের শার্ট। কামুক গলায় বললো,
____”ঝড় তো আমার শরীরেও হচ্ছে। থামবে কি করলে হুম?”

আকাশ চোখ বন্ধ করে ফেলে। মেয়েটা তাকে আজকে মেরে ফেলার পায়তারা জুড়েছে। প্রিয়ার এমন কন্ঠের সাথে কালেভদ্রে পরিচিত হয় সে। মেয়েটা সবসময় তাকে জব্দ করে ব্যবহার করে এই টোন। সে জব্দ হয়েও যায়…
____”আমাকে জ্বালাচ্ছো। আমি সত্যি সত্যি জ্বালালে তখনও এমন আশকারা দেবে বুঝি?”

____”তো দেবোনা? কাছে চাইতো আমারও। সেটা আবার এক্ষুনি। আপনার চাইনা?হুম?”

এবার নিজের হাতটা আলগা করে নামিয়ে আনলো খানিকটা নিচে। ফর্শা উন্মুক্ত কন্ঠদেশের নিচের অনেকটা চোখে ভাসছে। শ্বাসপ্রশ্বাস দ্রুত হলো আকাশের।বুকের বা পাশটায় তোলপাড় হচ্ছে।

প্রিয়া দেখলো আকাশের কামুক দৃষ্টি। শ্বাস নিচ্ছে জোরে জোরে। নিজের হাতটাও কাপছে তার। লোকটাকে ওপরে ওপরে ভয় দেখাতে গিয়ে ভিতরে নিজে গলে পানি হয়ে যায় সে।এ যাত্রায় শব্দ করে হেসে ফেললো সে। ফোন উপুড় করে রাখলো পাশে। নিজের মাথায় ছোট্ট একটা গাট্টা মেরে দ্রুত হাতে আটকালো শার্টের বোতাম। তারপর ফোন সামনে নিয়ে আকাশকে মিহি গলায় বললো,
____”কেমন ফিলিংস?”
____”জঘন্য। “
____” জব্দ হলেন তাহলে?”
____”খুব।”
____”আর জ্বালাবেন আমাকে?”
____”আরও বেশি।”
____”আবার দেখবেন?”
____”যেদিন দেখবো সেদিন সামনে বসিয়ে দেখবো ম্যাডাম? নিজের হাতে আনবাটন করবো সব। মেপে মেপে, ছুঁয়ে দিয়ে অনূভব করবো। মূর্ছা গেলেও মানবো না। সব অত্যাচার এর শোধই দ্রুতই তুলবো পাখি। রেডি থাকবে কিন্তু হ্যা?”

প্রিয়া এ যাত্রায় ফোন কেটে দেয়। একটু বেশি হয়ে গেছে জব্দ করে গিয়ে। জব্দ সেও হয়। বুকের তোলপাড় এ এলেোমেলো লাগে তারও সবকিছু।এই যেমন এখন লাগছে।

চলবে ইনশাআল্লাহ 🌸🍀

[ এই প্রথম মনে হয় এতো দেরি করে ফেললাম পর্ব দিতে…#আকাশপ্রিয়া দিয়েছিলাম সেইই সাত দিন আগে। ভাবা যায়! আপনাদের সাথে সাথে আমারও মনটা খারাপ হয়ে গেলো…
চেষ্টা করবো আর দেরি না করার। সময়মতো পর্ব গুলো দিয়ে দেওয়ার।

🚫আপনাদের কাছে আমার একটা অনুরোধ থাকবে। নেক্সট, সুন্দর এসব একঘেয়ে কমেন্ট শুধু না করে সুন্দর সুন্দর কমেন্ট কিন্তু করতেই পারেন বলেন🥹 গল্প টার কোন অংশ বেশি ভালো লেগেছে,কোন সংলাপ, কোন অংশ ভালোলাগেনি, কোন চরিত্র সম্পর্কে আপনাদের কি মতামত হাবিজাবি….এমন কমেন্ট ভালোও লাগে,মন মতো রিপ্লাই ও করতে পারি। শুধু সুন্দর আর পরের পর্ব কখন দিবো এসব বলবেন না পাখিরা কেমন? আমি যথাসময়ে গল্প দিবো। না দিতে পারলেও জানিয়ে দিবো। আপনাদের অসুবিধায় ফেলবো না…
যতজন পড়েন একটু চেষ্টা করবেন রেসপন্স করার।কেমন?🥹
ভালোবাসিইইইইই❤️]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here