আকাশপ্রিয়া #পর্ব ৪২

0
32

#আকাশপ্রিয়া
#পর্ব ৪২
#dure_dilshad_dua_দুর_এ_দিলশাদ_দুআ

[🚫কার্টেসি ছাড়া কপি করা নিষেধ। ]

মাঝের দুটো দিন দু পরিবার এর যেনো গোছগাছ করতেই পার হয়ে গেছে। গায়ে হলুদের এর দিন এসে পরেছে এরই মধ্যে। সকাল থেকে ভীষন ব্যাস্ততা দু পরিবারেই। এ পাশে প্রিয়াদের বাড়িতে রাকা,তুষি,সহ আরও বেশ কয়েকজন অফিসের স্টাফ রা এসেছে। প্রিয়ার বন্ধু বান্ধব ও আছে কিছু।
এ পাশে ভিরভাট্টা কম হলেও চৌধুরী বাড়িতে মোটেও সেরকম নয়। আত্মীয় সজন,বন্ধু বান্ধব, শ খানেক লোক জন জমা হয়ে গেছে এরই মধ্যে। ঘরোয়া ভাবে গায়ে হলুদ দেওয়া হবে দুজনকেই সন্ধার পর। যেহেতু দু বাড়ির মধ্যে বেশ দুরত্ব সেহেতু ছেলের বাড়ি থেকে হলুদ দিতে আসা হবে না শিয়া কে। আরশি,এরিন রা অবশ্য বেশ বায়না জুড়ছিলো। তবে সেসবে পাত্তা দেয়নি আকাশ। গতকালই বিয়ের সব তত্ব দিয়ে আসতে গিয়েছিলো সকলে। রোজ রোজ এতো জার্নি শরীরে কুলাবে না কারোরই।

শিয়াকে হলুদ শাড়ি পরিয়ে নিচে নামানো হয়েছে । তাদের আত্মীয় সজন এখন রাকা, তুষিরাই । রেণুকা রহমান ইচ্ছে করেই জানায় নি তার পরিবার কেউ । যে পরিবার আজীবন দুঃখের সময় সাথ দেয় না, সুখের দিনে তাদের সঙ্গের কি দরকার। আনিসুল রহমান অবশ্য চেয়েছিলেন একবার। তাদের দু পরিবারকেই একবার অনুরোধ করতে, তবে স্ত্রীর নিষেধে করেননি তিনি। সত্যিই তাই। এতগুলো বছরের
একটাবার যারা খোঁজ নেয়নি, বুড়ো বয়সে পরিবার দিয়ে কি হবে আর। মেয়েদুটোকে আগলে বাকি জীবন দুই বুড়ো বুড়ি অনায়সে কাটিয়ে দিতে পারবে । ছোটখাটো ভাবে হলুদেের ব্যবস্থা করা হলো শিয়ার। তবে বাড়ি মোটেই ফাঁকা ফাঁকা লাগছে না। প্রিয়া, রিমি সহ সকলে মিলে গানবাজনায় মাতিয়ে রেখেছো একেবারে।

রেনুকা রহমান শাড়ির আচলে চোখ মুছলেন। স্বামীর দিকে তাকাতেই চোখে পরলো আনিসুল রহমানের ভেজা চোখজোড়া। স্ত্রীর দিকে না তাকিয়ে ধীর গলায় বললেন,

____” তুমি যখন প্রথম কনসিভ করলে তখন আমাদের বিয়ের সবে চারমাস। তাইনা? আমি তখন বেকার। দু বেলা ঠিকমতো খেতে দিতে পারি না তোমাকে। তোমার প্রেগন্যান্সির খবরে মাথায় আকাশ ভেঙে পরলো আমার। এতো খুশি এ জীবনে কখনো হইনি হয়তো। তবে তোমাকে, আমাদের বাচ্চাকে কি খাওয়াবো সেই চিন্তায় পাগল প্রায়।”

রেনুকা রহমানের চোখের সামনে ভেসে উঠলো সে দুর্দিনের ছবি। আচলে মুখ চেপে রইলেন। আনিসুল সাহেব চশমা খানা খুলে হাতে নিলেন।

___”তোমাকে বলা হয়নি রেণু। আমি তার পরদিন গেলাম আমার বাড়ি। হাতে পায়ে ধরলাম মেনে নিতে। তারা নারাজ। বাড়ি থেকে বেড়িয়ে সারাদিন ঘুরলাম পথে পথে একটা চাকরির জন্য। চাইলেই কি চাকরি মেলে! ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। চাইলেই হয়তো দু একট টিউশনি জোগাড় হয়। কিন্তু টিউশনি তে আর কতটা কি করতে পারতাম। এদিকে জমানো পুজি সর্বোচ্চ তিন থেকে চারদিন। সারাদিন ঘুরে রাতে গেলাম তোমার বাড়ি। তোমার বাবার পায়ে ধরে বললাম আপনাদের মেয়েকে ফিরিয়ে নিন। সে মা হবে। তাকে একটা সুন্দর জীবন দিন।বাচ্চাটাকে একটা সচ্ছল জীবন দিতে বললাম। আমি মুক্তি দেবো তোমাকে। তোমার বাবা রাজি হলেন। তবে শর্ত দিলেন কি জানো? “

আনিসুল সাহেব তাকালো স্ত্রীর দিকে। রেণুকা অবাক দৃষ্টিতে স্বামীর দিকে তাকিয়ে। সে এসব জানতো না।আলতো মাথা নাড়লো দুদিকে। আনিসুল সাহেব হাত ধরলেন স্ত্রীর। অন্য হাতে চোখ মুছলেন।
____”তোমার বাবা বললেন তোমাকে তারা ফেরত নেবে। তবে সন্তান টা না। সন্তান টাকে নষ্ট করে তোমাকে অন্যত্র বিয়ে দেবে। আমি কি পাগল বলো! যে সন্তানের জন্য তোমাকে ফিরিয়ে দিচ্ছি, তাকেই যদি না রাখে…
তোমার বাবাকে সেদিন আমি চ্যালেন্জ করে এসেছিলাম। আমার সন্তানকে আমি দুনিয়াতে আনবো। তোমাকে রাজরানি করবো। আমার মেয়েকে রাজকন্যার মতো বড় করবো…খোদা আমাদের কোল জুড়ে রাজকন্যাই দিলেন। ছোটবেলায় আমার দাদি বলতেন খোদা যার ওপর সবথেকে খুশি হন তার প্রথম সন্তান কন্যা সন্তান হন। আমাদের শিয়া আসলো আমাদের জীবনে। ওর জন্মের তিনদিন এর মাথায় আমার ডাক পরলো চাকরির জন্য। এক বছরের মাথায় ছোট্ট একট বাড়ি হলো। তিন বছরের মাথায় ছোট্ট একটা গাড়ি। ও আমাদের লাকি চার্ম ছিলো…অনিশ্চিত ভবিষ্যত এর একটা সংসার চাঁদের আলোয় ভরে উঠলো। “

রেণুকা ফুঁপিয়ে উঠলেন এ যাত্রায়। দু হাতে স্বামীর হাত ঠেকালো কপালে।ভাঙ্গা গলায় বললো,
___”তুমি আমাকে সব দিয়েছো। আমাকে, আমার মেয়েদের এক জীবনো কোনো কিছুর অভাব বুঝতে দাও নি।”

আনিসুল রহমান হাসলেন সামান্য। তাকালো বসার ঘরে বসে হৈ হুল্লোড় করা তার দুই কলিজার টুকরার দিকে। দুটো মেয়েই আজকে শাড়ি পরেছে। শিয়ার সাথে সাথে প্রিয়াকেও বড় বড় লাগছে। হেসে বললেন,
____”তার আট বছর পর আমার আরেক রাজকন্যা আসলো। চাঁদ তাঁরার আলোয় ঝলমলে আমার তোমার সংসার। খোদা আমার ওপর কতটা সন্তুষ্ট ভাবতে পারো! আমার কলিজার টুকরা দুটো কত বড় হয়ে গেলো মাশাল্লাহ। কাল নাকি আমার বড় মায়ের বিয়ে! আমাকে ছেড়ে আমার এ ছোট্ট রাজবাড়ি ছেড়ে আমার মা টা যাবে পরের ঘরে। আর ওইযে আমার ছোট মা। ওকেও বিদায় দিতে হবে আর দু এক বছর পর। ভাবতে পারো? শিয়া যখন ক্লাস টু তে পড়ে তখন প্রিয়া জন্মালো তাইনা? বোনটাকে ছোট ছোট হাতে কোলে করে রাখতো। বড় হলো দুজন। কেউ কাউকে ছাড়া এক মূহুর্ত বোঝেনা। খোদার মর্জিতে দুজনের সংসারও হবে এক এ বাড়িতে। অয়ন -আকাশ এর মতো দুটো ছেলে আমার জামাই হবে। চৌধুরী পরিবার মানুষ রা আমার মেয়েদের… কত ভাগ্য করে জন্মেছে আমার মেয়েরা বলোতো। “

____”আমাদের দুই মেয়েই খুব ভালো থাকবে দেখো।আমি তুমি থাকি বা না থাকি। ওদের চিন্তা ফুরিয়েছে আমাদের। ওদের আগলে রাখার মানুষ খোদা পাঠিয়েছেন।”

____”কাল বিদায় দিতেই হবে বলো?”

____”এটাই তো নিয়ম। মেয়েদের বিদায় দিতেই হয় বাবা মা কে…”

দুজনেই ছলছল চোখে দেখছে তাদের কলিজার টুকরো দুটোকে। কি খুশিই না লাগছে। প্রিয়া কে হলুদ লাগাতে ছুটছে রিমি। বারবার লুকাচ্ছে বোনের আড়ালো। শিয়ার গাল,কপাল, শরীরে হলুদে মাখামাখি। কি সুন্দরই না লাগছে তার পরীর মতো মেয়েদুটোকে…

****

____”লুঙ্গি পরবো না। মাফ কর তোরা আমাকে।”

সজোরে দুদিকে মাথা নাড়লো আরাফ,আরশি, এরিন,আয়াত । পিছনে কয়েকজন কাজিন রাও এসে দাড়িয়ে আছে। অপুর হাতে লুঙ্গি আর আর লাল চেক গামছা। সেগুলো নিয়ে এসেছে অয়নকে পড়ানোর জন্য। তখন থেকে রাজি করানোর চেষ্টা চলছে। অয়ন কিছুতেই রাজি হচ্ছে না।
আকাশ এসে ঢুকতেই হাফ ছাড়লো অয়ন। ডাক দিলো ভাইকে।
____”অ্যাই আকাশ। লুঙ্গি…”

আকাশকে ইশারা করলো লুঙ্গির দিকে। আকাশ এসে নির্বিকার দাড়ালো। নিচের সব আয়োজন লোকজন কে বুঝিয়ে দিয়ে ঘেমেনেয়ে একাকার হয়ে ওপরে উঠেই অয়নের ঘরে এমন হট্টগোল এ এগিয়ে এসেছে সে। লুঙ্গির দিকে সেও তাকালো। ভাবলেশহীন গলায় বললো,
____”হু লুঙ্গি।”
____”পরতে বলছে।”
____”তো? পরবে।”

আৎকে উঠলো অয়ন। দু হাত নাড়লো সামনে।
____”পাগল নাকি! লজ্জায় মরে যাবো। তাছাড়া পরি নি আগে কখনো। “

আরশি কোমড়ে হাত দিয়ে তেরে এলো বড় ভাইয়ের দিকে। শাসিয়ে উঠলো।
____”বড়দাদাভাই। একটা দিন পরলে কি এমন হবে।”
____”জনসম্মুখে বেইজ্জত হলে বহুত কিছু হবে।”

আকাশ মিটিমিটি হাসলো ভাইয়ের রিঅ্যাকশনে। সেটা চোখে পরলো তাদের এক চাচির। আকাশকে লক্ষ্য করে বললো,
____”তুমি হাসছো কেনো বাবা। তোমারও দিন সমানে আসলো বলে। তোমাকেও ছাড়বো না বলে দিলাম।”

আকাশের হাস্যজ্জল মুখ গম্ভীর গলো। অয়ন অতি বিরক্ত হয়ে নিলো লুঙ্গি টা। না পরলে ছাড়বে না স্পষ্ট বুঝতে পারছে সে।

অয়নকে বাগানে নিয়ে আসা হয়েছে হলুদ লাগাতে। মা চাচি, দাদি,বোনেরা সকলেই আছে। আত্মীয় সজন যারা যারা ছিলো সবাই একে একে হলুদ লাগাচ্ছে তাকে। বেচারা দু হাতে খামচে ধরে আছে লুঙ্গির গিট। মাথায় পানি ঢালা হবে। ভয়াবহ রিস্ক। পানির ধাক্কায় লুঙ্গি খুলে পরলে মহা সর্বনাশ। ফটোগ্রাফার পুরোদমে ব্যাস্ত সব ধরনের ছবি ক্যাপচার করতে। তাদের আরেক বন্ধু ফটোগ্রাফার। তাকে পাঠানো হয়েছে শিয়ার বাড়িতে। হলুদ গোসল শেষে অয়ন ছাড়া পেলো মা চাচিদের থেকে। এসব ঝৈ ঝামেলা থেকে পালিয়ে বাচে সে।

****

রাতুল ব্যাস্ত হয়ে পায়চারি করছে আকাশদের বাড়ির ছাদে। রিয়ান কে কল করে যাচ্ছে সে। ছেলেটা কল তুলছে না। বিগত এক দেড় মাস হলোই এরকম। অফিসে নিয়মমতো থাকেনা। দুদিন পরপর ছুটি নেয় বাড়ির কথা বলে। তাদের বন্ধুদের আড্ডায় তো একপ্রকার পাওয়াই যায়না। অয়ন ভাইয়ের বিয়ে উপলক্ষে তাদের সব সাইট এর কাজ বন্ধ আছে। অফিসের অর্ধেক স্টাফ রা শিয়াদের বাড়ি বাকি অর্ধেক ঢাকা তে চলে এসেছে। এই যেমন সে, রাকিব,রেদোয়ান আকাশদের এদিকটায় সামলাচ্ছে। ওদিকে রাকা, তুষি সহ অয়নের অ্যাসিসটেন্ট হাসান আছে।

তবে রিয়ানকে ফোনেই পাচ্ছে না তারা। সে যদিও এতোটা মরিয়া হয়ে মোটেই খোঁজ করতো না। আকাশের জোরাজোরি তে করতে হচ্ছে। সিঁড়িতে শব্দ পেতেই ঘুরে তাকালো রাতুল। দুটো কোকের ক্যান হাতে আকাশ এসে দাড়িয়েছে। বাড়িয়ে ধরলো রাতুল এর দিকে।
___”পেলি ওকে?”

মাথা নাড়লো রাতুল। জানালো পায়নি এখনো কলে।
____”ওর বাড়ির সবাই ঠিক আছে?”
____”ও বাড়িতে নেই দু দিন হলো।”
____ কল তুলছে না কেনো! কবে কথা হয়েছে তোর সাথে ওর?”
____”দিন সাতেক তো হবেই।”

আকাশ ভ্রু কোচকায়। তার সাথেও একইরকম প্রায়। দিন সাতেক আগে একটা মিটিং এ অ্যাটেন্ড করেছিলো। তারপরই অবশ্য তাড়াহুড়ো করে অফিস থেকে বের হয়। সন্ধ্যার দিকে মেসেজ করে কয়েকটা দিন ছুটি লাগবে। ফ্যামিলি ম্যাটার। বলতে গেলে তারপর থেকেই আর যোগাযোগ নেই কারোর সাথে
____”ওকে টেক্সট করে রাখ। দেখা মাত্র যেনো আমাকে কল ব্যাক করে।”

রাতুল টেক্সট করে রাখে রিয়ান কে। কোকের ক্যান খুলে চুমুক দেয় । সে কিছু বলবে তার আগেই শোনা যায় আকাশের কন্ঠ,
____”রিমি কে ভালোবাসিস?”

থমকায় রাতুল। আকাশ জানলো কি করে। সাফাই দেওয়ার মতো করে বলে,
____”সেরকম কিছু না…”
____”হ্যা নাকি না?”

রাতুল থামে। ইতস্তত করে খানিকটা। ধীর গলায় বলে,
____”হ্যা।”
____”বলেছিস?”
____”না।”
____”ওর বাড়ি থেকে বিয়ের কথা চলছে। ছেলে মেরিন ইন্জিনিয়ার। ঠিকঠাক এর মধ্যে। জানিস কিছু।”

হতভম্ব হলো রাতুল। ব্যাগ্র গলায় বললো,
____”তোকে কে বললো!”
____”প্রিয়া।”
____” আমাকে তো কিছু বললো না মেয়েটা।”

আকাশ স্থির দৃষ্টি দিলো রাতুলের দিকে। ছাদের কার্নিশে হেলান দিতে দিতে বললো,
____”ওকে জানাস নি। কোন দুঃখে বলবে! কি দায় ওর?”
____”কি জ্বালা। জীবনে প্রথম একটা প্রেমে পরলাম।পরা মাত্র যদি শুনি তার বিয়ে ঠিক হচ্ছে। কেমন টা লাগে! “

আকাশ শীতল গলায় বললো,
____”কেমন লাগার কি আছে! প্রকাশ কর ওকে ভালোবাসিস। জানতে চা ওর ও সেরকম ফিলিংস আছে কিনা। থাকলে পরিবার এর সাথে কথা বল।”

____”কাল গিয়ে সমানসামনি বললে কেমন হয়?”

____”ভালোই হয়।”

রাতুলের চিন্তিত মুখ দেখে হাসি পায় আকাশের। সময় অসময় তাকে বিরক্ত করতো ছেলেটা প্রিয়ার কথা বলে। আজকে নিজে ফেঁসেছে। বুঝুক একটু কত মজা প্রেমে।

বাড়ি ঝলমল করছে কৃত্রিম ফেইরি লাইটের আলোয়।ডুপ্লেক্স বাড়ি ওপর থেকে নিচ অবধি আলোয় ছেয়ে আছে। রাতুল ছটফট করছে এদিক ওদিক। আকাশের দিকে ফিরে বললো,
____”সিগারেট আছে ভাই?”

আকাশ ভ্রু কোচকায়। রাতুল সিগারেট ইহজনমে খায় না। গম্ভীর গলায় বললো,
____”তুই স্মোক করিস!”
____”করিনা। আজ করতে চাইলাম। টেনশন কমে যদি।”
____”বিয়ে কাল ভাইয়ার। তুই নার্ভাস হচ্ছিস কেনো?”
____”মেয়েটা যদি রিজেক্ট করে?”
____”করলে কাল থেকে সিগারেট ধরবি।

রাতুল বিরক্ত মুখে তাকায় বন্ধুর দিকে। আকাশ যে তাকে নিয়ে মজা নিচ্ছে বেশ টের পাচ্ছে সে। নিচ থেকে রাকিব এর ফোন আসায় দ্রুত পায়ে নামলে রাতুল। আকাশ বাকা হাসলো। বন্ধুর পিছন পিছন নামতে গিয়েই সিড়ির মাথায় সামনে পরলো অপুর।
আকাশকে দেখেই নরম গলায় বললো,
____”নিচে যাচ্ছো? “
____”হু।”
____”তোমার সাথে কথা ছিলো কিছু।”
____”বল।”
____”এভাবে সিড়ি মাথায় দাড়িয়ে? হয় নিচে চলো না হলে ছাদে চলো।”

আকাশ অনিচ্ছা সত্ত্বেও গিয়ে দাড়ালো ছাদের। অপু এসে দাড়ালো মুখোমুখি। ওড়না হাতে পেচিয়ে ধরছে বারবার। গলা নামিয়ে ধীর গলায় বললো,
____”বাবা বলছিলো…তোমার সাথে আমার বিয়ে.…

অপুর আমতা আমতা কথার ধরন বুঝতে খুব একটা সময় লাগলো না আকাশের। কথার গতি এখন কোনদিকে যাবে।তাও টের পেলো সে। অপুর কথা শেষ হওয়ার আগেই থামিয়ে দিলো ওকে।
____”নিচে ডাকছে। পরে কথা বলি।

অপুর জবাবের অপেক্ষা করলো না আকাশ। পাশ কাটিয়ে নেমে গেলো নিচে। অপু ঠায় দাড়িয়ে ছাদে। গটগট করে নেমে আকাশ সোজা আসলো মায়ের কাছে। আমেনা চৌধুরী বসার ঘরে সদ্য নিয়ে আসা বাজার সদাই এর তদারকি করছিলেন। ছেলে এসে পাশে দাড়াতেই দেখতে পেলেন ছেলের রুদ্রমূর্তি।
____”একবার ওপরে এসো মা।”

আচমকা ছেলের রাগের কারণ ধরতে পারলেন না তিনি। তবে কথা না বাড়িয়ে গেলেন আকাশের পিছু পিছু। ঘরে আসতেই আকাশ কঠিন গলায় বলে উঠলো,
____”বড় মামা কে না করে দাওনি মা আমার আর অপুর কথা?”

আমেনা চৌধুরী বুঝলেন ছেলের রাগের কারণ। তার বাপের বাড়ির কাউকেই আকাশ আর প্রিয়ার কথাটা জানানো হয়নি। তারা এসেছে অয়ন আর শিয়ার বিয়ে উপলক্ষে। এবং সেদিন ছেলেদের ওপর রাগের বশে তিনি ভাইকে জানিয়েছিলেন অপুকে আকাশের সাথে তাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে পরিস্থিতি পালটেছে। শিয়া প্রিয়াদের নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটেছে। ছেলের মতেরমানুষকে বিরুদ্ধে যাওয়া তার পক্ষে কখনো সম্ভব নয়। তেমন মাও তিনি নন। আজীবন ছেলেমেয়েদের বন্ধুর মতো থেকেছে। আজও তাই। জোর করে ধরে বেঁধে অন্যত্র ছেলেদের বিয়ে সে দেবেনা। দু হাতে ছেলেকে ধরে বোঝানোর ভঙ্গিতে বললো,
____”এখনো জানানো হয়নি বাপ। জানাবো। এতো রাগার কিচ্ছু নেই।”
____”রাগার কিচ্ছু নেই মানে কি! বড় মামা তখন জামাই জামাই করে ডাকছে মানুষ এর সামনে। আসার পর থেকে অপু পিছু ছাড়ছে না। বাড়িভর্তি মানুষ জন মা। দৃষ্টিকটু লাগে এসব।”

____”ভরা বাড়িতে এমন একটা বিষয় নিয়ে কিভাবে আলোচনা করবো বাপ। কালকের বিয়েটা মিটে যাক। আমি আর তোর বাবা ধীরেসুস্থে বসে জানাবো বড় ভাইকে।”

আকাশ নিজের রাগ ধাতস্থ করে।
____”আর যেনো বলতে না হয় মা। এসব নিয়ে ঝামেলা আমি একদম পছন্দ করি না। আমার মতামত এর আগেই হুটহাট সিদ্ধান্ত নিয়ে নিচ্ছো আমারই বিয়ের ব্যাপারে। সেটা নিয়ে ঝক্কি পহাতে হচ্ছে। জাস্ট অসহ্য। “

আমেনা চৌধুরী সময় নিয়ে ছেলেকে বোঝালেন। ভুলটা আদতে তারই। হটকারিতায় নেওয়া সিধান্তে এখন একটা অশান্তি হবে। ওদিকে তার বাপের বাড়ির লোকজন সম্ভবত ধরেই নিয়েছে এবার যাওয়ার সময় পাকা কথা সেরে যাবে আকাশ আর অপুর।

*****

হলুদ গোসলের পর্ব শেষে ভেজা শাড়ি পাল্টে নিয়েছে শিয়া। বাকিরা অবশ্য এখনো নিচেই রয়েছে। তার দ্রুত জামাকাপড় না পাল্টালেই হচ্ছিলো না। সুতি হালকা সবুজ একটা শাড়ি গায়ে জড়িয়ে সবেই বসেছে ড্রেসিং টেবিলের সামনে চুলগুলো শুকাতে। শব্দ করে বাজলো সেলফোন। তার নাকি প্রিয়ার?
উঠে গিয়ে ফোন হাতে নিতেই চোখে পরলো ফোন স্ক্রিনে ভেসে থাকা অয়নের নাম। মুচকি হাসলো শিয়া। ফোনটা রিসিভ করে সোজা করে রাখলো ড্রেসিং টেবিল এ। অয়ন নিজের ভেজা কাপড় পাল্টে টি শার্ট আর ট্রাউজার পরা। উপুড় হয়ে বিছানায় শোয়া। মুখের সমানে ফোন ধরে আছে।
শিয়া হেয়ার ড্রায়ারে চুল শুকাতে ব্যাস্ত। অয়ন মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সেদিকে। বাঁকা গলায় বললো,
____”কাল থেকে নিশ্চয় এই ভেজা চুলের কারণ আমি হবো?”

লজ্জায় ঠোঁট টিপে হাসলো শিয়া। মুখে কিছু বললো না। হেয়ার ড্রায়ার টা রেখে নিজে ঝুকলো সামান্য ফোনের দিকে। একই কন্ঠে সেও বললো,
____”সুযোগ চাইলে দিতেই পারি।”

____”আপনি উপকার টুকু চাইলে আমিও মনুষ্যসেবা করতেই পারি।”

____”যদি অনুমতি না দেই।”

____”কাল সেসবের তোয়াক্কা করছি না জান। অনেক হয়েছে। এত বছর অপেক্ষা করে কাল রাতেও যদি সেই অপেক্ষাই করাও তাহলে সন্নাসী হয়ে হিমালয়ে চলে যাওয়া ছাড়া গতি দেখি না আমার।”

অয়নের কথা গুলো বলার ভঙ্গিতে শব্দ করে হেসে ফেললো শিয়া। মিষ্টি হাসির শব্দ বুকে এসে লাগছে অয়নের। কাল থেকে ওই মেয়েটা কে নির্দ্বিধায় বুকে জড়াতে পারবে সে। আর হারানোর ভয় থাকবে না। সব অপেক্ষার অবসান ঘটবে। বউ সেজে ঘুরে বেড়াবে তার আশেপাশে। ভাবা যায়। শিয়া হাসি থামায় অয়নের সাড়াশব্দ না পেয়ে। অয়ন অনিমেষ তাকিয়ে আছে তার দিকে। চোখের পলক ফেলছে না।
____”কি দেখছেন ওভাবে হু?”
____”আমার জান টা কে।”
____”কাল থেকে দেখবেন, এখন ফোন রাখুন খিদে পেয়েছে। নিচে যাবো।”
____”আমারও খিদে পেয়েছে। “
____”তো গিয়ে খাও।”
____”আসবো?”
____”কোথায়?”
____”তোমার কাছে।”
____”আমার কাছে? “
____”খিদে পেয়েছে তো। কাল অবধি অপেক্ষা করতে ভালো লাগছে না।”

অয়নের কথার ইঙ্গিত বুঝতে পেরে এবার লজ্জাই পেলো বেচারি। মুখখানা সরিয়ে নিলো ফোন স্ক্রিন থেকে। অয়ন ফিচেল হাসলো মেয়েটাকে লজ্জা পেতে দেখে।
____”ম্যাডাম বছর ছয়েক আগে বেশি টা না বুঝলে এই লজ্জা ভাঙ্গাতাম আর পাঁচ ছয় বছর আগে। এতদিনে আপনার কোলে একটা আমার কপি-পেস্ট থাকতো। কপাল দেখুন। অপেক্ষার প্রহর আর শেষ হয়না।”

____”আর কয়েক ঘন্টা… “

____”শিয়া?”

শিয়া মুখ নামিয়ে বসা। হাতে আচল খোটাচ্ছে। ফোনের ওপাশে অয়নের ডাকেও মুখ তুললো না। ছোট্ট করে উত্তর নিলো,
____”হু?”
____”আমি খুব দ্রুত বাবা হতে চাই।”

শিয়া ঝট করে তাকালো ফোনের দিকে। অয়ন বাচ্চাদের মতো আবদারি চোখে তাকিয়ে আছে। শিয়ার প্রতিক্রিয়া না পেয়ে আবার বললো,
____” সম্ভব না?”

শিয়া মাথা ঝাকালো আলতো করে। মোলায়েম গলায় বললো,
____”সম্ভব। “
____”দেবে?”
____”দেবো।”

হাসি ফুটলো অয়নের মুখে। গোটা একটা জীবন পারি দিতে চায় সে এই মেয়েের সাথে। একটা সুন্দর সংসার উপহার দিতে চায় তার জান টাকে। তাদের এতোগুলো দিনের অপেক্ষা, এতগুলো দিন দূরে থাকার যন্ত্রণা সামনের দিনগুলোর সুখের চাদরে ভুলিয়ে দিতে চায় সবটা।

প্রিয়া এসে কখন বোনের পিছনে দাড়িয়েছে খেয়ালই করেনি শিয়া। তবে ওপাশ থেকে অয়নের চোখে পরলো শিয়ার পিছনে উঁকিঝুঁকি দিয়ে তাকে হাত নেড়ে হাই হ্যালো করা ছোট্ট শালি টাকে। অয়ন আরেকদফা হাসে। ওই মেয়েটা আরেক বাচ্চা। সেটার প্রেমে নাকি হাবুডুবু খাচ্ছে তারই ছোট ভাই! ভাবা যায়। ওই মেয়ের জন্য পাগল হওয়া বাকি। ওদিকে তার সেই বাচ্চা ভাই বউ আদতেই বাচ্চা। একে নিয়ে তার ভাইয়ের সংসার হবে আর কি।।প্রথমে বেবিসিটিং করতে হবে বউকেই।

অয়নকে ওভাবে হাসতে দেখে ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনে তাকাতেই চোখে পরলো ছটফট করা বোনটাকে।
প্রিয়া খিলখিল করে হেসে লাফিয়ে বসলো বিছানায়। জোরে জোরে অয়নকে উদ্দেশ্য করে বললো,
____”বাচ্চা আমার ঘাড়ে চাপিয়ে দুজন দেশ বিদেশে হানিমুনের পায়তারা জুড়লে কিন্তু আমি মানবো না দুলাভাই। বলে দিলাম কিন্তু সেটা।”

শিয়া আলতো থাপ্পড় মারলো বোনের পায়ে। ওপাশ থেকে হাসির শব্দ ভেসে আসলো।
____”এটা কেমন কথা হলো প্রিয়া! আমার বাচ্চার দুই সম্পর্কে মা হবে তুমিও। শিয়ার বোন, আবার আমার ভাইয়ের বউ। আমার বাচ্চার খালা,চাচি দুটোই তুমি। তোমার এতটুকু না করলে চলবে!”

প্রিয়া বিজ্ঞের মতো মাথা নাচালো।
____”তা ঠিক। তবে বোনাস টোনাস ও আমাকে বেশি করে দিতে হবে তাহলে।”

অয়ন হতাশ গলায় বললো,
____”তা না হয় দেবো। তাহলে কি বলো। নিয়ে ফেলা উচিত বাচ্চা একদম শুরু শুরুতেই তাইনা? “

প্রিয়া সজোরে মাথায় ঝাকায়। হাস্যজ্জল গলায় বলে ওঠে,
____”শুভ কাজে দেরি কিসের। নিয়ে ফেলুন। আমরা আছিই।”

*****

আশেপাশে পাহাড়, জঙ্গলের ভিতর দিয়ে আঁকাবাকা রাস্তায় চলছে বাস। রিয়ান ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাচ্ছে। হাতে বন্ধুদের মেসেজ ভেসে আছে। রাতুল, আকাশ সকলেই কল ব্যাক করতে বলেছে তাকে। সে কারোর সাথেই যোগাযোগ করেনি। উল্টো ঢাকা থেকে এখন যাচ্ছে উল্টো দিকে। সৌমির সাথে ছিলো এ দুইদিন। অয়ন শিয়ার বিয়ে আটকানোর কিচ্ছু নেই। কারোরই লাভ নেই। বরং আটকালেই আপাতত লস। পৌছাতে এখনো সময় লাগবে ঘন্টাখানেক। সোজা কটেজে গিয়ে উঠবে এখন থেকে। সারাজীবন আকাশের কাছে হেরে যেতে সে পারবে না। প্রিয়া কে তার লাগবে। যে কোনো ভাবে লাগবে। এবং সেটা যত দেরি করবে তত হাতের বাইরে যাবে সব। ভাগ্য করে বিয়ে হচ্ছে না এখন আকাশ প্রিয়ার। সেদিন যদি প্রিয়ার বাড়ির লোকজন একই সাথে আকাশ প্রিয়ার বিয়েতেও রাজি হতো তখন কি হাতের নাগালে থাকতো আজকে সব. থাকতনা। সুতরাং আর দেরি করার মানেই হয়না।

বাস এসে থামতেই ব্যাগ হাতে নামলো রিয়ান। এখান থেকে সিএনজি ধরে কটেজে যেতে পনেরো মিনিটের মতো লাগবে। আর প্রিয়াদের বাড়ি কটেজ থেকে ঘন্টা খানেক এর বেশি সময়। রিয়ান কটেজেই ফিরলো সবার আগে। সৌমির ভরসায় সে থাকবে না। ও রকমের মেয়েকে ভরসা করা আর যেতে পরে সাপের ছোবল খাওয়া একই কথা।

আকাশকে ফোন ব্যাক করলো এবার। দু বারের বার কল তুললো আকাশ।
____”কোথায় তুই! স্ট্রেঞ্জ! না বলে উধাও কিভাবে হয়ে যাস?”

রিয়ান বড্ড বিরক্ত হয় এপাশ থেকে। তবে স্বাভাবিক গলায় বলে,
____”দাদু কে নিয়ে ছোটাছুটি। জানিসই তো। খুব খারাপ সময় যাচ্ছিলো। জানাতে পারিনি।”
____”এখন কেমন আছেন উনি?”
____”মোটামুটি। “
____”তুই কোথায়?”
____”কটেজে।”

আকাশ অবাক হয়। গম্ভীর গলায় জিজ্ঞেস করে,
____”ছিলি ঢাকায়। কটেজে কবে গেলি!”
____”কাল রাতে এসেছি। পরশু ব্যাক করবো।”
____”অয়ন ভাই,শিয়ার বিয়ে। তোকে জানিয়েছি এর মধ্যে কতবার টেক্সট করে।”
____”আজ দেখলাম।”
____”তাহলে ওখানে থাক। আমরা কাল আসছি। যদি পারিস শিয়াদের বাড়িতে চলে যেতে পারিস। রাকা,তুষি রা ওখানেই আছে। রেদোয়ান গেছে আজকে।”

রিয়ান এপাশ থেকে বাঁকা হাসলো।
____”কাল তোরা আয়। তোদের সাথে একসাথে যাবো না হয় বরযাত্রী হিসেবেই।”

আকাশের পাশে কপাল কুচকে বসে আছে রাতুল। রিয়ানের সব কথাই শুনলো। সত্যি বলতে একটা কথা সুবিধার লাগলো না তার। বিশ্বাসযোগ্য তো মোটেই নয়। সে খোঁজ নিয়েছে। রিয়ান এর দাদি এখন সুস্থ। বলা যায় বেশ সুস্থ। লাস্ট এক মাসে তাকে হাসপাতালে টানাটানি করতে হয়নি। রিয়ান আজ অবধি ঢাকা তেই ছিলো এটাও জানে সে। কাল রাতে কটেজে ফিরেছে এটা চূড়ান্ত মিথ্যা কথা।

আকাশ ফোন রাখতেই রাতুল জিজ্ঞেস করলো,
____”রিয়ান কটেজে ফিরেছে? “
____”হু।”
____”তোর কি মনে হয় না ওর কিছু হয়েছে?”
____”হয়েছে তো অবশ্যই।”
____”ওকে ঢাকা ফিরতো বললে ফিরবে না? তুই আবার শিয়াদের বাড়ি যেতে বললি কেনো?”

আকাশ ভ্রু কুচকায়। বিরক্ত গলায় বলে,
____”সবাই তো ওখানেই। ও একা কটেজে কি করবে! যাক ভালো লাগবে। আই থিং ও কিছু নিয়ে ডিপ্রেসড্”। টাকা পয়সার ক্রাইসিস কিনা জিজ্ঞেস করিস তো। লাগলে নরমালি ট্রান্সফার করবি ওর অ্যাকাউন্ডে। “

রাতুল মাথা নাড়ে। আকাশকে জানেনা বিধায় এতো ইজিলি সব টা নিতে পারলো। তার এখন প্রথম কাজ ফোন করে রেদোয়ান করে সতর্ক করে দেওয়া। রিয়ান কে প্রিয়ার থেকে দূরে রাখা। ইদানিং সৌমির সাথে মাখোমাখো সম্পর্ক বেশি। না জানি আর কি কি ঘট পাকাচ্ছে দুজন।

চলবে ইনশাআল্লাহ 🍀🍂

[🍂 আকাশপ্রিয়া তে আপনাদের রেসপন্স কম। লিখতে বসে আমি এলোমেলো করে ফেলি অনাগ্রহের কারণে…
যাই হোক। ৩২০০+ শব্দ। শরীর,মন কোনোটাই ভালো না। খুব কষ্টে লিখেছি। আশা করবো রেসপন্স করবেন। নেক্সট এর খবর জানতে চাইবেন না। দ্রুতই দেবো। বারবার বললে প্রেশার লাগে…

পড়ে ফেলবেন পাখিরা। সামনে গল্প ধাক্কাধাক্কি করে মোড় অন্য দিকে নিয়ে যাবে। তবে অয়ন- শিয়ার বিয়েটা এনজয় করুন আপাতত….
ভালোবাসিইইইইই🌷🌸]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here