[ পর্ব ৪৮🌸]
চোখের পলকে সময় গড়িয়ে গেলো। শিয়া অয়নের বিয়ের পাঁচ দিন পেরিয়ে গিয়েছে। আনিসুল সাহেব স্ত্রী সমেত আবারও পারি জমিয়েছেন দেশের বাহিরে। অয়ন শিয়া বিয়ের ব্যাস্ততার পাল্লা চুকিয়ে প্রিয়া কে নিয়ে কটেজে ফিরেছে । তাদের কনস্ট্রাকশন সেক্টরে কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে বিয়ের পরের দিন থেকেই । আকাশ পুরোদমে সামলে নিয়েছে সবকিছু। সাথে রাতুল রা তো অবশ্যই আছে। আনন্দ ফূর্তির দিন পেরিয়ে পুরানো অভ্যস্ত জীবনে ফিরে এসেছে সকলে। সামনে মাস থেকে প্রিয়ার ভার্সিটির ক্লাস শুরু হবে। এই এক মাসই শান্তি। তারপর তারও সেই চিরচেনা ব্যাস্ততা।
প্রিয়া ঘরদোর গোছাচ্ছে। এতদিন কটেজে না থাকার দরুন রুমের অবস্থা বেহাল। ধুলো পরে যা তা অবস্থা। তারা আজ সকালেই এসেছে। বাবা মায়ের ফ্লাইট ছিলো গতকাল রাত দুটোয়। তাদের এয়ারপোর্ট থেকে বিদায় জানিয়ে সোজা কটেজে চলে এসেছে। অয়ন অফিসে গেলেও শিয়া আজকে কটেজেই আছে। সেও নিজেদের রুম গুছিয়ে ফেলছে।
দু বোনেরই মনটা বেশ খারাপ। বাবা মা সামনে আর টানা দু বছর ফিরতে পারবে না। তারা যাবে যদিও দু একবার। প্রিয়া তো কেঁদেকেটে চোখটোখ ফুলিয়ে ফেলেছে। শিয়ারও একই অবস্থা প্রায়। নিজের ঘর ঠিকঠাকমতো গুছিয়ে প্রিয়া এসে বসলো অয়ন শিয়ার রুমে। শিয়া শাওয়ার নিয়ে বেরিয়েছে সবে। বোনকে দেখে মুচকি হাসলো।
____”খিদে পেয়েছে?”
দুদিকে মাথা নাড়লো প্রিয়া। লাগেনি বোঝালো। আসলে খিদে পেয়েছে, কিন্তু খেতে ইচ্ছে হচ্ছে না। শিয়া জানে সেটা। চুল মুছতে মুছতে ঘড়ির দিকে তাকালো। আড়াইটা বাজে। অয়ন রা কেউ লাঞ্চের জন্য ফিরবে না। বলেই গেছে।
____”চল হালকা কিছু খেয়ে একটু ঘুমিয়ে নিবি। কাল সারারাত ঘুমানো হয়নি। তার ওপর সারাদিন ঘর পরিষ্কার করতে গেলো। শরীর খারাপ করবে।”
____”খিদে নেই আপু।”
____”তা বললে চলে হুম? আয় সাথে। “
বোনকে আগলে নিচে গিয়ে লাঞ্চ করে নিলো দুজনে। কাজের বুয়া আসেনি। তারা আজকেই কটেজে ফিরবে এটার প্ল্যান ছিলো না। তবে বাবা মা চলে যাওয়ায় ফাঁকা বাড়িতে দু বোনেরই কষ্ট হচ্ছিলো আদতে। তাই চলে এসেছে। সন্ধ্যার পর বুয়ার আসা র কথা৷
বেশ গরম পরেছে। গাছের একটা পাতাও নড়ছে না। ভ্যাপসা ভাব। এমন দুপুরে খাওয়াদাওয়ার পর ক্লান্ত লাগে। চোখ ভেঙে ঘুম আসতে চায়।
লাঞ্চ শেষে প্রিয়া চলে এলো নিজের রুমে। মাথা টা টনটন করছে। একটু না ঘুমালেই নয় । শিয়া অবশ্য ডাকছিলো তার সাথে ঘুমাতে। তবে নিজের রুমেই এসেছে। অয়ন ভাই চলে এলে ওদের মধ্যে ডিস্টার্ব একপ্রকার। সদ্য বিয়ে হয়েছে তাদের।
প্রিয়া আধভেজা চুল ছড়িয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই শান্তি লাগলো। মনে হচ্ছে কতদিন পর বিছানার স্পর্শ পেলো। ফোন হাতে উল্টেপাল্টে আকাশের নাম্বার এর কাছে ঘোরাঘুরি করলো খানিকক্ষণ। কাল এয়ারপোর্টে একদফা দেখা হলো মানুষ টার সাথে। তারপর ব্যাস্ততায় কোথায় যে ছুটলো। আর দেখা হওয়ার নামই নেই। সারাদিন তো খেতেও এলো না। কথাটা মনে হতেই ঝটপট ডায়াল করলো আকাশের নাম্বারে।
বিদেশি ডিলার দের সাথে গুরত্বপূর্ণ মিটিং এ ব্যাস্ত আকাশ। বিদেশের বেশ কিছু অফিসে টাকা পয়সার গড়মিল করেছে রিয়ান। সেসব সমাধান করতে মাথার ওপর উঠে গেছে সব। দরজায় কড়া পরতেই নিজের প্রেজেন্টেশন থামিয়ে ভ্রু কুচকে তাকালো আকাশ। তার ম্যানেজার কে দেখা যাচ্ছে। সামান্য উকি দিয়ে ইশারা করলো ফোন টা। আকাশ বড্ড বিরক্ত হলো। কামড়া ভর্তি সকলকে অপেক্ষা করছে আকাশের প্রেজেন্টেশন শুরু করার। এমন একটা গুরত্বপূর্ণ মূহুর্তে কোন আক্কেলে ফোন নিয়ে এসেছে বুঝে পেলো না আকাশ। বারবার নিষেধ করে দিয়ে এসেছিলো। তবে ফোন টা যে ক্রমাগত ভাইব্রেট করছে বুঝতে পেরে ভ্রু উচুলো আকাশ। ম্যানেজার মুখের ইশারা বললো প্রিয়ার কথা। মূহুর্তের মধ্যে মুখের ভাবভঙ্গি পাল্টালো আকাশের। ‘এক্সকিউজ মি’ বলে এগিয়ে গিয়ে ফোন তুললো কানে।
চারবারের বার ফোন রিসিভ হওয়ায় বড্ড ক্ষিপ্ত প্রিয়া। তবে লোকটা কে একটু আধরু ভয় ও পায়। সময় অসময় চেঁচাতে পারে না তাই। গম্ভীর কন্ঠে বললো,
____”খুব ব্যাস্ত ছিলেন বুঝি?”
আকাশ কন্ঠ একদম খাদে নামিয়ে বললো,
____”না তো।”
____ “ঘুমাচ্ছিলেন?”
____”অফিসে ঘুমাতে আসি?”
____”তার মানে ইচ্ছে করে ফোন তুলছিলেন না?”
____”তা কখন বললাম?”
____”মানে তো এটাই দাড়ায় তাইনা? ব্যাস্ত ছিলেন না। তার পরেও ফোন তুলছিলেন না। এটার মানে তো এটাই দাড়ায়। “
আকাশ ঠোঁট টিপে হাসলো। প্রেয়সী রেগে গেছে বুঝতে পারে। ঘাড় বাকিয়ে একটু করে দেখে নিলো অপেক্ষাকৃত সবাইকে। ফিসফিসিয়ে বললো,
____”পিৎজা চলবে আসার সময়? জমিয়ে আড্ডা দেবো রাতে কেমন? কতদিন পর আবার পাশের রুমে পাবো বলোতো।”
____”শখ কত! আপনি, রাত আর আড্ডা! হাসালেন।”
____”যাই হোক। যেটাই করি! গতকাল শুক্রবার গেলো। এমন আরও কত শুক্রবার পেরিয়ে যাবে জীবন থেকে কে জানে।”
প্রিয়া হাসলো নিঃশব্দে। কন্ঠ কঠিন রেখেই বললো,
____”লাঞ্চ করেছেন?”
____”মিটিং এ ম্যাডাম।”
____”মানে! তাহলে ফোন তুললেন কেনো?”
____”না তুললে রাতে আড্ডা দিতে গিয়ে অর্ধেক সময় তো আপনার অভিমান ভাঙাতেই চলে যেতো। “
____’আমি পরে কল করছি। কাজ শেষ করুন।”
আকাশ ফোন রাখলো। ম্যানেজার এর হাতে ফোনটা দিয়ে অ্যাটেন্ড করলো মিটিং। রাতুল, রাকিব মিটিমিটি হাসছে সামনে বসা অবস্থায়। আকাশ তাদের গুরুত্ব দিলো না।
*
হসপিটাল থেকে বের হতেই মাথা চক্কর দিয়ে উঠলো সৌমির। বমি বমি লাগছে। কোনোমতে গাড়িতে উঠে বসলো। ড্রাইভার ও নিয়ে আসেনি সাথে। এতটা রাস্তা ড্রাইভিং করতে পারবে বলেও মনে হচ্ছে না। বোতল থেকে পানি খেয়ে চোখ বুজে রইলো।
এতগুলো দিন হয়ে গেলো একটা বারের জন্যেও রিয়ান এর সাথে কনটাক্ট করতে পারেনি। রেদোয়ান জানিয়েছে তাদের সাথেও সেদিন এর পর আর কোনো কনটাক্ট হয়নি। দীর্ঘশ্বাস ফেললো সৌমি। আজকাল জীবন টা খুব অদ্ভুত লাগে। কোন জীবনে এসে পরলো সে। আজ বাদে কাল এই সন্তান যখন দুনিয়াতে আসবে কি পরিচয় দেবে সে! হয়তো দেশের বাইরে চলে যাবে, সমাজ থেকে বাঁচতে। কিন্তু বাচ্চাটা! বাচ্চাটাকে কি জবাব দেবে। আর রিয়ান! তার কি একবারও মনে হচ্ছে না তার ক্ষুদ্র অস্তিত্ব সৌমির গর্ভে? অন্তত একটা বার যোগাযোগ করতে পারলে, নিজ মুখে জানাতে পারতো।
রিয়ান কে খুঁজতে লোক লাগিয়েছে। ছেলেটা রীতি মতো উধাও। দু বার রিং হতেই কল তুললো সৌমির অ্যাসিসটেন্ট।
____”ম্যাডাম ফোন ই করতে যাচ্ছিলাম।”
____”খোজ পেলে?”
____”রিয়ান স্যার চট্টগ্রাম এই আছে। “
____”কটেজে?”
____”নাহ ম্যাডাম। ওটা থেকে ঘন্টা দুয়েক দূরে একটা পর্যটক মোটেল এ। সেরকম কোনো আয়োজন ওয়ালা জায়গা নয়। নিম্নবর্গের মানুষ গিয়ে ওঠে। বিগত ছয়দিন হলো ওখানে রয়েছে। “
____”কি করছে আজকাল জানো কিছু?”
____’সেরকম কিচ্ছু নয়। তবে দু দিন কোথাও বেড়িয়েছে। কোথায় গিয়েছে সেটা জানা যায়নি। আপনাকে মোটেল এর ঠিকানা পাঠাবো?”
____”পাঠাও।”
সৌমি লোকশন চেক করলো। আজ রওনা দিতে পারবে না সম্ভবত। শরীরটা মোটেই সুস্থ লাগছে না। খেতে পারছে না তেমন কিছুই। বাড়িতেও জানানোর মতো কেউই নেই তার। এই সময়, এমন অবস্থায় কি করা উচিত, কি করতে হয় কিচ্ছু জানা নেই তার। ঝড়ের মতো এলোমেলো হয়ে গেলো জীবনটা। অবশ্য সবই তার খামখেয়ালি পনায়। বাচ্চা টা জীবনে না এলে কি কখনো কারোর প্রতি আদৌ সত্যিকারের টান অনূভব করতো সে এ জীবনে! করতো না বোধহয়। কখনো অয়ন,কখনো আকাশ না জানি আর কত কত ছেলের পিছনে লেগে থাকতো। অথচ শেষ অবধি তার জীবন আটকে গেলো রিয়ান এর কাছে! আচ্ছা রিয়ানকে এতো করে খুঁজে পেতে চাচ্ছে। বাচ্চাটার জন্য শুধু। নাকি সুপ্ত কোনো ভালোবাসা তৈরি হয়েছে। হওয়া বোধহয় স্বাভাবিক।
*
কাছে এলে টান তৈরি হয় নাকি দূরে গেলে সে টান কমে যায় সেটা জানা নেই রিয়ান এর। তবে সৌমির খবরে কোনো ধরনের ভাবাবেগ তৈরিই হয়নি তার মধ্যে। সৌমির মতো মেয়ের গর্ভে আর যাই হোক তার সন্তান থাকতে পারে না। এটা মানতে পারে না রিয়ান।
বিশাল রাজপ্রাসাদ এর মতো বাড়ির লিভিং রুমে বসে আছে রিয়ান। তার সামান্য দূরেই মুখোমুখি বসা নিলয় তালুকদার। রিয়ান এসেছে নিলয়ের সাথে কথা বলতে ,মূলত নিলয়ই ডেকেছে তাকে। নিলয় সিগারেট এ টান দিয়ে পূর্ন প্যাকেট বাড়িয়ে দিলো রিয়ান এর দিকে রিয়ান নিলো না। গম্ভীর গলায় জিজ্ঞেস করলো,
____ “আমাকে চিনলেন কি করে?”
____”শত্রুর শত্রু, আমার বন্ধু। সেভাবে।”
রিয়ান ভ্রু কোচকালো। সিগারেট এর ধোয়ায় কেমন ভরে গেছে ঘরটা। সম্ভবত নরমাল সিগারেট শুধু নয় ওটা।
____”কে শত্রু আপনার?”
____”চৌধুরীরা।”
____”আপনার সাথে শিয়ার বিয়ের কথা চলছিলো। কারণ টা কি এটা?”
নিলয় হাসলো। কি কারণে ঠিক হাসলো বোঝা গেলো না। সিগারেট এর অবশিষ্ট অংশ পায়ে পিষে ফিচেল গলায় বললো,
____”সেটা জানা ইম্পরট্যান্ট নয়।”
____”আমাকে ডাকার কারণ.?”
____”প্রিয়া কে চাই তোমার?”
রিয়ান চমকালো। এই লোকের মোটেই জানার কথা নয় প্রিয়ার প্রতি তার সফট কর্নার এর বিষয়টা।
নিলয় বুঝি রিয়ানের মুখের ভাবভঙ্গি বুঝে ফেললো। হো হো করে হেসে বললো,
____”বলতে ভুলে গেছি৷ তোমরা কক্সবাজার গিয়েছিলে মনে আছে ? আমি একই হোটেলে ছিলাম। কোনো এক সকালে সৈকতে দুজনের রাসলীলা তুমি বারান্দা থেকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি তে দেখছিলে। প্রেমিক পুরুষের চোখের যন্ত্রণা আমি টের পাই। অভিজ্ঞতা আছে কি না। তারপর অবশ্য একটু খোঁজখবর করতে হয়েছে। “
রিয়ান খানিনক্ষন কপালে ভাজ ফেলে সবটা শুনে গেলো। অতঃপর স্বাভাবিক গলায় বললো,
____”তো এখন?”
____” প্রিয়া কে চাই?”
____”তাতে আপনার কি?”
____”অনেককিছু। চাই কি না?”
____”চাই।”
____”তা তো সম্ভব নয় আকাশ থাকতে। আকাশ স্ব ইচ্ছে তে থোরাই তোমার হাতে তুলে দেবে তার প্রেমিকা কে।”
রিয়ান জবাব দেয় না। লোকটা সামনে কি বলে বা বলতে চায় সেটার অপেক্ষা করে চুপচাপ। নিলয় দ্বিতীয় সিগারেট ধরিয়ে ফেলেছে এরইমধ্যে। সার্ভেন্ট রিয়ান এর জন্য কফি এনে দিয়ে যেতেই নিলয় বললো,
____”কষ্ট না করলে কেষ্ট মিলবে না রিয়ান সাহেব। কাঁচা খেলোয়াড় আপনি বড্ড। আকাশের কাছে তো দুধের শিশু। এই বুদ্ধি নিয়ে যান আকাশ এহনাজ এর প্রেমিকা কে নিজের করতে! সো চাইল্ডিশ।”
____”আপনি যদি আমাকে অপমান করতে ডেকে থাকেন। তবে আমি উঠবো। “
নিলয় উচ্চস্বরে হেসে দু’হাতে বসতে বললো রিয়ান কে।
____”রেগে যাচ্ছেন কেনো। আপনার ভালোর জন্য ডাকলাম। আর আপনি আমার সামান্য কথায় মুখ ঘুরিয়ে না নিয়ে,, মেয়েটাকে পেতে চাইলে যেটা বলি করে যান। কেমন?”
*
সারাদিন অফিসের চাপে নাওয়া খাওয়া ভোলার অবস্থা সকলের। এতো এতো গড়মিল এর হিসেব মেলাতে গিয়ে মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে । আকাশের রুমে লাঞ্চ নিয়ে এসেছে রাকিব। কারোরই লাঞ্চ করা হয় নি এখনো। অয়ন আর রেদোয়ান কনস্ট্রাকশন সেক্টরে রয়েছে। তারা তিনজন এসেছে অফিসের মিটিং গুলো অ্যাটেন্ড করতে।
আকাশ আর রাতুল এখনো মুখ গুজে বের কিছু হিসেব মেলাচ্ছিলো। রাকিব খাবার নিয়ে ঢুকতেই এক হাতে সব কাগজ সরিয়ে দিলো রাতুল। আকাশ বিরক্ত চোখে তাকালো। রাতুল অসহায় কন্ঠে বললো,
____”ডোন্ট মাইন্ড ভাই। চারটে বাজে। খিদেয় দুই আর দুই যোগ করতে কত হয় সেটা মনে করতে পারছি না। আর তুই কোটি কোটি টাকার হিসেব ধরিয়ে দিয়ে বসে আছিস। বাঁচতে দে আগে।”
রাকিব হেসে খাবারগুলো রাখলো টেবিলে। একটা চেয়ার টেনে নিজেও বসলো পাশে।
আকাশ ফাইল চেক করতে করতে খাবার খেয়ে নিচ্ছে। বাকিদের অবশ্য এতো মনোযোগ আসবে না। খাওয়ার সময় অন্য কিছুতে মন দেওয়া রাতুলের পক্ষে অন্তত সম্ভবই নয়। আকাশ মুখ তুললে। হাতের চামচ টা রেখে রাকিবের দিকে তাকিয়ে বললো,
____”রিয়ান এর রিজাইন কাগজ দিয়ে গেছে?”
মাথা নাড়লো রাকিব।
____”দিয়ে গেছে। ওইদিনই।”
____”ও যে মোটেলে আছে কি কারন?”
____”জানিনা। তবে অ্যাম সিওর কেনো ঘাটলা পাকাচ্ছে।”
আকাশ চুপ করে ভাবলো কিছুক্ষণ। পানি খেয়ে গলা ভেজালো। গম্ভীর গলায় বললো,
____”সৌমি কি করবে জেনেছিস কিছু?”
____”বাচ্চাটা রাখবে। রিয়ান কে ওউ খুঁজছে। ওর লোকেরা খবর পেয়েছে আজই।”
____”রিয়ান যোগাযোগ করেছে সৌমির সাথে? “
____”একবারও না।”
আকাশ দাতে দাঁত পিষলো। সৌমির ওপর তার রাগের শেষ নেই। ওই ধরনের মেয়েদের প্রতি তার কোনো জন্মেই সহানুভূতি কাজ করতে চায়না। তবে এখন হচ্ছে। সামান্য হলেও সহানুভূতি হচ্ছে। সৌমির জন্য নয়। ওই নির্দোষ বাচ্চাটার জন্য। যে পৃথিবীতে আসছেই পরিচয় হীন হয়ে। বাবা মায়ের পাপের ফসল হিসেবে। বাচ্চা টা অবরশন করে ফেলার মতো জঘন্য পাপ কাজ আকাশ কখনো করতে বলতে পারবেনা।
____”বাস্টার্ড একটা। ওর ওপর নজর রাখবি। “
রাকিব, রাতুল দুজনায় মাথা নাড়লো। গত কাল রিয়ান এর খোঁজ পাওয়ার পর থেকে নজরে রাখা হচ্ছে রিয়ান কে। কোথায় যায় কি করে সব খোঁজ খবর দিতে বলেছে তাদের ঠিক করা লোকদের।
আকাশ রাতুলের দিকে ফিরলো। রাতুল মন দিয়ে খেয়ে যাচ্ছে
____”রিমির কথা ভাবলি নাকি না?”
রাতুল অসহায় মুখ তুললো। রিমির সাথে কথা বলতে গিয়েছিলো সে। ওরা আপাতত এখানে নেই। রিমির নানা বাড়ি গিয়েছে কেনো এক দরকারে। আকাশও সবটা জানে অবশ্য।
____”রিমি কি ভালো বাসে আমাকে?”
আকাশ ট্যিসুতে মুখ মোছে। খাওয়া শেষ তার। ঠোঁট উল্টে গম্ভীর গলায় বলে,
____”সেটা আমি কি করে বললো। তুই বলতে পারবি। “
____”মেয়েটার সাথে কথাই বলতে পারছি না। অ্যাই আকাশ। প্রিয়ার থেকে নাম্বার টা এনে দিবি? ওর আগের নাম্বার টা কাজ করে না।”
____”প্রিয়ার থেকে আমাকে এনে দিতে হবে কেনো! তুই নিয়ে নিস “
____”তাও ঠিক। “
____”রিমি ফিরলে আমরা যাবো ওর বাড়িতে কথা বলতে। তোর যা হাল দেখছি। তোর ভরসায় ছেড়ে দিলে ওর বিয়ে হয়ে বাচ্চা হয়ে যাবে তবুও তুই প্রকাশ করতে পারবি না।”
*
সবাই যখন কটেজে ফিরলো তখন ঘড়ির কাটা রাত এগারো টা ছুয়েছে। প্রিয়া শিয়া দুজনেই সারা দুপুর, বিকেল ঘুমিয়ে উঠেছে সন্ধ্যার দিকে। বুয়া এসেছে। নিচের সব পরিষ্কার করে, রান্নাবান্না করতে করতে সাড়ে দশটা এমনিতেও বেজে গেছে। দু বোন রান্না ঘরে টুকটাক পরিষ্কার করছিলো। সবাই ড্রয়িং রুম অবধি আসতেই খাবারের ঘ্রান নাকে এসে লাগলো। রাতুল রান্নাঘরে শিয়ার দিকে তাকিয়ে বললো,
____”দোস্ত, এখন থেকে তোকে ভাবি ডাকতে হবে। যতই হোক বড় ভাইয়ের বউ। তোদের বিয়ের পর বাড়িটা কেমন পরিবার পরিবার লাগছে বিশ্বাস কর।”
সবাই হাসলো। সম্মতি জানালো রাতুলের কথায়। আসলেই তাই। অফিস থেকে সারাদিন পর বাড়ি ফিরলে মায়ের কথা মনে পরে যায়। ছন্নছাড়া জীবন বাড়ির বাইরে থাকলেই। টেবিলে সব খাবার সার্ভ করা হয়ে গেছে। সবাই ওপরে গেলো ফ্রেশ হতে। আকাশ ওপরে গেলো সবার পরে। প্রিয়াকে আড়চোখে কয়েকবার দেখে। মেয়েটা কি করছে রান্নাঘরে! তাকানোরও সময় নেই। শিয়া ভাতের বাটি রাখতে এসেছিলো টেবিলে। আকাশকে অমন ধীরেসুস্থে এদিক সেদিক তাকিয়ে থাকতে দেখে হেসে ফিসফিসিয়ে বললো,
____”আপনার ম্যাডাম জানাতে না করেছে। স্পেশাল কিছু করছে হয়তো আপনার জন্য।”
আকাশ সেদিকে তাকিয়ে কথা বাড়ালো না। দ্রুত গেলো ওপরের ঘরে। চিন্তা হয়। এক নুডলস ছাড়া যে মেয়ে আর কিছু পারে না সে গিয়েছে রান্নাঘরে তার জন্য রান্না করতে! কোনো অ্যাক্সিডেন্ট না ঘটালে হয়।
*
খাবার টেবিল এ বসতেই প্রিয়াই সবাইকে প্লেট সার্ভ করলো। জানা গেলো আজকের রান্নার মূল কারিগর প্রিয়াই। রাতুল চোখ কপালে তুলে বললো,
____”প্রিয়া? না মানে বলছি যে হসপিটাল এ ভর্তি হতে হবে না তো?”
প্রিয়া ঠোঁট উল্টালো। অভিমান প্রকাশ করলো। এতো কষ্ট করে রেধেছে। প্রশংসার বদলে না খেয়েই এরকম টিজ করার মানে হয় কোনো। অয়ন নিজের প্লেটের দিকে তাকালো। শিয়া খাবার তুলে দিচ্ছে। আচমকা শব্দ করে হেসে ফেললো সে।
____ “শিয়া, নিজেকে বিবাহিত বিবাহিত লাগছে।”
অয়নের কথা শিয়া হাসলো মৃদু। প্রিয়া আকাশের পাশেই বসেছে। গভীর আগ্রহে বসে আছে আকাশ কখন খাবারগুলো খাবে। আসলে বাকি রান্নার টুকটাক খুন্তি নাড়াচাড়া করছে সে। তবে আকাশের পছন্দের গরুর মাংস তার নিজের হাতে রাধা। যদিও সেটাও পইপই করে শিয়া বলে দেওয়া রেসিপি অনুযায়ী।
আকাশ খাবার মুখে তুলতেই থমকালো। মেয়েটা সম্ভবত লবন দিতে ভুলে গেছে। প্রিয়া হা করে তাকিয়ে তার দিকে। আকাশ এই মূহুর্তে কি বলবে বুঝতে পারলো না।
তবে প্রেয়সীর মন খারাপ করতে একদম চাইলো না। চেটেপুটে খাবার টুকু শেষ করলো। রাতুল সবেই পাতে নিয়েছে। ভয়াবহ আগ্রহে মুখে তুলতেই সেও খাবার গিলতে ভুলে গেলো। লবন শূন্য, আর বাকিসব কেমন একটা বেশি বেশি পরিমাণ। ততক্ষণে বাকিরাও মুখে তুলেছে। সবার একই অবস্থা। এদিকে প্রিয়া হা করে তাকিয়ে আছে সবার রেসপন্স শোনার জন্য। মুখ খুলে কিছু বলতে যাবে তার আগেই আকাশের হুমকি দৃষ্টি দেখলো রাতুল সহ সকলে। চোখের ইশারা করলো চুপচাপ গিলতে। সবাই করলোও তাই। বুকে পাথর চাপা দিয়ে প্লেটে নেওয়া সবটুকু খাবার শেষ করলো। শুধু তাই নয়। প্রানভরে দোয়া, আশীর্বাদ, প্রশংসা করে গেলো প্রিয়াকে। প্রিয়া আহ্লাদীর মতো খুশি হলো এ যাত্রায়। আর খুশি হলো যখন হাত ধুয়ে ওঠার সময় আকাশ বলে গেলো অবশিষ্ট মাংস টুকু যেনো তার জন্য তুলে রাখা হয়।
আকাশ চোখের ইশারা করলো শিয়ার দিকে। শিয়া খুব আন্দাজ করেছিলো। তবে প্রিয়া ভুলেও তাকে টেস্ট করতে দেয়নি। প্রথম টেস্ট আকাশকে করাবে বলে জেদ করে বসে ছিলো। প্রিয়া নিজের খাওয়া বাদে এতক্ষণ তাকিয়ে ছিলো আকাশের দিকে। শিয়ার খাওয়াও শেষের দিকে। সবাই উঠে যেতেই প্রিয়া হাত বাড়ালো মাংস নিতে। ছোট্ট একপিস নিলো। আকাশের জন্য বাকিটুকু রেখে দেবে। শিয়া এটো প্লেটগুলো নিয়ে গিয়েছিলো রান্নাঘরে। এই ফাকে প্রিয়া যে মাংসটুকু নেবে বুঝতে পারেনি শিয়া। দেখে চমকে উঠে নিষেধ করার আগেই প্রিয়া মুখে তুলেছে খাবার। মুখের খাবার মুখেই রইলো। সেটা গেলার পরিস্থিতি হলো না। থু থু করে ফেলে দিলো। কাঁদো কাঁদো চোখে তাকালো শিয়ার দিকে। শিয়া দাতে জিব কেটে এসে দাড়িয়েছে পাশে
____”তোরা আমাকে বললি না কেনো?”
____”মজা হয়েছে…”
____”আর মিথ্যা বলতে হবে না। খাওয়ার যোগ্য না। সবাই মিলে খেয়ে আমাকে দয়া দেখিয়ে গেলি।”
প্রিয়া অভিমানে গজগজ করতে করতে নিজের রুমে চলে গেলো। আকাশের ওপর রাগ টা আরও হচ্ছে। শয়তান লোকটা আবার বলে তুলে রাখতে। পরে খাবে। তেল মারার একটা পরিমাণ হয়।
*
বাইরের ঝি ঝি পোকার শব্দ ভেসে আসছে। কটেজের আশপাশে বরাবরের মতো নিরব। প্রিয়া ক্রমাগত নাক টেনে যাচ্ছে বারান্দায় বসে। দূরে অন্য সব কটেজের মৃদু আলোগুলো এসে চোখে লাগছে। এতো কষ্ট করে রান্না করলো সে। তার থেকেও বড় কথা মানুষ গুলো এত কষ্টে খাবারগুলো খেলো বিনা অভিযোগে। তার মন রক্ষায় এতো কষ্ট করলো সকলে। ভাবতেই মন খারাপ হচ্ছে প্রিয়ার।
দরজা খুলে কারোর ভেতরে আসার শব্দ পেয়ে চোখ মুছলো প্রিয়া। চুপচাপ বসে রইলো সেভাবেই। শিয়া না হয় আকাশ। তবে দরজার ছিটকিনির শব্দ হতেই মানুষ টা যে আকাশ সেটা নিশ্চিন্ত হলো।
আকাশ ঘর ফাঁকা থেকে সর্বপ্রথম বারান্দায়ই এলো। প্রিয়াকে পেলোও সেখানে। হাটু ভাজ করে মেঝেতে বসে আছে। নাক টানার শব্দে বুঝতে বাকি রইলো না আহ্লাদী কাদছিলো এতক্ষণ। শিয়ার মুখে শোনা মাত্র চলে এসেছে এখানে। নিজেও বসলো প্রিয়ার পাশে। দেয়ালে হেলান দিয়ে ঘেষে এসে বললো,
____”ম্যাডাম কি রাগ করেছেন আবার?”
____”নাহ।”
____”খাবারটা সত্যি আমি তৃপ্তি সহকারে খেয়েছি। বিন্দুমাত্র কষ্ট হয়নি আমার।”
প্রিয়া এবারে ছলছল চোখে তাকালো আকাশের দিকে। কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বললো,
____”ওই খাবার খাওয়ার মতো ছিলো? মিথ্যুক কোথাকার। “
আকাশ এক হাতে টেনে কাছে আনলো প্রিয়াকে। নরম কন্ঠে বললো,
____”তোমার হাতের রান্না ওটা। এর থেকে বড় আমার কাছে কিচ্ছু হয়না।”
প্রিয়া আবার নাক টানলো। টপটপ করে পানি পরলো দুফোটা।
____”আমি মোটেই সংসারি না। কিচ্ছু পারি না।”
আকাশ হেসে ফেললো এবারে। প্রিয়ার কপালে ছোট্ট চুমু একে বললো,
____”আমার বাচ্চা বউটাকে আমি রান্নাবান্না, কাজকর্মের জন্য থোরাই বিয়ে করবো। কোলে কোলে রাখবো। আদরে আদরে মুড়িয়ে রাখবো। রান্না জানলেও কি না জানলেও বা কি।”
প্রিয়া দুদিকে মাথা নাড়লো। কান্না গিলে গিলে বললো,
____”তা বললে হয়! আমি সব শিখবো।”
____”বেশ শিখবে। দরকার হলে আমি শেখাবো। “
____”তখন অভিযোগ করবেন না তো?”
____”অভিযোগ করবো না৷ তবে অভিযোগ আছে আমার অন্য কিছুতে।”
____”কিসে?”
____”আর কয়টা শুক্রবার পেরিয়ে যাবে ম্যাডাম?”
আকাশ কিসের কথা তুলেছে টের পেতেই ইতস্তত করলো প্রিয়া। গলা নামিয়ে ধীর কন্ঠে বললো,
____” দু বছরে যতগুলো শুক্রবার হয়।”
____”এটা কিন্তু কথা ছিলো না।”
____”আমার ভয় করে। এভাবে না জানিয়ে… “
আকাশ অন্যদিকে তাকিয়ে রইলো। প্রিয়া থামলো এবারে। সময় নিয়ে ভাবলো। কথা ঘুরানোর চেষ্টা করলো। আকাশের শার্টের আস্তিন টেনে বললো,
____”আমার মন ভালো করার একটা টিপস দেই আপনাকে। শুনবেন? আচ্ছা বাদ দিন। আমার কথা না শুনে যাবেন কোথায়। ”
আকাশ দীর্ঘশ্বাস ফেলে তাকিয়ে থাকে প্রিয়ার দিকে। তার মা এর পর এই আর একজন মানুষ যার আকাশের ওপর অধিকার ফলাতে দু বার ভাবতে হয়না। এরা মনেপ্রানে নিশ্চিত আকাশ তাদের কথা শুনতে বাধ্য। প্রিয়া খানিকটা দম নিয়ে বললো,
____”এখানে আসার পর একদিনও আমাকে নিয়ে স্পেশাল ভাবে ঘুরতে বেড়িয়েছেন? আজকে বের হবেন। পাহাড়ের কোনায় কোনায় ঘুরবো।
আকাশ ঘড়ি দেখলো। অবুঝের মতো কথাবার্তা। ঘড়ির কাটা রাত বারোটা। সারাদিন অফিসে করে শরীর পারছে না,দু রাত হলো ঘুম নেই। তার ওপর তার গাড়িটা নিয়ে গেছে ড্রাইভার। একটু সমস্যা হয়েছে। বাইকের চাবি ঢাকায় ভুলে ফেলে আসা। এমন নয় যে এখানে গাড়ি নেই। অয়নের গাড়ি আছে। তবুও বেশ কিছু ফাইল ক্লিয়ার করতে হবে চজ রাতের মধ্যেই। উপায়ই নেই তাছাড়া। প্রিয়ার কথার উত্তরে স্বাভাবিক গলায় বললো,
____”বিয়ের পর স্বামী নিয়ে ঘুরো। পরপুরুষ এর সাথে এতো চিপাচাপায় ঘোরাঘুরি, লোকে খারাপ বলবে।”
প্রিয়া ভ্রু কুচকে তাকায়। আকাশের কন্ঠ গম্ভীর শেনালো না? রেগে আছে নাকি লোকটা! চাইলেই নাচতে নাচতে বিয়ে করতে চলে যাওয়া যায়? তার বুঝি ভয় করে না। বিয়ে পাগল লোক হয়ে বসে আছে। কথায় কথায় চলো বিয়ে করি।
____”ঘুরতে নিয়ে যাচ্ছেন কি না বলুন?”
____”পাহাড়ের কোনা দেখে লাভ কি? আমার অফিসের কাজ দেই, করে দাও। লাভ হয় আমার।”
____”বড্ড আনরোমান্টিক আপনি।”
আকাশ ভ্রু জোড়া কপালে তুলে অবাক হয়ে তাকালো। কথাটা বলে প্রিয়া বড্ড নির্বিকার। যেনো এই মূহুর্তে যা বললো এটা চিরসত্য, এবং সে এ বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত।
আকাশ প্রিয়ার কোমড় টেনে কাছে আনলো। খোপা করা চুলগুলো খুলে দিতেই ঝরঝর করে পিঠের ওপর ছড়িয়ে গেলো চুলগুলো। কোমড় চেপে রেখে মুখ ডুবালো প্রিয়ার কন্ঠদেশে। নাক ঘষলো সেখানটায়। প্রিয়ার হাত গিয়ে ঠেকলো আকাশের চুলের মধ্যে। খামচে ধরে খিচে চোখ বন্ধ করে নিলো। মুখ তুলে গভীর ভাবে ছুঁয়ে দিলো পাতলা ঠোটজোড়া। আকাশ সেখানে আলতো চুমু একে হাস্কিস্বরে বললো,
____”ইজ দ্যাট আ জোক?আর কোথায় কোথায় ছুঁয়ে দিলে ফিল করতে পারবে আমি রোমান্টিক? হুম? ইজ দিস ডিপ কিস অফ ইও্যর লিপস নট এনাফ?”
.
.
চলবে ইনশাআল্লাহ 🌸🍀
.
#পর্ব_৪৮
#আকাশপ্রিয়া
#dure_dilshad_dua_দুর_এ_দিলশাদ্_দুআা
.
.
[রেসপন্স করবেন দয়া করে যারা পড়েন অন্তত। দুটো গল্প এতো রেগুলার দেই তাও অভিযোগ করেন রেগুলার নই আমি। এর থেকে আর কত রেগুলার হওয়া যায়? তার ওপর আপনাদের রেসপন্স এর যা হাল💔 মন মতো রেসপন্স না পেলে গল্প টা দ্রুত শেষ করে ফেলবো🌸]

