#আকাশপ্রিয়া
#পর্ব ৪৪ [ 🚫১৮+++ , অয়ন-শিয়া বাসর স্পেশাল ]
#dure_dilshad_dua_দুর_এ_দিলশাদ্_দুআা
[🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ। আমার পেজ ছাড়া কোত্থাও এই পর্ব পেলে ব্যবাস্থা নেবো কিন্তু আমি। অ্যাডাল্ট পর্ব, কঠোরভাবে প্রাপ্তবয়স্ক দের জন্য উন্মুক্ত ]
বিয়ে বাড়ির হৈ হুল্লোড়, হাসি ঠাট্টার পর্ব চুকেছে। কনে বিদায় এর শোকে ভারি হয়ে এসেছে পরিবেশ। সবার মুখের হাসি কেমন মিলিয়ে গিয়েছে। শিয়া চুপচাপ বসে আছে সোফার ওপর। অয়ন গিয়েছে বাবাদের কাছে। কথাবার্তা হচ্ছে সেখানে। শিয়ার কাছে রাকা,তুষি রা রয়েছে।
অয়ন শিয়ার বিদায়ের সময় এসে গেছে। চৌধুরি পরিবার শিয়া কে নিয়ে রওনা দেবে আর কিছুক্ষন এর মধ্যে। খাওয়াদাওয়ার, পরিচয় পর্ব সহ বিয়ের যাবতীয় কাজ শেষ হয়েছে এ দিক কার। দীর্ঘ রাস্তা। বেশি রাত করার মানেই হয়না।
প্রিয়া তখন থেকে মন খারাপ করে ঘুরঘুর করছে। বোনের আসেপাশে যাচ্ছে না। গেলেই কেঁদে কেটে বিচ্ছিরি কাহিনি ঘটবে। এখনো ওরা রওনা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বেরই হয়নি। আগেই কান্নাকাটির পর্ব শুরু হলে বাজে দেখায়। রিমি রা সবাই নিচে। বড় রা কথাবার্তা বলছে বসার ঘরে। প্রিয়ার ওয়াশরুম যাওয়া প্রয়োজন একটু। ছুটে গেলো নিজের রুমের দিকে। ওয়াশরুম থেকে বের হতেই ভূত দেখার মতো চমকে উঠলো। লাফিয়ে উঠেছে সে একপ্রকার। নিজের দিকে তাকালো। লেহেঙ্গার ওড়না বিছানার ওপর রেখে বাথরুম এ ঢুকেছিলো। লজ্জাকর পরিস্থিতি একটা। প্রিয়া দ্রুত পায় বিছানায় তার ওড়নাটা নেওয়ার জন্য হাত বাড়াতে বাড়াতে সৌজন্য গলায় বললো,
____”ভাইয়া, কেমন আছেন?”
রিয়ান সামান্য হাসলো। প্রিয়া ততক্ষণে ওড়না টা জড়িয়ে নিয়েছে গায়ে। ইতস্ততটা কাটেনি। হুট করে এভাবে রিয়ান রুমে চলে আসবে বুঝতেই পারেনি। এতক্ষণ ও তো নিচে দেখলো না। রিয়ান চেয়ার টেনে বসতে বসতে বললো,
____”আলহামদুলিল্লাহ। ভালো। তুমি ভালো আছো?”
____”জ্বী আমিও ভালো আছি। আপনি কি সবে এলেন ভাইয়া?”
মাথা নাড়লো রিয়ান। সে এসেছে আরও আগে। তখন অতিথি দের খাওয়াদাওয়া চলছিলো।
____”নাহ। এসেছি বিয়ের সময় টায়। তবে বাহিরে খাওয়াদাওয়ার পর্ব চলছিলো। রাকিব,রেদোয়ান রা একা হাতে দেখলাম সামলাচ্ছে। ওখানে ছিলাম।”
প্রিয়া মৃদু হাসলো। লেহেঙ্গা দু হাতে সামান্য উচু করে ধরে বললো,
____”ওয়াশরুমএ যাবেন ? গেলে যেতে পারেন। আমি নিচে যাই কেমন? “
রিয়ান উঠে দাড়ালো। ওয়াশরুম এ সে যাবে না। স্বাভাবিক গলায় বললো,
____”উহু, তোমাকে নিচে দেখলাম না। ওরাও বের হবে। তাই ভাবলাম বাড়িটাও ঘুরে দেখি। তোমাকেও খুঁজে নিয়ে যাই।”
____”ঠিক আছে চলুন তাহলে।”
প্রিয়া পা বাড়াতেই আবার ডাক পরলো রিয়ান এর।
____”প্রিয়া।”
থমকে দাড়ালো প্রিয়া। ঘুরে দাড়িয়ে উত্তর নিলো বিনয়ের সাথে।
____”জ্বী ভাইয়া।”
____”তোমার বাবা মা চলে যাবেন আবার? না কি একেবারে এসেছে?”
____”সামনে বৃহস্পতিবার চলে যাবেন।”
____”আর ছয়দিন?”
____”জ্বী।”
____”তাহলে তোমার আর আকাশের বিয়েটা দিয়ে গেলেই পারতেন। অন্তত কিছুটা এগিয়ে রেখে যেতেন।”
প্রিয়া লাজুক মুখে বললো,
____”বাবা মা চাচ্ছিলেন আমার অন্তত ভার্সিটি এক দুই ইয়ার যাক। এভাবে হুট করে আপুর বিয়ে হলো। দেখলেনই তো কতটা তাড়াহুড়োর মধ্যে করতে হলো সবটা। একই সময়ে আমার বিয়েও এমন হুটহাট বাবা রাজি হলেন না। বাবার ওদিককার কাজ শেষ হওয়া মাত্র এসে আয়োজন করবে।
মাথা নাড়লো রিয়ান। দু হাতে পিছনে ভাজ করে সিরিয়াস মুখে বললো,
____”তা ঠিক। তোমার বয়সও কম। বিয়েশাদি হুটহাট এর জিনিস না।”
রিয়ান নিজ থকেই থামলো। খানিকক্ষণ দম নিলো যেনো। তারপর কেমন একটা বাঁকা গলায় বললে,
____”আর পাত্র যদি হয় আকাশ এহনাজ চৌধুরী তাহলে তো বলবো দু এক বছর নিজেকে তৈরি করাই উচিত। ওকে সামলানো কঠিন। বাচ্চা মেয়ে, সামলাতে পারবে না তো রোজকার….
প্রিয়া ভীষন লজ্জায় পরলো, সাথে অপ্রস্তুত ও হলো। এ ধরনের মজা ঠাট্টা আকাশের পাশে থাকলে হয়তো স্বাভাবিক লাগলো। সবথেকে বড় কথা রাতুল ভাই বা রাকিব ভাইরা করলে এতটা ইতস্তত লাগতো না সম্ভবত। তবুও লাগতই। রিয়ান এর মুুখে এ ধরনের হাসিঠাট্টা সে শোনেনি কখনো। রক্তিম মুখ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করলো, যেনো তেমন কিচ্ছু বলেনি। প্রিয়াকে কথা বলতে না দেখে রিয়ানই মুখ খুললো,
____”সৌমিকে চেনো তো?”
প্রিয়া মাথা নাড়লো। চিনবে না আবার! গায়েপরা ওরকম মহিলাদের কে না চেনে। রিয়ান ভরা গলায় বললো,
____”মেয়েটা আকাশের জন্য জাস্ট পাগল। আকাশ তোমাকে ভালোবাসে শুনে মেয়েটা জাস্ট হসপিটালাইসড্ কয়েকদিন হলো।”
প্রিয়া মুখ তুললো রিয়ানের দিকে। রিয়ান কথাগুলো আফসোস এর গলায় বললো নাকি ব্যাঙ্গ করলো বোঝা গেলো না। মুখ একদম স্বাভাবিক। প্রিয়া অবাক কন্ঠ বললো,
____”সৌমি আপু আপনার গার্লফ্রেন্ড না?”
শব্দ করে হেসে উঠলো রিয়ান। কেনো কোনো মজার জোকস্ শুনলো। হাত দিয়ে মুখের সামনে মাছি তাড়ানোর ভঙ্গি করে বললো,
____”রাতুল রা মজা করে আর তুমি বিশ্বাস করে নিলে! সেরকম কিচ্ছু না। উই ওয়্যার নেভার টুগেদার। ইভেন নেভার শেয়ার আ বেড। এগুলো ওরা ফাইজলামি করে সৌমির চলাফেরা দেখে।”
এতো খোলা উত্তরে অস্বস্তি বোধ হচ্ছে প্রিয়ার কেমন একটা। সৌমি কে নিয়ে কথা বাড়ালো না। রিয়ান কে দেখে মনে হয় না মিথ্যা বলার মতো ছেলে। সত্যিই হয়তোবা সৌমির সাথে কিছু নেই। সৌমি ওই ধরনের বলে হয়তো সবাই রিয়ানকে নিয়ে মজা করে।
প্রিয়া আবারও মৃদু হাসলো।
____”নিচে যাই ভাইয়া। চলুন।”
____” অপু যে আকাশকে ভালোবাসে এটা জানো? “
্থমকায় প্রিয়া। অপু কে! চেনার চেষ্টা করলো প্রিয়া। মনে পরছে না দেখে রিয়ান এর দিকে তাকাতেই রিয়ানই বিস্তারিত বললো।
____”আকাশের ওইযে মামাতো বোনটা?”
প্রিয়া চিনতে পারলো এখন। আজকেই প্রথম দেখলো। খেয়াল রেখে উঠতে পারে নি। প্রিয়ার থেকে বছর চারেক এর বড় সম্ভবত। অনার্স ফাইনাল ইয়ারে পড়ে বললো তখন কাকে যেনো। সে আকাশকে পছন্দ করে!
____”চিনেছি। “
____”মেয়েটার জন্য বড্ড খারাপ লাগে। আকাশের সাথে ওর বিয়ে ঠিক হয়ে আছে। অনেক বছর হলো। ওর পরিবার একনো জানেই না আকাশ তোমাকে ভালোবাসে।”
প্রিয়া থমকালো এ যাত্রায়। বিয়ে ঠিক হয়ে মানে! এতগুলো দিনে তো আকাশের মুখ থেকে এ নিয়ে টু শব্দটা অবধি শোনেনি সে।
____”মানে?”
রিয়ান খানিকটা এগিয়ে এলো এদিকটায়। কন্ঠে একরাশ আফসোস মেয়েটার জন্য।
____”মানে আমরা জানতাম আকাশের বিয়ে হলে পারিবারিক ভাবে অপুর সাথেই হবে। এতদিন এর চেনাপরিচয়। পারিবারিক ভাবে ঠিক করা। হুট করে তোমাকে…আই মিন তুমি আর আকাশ। মেয়েটাকে আকাশের পরিবার এখনো জানায় নি কেনো বুঝলাম না। আশা আরও বাড়িয়ে কি লাভ। তাইনা?”
প্রিয়া স্তম্ভিত হয়ে দাড়িয়ে। কান শো শো করছে। বিয়ে ঠিক করা ছিলো। আকাশ একবারও তাকে সেটা জানানোর প্রয়োজন বোধ করলো না! আকাশের পরিবার ও তো এসব নিয়ে ক্ষুনাক্ষরেও কিছু বলেনি। তাই যদি হয়ে থাকে। তাহলে সত্যিই তো অপুর জন্য কতটা মানসিক ট্রমার হবে বিষয়টা!
____”এখনো জানায় নি কেনো? “
____”সেটাই তো বুঝতে পারছি না। হতেও পারে তোমার বয়স অল্প। তারা হয়তো ভাবছে তোমার আবেগের বয়স। পরবর্তীতে যদি আকাশকে ছেড়ে দাও। বা আকাশের আর তোমাকে ভালো না লাগে। না মানে সংসারি,ম্যাচুয়র মেয়ে খোজে। মাঝখান থেকে অপুর সাথে বিয়ে ভাঙ্গলে ওই পরিবার টার সাথেও অশান্তি, সাথে তোমার সাথেও হলো না। সম্ভবত এসব সাতপাঁচ ভেবে অপুকেও জানায়নি।”
প্রিয়ার চোখ ছলছল।করে উঠলো আচমকা। তাকে কি অপশন হিসেবে রাখা হয়েছে নাকি! সত্যিই তো আকাশ কেনো ওই মেয়েটাকে না করছে না!
প্রিয়ার কান্না কান্না মুখ দেখে রিয়ান ভীষন ব্যাস্ত হলো।
____”আরে মেয়ে মন খারাপ করছো কেনো। তোমাদের মাঝে ঝামেলা না হলেই মিটে গেলো। অপুর পরিবার এর সাথে তো আগে-পরে ঝামেলা হবেই। এটা আমরা কেউই আটকাতে পারবো না। তুমি ইনসিকিউরড ফিল করবে কেনো! কোনদিক দিয়ে কম তুমি! “
____”ভাই নিচে চলুন। আপুরা রওনা দেবে হয়তো।”
প্রিয়া এবার আর এক সেকেন্ড দাড়ালো না। রিয়ান কে আসতে বলে দ্রুত পায়ে ছুটলো নিচের দিকে। তার আদতে কারণ ছাড়াই কান্না পাচ্ছে। মেয়েটা পছন্দ করতো,একসময় আকাশ পছন্দ করতো এসব হলেও হয়তো এতটা খারাপ লাগতো না। কিন্তু বিয়ে ঠিক করে রাখা। আবার সেটা ভেঙেও দেওয়া হয়নি। যদি তার সাথে আকাশ না থাকতে পারো শেষপর্যন্ত তাহলে ওই মেয়েটা তো আছেই। প্রিয়া চোখ মুছলো হাতে উল্টোপিঠে। সে ইম্যাচুয়র! সংসারি না? তাকে অপশন হিসেবে রাখতে হয়!
তবুও সে আকাশের মুখে সবটা শুনতে চায়। সিড়ির মাথায় নামতেই সামনে পরলো অপু। প্রিয়াকে দেখে মিষ্টি হাসলো। হাসিটা মোটেই পছন্দ হলো না প্রিয়ার। গা জ্বালা করে উঠলো। তবে সৌজন্যতার খাতিরে নিজেও হাসলো। প্রিয়ার হাত ধরে টান দিলো।
____”তোমাকে খুজতেই ওপরে যাচ্ছিলাম আমরা।”
প্রিয়া দেখলো অপু আর আয়াত একসাথে।
____”ওয়াশরুম এ গেছিলাম আপু।”
____”চোখ লাল। বোনের জন্য কাঁদছিলে বুঝি?”
প্রিয়া মলিন হাসলো। বাড়ির সকলে এরইমধ্যে ভেজা ভেজা চোখে। শিয়াকে সম্ভবত এখনই নিয়ে যাওয়া হবে। আকাশকে খুজলো তার দু চোখ। কোত্থাও পেলো না। শিয়া কে দেখতে পেয়ে আপাতত আকাশের খোঁজ স্থগিত রেখে এগোলো বোনের দিকে।
***
আনিসুল সাহেব একটা চেয়ারে বসা। দাড়িয়ে থাকতে পারছিলেন না। পা ভেঙ্গে আসছিলো। অয়ন রেণুকা রহমানে আর আনিসুল সাহেব এর পা সালাম করে সরলো। শিয়া আচমকা বসে পরলো বাবার পায়ের কাছে। বসারত বাবার হাটুতে মাথা ঠেকিয়ে পা জোড়া চেপে হু হু করে কেঁদে উঠলো।
আনিসুল সাহেব ও এ যাত্রায় আর চুপ করে বসে থাকতে পারলেন না। মেয়ের মাথায় হাত রেখে স্ত্রীর মতো শব্দ করে কেঁদে ফেললো।
শিয়া কান্নায় মাথা তুলতে পারছে না। মেয়েটার কান্না দেখে চোখ জ্বালা করছে অয়ন এরও। শিয়া কোনো কিচ্ছু বলতে পারছে না।অস্ফুটস্বরে শুধু বারবার উচ্চারণ করছে,
____”বাবাআআ…”
বেশ সময় নিয়ে বাবা মার থেকে বিদায় নিয়ে উঠলো সে। মা বাবা থেকে উঠে শিয়া এবারে জড়িয়ে নিলো বোনকে। এক রাত ও কখনো বোনকে ছাড়া থাকেনি।
প্রিয়া ফুঁপিয়ে উঠলো বারবার।
____”কাঁদবি না আপু। আমি তো তোর সাথেই থাকবো বল? তাছাড়া কাল তো আমরা সব্বাই যাবো তোর শশুর বাড়ি…”
মাথা নাড়লো শিয়া। বোনের মাথায় হাত বুলালো। অয়ন দু হাত ধরে ভরসা দিলেন আনিসুর রহমান কে। সারাজীবন শিয়া কে আগলে রাখবে। প্রিয়া কে বোনের মতো আগলাবে কথা দিয়ে স্ত্রীর হাত ধরে ধীরেসুস্থে এনে বসালো গাড়িতে।
একে একে সব বরযাত্রী নিজেদের গাড়িতে উঠে গেলো। অয়ন শিয়া কে নিয়ে রাতুল আর আকাশ যাবে এক গাড়িতে। বাকিরা অন্য অন্য গাড়িতে। ভিতরের সকলের থেকে বিদায় নিতে নিতে আকাশের ব্যাস্ত চোখ খুঁজলো প্রিয়াকে। বের হতে হবে। হাতঘড়ি দেখলো। সবাই উঠে গিয়েছে গাড়িতে। রাকিব, রাতুল রেদোয়ান, আর রিয়ান এসে দাড়াতেই তাদেরও ইশারা করলো গাড়িতো বসে পরতে।
রিয়ান মৃদু হেসে বললো,
____”তোরা যা। আমি কটেজে ফিরবো।”
আকাশ ভ্রু কোচকালো। গম্ভীর স্বরে বললো,
____”কাল আমাদের বাড়িতে রিসেপশনে থাকবি না?”
____”ওটা তো সন্ধ্যায়। আমি পৌছে যাবো।”
রাতুল গম্ভীর মুখে পরখ করলো রিয়ান কে। আজকাল আকাশ প্রিয়ার থেকে দূরে দূরেই থাকে। সম্ভবত নিজের ভুল বুঝে পেরে। আর কেউ কথা বাড়ায় না। রিয়ান বাইক নিয়ে চলে যেতেই রাকিব, রেদোয়ান উঠে বসে গাড়িতে।
____”আর কেউ বাকি আছে?
রাতুল মাথা নাড়লো। ভিতরের দিকে দেখিয়ে বললো,
____”তোর বাবা চাচারাই তো আসেনি। তাছাড়া আরশি আর এরিন সম্ভবত ওয়াশরুমে গিয়েছে।
____”আসতে থাকুক। আচ্ছা শোন। আমি একটু আসছি। প্রিয়ার সাথে দেখা করে। ওরা আসলে গাড়িতে উঠে বসতে বল।”
আকাশ গটগট পায়ে ভিতরে গেলো। বাড়ি ভর্তি মানুষ। তাদের পরিবার এর অনেকের এখনো বিদায় নেওয়া শেষই হয়। কত্তো দেরি হয়ে যাবে বাড়ি পৌছুতে হেলদোল নেই কারোর। দীর্ঘশ্বাস ফেলে প্রিয়াকে এদিকসেদিক খুজলো। রেণুকা রহমানের চোখে পরলো সেটা।
____”বাবা কিছু খুজছো?”
আকাশ অত্যন্ত স্বাভাবিক গলায় বললো,
____”আন্টি বের হচ্ছি। কিন্তু প্রিয়ার সাথে একবারও দেখা হলো না!”
রেনুকা রহমান হাসলেন। ওপরে ইশারা করলেন।
____”আরশি আর এরিন কে নিয়ে ওপরে গেলো। ডেকে দেবো? নাকি…আচ্ছা দেখা করে এসো।”
আকাশ সোজা ওপরে চলে এলো। প্রিয়ার দরজায় নক করার আগেই আরশি, এরিন দরজা খুলে বেড়িয়েছে। ভাইকে দেখে মিটমিট করে হাসলো দুজনেই। আকাশ চোখ রাঙ্গাতেই জায়গা করে দিলো ভিতরে যাওয়ার।
____”তোরা সিড়ির এখানে ওয়েট কর। আমি কথা বলে আসছি।”
আকাশ ভিতরে ঢুকতেই দেখলে প্রিয়াও ব্যাস্ত পায়ে বের হচ্ছিলো। আকাশ কে দেখে থমকে দাড়ালো। তখন রিয়ান এর বলা কথাগুলো মাথায় আসতেই আচমকা কান্না করে ফেললো। হুট করে প্রিয়ার কান্নার রহস্য খুঁজে পেলো না আকাশ। দ্রুত পায়ে এগিয়ে গিয়ে দু হাতে টেনে নিলো নিজের কাছে।
____”কি হয়েছে পাখি? কাঁদছো কেনো?”
প্রিয়া নাক টানলো। একে তো বোন চলে যাচ্ছে সেটা জন্য কষ্ট হচ্ছে তার ওপর এটা।
____”আ…আপনি…”
আকাশ মাথা নাড়লো সাথে সাথে। আশকার দিলো বাকি কথাটুকু শেষ করতে।
____”হুম আমি? বলো পাখি। কি হয়েছে? “
প্রিয়া কিছু বলবেই তার আগেই দরজার কাছে হুড়মুড়িয়ে দাড়ালো আরশি। ডেকে উঠলো আকাশকে।
____”ছোটদাদাভাই, বাবা ইমিডিয়েট ডাকলো তোমাকে।”
আকাশ সোজা হয়ে আঙুলে মুছে দিলো প্রিয়ার চোখের পানি। মাথা ঝুকিয়ে কাছে এলো,
____”চলে যাচ্ছি ম্যাডাম। না বললে সারা রাস্তা অশান্তি লাগবে। “
____”কিছু হয়নি। আপনি যান।ডাকছে নিচে।”
____”না হলে কাঁদছিলে কেনো? “
প্রিয়া এতো তাড়াহুড়ো করে কথাগুলো বলতে চাইলো না। কাল আকাশ দের বাড়িতে তো যাবেই বউভাতে। তখন না হয় ধীরেসুস্থে সময় নিয়ে জিজ্ঞেস করা যাবে।
কান্না আটকে কোনোমতে বললো,
____”আ..আপুর জন্য মন খারাপ।”
আকাশ হাসলো। দু হাতের বন্ধনি তে আটকালো প্রিয়াকে। শব্দ করে চুমু খেলো কপালে।
____” বাবা মা চলে গেলে তো আপুর সাথেই থাকতে হবে। তাছাড়া আজীবন এক সাথে, একবাড়িতে থাকবেন ম্যাডাম। জলদিই ব্যবস্থা করবো সেটার।”
প্রিয়া কিছু বললো না। দু হাতে সরালো আকাশকে।
____”ডাকছে, চলুন।”
আকাশ কথা বাড়ালো না। প্রিয়ার কি অন্য কারণেও মন খারাপ! আরও কিছু বলবে বা ভাবছে আবার ডাক পরলো আরশি, এরিনের। আর দাড়িয়ে থাকার সময় নেই। এতক্ষণ কারোর সময়ের খেয়াল ছিলো না। যেই সে একটু বউটার সাথে রোমান্স করতে এসেছে ওমনি ডাক শুরু হয়ে গেছে।
***
বর কনে নিয়ে অয়নের পরিবার যখন বাড়ি পৌছালো তখন ঘড়ির কাটায় রাত্রির সাড়ে এগারো টা। শিয়া কে আয়োজন করে বাড়ির ভিতর নিয়ে যাওয়া হলো। নিচের সব নিয়ম নীতি শেষ করে ওকে অয়নের ঘরে নিয়ে যাওয়া হলো। অয়ন নিচে বসা সবার সাথে। উশুখুশ করছে। বাড়ি এসেছে প্রায় আধঘন্টা হতে চললো, শিয়া কে নিয়ে ওরা ওপরে গিয়েছেও অনেক্ক্ষণ। তাকে এখানে৷ বসিয়ে রাখা হয়েছে তা যুক্তিতে মিলছে না। আত্মীয় সজন আজ যারা আছে তারা তো পরেও দেখতে পারে নতুন বউ। কি আশ্চর্য কথাবার্তা। তার বউ এখনো সে দেখতে পারলো না। অথচ তাকে নিচে বসিয়ে রেখে ওপরে ভিড় করছে সকলে। মা চাচিরাও সেখানে! কি এতো নিয়ম নীতি থাকে!
বাড়ির সামনে কালকের রিসেপশন এর জন্য বিশাল প্যান্ডেল হচ্ছে। কাজ শেষ হয়নি সাজানোর। আকাশ আসা মাত্র সেখানে গিয়েছে কাজের অগ্রগতি, খোঁজ খবর নিতে। অয়ন চোখ বুলিয়ে ঘরজুড়ে খুজলো আকাশ বা রাতুল দের। কাউকে চোখে পরলো না এই মূহুর্তে। মহা সমস্যার বিষয়। তাকে এরকম মানুষ জনের মধ্যে বসিয়ে সবাই কোথায় যাওয়া হয়েছে!
আসলে শিয়া কে ঘরে নিয়ে নিজের মতো ফ্রেশ হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে সকলে। রাকা তুষি আছে সাথে। এটা সেটা বুঝিয়ে শিখিয়ে দিচ্ছে। ওয়াশরুম থেকে আসার পর শিয়াকে বিছানায় সুন্দর করে বসানো হলো। লাল গোলাপে ভর্তি বিছানা টা। রাকা হাসলো শিয়ার লাজুক মুখ দেখে। গাল টিপলো।
____”এইযে নতুন বউ। অনেক হয়েছে কিন্তু। আমাদের সিনিয়র ভাইকে আজ একটু শান্তি দেওয়া হোক। “
শিয়া বন্ধু দের দিকে তাকালো না। ঘরে আরও আত্মীয় সজন আছে আকাশদের। বউ দেখছে সকলে। সবার মুখে মুখে প্রশংসা। তুষি শিয়ার শাড়ি সুন্দমতে ছড়িয়ে দিলো। মাথার ঘোমটা টা টেনে দিলো।
____”যা আবদার করবে মেনে নেবেন মিসেস অয়ন চৌধুরী। ভাইয়া বহু অপেক্ষা করলো।”
সবাই একে একে বের হতেই নিচ থেকে অয়নকে তাড়া দিলো ওপরে যেতে। আকাশ রাতুল রা সবেই বাইরে থেকে এলো। এখনো অয়নকে এখানে বসে থাকতে দেখে ভ্রু কোচকালো। অয়ন উঠে দাড়িয়েছে ওপরের যাওয়ার জন্য। আকাশ এসে পাশে দাড়ালো ভাইয়ের। হাত বাড়িয়ে শেরওয়ানি টা ঠিক করে দিতে দিতে বললো,
____”এখনো এখানে কাজ কি তোমার!”
____”কেউ তো ওপরে যেতে বলছিলো না।”
____”বিয়ে করে সেন্স টেন্স খুয়িয়েছো নাকি! বাবা
তোমাকে বলবে বাসর ঘরে ঢুকতে! “
____”মা কোথায়?”
____”সবাই এদিকসেদিক কাজে ব্যাস্ত। রাকা তুষি সাথে আছে শিয়ার। যাও এখন ঘরে যাও।”
*
বাসর ঘরে ভাইবোন দের টাকার আবদার মিটিয়ে আর সব ররিচ্যুয়াল শেষ করে ঘরে ঢুকলো অয়ন। নিজের ঘর নিজেই চিনতে পারলো না। ফুলের রাজ্য যেনো। লাল গোলাপে ছেয়ে আছে। হতাশ মাথা নাড়লো অয়ন। লাল গোলাপ তার বা শিয়ার পছন্দ না। এসব আকাশ আর প্রিয়ার পছন্দ। দরজা আটকানোর শব্দে মাথা তুলে তাকালো শিয়া। বুকের বা পাশের ধুকপুক শব্দ টা জোরালো হলো। অয়ন মৃদু হেসে বিছানায় গা এলিয়ে দিলো। মাথা নিচু করে তাকালো শিয়ার ঘোমটার নিচ দিয়ে। মেয়েটা ঠোঁট কামড়ে বসে আছে। দু হাত দু দিকে ছড়িয়ে অয়ন শুলো শিয়ার পায়ের কাছে।
জোরে জোরে শ্বাস নিলো। মাতাল গলায় ডাকলো,
____”জান?”
____”হু?”
____”মরে যাচ্ছি তো।”
শিয়া হাসলো নিঃশব্দ। অয়নের পাগলামি আজ কোন পর্যায়ে যেতে পারে আন্দাজ আছে তার। অয়ন হাত মাথায় ঠেকিয়ে কনুই এ ভর দিয়ে কাত হলো শিয়ার দিকে।
____”দিনের পর দিন অপেক্ষা করেছি এই মূহুর্তটার জন্য। একটা সময় তো আশাও ছেড়ে দিয়েছিলাম। খোদা আমার জান টাকে আমার ভাগ্যেই লিখে রেখেছিলো। তোমাকে বউ সাজে দেখার আমার আজন্মের ইচ্ছে ছিলো। পূরণ হয়েই গেলো। তুমি আমার, শিয়া। পুরোটা আমার।”
শিয়ার কান্না পেলো এবারে। সত্যিই তো কত ঝড় গেলো তাদের ওপর দিয়ে ভাবা যায়! দিনের পর দিন দূরে থেকেছে। এতগুলো বছর পর যখন ভুল বোঝাবুঝির অবসান হলো তখন আবার হারাতে বসেছিলো। খোদার কাছে অশেষ শুকরিয়া খোদা তাদের একটা সংসার হতে দিলো।
অয়ন শিয়ার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে উঠে বসলো।
____”শেরওয়ানি টা খুলে ফেললে তুমি কি লজ্জা পাবে জান? গরম লাগছে। “
শিয়া লজ্জা তো পেলোই। তবে মাথা নাড়লো। খুলতে বললো। অয়ন বাঁকা হেসে এক টানে খুলে ফেললো শেরওয়ানী। নিজের স্যান্ডো গেঞ্জি টাও। পাতলা ঘোমটার ভিতর থেকে আড়চোখে দেখলো অয়নের উদাম শরীর। কাঁপন ধরলো তার শরীরে।
অয়ন আরও খানিকটা টা ঘেষে আসলে শিয়ার দিকে। হাত বাড়িয়ে ছুলো শিয়ার নরম হাত। অয়নের খসখসে হাতের ছোয়া নিজের হাতে পরতেই কেমন কেঁপে উঠলো শিয়া। অয়ন দু হাতে তুলে ফেললো শিয়ার মুখের ওপর থেকে দোপাট্টা খানা। লাল টকটকে ঘোমটার ওপাশে লজ্জায় রক্তিম হয়ে চোখ বন্ধ করে বসে আছে শিয়া। ঘড়ির টিকটিক শব্দ আর দু’জনের শ্বাসপ্রশ্বাস এর শব্দ ছাড়া আর কোনো শব্দ পাওয়া যাচ্ছে না গোটা ঘরে…
অয়ন দু আঙ্গুলে উঁচিয়ে ধরলো শিয়ার রক্তিম মুখটা। হাস্কিস্বরে বললো,
___””জান।
শিয়া অস্ফুটস্বরে উত্তর নিলো। মাথা তুললো না একদম।
___”হু।”
অয়ন নিজের হাতটা শিয়ার গালে রেখে আবদারের গলায় বললো,
____”বাবা হই?”
প্রথমেই অয়নের এমন আবদারের জন্য প্রস্তুত ছিলো না শিয়া। শীরদাড়া বেয়ে শীতল স্রোত নেমে গেলো। রন্ধ্রে রন্ধ্রে শিহরন তুললো। বুকের ওঠানামা দৃশ্যমান হলো দ্বিগুণ হারে।
শিয়ার জবাব এলো না ওপাশ থেকে। সম্মতি দিলো অয়নের শক্তপোক্ত বুকে ঠোঁট ছুয়িয়ে। অর্ধাঙ্গিনীর সম্মতি টের পেতেই ধৈর্যের বাধ ভাঙলো অয়নের। এক ঝটকায় মিশিয়ে ফেললো নরম বিছানায়।
শিয়ার মাথা গিয়ে ঠেকলো তুলতুলে নরম বালিশে। অয়ন ততক্ষণে তার ওপরে চলে এসেছে। হাতে ভর দিয়ে অন্য হাত এগিয়ে নিয়ে ছোয়ালো লাল রঙ্গে রাঙানো শিয়ার পাতলা অধরে। স্লাইড করলো কয়েকবার। লিপস্টিক ছড়িয়ে গেলো আশেপাশে। ঘোর লাগা দৃষ্টি সরাচ্ছে না শিয়ার মুখের ওপর থেকে। শিয়া চোখ বুজে পরে আছে। দুু হাত খামচে ধরা বিছানার চাদর। অয়ন কপাল থেকে দৃষ্টি বুলিয়ে বক্ষজোড়া অবধি এসে থামলো। শিওড়ে উঠলো। দীর্ঘ ছয় বছরের অপেক্ষার ফুল এটা তার। তার শিয়া,তার বউ।
গ্রীবা ঝুকিয়ে শব্দ করে চুমু খেলো শিয়ার কপালে। হাত বাড়িয়ে ধীরেসুস্থে এক এক করে খুলে ফেললো গায়ের সব গহনা।। শিয়ার বুকের দ্রুত ওঠানামা দৃষ্টিতে আটকাচ্ছে অয়নের। হাত গলিয়ে দিলো কোমড়ের নিচে। বিছানা থেকে সামান্য উচু করে দ্রুত হাতে খুলে ফেললো শাড়ির পিন গুলো। শিয়া দু হাতে জড়িয়ে আছে অয়নের কাধ। এ যাত্রায় বুকের ওপর থেকে সরে গেলো শাড়ির আচল। শাড়িটার স্থান হলো অদূরে মেঝেতে। দক্ষ হাত এক এক করে খুলে ফেললো বুকের ওপরের কাপড়টুকুর বাধন গুলো। উন্মুক্ত হলো সবকিছু। শিয়া লজ্জায় মরে যাচ্ছে। নারী সত্ত্বার তীব্র কম্পনে মরি মরি অবস্থা।
অয়নের ওষ্ঠ দখল করে নিলো শিয়ার অধর জোড়া। তীব্র থেকে তীব্র ছোয়ায় কুকড়ে গেলো মেয়েটা। সময় নিয়ে ছাড়লো সেটা। চোখ,নাক, কপাল মুখের প্রতিটা কোনায় কোনায় ঠোঁট ছুয়িয়ে অয়ন মুখ ডুবালো শিয়ার কন্ঠদেশে। চুমুর তীব্রতা বাড়লো সময়ের সাথে। অবাধ্য হাতের বিচরন শিয়ার নগ্ন উদরে। শিয়া দু হাতে খামচে ধরে আছে অয়নের পিঠ। কন্ঠদেশ ছেড়ে অয়নের ঠোঁট জোড়া নেমে এলো আরেকটু নিচে। চুমু,আর কামড়ের মিষ্টি যন্ত্রণায় গুঙিয়ে উঠলো শিয়া। এ শব্দ কানে আসতেই দ্বিগুণ উন্মাদ হলো অয়ন। আদরে আদরে ক্ষতবিক্ষত করে মুখ তুললো শিয়ার দিকে। হাঁপাচ্ছে দুজনেই। অয়ন অস্ফুট স্বরে ডাকলো,
____”জান।”
ঠোট কামড়ে পরে থাকা শিয়া কিছুতেই তাকাতে পারলো না। দৃষ্টি মেলালে মরণ হবে তার লাজে। অয়ন হাপাচ্ছে, শ্বাস নিতে পারছে না। হাত ছোয়ালো শিয়া নরম গালে।।হাস্কিস্বরে ডাকলো আবার।
____”তাকাও জান। প্লিজ।”
শিয়া কোনোমতে তাকাতেই অয়নের ব্যাগ্র কন্ঠ শেনা গেলো।
____”মে আই?”
শিয়া একপলক তাকালো অয়নের নগ্ন শরীরে। অনুমতির অপেক্ষায় কামুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে তার দিকে। ফর্শা শরীরটায় বুকের ওপর, পেটের দিকে বড় বড় দুটো দাগ। দুই দুই বার অপারেশন এর। অয়নের উত্তেজনায় অন্য ভয় হলো শিয়ার। লজ্জা সরিয়ে কোনোমতে বললো,
____”তোমার অপারেশন….
অয়ন বুঝলো বউয়ের চিন্তার কারণ। নাক ঘষলো কন্ঠদেশে। হাস্কিস্বরে বললো,
____”ওইটার ব্যাথা, ব্যাথা মনে হবে না জান। কিন্তু আজ তোমাকে ছুঁতে না পারলে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যাবো। মরে যাবো।”
শিয়ার বুকের তোলপাড় সামলে খিচে চোখ বন্ধ করে মাথা নাড়লো। চোখের পলকে দুজনের শরীরে থাকা বাদবাকি সমস্ত সম্ভ্রম ঠাই নিলো একই ভাবে লাল বেনারসি টার পাশে। একটা সুতাও রইলো না কারোর সাথে। দুজনের ঘন নিঃশ্বাস বাড়ি খাচ্ছে চার দেয়ালে। অয়ন শক্ত করে আকড়ে ধরলো মেয়েটার ঠোঁট জোড়া। শব্দ করে চুমু খেয়ে কপালে কপাল ঠেকিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে বললো,
____”জান…. আই কান্ট টেক ইট…রেডি ওকে?”
ঘড়ির ঘন্টার কাটা সেই মূহুর্তে ঘুরে ঠেকলো রাত এক টার ঘরে। তীব্র যন্ত্রনায় অয়নের পিঠে গেঁথে গেলো পাঁচ জোড়া নখ। শিয়ার চোখের কার্নিশ বেয়ে গড়িয়ে পরলো নোনাজল। গলা চিড়ে বেড়িয়ে এলো আবেদনময়ী কিছু শব্দ।
সময়ের কাটা ঘুরছে। বাইরে নিস্তব্ধতায় ছেয়ে
গেছে। পরিবেশ অস্বাভাবিক শান্ত আজকে। একফোঁটা বাতাসের ছিটেফোঁটা নেই।
এদিকে সম্পূর্ণ উল্টো এই ঘরজুড়ে। দীর্ঘ ছয় বছরের ভালোবাসার পূর্ণতা। শত শত বাধা,দুরত্বের পর দু দুটো উত্তপ্ত বৈধ বাধনে আটকা পরা মানব শরীর মিলিত হয়েছে সে ভালোবাসায় শরীরি রুপ দিতে। ঘন নিঃশ্বাস, আদরের তীব্রতার আবেশে ছেয়ে মিষ্টি যন্ত্রনায় গুঙিয়ে ওঠা নারী কন্ঠ কঠিন থেকে কঠিন ভাবে উন্মাদ করছে পুরুষ দেহটিকে।
এতো বছরের কাছে না পাওয়ার সকল হিসেব চুকাতে যেনো ব্যাস্ত হলো অয়ন। নিজের শরীরের কাটাছেড়ার সমস্ত চিনচিন এ ব্যাথার কথা ভুলে বসলো স্ত্রী নেশায়।প্রেমিক পুরুষের দেওয়া কঠিন আদর একটা সময় সয়ে এলো নারী শরীরে। সায় দিলো সেও সমান তালে। চার দেয়ালের গায়ে বাড়ি খাচ্ছে ক্রমাগত সুখের চিৎকার।
*
আজান শেনা যাচ্ছে অদূরে। চারটা বেজে একান্ন মিনিট।
বাথরুমে শাওয়ার নিয়ে নগ্ন শরীরে সুতির একটা শাড়ি কেনোমতে পেচিয়ে বিছানায় এনে নামালো শিয়াকে। এসি বন্ধ করে দিলো । শীতে কাঁপছে মেয়েটা। অয়ন ট্রাউজার পরে নিজেও এসে বসলো বিছানায়। চাদর টেনে ঠেকে দিলো শিয়াকে কে। জড়িয়ে নিলো নিজের বুকে। কন্ঠ নামিয়ে ধীর গলায় বললো,
____”কষ্ট হচ্ছে জান?”
মাথা নাড়লো দুদিকে শিয়া। হচ্ছে না বোঝালো। অয়ন মোটেই ভরসা পেলো না। মেয়েটা এক পা দাড়াতে পারছিলো না। মুখচোখ কেমন নীল দেখাচ্ছিলো।
____”অ্যাম সরি জান।খুব সরি। একদম উন্মাদ এর মতো টর্চার করেছি। সরি…”
শিয়া তাকালো অয়নের অসহায় মুখের দিকে। দূর্বল হাতটা ছোয়ালো স্বামীর চাপ দাড়িতে। ধীর গলায় বললো,
____”আমি ঠিক আছি তো।সত্যি…
অয়ন শুকনো চুমু আকলো শিয়ার কপালে। সরালো না অনেকক্ষন । বুকের মধ্যে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ভেজা চুলগুলো পিছনে দিতে দিতে বললো,
____”পেইন কিলার আনি একটু বসো।”
শিয়াকে বিছানার হেডবোর্ডে হেলান দিয়ে রেখে উঠলো অয়ন। ড্রয়ার খুললো। ওষুধ হাতরালো। প্রয়োজনীয় সব কিছুই এনে রাখা। ভ্রু কুচকে তাকিয়ে রইলো। মনে পরলো ওপরে আসার সময় আকাশের বলা কথা।
____”সব রাখা আছে তোমার বেড সাইট টেবিলে।”
তখন অয়ন না খেয়াল করলেও এখন টের পেলো। বিয়ের রাতে প্রয়োজনীয় সব জিনিস,ওষুধ রাখা এখানটায়। সে অসুস্থ শরীর নিয়ে বের হতে পারেনি। ভাইটা তার সব গুছিয়ে রেখেছে৷! আচমকা শব্দ করে হেসে ফেললো অয়ন। শিয়া নিভু নিভু চোখে তাকালো সেদিকে। অয়ন দু হাতে সেসব জিনিস তুলে ধরলো শিয়ার দিকে।
____”তোমার ভাই কিন্তু বেশ রেসপনসেবল। প্রিয়ার জন্য ভয়ই হচ্ছে। “
বেশ লজ্জা পেলো ওসব জিনিস দেখে শিয়া। ঠোঁট টিপে হেসে দৃষ্টি সরালো। অয়ন ওষুধ আর এক গ্লাস পানি নিয়ে এসে বসলো শিয়ার পাশে।
____”হা করো।”
শিয়া হা করবে তখনই চোখ পরলো অয়নের হাতে। অস্ফুটস্বরে বললো,
____”দুটো ওষুধ কিসের?”
অয়ন নিজের হাতে দৃষ্টি রেখে বললো,
____”খেয়ে নাও।,”
____”আগে বলো।”
অয়ন দীর্ঘশ্বাস ফেলে তাকালো শিয়ার দিকে।
____”একটা পেইন কিলার, অন্যটা…অন্যটা পিল।”
শিয়ার নিভু নিভু দৃষ্টি কেটে গেলো। অবাক চোখে তাকিয়ে সোজা হয়ে বসতে গেলো। মুচড়ে উঠলো শরীর। খিচে বন্ধ করলো চোখজোড়া। অয়ন দু হাতে ধরে ফেললো।
____”উঠছো কেনো? দিচ্ছি আমি হা করো।”
শিয়া ওঠার চেষ্টা করলো না। মাথা ঠেকালো হেডবোর্ডে। হাতের পিল টা ইশারা করে বললো,
____”ওটা কেনো?”
____”খেতে হবে না?”
____”তুমি যে বললে…
শিয়া শেষ করতে পারলো না কথাগুলো। লাজুক মুখে থামলো। অয়ন স্পষ্ট বুঝতে পারলো শিয়া কি বলতে চাইলো। ভেজা চুল গুলো গুছিয়ে পিছনে দিলো। নরম গলায় বললো,
____”বলেছিলাম জান।”
____”চাও না?”
____”চাই তো।”
____”তাহলে ওটা দিচ্ছো কেনো!”
অয়ন খানিকটা ঘেষে বসলো। শিয়ার দিকে ঝুকে বলে,
____”আমি চাই। খুব করে চাই বাবা হতে। তোমার আমার সন্তান পৃথিবীতে আনতে। কিন্তু পুরো প্রসেস টায় কষ্ট তুমি করবে। তোমাকে একটু সময় দেওয়া উচিত নয় কি আমার? বিয়ের প্রথম রাতেই যদি বাচ্চা দিয়ে দেই সংসার বুঝে ওঠার আগেই তাকে সামলাতে হবে। আমাকে যেতেই হবে চট্টগ্রাম এ। তোমারও শখের জব টা। জব ছাড়লে হয়তো বাড়িতে থাকতে পারবে, কিন্তু আমি সময় দিতে পারছি না। আবার ওখানে নিয়ো গেলে এ সময়ে তোমাকে সামলানোর জন্য কেউ থাকবে না। আই থিংক তোমাকে আরেকটু সময়….
শিয়া নিজের দূর্বল হাত ছোয়ালো অয়নের হাতে। হাতের মুঠোয় নিলো হাত।
____”আমি মা হতে চাই অয়ন। যত জলদি সম্ভব। তোমার সন্তানের মা। আজকেই চাই। আমি পিলটা খাবো না।”
অয়ন অসহায় চোখে তাকালো শিয়ার দিকে। সে পুরুষ মানুষ। কিন্তু সাফারটা সম্পূর্ণ শিয়াই করবে। একটু সময় না দিলে কিভাবে চলবে।
____”জান। দেবো তো বাচ্চা। তুমি না হয় আর কয়টা দিন নিজেকে প্রিপেয়ারড্ কর। মা হতে তো একটা মেন্টাল প্রিপারেশন এর প্রয়োজন তাইনা?“
____”আমার বয়স অল্প এ দোহাই তুমি দিতে পারো না অয়ন। সাতাশ পেরিয়েছে। মা হওয়ার মতো ম্যাচুইরিটি আমার আছে। ক্যাপাবিলিটও আছে। তাছাড়া তুমি পাশে থাকলো সব সামলে নেবো আমি। আজকের বাচ্চা টা আমার চাই। তোমার ইচ্ছে টা আমি আজকেই পূরণ করতে চাই। তাছাড়া তুমিও তো বাবা হওয়ার জন্য তৈরি। তাহলে কেনো দেরি করবো। এতো এতো দিন এর অপেক্ষা আমি আর চাইনা। বাচ্চা টা থাক। সম্ভব না?”
অয়ন হাসলো। হাত বাড়িয়ে শিয়াকে জড়িয়ে নিলো নিজের সাথে। শুকনো চুমু আকলো কপালে। হাতের পিল টা ঢেল দিয়ে ফেলে দিয়ে পেইন কিলার টা মুখে দিতে দিতে হাস্কিস্বরে বললো,
____”পিল টা না নিলেই সম্ভব জান…
চলবে ইনশাআল্লাহ 🌸🍀
[🚫 আবার অনুরোধ থাকবে। দয়া করে পর্বগুলো কেউ অন্য কোথাও পোস্ট করেবন না….
ইলেকট্রিসিটি ছিলো না দুপুরের পর থেকে।দিতে দেরি হলো। দুষ্টু পর্ব, পড়ে ফেলুন। সাইট ক্যারেকটার অনুযায়ী এর থেকে বেশি লিখলাম না। ওটা না হয় আকাশ-প্রিয়া, আর ওদিকে ঈশান-তিতির এর জন্য তোলা রইলো🥹
আর এহেম এহেম…নিজেদের মতামত জানাবেন🤌🌚]

