#চাঁদের_হাসি
#লেখিকা_সিনথিয়া_জাহান
#পর্বঃ২০
খোদেজা বেগমের বাড়িতে খাওয়া দাওয়া শেষ করে আলমগীর প্রামানিক অলির কাছে যাওয়ার জেদ ধরলেন ৷ কিন্তু খোদেজা বেগম ব্যস্ত থাকায় উনি নিয়ে যেতে পারছেন না ৷ অন্যদিকে আলমগীর প্রামানিক ধৈর্যও ধরতে পারছেন না ৷ তাই উনি একা একা যাওয়ার পরিকল্পনা করলেন ৷ তা দেখে অনন্যাও পিছু নিল ৷ কারন এই বুড়োকে একলা ছাড়ার মতো ভুল ও করবে না ৷
নাতনিকে সাথে সাথে আসতে দেখে উনি আরো জোশ পেলেন ৷ খুশিতে গদগদ হয়ে সামনের দিকে যেতে লাগলেন ৷ এলাকার সবাই অবাক নয়নে ওদের দিকে তাকিয়ে থাকল ৷ এতে করে আলমগীর প্রামানিকের কিছু যায় না আসলেও অনন্যার বেশ অস্বস্তি হতে লাগল ৷
সবাই অলির সাথে আসা দুজন ব্যক্তির সম্পর্কে শুনেছিল তাই এতো আগ্রহ নিয়ে দেখছে ৷ পাহাড়ী এলাকায় এসব শহুরে মানুষ খুব একটা আসে না তো তাই এতো আগ্রহ ৷ অনন্যা দ্রুত পা চালিয়ে দাদুকে নিয়ে সামনে এগোতে লাগল ৷ অলির বাড়ি কোথায় সেটা আলমগীর প্রামানিক যাওয়ার পথে অন্যদের থেকে শোনারও চেষ্টা করলেন ৷
ওরা পাহাড়ের কাছাকাছি চলে এসেছে ৷ পাহাড়ের রুপ দেখে অনন্যার চোখ ধাঁধিয়ে গেল ৷ আলমগীর প্রামানিক উচ্ছ্বসিত গলায় বলতে লাগলেন,,,
কি সুন্দর জায়গা , তাই না লালকুমারী?
হু ৷
অলি বাবুর রুচি অনেক উন্নত সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না ৷
অনন্যা কপাল কুঁচকে বলল,,, উনার প্রশংসা করার কোনো সুযোগ হাতছাড়া করো না বুড়ো ৷
করব কেন? কত ভালো একটা ছেলে ৷ তবে একটা সমস্যা আছে ৷
কি সমস্যা?
অলি বাবুকে আমার খুব চেনা লাগে ৷ কিন্তু কোথায় দেখেছি সেটা একদম স্মরণ করতে পারছি না ৷
অনন্যা হতাশ শ্বাস ফেলে বলতে লাগল,,, তোমার বয়স হয়েছে বুড়ো ৷ তাই ভুলভাল জিনিস নিয়ে চিন্তা করছো ৷ উনাকে তোমার পরিচিত মনে হতে যাবে কেন? না তুমি আগে এখানে এসেছো আর না উনি কখনো ঢাকায় গিয়েছেন ৷ তাহলে দেখা হওয়ার সম্ভবনা কোথা থেকে আসছে?
আলমগীর প্রামানিক চিন্তিত স্বরে বললেন,,, জানি না ৷ কিন্তু আমার এতো পরিচিত মনে হবে কেন?
তোমার মনে রঙ লেগেছে তাই এই অবস্থা!
তুমিও তো কোনো সুযোগ হাতছাড়া করো না আমাকে অপদস্ত করার ৷
মাঝে মাঝে লাগাম টানতে হয়, বুঝলে বুড়ো?
আলমগীর প্রামানিক কিছু বলতে যাবেন তার আগেই অনন্যা সামনে চোখ নিবদ্ধ করে হাত উচিতে উনাকে থামিয়ে দিল ৷ নাতনির চোখ অনুসরণ করে উনিও সামনে তাকালেন ৷ সাথে সাথেই উনার চোখ মুগ্ধতায় ছেঁয়ে গেল ৷
চির সবুজের মাঝে এক টুকরো বাড়ি যেটাকে ঘিরে রেখেছে বিভিন্ন রঙ বেরঙের ফুলের গুচ্ছ ৷ এমন একটা বাড়িই যেন সকলের প্রত্যাশা ৷ ওরা এক পা এক পা করে সামনের দিকে এগোতে লাগল ৷ আলমগীর প্রামানিক ক্ষীণ গলায় বললেন,,,
এমনি এমনি কি আর অলি বাবুর প্রশংসা করি?
অনন্যা জবাব দিল না ৷ আলমগীর প্রামানিকের কথা টা মিথ্যা না ৷ অলির রুচি যে অনেক উন্নত সেটা মানতে একটুও আপত্তি নেই ওর ৷ কোনো হতাশাগ্রস্ত মানুষকে যদি এমন একটা বাড়িতে এনে রাখা হয় তাহলে সে আত্মবিশ্বাসী একজন মানুষে পরিণত হয়ে যাবে ৷
বাড়ির আঙিনায় প্রবেশ করে ওদের মুগ্ধতা আরো বেড়ে গেল ৷ ছোট একটা আঙিনা ৷ এক পাশে ছোট্ট একটা পুকুর যেটাতে পরিষ্কার পানি টলটল করছে ৷ পানিতে দু একটা শাপলা ফুলের পাতাও নজরে আসছে ৷ তবে ফুল এখনও ফোটেনি ৷ পুকুরটার পাশে বুনো ফুলের সমাহার ৷ অবশ্য আঙিনার বেশিরভাগ জায়গাই ফুল দিয়ে ভরপুর ৷ ছাগলদের রাখার জন্য ছোট একটা ঘর আর অলির থাকার জন্য আরেকটা ঘর ৷ বেশ এই তো হয়ে গেল একটা স্বপ্নের বাড়ি ৷
জীবনে সুখী হওয়ার জন্য কোনো রাজপ্রাসাদ লাগে না বরং এমন একটা বাড়ি হলেই যথেষ্ট ৷ আলমগীর প্রামানিক বলতে লাগলেন,,,
তুমি যদি আসতে না দিতে তাহলে কি এমন একটা জায়গা দেখতে পেতাম?
আসলেই তো এমন একটা জায়গা কি দেখতে পেত? ভাগ্যিস অনন্যা রাজি হয়েছিল নয়তো জীবনের সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্যটা দেখা থেকে বঞ্চিত হতো ৷ হঠাৎ পিছনে অলির গলার আওয়াজ শুনে অনন্যা মুগ্ধতার জগৎ থেকে বেরিয়ে আসল ৷ পিছু ঘুরে অলির দিকে তাকাল ৷
অলি ছাগল নিয়ে হাস্যজ্জ্বল মুখে এগিয়ে আসছে ৷ কোনো রাজপুত্রের মতো দেখতে না হলেও ওর দিকে তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছা করছে ৷ উশকোখুশকো চুলগুলো বাতাসের ঝাপটায় মৃদু মৃদু উড়ছে ৷ কপালে বিন্দু বিন্দু ঘামের চিহ্ন ৷ গায়ের শার্ট টাতে ময়লা লেগে আছে যেগুলো অলি এক হাত দিয়ে ঝাড়ছে ৷ দৃশ্যটার দিকে অনন্যার চোখ আটকে গেল ৷
অলি আঙিনায় প্রবেশ করে বলল,,, আলু দাদু একা একা আসতে কোনো অসুবিধা হয়নি তো?
অলির গলা কানে যেতেই অনন্যা ধ্যান থেকে বেরিয়ে আসল ৷ নিজের কান্ডে ও ভীষণ হতাশ ৷ এভাবে তাকিয়ে ছিল কেন ও? ভাগ্যিস অলি খেয়াল করেনি নয়তো কি হতো ছিহ! অনন্যার ভীষণ লজ্জা লাগছে তাই ও মাথা নিচু করে রাখল ৷
অলির কথার জবাবে আলমগীর প্রামানিক বললেন,,, তোমার বাড়ি দেখার লোভ সামলাতে পারছিলাম না তাই চলে এসেছি ৷
ঠিক করেছেন ৷ আমি নিজেই আনতে যেতাম ছাগলগুলোকে রেখে ৷ যাক চলুন আমার গরীব ঘরটা আপনাকে দেখিয়ে দিই ৷
গরীব ঘর বলছো? এমন গরীব ঘর কত শত ডিপ্রেসড কোটিপতি মানুষের স্বপ্ন সেটা তুমি জানো?
না জানি না ৷ ওরা আমাকে কোনোদিন বলেনি ৷
আলমগীর প্রামানিক হেসে ফেললেন ৷ সাথে অলিও সামান্য হাসল ৷ ও বলতে লাগল,,,
আপনি ভিতরে যান আমি ছাগলগুলোকে বেঁধে আসছি ৷
আলমগীর প্রামানিক ভিতরে চলে গেলেন ৷ অনন্যা এখনও বাইরেই দাঁড়িয়ে আছে ৷ তখনকার লজ্জা ওর এখনও কাটেনি ৷ হঠাৎ অলির কিছু কথা কানে আসতেই ওর চোখ বড় বড় হয়ে গেল ৷ অলি ছাগলগুলোকে বলছে,,
এই যে তোরা দুই ভাই কান খুলে শোন ৷ মনজু চাচার ছাগলের সাথে ইটিশপিটিশ করার চেষ্টা করলে আমি তোদের বিয়ের ব্যবস্থা করব ৷ যে সে পাত্রী না , ল্যাংরা ছাগলের সাথে বিয়ে হবে তোদের ৷ কথাটা মনে রাখিস ৷
বলে অলি বসা থেকে উঠে পড়ল ৷ তবে পিছু ঘুরে হতভম্ভ হয়ে থাকা অনন্যাকে দেখতেই ও খানিকটা চমকে উঠল ৷ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য ও মৃদু হাসল ৷ তাতেও অনন্যার হতভম্ভতা না কাটায় ও গলা খাকারি দিয়ে বলল,,,
ভিতরে যান ৷
অনন্যা অদ্ভুত চোখে কয়েকপলক অলির দিকে তাকিয়ে থেকে রুমের ভিতরে প্রবেশ করল ৷ রুমে ঢুকতেই ও একটু আগের কথা ভুলে গেল ৷ এতো সুন্দর গোছানো রুম খুব একটা চোখে পড়ে না ৷ সামান্য একটা রুমকে সাজিয়ে গুছিয়ে কি অসাধারণ বানিয়েছে!
অনন্যা এবার বুঝে গেল খোদেজা বেগমের বাড়ির সেই রুমটাও অলি সাজিয়েছে ৷ এতো গোছালো কোনো ছেলে হতে পারে? হয়তো পারে এবং সেটা একমাত্র অলি ৷ অনন্যার ভাবনার মাঝে নিঃশব্দে বিল্টু এসে ওর পাশে দাঁড়াল ৷ হঠাৎ ওর দিকে চোখ পড়তেই অনন্যা ভয় পেয়ে চমকে উঠল ৷
অনন্যার কান্ডে আলমগীর প্রামানিক আর অলিও চকিতে সেদিকে তাকাল ৷ তবে বিল্টু বেশ স্বাভাবিক ভাবেই দাঁড়িয়ে আছে ৷ অলি ওকে উদ্দেশ্য করে বলতে লাগল,,,
তুই ভুতের মতো চলাচল করা কবে থেকে শিখলি?
বিল্টু জবাব দিল না ৷ অলি পুনরায় বলতে লাগল,, আমি জ্বীনদের সাথে তোর পরিচয় করিয়ে দিব ৷ রাতের বেলা ওদের সাথে আড্ডা দিস ৷
আলমগীর প্রামানিক হো হো করে হাসতে লাগলেন ৷ এতো জোরে হাসার মতো কিছু হয়নি কিন্তু বুড়ো হাসি আটকাতে পারছে না ৷ হাসতে হাসতেই উনি বললেন,,,
বিল্টু বাবা তোমার সাথে আমাকেও নিও ৷ জ্বীন দেখার শখ আমার অনেকদিনের ৷
বিল্টু এবারও জবাব দিল না ৷ অলি ভ্রু কুঁচকে ওর আপাদমস্তক দেখতে লাগল ৷ অতঃপর কাটকাট গলায় বলল,,,
তোর দুই ঘন্টার কথা না বলার প্রতিজ্ঞা কি এখনও অব্যাহত আছে?
বিল্টু মাথা উপর নিচ করে হ্যাঁ বোঝাল ৷ অলি হতাশ শ্বাস ফেলে বলল,,,
তুই তো আমার ছাগলগুলোর থেকেও বেশি ছাগল রে ৷
আলমগীর প্রামানিক আবারও হাসতে লাগলেন ৷ হাসার ফাঁকে ফাঁকে উনি জিজ্ঞাসা করলেন,,,
কথা না বলার প্রতিজ্ঞা কেন করেছে?
বানান ধরেছি ৷ বানান যেন না বলতে হয় সেজন্য কথা না বলার প্রতিজ্ঞা করেছে ৷ পরীক্ষার হলে গিয়ে কমন না পেলে ৩ ঘন্টা না লেখার প্রতিজ্ঞা করিস আহাম্মক!
বিল্টু কটমট দৃষ্টিতে অলির দিকে তাকাল ৷ অন্যদিকে আলমগীর প্রামানিক হো হো করে হাসতে লাগলেন ৷ অবশ্য এবার অনন্যাও হেসে ফেলেছে ৷ হাসি বাদ দিয়ে আলমগীর প্রামানিক একটা মিশনে নেমে পড়লেন ৷ উনি বিল্টুর সম্মুখে গিয়ে মুখটা মিথ্যা মিথ্যা গম্ভীর করে বললেন,,,
তোমার মা তোমাকে রামছাগল বলছিল ৷ এটার কারন কি?
বিল্টু কিছু বলার জন্য মুখ খুলেছে ৷ কিন্তু শেষ মুহূর্তে গিয়ে নিজেকে থামিয়ে দিল ৷ ওর দুই ঘন্টা এখনও শেষ হয়নি ৷ ও ভালো করেই জানে আলমগীর প্রামানিক ওর মুখ থেকে কথা বের করার চেষ্টা করছেন ৷ বিল্টুর থেকে জবাব না পেয়ে আলমগীর প্রামানিক বলতে লাগলেন,,,
যাক সেটা কোনো ব্যাপার না ৷ কিন্তু আমাদের থাকতে দেওয়ার জন্য তোমাকে যে বারান্দায় বিছানা করে দিবেন সেটা ভাবতে পারিনি আমি ৷
কথাটা বলে আলমগীর প্রামানিক মিথ্যা মিথ্যা চিন্তার সুর তুললেন ৷ বিল্টু ভ্রু কুঁচকে উনার দিকে তাকিয়ে থাকল ৷ অনেক কিছুই বলার ইচ্ছা করছে ওর কিন্তু পারছে না ৷ তাই ও আঙিনায় চলে গেল ৷ আলমগীর প্রামানিকও নাছোড়বান্দা ৷ তাই উনিও পিছু পিছু যেতে লাগলেন ৷
রুমে অনন্যা আর অলি একলা দাঁড়িয়ে আছে ৷ হঠাৎ সেটা মস্তিষ্কে প্রেরণ হতেই অনন্যা চট জলদি রুম থেকে বেরিয়ে আসল ৷ এসে দেখল আলমগীর প্রামানিক বেশ গুরুত্বের সাথে বিল্টুর মুখ থেকে কথা বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ৷ কখনো মুখটা হঠাৎ গম্ভীর করছেন, কখনো চিন্তায় ছেঁয়ে যাচ্ছেন, কখনো হাসছেন ৷ কিন্তু কোনো লাভ হচ্ছে না, বিল্টু ভ্রু কুঁচকে শুধু তাকিয়ে আছে উনার দিকে ৷
অনন্যা এসব দৃশ্য দেখতে যখন ব্যস্ত তখন অলি হুট করে ওর পাশে এসে বলল,,,
দুঃখিত ৷
অনন্যা চমকে উঠে ওর দিকে তাকাল ৷ ও মনে মনে বলতে লাগল,,,
কিসের জন্য মাফ চাচ্ছে? আমার সামনে ছাগল দুটোকে অ*পমান করার জন্য? নাকি দাদুকে ভিতরে যাওয়ার কথা বললেও আমাকে না বলার কারনে?
অলি হয়তো অনন্যার প্রশ্ন বুঝতে পারল ৷ তাই ও বলতে লাগল,,,
আপনার থেকে মাফ চাওয়ার কথা ভুলে যাওয়ার জন্য মাফ চাচ্ছি ৷ দয়া করে মাফ করে দিন ৷
অনন্যা প্রথমবার মুখ খুলে বলল,,, কোন মাফ?
ওই যে আমি আপনাকে বল ছোঁড়ার দায়ে অভিযুক্ত করেছিলাম ৷
সেটার জন্য তো মাফ চেয়েছেন ৷
চেয়েছি কিন্তু ক্ষণিকের জন্য মাফ চাওয়ার কথা ভুলে গিয়েছিলাম ৷ সেই ভুলে যাওয়ার জন্য মাফ চাচ্ছি ৷
অনন্যা আহাম্মক হয়ে গেল ৷ জবাবে কি বলবে সেটা ও বুঝতে পারছে না ৷ মাথা পুরো ফাঁকা হয়ে গেছে ৷ এমন আশ্চর্যজনক মানুষ যে দুনিয়ায় থাকতে পারে সেটা অলিকে না দেখলে কেউ কল্পনাও করতে পারবে না ৷
নিজের হতভম্ভ ভাব কাটানোর জন্য অনন্যা সামনে তাকাল ৷ আলমগীর প্রামানিক এখনও নিজের মিশন অব্যাহত রেখেছেন ৷ এবার তো অভিনয়ের চরম পর্যায়ে চলে গেছেন ৷ বিল্টু অন্যদিকে তাকিয়েছিল ৷ এই সুযোগে উনি পুকুর থেকে একটু পানি নিয়ে চোখে দিয়ে মুখটা অত্যন্ত করুন করে কি সব যেন বলছেন ৷
সামনের দৃশ্যটা দেখেও অনন্যা হতভম্ভ হয়ে গেল ৷ ও কপাল চাপড়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলতে লাগল ৷ হঠাৎ হেনিন এর বলা কথাটা ওর মস্তিষ্কে এসে হানা দিল ৷ তাই ও আড়চোখে একপলক অলির দিকে তাকাল ৷ অলি বিল্টু আর আলু দাদুর কান্ডকারখানা দেখে খ্যাট খ্যাট করে হাসতেছে ৷
অনন্যা গলা খাকারি দিয়ে বলল,,, শুনুন ৷
অলি হাসি অব্যাহত রেখে বলল,,, জ্বি ৷
আঙ্গা নাখনু নামনিকা ৷
অলির হাসি একদম বন্ধ হয়ে গেল ৷ ওর মুখটা কেমন বিব্রতিতে ছেঁয়ে গেল ৷ কান দুটো গিরগিটির মতো রঙ বদলাতে লাগল ৷ কয়েক মিনিটের মধ্যেই টকটকে লাল হয়ে গেল কান দুটো ৷
অনন্যার কথা শেষ হয়নি, ও আবার বলতে লাগল,,, এটার মানে কি? হেনিন আমাকে এটা বলেছিল ৷ কিন্তু আমি বুঝিনি ৷ ও বলেছে আপনার থেকে শুনতে ৷
অলি কোনো জবাব দিতে পারছে না ৷ ও অন্যদিকে মুখ করে রেখেছে এবং অনন্যার কথা না শোনার ভান করে আছে ৷ তা দেখে অনন্যা বলল,,,
কি হলো কথা বলছেন না কেন?
অলি কোনো জবাব না দিয়ে অনন্যার থেকে দূরে সরে গেল ৷ এতে করে অনন্যা অবাক হয়ে গেল ৷ পর মুহূর্তে ও বিরবির করে বলল,,,
একটু পর এটার জন্যেও মাফ চাইতে আসবে ৷ আমি মাফ করব না! না খেয়ে ম**রুন!
অনন্যার বিরবির করে বলা কথা অলি শুনল না ৷ ও একটু দূরে গিয়ে অস্ফুট স্বরে বলল,,,
আমি তোমাকে ভালোবাসি ৷
অলি নিজের গাল চেপে ধরে বলল,,, এটা কিভাবে বলব আপনাকে? মেয়েরা তো উল্টাপাল্টা ভাবতে ওস্তাদ ৷ অবশ্য আমি নিজেও একটু আগে উল্টাপাল্টা ভেবেছি ৷ মনে করেছি আপনি আমাকে ভালো টালো বাসেন ছ্যাহ!
অলি লজ্জায় লাল হয়ে গেল ৷ হুট করে পায়ের সাথে পা লেগে ও পুকুরে পড়ে গেল ৷ সবাই চকিতে সেদিকে তাকাল ৷ এমনকি ছাগল তিনটাও ৷ কেন যেন মনে হলো ওকে পড়ে যেতে দেখে রামছাগল দুটো হেসে উঠল ৷ তা দেখে অলি কাটকাট গলায় বলল,,,
ল্যাংরা পাত্রীও পাবি না ৷ তোদের বিয়েই দিব না আমি! যা ভাগগ ৷
চলবে,,,

