#চাঁদের_হাসি
#লেখিকা_সিনথিয়া_জাহান
#পর্বঃ১৯
নতুন যাত্রা শুরু হয়ে গেল ৷ অনন্যা চোখ ভরে ভরে বাইরের দৃশ্য দেখে চলেছে ৷ বাংলাদেশের পাহাড়ী এলাকার রাস্তাগুলো যে এতো অপরুপ সেটা না দেখলে কেউ বিশ্বাস করবে না ৷ অলির সাথে তখনের পর আর কথা হয়নি ওর ৷ অবশ্য অলিও নিজে থেকে কিছু বলেনি ৷ মাহি আর বিল্টু অনর্গল কথা বলে চলেছে ৷ সেসব কথায় অনন্যার কোনো মনোযোগ নেই , ওর সমস্ত মনোযোগ প্রকৃতির মাঝে ৷
কিছুক্ষণের মধ্যেই ওরা এলাকার কাছাকাছি পৌঁছে গেল ৷ গাড়ি থেকে নেমে অনন্যা চারদিকে তাকাতে লাগল ৷ ওর বেশ ভালো লাগছে জায়গা টা ৷ অলি আলমগীর প্রামানিকের উদ্দেশ্যে বলতে লাগল,,,
চলো আলু দাদু আমরা এখন এলাকায় পদার্পণ করতে যাচ্ছি ৷ তোমাকে অনেক কিছু দেখানোর বাকি আছে ৷
আলমগীর প্রামানিক এক প্রকার লাফিয়ে উঠে বললেন,,, চলো অলিবাবু ৷ আমি সবকিছু চার পাঁচবার করে দেখব ৷
অলি হেসে ফেলল ৷ ও সকলকে নিয়ে এলাকায় প্রবেশ করল ৷ প্রবেশ করার সাথেই সকলে সৌজন্যমূলক হেসে বলতে লাগল,,,
তোমাদের ভ্রমণ কেমন কাটল?
মারাত্মক ৷
এক এক করে সকলের প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে অলি এগোতে লাগল ৷ ওর মুখে চিরচরিত সেই মিষ্টি হাসি ৷ সকলে নতুন অতিথি দের বিষয়ে কৌতূহল প্রকাশ করতেও ভুল করল না ৷ অলি হাসিমুখে সেই কৌতূহলও মিটিয়ে দিয়েছে ৷ এই নতুন অতিথিরা যে কিছুদিন এখানে থাকবে সেটাও সকলে জানিয়ে দিল ৷
অলি ওদেরকে নিয়ে প্রথমে খোদেজা চাচীজানের বাড়িতে গেল ৷ বিল্টুকে দেখে উনি ছাগলের দেখাশোনা করা বাদ দিয়ে ছেলেকে এসে জড়িয়ে ধরলেন ৷ অতঃপর অলিকে উদ্দেশ্য করে বললেন,,,
ও তোকে কোনোরুপ বিরক্ত করেনি তো অলি?
একদম না চাচীজান বরং আমি ওকে বিরক্ত করেছি তার জন্য মাফ করে দাও প্লিজ ৷
খোদেজা বেগম সামান্য হেসে বললেন,,, তোর এই মাফ চাওয়া খুব মিস করছিলাম রে ৷ বলতে গেলে এলাকার সবাই তোর মাফের অভাবে এক প্রকার শুকিয়ে যাচ্ছিল ৷
উনার কথা শুনে অনন্যা বিরবির করে বলল,,, সবার থেকে মাফ চাওয়ার ব্যাধী আছে তাহলে!
হঠাৎ আলমগীর প্রামানিক আর অনন্যার দিকে নজর যেতেই খোদেজা বেগম ভ্রু কুঁচকে বললেন,,,
কি রে অলি এনারা কারা? আগে দেখেছি বলে তো মনে পড়ছে না ৷
অলি কিছু বলার আগেই আলমগীর প্রামানিক উচ্ছ্বসিত গলায় বলতে লাগলেন,,,
কিন্তু আমি অনেক দেখেছি ৷ প্রায় প্রায় স্বপ্নে একজন রুপবতী মেয়েকে দেখতাম ৷ অবাক হতাম এই রুপবতী মেয়েটা কে সেটা ভেবে ভেবে ৷ আজ তোমাকে স্বপ্নের বাইরে বাস্তবে দেখে ভীষণ ভালো লাগল মা ৷
খোদেজা বেগম প্রথম দফায় হকচকিয়ে গেলেন ৷ পর মুহূর্তে লজ্জা পেয়ে বলতে লাগলেন,,,
কি যে বলেন চাচা! আপনি কিন্তু আমার অতিরিক্ত প্রশংসা করছেন ৷
অতিরিক্ত কি বলছো মা? এমন রুপবতী মেয়ে খুব কমই চোখে পড়ে ৷
আপনি আমাকে লজ্জা দিচ্ছেন চাচা ৷
এভাবে আরো কিছু কথাবার্তা চলল উনাদের মাঝে ৷ অনন্যা হতাশ শ্বাস ফেলে মনে মনে বলল,,,
এই বুড়ো, মানুষকে পটাতে খুবই ওস্তাদ ৷ এভাবেই আমার সহজ সরল দাদীটাকে পটিয়েছিল নিশ্চিত!
ওনাদেরকে কথা বলার সুযোগ দিয়ে অলি চুপ করে থাকল ৷ তবে পরিচয় করিয়ে দেওয়াটাও খুব জরুরি একটা কাজের মধ্যে পড়ে ৷ তাই ও গলা খাকারি দিয়ে বলতে লাগল,,,
চাচীজান এনাদের এখন বিশ্রাম প্রয়োজন ৷ অনেক জার্নি করেছে ৷
খোদেজা বেগম তৎক্ষণাৎ জবাব দিলেন,,, হ্যাঁ তা তো অবশ্যই ৷ আমিও দেখ কি বোকার মতো কথা বলেই যাচ্ছি ৷
চাচীজান উনারা কিছুদিন এখানে থাকবেন ৷ তোমার কোনো অসুবিধা হবে না তো?
খোদেজা বেগম কপট রাগ দেখিয়ে বললেন,,, আমাকে কি তোর এতোই খারাপ মনে হয়? তুই এতো ভালো মানুষকে নিয়ে এসেছিস আর তাদেরকে একটু থাকতে দিতে কিনা আমার অসুবিধা হবে? এটা বলতে পারলি?
অলি গড়গড় করে বলল,,, মুখ ফসকে বেরিয়ে গেছে ৷ তুমি প্লিজ কিছু মনে করো না ৷ তবে উনাদেরকে আগে বিশ্রাম নেওয়ার ব্যবস্থা করিয়ে দাও ৷
খোদেজা বেগম উনাদের কলপাড়ে নিয়ে গেলেন হাত মুখ ধোঁয়ার জন্য ৷ অনন্যা আর আলমগীর প্রামানিক হাত মুখ ধুঁয়ে ফেলল ৷ খোদেজা বেগম উনাদেরকে একটা রুমে নিয়ে গেলেন ৷ উনি বলতে লাগলেন,,,
এই রুমটা অলির জন্য ৷ ও অবশ্য এখানে খুব একটা থাকে না ৷ তবুও ও ছাড়া আর কারো এই ঘরে থাকার অধিকার নেই ৷ আজ অধিকার দিলাম ৷ এখানে একজন থাকুন আর পাশের রুমে আরেকজন থাকুন ৷
আলমগীর প্রামানিক তৎক্ষণাৎ বললেন,,, আমি পাশের রুমে থাকব রুপবতী কন্যা ৷
খোদেজা বেগম আবারও লজ্জা পেলেন ৷ তবে উনি সেটা লুকিয়ে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে লাগলেন ৷ উনার লজ্জা পাওয়ার মাঝেই অনন্যা আলমগীর প্রামানিকের পাঞ্জাবি টেনে ধরে ফিসফিস করে বলতে লাগল,,,
এই বুড়ো তুমি পাশের রুমে যাবে মানে? তোমার অলি বাবুর রুমে তুমি ঘুমাও ৷
উহু লালকুমারী ৷ যুবকের ঘরে বুড়ো থাকা ভালো কথা নয় ৷ দেখা যাবে আমার স্পর্শ লেগে ঘরটা বুড়ো হয়ে গেছে এবং এই ঘরে থাকলে অলি বাবুও বুড়ো হয়ে যাবে ৷ কি বি*শ্রী একটা অবস্থা হবে বলো তো লালকুমারী!
অনন্যা চোখ পাকিয়ে দাদুর দিকে তাকিয়ে বলতে লাগল,,, এটা কার আবোল তাবোল থিওরি বলো তো?
কার আবার? আমার ৷ এটাকে আবোল তাবোল বলতে পারো না!
অনন্যা কাটকাট গলায় বলল,,, আর আমি থাকলে যদি রুমটা মেয়ের রুপ ধারণ করে আর তোমার অলি বাবু মেয়ে হয়ে যায় তখন বি*শ্রী অবস্থা হবে না?
আলমগীর প্রামানিক হেসে ফেলে ফিসফিস করে বললেন,,, সেটা কি সম্ভব রে পাগলী? অবাস্তব কথা বলছো কেন?
তোমার টা খুব বাস্তব কথা ছিল?
আলমগীর প্রামানিক সেই কথার জবাব দেওয়ার প্রয়োজনবোধ করলেন না ৷ উনি খোদেজা বেগমের দিকে এগিয়ে গিয়ে বললেন,,,
চলো দেখি মা পাশের রুমটা দেখতে যাই ৷
চলুন চাচা ৷
উনি আলমগীর প্রামানিককে পাশের রুমে নিয়ে যাওয়ার পর সেটা দেখাতে দেখাতে বললেন,,,,
এটা বিল্টুর রুম ৷ কিন্তু ও একা থাকতে ভয় করে তাই আমার সাথেই ঘুমায় ৷ তাছাড়া বিল্টুর বাবা কাজের জন্য বাইরে থাকেন তাই আমিও ছেলেটাকে একা রাখি না ৷
অনন্যা উনার কিছু কথা শুনতে পেল আর কিছু কথা শুনতে পেল না ৷ ও এখনও অলির রুমেই আছে আহাম্মক হয়ে ৷ আলমগীর প্রামানিককে নিয়ে পারা যায় না! উনি কখন যে কি বলবেন সেটা উনি ছাড়া আর কেউ বলতে পারবে না ৷ উনার কথা ভাবা বাদ দিয়ে অনন্যা রুমটার দিকে মনোযোগ দিল ৷
বেশ সাজানো গোছানো পরিপাটি একটা রুম ৷ কোনো অগোছালো ভাব নেই ৷ এই রুম হয় খোদেজা বেগম সাজিয়ে রেখেছেন নয় অলি সাজিয়েছে ৷ তবে খোদেজা বেগমের সম্ভাবনা বেশি ৷ একটা ছেলের রুম এতো সাজানো গোছানো তখনই থাকে যখন অন্য কেউ সেটা সাজিয়ে রাখে ৷
রুমটা অনন্যার বেশ পছন্দ হলো ৷ কিন্তু এটা অলির রুম ভাবলে কেমন অস্বস্তিবোধ হতে লাগল ৷ তাই ও রুম থেকে বেরিয়ে আসল ৷ বাড়িটা ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগল ৷ তিনটা থাকার রুম, একটা রান্নাঘর আর একটা গোয়ালঘর নিয়ে এই বাড়ি তৈরি ৷ তবে এই বাড়ির সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে গাছে গাছে ফুটে থাকা রঙ বেরঙের ফুল ৷
ফুল যে আল্লাহর কত সুন্দর একটা সৃষ্টি সেটা ফুলের রাজ্যে প্রবেশ করলেই বোঝা যায় ৷ অনন্যার অনেক দিনের শখ ও একটা ফুলের বাগান করবে নিজের রুমের বেলকনিতে ৷ নানা প্রতিকুলতায় এতো সুন্দর ভাবনা ওর মস্তিষ্কে আসেনি ৷ কিন্তু এই ভ্রমণে এসে ওর মন ভালো হওয়ার সাথে সাথেই সুন্দর সুন্দর ভাবনাগুলোও এক এক করে স্মরণ হচ্ছে ৷ এবার বাড়ি ফিরে এই কাজেই লেগে পড়বে ও ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
আলমগীর প্রামানিক আর অনন্যার বিশ্রামের ব্যবস্থা করেই অলি নিজের ছাগল তিনটাকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল ৷ ও ছাগল তিনটাকে নিয়ে পাহাড়ে নিজের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে গেল ৷ মাহি নিজের বাড়ি তে চলে গেছে ৷ বিশ্রাম নেওয়া অতীব জরুরী ৷ তবে বিল্টু অলির সাথে সাথে এসেছে ৷ অলি ওকে উদ্দেশ্য করে বলতে লাগল,,,
বউয়ের দেওয়া চকলেট কেমন লাগল রে?
বিল্টুর মুখ হাসিহাসি ছিল ৷ কিন্তু অলির কথাটা কর্ণগোচর হতেই ওর মুখটা গম্ভীর হয়ে গেল ৷ ও অলিকে পটাপট কয়টা ঘু*ষি দিয়ে বলল,,,
ও আমার বউ না ৷ তোমার হলেও হতে পারে ৷
অলি জিহ্বায় কামড় দিয়ে বলল,,, ছ্যাহ ছ্যাহ কি বলছিস? আমি একজন গণ্যমান্য বড় ভাসুর হই ৷ এসব অনাচারমূলক কথা বলিস না ৷
কি কি কি বললে? গণ্য আবার মান্য? গণ্যমান্য মানুষ তো আমি ৷ আমার বৈশিষ্ট্য কেড়ে নিও না অলি ভাইয়া ৷
গণ্যমান্য বানান কর দেখি ৷
বিল্টু চুপসে গেল ৷ ও বিরবির করে বলল,,, পারো তো শুধু বানান ধরতে! এমন যদি কথায় কথায় হাতে টাকা ধরিয়ে দিতে তাহলে তো হতো নাকি?
ওকে জবাব না দিতে দেখে অলি ভ্রু নাচিয়ে বলল,,, কি রে জবাব দিচ্ছিস না কেন? গণ্যমান্য বানান বল ৷
বিল্টু গলা খাকারি দিয়ে বলতে লাগল,,, এতো সহজ বানান আমি বলব না ৷ ধরলে কঠিন কোনো বানান ধরো ৷
অলি হাসতে লাগল ৷ ওর হাসির শব্দের সাথে ছাগলের ম্যা ম্যা শব্দও যুক্ত হলো ৷ পাহাড়ের ফাঁকা জায়গায় সেই শব্দ বারবার প্রতিধ্বনিত হয়ে ফিরে আসতে লাগল ৷ সেই শব্দ শুনে বিল্টুর ভীষণ লজ্জা লাগতে লাগল ৷ তবুও ঠাট বজায় রেখে বলল,,,
অযথা হাসছো কেন? আমি সহজ বানান বলে নিজের মুখের ব্যাথা তুলতে চাই না বুঝেছো? আমাকে সবসময় কঠিন কঠিন বানান ধরবে যেমন আমি, তুমি, আকাশ, নদী, বেল, তাল…
ওর কথা আটকে দিয়ে অলি হেসে হেসে বলল,,, এই কয়টা বানান ই পাস তাহলে? যাক সে কথা, আমি আবার ভালো মানুষ ৷ আমি কঠিন বানান ধরতে পারি না ৷ তুই আমার ছোট ভাই বলে কথা তোকে কি আর কঠিন বানান ধরা যায়? তোকে তো ধরতে হবে সহজ বানান যেমন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মুমূর্ষু, কঙ্কাল…
বিল্টু গলা উচিয়ে বলতে লাগল,,, হঠাৎ বানানের ক্লাস কোথা থেকে আসল? আমরা ছাগলের জন্য এসেছি না বানানের জন্য এসেছি বুঝলাম না ৷ আমি এখন কথা না বলার প্রতিজ্ঞা করলাম ৷ আগামী দুই ঘন্টা আমি কথা বলব না ৷ স্টার্ট ১,২, ৩ ৷
বিল্টু চুপ হয়ে গেল আর অলি মন খুলে হাসতে লাগল ৷ দেখতে দেখতে ওরা অলির এক কামরার বাড়িতে পৌঁছে গেল ৷ নতুন নতুন ঘাস জন্মেছে এবং সেই ঘাসে বুনো ফুল ফুটে আছে ৷ কি যে সুন্দর লাগছে উঠান টা! অলি ছাগল তিনটাকে সেই ফুল মাড়াতে দিল না ৷ পাশ কাটিয়ে নিয়ে গেল ৷ তারপর তিনজনকে দড়ি দিয়ে বেঁধে বলতে লাগল,,,
কি রে ভালো ছিলি? আমাকে মিস করেছিস?
তিনজনই ম্যা ম্যা করে উঠল ৷ অলি মুচকি হেসে বলল,,, যাক মিস করেছিস তাহলে ৷
নিজের মুখের নমনীয়তা দূর করে অলি সন্দেহজনক গলায় একটা ছাগলকে বলতে লাগল,,,
হ্যাঁ রে সুন্দরী তোর রামছাগল ভাই দুটো মনজু চাচার ছাগলগুলোর সাথে ইটিশপিটিশ করার চেষ্টা করেনি তো?
সুন্দরী খুব জোরে ম্যা ম্যা করে উঠল ৷ তা দেখে অলি মাথা নিচু করে দীর্ঘশ্বাস ফেলতে লাগল ৷ অতঃপর গম্ভীর মুখে রামছাগল দুটোর দিকে তাকিয়ে বলতে লাগল,,,
তোরা কি মানুষ হবি না?
নিজের কথার ভুল ধরতে পেরে অলি থতমত খেয়ে গেল ৷ ও গলা খাকারি দিয়ে বলল,,,
ওহ হো তোরা তো ছাগল ৷ তোরা আবার মানুষ হবি কিভাবে?
ওর কথা শুনে বিল্টু মুখ হাত চেপে ধরে হাসতেছে ৷ দুই ঘন্টা কথা না বলার প্রতিজ্ঞা না করলে ও গলা ফাটিয়ে হাসত ৷ ওর হাসিকে পাত্তা না দিয়ে অলি পুনরায় বলতে লাগল,,,
তোদের যখন এতোই পছন্দ তাহলে আমাকে বলতি , আমি দাঁড়িয়ে থেকে তোদের বিয়ে দিতাম ৷ তা না খুলেআম অবৈধ সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছিস ছ্যাহ!
চলবে,,,,

