#চাঁদের_হাসি
#লেখিকা_সিনথিয়া_জাহান
#পর্বঃ৩০
অলি এখনও তার বাবার রুমেই বসে আছে ৷ ইয়াসির প্রামানিক এতো বছর পর নিজের ছেলেকে খুঁজে পেয়ে ঠিক কি প্রতিক্রিয়া করবেন সেটা বুঝতে পারছেন না ৷ উনি শুধু একদৃষ্টিতে নিজের ছেলের দিকে তাকিয়ে আছেন ৷ অলির এতে করে খানিকটা লজ্জা লাগছে বৈকি ৷ একটু পর ইয়াসির প্রামানিক ওর গালে হাত রেখে বললেন,,,
একই চোখ, একই নাক, একই চেহারা ৷ আমার আহিয়ার দ্বিতীয় রুপ তুমি!
অলি মনে মনে বলল,,, উহু ভুল বললে ৷ আমি মায়ের দ্বিতীয় রুপ হতে যাব কেন? আমি তো একটা ছেলে ৷
মনের কথা মনেই থেকে গেল ৷ ইয়াসির প্রামানিকের চোখ হুট করে ছলছল করতে লাগল ৷ উনি ক্ষণকাল নিশ্চুপ থাকার পর ভেজা কন্ঠে বলতে লাগলেন,,,
তোমার মা সবাইকে চমকে দেওয়ার জন্য রাঙামাটি থেকে খাগড়াছড়ি যাওয়ার জেদ করতেছিল ৷ আর তাছাড়া খাগড়াছড়ি জায়গাটা দেখারও খুব ইচ্ছা ছিল ৷ তাই তোমার মায়ের জেদকে সায় জানিয়ে কাউকে কিছু না বলে চলে গেলাম খাগড়াছড়ি ৷ কিন্তু আমার জীবনের মস্ত বড় ভুল ছিল সেই সিদ্ধান্ত ৷ দূর্বৃত্তদের হাতে পড়ে গেলাম ৷ ওরা আমাদের ডাকাতি করতে চেয়েছিল ৷ তবে শুধু ডাকাতি করলে মানতাম কিন্তু ওদের নজর আমার আহিয়ার দিকে ছিল ৷ তাই বহু কষ্টে ওদের থেকে পালানোর চেষ্টা করলাম ৷ কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি ৷
কথা বন্ধ করে ইয়াসির প্রামানিক ঝরঝর করে কাঁদতে লাগলেন ৷ উনি নিজের আহিয়াকে বাঁচাতে পারেননি, সন্তানকে হারিয়ে ফেলেছিলেন ৷ অলি বাবার কাঁধে আলতো করে হাত রাখল ৷ ইয়াসির প্রামানিক ক্রন্দনরত চোখে ওর দিকে তাকালেন ৷ অতঃপর বিক্ষিপ্ত গলায় বলতে লাগলেন,,,
আমার জন্যেই এমনটা হয়েছে ৷
এভাবে নিজেকে দোষ দিও না ৷
ইয়াসির প্রামানিক অলির হাত ধরে বলতে লাগলেন,,, আরাফাত বাবা তোমাকে ওরা জলন্ত আ*গুনের দিকে ছুঁড়ে দিয়েছিল ৷ আল্লাহ সহায় ছিলেন জন্য তুমি জঙ্গলে গিয়ে পড়েছিলে ৷ কিন্তু সেটা আমি বুঝতে পারিনি ৷ অন্য একজনের লাশকে তোমার লাশ ভেবেছিলাম ৷ তোমাকে ছুঁড়তে দেখেই আহিয়া পাগল হয়ে গেল ৷ ও ডাকাতগুলোকে মা*রার জন্য তেড়ে গেল কিন্তু তৎক্ষণাৎ ছুঁ*ড়ির আঘাতে…..
কথা বাড়াতে পারলেন না উনি ৷ আবারও গলা রোধ হয়ে আসতে চাইলো ৷ তবুও ক্ষীণ গলায় বললেন,,,
তখন যদি পুলিশ চলে না আসত তাহলে আমিও ম*রে যেতাম ৷ অবশ্য ওটাই ভালো হতো ৷
এভাবে বলো না বাবা ৷ তোমার কিছু হলে আমার কি হতো? আমার জন্য হলেও তোমাকে বাঁচতে হতো এবং বাঁচতে হবে বাবা ৷
ইয়াসির প্রামানিক কান্না ভুলে ছেলের দিকে তাকালেন ৷ অস্ফুট স্বরে বলতে লাগলেন,,,
আমাকে কি বলে ডাকলে?
বাবা ৷
আবার ডাকো ৷
বাবা ৷
ইয়াসির প্রামানিক নিজের ছেলেকে জড়িয়ে ধরলেন ৷ আবারও কাঁদতে লাগলেন কিন্তু এটা খুশির কান্না ৷ অলি বাবার পিঠে হাত বুলিয়ে দিতে লাগল ৷ কিছুক্ষণ পর ওকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে ইয়াসির প্রামানিক ওর গালে চুমু খেলেন ৷ এতে করে লজ্জায় অলির কান দুটো লাল হয়ে গেল ৷ এতোদিন যেসবের জন্য কাতর থাকতো আজ সেসব পেয়ে ওর লজ্জা লাগছে ছ্যাহ!
আসলে মায়ের থেকে এমন নরম আচরণ পেতে ভালো লাগে কিন্তু বাবার থেকে পেতে কেমন যেন অদ্ভুত লাগে ৷ বাবার কাজ হচ্ছে লা*ঠি হাতে বাচ্চাদের দৌঁড়ানি দেওয়া, তা না উনি চুমু খাচ্ছেন ৷ এই চুমু খাওয়ার মাঝেই অনন্যা হালকা পাতলা নাস্তা নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করল ৷ খাবারের ট্রে টা একটা ছোট টেবিলে রেখে সেটা ওদের দুজনের সামনে রাখল ৷ অতঃপর বলতে লাগল,,,
ফুফামশাই নিজে খাওয়ার পাশাপাশি ভাইয়াকে একটু খাইয়ে দিন ৷ উনি জার্নি করে এসেছেন ৷
ইয়াসির প্রামানিক হাস্যজ্জ্বল মুখে ওর দিকে তাকিয়ে বললেন,,, অনন্যা? তুই কি অনন্যা?
জ্বি ফুফামশাই ৷
তুই দেখছি অনেক বড় হয়ে গিয়েছো ৷
হ্যাঁ ৷ কিন্তু আপনি তো আমাকে দেখার প্রয়োজনবোধও কখনো করেননি ৷ সবসময় এই ঘরে বন্দী হয়ে পড়ে থাকতেন ৷
ইয়াসির প্রামানিক শুকনো হেসে বললেন,,, আমি আমার মধ্যে ছিলাম না রে মা ৷ মাফ করে দিস ৷
অনন্যা প্রতি উত্তরে সামান্য হেসে বলল,,, ঠিক আছে মাফ করলাম ৷ আপনি আর আরাফাত ভাইয়া দুজনে খেয়ে নিন ৷ মা রান্না করছে, সেটা পরে খাবেন ৷
কথাটা বলে ঘরের দিকে একপলক তাকাল ও ৷ পুরো ঘরটা এলোমেলো হয়ে আছে ৷ তাই ও সেটা গোছাতে শুরু করল ৷ প্রথমেই রুমের সমস্ত পর্দা সরিয়ে দিয়ে সূর্যের আলোকে রুমের ভিতরে প্রবেশ করাল ৷ তারপর বাদ বাকি কাজ করতে লাগল ৷
অলি চুমু পাওয়ার পর যে লজ্জাটা পেয়েছিল সেটা অনন্যাকে দেখে বেড়ে গিয়েছিল ৷ কিন্তু ওর মুখে ভাইয়া ডাক শুনে লজ্জার কথা ভুলে গিয়ে ও থতমত মুখে বসে আছে ৷ ওদিকে অনন্যাকে কাজ করতে দেখে ইয়াসির প্রামানিক ব্যস্ত হয়ে বলতে লাগলেন,,,
তুমি এসব করছো কেন? কাউকে দিয়ে পরিষ্কার করিয়ে নেওয়া যাবে ৷
আমি থাকতে অন্য কাউকে লাগবে কেন? নিজেদের কাজ নিজেরা করাই ভালো ৷ আপনি খান তো ফুফামশাই ৷
ইয়াসির প্রামানিক হেরে গিয়ে খেতে লাগলেন ৷ তবে অলি এখনও থতমত মুখে বসে আছে ৷ ওর দিকে নজর যেতেই অনন্যা বলতে লাগল,,
আপনাকে কি আলাদা করে স্পেশালি খাওয়ার জন্য বলতে হবে আরাফাত ভাইয়া?
অলির শ্বাস টান উঠে যাওয়ার উপক্রম হলো ৷ ও বুকে হাত দিয়ে আহত চোখে অনন্যার দিকে তাকিয়ে থাকল ৷ ইয়াসির প্রামানিক তাগদা দিতেই অলি একটা বিস্কুট খেতে লাগল ৷ খাওয়ার পাশাপাশি বিরবির করে বলতে লাগল,,,
ভাইয়া ছাড়া একটা বাক্যও কি সম্পূর্ণ করা যায় না? এই মেয়ে আমাকে হার্ট এ’ট্যাক করাতে চাচ্ছে! আবারও আমার বাবার থেকে আমাকে আলাদা করতে চাচ্ছে! এমন স্বার্থপর মেয়ে আমি জীবনে দেখিনি বাপু! এর থেকে আমি কখনো মাফ চাব না ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
আলমগীর প্রামানিক বাগানে বসে দাঁত খিলাল করছেন ৷ একটু আগেই মুখ ভরে পান সুপারী খেয়েছেন তো তাই নিজের দাঁত থেকে অবৈধ পানের রসকে বের করার চেষ্টা করছেন ৷ দাঁত খিলাল করতে করতে উনি টিটকারি মেরে বললেন,,,
দেখো দেখো কান্ড দেখো! সেই কখন ছেলেটাকে রুমে রেখে এসেছি, এখনও ছাড়ছে না! আবারও সন্দেহ হচ্ছে এই আহাম্মক আমার মেয়েকে বিয়ের জন্য কিভাবে রাজি করাল?
ক্ষণকাল দাঁত খিলালে মনোযোগ দেওয়ার পর উনি বলতে লাগলেন,,,
আমার মেয়েকেও আলাদা ভাবে অন্যকিছু দিয়ে ফাঁস দেওয়ার হুমকি দেয়নি তো? অবশ্য এই লুঙ্গিম্যানকে বিশ্বাস নেই! হুমকি দিলেও দিতে পারে ৷ নয়তো ওই আহাম্মক কে আমার মেয়ে জীবনেও বিয়ে করতো না ৷
উনার এসব কূটনামোর মধ্যেই ইয়াসির প্রামানিক অলিকে নিয়ে নিচে চলে আসলেন ৷ অনন্যা ঘর গোছানো শেষ করে মাকে রান্নায় সাহায্য করতে গেছে ৷ বহুদিন পর ঘরের বাইরে এসে ইয়াসির প্রামানিকের অনেক ভালো লাগছে ৷ উনি মন ভরে প্রকৃতি উপভোগ করতে লাগলেন ৷
তবে প্রকৃতির চেয়ে ছেলের প্রতি উনার নজর বেশি গেল ৷ অলির মুখমন্ডল থেকে উনি নজর সরাতে পারছেন না ৷ উনার ছেলে এতো সুদর্শন হয়েছে সেটা উনি ভাবতে পারছেন না ৷ ইয়াসির প্রামানিক ছেলেকে নিয়ে বাগানে এসেছেন তাই আলমগীর প্রামানিকের চোখ এড়াল না বিষয়টা ৷ তাই উনি ব্যঙ্গ করে বলতে লাগলেন,,,,
ছেলেটাকে এতো দেখো না! তোমার নজর লেগে যেতে পারে!
ইয়াসির প্রামানিক লজ্জা পেয়ে নজর সরিয়ে নিলেন ৷ একটু পর আলমগীর প্রামানিক বলতে লাগলেন,,,
আমার মেয়ের মতো দেখতে হয়েছে জন্য আরাফাত বাবু এতো সুদর্শন ৷ তোমার মতো দেখতে হলে বাঁ*ন্দরের মতো লাগত!
ইয়াসির প্রামানিক থতমত খেয়ে গেলেন ৷ বিয়ের পর থেকেই উনার চাচা মানে শ্বশুড় সুযোগ পেলেই কথা শোনাতেন ৷ সেই অভ্যাস দেখছি এতো বছরেও যায়নি ৷ নিজের অপমানের পাল্লা একটু কমানোর জন্য নিজেই নিজেকে সান্ত্বনা দিয়ে উনি মনে মনে বললেন,,,
আপনার মেয়ের তো আর দাঁড়ি ছিল না ৷ তার মানে আমার ছেলে আমার মতোই হয়েছে ৷ আমার সৌন্দর্য আপনার সহ্য হয় না সেটা আমি ভালো করেই বুঝি চাশুড় ৷
চাচা আর শ্বশুড়ের সমন্বয়ে হয়েছে চাশুড় ৷ এটা উনি আলমগীর প্রামানিকের অগোচরে বলেন ৷ আজও বলতে ভুললেন না ৷ অন্যদিকে বাবা আর নানার সব কথোপকথন চুপচাপ শুনেছে অলি ৷ বাঁন্দরের প্রসঙ্গ আসতেই ও বিরবির করে বলল,,,
মাঝে মাঝে তো আমাকে বাঁ*ন্দরের মতোও দেখা যায় তার মানে আমি বাবার মতোও কিছুটা দেখতে হয়েছি ৷
সবাই মনে মনে কথা বলবে আর আলমগীর প্রামানিক বলবে না তা কি কখনো হতে পারে? উনিও একপলক অলির দিকে তাকালেন ৷ অতঃপর ওর দিকে দৃষ্টি অব্যাহত রেখেই মনে মনে বললেন,,,
ঠিক আহিয়ার মতো না ৷ আরাফাত একদম আমার মতো সুদর্শন হয়েছে ৷ এই বংশে আমার উপরে কোনো সুদর্শন পুরুষ নেই ৷ অবশ্য অলিও সুদর্শন কেননা ও আমার মতোই দেখতে হয়েছে ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
আজ খাবার টেবিলে যত খাবার সাজানো আছে সব আরাফাতের পছন্দের ৷ পাঁচ বছরের আরাফাত যা যা খেতে পছন্দ করতো সব এখানে আছে ৷ সকলে এসে খাবার টেবিলে বসল ৷ সকলে বলতে আলমগীর প্রামানিক, অনন্যার বাবা, ইয়াসির প্রামানিক আর অলি ৷
রিনা বেগম বলতে লাগলেন,,, জানি না এখনও এসব পছন্দ করো কি না ৷ কিন্তু আজ একটু খাও ৷ পরে তোমার পছন্দ জেনে নিব আরাফাত বাবা ৷
অলি মিষ্টি করে হাসল ৷ অতঃপর বলল,,,, সত্যি বলতে আমার পছন্দের কোনো পরিবর্তন হয়নি ৷ এই খাবারগুলো দেখে আমি একটু অবাকই হয়েছি বলতে গেলে ৷ আপনাকে ধন্যবাদ মামী ৷
ইয়াসির প্রামানিক তৎক্ষণাৎ বললেন,,, কিসের মামী? রিনা আমার ছোট ভাইয়ের বউ ৷ ওকে চাচী বলে ডাকবে ৷
আলমগীর প্রামানিক উনার কথা টেনে বললেন,,, না আহিয়ার দিক থেকে ভাবলে রিনা আরাফাতের মামী ৷ তাই ও মামী বলে ডাকবে ৷
এক কথায় দু কথায় তর্ক বেঁধে গেল ৷ কেউ নিজের সিদ্ধান্ত থেকে নড়ছে না ৷ তা দেখে অলি হতাশ শ্বাস ফেলে কপালে হাত দিল এবং মনে মনে বলতে লাগল,,,
উনি না আমার মামী আর না আমার চাচী ৷ উনি হচ্ছেন আমার একমাত্র শ্বাশুড়ি ঠিক আছে?
অনেকক্ষন পর দুই শ্বশুড় জামাইয়ের তর্ক থেমেছে ৷ এখন সবাই আনন্দ করে খাবার খাচ্ছে ৷ রিনা বেগম বেশি বেশি করে অলিকে খেতে দিল ৷ অলি তৃপ্তি ভরে খেতে লাগল ৷ ওর চোখ ছলছল করে উঠল এক পর্যায়ে ৷ বহু কষ্টে ও চোখের পানি আটকেছে ৷ খেতে খেতে ও আশেপাশের মানুষগুলোকে দেখতে লাগল ৷ এই মানুষগুলো ওর আপন মানুষ , একদম আপন ৷
খাওয়া দাওয়া শেষ করে সবাই যে যার প্লেট পরিষ্কার করে টেবিলে সাজিয়ে রাখল ৷ অতঃপর চলে গেল ৷ অলি আর অনন্যা এখনও আছে ওখানে ৷ কিছু একটা বলার জন্য অলি উশখুশ করছে ৷ তা দেখে অনন্যা বলল,,,
কিছু বলতে চান?
অলি মাথা উপর নিচ করে হ্যাঁ বোঝাল ৷ তবে কিছু বলল না, ইতস্তত করতে লাগল ৷ ওর অবস্থা খেয়াল করে অনন্যা ভ্রু কুঁচকে বলল,,,
আপনি আবার মাফ চাইতে এসেছেন?
অলির চোখমুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল ৷ ও দাঁত কেলিয়ে বলল,,, কিভাবে জানলেন?
অনন্যা কপাল কুঁচকে ওর দিকে তাকিয়ে বলল,,, এটা আমার গোপন ট্যালেন্ট ৷ এখন বলুন তো কি জন্য মাফ চান?
আসলে একটা কারনে রেগে গিয়ে আপনাকে ভবিষ্যতে মাফ না দেওয়ার একটা প্রতিজ্ঞা করেছিলাম ৷ সেই জন্য মাফ চাচ্ছি ৷
অনন্যা আহাম্মক হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে থাকল বেশ কিছুক্ষণ ৷ তারপর বলল,,,
রেগে যাওয়ার কারন টা কি ছিল?
সেটা বলতে পারব না ৷ আপনি শুধু আমাকে মাফ করুন ৷
অনন্যা ভ্রু কুঁচকে অলির আপাদমস্তক দেখার পর কাটকাট গলায় বলল,,, আচ্ছা মাফ করলাম কিন্তু রেগে যাওয়ার কারন না বলার জন্য পরে এসে মাফ চাইলে আর মাফ করব না!
অলি অসহায় মুখে ওর দিকে তাকিয়ে বলল,,, কি নি*ষ্ঠুর মেয়েমানুষ!
চলবে,,,,

