#মন_হারালো_বেঘোরে
#লেখনীতে_মেহেরীন
#পর্ব_২৪
রিমি ওর মায়ের বাসায় ফিরেছে। এই সকালবেলা দেখে সবার চোখেমুখে ছিলো একরাশ প্রশ্ন। দুদিন আগে যে মেয়েটি ডিনারের জন্যে বের হলো, সে ফিরল আজ সকালে ফিরলো? ড্রয়িংরুমে ইলোরা বেগমের শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়স্বজনরা যেন কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিলেন তাকে। ইলোরা বেগমের শাশুড়ি বাঁকা নজরে তাকিয়ে বললেন — “আজকালকের মেয়ে মানুষ তোমরা, স্বাধীনভাবে না হয় চলাচল করতে পছন্দ করো বুঝলাম তাই বলে দুইদিন বলা কওয়া ছাড়া উধাও থাকবে? তোমার মা এতো ফোন করলো তাও কোনো জবাব দাওনি, আবার যার সাথে গেলে, তাকে কিছু না বলেই চলে এলে কেন? ছিঃ! মান-সম্মান বলে কিছু তো রাখলে না?”
এমন পরিবারের বাকি সদস্যরাও প্রশ্নের ফুলঝুরি খুলে বসলো। ইশারা ইঙ্গিতে কটু কিছু কথাও বলেছে অবশ্য। দুদিন একটা মেয়ে হঠাৎ বাড়ির বাইরে থেকে ফিরলে বাড়ির মানুষ তো মুখে কুলুপ এঁটে বসে থাকবেনা! কিন্তু এই মুহূর্তে দীর্ঘ কোনো ব্যাখ্যা দেওয়ার শক্তি রিমির নেই। ও খুব শান্ত গলায় শুধু এটুকুই বলল — “আমার পক্ষে ওই ছেলেটাকে বিয়ে করা সম্ভব না, ওনাকে আমার পছন্দ নয় এই কথাটা আমি পরিষ্কার বলে দিয়েছি। আশা রাখছি কেউ আর আমাকে এই বিয়ের বিষয়ে কোনো কথা বলবেননা”
কারো কোনো পালটা প্রশ্নের সুযোগ না দিয়েই রিমি নিজের ঘরে ঢুকে দরজা চাপিয়ে দিল। সাহস করে চলে তো এসেছে কিন্তু এবার কি করবে সেটা নিয়ে কিছুটা ভাবনায় পড়ে গেলো মেয়েটা। মাকে বিয়ের বিষয় জানানো উচিত? না অপেক্ষা করা উচিত? কিন্তু অপেক্ষা করতে গেলে আরশান যদি এখানে এসে ঝামেলা শুরু করে তখন? রিমি খানিকক্ষণ চুপচাপ বিছানায় শুয়ে রইলো। এই মুহূর্তে বেশি কিছু ভাবতে পারছেনা। ওদিকে… আরশান এখনও ফার্ম হাউসেই আছে। রিমির এই আকস্মিক প্রস্থান যেনো ওর দম্ভে আজ বড় একটা আঘাত করে গেছে। যে মেয়েটাকে সে নিজের জালে বন্দি ভেবেছিল, সেই মেয়ে একদিন যেতে না যেতেই চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে গেল? দুপুর গড়িয়ে গেছে, কিন্তু তার পাঠানো লোকগুলো এখনো রিমির কোনো হদিস পায়নি।ড্রয়িংরুমের কাঁচের ফুলদানিটা আছাড় মে’রে ভেঙে আরশান সোফায় ধপ করে বসল, কপালে তার দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। রিমি যে ওর সঙ্গে খেল খেলতে পারে এটা ওর ভাবনার বাইরে ছিলো। আরশানের হঠাৎ মনে পড়লো রিমির ফোনটা এখানে নেই, তারমানে মেয়েটা ফোন নিজের সঙ্গে নিয়ে গেছে? অস্থিরতা সামলাতে না পেরে সে একবার রিমির ফোন নম্বরে ডায়াল করল। মনে মনে ভাবছিল ফোনটা হয়তো বন্ধই পাবে, কিন্তু অবাক করে দিয়ে ওপাশ থেকে রিং হওয়ার শব্দ শোনা গেল! সেকেন্ড কয়েকের মাথায় ফোনটা রিসিভ হলো। ওপাশে নিস্তব্ধতা। আরশান দাঁতে দাঁত চেপে গর্জে উঠল — “Where the hell are you?”
ওপাশ থেকে রিমির কণ্ঠস্বর ভেসে এল — “আমি আমার বাসায় ফিরে এসেছি”
আরশানের রাগটা যেন আরো বেড়ে গেলো। ও রেগে বলে উঠল — “How dare you leave without my permission? এতকিছুর পরেও তুমি এইটুকু বুঝলে না যে আমার হাত থেকে পালানো তোমার পক্ষে সম্ভব না?”
“জানি, তাই তো কোথায় আছি সেটা গোপন করলাম না। দয়া করে আমাকে একলা ছেড়ে দিন এবার”
“তোমাকে একলা ছাড়ার জন্যে কিন্তু বিয়ে করিনি!”
রিমি দীর্ঘশ্বাস ফেললো, উত্তপ্ত কোনো বাকবিতণ্ডা কিংবা নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার কোনো তাগিদ সে এই মুহূর্তে অনুভব করছেনা। আরশানের কথা শেষ হওয়ার আগেই এক সেকেন্ডের ব্যবধানে সে ফোনটা কেটে দিল। ফোনের ওপাশে ‘টু-টু’ শব্দটা আরশানের কানে বিঁধল অপমানের মতো। যদিও মেয়েটা কোথাও পালিয়ে যায়নি এইটুকু ভেবে অবচেতন মনে এক চিলতে স্বস্তি পেলেও রিমির এই দুঃসাহস তাকে স্থবির করে দিল। তার মুখের ওপর ফোন কেটে দেওয়ার সাহস এর আগে কেউ দেখায়নি! আরশান যে লোকদের রিমিকে খুঁজতে পাঠিয়েছিল তাদের ফেরত আসতে বললো আর রিমির বাসার সামনে একজনকে পাঠিয়ে দিলো। ও ঠিক করেছে রিমিকে দুদিন সময় দেবে, এরপর গিয়ে নিয়ে আসবে। এসবের মাঝেও আরশানের মনে প্রশ্ন ঝেঁকে বসলো! মেয়েটা সুযোগ থাকতেও পালিয়ে গেলো না কেনো? আরশান বিষয়টা এতো সহজে মেনে নিতে পারছেনা। বিয়েতে রাজি হওয়ায় থেকে শুরু করে আজ এভাবে চলে যাওয়া অব্দি সবকিছুতেই যেনো রিমির কোনো কোনো উদ্দেশ্যর আভাস পাচ্ছে আরশান, কিন্তু সেটা কি হতে পারে এখনও ভেবে পায়নি। ওদিকে…আরশানের ফোন পাওয়ার পর রিমির মনে হলো সে হয়তো যেকোনো সময় এখানে চলে আসতে পারে! ও এসে কিছু বলে পরিস্থিতি আরো বিগড়ে দেবে এর থেকে রিমি ঠিক করলো ও নিজেই ইলোরা বেগমকে বিয়ের কথাটা বলবে!
রিমি দুপুর অব্দি ঘুমিয়েছে, যেনো রাজ্যের ঘুম চোখে নেমে এসেছিলো। ওঠার পর একটু ফ্রেশ হয়ে রুমেই ছিলো। তখন ইলোরা বেগম মেয়ের ঘরে এলেন খাবার নিয়ে, ওনার চোখেমুখে দুশ্চিন্তার ছাপ স্পষ্ট। মেয়ের ফ্যাকাশে চেহারার দিকে তাকিয়ে ধরা গলায় প্রশ্ন করলেন — “রিমি, তুই আমাকে পরিষ্কার করে বল তো কি হয়েছে? ডিনারে গিয়ে কী কিছু হয়েছিলো যে তুই সব বিয়ে ভেঙে দিলি?আর এই দুদিন তুই কোথায় ছিলি?”
রিমি মায়ের দিকে এক নজর তাকালো, এই বিয়েতে না করায় উনি যেনো চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন এমন একটা ভাব, রিমি দীর্ঘশ্বাস ফেললো! রিমির নিজেকে এই মুহূর্তে পৃথিবীতে সম্পূর্ন একা মনে হচ্ছে, যেনো সবাই ওকে শুধু নিজ স্বার্থে ব্যবহারের জন্যে ওত পেতে আছে। যে মা তাকে নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় বিপদে আগলে রাখার কথা, তিনি আজ নিজের নতুন পরিবারের স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত। রিমি বুঝতে পারল, পৃথিবীতে সে বড্ড একা। একদিকে মায়ের স্বার্থপরতা, অন্যদিকে আরশানের নিয়ন্ত্রণের উন্মাদনা! মাত্র কয়েকদিনের মাথায়ই রিমির নিজের চারপাশের সবকিছুই কেমন বিরক্ত লাগতে শুরু করেছে, সবাই সুযোগ সন্ধানী! রিমি সরাসরি বললো — “আমার পক্ষে এখন আর কাউকে বিয়ে করা সম্ভব না, কারণ আমার বিয়ে হয়ে গেছে”
কথাটা শুনে ইলোরা বেগমের সারা শরীর যেন এক মুহূর্তের জন্য জমে পাথর হয়ে গেল। তিনি বিস্ফারিত চোখে মেয়ের দিকে তাকিয়ে রইলেন।
“বিয়ে…করেছিস মানে? কাকে? কখন?”
নিজের ভেতরের ঘৃণা, বিরক্তি আর কান্নাকে আড়াল করে মুখে এক চিলতে ম্লান হাসি ফুটিয়ে রিমি উত্তর দিলো — “আছে এমন কেউ, যে আমায় খুব করে চায়”
ইলোরা বেগম মেয়ের বিয়ের কথা শুনে যতটা না অবাক হয়েছেন তার থেকে বেশি চিন্তিত হয়ে পড়লেন যে এ বাসার কেউ এই খবর জানলে কী হবে?
“রিমি, কি বলছিস তুই? এরকম একটা সিদ্ধান্ত কিভাবে নিলি? তোর সঙ্গে যে ছেলেটার বিয়ে এ বাসা থেকে ঠিক করেছিলো সে তোর জন্যে কতটা উপযুক্ত ছিলো জানিস? ছেলেটা ভালো ছিলো, তাকে ছেড়ে তুই…”
“সেই উপযুক্ত ছেলেটার প্রথম পক্ষের স্ত্রী কেন তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল, সেটা কি আমায় কোনোদিন বলেছিলে মা?”
রিমির হঠাৎ করা এই প্রশ্নে ইলোরা বেগম থমকে গেলেন! রিমি উঠে দাঁড়িয়ে বলল — “যেই লোকটার চ’রিত্রহীনতার কথা এলাকা জানে, তাকে আমার গলায় ঝুলিয়ে দিতে চেয়েছিলে তুমি? মা হয়ে নিজের মেয়েকে ওই নরকে ঠেলে দিতে তোমার হাত কাঁপল না? শুধু নিজের ঘাড় থেকে বোঝা নামানোর জন্য? অন্তত আমি যাকে বিয়ে করেছি, সে এমন নয়।”
মেয়ের কথা শুনে ইলোরা বেগম স্তব্ধ হয়ে গেলেন!
“তুই এসব কিভাবে জানলি?”
“আমি কিভাবে জানলাম সেটা বড় কথা নয় মা, তুমি যে আমার থেকে এতো বড় একটা বিষয় গোপন করবে সেটা আমি ভাবতে পারিনি। আমি তো তোমার মেয়ে বলো, মা হয়ে মেয়েকে এমন কারো কাছে কিভাবে তুলে দিতে? নাকি তোমার কাছে এখন আমার কোনো দামই নেই? আগেই বলতে পারতে তাহলে আমি তোমার ঘাড়ে বোঝা হতে আসতাম না”
কথাগুলো বলতে গিয়ে রিমির চোখে পানি চলে এলো। মেয়ের সপাটে জবাবে ইলোরা বেগম স্তব্ধ হয়ে গেলেন। অপরাধবোধে মাথা নুইয়ে এল তাঁর। মানিয়ে নেওয়া তো মেয়েদের ধর্ম এই তত্ত্বে বিশ্বাসী হয়ে তিনি সত্য গোপন করেছিলেন। কিন্তু রিমি সব জেনে বসে আছে, তা তিনি ভাবতেও পারেননি। নিজের মেয়ের সামনে আজ নিজেকে বড্ড ছোট মনে হলো তাঁর। রিমির চোখের পানি আজ কোনো অভিযোগ নয়, বরং এক চরম ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ। উনি আর রিমিকে কিছু বলতে পারেননি, আর না রিমি ওর মায়ের সঙ্গে কোনো কথা বলেছে। আরশান বিকেলে বাসায় ফিরেছিল, আরাফাত সাহেব বাসাই ছিলেন। আরশান খুবই স্বাভাবিকভাবে বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে খেতে বসেছিলো কারণ রিমির চিন্তা সকাল থেকে কিছু খেতে পারেনি। সুরভী বেগম খাবার বেড়ে দেওয়ার সময় জিজ্ঞাসা করলেন — “তুই একা এলি যে? রিমি কোথায়?”
আরশান খেতে খেতে উত্তর দিলো — “ওকে আমি দুদিন পর নিয়ে আসবো”
“নিয়ে আসবি মানে? কোথায় গেছে?”
আরাফাত সাহেব ড্রইংরুমে বসেছিলেন, ছেলের কথা উনি শুনেই পাল্টা বলে উঠলেন — “কোথায় আবার গেছে, দেখো পালিয়ে গেছে নাকি”
আরশান একটুও বিচলিত হলো না। উল্টো বাবার দিকে তাকিয়ে বলল — “Don’t worry abbu, তোমার পুত্রবধূ শীঘ্রই তোমার বাড়িতে পা রাখবে। তুমি বরং তাকে বরণ করার জন্য কী উপহার দেবে, সেটা নিয়ে চিন্তা করো।”
___________________________________
ভার্সিটির গেট দিয়ে বের হতেই রিমির চোখ আটকে গেল। সামনে আরশানের পার্সোনাল সেক্রেটারি ইয়াসির দাঁড়িয়ে আছে। রিমিকে দেখে সে দ্রুত এগিয়ে এসে বললো — “ম্যাডাম, আমি আপনাকে নিতে এসেছি”
রিমি থমকে দাঁড়িয়ে শীতল চোখে তাকাল — “কোথায় যাবো?”
“স্যারের বাসায়। আসলে স্যার নিজেই আসতেন কিন্তু একটা জরুরি কাজ পড়ে যাওয়ায় তিনি আসতে পারেননি, আমাকে পাঠিয়েছেন।”
রিমি বাঁকা হাসল — “আপনার স্যারকে বলে দেবেন, তাঁর হুকুম তালিম করার কোনো ইচ্ছে আমার নেই। আমি আমার বাসায় যাচ্ছি।”
ইয়াসির এবার অসহায়ের মতো কাঁচুমাচু করতে লাগল — “ম্যাডাম প্লিজ! আপনি না গেলে স্যার আমার চাকরি নট করে দেবেন। আর… স্যার দুপুরে আপনার বাসায় গিয়েছিলেন। আপনার মায়ের কাছ থেকে আপনার সব ব্যাগপত্র ওনার বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে”
এ কথা শুনে রিমি চমকে উঠলো। আরশান তার মায়ের বাসায় গিয়েছিল? এই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সে সব গুছিয়ে ফেলেছে? রিমি বুঝতে পারল, আরশান এ দুদিন কেনো চুপ ছিলো। ওর দূরে থাকার আর কোনো পথই রাখেনি লোকটা। রিমি অবশ্য ভেবেছিল মায়ের বাসায় আর থাকবে না, কিছুদিন পর অন্য কোথাও শিফট হয়ে যাবে। কিন্তু আরশান সেখানে পা রেখেছে মানে রিমির সেই শেষ আশ্রয়ে ফেরার আর পথ নেই! ঠিক সেই মুহূর্তেই ইনায়া বের হয়ে এল। ইয়াসিরকে চেনে বলে সে অবাক হয়ে এগিয়ে এল — “আরে ইয়াসির ভাই! আপনি এখানে?”
ইয়াসির হাসিমুখে বলল — “ম্যাডামকে নিতে এসেছি।”
ইনায়া রিমির দিকে তাকাল। রিমির বুক তখন ধড়ফড় করছে কিন্তু ইনায়া সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। সে রিমির হাত ধরে ঝটকা টান দিয়ে বলল — “কী ভাবছিস এত? এখানে গাছ হয়ে দাঁড়িয়ে থেকে লাভ আছে? চল।”
রিমি স্তম্ভিত হয়ে ইনায়ার দিকে তাকিয়ে রইল। সে ভেবেছিল ইনায়া হয়তো রাগে তার সাথে কথা বলবে না, কিংবা তীব্র কোনো অভিযোগ করবে। কিন্তু ও বরাবরের মতোই স্বাভাবিক। ওর এই স্বাভাবিক ব্যবহার রিমিকে আরও অ’পরাধী করে তুলল। সে বুঝতে পারল, ইনায়া হয়তো সবটা মেনে নিয়েছে, কিন্তু রিমি নিজে নিজেকে মানতে পারছে না। রিমি কয়েক মুহূর্তের জন্য স্থবির হয়ে গেল। সে বুঝতে পারল এই পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তার হাতে আর নেই। আরশান সবটা এমনভাবে সাজিয়েছে যে তাকে ফিরতেই হবে। তবে এবার রিমির ভেতরে এক অদ্ভুত জেদ দানা বাঁধল। ও সিদ্ধান্ত নিলো আর ভীতু হলে চলবেনা। আরশানের এই অতি-নিয়ন্ত্রণ আর জেদকে সে তার নিজের অস্ত্র বানাবে।আরশান সব বিষয়ে জোর খাটাচ্ছে, নিজের পছন্দমত সবটা সাজানোর চেষ্টা করছে। আরশানের সেই সাজানো গোছানো নিখুঁত জীবনটা তছনছ করার দায়িত্বটাও ও নেবে!
চলবে…
আগের পর্বের লিংক: https://www.facebook.com/share/p/1Hodiu66CY/?mibextid=oFDknk

