মন_হারালো_বেঘোরে #লেখনীতে_মেহেরীন #পর্ব_১৩

0
27

#মন_হারালো_বেঘোরে
#লেখনীতে_মেহেরীন
#পর্ব_১৩ [ 𝗡𝗼 𝗲𝘅𝗶𝘁 𝗳𝗿𝗼𝗺 𝗵𝗶𝘀 𝗴𝗿𝗶𝗽 🥀]

দিনগুলো ক্যালেন্ডারের পাতার মতো উল্টে যাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু রিমির মনের ভেতরের ঝোড়ো হাওয়াটা কিছুতেই থামছে না। আরশানের প্রতি ওর অনুভূতির পারদ প্রতিদিন একটু একটু করে বাড়ছে, কিন্তু সেই অনুভূতির নাম দিতে গিয়ে মেয়েটা বারবার থমকে যাচ্ছে। এটা কি কেবলই ভালো লাগা, নাকি আরশানের তৈরি করা কোনো মায়াবী জালের আচ্ছন্নতা? আরশান মানুষটা বড় বিচিত্র। কখনো ও এতটাই যত্নশীল হয়ে ওঠে যে রিমির মনে হয় পৃথিবীর সবটুকু নিরাপত্তা যেন কেবল এই মানুষটার বাহুডোরেই বুঝি পাওয়া যাবে। কিন্তু পরক্ষণেই আরশানের অন্য রূপটা বেরিয়ে আসে যখন ও রিমিকে শাসন করে, নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। রিমির মনে হয় ও যেন আরশানের কোনো প্রিয় খেলনা, যাকে ও সযত্নে সাজিয়ে রাখতে চায় ঠিকই, কিন্তু সেভাবে রাখতে চায় যেভাবে ওর মন চায়! যদিও রিমি জানে আরশানের এই আচরণের পেছনে ওর মানসিক অসুস্থতা দায়ী তবুও মাঝে মাঝে হিসেব মিলিয়ে উঠতে পারেনা। হিসাব নিকাশ যখন ও মিলিয়ে উঠতে ব্যর্থ হচ্ছে সে মুহূর্তে এসব ভাবা বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলো। যেহেতু এ বাসা থেকে চলে যাবে, ও ভেবেছে হয়তো ও এখান থেকে যাওয়ার মাধ্যমেই সব আবার পূর্বের ন্যায় স্বাভাবিক হবে। আরশানও হয়তো ওর অনুপস্থিতিতে আবার আগের জীবনে ফিরে যাবে যেখানে ওর অস্তিত্ব থাকবেনা!

এক সপ্তাহ হয়ে গেল রিমির মা সেই সুখবরটা দিয়েছেন। মায়ের কাছে যাওয়ার যে তীব্র আকাঙ্ক্ষা এতদিন রিমির বুকের ভেতর পাহাড় হয়ে জমে ছিল, আজ সেটা সত্যি হতে চলেছে। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হলো,

রিমির মা ফোন করার পর আজ এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে, রিমি এখনও ইনায়াদের বাসার কাউকে জানায়নি যে ও এখান থেকে চলে যাবে। আজ ভার্সিটির ক্লাস শেষ করে রিমি ঠিক করল, যাওয়ার আগে এই বাসার সবাইকে কিছু উপহার দিয়ে যাবে। এই কদিন ইনায়ার পরিবার ওকে যেভাবে আপন করে নিয়েছিলো, তার ঋণ শোধ করার সাধ্য রিমির নেই। ও জোর করে ইনায়াকে নিয়ে শহরের এক বড় গিফট শপে ঢুকল। দোকানের ভেতরটা রকমারি জিনিসের সমাহারে ঝলমল করছে। রিমি ইনায়ার হাত ধরে একেকটা কাউন্টারে যাচ্ছে আর খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জিনিস দেখছে। ও ইনায়াকে উদ্দেশ্য করে বলল — “ইনায়া, তোর ভাইয়ার জন্য কেমন টাই বা কলম সেট ভালো হবে বল তো? আর আয়ানের জন্য কি নেওয়া যায়?”

ইনায়া অবাক হয়ে রিমির দিকে তাকাল। ওর ভ্রু কুঁচকে গেল — “আরে, হঠাৎ সবার জন্য গিফট কেনার ধুম পড়ল কেন? কোনো অকেশন তো নেই। আর ভাইয়াকে তো তুই চিনিস, ওর পছন্দ ম্যাচ করা চারটে খানি কথা নয়!”

রিমি হাসল, তবে সেই হাসিতে কোথাও যেন একটা বিষণ্ণতা লুকিয়ে ছিল। ও একে একে ইনায়ার পছন্দের একটা পারফিউম, আয়ানের জন্য ওর পছন্দের ফুটবল দলের একটা জার্সি আর আরশানের জন্য একটা ক্লাসিক ফাউন্টেন পেন সেট প্যাক করে নিল। এমনকি সুরভী বেগম আর আরাফাত সাহেবের জন্যও সুন্দর কিছু ঘর সাজানোর জিনিস বেছে নিল ও। কাউন্টারে বিল মেটানোর সময় ইনায়া আর থাকতে না পেরে রিমির হাত চেপে ধরল। ওর চোখেমুখে একরাশ কৌতূহল আর সন্দেহ — “রিমি, তুই আজ খুব অদ্ভুত ব্যবহার করছিস। সত্যি করে বল তো, এত গিফট কেন কিনছিস?”

রিমি বিলটা দিয়ে বড় একটা শ্বাস নিল। দোকানের কাঁচের দেয়ালের ওপাশে গোধূলির আলোটা ম্লান হয়ে আসছে। ও ইনায়ার চোখের দিকে তাকিয়ে খুব নিচু স্বরে বলল — “আসলে মা ফোন করেছিলেন। ওনার বাসার সবাই রাজি হয়েছেন, তাই মা জানিয়েছে আমি এবার ওনার কাছে গিয়ে পারমানেন্টলি শিফট হতে পারব। আমি ভাবছি কালকেই চলে যাবো”

কথাটা শুনেই ইনায়ার মুখে থাকা চঞ্চল হাসিটা এক নিমেষে মিলিয়ে গেল। ওর চোখের মণি দুটো স্থির হয়ে এল। রিমির হাতটা ও অবচেতনভাবেই আরও শক্ত করে ধরল। ইনায়ার কণ্ঠস্বর হুট করেই ভারী হয়ে এল — “তুই… তুই চলে যাবি? তার মানে তুই আর আমাদের সাথে থাকবি না?”

রিমি ম্লান হেসে মাথা নাড়ল। ইনায়ার ফরসা মুখটা মুহূর্তেই মলিন হয়ে গেল। দোকানের মধ্যে দাঁড়িয়েই ও একরাশ বিষণ্ণতা নিয়ে রিমিকে জড়িয়ে ধরলো! ইনায়া জানে রিমি কেমন, চাইলেও ওকে আটকানো যাবেনা!
__________________________________

রাত ন’টা বেজেছে। সুরভী বেগম মাত্রই রান্নাঘর থেকে শেষ বাটিটা এনে ডাইনিং টেবিলে সাজিয়ে রাখলেন। ধোঁয়া ওঠা গরম ভাতের সুগন্ধ, ইলিশ মাছ ভাজি ও ডাল-ভর্তার ছিমছাম আয়োজনে পুরো ঘরটা ম ম করছে। আরাফাত সাহেব নিজের চেয়ারে বসে চশমাটা টেবিলের একপাশে রাখলেন। আয়ান আর ইনায়াও হাত ধুয়ে এসে বসেছে, ওদের চোখেমুখে সারাদিনের ক্লান্তির পর খাবারের প্রতি এক ধরণের তৃপ্তি। সুরভী বেগম সবার প্লেটে ভাত বেড়ে দিয়ে নিজেও বসলেন, তখন রিমি সরাসরি আরাফাত সাহেবের দিকে তাকিয়ে খুব ধীরস্থির গলায় বলল — “আঙ্কেল, খাবার শুরু করার আগে একটা কথা বলতে চাই।”

ইনায়া মুখ গোমড়া করে আছে কারণ ও জানে রিমি কি বলবে, ও বাদে সবার নজর রিমির ওপর গিয়ে স্থির হলো। আরাফাত সাহেব একটু অবাক হয়ে হাসলেন — “হ্যাঁ বলো। কোনো দরকারি কথা?”

রিমি আঙুল দিয়ে প্লেটের কোণটা খুঁটতে খুঁটতে বলল — “আসলে এখানে আসার আগে কথা ছিলো যে আমি আমার মায়ের কাছে থাকবো কিন্তু কিছু কারণবশত তখন যাওয়া সম্ভব হয়নি। আমার মা এখন জানিয়েছেন যে আমি শিফট হয়ে যেতে পারবো। আমি কাল সকালেই ওখানকার উদ্দেশ্যে রওনা দেব”

কথাটা শোনামাত্রই ডাইনিং টেবিলের সেই চনমনে আবহটা যেন এক নিমেষে জমাট বেঁধে গেল। আয়ান আর ইনায়া একে অপরের দিকে তাকাল, ওদের চোখের কোণে একরাশ বিস্ময় আর বিষণ্ণতা। সুরভী বেগম বললেন — “সেকি রে রিমি! হঠাৎ করে যাওয়ার কথা বলছো? আর কিছুদিন থেকে গেলেই পারতে”

আরাফাত সাহেবও বেশ গম্ভীর হয়ে গেলেন। তিনি চশমাটা আবার চোখে দিয়ে স্নেহের সুরে বললেন — “রিমি, তুমি যাবে তাতে আমার আপত্তি নেই। নিজের পরিবারের সঙ্গে কেই না থাকতে চায়। তাছাড়া আমি শুনেছি তুমি তোমার মায়ের থেকে বহু বছর দূরে আছো, মায়ের সঙ্গে থাকার জন্যে নিশ্চয়ই তোমার মন ব্যাকুল হচ্ছে তাইনা? তবে যেকোনো প্রয়োজনে আমাকে জানাতে দ্বিধা করবেনা কেমন?”

রিমি একটা ঢোক গিলল, ওর চোখের কোণটা সামান্য ভিজে উঠল, কিন্তু ও নিজেকে শক্ত রাখল। যেখানে নিজের পরিবারই ওর পরোয়া করেনি সেখানে বাইরের একজন এভাবে পাশে থাকার আশ্বাস দিচ্ছেন, ইনায়ার সুবাদে এই পরিবারের সঙ্গে দেখা হওয়ার রিমি নিজেকে বেশ ভাগ্যবতী মনে করে রিমি। ঠিক সেই মুহূর্তেই রিমি আড়চোখে টেবিলের ও মাথায় বসে থাকা মানুষটার দিকে তাকাল। আরশান অতি স্বাভাবিকভাবে খাবার খেতে ব্যস্ত! রিমিও আস্তে আস্তে খাওয়ায় মনোযোগ দিলো, হয়তো এটাই হওয়ার ছিলো। ওর থাকা না থাকাতে আরশানের কিছুই যায় আসেনা! ডিনার শেষে রিমি সবার জন্যে নিজের ঘর থেকে গিফটবক্স গুলো এনে দিলো, কিন্তু আরশান ততক্ষণে ঘরে চলে গেছিলো। রিমিও আজ আর আরশানের ঘরে যায়নি। রাতে ও নিজের জিনিসপত্র প্যাক করছিল, তখন ওর ফোনে আরশানের মেসেজ আসে। ছাদে যেতে বলেছে। রিমি ভাবলো এই সুযোগে আরশানের জন্যে কেনা গিফট দিয়ে দেবে। রিমি যখন ছাদে এল, তখন আকাশটা বেশ পরিস্কার, তারারা ঝিকিমিকি জ্বলছে। ছাদের এক কোণে দাঁড়িয়ে আরশান আকাশ দেখছিল, রিমি ধীরপায়ে ওর কাছে গিয়ে দাঁড়াতেই আরশান একটা তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে হুট করেই প্রশ্ন ছুড়ে বসলো। ওর কণ্ঠস্বরে এখন কোনো রাগ নেই, বরং এক ধরণের বিদ্রূপাত্মক শীতলতা মিশে আছে — “You didn’t even bother to get my permission, right?”

রিমি বুক ভরে শ্বাস নিয়ে নিজেকে শক্ত করার চেষ্টা করল। ও খুব শান্ত গলায় উত্তর দিল — “আমি আপনার অনুমতি ছাড়াই এই বাড়িতে এসেছিলাম, তাই যাওয়ার সময় আপনার অনুমতি নেওয়ার তো কোনো প্রয়োজন দেখছি না।”

আরশান ওর দিকে এক পলক তাকাল। ওর ঠোঁটের কোণে সেই রহস্যময় হাসিটা আরও গাঢ় হলো! আরশান মাথা নেড়ে রিমির কথায় সায় দিল। তারপর এক পা এগিয়ে এসে রিমির খুব কাছে দাঁড়াল। ওর শরীরের দামী পারফিউমের ঘ্রাণে রিমির মস্তিস্ক ঝিমঝিম করে উঠল। আরশান বললো — “What if I don’t agree to your leave?

রিমি এক মুহূর্ত দমল না। ও পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলল — “নিজের যাওয়ার জায়গা থাকতে কেউই অন্যের বাসায় থাকতে চায়না, আমি পরিস্থিতির শিকার হয়ে এসেছিলাম এখানে। আপনাদের সবার কাছে আমি অনেক কৃতজ্ঞ, কিন্তু আমি এখন আমার মায়ের সঙ্গেই থাকতে চাই”

আরশান আবারও অদ্ভুতভাবে মাথা দোলাল — “হুমম! এটাও তুমি ঠিক বলেছ। কিন্তু রিমি, এখান থেকে যাওয়ার পর তুমি কি আমার সাথে আর দেখা করবে?”

রিমি সামান্য ইতস্তত করল। ও জানে, আরশানের সাথে সম্পর্ক রাখা মানেই নিজেকে এক গোলকধাঁধায় হারিয়ে ফেলা। ও কোনো উত্তর দিলো না। সাধারণত নীরবতাকে সম্মতির লক্ষণ ধরা হলেও রিমির নীরবতা যে অসম্মতি প্রকাশ করছে তা আরশানের বুঝতে সমস্যা হয়নি। আরশান কিছুক্ষণ স্থির ছিলো, কোনো প্রশ্ন করেনি। রিমি তখন হাতে থাকা গিফটবক্সটা আরশানের দিকে বাড়িয়ে ধরল। আরশান সেটা হাতে নিল ঠিকই, কিন্তু এক মুহূর্তের জন্যও সেটার দিকে না তাকিয়ে পাশের সিমেন্টের টেবিলে অবহেলায় রেখে দিল। পরের মুহূর্তেই যা ঘটল, সেটার জন্য রিমি একদমই প্রস্তুত ছিল না। আরশান কোনো কথা না বলে, হুট করে এক হেঁচকা টানে রিমিকে পাজাখোলা করে তুলে নিল। রিমির মুখ দিয়ে একটা অস্ফুট চিৎকার বেরিয়ে আসার আগেই আরশান ওকে ছাদের নিচু রেলিংটার ওপর বসিয়ে দিল। রিমির পা দুটো এখন শূন্যে ঝুলছে, আর পিঠের ওপাশে কেবল গভীর অন্ধকার শূন্যতা! রিমি ভয়ে আরশানের টি-শার্টটা খামচে ধরল। ওর কলিজা যেন গলার কাছে এসে ঠেকছে — “কী করছেন আপনি? নামান আমাকে! আমি পড়ে যাব!”

আরশান ওকে দুপাশে হাত দিয়ে জাপটে ধরে রেখেছিল ঠিকই কিন্তু এমনভাবে ধরেছে যে রিমির পিঠের দিকে ভর বেশি পড়ছিল! ও রিমির খুব কাছে মুখ নিয়ে অদ্ভুত এক হাসি দিলো যা দেখে রিমির চোখজোড়া যেনো থমকে গেলো! আরশান রিমির চোখের দিকে তাকিয়ে কথাগুলো খুব ধীরস্থিরভাবে বলল…

“এখান থেকে যদি তুমি নিচে পড়ে যাও, তবে বিশেষ কোনো ক্ষতি হবে না। নিচে আমাদের লন, নরম ঘাস আর ভিজে মাটি আছে। বড়জোর তোমার হাত-পা ভেঙে যাবে।”

রিমি অবাক হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে রইল। আরশান আবার বলতে শুরু করল — “হাত-পা ভাঙলে ডাক্তার তোমাকে কড়া বেডরেস্ট দেবে। আর বেডরেস্ট মানেই তোমাকে আরও অন্তত দু-তিন মাস এই বাড়িতেই বন্দি থাকতে হবে। তোমাকে এই বাসায় আরও কিছুদিন আটকে রাখার জন্য আমার এই প্ল্যানটা কেমন? Brilliant, isn’t it?”

এ মুহূর্তে আরশানের আচরণ, ওর কথার ভঙ্গি সবকিছু একদম অন্যরকম লাগছে। রিমি অনুভব করছে যেনো ওর সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এই মানুষটা আর সাধারণ কোনো মানুষ নেই, এ যেনো এক উন্মাদ যে তার আকাঙ্ক্ষাকে পূর্ণ করতে যে কোনো সীমায় যেতে পারে। রিমির মেরুদণ্ড দিয়ে এক শীতল স্রোত বয়ে গেল! ছাদের কার্নিশে বসে থাকা রিমির পায়ের নিচে তখন অতল শূন্যতা। আরশান যখন ধীরে ধীরে রেলিং থেকে নিজের হাত দুটো সরিয়ে নিতে চাইল, তখন রিমির মনে হলো ওর পায়ের তলার পৃথিবীটা বুঝি এখনই ধসে পড়বে। আতঙ্কে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে রিমি দুই হাতে আরশানের টি-শার্টের কলারটা খামচে ধরল। ওর দুচোখ বেয়ে নোনা জল গড়িয়ে পড়ছে, ঠোঁট দুটো থরথর করে কাঁপছে। ও প্রায় আর্তনাদ করে উঠল— “হাত সরাবেন না! প্লিজ, আমাকে ছাড়বেন না! আমি পড়ে যাব… আমি ম’রে যাব!”

আরশান হাত সরাল না ঠিকই, কিন্তু ও রিমির খুব কাছে মুখ নামিয়ে আনল। ওর চোখে এখন এক ধরণের পৈশাচিক তৃপ্তি। রিমির চোখের পানি আরশানের হাতের পাতায় গিয়ে মিশছে। আরশান খুব ধীরস্থিরভাবে রিমির একটা চোখের পানি ডানহাতের নিজের বুড়ো আঙুল দিয়ে মুছে দিল। রিমির চোখ দিয়ে অঝোরে পানি পড়ছে আর বাঁচার জন্যে ও আরশানকে আঁকড়ে ধরে আছে। আরশান এবার ওর চিবুকটা আরও একটু উঁচিয়ে ধরল। ওর চোখের মণি দুটো স্থির, যেন রিমির আত্মার ভেতরে ঢুকে যেতে চাইছে — “আমি তোমাকে এখন নামিয়ে দেব রিমি। কিন্তু তার আগে তোমাকে একটা প্রমিজ করতে হবে। এখান থেকে যাওয়ার পর তুমি কি আমার সাথে দেখা করবে? Will you come to me willingly?”

রিমি ভয়ে পাথর হয়ে আছে। এইজন্যে লোকটা এমন উম্মাদের ন্যায় আচরণ করছে? ও কোনোমতে অস্ফুট স্বরে বলল — “আমি যেখানে যাচ্ছি সেখানে চাইলেও হুটহাট দেখা করা সম্ভব না। আমার মায়ের হলেও আ..আমি অন্যের বাড়িতেই থাকতে যাচ্ছি”

এ কথা শুনে আরশান সাথে সাথে রেলিং থেকে নিজের হাতের বাঁধন আরও আলগা করে দিল। রিমির শরীরটা সামান্য পেছন দিকে হেলে যেতেই ও আতঙ্কে চোখ বন্ধ করে চিৎকার করে উঠল— “আমি আসব! আমি আপনার সাথে দেখা করব! প্রমিজ করছি, আমি স্বেচ্ছায় আসব! প্লিজ আমাকে ছাড়বেন না!”

রিমির উত্তর পাওয়া মাত্রই আরশান তৃপ্তির এক হাসি হেসে ওকে সাবধানে রেলিং থেকে নামিয়ে মেঝেতে দাঁড় করিয়ে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে বলল — “Good girl, I knew you would choose the right path”

রিমির পা দুটো তখনও কাঁপছে, ও সোজা হয়ে দাঁড়ানোর শক্তিটুকুও হারিয়ে ফেলেছে। ও কোনোরকম রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে জোরে নিঃশ্বাস ফেলছিলো। চোখ দিয়ে তখনও ওর পানি ঝরছে, এ মুহূর্তে আরশানের দিকে তাকানোর বিন্দুমাত্র ইচ্ছে হচ্ছেনা ওর! এ মুহূর্তে আরশানের প্রতি যেটুকু অনুভূতি ছিলো সেটাও যেনো কর্পূরের ন্যায় উড়ে গেছে কারণ অনুভূতি স্বাভাবিক মানুষের জন্যে কার্যকর কিন্তু আরশান স্বাভাবিক নয়, বদ্ধ উন্মাদ!

চলবে…

[ 𝘿𝙚𝙖𝙧 𝙍𝙚𝙖𝙙𝙚𝙧𝙨, 𝙄’𝙢 𝙨𝙪𝙧𝙚 𝙮𝙤𝙪’𝙫𝙚 𝙣𝙚𝙫𝙚𝙧 𝙢𝙚𝙩 𝙖 𝘾𝙧𝙖’𝙘𝙠𝙚𝙙 𝙘𝙝𝙖𝙧𝙖𝙘𝙩𝙚𝙧 𝗹𝗶𝗸𝗲 𝘼𝙧𝙨𝙝𝙖𝙣 𝙈𝙞𝙧𝙯𝙖 𝙗𝙚𝙛𝙤𝙧𝙚 😎]

আগের পর্বে লিংক: https://www.facebook.com/share/p/17hm6vCj1V/?mibextid=oFDknk

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here