#মন_হারালো_বেঘোরে
#লেখনীতে_মেহেরীন
#পর্ব_২৬
দুপুর তখন প্রায় দুইটা। আরশানের হুট করে বাসায় আসার কথা ছিল না, কিন্তু জরুরি কিছু কাগজ নিতে তাকে বাসায় ফিরতে হলো। কলিং বেলের শব্দ শুনে সুরভী বেগম দরজা খুলে দিলেন। ছেলেকে অসময়ে দেখে কিছুটা অবাক হয়ে বললেন — “কিরে? এই দুপুরে বাসায় এলি যে?”
“কিছু পেপারস নিতে এসেছি” — বলেই আরশান গটগট করে সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠে গেল। ও ভেবেছিল ঘরে ঢুকলেই দেখবে ঘরটা ওর চিরচেনা সেই সুশৃঙ্খল রূপে ফিরে এসেছে, রিমি হয়তো সব গুছিয়ে দিয়েছে কিন্তু ঘরের দরজা ঠেলে ভেতরে পা রাখতেই আরশানের র’ক্ত মাথায় উঠে গেল। ঘরটা আগের চেয়েও বেশি বিধ্বস্ত! বিছানার চাদর একপাশে ঝুলে আছে, টেবিলের ওপর রিমির কলেজের ব্যাগ হা করে পড়ে আছে, আর আলমারিটা অর্ধেক খোলা। রিমি ঘর গোছানো তো দূরে থাক, আরও বেশি অগোছালো করে রেখেছে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি যেটা আরশানকে চটিয়েছে, সেটা হলো রিমির অনুপস্থিতি। আরশান গজগজ করতে করতে নিচে নেমে এল। সুরভী বেগম তখন ড্রয়িংরুমে ছিলেন। আরশান গম্ভীর গলায় জিজ্ঞেস করল — “আম্মু, রিমি কোথায়? ভার্সিটি গেছে না কি?”
সুরভী বেগম কুশিকাঁটা রেখে তাকালেন — “না তো, ও তো একটু আগেই বাইরে গেল। বলল ওর নাকি খুব জরুরি কোনো কাজ আছে।”
আরশানের মনের কোণে মুহূর্তের জন্য একটা আশঙ্কার মেঘ উঁকি দিয়ে গেল রিমি কি আবার পালানোর চেষ্টা করল? পরক্ষণেই ও নিজেকে শান্ত করল। রিমির পালানোর হলে তো আগেই পালাতো! কিন্তু ওর মেজাজটা ইতিমধ্যে বিগড়ে গেছে রিমির এই চরম অবাধ্যতা দেখে, মেয়েটা ঘর না গুছিয়েই বেরিয়ে গেছে? রিমির ভরসায় বসে থেকে লাভ নেই, তাই আরশান ওর মাকে বললো…
“আম্মু, তুমি একটু সময় করে আমার রুমটা আগের মতো গুছিয়ে দিও। রিমি নিজের জিনিসপত্র দিয়ে আমার সব এলোমেলো করে দিয়েছে। আমার জিনিসের সাথে ওর জিনিস মিক্স হওয়া আমি একদম পছন্দ হচ্ছেনা না।”
সুরভী বেগম ছেলের কথা শুনে অবাক হয়ে চশমাটা টেবিলের ওপর রাখলেন — “এসব কী বলছিস আরশান? রিমি এখন তোর বউ, ও এখন থেকে ওই ঘরেই থাকবে। ও নিজের পছন্দমতো ঘর সাজাতে চাইতেই পারে। ওটা তো এখন থেকে তোদের দুজনেরই ঘর।”
আরশানের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল। সে একগুঁয়ে স্বরে বলল — “আমাদের দুজনের ঘর হলেও আমার পার্সোনাল স্পেসে আমি অন্য কারো হস্তক্ষেপ চাই না”
“তাহলে রিমির জিনিসপত্র কোথায় থাকবে? একটা ঘরে থাকতে হলে তো শেয়ার করতেই হবে”
“আমি ওর জন্য আলাদা কাবার্ড অর্ডার করেছি। আজ সন্ধ্যার মধ্যেই চলে আসবে। আমার আলমারিতে ওর একটা সুতোও যেন না থাকে”
আরশান যেন নিজের সিদ্ধান্তে অটল। সুরভী বেগম ছেলের এই বাড়াবাড়ি দেখে স্তব্ধ হয়ে রইলেন। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন — “বিয়ের পর কেউ এভাবে নিজের বউকে আলাদা করে দেয় না আরশান। সম্পর্ক এভাবে চলে না।”
সুরভী বেগম ছেলেকে বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন কিন্তু আরশান সেদিকে কানই দিল না। পেপারসগুলো হাতে করে দেখতে দেখতে গটগট করে বেরিয়ে গেল আরশান। ওর চলে যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে সুরভী বেগম অস্ফুট স্বরে বললেন — “এই ছেলের কপালে যে কী আছে! জেদ দিয়ে জীবন চলে না রে আরশান।”
দুপুরের তপ্ত রোদ উপেক্ষা করেই রিমি এসে দাঁড়াল ড. জুবায়েরের চেম্বারের সামনে। ইনায়ার কাছ থেকে ঠিকানাটা জোগাড় করতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি। প্রথমে সুরভী বেগমের দেওয়া তথ্যগুলোই রিমি যথেষ্ট ভেবেছিল, কিন্তু আরশানের মতো জটিল মনস্তত্ত্বের মানুষকে বুঝতে হলে আরও গভীরে যাওয়া প্রয়োজন। আর সেই সম্পর্কে ওর সাইকিয়াট্রিস্ট ছাড়া আর কেউই ভালো বলতে পারবে না! ড. জুবায়েরের রুমে বসে রিমি যখন নিজেকে আরশানের স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিল তখন ড. জুবায়ের কিছুটা চমকে উঠলেন। জুবায়ের হালকা হেসে বললেন — “আরশান বিয়ে করেছে, এটা সত্যিই বিস্ময়কর! ও এমন একজন মানুষ যে তার ব্যক্তিগত জীবনে কাউকে স্থান দেওয়ার আগে হাজার বার ভাবে”
রিমি খুব শান্তভাবে নিজের ব্যাগটা কোলের ওপর রেখে বসল। সরাসরি ডক্টরের চোখের দিকে তাকিয়ে বলল — “ডাক্তার, আমি আরশানের সমস্যাগুলো সম্পর্কে বিস্তরভাবে জানতে চাই। আমি শুধু জানি ওর OCD আছে কিন্তু এর গভীরতা ঠিক কতটুকু আর ও ঠিক কোন পরিস্থিতিতে নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে, সেটা জানা আমার জন্য জরুরি। মানে ওর কোন বিষয়টা সবচেয়ে বেশি অপছন্দ করে সেটাও জানতে চাই”
ড. জুবায়ের গম্ভীর গলায় বললেন — “আরশানের সমস্যাটা শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে নয়, ওর সমস্যাটা হলো ‘পারফেকশন’ আর ‘কন্ট্রোল’ নিয়ে। ও মনে করে আশেপাশে সব নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারলে কোনো লাভ হবেনা। নিয়ন্ত্রণই সবকিছু প্রাপ্তির একমাত্র পন্থা। আসলে কোনো মানুষই জন্মের সময় এমন ‘কন্ট্রোল ফ্রিক’ হয়ে জন্মায় না। আরশানের এই অবস্থার মূলে রয়েছে ওর বাবার অতিশাসন দায়ী। আরাফাত সাহেব মানুষ হিসেবে খুবই কড়া ছিলেন। আরশানের ছোটবেলায় কোনো ভুল বা সামান্য বিশৃঙ্খলাও তিনি সহ্য করতেন না। সামান্য একটা খেলনা অগোছালো থাকলে বা হাতের লেখা একটু খারাপ হলে আরশানকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একটা অন্ধকার ছোট ঘরে বন্দি করে রাখা হতো। আরশান যখন আমার কাছে চিকিৎসা নিতে আসা শুরু করলো তখন ওর অবস্থা আরো ভয়াবহ ছিলো। এখন ও অনেকটা ভালো আছে”
ড. জুবায়েরের মুখে আরশানের পূর্বের অবস্থার কথা শুনে রিমির মনটা খারাপ হয়ে গেলো। যেকোনো সমস্যায় তৈরি হওয়ার পেছনে অবশ্যই কারণ থাকে কিন্তু আরশানের ক্ষেত্রে যে এমনকোনো কারণ থাকবে সেটা ও ভাবেনি। ড. জুবায়ের দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন — “আরশানের মতো Extreme OCD পেশেন্টদের কাছে জীবনটা সাধারণ রুটিনে চলে না। উদাহরণ যদি বলি, ও যদি দেখে ওর ড্রয়ারে রাখা রুমালটা এক ইঞ্চি বামে সরে গেছে, ওর মনে হয় ওর পুরো জীবনটা কক্ষপথ থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছে। ও কিসে বিরক্ত হয় তা জানতে চাইলেন তো? ও সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করে Unexpected Changes। ওর অনুমতি ছাড়া ওর ব্যক্তিগত এলাকায় কেউ ঢুকে পড়লে ও সেটাকে খুবই গুরুতর মনে করে”
ওনার কাছ থেকে রিমি আরশানের ওষুধের কথাও জেনেছে, আরো প্রয়োজনীয় যা জানার ছিলো সেগুলোও জেনে নিয়েছে। ওষুধের কথা উঠতেই রিমি খুব সতর্ক গলায় জিজ্ঞেস করল — “এই ওষুধের কোনো সাইড এফেক্ট আছে? কোনো ওষুধের কার্যকারিতা জানতে গেলে তো সেটার বিপরীত দিকটাও জানা দরকার।”
ড. জুবায়ের রিমির বিচক্ষণতা দেখে একটু হাসলেন — “ওর ওষুধগুলো মূলত ওকে শান্ত রাখার জন্য। তবে এগুলোর সাইড এফেক্ট হিসেবে অনেক সময় ও খুব বেশি তন্দ্রাচ্ছন্ন বা ইমোশনালি ডিটাচড হয়ে পড়ে। অনেক সময় ও নিজের অনুভূতির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অস্বাভাবিক শান্ত হয়ে যায়, যা অনেক সময় ওর স্বাভাবিক রাগের চেয়েও বেশি ভয়ের হতে পারে।”
নিজের প্রয়োজনীয় সবকিছু জানা শেষে ড. জুবায়েরের চেম্বারের এসির হাওয়া থেকে বেরিয়ে আসতেই পড়ন্ত বিকেলের প্রখর রোদটা রিমির চোখে বিঁধল। ড. জুবায়েরের প্রতিটি কথা ওর কানে গুনগুন করছে। আরশানের ছোটবেলায় ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা শোনার পর সেই ভাবনা থেকেই করুণ এক দৃশ্য রিমির চোখের সামনে ভেসে উঠল। এক মুহূর্তের জন্য ওর মনে এক প্রবল সহানুভূতির জন্ম নিল। কিন্তু পরক্ষণেই ও নিজের মনকে শক্ত করলো। দুর্বল হলে চলবেনা। সহানুভূতি দেখানো মানেই ওর এই অসুস্থ নিয়ন্ত্রণকে প্রশ্রয় দেওয়া। রিমি যখন বাসায় পৌঁছাল, তখন সদর দরজায় একটা মালবাহী ভ্যান দাঁড়িয়ে আছে। বাসায় ঢুকে আরশানের ঘরের সামনে গিয়ে দেখলো দরজার বাইরে আয়ান দাঁড়িয়ে আছে। দু-তিনজন লোক ঘর থেকে বেরিয়ে আসছে, তাদের হাতে কিছু প্যাকিং টুলস। রিমি ভ্রু কুঁচকে ঘরে পা রাখতেই দেখল আরশানের আলমারির ঠিক উল্টোদিকে একটা বড় চকচকে কাঠের কাবার্ড রাখা হয়েছে। রিমি অবাক হয়ে আয়ানের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল — “ঘরে তো বিশাল আলমারি আছেই, আবার এটা কেন?”
আয়ান একটু ইতস্তত করে বলল — “ভাইয়া এটা অর্ডার করেছিল। আম্মু বলল ভাইয়া নাকি মনে করেছে তোমার জিনিসপত্র রাখার জন্য আলাদা জায়গা দরকার, তাই হয়তো এটা এনেছে।”
রিমি আয়ানের কথা শুনে কোনো উত্তর দিল না ঠিকই তবে একটু অবাক হলো। আরশান আবার ওর এতো চিন্তা কবে থেকে করতে শুরু করলো? সে ধীর পায়ে ঘরের ভেতরে ঢুকল। ঘরের দৃশ্য দেখে ওর মেজাজটা আবারও চড়ে গেল। সকালে ও যে পরম তৃপ্তিতে ঘরটাকে লন্ডভন্ড করে রেখে গিয়েছিল, সেই ঘর এখন আবার সেই আদিভৌতিক জাদুঘরে পরিণত হয়েছে। রিমির চোখ গেল বিছানার ওপর। সেখানে ওর আলমারিতে রাখা সব শাড়ি আর জামাকাপড় অত্যন্ত পরিপাটি করে ভাঁজ করে রাখা হয়েছে। কে এগুলো গুছিয়েছে সেগুলো জানার ইচ্ছে রিমির নেই কিন্তু আরশান যে ওকে তার ব্যক্তিগত আলমারি থেকে একেবারে বের করে দিয়েছে, সেটা বুঝতে ওর আর বাকি রইল না!
____________________________________
রাতে আরশান বাসায় ফিরে নিজের ঘরের সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই ওর কানে ইনায়ার ঘর থেকে আসা রিমির হাসির শব্দ ভেসে এলো। রিমি বাসায় ফিরেছে তবে! ও কোনো কথা না বলে, নিজের ঘরের দরজাটা সজোরে বন্ধ করল। কাঠের দরজার সেই প্রচণ্ড শব্দে পুরো তলাটা যেন কেঁপে উঠল যা শুনে হাসির শব্দটা মুহূর্তেই থেমে গেল। রিমি আর ইনায়া একে অপরের দিকে তাকাল। রিমি বুঝতে পারল আরশান ফিরেছে। ও মনে মনে ঠিক করেই রেখেছিল যে আজ আরশানের এই একতরফা শাসনের জবাব ও দেবে। বিশেষ করে ওই আলাদা কাবার্ড আর ঘর পুনরায় গুছিয়ে দেওয়ার বিষয়টা নিয়ে ওকে আজ ছাড় দেবে না। রিমি ইনায়ার ঘর থেকে বেরিয়ে নিজের ঘরের সামনে এল। দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই আরশান ইতিমধ্যেই ফ্রেশ হতে ঢুকেছে। মিনিট দশেক পর বাথরুমের দরজা খোলার শব্দ হলো। বাথরুমের দরজাটা খোলার সাথে সাথে শাওয়ার জেল আর মিন্টের ঘ্রাণ রিমির নাকে এসে লাগল। আরশান বেরিয়ে আসতেই রিমি নিজের সবটুকু তেজ জড়ো করে ঘুরে দাঁড়াল। কিন্তু সামনের দৃশ্যটা দেখার জন্য ও মোটেও প্রস্তুত ছিল না। আরশানের ভেজা চুলগুলো কপালে অগোছালো হয়ে লেপ্টে আছে, যেখান থেকে দু-এক ফোঁটা জল চিবুক বেয়ে নিচে গড়িয়ে পড়ছে। পরনে কেবল কালো রঙের একটা ট্রাউজার, উন্মুক্ত সুগঠিত প্রশস্ত বুক আর কাঁধের পেশিগুলো থেকে নজর এড়ানো যেনো দায় হয়ে দাঁড়ালো! আরশানকে যে এই লুকে এতটা ডেডলি হ্যান্ডসাম লাগতে পারে, সেটা রিমির কল্পনাতেও ছিল না। রিমির চোখের পলক যেন স্থির হয়ে গেল। ও পাথরের ন্যায় এমনভাবে দাঁড়িয়ে রইলো যেন কোনো এক দক্ষ ভাস্করের নিঁখুত কারুকাজ দেখছে।আরশান তোয়ালে দিয়ে চুল মুছতে মুছতে বাঁকা চোখে রিমির থমকে যাওয়া চেহারাটা লক্ষ্য করল। ওর ঠোঁটের কোণে সেই পরিচিত বিদ্রূপাত্মক আর নেশাতুর হাসিটা ফুটে উঠল। সে ধীর পায়ে রিমির একদম কাছে এগিয়ে এল। রিমির খুব কাছাকাছি ঝুঁকে এসে, নিচু গলায় ফিসফিস করে বলল…
“Am I that hard to look away from?”
আরশানের গলার সেই গম্ভীর স্বরে রিমির সম্বিত ফিরতেই মুহূর্তেই লজ্জায় লাল হয়ে গেল। ও দ্রুত নিজের মাথা ঝাঁকাল, মনে মনে নিজেকেই শাসন করে বলল — “রিমি! তুই কী ভাবছিস এসব? তুই তো এখানে ওনার থেকে কৈফিয়ত নিতে এসেছিস, আর এখন কি না ওনার দিকে তাকিয়ে হাঁ করে আছিস!”
রিমি নিজেকে শান্ত করে রাগে গলার স্বর কিছুটা সপ্তমে চড়িয়ে বলল — “এই ঘর আপনি আবার আগের মতো করেছেন? আমি যেভাবে রেখেছিলাম, সেভাবে থাকলেই কি আপনার খুব অসুবিধা হয়ে যেত?”
রিমির রাগ এবার সপ্তমে চড়ল। “অবশ্যই আপত্তি আছে! আমি ঘরটা এভাবেই রাখতে চেয়েছিলাম। আর এই আলাদা কাবার্ড কেন আনা হয়েছে? ঘরে আলমারি থাকতেও আলাদা করে এটা আনানোর মানেটা কী?”
আরশান এবার পুরোপুরি রিমির মুখোমুখি হয়ে দাঁড়িয়ে খুব স্পষ্ট স্বরে জবাব দিল — “আগেই বলেছিলাম ঘরটা গুছিয়ে দিতে কিন্তু তুমি পাত্তা দাওনি। এখন থেকে এই কাবার্ডে তুমি নিজের জিনিস রাখবে”
রিমি কিছু বলতে চাইছিলো তার আগেই আরশান বলে দিলো — “I don’t like my things to be mixed up with others”
Others শব্দটা রিমির কানে অপমানের মতো শোনাল। রিমি এক পা এগিয়ে এসে অবিশ্বাসের সুরে জিজ্ঞেস করলো — “অন্য কেউ? আপনি আমাকে বিয়ে করে এখানে এনেছেন, ওহ না আমাকে এখানে আসতে বাধ্য করেছেন। এই ঘরে আপনার যতটুকু অধিকার, আইনত আমারও ততটুকুই হওয়া উচিত তাইনা? সেখানে আপনি আমাকে অন্য কেউ বলে দাগিয়ে দিচ্ছেন?”
আরশান যেনো ওর প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার কোনো প্রয়োজনই বোধ করলো না, তখনই হুট করে রিমি বলে বসলো — “আপনি তো অপছন্দের কিছু ভুলেও নিজের আশেপাশে রাখেন না তাইনা আরশান? আপনার আমার জিনিস পছন্দ না হলে তো আমাকেও পছন্দ হওয়ার কথা না”
এ কথা শোনামাত্র আরশানের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল। ও এক ঝটকায় রিমির এক বাহু চেপে ধরে নিজের দিকে টেনে নিল। আরশানের আঙ্গুলের চাপ এতটাই প্রবল ছিল যে রিমি ব্যথায় কুঁকড়ে গেল। আরশান রিমির চোখের গভীরে নিজের র’ক্তিম চোখ জোড়া নিবদ্ধ করে দাঁতে দাঁত চেপে বলল — “Don’t try to test my temper, Rimi!”
রিমি কিন্তু এবার দমে গেল না। ও আরশানের চোখের দিকে সোজাসুজি তাকিয়ে বললো — “রাগ করার অধিকার কি শুধু আপনার একারই আছে? আপনি আমাকে মানুষ বলে মনে করেন বলে তো মনে হয় না? আমার কোনো অনুভূতি নেই?”
আরশানের রাগ হচ্ছিল অনেক, মেয়েটা এসব বলে ঠিক কি করতে চাইছে ও জানেনা। রিমি ভেবেছিল আরশান হয়তো আরো ক্রোধিত হবে কিন্তু তেমন কিছু হলো না! উল্টে সে বললো — “Fine! Be as angry as you want. চিৎকার করো, ঘৃণা করো, যা খুশি করো। কিন্তু আমার চোখের সামনে থেকে তুমি এক ইঞ্চি নড়ার অনুমতিও পাবে না। You are bound to stay right where I can see you, alway”
রিমি এ কথা শুনে স্তম্ভিত হয়ে লোকটার দিকে তাকিয়ে রইল। আরশানের এই অদ্ভুত আচরণ কখনও তীব্র আকর্ষণ, কখনও ভয়ংকর শাসন রিমিকে ক্রমশ এক গোলকধাঁধায় ফেলে দিচ্ছে। ও বুঝতে পারছে না, আরশান ওকে নিজের দখলে রাখতে চায় নাকি আগলে রাখতে চায়?
চলবে…
আগের পর্বের লিংক: https://www.facebook.com/share/18EuQnZySh/?mibextid=oFDknk

