মন_হারালো_বেঘোরে #লেখনীতে_মেহেরীন #পর্ব_৪০

0
22

#মন_হারালো_বেঘোরে
#লেখনীতে_মেহেরীন
#পর্ব_৪০

ইদানীং রিমির জীবনটা যেন এক সূক্ষ্ম ঘড়ির কাঁটায় বন্দি হয়ে গেছে। শরীরের হিমোগ্লোবিন কম আর প্রবল দুর্বলতার অজুহাতে আরশান ওকে একপ্রকার গৃহবন্দিই করে ফেলেছে। খুব গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস না থাকলে ওর ভার্সিটি যাওয়া এখন পুরোপুরি নিষেধ। আরশান এই ব্যাপারে কোনো তর্কে যেতে রাজি নয়। এমনকি অফিসের শত ব্যস্ততা ঠেলে ও প্রতিদিন দুপুরে বাসায় আসে শুধু একটা কারণে, রিমিকে নিজের সামনে বসিয়ে খাওয়ানোর জন্য। ওর ডায়েট চার্টে কী থাকবে, তা আরশান নিজে সুরভী বেগমকে বুঝিয়ে দিয়ে যায়। সেদিন দুপুরেও রোজকার মতো আরশান এসেছে বাসায়, প্লেটে খাবারও সাজিয়ে দিয়ে গেছে সুরভী বেগম। কিন্তু রিমি প্লেটের ভাতগুলো আঙুল দিয়ে নাড়াচাড়া করছিল। কয়েক লোকমা খাওয়ার পর ওর ভেতরে এক ধরণের অরুচি কাজ করতে শুরু করল। ও আড়চোখে আরশানের দিকে তাকালো। আরশান খুব নিবিষ্ট মনে নিজের খাবার খাচ্ছে, কিন্তু ওর পুরো মনোযোগ যে রিমির প্লেটের দিকে, তা বুঝতে বাকি নেই। রিমি একটু সাহস সঞ্চয় করে বলল…

“আরশান, আপনি প্রতিদিন শুধু শুধু কষ্ট করে অফিস থেকে কেন ছুটে আসেন? একটা ফোন করে খবর নিলেই তো হয় আমি খেয়েছি কি না।”

আরশান কোনো উত্তর দিল না। রিমির মনে হলো এটাই মোক্ষম সুযোগ। ও ভাবল কথার ফাঁকে আরশানের মন ঘুরিয়ে দিয়ে প্লেটটা সরিয়ে উঠে পড়বে। ও আবার বলল — “শুনুন, কাল থেকে আপনার আর কষ্ট করে আসার দরকার নেই। আমি কথা দিচ্ছি, আমি ঠিকঠাক খেয়ে আপনাকে ফোন করে জানিয়ে দেব।”

কথাটা শেষ করেই রিমি হাত ধোয়ার জন্য চেয়ার ছেড়ে ওঠার উপক্রম করতেই আরশানের গম্ভীর কণ্ঠস্বর পুরো ঘরে প্রতিধ্বনিত হলো!

“চুপচাপ নিজের জায়গায় বসো রিমি! আমার সামনে বসে এভাবে ফাঁকিবাজি করার সাহস কোত্থেকে পাও তুমি? আমি না আসলে তো তুমি না খেয়েই বলবে যে তোমার ভুরিভোজ হয়েছে। পুরোটা শেষ করো, এক দানা যেন প্লেটে পড়ে না থাকে!”

আরশানের হঠাৎ এই ধমকে রিমি কেঁপে উঠল। ও মুখ গোমড়া করে আবার বসে পড়ল।

“আমার একদম খেতে ভালো লাগছে না আরশান। দেখুন না, অর্ধেকের বেশি তো খেয়েছি। বাকিটা না হয় পরে খাব?”

“এখুনি খাবে! বসো!”

আরশানের সেই রাগী চোখের দিকে তাকিয়ে রিমি ঠোঁট উল্টে বসে পড়ল। অরুচিতে মুখটা তিতো হয়ে আছে, তবুও আরশানের ধমকের ভয়ে চোখ বুজে জোর করে শেষ কয়েকটা লোকমা গিলে নিল ও। ওর চোখে তখন পানি টলমল করছে। খাওয়া শেষ করে ও যখন একরাশ অভিমান নিয়ে চেয়ার ছেড়ে উঠতে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই আরশানের কণ্ঠস্বরটা অদ্ভুতভাবে নরম হয়ে এল।আরশান গ্লাসে পানি খেতে খেতে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলল….

“বেডরুমের ড্রয়ারে তোমার জন্য দুই প্যাকেট টক আর মিষ্টি চকলেট এনে রাখা আছে। but don’t eat more than two at a time”

মুহূর্তের মধ্যে রিমির মেঘলা মুখে রোদের ঝিলিক খেলে গেল। ওর অভিমান যেন কর্পূরের মতো উড়ে গেল। ও বিস্ময়ে চোখ বড় বড় করে বলল — “চকলেট! কখন আনলেন? আরে, আগে বলবেন তো! আমার চকলেট খাওয়ার ক্রেভিং হচ্ছিলো!”

রিমি উত্তেজনায় চেয়ার ছেড়ে উঠে প্রায় দৌড়ে আরশানের কাছে গেল। ও এক হাত দিয়ে আরশানের গলা জড়িয়ে ধরে আদুরে গলায় বলে উঠল — “থ্যাংক ইউউউ! আপনি আসলেই অনেক ভালো!”

রিমি যেভাবে বাঁকা হয়ে আরশানকে জড়িয়ে ধরে লাফালাফি শুরু করল, তাতে আরশান এবার আঁতকে উঠল। ও তৎক্ষণাৎ রিমির হাতটা নিজের গলা থেকে সরিয়ে ওকে সোজা করে দাঁড় করাল। আরশানের চোখেমুখে এক ধরণের তীব্র উদ্বেগ ফুটে উঠল

“Be careful, Rimi! ভুলেই গেছ তুমি এখন কোন অবস্থায় আছ? এভাবে কথায় কথায় উত্তেজিত হয়ে যাওয়া বা এমন নড়াচড়া করা তোমার জন্য ঠিক না। এখন থেকে প্রতিটা পদক্ষেপে তোমাকে সাবধান হতে হবে। ভুলে যেও না তুমি শুধু এক নও, তোমার ভেতরে আরও একজন আছে।”

আরশানের কথা শুনে রিমির হাসিমাখা মুখটা আবার একটু থমকে গেল ঠিকই, কিন্তু ও মনে মনে হাসল। ও বুঝতে পারল, এই কঠোর মানুষটার ওপরের খোলসটা যতটা রুক্ষ, ভেতরে ওর জন্য জমে থাকা দুশ্চিন্তার পাহাড়টা ততটাই বিশাল। রিমি ধীর পায়ে ঘরের দিকে পা বাড়াল চকলেটের লোভে, আর আরশান পেছনে তাকিয়ে এক দীর্ঘশ্বাস ফেলল। ও জানে, আগামী কয়েক মাস ওর এই ‘বাচ্চা’ বউটাকে সামলাতে ওর ধৈর্য আর উদ্বেগের এক চরম পরীক্ষা হতে চলেছে।
___________________________________

ছুটির দিনের এক পড়ন্ত বিকেলে ইনায়া আর তানভীর ঘুরতে বেরিয়েছিলো। গত কয়েক মাসে ওদের সম্পর্কের সমীকরণটা বেশ সাবলীল হয়েছে। তানভীর মানুষ হিসেবে বেশ মিশুক। একে অপরকে জানা, ভালো লাগা আর মন্দ লাগাগুলো ভাগ করে নেওয়ার এই সফরটা ইনায়ার কাছে বড্ড শান্তিময় মনে হয়। ঘুরে বেড়ানোর এক পর্যায়ে তানভীরের এক পুরনো কলিগের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। ভদ্রলোক বেশ হাসিখুশি। তানভীরের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের ফাঁকেই ওনার নজর পড়ল পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ইনায়ার দিকে। কৌতূহলী চোখে তাকিয়ে তিনি জিজ্ঞেস করলেন — “আরে তানভীর, সাথে এটি কে?”

তানভীর এক মুহূর্তও সময় নিল না। ওর চেহারায় কোনো দ্বিধা বা জড়তা ফুটে উঠল না। খুব স্বাভাবিক কণ্ঠে ও উত্তর দিল — “Meet Inaya. My fiancee.”

কথাটা শুনে ইনায়ার বুকটা যেন এক পলকের জন্য ধক করে উঠল। ও বিস্ময়ে চোখ বড় বড় করে তানভীরের দিকে তাকালো। ইনায়া নিজেই তো এক সময় বিয়ের কথা উঠলে পিছিয়ে যেত, সময় চাইত। কিন্তু তানভীর যে মনে মনে ওকে নিজের ‘বাগদত্তা’ হিসেবে পাকাপাকিভাবে জায়গা দিয়ে দিয়েছে, এটা ও কল্পনাও করেনি। জনসমক্ষে তানভীরের এই অকপট স্বীকারোক্তি ইনায়ার ভেতরে এক অদ্ভুত ভালো লাগার রেশ তৈরি করল। ছেলেটা সত্যিই অনেক ম্যাচিউর। ও জানে কী চায় এবং সেটা প্রকাশ করতেও ও দ্বিধাবোধ করে না। কলিগ বিদায় নেওয়ার পর ওরা একটা নিরিবিলি রেস্টুরেন্টে ডিনার করতে ঢুকল। বাইরে হালকা বৃষ্টি শুরু হয়েছে। রেস্টুরেন্টের মৃদু আলোয় তানভীরের শান্ত মুখটার দিকে তাকিয়ে ইনায়ার মনে হলো জীবনটা তো আসলে এমনই হওয়া উচিত। চার-পাঁচ মাসের এই পরিচয়ে ও বুঝেছে, তানভীর এমন একজন মানুষ যার ওপর নির্দ্বিধায় ভরসা করা যায়। এমন একজনকে হাতছাড়া করা বোকামি ছাড়া আর কিছু নয়। তানভীর তখন খুব মনোযোগ দিয়ে স্যুপে চুমুক দিচ্ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে ইনায়া টেবিলের ওপর হাত রেখে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলে উঠল — “আচ্ছা তানভীর, আমাদের এই আংটি বদল, এনগেজমেন্ট এসব আনুষ্ঠানিকতা বাদ দিয়ে যদি সোজা বিয়েটা করে ফেলি, তবে কেমন হয়?”

কথাটা শোনা মাত্রই তানভীর বিষম খেলো! ওর গলার কাছে স্যুপ আটকে গিয়ে এক ভয়াবহ কাশির উদ্রেক হলো। বেচারা কোনোমতে টিস্যু দিয়ে মুখ চেপে ধরে কাশতে কাশতে লাল হয়ে গেল। ইনায়া তাড়াতাড়ি পানির গ্লাসটা বাড়িয়ে দিলো। তানভীর একটু ধাতস্থ হয়ে অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে ইনায়ার দিকে তাকালো। ওর চোখেমুখে বিস্ময় আর আনন্দ মিলেমিশে একাকার। ও রুমাল দিয়ে মুখ মুছে ফ্যাসফ্যাসে গলায় বলল — “তুমি… তুমি কি মজা করছ ইনায়া? যে মেয়ে বিয়ের জন্যে অন্তত এক বছর সময় চেয়েছিলো শুনলে সে আজ ডিরেক্ট বিয়ের প্রস্তাব দিচ্ছে?”

“হ্যাঁ, ওই আর কি। একটু ভেবে দেখলাম আপনার মতো একজনকে বেশিদিন অপেক্ষায় রাখা ঠিক হবে না।”

তানভীর এক মুহূর্ত নিস্তব্ধ হয়ে রিমির বান্ধবীর এই নতুন রূপটা দেখল। ও মৃদু হেসে ইনায়ার হাতের ওপর নিজের হাতটা রাখল। “আমি প্রস্তুত ইনায়া। তুমি যখন বলবে, তখনই আমি রাজি। তবে এভাবে হুটহাট সারপ্রাইজ দিয়ে আমার হার্ট অ্যাটাক করালে বিয়ের পিঁড়িতে বসার জন্য আমি আস্ত থাকব কি না, সেটা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে!”

দুজনের মধ্যে সম্পর্কের গতি খুব সুন্দরভাবে এগোচ্ছিল, দুজনের মতেরও মিল ছিলো তাই ওরা যখন বাসায় বিষয়টা জানালো তখন বাসার সবাই খুশি হলো কিন্তু এত তাড়াহুড়ো করে বিয়েটা দিতে চায়নি। বাসার একমাত্র মেয়ে বলে কথা, পরে সকলের সম্মতি নিয়ে আগে বাগদানের অনুষ্ঠানই বেশ ঘটা করে সম্পন্ন করা হয়!
_____________________________________

রিমির প্রেগন্যান্সির সাত মাস চলছে। ইদানীং ওর মধ্যে এক অদ্ভুত পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। আগে যে মেয়েটা মানুষের ভীড় ভীষণ পছন্দ করতো, সে এখন নিজের চারপাশটা একদম ফাঁকা রাখতে চায়। কোনো মানুষ, কোনো আলাপচারিতা এমনকি চিরচেনা হাসাহাসিও ওর সহ্য হচ্ছে না। এক অদ্ভুত নির্জনতা ওকে গ্রাস করেছে। এমনকি আরশানের উপস্থিতিও এখন ওকে ভীষণভাবে বিরক্ত করছে। বিষয়টা নিয়ে বাড়ির সবাই বেশ চিন্তিত। বিশেষ করে আরশানের অস্থিরতা সবার নজর কেড়েছে। ড্রয়িং রুমে আজ এক ঘরোয়া সভা বসেছে। সুরভী বেগম খুব শান্ত গলায় আরশান, ইনায়া আর আয়ানকে বুঝিয়ে বলছেন।

সুরভী বেগম একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন…

“দেখ আরশান, এই সময় মেয়েদের শরীরে অনেক ধরণের হরমোনাল চেঞ্জ হয়। প্রেগন্যান্সি হরমোনের ওঠানামার কারণে ওদের মনের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকে না। রিমি এখন যেভাবে থাকতে চায়, ওকে সেভাবেই থাকতে দে। কেউ ওকে জোর করবি না, বিরক্ত করবি না। ওর এখন মুড সুইং হওয়াটা খুব স্বাভাবিক।”

বাকিরা চুপ থাকলেও আরশান যেন ফেটে পড়ল। ওর চেহারায় হতাশা আর বিরক্তি স্পষ্ট। ও নাক ফুলিয়ে গজগজ করতে করতে বলে উঠল…

“What type of stupid hormone is this,! I’m her husband, for God’s sake! আর ও কি না আমাকেই সহ্য করতে পারছে না? আমি ঘরে ঢুকলেই ও মুখ ঘুরিয়ে নিচ্ছে, কথা বলতে গেলে বলছে একা থাকতে দিন। এটা কি কোনো স্বাভাবিক আচরণ? আমি তো ওর কোনো ক্ষতি করছি না, শুধু ওর যত্ন নিতে চাইছি!”

সুরভী বেগম ছেলের কাঁধে হাত রেখে নরম গলায় বললেন — “সবকিছুতে তোর ওই অফিসের রাগ খাটবে না রে বাবা। এটা রিমি ইচ্ছা করে করছে না, ওর শরীর আর মন ওকে দিয়ে এই আচরণ করাচ্ছে। এই সময়টা খুব সেনসিটিভ। তুই ধৈর্য ধর, কিছুদিন পরেই সব ঠিক হয়ে যাবে। দেখবি ও নিজেই আবার তোর কাছে আসবে।”

ইনায়া পাশে বসে সোফায় হেলান দিয়ে ছিল। ও একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আরশানের দিকে তাকিয়ে বলল — “ভাইয়া, তোর রাগটা আমি বুঝতে পারছি। আমি ওর জানের বান্ধবী, অথচ কাল ওর কাছে যেতেই ও বলল ওর নাকি এখন কারো সাথে কথা বলতেই ভালো লাগছে না! এমনকি আমার সাথেও না। সেখানে ও তোকেও ইগনোর করছে দেখে আমি একদম অবাক হচ্ছি না। Seriously, pregnancy is really scary! শরীরের সাথে সাথে মানুষের মনটাও কেমন বদলে যায়।”

ইনায়ার কথা শুনে সুরভী বেগম চোখ রাঙিয়ে তাকালেন।

“আহা! এই সব কথা আবার গিয়ে রিমির সামনে বলিস না যেন। এমনিতেই ওর মন মেজাজ খারাপ থাকে, এসব শুনলে ও আরও নিজেকে গুটিয়ে নেবে”

আরশান সবটা মনোযোগ দিয়ে শুনলো কিন্তু কোনো উত্তর দিল না। ও গুম হয়ে জানালার বাইরের অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে রইল। ওর মতো একজন মানুষের জন্য এটা মানা খুব কঠিন যে, ওর নিজের স্ত্রী যাকে ও চোখের আড়াল করতে চায় না সেই স্ত্রীই ওর উপস্থিতি সহ্য করতে পারছেনা! ও গটগট করে নিজের ঘরের দিকে পা বাড়াল। দরজার সামনে গিয়ে একটু থামল ও। রিমি বড় আয়নাটার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। ঘরটা হালকা নীল আলোয় ঢাকা। রিমি খুব ধীরলয়ে নিজের শরীরের ওপর চোখ বোলাচ্ছে। সাত মাসের স্ফীত পেটটা ও একবার বামে, একবার ডানে ঘুরে দেখার চেষ্টা করল। রিমির ফর্সা মুখটা এখন আগের চেয়েও বেশি মায়াবী হয়ে উঠেছে, কিন্তু সেই মুখটা হুট করেই কেমন যেন কুঁচকে গেল। আরশান চমকে উঠল যখন দেখল রিমি নাক টানতে শুরু করেছে। আরশানের বুকটা ধক করে উঠল। ও কি ভেতরে যাবে? রিমির কান্নার শব্দটা এই নিঃশব্দ ঘরে আরশানের হৃদপিণ্ডে হাতুড়ির মতো আঘাত করছিল। আরশান এক পা এগোতে গিয়েও থমকে গেল রিমি কি তবে নিজের এই বদলে যাওয়া শরীর দেখে কষ্ট পাচ্ছে? নাকি ও মানসিকভাবে কোনো যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে? কিন্তু পরের মুহূর্তেই যা ঘটল, তাতে আরশান পাথরের মতো স্থির হয়ে গেল। কান্না করতে করতেই রিমি হুট করে ফিক করে হেসে দিল। হাসতে হাসতেই ও নিজের দুই হাত শক্ত করে পেটের ওপর চেপে ধরল। ওর চোখে জল আর ঠোঁটে সেই মায়াবী হাসি, যেন বিষাদের মেঘ সরিয়ে হুট করে এক ঝলক রোদ্দুর খেলে গেল।

রিমি নিচু স্বরে অস্ফুটভাবে বলল — “এত জোর! একটু আস্তে আস্তে দে বাবা, ব্যথা লাগে তো”

আরশান দরজার আড়াল থেকে পুরো দৃশ্যটা দেখছিল। ওর তীক্ষ্ণ বুদ্ধিতে আর বুঝতে বাকি রইল না যে ভেতরে ঠিক কী ঘটছে। নিশ্চয়ই ভেতরের ছোট্ট প্রাণটি তার অস্তিত্বের জানান দিচ্ছে! রিমির উদরে প্রথমবার যখন বেবি কিক করল, সেই অনুভূতিটা বোধহয় রিমি সামলাতে পারল না। ব্যথায় বা অবাক হওয়ার ধাক্কায় ও কেঁদে ফেলেছিল, কিন্তু প্রাণের ছোঁয়ায় পরক্ষণেই সেই কান্না পরম সুখে রূপ নিয়েছে। রিমির এই অদ্ভুত কাণ্ড দেখে আরশানের সব রাগ, বিরক্তি আর ক্লান্তি যেন মুহূর্তেই ধুলোয় মিশে গেল। ওর ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠল যেটা ও নিজেও বুঝতে পারল না। আরশানের মনে হলো, এই দৃশ্যটা পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর কোনো ফ্রেমবন্দি করার মতো দৃশ্য!

চলবে…

আগের পর্বের লিংক: https://www.facebook.com/share/p/1CzKGUxTfX/?mibextid=oFDknk

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here