#প্রভামঞ্জরী
#নওরোজ_মীম
পর্বঃ ২৭
(ইহা একটা অত্যাধিক রোম্যান্টিক পর্ব। কত প্লাস দেওয়া উচিত আপনারাই পড়ে ঠিক করেন আমার লজ্জা করে।)
_______________________________
~আমাকে এভাবে বিয়ে করলেন কেন?
হুট করেই নিজের করা এমন প্রশ্নে ফুরফুরে মেজাজে থাকা অনিলের চেহারার রঙ বদল নিজ দুই চোখে দেখলো মীম
~আপনার অমতে তো করি নি। তবে?
~মত, অমতের পরিস্থিতি তখন ছিলো না। আর না আমি যা হয়ে গিয়েছে তার ব্যাপারে কথা বলছি। আমি শুধু কারণ জানতে চাইছি।
~আপনার কি আপত্তি আছে আমাকে নিজের স্বামী হিসেবে মেনে নিতে?
~দেখুন অনিল আমি বেশ কিছু বছর ধরে ডিফেন্স রিলেটেড যেকোনো কিছু প্রচন্ড অপছন্দ করি। আপনি ও ডিফেন্সের একজন। আমার জন্য সবকিছু স্বাভাবিক ভাবে মেনে নেয়া সহজ নয়।
অনিলের বুকের মধ্যে অদ্ভুত ব্যথা শুরু হলো। যে ব্যথার নাম তার অজানা। তবে কি মেয়েটা তাকে মেনে নেয়নি? তবে কি এতো এতো কিছু করে সে যে মেয়েটাকে বিয়ে করলো তা বিফলে গেল?
কিন্তু তার ভাবনার মধ্যেই মীমের পরের কথায় মন, মেজাজ দুটোই শিথিল হলো তার।
~তবে আমি ছোটবেলা থেকেই খুব একটা নাটুকে নই। আর সম্পর্কের মূল্য রয়েছে আমার কাছে। আম্মু আর দাদিন কে দেখেছি তারা বিয়ে বা স্বামীকে কিভাবে মান্য করতো। আমার আম্মু দাদিনের শিক্ষায় প্রশ্ন উঠবে এমন কিছু আমি জীবন থাকতে করবো না। এই হুট করে হয়ে যাওয়া বিয়ে আর আপনি সহ আপনার সবকিছু আমি কবুল বলার সাথে সাথেই আমার করে নিয়েছি। নিজের নাম যখন স্বেচ্ছায় আপনার নামের সাথে জুড়েছি তখন মাশফিয়া মীম আমৃত্যু আপনার থাকবে।
দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে আবারও সে বলে,
~কিন্তু আমার অতীত জানলে হয়তো আপনার আমাকে স্ত্রী হিসেবে মানতে সমস্যা হবে। খুব একটা সুখকর অতীত নয় আমার। এক্ষেত্রে আমি অবশ্য আপনাকে দোষ দিতে পারবো না কোনদিন কারণ আপনি কেন কোন পুরুষই আমার মতো জঘন্য দুর্বিষহ অতীতের কোন মেয়েকে স্ত্রী হিসেবে মেনে নিতে পারবে না।
অনিলের জানা নেই মীমের সাথে ঘটে যাওয়া কালো অধ্যায়। সে কখনো জানার চেষ্টাও করেনি। আর না সে জানতে ইচ্ছুক। যেমন তাদের বিয়ের আগে মীমের বাবা অনিলকে কিছু কজানাতে চাইলেই সে মানা করে বলেছিল সে জানতে ইচ্ছুক নয়। কি দরকার পুরনো ক্ষত লবণ ছিটিয়ে তাজা করার?
কিন্তু যদি কখনো মেয়েটা তাকে শেয়ার করতে চায় নিজ মন থেকে তখন সে মানাও করবে না। তাকে বিশ্বাস করুক মেয়েটা।
~আমি জানতে ইচ্ছুক নই আপনার ফেলে আসা কালো অধ্যায় সম্পর্কে ম্যাডাম। যেমনই হোক আপনার অতীত তা নিয়ে আপনার স্বামীর কোনো মাথা ব্যথা নেই। কিন্তু আপনার স্বামী আপনাকে কথা দিচ্ছে তার জীবদ্দশায় অতীতের কোন ঘটনা আপনার সাথে আর কখনো ঘটবে না।
এতক্ষণ নিচের দিকে তাকিয়ে কথা বললেও এই পর্যায়ে অনিলের ডার্ক ব্রাউন চোখের দিকে দৃষ্টিপাত করে তার কুচকুচে কালো চোখের সাহায্যে। লোকটাকে তার বিশ্বাস করতে বড্ড ইচ্ছে করছে। কিন্তু সঠিক সময় আসেনি তাই চুপচাপ থাকে। দুজনেই দুজনের চোখের দিকে দেখছে অপলক। অনিল তার ডান হাতের সাহায্যে ইশারায় কাছে ডাকে। ধুকপুক ধুকপুক বুকে হেঁটে এগিয়ে অনিলের কাছে তার পাশে যেমে মীম বসতেই অনিল তার হাত মুঠোয় নিয়ে হাতে চুমু খেতে যাবে তখনই মীম বিস্ফোরক একটা বাক্য বলে। আর তাতেই বাকরুদ্ধ হয়ে বসে আছে অনিল।
~যদি কখনো জানতে পারেন আপনার স্ত্রী একজন ধর্ষিতা তখনও কি আজকের মতো এভাবে ভাবতে পারবেন মেজর? নাকি তখনও আমাকে পূর্ণ মর্যাদার চোখে দেখতে পারবেন? ঘৃণা করবে না আমাকে ছুয়ে দিতে?
প্রথম কথায় স্তব্ধ হয়ে গেলেও পরের কথায় চোয়াল শক্ত করে কটমট করে তাকিয়ে আছে মীমের দিকে। মেয়েটাকে শক্ত চোখে নজর বন্দী করে রেখেছে। ওভাবেই চোখে চোখ রেখেই যে হাতে চুমু খেতে নিচ্ছিলো অনিল সে হাত ছেড়ে দেয়। তাচ্ছিল্য হাসে মীম। সে যেন জানতো এমনই হবে। তাই কিছু বলতে নিলেই অনিল তার লম্বা হাতে মীমের গলার পিছনে ধরে তার দিকে টেনে নিয়ে আগাম বার্তা ছাড়াই ঠোঁটে ঠোঁট মিলিয়ে দেয়। নিজের খারাপ হওয়া মেজাজের প্রতিফলন ঘটায় সদ্য বিবাহিতা স্ত্রীর ঠোঁটে। মীমের আত্মা তার শরীর থেকে যেন বিদায় নিয়েছে। নড়নচড়ন বন্ধ তার। বৈদ্যুতিক ঝটকা খাওয়ার মতো থরথর করে কেঁপে ওঠে সে। তার কাঁপন বুঝতে পেরে তাকে আষ্টেপৃষ্টে নিজের বন্ধনে আবদ্ধ করে অনিল।
নিজ মুখে র*ক্তের স্বাদ পেতেই হুশ ফেরে অনিলের। ছেড়ে দেয় মীমের ঠোঁট। কিন্তু তাকে ছাড়ে না। মুখটা একটু আলাদা করে উজ্জ্বল শ্যামলা মেয়েলী মুখের দিকে চেয়ে থাকে সে। মীমের নিচের ঠোঁট কেঁটে র*ক্ত বের হচ্ছে এখনো। অনিল ওভাবেই নিজ ঠোঁট দ্বারা আবারও ছুয়ে দিলো র*ক্তাত্ব সে ঠোঁট। সেই বেয়ে চলা র*ক্ত নিজ ঠোঁট দিয়ে মুছে দিয়ে একটা আলতো চুমু খায় শব্দ করে। তারপর মীমকে ছেড়ে বালিশে মাথা এলিয়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করে।
মীম এখনো সম্পূর্ণ অসাড় হয়ে বসে আছে। অনিল চোখ মেলে স্ত্রীর পানে চেয়ে বোঝে তার বিমূঢ়তা। কিঞ্চিৎ হেসে ডান হাতে স্ত্রীর ডান গাল স্পর্শ করে বলে,
~আপনার অনুমতি বিহীন আপনাকে স্পর্শ করার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা আমার ছিল না। কিন্তু আপনার কথায় মাথা ঠিক রাখতে পারিনি বিশ্বাস করুন। ক্ষমা করা যায় না মাই হাইনেস?
হুশ ফেরে মীমের। সে অনিলের দিকে তাকায়।
~আগেই বলেছি আমি খুব একটা নাটুকে স্বভাবের নই। আমি জানি আপনার আমার সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিৎ। আর আপনার কি কি পাওনা আমার থেকে। বিয়ে যখন হয়েছে তখন আমার উপর পুরো অধিকার আছে আপনার। শুধু কি*স কেন এরচেয়ে বেশি কিছু চাইলেও আপনাকে না করার অনুমতি ইসলাম আমাকে দেয়নি। তবে আমি প্রস্তুত ছিলাম না তাই একটু অবাক হয়েছি। তাছাড়া পুরনো কিছু ক্ষত ভুলতে পারিনি আজও তাই….
এনিওয়ে আমার থেকে অনুমতি নিতে হবে না আপনাকে। আপনায় আমি এখনই আজীবনের অনুমতি দিচ্ছি। আপনি আপনার মর্জি মতোই আমার কাছে আসতে পারেন অনিল।
অনিলের মনে শান্তির হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। যে তো মেয়েটাকে স্বাভাবিক করতে চাইছে। কিন্তু তার বউ তো একটা রেডিমেড বউ। ইশশ তার বউ ভাগ্য এতটা সুপ্রসন্ন হবে তা সে ভাবতেও পারেনি।
~আমাকে বিয়ে করার কারণ কি মেজর?
নিজের মনের বসন্ত বিলাস পাশে সরিয়ে মীমের দিকে তাকায় অনিল। মীম আবারও বলে,
~ভালোবাসেন আমাকে?
অনিল কি বলবে বুঝে উঠতে পারছে না। তার কি বলা উচিৎ তাও মাথায় আসে না তার। চুপচাপ চেয়েই রয়। তারপর বাইরে থেকে লোকজনের পায়ের আওয়াজ পেতেই অনিল বলে,
~বাসায় জান মাই হাইনেস। আপনার ফ্রেশ হওয়া প্রয়োজন। রেস্ট করাও প্রয়োজন। এখন বাসায় যেতে হবে। আমি সুস্থ হলে আপনাকে আমার কাছে নিয়ে আসবো।
মীমের মানস্পটে তনিমার মুখটা ভেসে ওঠে। সে চট করেই অনিলের খুব কাছে চলে যেয়ে ঝুঁকে পড়ে অনিলের মুখের উপর। ঢোক গিলছে অনিল। মেয়েটা যে বিপজ্জনক হয়ে যাচ্ছে তার জন্য। এতো কাছে যাওয়ার কি দরকার বুঝলো না অনিল। তাদের দুজনের মধ্যে দুই ইঞ্চিও দূরত্ব নেই। মেয়েটা কি বোঝে না সে কাছে থাকলে অনিল এই দুই ইঞ্চির দূরত্ব ও আর সহ্য করতে পারছে না। কিন্তু তার ভাবনার জগতে এক বালতি পানি ফেলে মীম বলে,
~আমি সব সহ্য করে নেবো মেজর। কিন্তু আমাকে ঠকালে আমি সহ্য করবো না। আমি ব্যতীত অন্য কোনো মেয়ের সান্নিধ্য চাইলে আমাকে হারাবেন। জানিনা তাতে আপনার কিছু যাবে আসবে কি না আদৌও। কিন্তু আমি হারিয়ে যাবো আপনার ধরাছোঁয়ার বাইরে। আর মাশফিয়া মীমের দূরত্ব বাড়ানোর গল্প আপনি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হামিদুর রহমানের থেকে জেনে নিয়েন।
একথা বলেই বিস্মিত মেজজের কপালে নিজের ঠোঁট ছুইয়ে দিয়ে বেরিয়ে যায় মীম। অনিল এখনো তাকিয়ে তার বউয়ের গমন পথে।
.
.
.
.
তাহমিদ, ইবনাত, সাদাফ আর রনি গিয়েছে আর্মি স্টেডিয়ামে শহীদদের অন্তিম সম্মাননা জানাতে। তারপর তাহমিদের কিছু অফিসিয়াল কাজের জন্য কিছুটা সময় লাগে। বাকিরাও আর অনিলের কাছে না যেয়ে তাহমদের অপেক্ষা করে। একসাথে যাবে বলে। কারোই মনের অবস্থা সুবিধার নয়। এখন গেলে মেজরটা প্রত্যেকের হাতে সেই রকম কেলানি খাবে। ব্যাটা এমনিতেই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে পড়ে আছে। এখন আলাদা আলাদা কেলানি সহ্য করতে পারবে না। তাই একসাথে যাবে সবাই যাতে অল্প কেলানির উপর দিয়ে মাফ পায় মেজরটা।
সব কাজ শেষে তাহমিদ তার ইউনিফর্ম বদলে নর্মাল গোল গলার একটা টি-শার্ট আর একটা জিন্স পরে বের হতেই রনির গাড়িতে উঠে বসে। হাসপাতালে যেয়ে কোনো দিক না তাকিয়ে সোজা অনিলের কেবিনে ঢুকে তার গলা চেপে ধরে তাহমিদ। ইচ্ছামত ঘুষি মারতে থাকে ইবনাত। পায়ের দিকে লাথি দেয় সাদাফ। রনি কিছু একটা খুঁজতে থাকে না পেয়ে অনিলের মাথার নিচ থেকে টান মেরে বালিশ নিয়ে সেই বালিশ দিয়েই তাকে মা*রতে থাকে। অনিলের ও এগুলোর অত্যা*চার থেকে ছাড়া পাওয়ার কোন তাড়া নেই। কারণ রেগে থাকলেও তারা কেউই অনিলের আ*ঘাত পাওয়া জায়গার আশেপাশেও স্পর্শ করনি। দমবন্ধ করা অবস্থাতেই হাসছে অনিল। যা দেখে রেগে এবার গলা ছেড়ে তাকে পরপর তিন চারটা থা*প্প*ড় মারে তাহমিদ।
~এই তুই কি আমাদের শান্তিতে বাঁ*চতে দিবি না? কি চাই তোর? মে*রে শান্ত হবি আমাদের?
এদিকে কেবিনের সোফায় বসা জেনারেল, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, মেজর জেনারেলের চোখমুখে বিস্ময়। তারা মেজরের সাথে দেখা করতে এসেছিলেন। কিন্তু ক্যাপ্টেন তাহমিদের মতো সুশীল একজন ব্যক্তি তারই মেজরের সাথে এমন উগ্র আচরণ দেখে সাথে বাকিদের কান্ড দেখে তারা বসা থেকে উঠে গেছে। অবাক হয়ে পাঁচটা তাগড়া যুবককে দেখে যাচ্ছে তারা।
এদিকে এতোক্ষণ মা*রা*মা*রি করলেও এখন পাঁচটা তাগড়া যুবক একে অপরকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে আছে। একে অপরের সাথে মিশে গেছে একদম। যেন ছেড়ে দিলে কেউ নিয়ে যাবে অনিল আবরার খান নামের তাদের বন্ধুকে।
~ক্যাপ্টেন তাহমিদ what was that?
.
.
.
চলবে_____

