প্রভামঞ্জরী #নওরোজ_মীম পর্বঃ ২৬

0
18

#প্রভামঞ্জরী
#নওরোজ_মীম
পর্বঃ ২৬ (কপি করা নিষেধ)
________________________________

নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরের ভিতর দিকে সেই গোডাউনে পরের রাতের আঁধারে যেয়ে আবারও সেই গাড়িটা থামে। সেখান থেকে নেমে আসে একে একে ছয়জন মানুষ। তাদের প্রত্যেকের পরনে লাল রঙের টি-শার্ট আর কালো প্যান্ট। পায়ে কালো স্নিকার্স মুখে মাস্ক। লাল টি-শার্ট এর পিছনে পিঠের কাছে স্লোগান এর মতো করে লেখা রয়েছে,

❝আগাছা উপড়ে ফেলি,
আবর্জনা মুক্ত দেশ গড়ি।❞

বুকের দিকে হলিউড সিনেমা জোকারের হাস্যরত চেহারা আঁকা। তাদের পোশাকেই বলে দিচ্ছে এরা র*ক্তের নেশায় নেমেছে। এবং আটঘাট বেঁধেই নেমেছে। এতটা সহজে মেজরের হাতে পড়বে না এরা।
.
.

গাড়ি থেকে নেমে তারা যেখানে অরুপ দাসকে আগের রাতে বেঁধে রেখে গিয়েছিলো সেখানেই যায়। এদিকে আগের রাতে অচেতন থাকলেও আজ অরুপের হুশ রয়েছে। প্রায় দুইদিন না খেয়ে এভাবে হাত পা মুখ বেঁধে রাখায় অরুপের অবস্থা এমনিতেই না থাকার মতো। কিন্তু সে জানেনা কেন তাকে এখানে এই অবস্থায় রাখা হয়েছে। কি তার অপরাধ। শুধু জানে কাল রাতে তাকে তাদের ফ্যাক্টরিতে আগুন লাগার কথা বলে হোটেল থেকে বের করেছে। বের হওয়ার পরেই একটা গাড়ি সামনে দাঁড়িয়ে তার থেকে দুজন বের হয়ে কিছু একটা তার সামনে স্প্রে করলেই সে জ্ঞান হারায়। অবেক্ষণ পরে জ্ঞান ফিরলেও পুরো কিছু মনে নেই তার। তারপর এরা অনেক কাহিনি করে তাকে এখানে এভাবে বেঁধে রেখে গিয়েছিলো। পুরো একটা দিন পার হয়ে গেলেই আবার ফিরেছে এরা। এরা কারা বা কি উদ্দেশ্যে এখানে তাকে ধরে এনে বেঁধে রেখেছে তার কিছুই জানে না বা বুঝতে পারছে না অরুপ দাস।

ছয়জনের মধ্যে একজন যেয়ে অরুপের মুখের বাঁধন খুলে দিতেই সে জোরে জোরে কয়েকবার শ্বাস টেনে নিয়ে নিজেকে স্বাভাবিক করে। এদিকে তার কান্ড দেখে উচ্চস্বরে হেসে ওঠে। তারপর অরুপকে ঘিরে গোল হয়ে ঘুরতে ঘুরতে অগ্নিচূর্ণ চোখে তাকে দেখতে থাকে। এদিকে তাদের এমন রুপে শুষ্ক ঢোক গিলছে অরুপ।
সাহস সঞ্চার করে অরুপ প্রশ্ন করে,

“ক..কি চাই?”

তাদের মধ্যে একজন সাথে সাথে বলে,

“তোর প্রাণ।”

ভয়ে কেঁপে ওঠে অরুপ। তারপর বলে,

“আমার অপরাধ?”

তখনই একটা মোবাইল এগিয়ে তার চোখের সামনে ধরে কেউ। সেখানে একটা রেকর্ডেড লাইভ চালু হয়েছে। অরুপ অবাক চোখে তাকিয়ে দেখছে সেই ভিডিও।

ভিডিও দেখেই অরুপের আত্মা কেঁপে ওঠে। তারমানে তার প্রেমিকা এসব জেনে গিয়ে আ*ত্ম*হ*ত্যা করেছে। আর সে নিজের ফূর্তিতে এতোটাই মাতোয়ারা ছিলো যে কিছু জানতেই পারেনি। তার বুকে ব্যাথা হচ্ছে প্রচন্ড। মেয়েটাকে সে সত্যিই অনেক ভালোবাসতো। বিয়ে করে বউ করতে চেয়েছিলো। আর এগুলো সে সাময়িক শারীরিক সুখের জন্য করতো। সে ভাবতেই পারেনি এতো সাবধানতার পরেও সে ধরা পড়বে আর তার ভালোবাসার মানুষ এভাবে কষ্ট পাবে।

ভিডিও শেষ হয়েছে অনেকটা সময়। কিন্তু অরুপের কোনো হেলদোল নেই। তার চোখে অনুতাপের পানি। এবার পানি চোখেই তার সামনে থাকা মানুষদের দিকে তাকিয়ে বলে,

“আপনারা চক্র খু*নে*র দল বুঝেছি। আমাকে মে*রে ফেলতে এসেছেন। মা*রুন সমস্যা নেই। আমি সেরকম কাজই করেছি। তবে একটা অনুরোধ রাখবেন?”

খু*নীদের মধ্যে একজন জিজ্ঞেস করে,

“কি অনুরোধ?”

“আপনাদের খু*নের স্টাইল জানে না এমন কেউ নেই। আমার অনুরোধ আমাকে দয়া করে জীবন্ত কা*টবেন না। আমাকে প্রথমে অজ্ঞান করে পরে মা*রুন প্লিজ।”

একজন গর্জে ওঠে,

“শা*লা তোকে খু*ন করতে এসেছি। তোকে বিয়ের জন্য মেয়ে দেখাতে আনি নাই যে তোর আবদার রাখবো।”

বলার সাথে সাথে অন্য একজন বিশাল একটা রাম দা দিয়ে গলা থেকে মাথা আলাদা করে দেয় অরুপের এক কো*পে। এদিকে মাথা আলাদা হলেও পুরো শরীর অসহনীয় ছটফট করে করে সময় নিয়ে থামে। এই দৃশ্য তৃপ্তি নিয়ে উপভোগ করে ছয়জনের দলটা। পরে তারা তাদের স্টাইল অনুযায়ী এবারেও শতশত টুকরো করে বস্তায় ভরে অরুপের লা*শ। সেই বস্তা নিয়ে গাড়িতে তুলে বেরিয়ে যায়।
.
.
.
.

বিয়ের পরে অনিল আর মীমকে একটু একা থাকতে দিয়ে কেবিন ছেড়ে বেরিয়ে যায় সবাই। সবকিছু ঠিক থাকলেও নিজের বন্ধু নামক ভাই গুলোর লাল হয়ে যাওয়া অস্বাভাবিক চোখ অথবা তার সাথে একটা কথাও না বলে পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে থাকা চারজন মানুষ মোটেও নজর এড়াতে পারেনি চৌকস মেজরের। সে জানে ঠিক কতখানি আঘাত লাগলে ক্যাপ্টেন তাহমিদ, ক্রাইম রিপোর্টার সাদাফ আদনান বা ফরেনসিক ডাক্তার ইবনাত শাহরিয়ার এর মতো শক্ত মনের মানুষের এমন খাপছাড়া অবস্থা হতে পারে। আর কতটা আঘাতে কল্লোল হাসান রনির মতো সাদাসিধা খোলা মনের মানুষ এভাবে এতটা সময় চুপ করে থাকতে পারে। তার বন্ধু গুলো যেমন তার প্রাণ সেও তেমন ওদের প্রাণ তা ভালো করেই জানে সে। তাইতো প্রতি মোনাজাতে আল্লাহকে ধন্যবাদ জানাতে ভোলে না সে। কয়টা মানুষের জীবনেই বা আছে এমন সার্থহীন বন্ধুত্ব?

সবাই বেরিয়ে গেলে মীমের দিকে পূর্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে অনিল।

“ঘোমটা দেওয়ায় আপনাকে বউ বউ লাগছে মাই হাইনেস।”

অনিলের মুখে প্রথমবার এমন কথা শুনে অবাক হয়ে ঘুরে তার দিকে তাকায় মীম। লোকটা হাসছে। কি প্রাণবন্ত সে হাসি! চোখ জুড়িয়ে যায় মীমের। এতো সুন্দর এই লোকের হাসি তা কখনো বুঝতেই পারেনি মীম। এদিকে সদ্য বিবাহিতা স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে নেশাক্ত কণ্ঠে অনিল আবারও বলে,

“অবশ্য এখন থেকে তো আপনি বউ ই। অনিল আবরারের বউ।”

অবশ হয়ে যায় মীমের সর্বাঙ্গ। সে বউ! অনিল আবরারের বউ! কি ছিলো এই বাক্যে? এমন অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে কেন তার? তার মতো শক্ত মেয়ের এমন কাঁপা-কাঁপি অবস্থা হবে তা কখনো চিন্তাও করেনি মীম।

হাত ধরে থাকায় নিজ স্ত্রীর কেঁপে ওঠা অনিল ও অনুভব করে। শোয়া থেকে উঠে বসতে চাইছে অনিল। হাতে টান লাগায় তার দিকে তাকিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে মীম।

~কি করছেন মেজর?

~বসবো। একটু সাহায্য করুন মাই হাইনেস।

মীম ঝুঁকে অনিলের পিঠে হাত রেখে তাকে অনেক কষ্টে আধশোয়া করে বসিয়ে দিয়ে সরে যেতে গেলেই নিজের অক্ষত ডান হাত দিয়ে তাকে ঠেনে নিজের বুকে নিয়ে জড়িয়ে ধরে অনিল। মীম চমকায়, থামকায়। তার মেয়েলী শরীর এবার প্রচন্ড ভাবে কেঁপে ওঠে। এই মূহুর্তে মোটেই সে এমন আশা করেনি।
তার এবারের তীব্র কাঁপুনি অনুভব করে এবার অনিল তাকে আরও জোরে জড়িয়ে ধরে। মীম নিজেকে সামলে সরে যেতে গেলেই প্রথমবারের মতো আরও এক কান্ড ঘটিয়ে বসে মেজর
সে তার শুকিয়ে খড়খড়ে হয়ে যাওয়া দুই ঠোঁট ছুইয়ে দেয় মীমের কপালের ঠিক মাঝখানে। একবার, দুইবার, তিনবার। চারবারের বার ঠোঁট ছুইয়ে ওভাবেই চোখ বন্ধ করে বসে থাকে অনেকটা সময়। ওভাবেই বিরবির শুনতে পায় মীম,

~আপনি আমার। ফাইনালি আমার। অনিল আবরারের আপনি। অনিল আবরার খানের বউ।

মীম কি করবে, কি বলবে সব খেই হারিয়েছে। তার মনে হচ্ছে সে দুনিয়ায় নেই। এসবের মাঝেও কিছু মনে হতেই জোর করেই অনিল থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নেয় সে। শরীর দুর্বল থাকায় অনিল ও ছেড়ে দেয়। অনিল থেকে আলাদা হয়েই একটু দুরত্ব বাড়িয়ে নিলো সে। এদিকে তার থেকে দূরে যাওয়া দেখেই মাথায় র*ক্ত উঠে যায় অনিলের।

নিজের মনের প্রশ্ন এবার করে মীম।

“আমাকে তো আপনি পছন্দ করেন না। তবে এসব কেন করছেন? আমাকে বিয়ে কেন করেছেন অনিল?”
.

..
..
..
চলবে____

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here