প্রভামঞ্জরী #নওরোজ_মীম পর্বঃ ৩৮

0
17

#প্রভামঞ্জরী
#নওরোজ_মীম
পর্বঃ ৩৮ (কপি করা নিষেধ)
___________________________________

আকাশের রঙ পরিবর্তন হতে সময় লাগলো কয়েক সেকেন্ডের মতো। এরপরই শুরু হয় মুশলধারায় বৃষ্টি। অক্টোবরের সন্ধ্যায় ইশারা বিহীন এই বর্ষায় ভেস্তে যায় অনেকের অনেক প্ল্যান। ঘরবন্দী হয় মানুষ। রাস্তায় লোকের সংখ্যা কমতেই থাকে। মীম বিকালবেলা একা একা শ্বশুর বাড়ি সময় কাটানোর জন্য ছাঁদে দাঁড়িয়ে ছিলো। তার ননদ ভার্সিটির শিক্ষিকা সে বাড়ি ফেরার বেশ দেরি এখনো। আজ নাকি কোনো টিচার্স মিটিং রয়েছে। বাড়ি ফিরতে রাত হবে। মিটিংয়ের পরে সবার সাথে ডিনার করে তবেই ফিরবে তার শ্বশুর অফিসের কাজে গিয়েছেন চট্টগ্রাম। অনিল সেও ক্যান্টনমেন্ট আছে। বাসায় রান্না করতে আসা রমা আন্টির সাথে বেশ কিছুক্ষণ গল্প করে রুমে যায় সে। একাকী অভ্যস্ত হলেও আজ কিছুতেই সে একা থাকতে পারছিল না।
একা একা ভালো না লাগায় সে ছাঁদে আসে। আর তখনই এই বিনা মেঘে বৃষ্টি আসে অক্টোবরের সন্ধ্যায়।

বৃষ্টিবিলাসী কন্যা না হলেও কেন জানি এই বর্ষা মনের অন্তরালের কোথাও ছেয়ে যায় অনিল বধূর। দু’হাত মেলে মনের চোখ বন্ধ করে ঘুরে ঘুরে বৃষ্টিকে মিশিয়ে নিচ্ছে নিজ শরীরে। মুখে হাসি বিহীন এই বর্ষায় ভেঁজা স্বল্প কম্পন তার পুরো শরীরে যেন এক পার্থিব সৌন্দর্য নিয়ে এসেছে স্বয়ং প্রকৃতি।

অনিল প্রায় দশমিনিট ধরে ছাঁদের দরজায় শরীর এলিয়ে বুকে দু’হাত গুজে নিজ বধূর এহেন পাগল করা পার্থিব সৌন্দর্য উপভোগ করছে। সে বাসায় ফিরে রুমে যেয়ে মেয়েটাকে না পেয়ে রমা আন্টির কাছে জিজ্ঞেস করলে সে জানিয়েছে যে অনিল বধূ বিকাল থেকে ছাঁদে। রমা আন্টির যাওয়ার সময় হয়েছে। সে অনিলদেরই আউট হাউসে থাকে তার মেয়ে সহ। সে চলে গেলেই অনিল দ্রুত ছুটে যায় ছাঁদে। এই অবেলায় এমন বিনা মৌসুমের বৃষ্টিতে ভিজলে শরীর খারাপ হবে তাই ভেবেই এতো তোড়জোড়। কিন্তু অনিলের অজানা ছিল সে যাকে ভিজতে না দেওয়ার জন্য দৌড়ে আসছে, সে তার জন্য কি ভয়ংকর রুপে অপেক্ষা করছে।

মীমের পরনে একটা হালকা ল্যাভেন্ডার কালার কুর্তি সাথে কালো ট্রাউজার। শ্বশুরবাড়ি এসে সে এধরণের পোশাকই পরে যাতে যখন তখন শ্বশুরের সামনে বিব্রত হতে না হয়। জর্জেট ওড়না ছাঁদের মাঝে ফেলে রেখে অনিলের নিজস্ব হালাল নারী এখনো ওভাবেই চোখ বন্ধ রেখে বর্ষা গায়ে মাখতে ব্যস্ত। হাটুর নিচে পড়া লম্বা চুল গুলো খোলা যা বেয়ে বেয়ে পানি পড়ছে। সামনের ছোট চুলগুলো ভিজে উজ্জ্বল শ্যামলা মুখে জড়িয়ে আছে ওতোপ্রোতো ভাবে অথচ রমণীর কোন তাড়াহুড়ো নেই তা সরানোর। শ্যামাঙ্গিনীর লালাভ ঠোঁটে পানির কণার স্পর্শ। মনে হচ্ছে এ কোন জাদু খেলা হচ্ছে মেজরের সামনে। ল্যাভেন্ডার কুর্তি ভিজে শরীরে লেপ্টে রয়েছে যা পরিবেশ আরও গম্ভীর করে তুলেছে। এদিকে দূরত্ব নিয়ে দাঁড়ানো পুরুষকে তার নারীর এমন তোলপাড় করা রুপ ছারখার করে দিচ্ছে অতি সহজেই।

মন্ত্রমুগ্ধের ন্যায় এগিয়ে যাচ্ছে মেজর তার হালাল নারীর পানে। এক পা, দুই পা, তিন পা, চার পা, একদম রমণীর পিছনে যেয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে মেজর। অথচ হুশ নেই তার রমণীর। সে নিজ ভাবনায় মশগুল। রমণীর হুশ না থাকলেও মেজরের হুশও ততক্ষণে তাকে ছেড়ে গিয়েছে বহুদূর। কি করছে আর কি হচ্ছে সবকিছুই চৌকস মেজরের আয়ত্তের বাইরে। এই রমণীর নিকট চৌকস মেজরের চৌকস মস্তিষ্ক কোন কাজ করে না। ওই রমণীর নিকট মেজর কেবল এক রিমোট কন্ট্রোল খেলনা। যার রিমোট স্বয়ং এই রমণীর হাতে। আর এই খবর থেকে বেপাত্তা রমণী নিজেও।

নিজ হালাল নারীর পিছনে দাঁড়িয়ে কোমর বাকিয়ে নিজ নারীর কান বরাবর মুখ এনে খুবই ধীর, নেশালো কণ্ঠে বলে উঠলো মেজর,

“আমার কাছে তুমি অক্টোবরের সন্ধ্যায় নামা বৃষ্টির মতোই প্রিয়।”

এসব থেকে বহুদূর থাকা রমণীর হৃদয় কেঁপে ওঠে এহেন নেশালো কণ্ঠে। রমণী চোখ খুলে পিছনে ফিরে তাকাতে চাইলে বাঁধা পড়ে মেজরের বাহুডোরে। শান্তশিষ্ট মেজর বেপরোয়া হয়ে ওঠে মুহূর্ত মাঝেই। বাহুডোরে বন্দিনীর লম্বাচুল সরিয়ে গরম উত্তপ্ত ওষ্ঠপুট ছুইয়ে দেয় কাঁধে। বন্দিনীর শরীরের অস্বাভাবিক কম্পন অনুভব হলেও আমলে নিতে অক্ষম মেজর। সেই হুশই নেই তার মাঝে। সে যে হালাল নারীর ঘোরে রয়েছে।
রমণী এহেন পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে চাইলো। মোচড়ামুচড়ি করছে অনবরত। হুশ হারিয়ে মেজরের এসব বিরক্ত লাগলো বোধহয় তাইতো এক টানে রমণীকে ঘুরিয়ে নিজের মুখোমুখি করে দাঁড় করিয়ে দেয়। রমণীর চোখেও তার অতিমাত্রায় সুদর্শন মেজরের রুপ ধরা দেয় অবলীলায়। সাদা শার্ট আর কালো প্যান্ট পরিহিত ফর্মাল স্টাইলে তার দিকে নেশালো চোখে চেয়ে আছে তার পুরুষ। তার দৃষ্টিতে আজ ভিন্ন কিছুর আভাস। এই দৃষ্টির মানে জানে রমণী। আর বুঝেই ঘাবড়ে যায়।

“ক..কি করছেন মেজর?”

“কি করছি মাই হাইনেস?”

রমণীর মুখ থেকে আর কোন শব্দ উচ্চারিত হওয়ার পূর্বেই তার লালাভ ওষ্ঠপুট নিজ দখলদারত্বে নিয়ে নেট অবাধ্য মেজর।
যদিও মেজর আর তার হাইনেসের মধ্যে এমন ঘটনা প্রথমবার হচ্ছে তা নয়। তবুও এমন পরিবেশে, এমন অনুভূতিময় অবস্থায় মেয়েটা নুইয়ে পড়ে। যেটুকু নিজের ভরে দাঁড়িয়ে ছিলো তাও ওষ্ঠাদ্বয়ের ঘর্ষণের সাথে বৃষ্টির পানি একাকার হওয়ার ভেঁজা শব্দে এখন শুধু জ্ঞান হারানো বাকি রমণীর। ভর ছেড়ে দিলে বাহুডোরে সযত্নে আগলে নেয় মেজর। তবুও ওষ্ঠ ছাড়ে না। সময় নিয়ে ছাড়ে নিজ নারীকে মেজর। এদিকে তার বুকেই মুখ গুজে নিজেকে মেজর থেকে গোপন করতে ব্যস্ত তার রমণী। বেপরোয়া, নির্ভীক নিজ নারীর এমন লজ্জায় শব্দ করে হাসে মেজর। আর সেই হাসিতেই তার রমণী তার বুকে আরও জোরে প্রবেশ করে। যেন বুকের ভেতর ঢুকেই এই লজ্জার মুখ আড়াল করবে সে।

মেজর হুট করেই কোলে তুলে নেউ তার আড়ালপ্রিয়াকে। তারপর তাদের গন্তব্য নিজ রুম। রুমের দরজা বন্ধ করে দরজায় পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে নিজ নারীর একদম কানের সাথে মুখ স্পর্শ করে খুবই সংগোপনে মেজর বলে,

“আজ রাতটা কি আমায় দেয়া যাবে আড়ালপ্রিয়া? I want you my highness. I want you exactly now. Please my lady আমার অগ্নিপরীক্ষা নিবেন না আর।”

তার আড়ালপ্রিয়া এমন ডাক অগ্রাহ্য করবে এতোটাও পাথর হৃদয়ের হয়তো না। অথবা হয়তো পাথরে ফুল ফুটতে শুরু করেছে। তাইতো মেজরের আড়ালপ্রিয়া সম্মতির ইশারায় মাথা উঁচু করে তার ক্রমাগত ওঠানামা করা এ্যাডামস অ্যাপেলে নিজ ওষ্ঠ ছুইয়ে দেয়। আর অনুমতি পেয়েই প্রশান্তির মুচকি হাসি ফোটে মেজরের মুখে।

বাইরে অক্টোবরের সন্ধ্যায় নামা বৃষ্টিতে রচিত হচ্ছে প্রকৃতির নতুন কিছু। আর ভিতরে মেজর ও মেজরপ্রিয়ার মাঝে রচিত হচ্ছে সম্পর্কের নতুন দিগন্ত।
.
.
.
.

এই বৃষ্টির সন্ধ্যায় অবশ্য সেই পুরনো টয়োটা গাড়িটা বেপরোয়া ভাবে সমস্ত বাঁধা পেরিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ যাওয়ার রাস্তায়। ভিতরে কারো চোখে জ্বলছে নতুন কোন আগুন। সেই আগুনেই পুড়ে ছারখার হবে কেউ আজও। এই অসময়ের নামা বৃষ্টির পানি সেই আগুন নেভাতে অক্ষম। সেই চোখের আগুনে ভয় পাচ্ছে সেই ব্যক্তির সঙ্গী সাথীরাও। এতো এতো অ*প*হর*ণ, এতো এতো খু*ন কিছুতেই যেখানে পুলিশ, সেনাবাহিনী এমনকি সেই মেজর এএকে পর্যন্ত তাদের বা** ও ছিড়তে পারে নাই, সেখানে মেজর যখন দেশেই নাই তখন তাদের দলের রাসেল বেপাত্তা হয়েছে। এই ব্যাপারটা কোন ভাবেই মানতে পারছে না তারা। কোন ব্যক্তির এমন কলিজা হয়েছে যে তাদের সাথে সরাসরি টেক্কা দিতে মাঠে নেমেছে? তার কলিজা বের করে কয়েক টু*ক*রো না করা পর্যন্ত আর শান্তি নেই। এই কাজে অন্তত কোন সামরিক কেই নেই তা তো তারা নিশ্চিত। কারণ তেমন কেউ হলে এতক্ষণ যেভাবেই হোক রাসেলের পেট থেকে কথা বের করে তাদের পিছনে লেগে যেতো। তাদের দিকে কোন ঝড় আসেনি মানে রাসেল অন্যকোনো গ্যাং বা মানুষের কাছে রয়েছে।

অথচ এতো এতো নির্ভুল খু*নের আ*সা*মীরা জানেই না তাদের চেয়েও বড় গেমার স্বয়ং মেজর সবকিছু ব্যবস্থা করেই এখন বউ নিয়ে একান্ত ব্যক্তিগত সময় কাটানোতে ব্যস্ত নিজ কামরায়। তারা ডালে ডালে চললে এই মেজর এএকে চলে পাতায় পাতায়। আর তারা পাতায় পাতায় চললে মেজর চলে সেই পাতার শিরায় শিরায়।

..
..
..
চলবে____

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here