প্রভামঞ্জরী #নওরোজ_মীম পর্বঃ ৪২

0
20

#প্রভামঞ্জরী
#নওরোজ_মীম
পর্বঃ ৪২ (কপি করা নিষেধ)
___________________________________
দক্ষ হাতে স্টিয়ারিং সামলে অনিল অনেকটা পথ কোন সমস্যা ছাড়াই পাড়ি দিয়েছে ড্রাইভ করে। পিছনের গাড়ি দুটো প্রথমে কোন ঝামেলা করেনি। তারাও এই পথের পথিক এমন ভাবেই এগিয়েছে। রাস্তার একপাশে ঘন জঙ্গল অন্যপাশে ছোট বড় পাহাড়। সেই পাহাড়ের উপর আবার জঙ্গল দেখা যাচ্ছে। মীম ফোনে সময় দেখে তিনটা ঊনপঞ্চাশ বাজে। দিনের বেলাতেও দুইপাশের জঙ্গলের কারণে রাস্তা কেমন অন্ধকার হয়ে আছে। জ্যোৎস্না রাতে যেমন চাঁদের আলোয় আলোকিত হয় ধরণী তেমন আলো এখন দিনের বেলাতে এই রাস্তায়। মীম দুইপাশের জঙ্গলে চোখ বুলিয়ে দেখে একটু দূরের কিছুই দেখা যাচ্ছে নাম কেমন ঘুটঘুটে অন্ধকার। মাঝে মাঝে অদ্ভুত অদ্ভুত আওয়াজ ভেসে আসছে যা বন্য প্রাণীর বোঝা খুব একটা কঠিন কিছু নয়।
এমন রাস্তায় গাড়ি চলাচল খুব একটা সহজ না হলেও অনিল বেশ সাবলীল ভাবেই সামলে নিচ্ছে। হঠাৎ পিছনের গাড়ি স্পীড বাড়িয়ে প্রচন্ড জোরে ধাক্কা মারে অনিলের গাড়িতে। মীম ছিটকে যেতে লাগলেই অনিল তাকে আঁকড়ে ধরে। কিন্তু নিজের মাথা যেয়ে ধাক্কা লাগে ডান পাশের জানালার কাচের সাথে। কপালের কোনা কেঁটে গিয়ে সরু সুতার মতো র*ক্ত বেয়ে পড়তে থাকে। এরপর আবারও ধাক্কা। সাথেসাথে আবারও। বুকের মধ্যে গুটিসুটি মেরে বসে থাকা মেয়েটার গায়ে এখনো একটা ফুলের টোকাও লাগতে দেয়নি সেনা মেজর। অথচ পিছনের গাড়ির ধাক্কায় নিজে কয়েকবার আঘাত পেয়েছে। নিজের শরীরের দিকে কোন খেয়েলই নেই মেজরের। তার প্রথম চিন্তা বুকে থাকা প্রাণীর সুরক্ষা।
কিছু একটা ভেবে অনিল মীমকে বলে,

“জান।”

বিদ্যুৎ বেগে অনিলের বুকের শার্ট খামচে ধরে মুখ লুকিয়ে থাকা মীম নিজের মুখ তুলে তাকে এভাবে প্রথমবার ডেকে ওঠা মেজরের দিকে বড়সড় চোখে তাকায়। আবারও সেই ডার্ক ব্রাউন চোখের সাথে কুচকুচে কালো চোখের সন্ধি হয়।

“আপনি এভাবে ডা..ডাকছেন কেন মেজর?”

“আপনার মেজর জীবিত থাকতে আপনার কিছু হতে দিবে না। ভরসা রাখুন।”

“জানি আমি। ভরসা আছে। নিজের থেকেও অনেক বেশি ভরসা আছে।”

“তাহলে আমি যা বলবো সব শুনবেন। আমার পকেট থেকে ফোন বের করুন।”

মীম অনেক কসরত করেই অনিলের ডান পকেট থেকে তার ফোন বের করে। তারপর অনিলের চোখের সামনে ধরতে নেই লক খোলার জন্য। অথচ তাকে থামিয়ে দিয়ে অনিল বলে,

“আপনার ফিঙ্গার প্রিন্ট দিন খুলে যাবে।”

মীম অবাক হয়। ফোনের লক খুলতে খুলতে প্রশ্ন করে,

“আপনার ফোনে আমার ফিঙ্গার প্রিন্ট দিয়ে আনলক হচ্ছে কিভাবে? আমার তো এমন কিছু মনে নেই। কবে করেছেন এসব?”

“যেদিন আপনি আমার হয়েছেন মানে আমাদের বিয়ের দিন হাসপাতালে। আপনি আমার পাশে যখন ছিলেন আপনার চোখ লেগে গিয়েছিল কয়েক মিনিটের জন্য। তখনই।”

“এর কি দরকার মেজর? সবারই কিছু না কিছু নিজস্ব ব্যাপার থাকে।”

“যেখানে আপনি পুরোটাই আমার নিজস্ব আর সম্পুর্ন আমিটাকেই আপনার নিজস্ব করে দিয়েছি সেখানে এসব কথা কি ভিত্তিহীন নয় ম্যাডাম?”

কথার মারপ্যাঁচ সবসময়ই কম বোঝে মীম। সে কথা কম বলা চুপচাপ স্বভাবের মেয়ে সারাজীবন। তাই এবারেও চুপ করে যায় কথায় না পেরে। অনিল নিজ স্ত্রীর চুপ করায় ঠোঁট বাঁকায় সামান্য।

মীম ফোন আনলক করতেই অনিল বলে,

“বড় মামা দিয়ে সেভ করা নাম্বারে কল দিয়ে লাউডস্পিকারে দেন জলদি।”

মীম অনিলের কথা অনুযায়ী করে। ওপাশ থেকে কল রিসিভ হয়।

“আরে আরে কি ব্যাপার খান সাহেব, হঠাৎ করে মামার কথা মনে পড়লো যে?”

“উত্তর দেওয়ার মতো সময় বা সিচুয়েশনে নেই এমপি সাহেব। বউ নিয়ে তোমার এলাকায় এসেছি। বুঝিনি মামার এলাকায় এভাবে ওয়েলকাম করা হতে পারে। বউ আমার বিড়ালছানার মতো গুটিয়ে গিয়েছে।”

চট্টগ্রাম ৩ আসনের এমপি শাহনেওয়াজ দেওয়ানকে আর কিছুই বলতে হয়নি। বুদ্ধিমান লোকটা অনিলের কথার মর্মার্থ বুঝতে পেরেছেন। সে শুধু বলে উঠলো,

“তোমার মামিকে জানাচ্ছি তবে ভাগ্নে আর ভাগ্নেবউ আসছে। ডিনারের আয়োজন সে মনের মতো করুক।”

হালকা হাসে অনিল। সে জানে এখন তাকে শুধু তার ফোন অন রেখে কিছুসময় লড়তে হবে আগত বিপদ থেকে।

“তবে রাতে দেখা হচ্ছে দেওয়ান মঞ্জিলে।”

ফোন কেঁটে শাহনেওয়াজ দেওয়ান কল করে তার বড় ছেলে শাহমীর দেওয়ানকে।

“আসসালামু ওয়ালাইকুম বাবা।”

“ওয়ালাইকুম আসসালাম। অনিল এসেছে চট্টগ্রাম স্বস্ত্রীক। তাদের উপর এটাক হয়েছে শাহমীর। সিচুয়েশন খুব একটা ভালো হলে মেজর নিশ্চয় আমাকে ফোন করতো না?”

“আমি দেখছি বাবা। তুমি নিশ্চিন্তে ভাগ্নেবউ আপ্যায়নের ব্যবস্থা করো।”
.
.
.
.
তিনটা ঊনপঞ্চাশ থেকে এখন সময় চারটা ত্রিশ। এখনো ড্রাইভ করছে অনিল। তবে সেই সময়ের পরে আর একবারও তার গাড়িতে ধাক্কা দিতে পারেনি আক্রমণ করা গাড়ি দুটো। নিজে দক্ষতায় সামলে নিয়েছে অনিল। তখন অনিলের কপাল কেঁটে গিয়েছে দেখে মীম অনেক কষ্টে চলন্ত গাড়িতেই ব্যাগ থেকে ওয়ান টাইম ব্যান্ডেজ বের করে কাঁটা স্থানে দিয়ে র*ক্ত বন্ধ করেছে। এই অবস্থায় এরচেয়ে বেশি কিছু করা সম্ভব নয়।
অনিল দেখে সামনে আর উপায় নেই। সামনে থেকেও গাড়ি আসছে। পাহাড়ি মোড় হওয়ায় উঁচু রাস্তায় দেখতে পেয়েছে সে। বুদ্ধি করে নিজের ফোন মীমের প্যান্টের পকেটে ঢুকিয়ে মীমকে বলে পকেটের চেন আটকে দিতে। মীমও তাই করে। এবার অনিল একটা ঢোক গিলে বলে,

“সামনে পিছনে সবখানেই বিপদ।”

“এরা অনেক মানুষ মেজর। সাথে অগণিত অ*স্ত্র। একা আপনি এদের সাথে এখানে ফাইট করে হিরো সাজতে গিয়ে আমাকে নিঃস্ব করে দিবেন না প্লিজ। চলুন জঙ্গলের দিক পালিয়ে যাই।”

“আমার কিছু হলে আপনার কি ম্যাডাম? আপনি কেন নিঃস্ব হয়ে যাবেন?”

“আমি ফেঁসে গিয়েছি মেজর। প্রচন্ড বাজে ভাবে আপনাতে ফেঁসে গিয়েছি। উত্তরণের পথ যে খোলা নেই আর।”

অনিল এমন সহজ সরল স্বীকারোক্তিতে কেমন অসহায় অনুভব করলো। এখন সে কি করবে?

গাড়ি জঙ্গলের ভেতর নিয়ে একটু এগোতেই রাস্তা শেষ হয়। এখন অনিল মীমকে কোলে নিয়েই বের হয়। ওভাবে দৌড়াতে গেলে মীম তাকে নিচে নামাতে বলে। অনিল তাই করে। এবার দুজন জঙ্গলে দৌড়াতে থাকে। কিছুদূর যেতেই বুঝতে পারে ওই লোকগুলো পিছু নিয়েছে। তবে লোকগুলো বেশ দূরে। এবার আবারও দৌড়াতে থাকে দুজনে হাতে হাত রেখে।
.
.
.
.
শাহমীর দেওয়ান। বয়স ত্রিশ। অনিলের তিন মাসের বড়। এখন বাবা চট্টগ্রাম ৩ আসনের এমপি। অথচ রাজনৈতিক ব্যাপারে তার আগ্রহ যথেষ্ট কম। সে কিছুদিন আগেই চট্টগ্রামে নামীদামি এক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচার হিসেবে যোগদান করেছেন। সবার সামনে এটাই তার রুপ। অথচ আড়ালে এই ছেলের চতুরতা, দূরদর্শিতা, পারদর্শিতা সম্পর্কে খুব কম লোকই জানে। রাজনৈতিক ব্যাপারে আগ্রহ না থাকা ছেলের রাজনৈতিক বুদ্ধি সম্পর্কে কেই বা জানে? তার বাপ তারই দেখানো পথে রাজনৈতিক মঞ্চে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। অথচ সবকিছুর আড়ালে থাকে শাহমীর।
তাইতো আজ অনিলের কল পেয়েই শাহনেওয়াজ দেওয়ান নিজের সবচেয়ে বড় আর ধারালো অ*স্ত্র নিজের ছেলের কাছে খবর পৌঁছে দিলেন। তিনি জানেন এবার প্রয়োজন পড়লে চট্টগ্রাম লণ্ডভণ্ড করে হলেও শাহমীর সব সামলে নেবে।
শাহমীর নিজের গোপন টীমের সাহায্যে অনিলের নাম্বার ট্র্যাক করে খুব সহজেই লোকেশন দেখে নেয়। এই জঙ্গল যার নখদর্পনে তারই প্রিয় ভাই সেই জঙ্গলে বিপদে পড়েছে। আর সে এখন বেশ কাছেই আছে লোকেশন থেকে তা দেখে ক্রুর হাসে। নিজের টীমকে আলাদা যেতে বলে বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়ে সে।
.
.
.
.
নিজের সাইলেন্সর লাগানো পি*স্ত*ল কোমর থেকে বের করে হাতে নেয় অনিল। একটা ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে পড়ে মীমকে নিয়ে। মেয়েটাকে নিয়েই তার যত দুশ্চিন্তা। একা হলে এসব কখনো ভয় পেয়েছে মেজর এএকে বলে মনে পড়ে না তার। কতশত আ*ক্র*মণ হয়েছে তার উপর, কতবার এমন পরিস্থিতিতে পড়েছে সে। এক বিন্দু পরিমাণ ঘাবড়ে যায়নি কখনো। অথচ আজ এই মেয়ে সাথে আছে দেখে ভয়ে আত্মা কেঁপে ওঠে মেজর এএকের। এই মেয়ের কিছু হতে দিতে রাজি নয় সে। কোনোভাবেই বুকের বিড়ালছানার একটা চুলও বাঁকা কর‍তে দিবে না কাউকে। তাইতো এতো লুকোচুরি। না হলে এদের একটা হেস্তনেস্ত এতখনে করে ফেলতো সে।

লুকিয়ে থাকা অবস্থায় ঝোপের আড়াল থেকে অনিল দেখে সাইত্রিশ জন গুন্ডা মতো লোক দৌড়ে চলে যাচ্ছে সামনে। হয়তো এরাই তাদের পিছু নিয়েছে। সবাই চলে গেলে একদম পিছনে যে ছিল তার মুখ চেপে ধরে তাকে ঝোপের আড়াল করে ফেলে অনিল। এতো লোক তারপর দৌড়ের মধ্যে ব্যাপারটা কারোই নজরে আসলো না। অনিল লোকটার মুখ চেপে ধরেই কপাল বরাবর গু*লি করে। সাইলেন্সর থাকায় কোন আওয়াজ হয়না। অনিলের হাতের মধ্যে ছটফট করতে করতে প্রাণ ত্যাগ করে সেই লোক।
অনিল লোকটাকে ছেড়ে মীমের দিকে তাকায়। সে ভেবেছিল মেয়েটা হয়তো ভয় পাচ্ছে। অথচ তাকে অবাক করে দিয়ে মীম নির্ভয়ে দেখছে সবকিছু। অটল হয়ে বসে আছে। যেন এসব কিছুই হয়নি। র*ক্ত পাত, খু*ন, হানাহানি যেন খুবই সাধারণ ব্যাপার এমন ভাবে রয়েছে মীম।

এভাবে এবার পিছন থেকে এগোতে এগোতে বেশিরভাগ আ*ক্র*ম*ণ*কারীকেই খালাস করেছে অনিল। এখন এমন এক জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছে অনিল আর মীম যেখান থেকে সামনে যাওয়ার রাস্তা নেই। এদিকে নভেম্বরের শেষে এসে রাতের আঁধার নামে বেলা পাঁচটা বাজতে না বাজতেই। ঠান্ডার মধ্যে এই ঘন জঙ্গল তারপর আবার অন্ধকার। অনিলের দৌড়াতে যেয়েই মীমের পায়ে জঙ্গলের কোনো পোকা কামড় দিয়েছে। প্রচন্ড ব্যথায় চেঁচিয়ে ওঠে সে। অনিলের ফোন মীমের পকেটে আর মীমের ফোন অনিলের হাতে। ফোনে ফ্ল্যাশ লাইট জ্বালিয়ে মীমের পায়ে দেখার চেষ্টা করে অনিল। কিন্তু ততক্ষণে আওয়াজ পেয়ে সামনে থেকে এসে লোকগুলো তাদের দুজনকে ঘিরে ঘরে। অনিল সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে।

“কি চাই? আমাদের উপর আ*ক্র*ম*ণের কারণ কি?”

খিক খিক করে হেসে ওঠে বেঁচে থাকা আটজন মানুষ। অদ্ভুত হাসতে হাসতে একজন একটু সামনে এগিয়ে আসে। তার হাবভাবেই অনিল বোঝে যে লোকটা এই দলের সর্দার হবে হয়তো।
লোকটা এসে বলে,

“মেয়েটাকে দিয়ে দে আমাদের কাছে। তোর সাথে আমাদের কোন শত্রুতা নেই। মেয়েটাকে নিয়ে যাওয়ার অর্ডার আছে।”

এবার অনিলের কাছে পরিষ্কার হয় এই আ*ক্র*ম*ণ মোটেই তার জন্য ছিল না। এটা মীমের উপর ছিল। এর কারণ সে পরে খুঁজে বের করবে। এখন এখান থেকে বের হতে হবে।

“তাকে নিতে পারবি না। আমি তার গায়ে ফুলের টোকা ও লাগতে দিবো না।”

“তুই হা হা তুই, তুই আটকাবি আমাদেরকে। তুই একা আমাদের আটকাবি। জানিস আমরা কতজন?”

অনিলের ঠোঁটের কোন ঘেঁষে হাসির ছোঁয়া দেখা যায়। সে ওভাবেই বলে,

“টোটাল সাইত্রিশ জন তোরা। একটু গুণে দেখ তো এখন কতজন?”

লোকটা এবার আসলেই গুণে দেখে সে সহ মাত্র আটজন। বাকিদের ইয়ত্তা নেই। মনে মনে ভয় পেলেও তা প্রকাশ না করেই অনিলের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। আটজনকে একসাথে প্রতিরোধ করছে মেজর। তার দীর্ঘদিনের ট্রেনিং, বিশেষ দক্ষতা, উর্বর মস্তিষ্ক সবকিছুর জোরেই আটজন মানুষ ও পেরে উঠছে না তার সাথে। অনিলের লাথি খেয়ে একজন ছিটকে গাছের গুড়িতে বাড়ি খেয়ে জ্ঞান হারায়। কেউ একজন সুযোগ করে অনিলের মাথায় আঘাত করে আগে থেকেই মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত থাকায় তারপর আবার আঘাত পাওয়ায় মাথায় চক্কর দিয়ে ওঠে অনিলের। সে এবার কিছুটা হিমসিম খেয়ে যাচ্ছে এদের সাথে লড়াইয়ে। তাও শেষ র*ক্তবিন্দু দিয়ে হলেও সে লড়াই করবে।
এদিকে অনিলের মাথায় আঘাত করা দেখে নিজের পায়ের যন্ত্রণা ভুলে উঠে পড়ে মীম। ওই লোক আবারও অনিলকে আঘাত করতে যাবে তার আগেই মীম সাইড দিয়ে লোকটার কোমরে লাথি মেরে ফেলে দেয়। লোকটা মাটিতে পড়ে যায়। তার হাতের সেই গাছের ডাল হাতে নেয় মীম যেটা দিয়ে অনিলের মাথায় আঘাত করেছে। তারপর ইচ্ছামত মারতে থাকে লোকটাকে। লোকটা আধমরা হয়ে গেলে এবার অনিলের সাথে অন্যদের মারতে থাকে মীম। অনিল দেখে সবটাই। কিন্তু কিছুই বলে না। কারণ এই মেয়ে তাইকুন্ডু তে চ্যাম্পিয়ন, সাথে ভার্সিটিতে কয়েকবার মীমের ফাইটিং স্কিল দেখেছে সে।

বাকি যে ছয়জন ছিল তারা ধরাশায়ী হয় অনিল আর মীমের কাছে। কিন্তু মীম যাকে মে*রে আধমরা করেছিল তার হাতের কাছে সে অনিলের সাইলেন্সর লাগানো পি*স্ত*ল পৌঁছে যায়। মীম দেখে অনিলের দিকে সেই পি*স্ত*ল তাক করে ট্রিগারে আঙুল দিয়েছে লোকটা। মীম চেঁচিয়ে ওঠে,

“মেজররররর….”

অনিলকে এক ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে তার জায়গায় দাঁড়িয়ে যায় মীম।
তারপর নিরবতা। সবকিছু নিরব। অনিল মাটিতে পড়ে ফোনের হালকা আলোয় দেখে তার প্রাণপ্রিয়া দূরে ছিটকে পড়েছে। চোখটা ধীরে ধীরে বন্ধ হচ্ছে তার। যে মেয়ের চোখে অনিল নিজের জন্য সেদিন প্রথম পানি দেখেছিল আজও সেই মেয়ের চোখে পানি দেখে মেজর। বন্ধ হতে থাকা দুচোখের কোণ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে। মেজর কোনো রকম নিজেকে টেনে নিয়ে যায় প্রাণপ্রিয়ার কাছে।
মেয়েটা ভাঙা ভাঙা কন্ঠে বলে উঠলো,

“আ..মি মাশফি..য়া রহমান মীম নিজের সম্পুর্ণ জ্ঞা..নে স্বীকার করছি, আমি আপনাকে ভা..ভালোবাসি মেজর এএকে। এই মন, প্রাণ, শরী..র, জীবন সব আপনার নামে উ..ৎসর্গ।”

এরপরের নিরবতা আর সহ্য হয়না অনিলের। নিজের খোলসের আবরণে বদ্ধ হৃদয়ে ছটফটানি শুরু হয়। চোখের মধ্যে জ্বলে ওঠে। পানি আসতে চাইছে। কঠোরতার আড়ালে নরম মানুষটা চিৎকার করে কাঁদতে চাইছে। মেয়েটাকে চড়, থাপ্পড় মে*রে বকতে ইচ্ছে করছে এই পাকনামি করার জন্য। কিন্তু বেশ দেরি হয়ে গেলো কি?

..
..
..
..
চলবে___

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here