#প্রভামঞ্জরী
#নওরোজ_মীম
পর্বঃ ২১ (কপি করা নিষেধ)
____________________________
তনু আজ ভীষণ খুশি। ভীষণ মানে ভীষণ। কল্পনাতীত খুশি। নিজেকে অনেক সুখী মনে হচ্ছে তার। মন বাগানে তার আজ হাজারো রঙ বেরঙের প্রজাপতি উড়াউড়ি করে বেড়াচ্ছে নির্বিঘ্নে। দুনিয়া তার অতিরিক্ত সুন্দর মনে হচ্ছে। যেখানে তাকাচ্ছে সেখানেই সৌন্দর্যের ছড়াছড়ি। এই দুনিয়া বা তার জীবন সে আগে কখনো এতটা সুন্দর উপলব্ধি করেছে বলে তার মনে পড়ছে না।
এমনকি নিজের অতিরিক্ত অপছন্দের কিছু দেখেও আজ তার মেজাজ খারাপ হচ্ছে না। উল্টো সেসব দেখেও হাসি পাচ্ছে তার। এই যে যেমন তার থেকে কিছুটা দূরে একটা টেবিলে বসে আছে একটা কাপল ও তাদের একটা বাচ্চা ছেলে। যে এই মূহুর্তে এক স্লাইস চকলেট কেক দিয়ে নিজেকে মাখিয়ে নিয়েছে। ঠোঁটের চারপাশে চকলেট লেগে একদম বাচ্চা বাদরের মতো দেখতে লাগছে বাচ্চা ছেলেটাকে। বারবার ছোট ছোট হাত দিয়ে কেক স্লাইসটার ভবলীলা সাঙ্গ করে আবার সেই হাতই মুখে নিয়ে চেটে দিচ্ছে। অন্য সময় হলে গা ঘিনঘিন করে উঠতো তনুর। অসহ্য রকম অনুভূতি হতো। বমি করে ফেলতো এক দৌড়ে রেস্টুরেন্টের ওয়াসরুমে গিয়ে। তনু অনেক বেশি শান্ত হয়েও কিছু কিছু জিনিস সে নিতে পারেনা না একদম। এই যে বাচ্চাদের মাখামাখি করে খাওয়া তার মধ্যে অন্যতম। কিন্তু আজ তার কিছুই গায়ে লাগছে না।
তনিমার নিজেকে নিয়ে অবাকতার মাঝেই কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি এসে ধপ করে তার সামনের চেয়ারে বসে পড়ে। সব ভুলে তনু অনিমেষ চেয়ে থাকে তার সেই অতি কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তির সুদর্শন মুখ পানে। এইতো তার অনিল ভাই এসেছে। যার আগমনের সুর বেজে চলছিলো এতো সময় তনুর চারপাশে।
ভার্সিটির বাইরে সময় কাটানোর এক আকাশ সমান ইচ্ছে তবে আজ পূরণ হবে তনুর। আজ সকালে অনিল নিজেই ফোনে তনুকে এই ক্যাফেতে আসতে বলে বিকাল বেলা। রা না কেটেই রাজি হয় তনু। হবে নাই বা কেন, তার যে অনেক দিনের চাওয়া ব্যক্তিগত ভাবে একটু আলাদা করে অনিলের সাথে সময় কাটানো। ভার্সিটিতে তা সম্ভব নয় কারণ তার এবং অনিলের বন্ধুমহল সর্বত্র সাথে থাকে। আর এখন তো তার বন্ধুমহলে দুইজন ব্যক্তি যুক্ত হয়েছে মীম আর মৌনতা। এতো এতো মানুষের ভীড়ে সে কিভাবেই বা অনিলকে বোঝাবে তার মনে প্রবহমান ঝড়? অনিল নামক ঝড়। যে ঝড়ে তার মতো শান্তশিষ্ট, ভদ্র, আজ্ঞাবহ মেয়ে হয়ে উঠেছে অশান্ত, বেপরোয়া, নির্লজ্জ।
যে তনু বই ছাড়া কিছু বুঝতো না আজ সেই তনুই বই মেলে ঘন্টার পর ঘন্টা উদাস রমণী হয়ে অনিল ভাইয়ের ভাবনায় ডুবে থাকে। লেখাপড়া তার উচ্ছনে গিয়েছে এই অবাধ্য মনের কারণে। আর সুরাইয়া তনিমা জালাল জানে তার এই এতো এতো সমস্যার একটাই সমাধান। আর সেই সমাধানের নাম হচ্ছে অনিল আবরার। যে করেই হোক অনিল ভাইকে তার চাই-ই চাই। যে করেই হোক। যে কোনো মূল্যেই হোক।
তনুর না হয় পছন্দের মানুষ সামনে থাকায় দুনিয়াদারী ভুলে বসেছে। কিন্তু অনিলের তো পূর্ণ হুশ জ্ঞান আছে। সে কখন থেকেই টেবিলে রাখা মেনুর দিকে দেখতে দেখতে প্রশ্ন করছে,
“কি খাবে তনু?”
কিন্তু তনু যে তাকেই চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছে সে সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞাত অনিল। এক প্রশ্ন তিনবার করেও কোনো উত্তর না পেয়ে সরাসরি তনুর মুখশ্রীতে সুক্ষ্ণভাবে দৃষ্টিপাত করে সে। তনুকে নিজের দিকে অপলক তাকিয়ে থাকতে দেখে একটু ইতস্তত হয়ে তার চোখের সামনে তুড়ি বাজিয়ে দিলো। ধ্যান ভাঙে তনুর। সে লজ্জায় মূর্ছনা যাওয়ার অবস্থা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে অনিল আবারও একই প্রশ্ন করে।
তনু সময় নিয়ে জবাব দেয়,
“হ্যাজেলনাট ফ্র্যাপে আমার জন্য অনিল ভাই।”
অনিল একজন আচ্ছা বলে অর্ডার দিতে কাউন্টারে এগিয়ে যায়। তনুর জন্য তার পছন্দের কফি আর নিজের জন্য একটা আইসড অ্যামেরিকানো অর্ডার করে এসে বসে নিজের চেয়ারে। তারপর আবারও তনুর দিকে তাকায়।
~তো তোমার দিনকাল কেমন যাচ্ছে?
~এইতো চলছে অনিল ভাই।
~গুড। তা তোমার তো অলমোস্ট গ্রাজুয়েশন শেষ। মাত্র কয়েকমাস বাকি। ফিউচার প্ল্যান কি?
~সেভাবে তো কোনো প্ল্যান করিনি অনিল ভাই। তবে আমার ইচ্ছে আছে আগে মাস্টার্স করে তবেই ক্যারিয়ারে ফোকাস করবো।
~উমম। তুমি তো কেমিস্ট্রি নিয়ে পড়ছো।
~জ্বি।
~আমার জানামতে তোমার বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান তুমি। তুমি তার বিজনেস বুঝে না নিলে তার উত্তরাধিকার কে হবে?
ততক্ষণে তাদের অর্ডার করা কফি চলে এসেছে। নিজের হ্যাজেলনাট কফির স্ট্রতে চুমুক দিয়ে আড়চোখে অনিলের নির্বিকারে ব্লাক কফি খাওয়া দেখে নাকমুখ কুঁচকে নিচ্ছে। কিভাবে যে মানুষ এই তেঁতো কফি পছন্দ করে খেতে পারে তা বুঝতে পেরে ওঠে না তনু।
অনিলের প্রশ্নের উত্তরে তনু কিছুটা ভাবুক হয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে অনিলকে শোনানোর মতন করে বলে উঠলো,
“বাবা বলেছে কোনো বিজনেস ম্যান বা তার ছেলেকে পছন্দ করে তাকে বলতে। তারপর তার সাথে আমার বিয়ে দিয়ে নিজের বিজনেস আমার হাসবেন্ডকে বুঝিয়ে দিবেন।”
মাত্র কফিতে চুমুক দিয়েছিল অনিল। কিন্তু তনুর উত্তরে তার নাকেমুখে কফি উঠে কাশি শুরু হয়ে গেলো।
.
.
.
.
চট্টগ্রামে সাদাফ দুইদিন অনেক নিউজ কভার করেছে। কে*সের শেষে জানা গিয়েছে যে অতিরিক্ত ধারদেনা আর ব্যাংক লোন থাকায় বাড়ির কর্তা সবার খাবারে বি*ষ মিশিয়ে একত্রে আ*ত্মহ*ত্যা করেছে। তাদের ম*র*দেহ প্রথমে বাচ্চাদের পড়াতে যাওয়া মিস দেখে পুলিশকে কল করে। পুলিশ সেখানে গেলেই তাদের আত্মীয়রা শিক্ষিকাকেই খু*নী মনে করে তার নামে কে*স করে। যার ফলে তাকে গ্রেফ*তার করা হয়। কিন্তু অতিবিলম্বেই ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে সে ছাড়াও পেয়ে যায়।
সাদাফ ঠিক করে ঢাকা ফেরার আগে একবার সেই শিক্ষিকার সাথে দেখা করবে। তাই পুলিশের থেকে ঠিকানা নিয়ে সেখানে দেখা করার জন্য যায়।
শহর থেকে অনেকটা দূরে গ্রামের মধ্যে একটা নিরিবিলি পুরনো দুইতলা বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছে সাদাফ। ঠিকানা অনুযায়ী এই সেই শিক্ষিকার বাসস্থান।
সন্ধ্যা নেমেছে ধরণীতে। আলো ছায়ার খেলা চলছে প্রকৃতিতে। মাগরিবের আজান পড়ছে চারদিকে। সাদাফ আশিকের দিকে তাকালে দেখে সেও কিছুটা দ্বিধাবোধ করছে। কিন্তু এতো দূর এসে ফিরে যাওয়ার কারণ দেখছে না সে। তারপর আবার তার সকালের ফ্লাইটে ঢাকা ফিরতে হবে। পরে আর সময় পাবে না। আজান দেওয়ায় পাশের একটা মসজিদে যেয়ে নামাজ আদায় করে দুজনে। তারপর আবারও সেই বাড়ির সামনে যায়। কিন্তু অদ্ভুতভাবে বাড়ির কাঠের দরজা হা করে খোলা। আর রাত নেমে এলেও কোথাও কোনো আলোর চিহ্ন নেই। সন্ধিহান হয়ে বাড়ির ভেতরে ঢোকে। অদ্ভুতভাবে একটা মেয়ের গোঙানির আওয়াজ ভেসে আসে সাথে একটা ছেলের অকথ্য ভাষায় গালির আওয়াজ ও পাচ্ছে তারা। দুজনেই আতংকিত হয়ে ফোনের ফ্লাস লাইট জ্বালিয়ে চারদিকে খুঁজতে থাকে।
একটা রুমে ঢুকে দেখতে পেলো একটা ছেলে একটা মেয়ের সাথে জোর জবরদস্তি করছে। মেয়েটার শরীরের পোশাক অনেকটা ছিড়ে অবস্থা শোচনীয়। দুজনেই ফোন ঘুরিয়ে অন্যদিক তাঁকায়। হুট করে মানুষ দেখে ছেলেটা পালিয়ে যেতে নিলেই তাকে ধরে ফেলে সাদাফ। শার্টের কলার ধরতেই তাকে ধাক্কা দিয়ে একটু সুযোগ পেয়েই ছুটে পালিয়ে যায় ছেলেটা। আশিক দেরি না করে ছেলেটার পিছু নেয়।
এদিকে সাদাফ এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়ে। ফোন অন্যদিকে সেই প্রথমেই ঘুরিয়ে দিয়েছিল। এখন নিজের গায়ের সাদা শার্ট খুলে অন্যদিকে তাঁকিয়ে মেয়েটার দিকে বাড়িয়ে দেয়। নিজের অবস্থা দেখে বিনাবাক্যে সেটা নিয়ে নিজের শরীরে জড়িয়ে নেয় মেয়েটা। তারপর কিছু বলতে যাবে তার আগেই হৈচৈ শোনে বাইরে। মেয়েটা শুকনো ঢোক গিলছে। তার আর বুঝতে বাকি নেই কি হতে যাচ্ছে এবার। এমন ঘটনার সাক্ষী সে নিজেই। সে চাইলো না তার জন্য সামনে দাড়ানো অপরিচিত তার উপকার করা মানুষটা বিনা অপরাধে শাস্তি পাক। তাইতো তড়িঘড়ি বলে উঠলো,
“আপনি কে তা আমি জানিনা। আমার উপকার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। কিন্তু দয়া করে এখন পিছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যান। এখানে একমুহূর্ত থাকবেন না। তবে যে বিনা দোষে শাস্তি পেতে হবে আপনাকে।”
অবাক হয় সাদাফ। প্রথমত মেয়েটার কণ্ঠ তার অতিপরিচিত মনে হয়। তারপর এমন উদ্ভট কথা শুনে সে কিছুই বোঝে না। মেয়েটা তাকে বারবার পালিয়ে যেতে বলছে। সে পালাবে কেন সেটাই বুঝতে পারছে না। অবশ্য বোঝাবুঝির সময় আর নেই। গ্রামের অনেক লোক ঘরে ঢোকে তৎক্ষনাৎ। ঢুকেই একটা ছেলেকে এভাবে শার্টলেস ভাবে শুধু গেঞ্জি গায়ে দেখে আর মেয়ের গায়ে ছেলের শার্ট দেখে যা বোঝার বুঝে যায়।
আশিক পালিয়ে যাওয়া ছেলেটাকে না পেয়ে ফিরে এসে দেখে ওই বাড়ির উঠোনে বিচার সভা বসেছে। সবার ধারণা ছেলে আর মেয়েটা কোনো অসাধু কাজ করেছে। এমনকি বাড়ির মালিক যে দোতলায় থাকে সেই বৃদ্ধা তো মেয়েটাকে যা ইচ্ছে তাই বলে গালাগাল করে যাচ্ছে। মেয়েটাকে দুশ্চরিত্রা বানিয়ে ফেলেছে ইতোমধ্যে। কেউই সাদাফ বা আশিকের কথা বিশ্বাস করছে না। আর মেয়েটাকে তো একটা কক্ষে বন্ধ করে রেখেছে। গ্রামের নিয়ম অনুযায়ী কাল সকালে মেয়েটার মুখে চুনকালি মাখিয়ে তাকাই পুরো গ্রামের সামনে দুশ্চরিত্রার ট্যাগ দিয়ে অপমান করে গ্রাম ছাড়া করবে। সাদাফ তাজ্জব না হয়ে পারে না। সে পুলিশকে ফোন করে ওখানে দাঁড়িয়েই। কিন্তু পুলিশ জানালো ওটা নাকি ওই গ্রামের নিয়ম। আর পুলিশ সেখানে হস্তক্ষেপ করবে না।
ওই মূহুর্তে তাদের ফ্রেন্ডস গ্রুপে গ্রুপ কল আসে। লোকসমাগম থেকে একটু দূরে দাঁড়িয়ে ফোন রিসিভ করে ওদেরকে নিজের পরিস্থিতি খুলে বলে সাদাফ। সবাই তাজ্জব বনে যায়। অনিল চট্টগ্রাম সেনাবাহিনীর কার্যত কাউকে ফোন করে ঘটনা জানায়। কিন্তু তারা জানায় যে গ্রামটা অনেক দূর আর এখন সেখানে যেতে যেতে সকাল হয়ে যাবে।
সব শুনে ইবনাত সাদাফকে বলে,
“দোস্ত আমার জানামতে তোর জীবনে কোনো ভালোবাসার মানুষ নেই। তুই চাইলেই মেয়েটাকে বাঁচাতে পারিস।”
~কি বলছিস ক্লিয়ার করে বল। (রনি)
~মেয়েটাকে বিয়ে করে পূর্ণ মর্যাদা দিয়ে নিজের সাথে নিয়ে আয় সাদাফ। (ইবনাত)
~কিন্তু মেয়েটাকে সাদাফ দেখে নাই পর্যন্ত। (রনি)
~এটা কি এখন আদৌও গুরুত্বপূর্ণ কারো জীবন থেকে? (তাহমিদ)
সবার কথা শুনে পিনপতন নিরবতা কিছুক্ষণ। তারপর সেই নিরবতা ভাঙে অনিল,
~ইবনাতের কথা শোন। বিয়ে করে নে। বাকিটা আমরা সামলে নেবো। তুই শুধু আপাতত বিয়ে করে ওখান থেকে বের হয়ে আয় নিরাপদে। (অনিল)
~মা কোনো ব্যাপার না। কিন্তু বাবা মানবে না। তার স্টাটাসের কেউকে আমার গলায় ঝুলিয়ে দিতে মরিয়া সে তোরা তো জানিসই। সেখানে এই মেয়েটা একটা প্রাইভেট টিউটর। যা জেনেছি তার ব্যাপারে মেয়েটার কেউ নেই। এমনকি খু*নের দায়ে জেলে ছিলো সে দুইদিন। যদিও মিথ্যা কে*স সে নির্দোষ। এগুলো নিয়ে অনেক হাঙ্গামা হবে। বাবা মানবেই না। (সাদাফ)
~ইডি*য়ট বিয়ে করে বউ খাওয়ানোর মতো ইনকাম নিশ্চয় তোর আছে তাইনা? আর এইগুলো যতক্ষণ তোকে ইফেক্ট না করে ততক্ষণ কোনো ব্যাপার না। আঙ্কেল একটু সেকেলে চিন্তাধারা রাখে। কিন্তু তোর প্রতি দূর্বল। তুই তার একমাত্র ছেলে। কয়দিন রাগ করে থাকবে? (ইবনাত)
~যে কয়দিন রাগ করে থাকবে তুই না হয় বউ নিয়ে আলাদা থাকিস ভাই। তোর বাপের এতো টাকা পয়সা তো সব তোরই। সেখান থেকে না হয় একটু খরচ করলি। (রনি)
~আমি কি বেকার নাকি যে বাপের টাকায় বউ খাওয়ানো লাগবে? (সাদাফ)
~বিয়ে করে নে সাদাফ। (অনিল)
বন্ধুদের কথামতো গ্রামের সর্দারের কাছে বিয়ের প্রস্তাব রাখে সাদাফ। অনেক ভাবনা চিন্তা করে রাজি হয় গ্রাম প্রধান। মেয়েটাও অসহায় হয়ে রাজি হয়। সেই রাতেই গ্রামের কাজির মাধ্যমে বিয়ে হয়ে যায় সাদাফের সাথে কোনো এক অপরিচিতার। যার মুখ পর্যন্ত দেখা হয়নি সাদাফের তার সাথে সারাজীবনের জন্য পবিত্র এক সুতোয় বাঁধা পড়ে সে। মনে মনে পণ করে সাদাফ জীবন তাকে যেখানে নিয়েই দাঁড় করিয়ে দিক না কেন সদ্য বিবাহিতা স্ত্রীকে সে কখনো অমর্যাদা করবে না। আর না অন্যকে করতে দেবে। স্ত্রীর পারিবারিক পরিচয় যেমনই হোক তার অতীত যেমনই হোক না কেন সাদাফ তার হাত কখনোই ছাড়বে না। এখন হয়তো ভালোবাসা নেই মনে কিন্তু নিজের সমস্ত দায়িত্ব সে পালন করবে। আর জীবন থাকতে স্ত্রী ব্যাতিত অন্য কারো দিকে মুগ্ধতা নিয়ে তাঁকাবে না। সমস্ত ভালোবাসা জামাবে নবপরিণীতার জন্য। এখন দেখা যাক জীবন তাকে কোথায় নিয়ে দাঁড় করানোর ফন্দি আঁটে!
..
..
..
চলবে___
(সামনে ধামাকা হবে☺️)

